২.ডক্টর তীব্র চৌধুরী বিয়ের রাতেই নতুন বউকে ফেলে ঢাকায় চম্পট দিয়েছে!
শেওড়াতলী গ্রামে যেন এক অদৃশ্য ভাবে খবরটা সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ল। চৌধুরী বাড়ির উঠানে আর গ্রামের মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে একটাই আলোচনা ।
গ্রামের বটতলায় বসে বয়স্ক মুরব্বিরা জটলা পাকিয়ে কথা বলছিলেন। মাঝবয়সী কালু মিয়া একমুখ ধোঁয়া ছেড়ে বলল,
"আরে ভাই, শহরের ডাক্তার হইছে তো কী হইছে? রক্তের গরম তো কমেনি! দাদী এত ভালো একটা কাজ করল, বারো বছরের একটা কচি মেয়েকে ঘরে এনে দিল, তা না, উনি নাকি রাগ দেখিয়ে চলে গেলেন!"
পাশের মুদি দোকানদার হাসেমও মাথা নেড়ে সায় দিল, "একদম ঠিক। আমাদের ছেলে-পুলেরা কি কম বয়সী মেয়েদের বিয়ে করেনি? দিব্যি তো সবাই সুখে সংসার করছে ! এই বয়সে মেয়েদের ঘরে আনলে তবেই না তাদের মনের মতো করে গড়ে তোলা যায়। তাসলিমা বেগম তো কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেননি। এত বড় চৌধুরী পরিবারে অর্শীর মতো হতদরিদ্র ঘরের মেয়ের কপাল খুলে গেল, আর ছেলেটা কিনা বিয়েটাকে একটা পুতুল খেলা ভেবে রাগ করে চলে গেল!"
গ্রামে কানাঘুষার আগুন চৌধুরী বাড়ির প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করতে সময় নেয়নি। পাড়ার মহিলারা পর্যন্ত কাজের অজুহাতে চৌধুরী বাড়িতে উঁকিঝুঁকি দিতে লাগল। কেউ কেউ সহানুভূতি দেখানোর ছলে তাসলিমা বেগমের কান ভারী করতে শুরু করল,
"ও চাচী, শহরের অত বড় ডাক্তার নাতিকে তো সামলাতে পারলেন না! এই নতুন বউটা এখন গ্রামে থাকলে তো লোকে আরও কথা শোনাবে।"
এসব কানাঘুষা আর গুঞ্জন তাসলিমা বেগমের কানের পর্দায় পৌঁছাতেই তাঁর ভেতরের রাগটা যেন বারুদ পেয়ে দ্বিগুণ শক্তিতে জ্বলে উঠল। তিনি লাঠি ঠুকে বারান্দায় হেঁটে বেড়াতে লাগলেন। তীব্রর ওপর তাঁর রাগ এখন চরমসীমায়। চৌধুরী বাড়ির ইতিহাসে কোনো সন্তান এভাবে বয়োজ্যেষ্ঠদের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলে যাওয়ার সাহস দেখায়নি। তীব্র তাঁর মুখে একপ্রকার চুনকালি ছিটিয়ে দিয়ে গেছে!
উঠানের এক কোণে অর্শীয়া তখনও আগের দিনের লাল বেনারসির ধকল সামলে উঠতে না পেরে এক অচেনা আতঙ্কে চুপ করে বসে ছিল। পাশের ঘর থেকে রেহানা বেগম কান্নার গলায় আবার শাশুড়ির পায়ে গিয়ে পড়লেন।
"আম্মা, আপনার পায়ে পড়ি! আপনি আর কোনো অনর্থ ঘটাবেন না,"
রেহানা বেগম দুই হাত জোর করে আকুতি জানালেন। "গ্রামে লোক কী বলছে না-বলছে তা শুনে একটা বাচ্চা মেয়ের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করবেন না। তীব্র কাল রাত থেকে কী অবস্থায় আছে আমরা জানি না। ও ভীষণ একগুঁয়ে। ও যদি রাগে বা ক্ষোভে অর্শীর কোনো ক্ষতি করে বসে? আসমান ভাইকে বলবেন না অর্শীকে ঢাকায় নিয়ে যেতে। মেয়েটা ওখানকার পরিবেশ সহ্য করতে পারবে না, তীব্রও একে মেনে নেবে না!"
তাসলিমা বেগম রেহানা বেগমের দিকে এক পলক রূঢ় দৃষ্টিতে তাকালেন। তাঁর হাত থেকে লাঠিটা সশব্দে মেঝিতে ঠুকে উঠল।
"চুপ কর রেহানা! তুমি নিজের ছেলেকে শাসন করতে পারোনি, এখন এসে আমাকে নীতি শেখাচ্ছ? এই গ্রামে এমন শত শত বিয়ে হচ্ছে, কেউ তো এভাবে বউ ফেলে পালিয়ে যায়নি! গ্রামে যে কানাঘুষা শুরু হয়েছে, তা বন্ধ করার একটাই উপায় অর্শী ঢাকায় তীব্রর ফ্ল্যাটেই থাকবে। তীব্রকে শিখতে হবে নিজের দায়িত্ব কীভাবে পালন করতে হয়। ও যদি নিজের বউ অর্শীকে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলে দেয়, দিক! কিন্তু চৌধুরী বাড়ির অপমান আমি সহ্য করব না। আসমান! তুই এখনই অর্শীর ব্যাগ গোছাতে বল। সকালের কালনী এক্সপ্রেসেই তোরা ঢাকায় যাবি!"
রেহানা বেগম আর একটি শব্দও উচ্চারণ করতে পারলেন না। আঁচলে মুখ ঢেকে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি জানেন, তাঁর এই অহংকারী শাশুড়ির সামনে দাঁড়িয়ে কারো কথা বলার সাধ্য নেই। অসহায় বারো বছরের অর্শী শুধু জলভরা চোখে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে রইল, বুঝতেও পারল না তার নিয়তি তাকে কোন ঝড়ো হাওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
*****
এদিকে ঢাকার গুলশানের এক অভিজাত ও অন্ধকারাচ্ছন্ন নাইট ক্লাবের এক কোণে বসে ছিল ডক্টর তীব্র সায়র চৌধুরী।
যে ছেলে জীবনে কখনো ধূমপান কিংবা মদ্যপান ছুঁয়ে পর্যন্ত দেখেনি, যে নিজের শরীর ও পেশাগত জীবন নিয়ে চরম সচেতন, সেই তীব্র এখন গ্লাসের পর গ্লাস হার্ড ড্রিংকস ঢালছে নিজের গলায়। চোখ দুটো রক্তজবার মতো লাল। কপালে আর শার্টের বোতামে ঘাম জমে আছে, মাথার চুলগুলো অবিন্যস্ত। টেবিলে খালি গ্লাসের সংখ্যা বাড়ছে, আর তীব্রর বুকের ভেতরের দহন খালি গ্লাসের নীলচে তরলেও শান্ত হচ্ছে না।
হঠাৎই বারের ভেতরে ঢুকল তীব্রর কাছের বন্ধু ও সহকর্মী ডক্টর শান্ত । তীব্রর গাড়িটা ক্লাবের বাইরে পার্ক করা দেখে সন্দেহ হওয়ায় সে ভেতরে ঢোকে এবং তীব্রর অবস্থা দেখে তাজ্জব হয়ে যায়। তীব্রর মতো একজন নিখুঁত এবং কঠোর নীতিবান মানুষ এভাবে বারে বসে ড্রিংকস করছে এটা শান্তর কল্পনারও বাইরে ছিল!
"তীব্র! তুই এখানে? এসব কী করছিস বল তো তুই?" শান্ত দ্রুত এগিয়ে এসে তীব্রর হাত থেকে গ্লাসটা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
"তুই জানিস তুই কী করছিস? কাল সকালে তোর দুটো জটিল হার্ট সার্জারি আছে! তুই এভাবে ড্রিংকস করছিস কেন? কী হয়েছে তোর? গ্রামে কি কিছু হয়েছে? দাদী ঠিক আছেন তো?"
তীব্র গ্লাসটা ছাড়ল না, বরং শান্তর দিকে এক ঝলক রক্তাক্ত দৃষ্টিতে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা, কথা জড়িয়ে আসছে। এক অদ্ভুত বিষাদ আর প্রচণ্ড আক্রোশ একসাথে তার হাসিতে ফুটে উঠল।
"দাদী? হা হা হা..."
তীব্র এক হেঁচকি তুলে বিষাদের হাসি হাসল।
"দাদী খুব ভালো আছে শান্ত! দাদী খুব চমৎকার একখানা চিকিৎসা করেছে আমার... আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্জারিটা দাদী নিজেই করে দিল রে!"
"কী উল্টাপাল্টা বকছিস তীব্র? সোজা হয়ে বস। বাড়িতে চল,"
শান্ত তাকে ধরে তোলার চেষ্টা করল।
তীব্র হাত ঝাঁকুনি দিয়ে শান্তকে সরিয়ে দিল। টেবিল থাপড়ে মাতাল গলায় চিৎকার করে উঠল,
"আমাকে ধরবি না শান্ত! আমায় স্পর্শ করবি না! জানিস আজ কী হয়েছে? আমার মতো একজন ডাক্তারকে... একজন স্পেশালিস্টকে দাদী জিম্মি বানিয়ে ফেলেছে! ট্র্যাপ শান্ত, ওটা একটা ফাঁদ ছিল!"
শান্ত হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে বুঝতে পারছিল না তীব্র ঠিক কী নিয়ে কথা বলছে।
"কীসের ফাঁদ তীব্র? কী হয়েছে গ্ৰামে ?"
তীব্র টেবিলের গ্লাসটা এক এক চুমুকে শেষ করে খালি গ্লাসটা শক্ত করে ধরে রটে যাওয়া বিষাক্ত সত্যটা এক নিশ্বাসে উগরে দিল। মাতাল অবস্থায়, নিজের হুঁশ হারানোর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সে ভেঙে চুরমার হওয়া স্বরে বলতে লাগল,
"বিয়ে! বিয়ে দিয়ে দিয়েছে আমার! হা হা হা! ডক্টর তীব্র সায়র চৌধুরী এখন বিবাহিত পুরুষ! বুঝলি শান্ত? ডক্টর তীব্র চৌধুরী আজ ম্যারিড!"
শান্ত চোখ দুটো ছানাবড়া করে ফেলল।
"কী বলছিস তুই? তোর বিয়ে? কিন্তু তুই তো কাউকে পছন্দ করতি না, আর এত হঠাৎ করে ..!"
"হঠাৎ করে?"
তীব্র শান্তর শার্টের কলারটা এক হাতে খামচে ধরল। তার চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা তপ্ত জল গড়িয়ে পড়ল, যা তার চরম ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
"হঠাৎ নয় রে... জবরদস্তি! ব্ল্যাকমেইল! আর পাত্রী কে জানিস? পাত্রী কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে নয়, কোনো শিক্ষিত নারী নয়... একটা বারো বছরের বাচ্চা! ইস্কুলের গণ্ডিও পার হয়নি যে মেয়েটার!"
শান্তর মুখের রঙ নিমেষেই ফেকাসে হয়ে গেল। সে তো বাকরুদ্ধ!
"কী বলছিস তুই তীব্র? বারো বছরের বাচ্চা মেয়ে? দাদী এটা কী করলেন? তুই বাধা দিসনি?"
"বাধা?"
তীব্র পাগলের মতো হেসে উঠল, সে হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল শুধুই এক যন্ত্রণাক্ত গর্জন। "প্রতিবাদ করেছি! চিল্লায়েছি! বলেছি এটা ইললিগাল! এটা মেন্টাল ইলনেস! কিন্তু কার কথা কে শোনে? গ্রামে নাকি এটাই নরমাল! ছোট মেয়েদের এনে নাকি মনের মতো করে গড়া যায়! ছিঃ শান্ত, ছিঃ! আমার নিজের বংশের ওপর ঘেন্না ধরে গেছে আমার! লাল বেনারসি পরিয়ে এক পুতুলকে আমার পাশে বসিয়ে দিল! ছাদনা তলায় দাঁড় করিয়ে বলল 'এ তোর বউ'!"
তীব্র হাতের গ্লাসটা সশব্দে টেবিলে আছাড় মারল। কাঁচ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল, কিন্তু তীব্রর সেদিকে খেয়াল নেই। সে নিজের বুকে হাত দিয়ে গোঙাতে গোঙাতে বলতে লাগল,
"যে হাত দিয়ে মানুষের জীবন বাঁচাই, সেই হাত দিয়ে আজ একটা অপরাধের দলিলে সাইন করতে হলো! একি কাবিননামা শান্ত, নাকি আমার স্বাধীনতার ডেক্লারেশন অব ডেথ? আমি মেনে নিইনি! আমি কাউকে মেনে নেব না! ওই পুতুল খেলা আমি খেলতে দেব না!"
শান্ত বুঝতে পারল তীব্র আর তার নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। অতিরিক্ত অ্যালকোহলে তার মস্তিষ্ক অবশ হয়ে আসছে। সচরাচর যে মানুষটা নিজের আবেগ কাউকে টের পেতে দেয় না, পাহাড়ের মতো শক্ত হয়ে থাকে, সে আজ মাতাল বলেই নিজের ভেতরের এই চরম অপমান আর ক্ষতটা শান্তর সামনে উগরে দিতে পারল।
"শান্ত..."
তীব্রর গলা একদম নিচু হয়ে এলো, মাথাটা ধীরে ধীরে কাঠের টেবিলের ওপর ঢলে পড়ল।
"আমি কোনোদিন আর শেওড়াতলী গ্ৰামে যাব না... কোনোদিন না..."
তীব্র ঢলে পড়ে অচেতন হয়ে গেল। শান্ত এক গভীর দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল। সে তীব্রর হাতটা নিজের কাঁধে জড়িয়ে ধরে তাকে ওঠানোর চেষ্টা করতে করতে ভাবল, এই আগুন এত সহজে নিভবে না। দাদীর একগুঁয়েমি আর তীব্রর এই প্রচন্ড ঘৃণা এই দুইয়ের মাঝে পড়ে না জানি ওই বারো বছরের নিষ্পাপ মেয়েটার জীবনে কী ভয়াবহ ঝড় অপেক্ষা করছে!
******
ঢাকার অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টের বসার ঘরে এক দমবন্ধ করা নীরবতা বিরাজ করছিল। গতকালের অ্যালকোহলের ঘোর আর মানসিক যন্ত্রণার রেশ তখনও তীব্রর শরীর থেকে পুরোপুরি কাটেনি। কপালে হাত দিয়ে সোফায় চোখ বন্ধ করে বসে ছিল সে। আচমকা কলিংবেলের তীক্ষ্ণ শব্দে তার ধ্যান ভাঙল। মাথার ভেতরটা যন্ত্রণায় রি রি করে উঠল। শার্টের হাতাটা কিছুটা গুটিয়ে, লাল রক্তজবার মতো চোখ দুটো নিয়ে তীব্র গিয়ে দরজাটা খুলল।
দরজা খুলতেই তীব্রর চোখের সামনে ভেসে উঠল তার কাকা আসমান চৌধুরী। কিন্তু আসমান চৌধুরীর ঠিক পেছনে, লাল রঙের একটা সুতি সালোয়ার-কামিজ পরে, হাতদুটো বুকের কাছে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে বারো বছরের অর্শীয়া নূর। কাল রাতের সেই ভারী বেনারসি আর গয়না না থাকলেও মেয়েটির চোখেমুখে ছড়িয়ে আছে এক অজানা আতঙ্ক।
অর্শীকে দেখামাত্রই তীব্রর মুখের থমথমে ভাব এক মুহূর্তেই আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণে রূপ নিল। গতকাল রাতের জমানো রাগ, ক্ষোভ আর অপমান একলহমায় আবার ফুঁসে উঠল।
"এসবের মানে কী কাকাই?"
তীব্রর চোখ দুটো যেন হিংস্র বাঘের মতো জ্বলে উঠল। গলার আওয়াজ পুরো করিডোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করল।
আসমান চৌধুরী একটু চমকে উঠলেন, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে একপ্রকার অপরাধীর মতো হেসে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলেন,
"তীব্র, আগে ভেতরে ঢুকতে দে বাবা। জার্নিটা খুব ক্লান্তিকর ছিল "
"এক পা-ও ভেতরে ফেলবে না!"
তীব্র গর্জে উঠে দরজার মাঝখানে হাত দিয়ে বাধা দিল। তার এই রাগান্বিত রূপ দেখে করিডোরে থাকা প্রতিবেশীদের দু-একটা দরজার ফাঁক গলে উৎসুক চোখ উঁকি দিতে শুরু করল। তীব্রর সেদিকে কোনো খেয়ালই নেই। সে সোজাসুজি আসমান চৌধুরীর দিকে আঙুল তুলে বলল,
"কাকাই! পুরো পরিবারে যদি আমি কাউকে বিশ্বাস করে থাকি, তবে সে তুমি! তোমাকে আমি কাকা কম, বন্ধু বেশি ভেবে এসেছি এতদিন! আর শেষ পর্যন্ত তুমিও আমার সাথে এই নোংরা চক্রান্তে যোগ দিলে? কাকাই, শেষ পর্যন্ত তুমিও আমার সাথে এমনটা করতে পারলে?"
তীব্রর কন্ঠে যতটা না রাগ ছিল, তার চেয়েও বেশি ছিল চরম বিশ্বাসের অবমাননার যন্ত্রণা। আসমান চৌধুরী বুঝতে পারলেন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। করিডোরে অন্য ফ্ল্যাটের মানুষজন তাকাচ্ছে, এভাবে চলতে থাকলে তীব্র এখনই একটা বিশাল 'সিন ক্রিয়েট' করে বসবে।
আসমান চৌধুরী তড়িঘড়ি করে অর্শীর হাত ধরে প্রায় টেনে ভেতরে ঢুকে পড়লেন এবং তীব্রকে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দরজাটা সশব্দে বন্ধ করে দিলেন।
"আস্তে কথা বল তীব্র! বাইরের লোক শুনছে!"
আসমান চৌধুরী দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে হাঁফাতে লাগলেন।
"শুনুক! পুরো পৃথিবীর লোক জানুক চৌধুরী বাড়ির কীর্তিকলাপ!"
তীব্র রাগে গজগজ করতে করতে টেবিলের ওপর রাখা কাঁচের শোপিসটা সশব্দে ফ্লোরে আছাড় মেরে ভেঙে ফেলল। বিকট শব্দে অর্শী ভয়ে এক লাফে আসমান চৌধুরীর পেছনে গিয়ে লুকাল। তার ছোট্ট শরীরটা থরথর করে কাঁপছে, ছোট ছোট হাত দুটো দিয়ে সে আসমানের জামার পেছনের অংশ শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে।
তীব্র অর্শীর দিকে এক বিষাক্ত দৃষ্টি দিয়ে আবার আসমানের দিকে ঘুরল,
"তুমি একে আমার ফ্লাটে কেন এনেছ কাকাই? কোন সাহসে তুমি এই বাচ্চাকে আমার অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে এলে? উত্তর দাও আমাকে!"
চলবে...?
ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
#অন্তিমে_তুমি
#Rabeya_Sultana_Urmi