পর্ব: (৪)
কলমে: (কৌশিক দত্ত)✍️✍️
আজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন, তাই শান্তুর দোকান বন্ধ। ঘড়িতে এখন দুপুর ১২টা বাজে। শান্তু আর বিনয় চায়ের দোকানে এসেছে আড্ডা দিতে। এখন শান্তু চা খেতে খেতে বিনয়কে বলছে
- চা খেয়ে নিয়ে রাজের বাড়িতে যাই, চল বিনয়।
জবাবে বিনয় বলে ওঠে সিগারেট খেতে খেতে
- চল যাই, গিয়ে দেখে আসি আসলে রাজের হয়েছে কী?
এইভাবে তাঁরা দুজনে আলাপ করতে লাগে হঠাৎ বিনয় বলে ওঠে শান্তুকে
- শান্তু, ঐ দেখ রাজ আসছে, কিন্তু রাজের এ কী হাল হয়েছে রে!
এই শুনে শান্তু পিছন ফিরে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলে ওঠে
- তাই তো, পাগলের মতো দেখা যাচ্ছে রাজকে! রাজের আসলেই কিছু একটা হয়েছে রে বিনয়।
তারপর বিনয় বলে ওঠে শান্তুকে
- রাজকে আগে আসতে দে, তারপর দেখছি হয়েছে কী ওর?
রাজকে পাগলের মতোই দেখা যাচ্ছিল। রাজের মানসিক অবস্থা যে ভালো নেই, তা রাজকে দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। রিপার এমন কথা রাজ মানতেই পারছিল না! একতরফা ভালোবাসায় এরকম কষ্টই পেতে হয়। দুজন দুজনকে ভালোবেসে, কোনো কারণে তাঁদের ভালোবাসা যদি পূর্ণতা না পায়, তাহলেও মনকে এই বলে সান্ত্বনা দেওয়া যায় যে তাঁরা দুজনেই চেষ্টা করেছিলো তাদের ভালোবাসাকে রক্ষা করার জন্য। কিন্তু কেউ যদি কাউকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসে শেষ অবধি ভালোবাসার মানুষটির মুখে যদি "না" শুনতে হয়, তখন তাঁর এমন মনে হয় যে, অন্ধকারের কালো রঙে তিনি বোধ হয় হারিয়ে গিয়েছেন।
রাজ চায়ের দোকানে এসেই বিনয় আর শান্তুকে জড়িয়ে নিয়ে কাঁদতে শুরু করে দিলো। জড়ানো অবস্থায় বিনয় বলে ওঠে রাজকে
- কী রে রাজ, তোর আসলে হয়েছে কী? একটু বল তো আমাদেরকে।
তারপর তাঁরা তিন জন চেয়ারে বসে শান্তু বলে ওঠে রাজকে
- কী হলো, বলবি না তোর কী হয়েছে? তুই জানিস এই দুই দিন তোকে অন্তত ২০০ বার কল করেছি আমরা। তুই ফোন রিসিভ করিসনি কেন?
তারপর রাজ ক্লান্তিভরা চোখ নিয়ে বলে ওঠে তাদেরকে
- আমি সব বলছি তোদেরকে, আগে একটি সিগারেট দে!
রাজের কথা শেষ হওয়ার পরেই বিনয় দোকান থেকে একটি সিগারেট জ্বালিয়ে দোকানদারকে রাজের জন্য একটি চা দিতে বলে। আর বিনয় সিগারেটটি রাজকে দিয়ে দেয়। রাজ এখন সিগারেট খেতে খেতে বলে ওঠে
- আমার সব শেষ হয়ে গিয়েছে, বন্ধু।
এইবার বিনয় বলে ওঠে রাজকে
- কী শেষ হয়ে গিয়েছে তোর? ক্লিয়ার করে বলে ফেল তো।
তারপর দোকানদার চা দিয়ে গেলো রাজকে। এখন রাজ চা খেতে খেতে বলতে লাগলো
- রিপা আমাকে পছন্দ করে না রে দোস্ত! সে আমাকে রিজেক্ট করে দিয়েছে।
রাজের এমন কথা শুনে শান্তু বলে ওঠে রাজকে
- কেন? তুই কী রিপাকে প্রপোজ করেছিলি নাকি?
আবারও রাজ বলে ওঠে
- না,,
ওদেরকে রাজ সব কিছু ক্লিয়ার করে বলার পর বিনয় বলে ওঠে রাজকে
- আরে গাধা, তুই রিপাকে প্রপোজই করিসনি, রিপা তোকে রিজেক্ট করবে কী করে? আমার মনে হয় রিপা তোর সাথে এভাবে কথা বলেছে যাতে তুই রিপাকে এভাবে রোজ ফলো না করিস, তাই।
বিনয়ের কথা শেষ হবার পর শান্তু বলে ওঠে রাজকে
- বিনয় ঠিকই বলেছে। এর জন্যই রিপা তোর সাথে এরকম বাজে ব্যবহার করেছে। একটি কাজ কর, তুই আগামীকাল রিপাকে প্রপোজ করে দে।
জবাবে রাজ বলে ওঠে
- আমি তো "এ কথা" ভেবে দেখিনি।
রাজের এমন কথা শুনে বিনয় বলে ওঠে
- তুই বুঝবি কী করে? তোর মাথায় আছে কিছু?
এখন আবার শান্তু বিনয়কে বলে ওঠে
- তোর মতো তো আমরা প্রেম করি না। তাই আমাদের মাথায় কিছু নেই! বুঝলি শালা।
তারপর সবাই মিলে হাসতে থাকে। আর এভাবেই আড্ডা দিয়ে এক দুপুর পার করে ফেলে তাঁরা।
তারপর সেদিন রাতের বেলায় রাজ একটি চিঠি লিখে ফেলে, রিপাকে দিবে বলে। আর রিপাকে ফলো না করে, রিপা বিকেলে প্রাইভেট যাওয়ার সময় রিপাকে তাঁর লেখা চিঠিটি দিবে বলে ঠিক করলো রাজ।
পরের দিন বিকেল হতে না হতেই রাজ, রিপার বাড়ির সামনের মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে রিপাকে চিঠিটি দিবে সে জন্য। কিছুক্ষণ পর রিপা প্রাইভেটে যেতে থাকে রিকশা করে। আজ রিপা একাই যাচ্ছে প্রাইভেটে। রাজ জোর করে রিকশা থামিয়ে রিকশায় উঠে বসে বললো রিকশাওয়ালাকে, রিপা কিছু বলার আগেই
- মামা, তুমি রিকশা থামাবে না! রিকশা চালাতে থাকো।
তারপর রিপা রাগান্বিত হয়ে রাজকে বলে ওঠে
- আপনাকে নামতে বলছি, ভালোভাবে। রিকশা থেকে নেমে পড়েন, নাহলে খুব খারাপ হয়ে যাবে।
এভাবে রিপা চেঁচামেচি করতে থাকে রাজের সাথে, আর রাজের মতো করে পকেট থেকে চিঠিটি বের করে রিপার হাতে জোর করে দিয়ে বলে ওঠে
- প্লিজ, বাড়িতে গিয়ে চিঠিটি পড়বেন।
জবাবে রিপা আবারও বলে ওঠে
- আপনি আগে নামেন রিকশা থেকে।
এখন রাজ রিকশাওয়ালাকে বলে ওঠে
- মামা, রিকশা থামাও, আমি নামবো।
তারপর রাজ রিকশা থেকে নেমে যায় আর ভাবতে থাকে
- আমার দেওয়া চিঠিটি পড়বে তো রিপা?
আর চলন্ত রিকশায় রিপা ভাবতে থাকে
- এতদিন আমি যা ভেবেছিলাম তাই হয়ে গেলো আজ! এখন আমি কী জবাব দিব রাজকে?
রিপা সেদিন রাতে রাজের দেওয়া চিঠিটি পড়তে লাগে। চিঠিতে লেখা ছিলো যে,
প্রিয়,
তোমাকে আমি যেদিন প্রথম দেখেছিলাম সেদিনই তোমাকে আমার ভালো লেগে যায়। তোমার এই সুন্দর রূপ আর মোমের মতো নরম মনকে একটুখানি দেখার জন্য তোমাকে রোজ ফলো করি। তোমাকে রোজ ফলো করতে করতে আমি তোমার পবিত্র আত্মাকে ভালোবেসে ফেলেছি, কিন্তু এই কথাটি তোমাকে সরাসরি বলতে পারিনি। তাই চিঠিতে সব লিখে দিলাম। আমি জানি না, তুমি কেন এমন করছো? কিন্তু আমি তোমাকে সারাজীবন ভালোবেসেই যাবো। "I Love You"! আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে আর ডিস্টার্ব করবো না। কিন্তু তোমার উত্তরের আশায় থাকবো আমি। আর এই হলো আমার ফোন নম্বর 017........! তোমার মন চাইলে তুমি আমাকে ফোনে তোমার মতামত জানাতে পারো।
ইতি
তোমার ভালোবাসা পেতে চায়
রাজ সেনগুপ্ত
এই চিঠিটি পড়ে রিপা কিছু একটা ভাবতে থাকলো।
🙏🙏গল্প চলবে,,,
বি: দ্র: (ধূমপান করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর)🚭🚭
🫠ধন্যবাদ সকলকে🫠