ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় ভালোবাসি

৩য় পর্ব

লেখক: কৌশিক দত্ত

পর্ব: (৩)

কলমে: (কৌশিক দত্ত)✍️✍️

"রাজ" সারা দিন রিপাকে ফলো করে, সন্ধ্যায় বাড়িতে ফিরে মা-বাবার কাছে বকা শুনে, নিরার সাথে খুনসুটি করে, দিনশেষে তিন বন্ধু মিলে আড্ডা দেওয়া। এই ছিলো রাজের রোজকার রুটিন। আর এই দিকে রিপাও বুঝতে পারে যে, রাজ তাকে রোজ ফলো করে, কিন্তু আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে যায় না রাজকে।

এক সপ্তাহ পর,,,

রোজকার মতো রাজ আজকেও এসেছে রিপার পিছু পিছু। এখন বিকেল বয়ে যাচ্ছে। তাই রিপা রোজকার মতো আজকেও প্রাইভেটে গিয়েছিলো। রিপা এখন প্রাইভেট শেষ করে বাড়িতে ফিরতে যাবে। রাজও রিপার প্রাইভেটের সামনে তাঁর মোটরবাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অন্য দিন রিপা প্রাইভেট শেষ করে বাসার দিকে হাঁটা লাগালেও, আজ রাজ যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেখানে গিয়ে রাজকে বলতে লাগলো রাগী কণ্ঠে

- আপনি রোজ আমাকে ফলো করেন কেন? কারণটা কী জানতে পারি!

জবাবে রাজ তোতলিয়ে বলে ওঠে

- আ... আ... আমি, আস... আসলে ফ....."!

রাজের কথা শেষ হবার আগেই রিপা বলে ওঠে রাজকে

- আমাকে ভালোবাসেন, তাই ফলো করেন, এই কথাই তো বলবেন! আমি আপনার সাথে রিলেশন করতে চাই না। তাই এইভাবে রোজ আমাকে ফলো করবেন না। আর কোনো দিন যদি আমি দেখেছি আমাকে ফলো করছেন, তাহলে আমি পুলিশকে জানাতে বাধ্য হবো।

রিপা এইসব কথা হাতের এক আঙুল দিয়ে নাড়াতে নাড়াতে বলে চলে যায়, রিপা আর শিখা।

তারপর রাজ বুক ভরা হতাশা নিয়ে ফিরে আসে বাড়িতে।

রাজ বাড়িতে এসে মায়ের বকা শোনার আগেই তাঁর ঘরে গিয়ে চুপচাপ করে শুয়ে পড়ে এবং তিনি রিপার কথাগুলো কল্পনা করতে থাকে। ভালো লাগছিলো না রাজের আজকে। তাঁর শখের নারী আজ তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছে, তাই। "সব কিছু সহ্য করা যায়, কিন্তু যখন মনের ভিতরে থাকা কোনো নারী বুঝে উঠতে পারে না বা বুঝতে চায় না, তখন চারদিকে সব অন্ধকার হয়ে যায়"। রাজ এইসব ভাবতে থাকে।

কিছুক্ষণ বাদে রাজ তাঁর ঘর থেকে বের হয়ে নদীর পাড়ে গিয়ে বসে একাই এক বোতল মদ শেষ করে ফেলে।

রোজকার মতো বিনয় আর শান্তু এখন রাজকে ফোন দিচ্ছে, কিন্তু রাজ ফোন রিসিভ করছে না। রাজ একা একাই নদীর পাড়ে রাত ১টা অবধি বসে রইল।

এখন রাজ বাড়িতে ফিরলো, ঘুমিয়ে পড়তে যাবে তাঁর ঘরে। সে সময় মিনতি দেবী বুঝতে পারে যে রাজ বাড়িতে ফিরেছে, তাই মিনতি দেবী তাঁর ঘর থেকে চেঁচিয়ে বলে ওঠে রাজকে

- রাজ, খাবার টেবিলে ভাত রাখা আছে, খেয়ে নে।

রাজ এক কথায় বলে ওঠে

- খিদে নেই, আমি খাবো না।

আজ আরেকটি নতুন দিনের সকাল। রাজ আজকে সারাদিন তাঁর বাড়িতেই রয়েছে। রাজ আজকেও কারো ফোন কল রিসিভ করছে না, সে যেই হোক। তাঁর মনের মানুষ রিপাকেও আজ ফলো করতে গেলো না। রাজ তাঁর ঘরেই শুয়ে রয়েছে সারাদিন ধরে।

সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়িয়ে এখন বিকেল, তাই নিরা স্কুল থেকে বাড়িতে এসে, রাজকে রাজের ঘরে দেখতে পেয়ে, নিরা রাজের ঘরে গিয়ে বলে ওঠে

- দাদাভাই, তুই আজকে এই সময় বাড়িতে! পাড়া টপকাতে যাসনি আজকে?

জবাবে রাজ বলে ওঠে এক কথায়

- না।

আবারও নিরা বলে ওঠে

- এতো ভূতের মুখে রাম নাম শুনছি।

তারপর রাজ, নিরার উপর বিরক্ত আর রাজের চোখ ভরা ক্লান্তি নিয়ে বলে ওঠে

- আজকের দিনটা আমাকে একা থাকতে দে, প্লিজ।

রাজের এমন কথা শুনে নিরা বলে ওঠে অবাক হয়ে

- দাদাভাই, তুই এমন ভাবে কথা বলছিস! কী হয়েছে তোর? মন খারাপ তোর, তাই না দাদাভাই?

জবাবে রাজ নরম সুরে

- হুম, কিন্তু অল্প।

তারপর নিরা আবার বলে ওঠে রাজকে

- থাক, তুই তোর মতো করে! আজ তোকে জ্বালাবো না, কিন্তু তোর কিছু বলতে ইচ্ছে হলে বলিস, দেখবি হালকা লাগবে তোর।

এই বলে নিরা যেই চলে যেতে লাগে, ঠিক সে সময় রাজ, নিরার হাত ধরে টান দিয়ে রাজের বুকে নিয়ে কেঁদে দিয়ে বলে ওঠে

- বুড়ি একটা, বড় হয়ে গিয়েছিস না? শোন, তুই যতই বড় হয়ে যাস না কেন, আমার কাছে তুই পিচকুনিই থেকে যাবি।

তারপর হাগ অবস্থায় নিরা বলে ওঠে

- আমি তোর কাছে সারাজীবন পিচকুনি হয়েই থাকতে চাই দাদাভাই।

এরপর তাঁরা হাগ ছেড়ে দিয়ে নিরা তাঁর ঘরে চলে যায়।

কিছু সময় পর রাজের বাবা, মানে "শিপন সেনগুপ্ত" আসে রাজের ঘরে। শিপন বাবু এসে রাজকে বলতে লাগলো

- রাজ, একটি ভালো খবর আছে।

জবাবে রাজ বলে ওঠে

- কী খবর বাবা?

এখন আবার শিপন বাবু বলতে থাকে রাজকে

- আমার বন্ধু, মানে তোর বিমল কাকা ঢাকায় যে কোম্পানিতে চাকরি করে, সে কোম্পানিতে কিছু লোকের নিয়োগ দিয়েছে। তাই আমি তোর বিমল কাকাকে ফোনে বললাম তোর কথা। সে বললো সমস্যা নেই, তোর বিমল কাকা তোর হয়ে সুপারিশ করে দিবে। আর তুই তোর বিমল কাকাকে তো চিনিস, কাউকে একবার কথা দিলে সে তাঁর কথা রাখেই।

তারপর রাজ বলে ওঠে শিপন বাবুকে

- আচ্ছা বাবা, তোমার যা ভালো মনে হয় তুমি তাই করো। তা বাড়িতে ফিরলে কখন?

শিপন বাবু জবাবে

- এই তো সবে মাত্র ফিরলাম। তোকে তোর ঘরে দেখতে পেয়ে তাই তোর ঘরেই আসলাম। ঠিক আছে, থাক, তাহলে আমি গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিই।

রাজ বলল

- আচ্ছা বাবা।

রাজের মন যেন কিছুতেই ভালো হচ্ছিল না, তাই সে আজকেও নদীর পাড়ে গিয়ে এক বোতল মদ ঢকঢক করে খেয়ে নিয়ে বসে বসে রিপার কথা ভাবতে থাকে।

আর এই দিকে বিনয় আর শান্তু চায়ের দোকানে বসে গল্প করতে থাকে। প্রথমে শান্তু বলে ওঠে বিনয়কে

- কী রে বিনয়, রাজ আজকেও আসলো না। ফোন দিলে সে ফোন রিসিভ করে না। ব্যাপারটা কী বল তো?

চা খেতে খেতে বিনয় বলে ওঠে

- জানি না রে। গতকাল থেকে রাজের সাথে আমার যোগাযোগ হয়নি। কী যে হলো, বুঝতেছি না তো।

তারপর শান্তু বলে ওঠে

- রাজের কোনো অসুখ হয়নি তো আবার?

এখন বিনয় বলে ওঠে

- তা তো ভেবে দেখিনি।

তারপর শান্তু আবার বলে ওঠে

- তা ভাববি কী করে। সারাদিন প্রেম করলে কী এইসব কথা মাথায় আসে? শালা পাঠা।

তারপর বিনয় বলে ওঠে

- যাই হোক, আগামীকাল একবার রাজের বাড়িতে যাবো। এখন চল, বাড়ি ফিরি, রাত হলো অনেক।

🙏🙏গল্প চলবে,,,

বি: দ্র: (সিগারেট এবং মদ্যপান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর) 🚭🍷

🫠(ধন্যবাদ সবাইকে)🫠

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন