ফন্ট সাইজ:
থিম:
এই মন তোমাকে দিলাম

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

বাস স্ট্যান্ডে অনেক যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করতেছে। কেউ অফিসে যাওয়ার জন্য, কেউ কলেজ ভার্সিটিতে, কেউ আবার অন্যান্য কাজে। বাস স্ট্যান্ডে আজকে তেমন ভিড় নেই আবার একেবারে মানবশূন্যও নই। বাস স্ট্যান্ডের একটা বেঞ্চে বসে আছে মেহেরিন। পরণে তার কালো কালারের গোল জামা, উড়না টা হাতের একপাশে মেলে দেওয়া। চুলগুলো আজকে খোলাই রেখেছে। বাম কাঁধে ব্যাগ, আর হাতে ফোন নিয়ে ফোনের মধ্যে কিছু চেক করতেছে। ও বাস স্ট্যান্ডে বসে আছে প্রায় ২০ মিনিট। এর মধ্যে ২ টা বাস অন্য জায়গায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। মেহেরিন একটু পর পর কাউকে কল দিচ্ছে। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কল রিসিভ করে নাই। একসময় ও বিরক্ত মুখে নাম্বারটিতে মেসেজ দিয়ে বলে,

"আমি তুমার জন্য কতক্ষণ ধরে অপেক্ষা করতেছি। কিন্তু তুমার তো আসার নামও নাই। একটু পর বাসও চলে আসবে।তুমি যেখানে আছো সেখানে থাকো আর আসার দরকার নাই। আমি চলে যাচ্ছি। "

কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো উত্তর আসে না। একটু পর বাস আসলে মেহেরিন আর অপেক্ষা না করে বাসে উঠে যায়। বাসে বসেও ও বারবার ফোন চেক করতেছিলো এই আসায় যদি সেই ব্যাক্তিটি যদি রিপ্লাই দেয়। কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো রিপ্লাই আসে না। যার কারণে ও মন খারাপ করে সিটে বসে থাকে। আর বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রায় ৪০ মিনিট পর বাসটি গন্তব্যে পৌঁছালে মেহেরিন বাস থেকে নেমে পড়ে।

ওর কাঁধে একটি ব্যাগ,আর হাতে ফাইল। বাস থেকে নেমে ও ব্যাগ থেকে মোবাইলটা বের করে। তারপর কোনো জায়গার লোকেশন দেখতে দেখতে হাঁটতে থাকে। ও যখন হাঁটতেছিলো তখন হঠাৎ একটা বাইক ওর পাশ ঘেষে চলে যায়। আরেকটু হলে ওকে মেরে দিতো। হঠাৎ এমন ঘটনায় ও একটু ভয় পেয়ে যায়। কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে আবার হাঁটা ধরে। হাঁটা শুরু করার একটু পরই একজন লোক ওর কাঁধের ব্যাগটা ধরে টান দেয়। মেহেরিন ব্যাগটি ছাড়তে না চাইলে লোকটি ওর হাতে ছুড়ির আঘাত করে। যার কারণে ও ব্যাগটি ছেড়ে দেয়। আর লোকটা দৌড়ে সামনে থাকা বাইকে উঠে পড়ে। ও যখন লোকগুলোর পিছনে দৌড়ায় তখনই একটা পাথরের সাথে পা বেজে পড়ে যায়। কথায় আসে না বিপদ আসলে সব দিক থেকে আসে। মেহেরিনের সাথেও তেমনটায় হয়েছে। আশেপাশে কোনো মানুষ না থাকাই ও কারো কাছ থেকে সাহায্য চাইতে পারে নাই। ওর এমন একটি পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে চোখের পানি আটকাতে পারে নাই। তবুও নিজেকে সামলে উঠে দাঁড়াতে চাইলে ও বুঝে ওর পায়ে অনেক ব্যাথা যার কারণে হাঁটতে পারতেছে না তেমন। তবুও অনেক কষ্টে হেঁটে পাশের একটা বেঞ্চে বসে। বসার কিছুক্ষণ পর ওর খেয়াল আসে যে ওর আজকে ইন্টারভিউ আছে।তাই ও তাড়াতাড়ি করে হাতের ফোনটা অন করে কাউকে কল দেয়।  লোকগুলো ব্যাগ নিয়প গেলেও তাড়াহুড়োই মোবাইলটা নিতে পারে নাই। কল দেওয়ার একটু পরই ওপাশ থেকে একটি মেয়ে কল ধরে বলে,

"হ্যালো, RS Industry থেকে বলতেছি। আপনাকে আমরা কি করে সাহায্য করতে পারি?"

মেহেরিন :"আমার নাম মেহেরিন চৌধুরী। যার আজকে আপনাদের কোম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউ আছে।"

মেয়েটি:"জ্বি,বলুন।"

মেহেরিন:"আসলে একটু আগে ২ জন লোক আমার ব্যাগ ছিনতাই করে নিয়ে যায়। আর আমি আঘাতও পেয়েছি। যার কারণে হাঁটতে পারতেছি না। আমি কি ইন্টারভিউ দিতে অন্যদিন যেতে পারি।"

মেয়েটি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে তারপর বলে,

"আপনি একটু অপেক্ষা করুন আমি স্যার থেকে জিজ্ঞেস করে আপনাকে বলতেছি।"

মেহেরিন "আচ্ছা "বলে কলটি কেটে দেয়। ৫ মিনিট পর মেয়েটি কল দেয়। মেহেরিন কল ধরার পর মেয়েটি  বলে,

" আমি স্যারকে আপনার সমস্যার কথা বলেছি। উনি বলেছেন অন্যদিন আসতে। আমরা আপনাকে পরবর্তী ডেট বলে দিবো।"

মেয়েটির কথা শুনে মেহেরিনের চোখ খুশিতে জ্বলজ্বল করে উঠে। ও শান্ত কন্ঠে বলে,

"আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।"

মেয়েটি হুম বলে কলটি কেটে দেয়। মেহেরিন কিছুক্ষণ বসে থাকে আর হাতের রক্ত বন্ধ করার চেষ্টা করে। তারপর উঠে হাঁটার চেষ্টা করলে ব্যর্থ হয়। পায়ে অনেক ব্যাথা পেয়েছে যার কারণে হাঁটতে পারতেছে না। ও না পারতে মোবাইলটা হাতে নিয়ে কাউকে কল দেয়। কিন্তু ২ বার কল দেওয়ার পরও কেউ কল রিসিভ করে না। ৩য় বার কল দিলে কল রিসিভ হয়। মেহেরিন ওপাশের ব্যাক্তিটিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ও বলা শুরু করে,

"রাফি! তুমার ফোন কই থাকে? এতবার কল দিচ্ছি কিন্তু কল রিসিভ করো না কেনো?

অপাশ থেকে বলে," আমি রাফি না তাকবীর।"

মেহেরিন :"ওর ফোন আপনার কাছে কেনো? আচ্ছা যায় হোক আপনি কি জানেন ও কোথায়?"

তাকবীর:"আমি জানি না ও কোথায়। ওর ফোনটা ক্লাস রুমে ছিলো।"

মেহেরিন :"ওহ আচ্ছা, আপনি কী ওকে বলতে পারবেন যে, আমি এখন ওর পুরনো স্কুলের পাশের রাস্তায়। আসলে আমার ব্যাগ চুরি হয়ে গেছে। আর পায়েও আঘাত পেয়েছি। মোবাইলটাও যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আপনি ওকে প্লিজ বলুন তাড়াতাড়ি এখানে আসতে। এখানে মানুষ নাই তেমন তাই কারো কাছ থেকে সাহায্য নিতে পারতেছি না। "

তাকবীর কিছু না বলে কলটা কেটে দেয়।তারপর পকেট থেকে নিজের ফোনটা বের কাউকে কল দিয়ে বলে,

"রাফি এখন কোথায় আছে সেটা কী জানোস?"

ওপাশ থেকে বলে,"না,কিন্তু কেন?আর আমি কখন থেকে তোর জন্য ক্যান্টিনে বসে আছি। তুই একটু পর আসবি বলে এখনো এলি না।"

তাকবীর যেতে পারবো না বলে ওপাশের ব্যাক্তিটিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে কলটা কেটে দেয়। তারপর রুমটা থেকে বের হয়ে যায়।

---------------------------------------------------------------------------------------------

মেহেরিন হাটঁতে না পারাই সে জায়গাটাতেই বসে ছিলো। আর হাতের রক্ত গুলো টিস্যু দিয়ে পরিষ্কার করতেছিলো।হঠাৎ একটি অবয়ব ওর সামনে এসে দাঁড়ায়। ও মাথা নিচু করে থাকাই শুধু ব্যাক্তিটির পা দেখতে পাই। বুঝতে পারে না ব্যাক্তিটি কে।তাই মাথা তুলে ব্যাক্তিটির দিকে তাকালে দেখতে পাই যে, ব্যাক্তিটি আর কেউ নয় স্বয়ং তাকবীর। মেহেরিন তাকবীরকে এখানে দেখে কিছুটা অবাক হয়।  কিন্তু সেটা তাকবীরকে বুঝতে না দিয়ে বলে,

"আপনি কেনো এখানে এসেছেন?

তার উত্তরে তাকবীর বলে," আমি আসতে চাই নাই। কিন্তু..........

ওর পুরো কথা শেষ করতে না দিয়ে মেহেরিন আবার বলে,"রাফি কোথায়?"

তাকবীর:"আমি জানি না ও কোথায়।"

কথাটা শুনে মেহেরিনের মন খারাপ করে মাথা নিচু করে ফেলে।তাকবীর ওর হাতের ক্ষতটা লক্ষ্য করে কিন্তু সে সম্পর্কে কিছু না বলে ওর হাতটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে,

"চলো, ড্রাইভার অপেক্ষা করতেছে। এখানে গাড়ি পাওয়া যায় না সহজে। অনেক কষ্ট করে গাড়ি পেতে হয়।"

মেহেরিন কোনো কথা না বলে তাকবীরের হাত ধরে উঠে দাড়াতে চেষ্টা করে কিন্তু ব্যর্থ হয়। অনেক চেষ্টা করেও যখন উঠতে পারে না তখন তাকবীরের দিকে অসহায় মুখে তাকাই।তাকবীর কিছু না বলে ওকে কোলে তুলে নেই।তাকবীরে এমন কান্ডে মেহেরিন অবাক হয়ে যায়। আর তাড়াতাড়ি বলে,

"আরে, কী করতেছেন। আমাকে নামান।"

তাকবীর শান্ত দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে বলে,

"হাঁটতে পারলে এখনই নামিয়ে দিচ্ছি। "

মেহেরিন আর কিছু না বলে তাকবীরের গলা জড়িয়ে ধরে। আর তাকবীর চুপচাপ ওকে কোলে নিয়ে হাঁটতে থাকে।একটু হাঁটার পরই ওরা গাড়ির কাছে চলে আসে। তাকবীর মেহেরিনকে সাবধানে পেসেন্জার সিটে বসিয়ে দেয়। তারপর নিজেও ওর পাশে বসে পড়ে। তারপর ড্রাইভার কে উদ্দেশ্য করে বলে,

"গাড়ি স্টার্ট দিতে পারেন এখন।"

গাড়ির ড্রাইভার ঠিক আছে বলে গাড়ি স্টার্ট দেয়।

--------------------------------------------------------------

গাড়ির ভিতর মেহেরিন হাতের ব্যাথায় কিছুক্ষণ পর পর নাকমুখ কুঁচকে ফেলে আর ব্যাথা সহ্য করার চেষ্টা করে। তাকবীর ওর সব কিছু খেয়াল করে। তারপর ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে বলে,

"শুনুন,কাছের কোনো হাসপাতালের সামনে গাড়িটা দাঁড় করিয়েন।"

মেহেরিন তৎক্ষণাৎ ওর দিকে তাকাই। আর ড্রাইভার "ঠিক আছে" বলে গাড়ি চালাতে থাকে।মেহেরিন তাকবীরের দিকে তাকিয়ে বলে,

"আমি ঠিক আছি। হাসপাতালে যেতে হবে না।"

তাকবীর ওর দিকে একটি টিস্যু বাড়িয়ে দিয়ে বলে,"তুমি আগে হাতের রক্তগুলো পরিষ্কার করো।"

মেহেরিন টিস্যুটা নিয়ে রক্ত পরিষ্কার করতে গিয়ে হাতে জ্বালা করাই পরিষ্কার করতে পারে না। তাকবীর ওর দিকে তাকিয়ে বলে,

"এদিকে দাও আমি করে দিচ্ছি। "

মেহেরিন তাড়াতাড়ি বলে,"না,না,লাগবে না। আমি নিজে করে নিচ্ছি। "

তাকবীর ওর হাতটা টেনে ধরে পরিষ্কার করতে থাকে। আর মেহেরিন তাকবীরের দিকে তাকিয়ে থাকে। পরিষ্কার করা শেষ হলে তাকবীর মেহেরিনের হাতটা ছেড়ে দেয়।  তখন মেহেরিন আবার বলে,

"আমি ঠিক আছি। হাসপাতালে যাওয়ার দরকার নাই।"

তাকবীর:"সে তো দেখতেই পারতেছি। আর একটা কথাও বলবে না। চুপচাপ বসে থাকো।"

মেহেরিন ধমক খেয়ে চুপ হয়ে যায়। পুরো রাস্তায় আর কেউ আর কোনো কথা বলে না।

চলবে,,,,

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন