ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় ভালোবাসি

(অন্তিম পর্ব)

লেখক: কৌশিক দত্ত

পর্ব : (৫)

কলমে : (কৌশিক দত্ত) ✍️✍️

রাজের দেওয়া চিঠিটি পড়ে রিপা কিছুক্ষণ ভাবার পর রাজকে ফোন করে বলতে লাগল

- হ্যালো, রাজ বলছো?

ফোনের ওপাশ থেকে রাজ বলে ওঠে

- হ্যাঁ, আমি রাজ বলছি। আপনি কে বলছেন?

জবাবে রিপা বলে ওঠে

- আমি রিপা বলছি। আর আপনার সাথে আমি আগামীকাল দেখা করতে চাই। আপনাকে আমার কিছু বলার আছে।

তারপর রাজ মনে মনে খুশি হয়ে রিপাকে বলে ওঠে

- হ্যাঁ, চলো আমরা দেখা করি। কিন্তু আমরা কোথায় দেখা করব?

রাজের কথা শেষ হওয়ার পর রিপা বলে ওঠে

- আমাদের কলেজের সাথে যে মন্দিরটি রয়েছে, আমরা সেখানেই দেখা করব আগামীকাল সকাল ১০টায়।

রাজকে এতটুকু কথা বলতে যতটা সময় লেগেছে, তার বাইরে এক সেকেন্ডও দেরি করেনি রিপা। সাথে সাথেই রিপা ফোন কেটে দেয়।

পরের দিন সকালে রিপার কথা মতো রাজ সেই মন্দিরে আসে। ঘড়িতে ১০টা বাজার আগেই রাজ তার বাইক নিয়ে চলে আসে। মন্দিরের ভিতরে প্রবেশ করে সে বাইকের উপর বসে ফোন চালাতে থাকে।

কিছুক্ষণ পর রিপা মন্দিরে এসে রাজকে দেখতে পেয়ে বলে ওঠে

- আপনি এসে গিয়েছেন তাহলে?

জবাবে রাজ বলে ওঠে

- হুম।

তারপরই রিপা রাজকে বলে

- আপনি আসুন আমার সাথে।

এই বলে রিপা রাজকে মন্দিরের পিছনে নিয়ে যায়। তারপর রিপা বলে ওঠে

- আপনি আমাকে ভালোবাসেন, তাই তো?

উত্তরে রাজ বলে ওঠে

- হ্যাঁ, অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে।

রাজের এমন কথা শুনে রিপা বলে ওঠে

- তাহলে শুনুন আমার কথা। আমার জীবনের সত্যিটা জানার পরে আপনি আর আমাকে কখনো ভালোবাসবেন না।

এই বলতে বলতে রিপার চোখ দিয়ে জল গড়াতে শুরু করে।

রিপার চোখে জল দেখে এবং রিপার মুখে এমন কথা শুনে রাজ অবাক হয়ে বলে ওঠে

- কী এমন কথা তুমি বলতে চাও, যে কথা শুনে আমি আর তোমাকে ভালোবাসব না? বলো, শুনি।

তারপর রিপা বলে ওঠে

- আমি সে কথাটাই বলার জন্য আপনাকে এই জায়গায় আসতে বলেছি। আর সময় নষ্ট না করে আমি যা বলছি এখন সবকিছু মনোযোগ দিয়ে শুনবেন। আমি আসলে একজন ধর্ষিতা। আজ থেকে কয়েক বছর আগে আমাকে কিছু জানোয়ারেরা মিলে ধর্ষণ করেছিল। কিন্তু ঈশ্বরের অশেষ কৃপায় সেই জানোয়ারদের শাস্তি দিতে পেরেছে পুলিশ। এখন সমাজের কাছে আমার কোনো মূল্য নেই। সমাজের সবাই আমাকে নোংরা এবং নষ্টা মেয়ে মনে করে। এতেও আমার কোনো দুঃখ ছিল না। কিন্তু আমার এক্স বয়ফ্রেন্ড যখন জানতে পারে আমি ধর্ষিতা, তখন সেও আমাকে ছেড়ে চলে যায়। এখন আপনিই বলেন, এই সমস্ত কিছু জানার পর আপনি আমাকে ভালোবাসতে পারবেন কি? আমার তো মনে হচ্ছে আপনিও আর বাকি মানুষগুলোর মতো আমাকে ভুল বুঝবেন। আর এখন এই মুহূর্তে আপনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে চলে যাবেন।

রিপা যখন এই সমস্ত কিছু বলছিল, সেই সময় রিপার চোখে জল আসছিল। কিন্তু এখন রাজকে সবকিছু বলে অঝোরে কেঁদে দিলো। অসময়ে যখন হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামে, রাজের কাছে রিপার বিষয়টা ঠিক তেমনই মনে হচ্ছিল।

রাজ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর রিপাকে বলে ওঠে

- আমাকে কি, তোমার সমাজের নিচু মনের মানুষ আর তোমার এক্স বয়ফ্রেন্ড মনে হচ্ছিল এতদিন ধরে? তাহলে শোনো! আমি তোমার মনকে ভালোবেসেছি, তোমার শরীরকে নয়। তাহলে তোমার অতীত ঘেঁটে আমার কী লাভ? আর আমি সবসময় সমাজের শিক্ষিত মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা মূর্খ লোকদের বিপক্ষেই কথা বলে এসেছি। এখন না হয় তোমার জন্য সমাজের অমানুষগুলোর বিপক্ষে লড়াই করবো।

রাজ এই কথা বলেই রিপার চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে রিপাকে জড়িয়ে ধরল। আর রিপাও রাজের বুকের ভিতরে একেবারে ঢুকে যেতে লাগল।

এখান থেকেই তাদের প্রেম শুরু হয়, তারপর বিয়ে। কিন্তু বিয়ে করাটা এত সহজ ছিল না রাজ-রিপার জন্য। সমাজের নানা ধরনের মানুষ নানা ধরনের কথা শুনিয়েছে রাজদের পরিবারকে। কেউ কেউ সামনে সমালোচনা করেছে, আবার কেউ কেউ আড়ালে বৈঠক জমিয়েছে রিপাকে নিয়ে। মাঝে মধ্যে রাজও নিন্দুকদের বিরুদ্ধে গিয়ে প্রতিবাদ করেছে। এত কিছুর পরেও তাদের বিয়ে ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। এখন রাজ-রিপা তারা সুখেই সংসার করছে। রাজের চাকরির সূত্রে এখন রাজ আর রিপা ঢাকায় থাকছে। ঈশ্বরের আশীর্বাদে এখন রাজ-রিপা বেশ ভালোই আছে।

💔(সমাপ্ত)💔

🫠এই গল্পের সব গুলো পর্বের সাথে থাকার জন্য আপনাদের কে বিশেষ ধন্যবাদ 🫠

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে (অন্তিম পর্ব) শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন