সকাল ৮ টা ৩০...
চৌধুরী বাড়ি।বাড়িটা দোতলা বিশিষ্ট দালান।বাড়ির দোতলার কোণের রুম। চারপাশে কাকের ডাক আর রিকশার ঘন্টা। জানালার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে মেঝেতে সোনালি দাগ কেটেছে।রুমটা খুব গোছানো। দেয়াল হালকা নীল রংয়ের। রুমের একপাশে একটি খাট,আরেকপাশে একটি পড়ার টেবিল,তার উপর ছড়ানো বই-খাতা, একটি টেবিল ল্যাম্প,ল্যাপটপ। দেয়ালে একটি ক্যালেন্ডার, আর একটি বুকশেল্ফ। জানালায় সাদা পর্দা টাঙ্গানো। পর্দার পাশে গ্রিলে লাগানো টবে জুঁই আর মানি প্ল্যান্ট। বাতাসে পর্দা উড়ছে আর হালকা জুঁইয়ের গন্ধ আসছে।আলমারির মাথায় ধুলো পড়া একটা কাঠের বাক্স।
সেই রুমে ঘুমাচ্ছে চৌধুরী বাড়ির বড় মেয়ে মেহেরিন চৌধুরী। বয়স ১৯ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ৩। গায়ের রং দুধে আলতা ফর্সা। চোখ দুইটা গভীর, ঘন পাপড়ি। মেহেরিন খুব চঞ্চল প্রকৃতির। চুল কোমড় পর্যন্ত, কিন্তু বেশিরভাগ সময় খোঁপা করে রাখে। মেহেরিনের পড়নে এখন একটি সাদা সুতির নাইটড্রেস। এক হাত বুকের উপর, আরেক হাত বিছানা থেকে ঝুলে আছে। চুলগুলো বালিশ আর মাথার উপর আধা-ঢাকা।
হঠাৎ... ওর ফোনটা বেজে উঠে।ফোনের আওয়াজে ওর ঘুম ভেঙ্গে যায়। চোখ না খুলেই হাত বাড়ালো বেড সাইড টেবিলের দিকে। যেই না ফোনটা নিবে তখনই ফোনটা হাত ফসকে --
"ঠাস!"
শব্দ করে ফ্লোরে পড়ে যায়।
মেহেরিন " উফ!" বলে লাফ দিয়ে উঠল।তাড়াতাড়ি নেমে ফোনটা তুলল। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখলো স্ক্রিনের কোণায় ছোট একটা ফাটল।
আবার,ফোনটা বেজে উঠে। এবার মেহেরিন ফোনটা রিসিভ করে কানে ধরে। বলল, " হ্যালো।"
ওপাশ থেকে বলল, " আমি তুমাকে জাগিয়ে দিয়েছি না?"
মেহেরিন:" না, আমি আগেই উঠে গেছি।"
তারপর ওপাশ থেকে বলে," আমি তুমাকে নিতে আসতেছি।"
মেহেরিন আচ্ছা বলে ফোনটা রেখে দেয়।তারপর তাড়াহুড়ে করে রেডি হয়ে সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নামল।
নিচে ডাইনিং টেবিলে বসে আছে মেহেরিনের বাবা " আনোয়ার চৌধুরী"। বয়স ৫২। গায়ের রং শ্যামলা। মাথার চুলে পাক ধরেছে। পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর লুঙ্গি। চোখে সোনালি ফ্রেমের চশমা।
আনোয়ার চৌধুরীর পাশে দাঁড়িয়ে তার প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছেন " নাজমা বেগম" মেহেরিনের মা। বয়স ৪৮। গায়ের রং ফর্সা। পরনে হালকা বেগুনি সুতি শাড়ি। মাথার চুলগুলো খোঁপা করা।
আনোয়ার চৌধুরীর সামনের চেয়ারে বসে আছে " আরাফ চৌধুরী "। মেহেরিনের ছোট ভাই। বয়স ১৬। পরনে স্কুলের সাদা শার্ট আর নেভি ব্লু প্যান্ট। চুল এলোমেলো। হাতে ফোন, মুখে পরোটা। দুষ্টুর হাড্ডি। সারাদিন মেহেরিনের পিছনে লাগে।
মেহেরিন হাঁপাতে হাঁপাতে নেমে সোজা মেইন ডোরের দিকে গেল।
নাজমা বেগম পিছন থেকে ডেকে বললো," এই মেহেরিন! দাঁড়া! নাস্তা না করে কই যাস?"
আনোয়ার চৌধুরী চায়ের কাপ নামিয়ে রাখলেন। তারপর মেহেরিনকে বলে," আম্মু, নাস্তা করে যাও।"
মেহেরিন দরজার ছিটকিনিতে হাত দিল। তারপর শুধু বলল," দেরি হয়ে যাচ্ছে আব্বু। রাফি বাহিরে দাঁড়িয়ে আছে। আমি ক্যান্টিন থেকে কিছু খেয়ে নিবো।"
আর দাঁড়ালো না। দরজা খুলে বেড়িয়ে গেল। পিছন থেকে নাজমা বেগমের কন্ঠ ভেসে এলো, " ব্যাগ ঠিকমতো ধরিস, আর সাবধানে যাস।"
চলবে,,,,,