মেহেরিন গেটের কাছে আসার পর দেখতে পাই একটা ছেলে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স ২৪ হবে। গায়ের রং ফর্সা। পরনে সাদা শার্ট এবং জিন্স এর প্যান্ট। চুলগুলো এলোমেলো। কাধে একটি ব্যাগ। ওর নাম রাফি আহমেদ। মেহেরিনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মেহেরিনের বাবা আর রাফির বাবা বিজনেস পার্টনার। এছাড়াও তারাও খুব ভালো বন্ধু। সে হিসেবে মেহেরিন ও রাফি ছোট থেকে একসাথে ছিলো। ওরা একই পাড়াতে থাকে।
মেহেরিন রাফির কাছে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে," সরি! সরি! অনেক দেরি করে ফেলছি।"
রাফি ওর অবস্থা দেখে মুচকি হেসে বলল,"আরে এত উত্তেজিত হইয়ো না। এতটাও দেরি হয় নাই। আমি মাত্র দুই মিনিট আগে আসছি।"
রাফির কথা শুনে তৎক্ষনাৎ মেহেরিন বলে," তুমি তো আমাকে ৩০ মিনিট আগে কল দিছিলে।"
মেহেরিনের কথা শুনে এবার রাফি উচ্চস্বরে হেসে দেয়।ওর হাসি দেখে মেহেরিন ওর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে বলে," এভাবে পাগলের মতো হাসতেছো কেনো?"
রাফি অনেক কষ্টে ঠোঁট কামড়ে হাসি থামিয়ে বলে,"তুমি লেট করো তাই আমি বাসায় থাকতেই কল দিছি,যেনো ঠিক সময়ে রেডি হয়ে যেতে পারো।"
মেহেরিন আর কিছু বললো না।
রাফি বাইকে উঠে ওর দিকে হেলমেট বাড়িয়ে দেয়। মেহেরিন হেলমেটটা পড়ে বাইকে উঠে বসে।তারপর রাফি বাইক স্টার্ট দেয়।
রাফি একটি গেটের সামনে বাইক থামায় গেটে বড় করে লেখা "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়"। রাফি ওর সিনিয়র তাই ক্লাস আলাদা। ইউনিভার্সিটির গেট পার হতেই ওরা যে যার মতো ক্লাসের দিকে হাঁটা দেয়। কিছুদূর যেতেই মেহেরিন হঠাৎ একজনের সাথে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পড়ে গিয়ে ও " ও মা গো! কোমড়টা মনে হয় ভেঙ্গে গেলো" বলে চিৎকার করে উঠে। তারপর মাথা তুলে তাকিয়ে দেখতে পাই একটা ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। বয়স ২৩-২৪ হবে। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা। উচ্চতা ৫:১০ হবে।গায়ে সাদা গেঞ্জি আর তার উপর কালো শার্ট, শার্টের বোতামগুলো খোলা। এক হাতে ঘড়ি পড়া। আর কাঁধে ব্যাগ। চুলগুলো এলোমেলো। চোখের মনিতা হালকা বাদামি রঙের।
মেহেরিন ছেলেটির দিকে তাকিয়ে ছিলো। তাই ও খেয়ালও করে নাই যে কখন ওর পাশে ওর ফ্রেন্ড ইসরাত এসে দাঁড়িয়েছে আর ছেলেটি ওর দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরাত ওকে ডাক দিলে ও হুঁশে ফিরে। তারপর ছেলেটির বাড়িয়ে দেওয়া হাতটা উপেক্ষা করে উঠে দাঁড়াই।
মেহেরিন উঠে দাঁড়াতেই ছেলেটি বলে," ঠিক আছো তুমি?"
মেহেরিন ঠিক আছি বলে পড়ে যাওয়া বই গুলো তুলতে নিচু হয়। তখন ছেলেটিও মেহেরিনকে সাহায্য করে বইগুলো তুলার জন্য। মেহেরিনের হাতে বইগুলো দিয়ে ছেলেটি সে জায়গাটা প্রস্থান করে।তারপর মেহেরিন আর ইসরাতও নিজেদের ক্লাসের দিকে হাঁটা দেয়।হাঁটতে হাঁটতে ইসরাত মেহেরিনকে বলে, "ছেলেটাকে চিনোস?"
মেহেরিন :"না"
ইসরাত:" He is the most popular boy in our University.............আর তুই ওকে চিনোস না সিরিয়াসলি?? "
মেহেরিন :" ও কোন দেশের প্রধানমন্ত্রী যে আমার ওকে চিনতে হবে।"
ইসরাত: "ও তো সবার ক্রাশ।নাম তাকবীর।ওর নাম শুনেই তো মেয়েরা পাগল হয়ে যায়।"
মেহেরিন এবার ইসরাতকে রেগে বলল,"চুপ করবি তুই,"
ইসরাত চুপ করে যায় তারপর নিজেদের ক্লাসে চলে যায়।
অন্যদিকে তাকবীরের আজকে পরীক্ষা আছে।তাই ও তাড়াতাড়ি ক্লাসে যায়।
ক্লাসে গিয়ে ও সিটে বসলো। ওর বন্ধু শাফিন ওকে ডেকে বলে,"দোস্ত, কলম আনতে ভুলে গেছি,একটা কলম দে।"
তাকবীর কিছু না বলে ব্যাগে হাত দেয়, ও কলমের বক্স মনে করে ব্যাগ থেকে স্যানিটারি প্যাড বের করে টেবিলে রাখে। ওর মাথা নিচু ছিলো তাই ও খেয়াল করে নাই।
শাফিন ওইটা দেখে বলে," ভাই তুই ব্যাগে এসব নিয়ে ঘুরোস।" কথাটা বলে হাসতে থাকে।তখন ক্লাসের সবাই ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলো।
ক্লাসে স্যার আসায় ও তাড়াতাড়ি সেটা নিয়ে টেবিলের নিচে রেখে দেয়।
স্যার এসে বলে,"পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হও সবাই। আর এডমিট কার্ডটা বের করে টেবিলে রাখো।
তাকবীর ব্যাগ থেকে এডমিট কার্ড বেরক করতে গেলে দেখে সেখানে ওর এডমিট কার্ডের বদলে অন্যান্য জিনিস।
তখনই ওর মনে পড়ে মেহেরিনের সাথে ধাক্কা লাগার পর ও যখন মেহেরিনের বইগুলো তুলে দিচ্ছিলো তখন ওর ব্যাগ ভেবে তাড়াহুড়ো করে মেহেরিনের ব্যাগ নিয়ে চলে আসে। মেহেরিন আজকে অন্য ব্যাগ আনার কারণে সেটা তাকবীরের ব্যাগের সাথে মিলে যায়। তাই কেউ বুঝতে পারে নাই।
তাকবীর এডমিট কার্ড না পাওয়াই কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর দাঁড়িয়ে যায়। ওকে দাঁড়াতে দেখে স্যার বলে,"কোনো সমস্যা তাকবীর?? কিছু বলবা তুমি??"
তাকবীর প্রতুত্তরে বলে,"সরি স্যার!,আমি এডমিট কার্ড আনতে ভুলে গেছি। আমি কি ফার্স্ট এক্সামটা দিতে পারবো।পরের পরীক্ষাগুলোতে মনে করে এডমিট কার্ড নিয়ে আসবো।
স্যার:" তুমার থেকে এটা আশা করি নাই তাকবীর। সরি তাকবীর,আমি নিয়ম ভঙ্গ করতে পারবো না।"
তাকবীর বলে,"আমি আনিয়ে নিতে পারবো।তাহলে কী পরীক্ষা দিবো?"
স্যার:এক্সাম শুরু হওয়ার আর মাত্র ৫ মিনিট বাকি আছে। তার আগে কী তুমার কাগজ পত্র আনতে পারবে??"
তাকবীর :"না"......
পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে স্যার বলে,"আমি তুমাকে সাহায্য করতে পারবো না। "
তাকবীর ঠিক আছে বলে ক্লাস থেকে বের হয়ে যায়।
চলবে,,,