ফন্ট সাইজ:
থিম:
এই মন তোমাকে দিলাম

৫ম পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

মেহেরিন আর রাফি দুইজন রেস্টুরেন্টে বসে আছে। মেহেরিন আসার পর থেকে কোনো কথা বলতেছে না। গম্ভীরমুখে বসে আছে। রাফিও চুপচাপ বসে থাকে আর ওর হাবভাব পর্যবেক্ষণ করে।তারপর বলে,"আচ্ছা কী খাবে বলো??"

মেহেরিন তার উত্তরে কিছু বলে না। হঠাৎ মেহেরিনের ফোনে"টুং" করে আওয়াজ হয়। ও ব্যাগ থেকে মোবাইলটা নিয়ে মোবাইল চেক করতে থাকে।মোবাইল চেক করার সময় ওকে একটু চিন্তিত দেখায়। ওকে চিন্তিত মুখে দেখে রাফি বলে,

"কী হয়েছে? "

মেহেরিন মোবাইলের দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে,

"কাল আমার ইন্টারভিউ আছে। কিন্তু আমি জায়গাটা চিনি না। তাই আমার জায়গাটা সম্পর্কে খোঁজ নিতে হবে।"

রাফি:"লোকেশনটা আমাকে দেখাও তো।"

মেহেরিন মোবাইলটা রাফির দিকে ফেরায় যেন সে লোকেশনটা দেখতে পারে। রাফি লোকেশনটা দেখে বলে,

"ওহ, জায়গাটা তো অনেক দূরে। আমি তুমার সাথে যাবো।"

মেহেরিন মোবাইলটা নিজের দিকে ফিরিয়ে মোবাইলের দিকে তাকিয়ে বলে,

"থাক তুমার যেতে হবে না। আর আমার দ্বিতীয় বার তোমার ফালতু কথা শোনার ইচ্ছা নাই।"

রাফি ওর কথা শুনে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে তারপর ওকে বেঝানোর ভঙ্গিতে বলে,

"আমি প্রমিজ করতেছি। আমি আর আগের বারের মতো করবো না।সত্যি!,  ওইদিন তো আমি একটা কাজে আটকে গেছিলাম যার কারণে সেখানে যেতে পারি নাই। আর তুমার যে জায়গা টায় ইন্টারভিউ আছে সে জায়গাটা আমি চিনি খুব ভালো করে। ওইখানে আমি অনেক বার গেছি বিভিন্ন কাজে। তাই আমি যদি তুমার সাথে যায় তাহলে তুমার সুবিধা হবে। "

মেহেরিন:"তুমি বার বার এরকম করো আমি জানি তুমি এবারও এরকম করবে। যাওয়ার সময় আমাকে একাই যেতে হয়। তুমি যাবে বলেও আসতে পারো না শেষ মুহুর্তে। "

রাফি:"আমি আর এরকম করবো না। এবার যদি না যায় তাহলে তুমি যা শাস্তি দিতে চাও দিতে পারো।"

মেহেরিন কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলে,

"আচ্ছা ঠিক আছে।তুমি যেতে পারো। কিন্তু এবারও যদি তুমি আগের বারের মতো করো তাহলে দেখে নিয়ো আমি কি হাল করি তুমার।"

রাফি:"হুম, ঠিক আছে।"

------------------------------------------------------------------------------------

বিকাল ০৩ টা,

তাকবীর একটি মোবাইলের দোকানে প্রবেশ করে।প্রবেশ করার পর দোকানে বসে থাকা ছেলেটা তাকবীরকে উদ্দেশ্য করে বলে,

"জ্বী স্যার বলুন,আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?"

তখন সেই দোকানে মেহেরিন প্রবেশ করে। রাস্তায় ওর হাত থেকে মোবাইল পড়ে মোবাইলের স্ক্রিন ফেটে যায়। ওইটা চেঞ্জ করার জন্যই ও সামনে যে ঢোকান দেখছে সে দোকানে প্রবেশ করে। কিন্তু ও সেখানে প্রথমে তাকবীরকে খেয়াল করে না।মেহেরিন দোকানে ঢুকার পর দোকানের ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলে,

"আমার ফোনের স্ক্রিন বদলাতে হবে।"

ছেলেটি:"জ্বী ম্যাম,একটু অপেক্ষা করুন পাল্টিয়ে দিচ্ছি ।"

মেহেরিন :"আচ্ছা"

পরিচিত কন্ঠ শুনতে পেয়ে তাকবীর মেহেরিনের দিকে তাকাই। তখন মেহেরিনও তাকবীরের দিকে তাকাই আর তাকবীরকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে,

"কী দেখতেছেন?"

তাকবীর:"কিছু না।"

তারপর তাকবীর ছেলেটির দিকে তাকিয়ে বলে,

"আমি শুধু স্ক্রীন কিনতে চাই।"

তাকবীরের কথা শুনে ছেলেটি বলে,

"স্যার, স্ক্রীনের মূল্য আর স্ক্রীন চেঞ্জ করার মূল্য একই।"

তাকবীর:"কোনো সমস্যা নাই।কিন্তু আমার আপনার টুল চাই স্ক্রীন পাল্টানোর জন্য। "

ছেলেটি একটু অবাক হয়ে তাকবীরের দিকে তাকিয়ে বলে,

"স্যার,আপনি কী এটা করতে পারবেন?কখনো কী করেছেন?"

তাকবীর:"আমি কখনো করি নাই।তাই আমি এটা করতে চাই।"

ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলে,"ঠিক আছে।"তারপর একটি স্ক্রীন তাকবীরের দিকে এগিয়ে দেয়।

মেহেরিন এতক্ষণ চুপচাপ মনোযোগ দিয়ে ওদের কথা শুনতেছিলো।

"কখনো করে নাই কিন্তু সেই কাজটা করার জন্য লাফাচ্ছে। মোবাইলটা যখন নষ্ট হবে স্ক্রীন পাল্টানোর চক্করে তখন মজা বুঝবে।এখন বুঝতেছে না। "

এসব বিড়বিড় করে বলতেছিলো।

তাকবীর ওর  দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকাই।আর বুঝার চেষ্টা করে কী এমন বিড়বিড় করতেছে। তারপর দোকানের ছেলেটার থেকে একটা বসার জন্য চেয়ার নিয়ে মোবাইলের স্ক্রিন পাল্টাতে থাকে।চেয়ার টানার শব্দে মেহেরিন তাকবীরের দিকে তাকাই আর ওর কাজ দেখতে থাকে।

কিছুক্ষণের মধ্যেই তাকবীর মোবাইলের স্ক্রিন চেঞ্জ করে ফেলে। চেঞ্জ করার পর ও মেহেরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

"আমাকে তোমার মোবাইলটা দাও তো।"

মেহেরিন তাকবীরের কাছ থেকে দূরে সরে যায়।তারপর তাকবীরের দিকে তাকিয়ে বলে,

"কিন্তু কেন?আপনি আমার মোবাইল দিয়ে কী করবেন?"

তাকবীর:"তোমার ফোনের স্ক্রিন চেঞ্জ করবো।"

মেহেরিন একটু হেসে বলে,"না থাক, বাদ দেন। আমারটা ওনারা চেঞ্জ করে দিবে।আপনার কষ্ট করতে হবে না।"

তাকবীর নিজের ফোনটা মেহেরিনকে দেখিয়ে বলে,"আমি আমার ফোনের স্ক্রিন মাত্রই চেঞ্জ করছি।"

মেহেরিন মুচকি হেসে বলে,"Congratulation."

তাকবীর:"আমি এটার পেমেন্ট করে দিবো।"

মেহেরিন :"না লাগবে না।আমি নিজের পেমেন্ট নিজে করতে পারি।"

তাকবীর:"কিন্তু আমি ফোনের স্ক্রিন চেঞ্জ করতে চাই।"

মেহেরিন তাকবীরের ফোনের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বলে,"আপনি তো এখনই করলেন।"

তাকবীর একবার নিজের ফোনের দিকে তাকাই তারপর আবার মেহেরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,"আমি আরেকটি ফোনের স্ক্রিন চেঞ্জ করতে চাই।তুমি যেহেতু স্ক্রিন চেঞ্জ করতে আসছো সেহেতু তুমারটা দাও।"

মেহেরিন একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে তাকবীরকে বলে,"তাহলে আপনি এই দোকানে চাকরি করেন।তাহলে অনেক অনেক ফোনের স্ক্রিন চেঞ্জ করতে পারবেন।আর আমিও না হয় ভবিষ্যতে আপনাকে দিয়ে ফোনের স্ক্রিন চেঞ্জ করাবো।কিন্তু এখন না।"

তাকবীর একটু রাগী কন্ঠে বলে,"আমাকে এক্ষুনি তোমার ফোন দাও।"

দোকানে আরোও একটি মেয়ে ছিলো সে দোকানে অন্য কাজে এসেছিলো।এতক্ষণ মেয়েটি তাকবীরের দিকে তাকিয়ে ছিলো।মেহেরিন মোবাইল দিতে না চাওয়ায় মেয়েটি তাকবীরের দিকে নিজের ফোনটি বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

"আমার মোবাইল নিতে পারেন।"

তাকবীর মেয়েটির কথা শুনে একবার বাড়িয়ে দেওয়া ফোনের দিকে তাকাই। তারপর মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলে, "আপনার মোবাইলের কি স্ক্রিন খারাপ বা ভেঙ্গে গেছে।

মেয়েটি তাকবীরের কথা শুনে একটু অপ্রস্তুত হয়ে বলে," নাহ।"

তাকবীর মেয়েটিকে কিছু না বলে, "আমি তুমার ফোনটা ঠিক করতে চাই।"

মেহেরিন তাকবীরের দিকে তাকিয়ে বলে,"প্রথমে প্লিজ বলুন।"

তাকবীর:"প্লিজ? "

মেহেরিন:"হুম "

তাকবীর একটু গোপনে নিশ্বাস ছেড়ে বলে,"প্লীজ,এবার তো দাও।"

মেহেরিন:"উঁহু, এভাবে না।বলুন,প্লীজ তোমার ফোনটা দাও।"

তাকবীর দুই আঙ্গুল দিয়ে কপালে স্লাইড করে তারপর মেহেরিনের দিকে তাকিয়ে বলে,

"প্লীজ, তোমার ফোনটা দাও।"

তাকবীরের কথা শুনে মেহেরিন হেসে ওর দিকে নিজের ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে,"নেন,করেন কী করবেন।"

তাকবীর ওর হাত থেকে মোবাইলটা নেই।যখন ও ফোনের স্ক্রিন ঠিক করতে যাবে, তখন মেহেরিন  ফোনের উপর হাত দিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ করে তাকবীরের দিকে তাকিয়ে বলে,

"নাহ,আপনি ভেঙ্গে দিবেন এটা।"

তাকবীর ওর আর কোনো কথা না শুনে ফোনের স্ক্রিন ঠিক করতে থাকে।আর মেহেরিন সেদিকে তাকিয়ে তাকবীরের কাজ দেখতে থাকে।কিছুক্ষণ পর তাকবীর ফোনের স্ক্রিন পাল্টিয়ে মেহেরিনের দিকে ফোনটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

"এই নাও তোমার ফোন।আর ভালো করে দেখো আমি ভেঙ্গে দিছি নাকি।"

মেহেরিন ফোনটা হাতে নিয়ে তাকবীরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলে,

"আপনি তো খুব ভালো কাজ করতে পারেন।'

এটা বলে মোবাইলের ক্যামেরা অন করে সেলফি তুলতে থাকে ও।

তাকবীর ওর কোনো কথার উত্তর না দিয়ে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে। তারপর দোকানের ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলে,

" আমি দুইটার টাকাই পেমেন্ট করে দিচ্ছি। "

তারপর তাকবীর টাকা দিয়ে চলে যেতে নিলে পিছন থেকে ছেলেটি ওকে ডাক দিয়ে বলে,

"স্যার আপনি যে এত ভালো কাজ করতে পারেন সেটা বুঝতে পারি নাই। স্যার একটা কথা বলবো?"

তাকবীর:"জ্বী,বলেন।"

ছেলেটি:"স্যার আপনার নাম্বারটা কী দেওয়া যাবে?"

তাকবীর সবসময়ের মতো গম্ভীর মুখে বলে,

"আমি এই দোকানে কাজ করবো না।"

মেহেরিন ওর কথা শুনে ওর দিকে তাকাই।আর তাকবীর আর কোনো বাক্য ব্যয় না করে দোকান থেকে বের হয়ে যায়।

চলবে,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন