"কে আপনি, এভাবে আমাকে ডিস্টার্ব করছেন কেন?"
"তুমি জানো, তোমার কন্ঠ শুনে আজ ভোরের কফির মতো একটা মিষ্টি উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়েছে আমার মনে...।"
"আপনি কি কোন ভাবে আমার সাথে ফ্লার্ট করছেন??"
"ভালোবাসি.."
"মানে...??!!"
"ভালোবাসি মানে ভালোবাসি.."
"আপনি কি পাগল?? কোনোভাবে পাবনা থেকে পালিয়ে আসছেন??"
"হুমম... আমি পৃথিবী থেকে পালিয়ে তোমার মনের ঘরে লুকিয়ে থাকতে চাই, তোমার মনে কি আমাকে একটু ঠাঁই দেওয়া যাবে??"
"নাহ্.."
"এই বলেই ইরা অচেনা আইডি টাকে ব্লক করে দিল। সে জানে না এই আইডিটি কার। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই আইডি থেকে মেসেজ আসে, সে রিপ্লাই দেয় না ।কিন্তু আজকে সরাসরি কল আসে। সে ভাবে হয়তো পরিচিত কেউ মেসেজের রিপ্লাই না দেওয়ার কারণে কল দিয়েছে। তাই সে কলটা রিসিভ করে। কিন্তু সে ভাবতেও পারেনি যে তার সাথে এমন কিছু ঘটবে।"
ইরা ফেসবুক চালায় আজ থেকে প্রায় দুই বছর ধরে, কিন্তু এই দুই বছরের মধ্যে আজ পর্যন্ত তার আইডিতে কোনো ছেলের আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট আসেনি।যদিও আসলেও সে একসেপ্ট করত না ।
একবার ইরার এক ফ্রেন্ড তার বয়ফ্রেন্ডকে চেক করার জন্য ইরার আইডি থেকে তার বয়ফ্রেন্ডকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায় ,কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতে দেরি কিন্তু ওই ছেলের আইডি ব্লক লিস্টে যেতে দেরি হয় নি । এতে তারা সবাই ভয় পেয়ে গিয়েছিল, ভেবেছিল ইরার আইডি হয়তো হ্যাক হয়েছে। কিন্তু যখন সবকিছু চেক করল, দেখলে সব ঠিকই আছে শুধু ব্লক লিস্টে অসংখ্য ছেলের আইডি। তারমানে এতদিন যতগুলো ছেলে তাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠাতো সবাইকে তখনই ব্লক করে দেওয়া হতো ,সে দেখার আগেই।
ইরার ফুপাতো বোন রুপাই ইরাকে এই আইডিটি খুলে দিয়েছিল। তারপর ইরা আর তার আইডির পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করেনি। তাই ইরা ভেবেছিল যে তার রুপা আপুই হয়তো এই ছেলেগুলোকে ব্লক দিয়ে দিয়েছে ,তাই এই বিষয় নিয়ে সে আর মাথা ঘামাইনি।
ইরা মনে মনে ভাবলো,"এই আইডি থেকে এক সপ্তাহ যাবৎ মেসেজ আসছে, তাহলে রুপা আপু কেনো এখনো একে ব্লক দেইনি??"
পরক্ষনেই ওর মনে পড়ল,"রুপা আপুর তো এখন পরীক্ষা চলছে, তাই হয়তো আইডি তে ঢুকার সময় পায়নি।
এসব ভেবে সে নিজেই ব্লক করে দিল।
(পরবর্তী পর্ব আসার সাথে সাথে পেতে চাইলে এই পেইজে ফলো দিয়ে রাখুন)
ঢাকার ব্যস্ত শহরের ভিতরেও কিছু বাড়ি থাকে ,যেগুলো যেন সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে না। চারপাশে কত আধুনিক বিল্ডিং উঠছে ,কত নতুন নতুন আলো ঝলমল করছে, অথচ সেই বাড়িগুলোর মধ্যে একটি বাড়ি যেন নিরবে দাঁড়িয়ে আছে পুরনো দিনের স্মৃতি বুকে নিয়ে। নুরজাহান সিকদার ইরার নানার বাড়িটা তেমনি। বড় একটা দোতলা বাড়ি সামনে ছায়া ঢাকা বাগান, পেছনে পুরনো আমগাছ যার ডালপালা গিয়ে ছুঁয়ে দেয় বারান্দার জানালার কাচ।
ইরা বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল ,তার পরনে অফ হোয়াইট এর মধ্যে সিম্পল একটা কুর্তি সেট। হাটু পর্যন্ত চুলগুলো বেয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। সদ্য গোসল করে আসা এই রমণীকে দেখে যে কেউ ভাববে এই মেয়ে কোন সাধারণ মেয়ে না এই হল এক হুরপরী।
কারো ডাকে ইরা হঠাৎ পেছনে ঘুরে তাকায়। ইরা দেখে তার নানা খাবার হাতে দাঁড়িয়ে আছে। এই দুনিয়াতে ইরার নানা ছাড়া আর কেউ নেই। ছোটবেলায় মা-বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে নানাই তার সবকিছু। তার নানার কাছেও ইরার চাইতে দামী আর কিছু নেই। ইরাকে তিনি নিজের জীবনের থেকেও বেশি ভালোবাসেন। নানাই ইরা শিক্ষক, অভিভাবক, সঙ্গী।
ইরার নানা কামরুল হক পেশায় ছিলেন একজন আইনজীবী, সেই সূত্রে ইরার মাও ছিল একজন দক্ষ আইনজীবী।
ইরা বারান্দা থেকে এসে কামরুল হকের হাত থেকে খাবারের প্লেট টা নিয়ে টেবিলের উপর রাখল। তারপর কামরুল হককে বিছানায় বসিয়ে দিয়ে সেও তার পাশে বসল। কামরুল হক ইরার মাথায় হাত রেখে নরম স্বরে বললেন,
"নানু ভাই, সেই কোন সকালে নাস্তা করেছিস আর এখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে গেছে, এখনো তোর খাওয়ার খবর নেই। কবে যে তোর একটু বুদ্ধি হবে ।কবে যে তুই নিজে নিজের খেয়াল রাখা শিখবি। অনেক তো বড় হলি এখন একটু নিজের প্রতি যত্নশীল হ।"
"নানু ভাই আমাকে নিয়ে এখন আর তোমাকে এত চিন্তা করতে হবে না । এখন আর আমি আগের মতো ছোট নেই। আমার খিদে পায়নি তাই খাইনি। তুমি কেন এত কষ্ট করে খাবার আনতে গেলে, খিদে পেলে আমি নিজেই গিয়ে খেয়ে নিতাম।"
"আমি জানি কেমন যে খেয়ে নিতি।"
"কচু জানো তুমি আমার বুড়ো।"
"হুমম..আর কথা না বলে খাবারটা খেয়ে নে, নয়তো ঠান্ডা হয়ে যাবে।"
"আচ্ছা"
ইরা গিয়ে খেতে বসল। ইরাকে খেতে দেখে কামরুল হক চলে গেলেন এবং যাওয়ার আগে বলে গেলেন, তিনি একটু বাইরে যাবেন আসতে দেরি হবে, ইরা যেন নিশি কে ফোন করে ডেকে নেয়। নিশি হল ইরার বেস্ট ফ্রেন্ড। খাওয়া শেষ করে ইরা নিশি কে কল দিল। কয়েকবার রিং হতেই কল রিসিভ হলো। ইরা বলল,
"হ্যালো নিশি.."
"হুমম..জানু বল, কি খবর??"
"খবর আলহামদুলিল্লাহ। কি করছিস এখন তুই??"
"কিছু না, বই পড়ছিলাম ।কেন আসতে হবে নাকি?? নানু ভাই বাড়িতে নেই?"
"নাহ্..একটু বেরিয়েছে, আর বলে গেছে তোকে ডেকে নিতে। আসতে নাকি একটু দেরি হবে।"
"আচ্ছা ঠিক আছে, আমি আসছি।"
"আঙ্কেল আন্টি কে বলে আসিস, আজকে তুই থাকবি।"
"না না থাকবো না.."
"থাকবি মানে থাকবি.."
নিশিকে আর কোন কথা বলতে না দিয়ে ইরা কল কেটে দিল । নিশি ইরার কথা ওর আম্মুকে একবার বলার পরেই রাজি হয়ে গেল। নিশির মার কাছে নিশি যেমন ইরাও তেমন। বাপ মা মরা মেয়েটাকে নিশির মা বড্ড বেশি ভালোবাসে ।
২০ মিনিটের মাথায় ইরাদের বাড়িতে চলে এলো নিশি। তারপর দুই বান্ধবী মিলে ছাদে চলে গেল। দুজনে মিলে অনেক গল্প করল। ইরা ঐ অচেনা আইডিটির কথাও নিশি কে বলল। নিশি তো হাসতে হাসতে শেষ, ছেলে প্রথমে ফোন করে বলে কিনা ভালোবাসি !!আজব তো..
মাগরিবের আজান পড়তেই তারা ছাদ থেকে নেমে গেল। এখনো কামরুল হক বাসায় ফেরেনি। ইরা নিচে রান্নাঘরে গিয়ে বাড়ির সার্ভেন্ট রহিমাকে বলল দুই কাপ চা দিতে,তারপর রুমে চলে এলো। রুমে আসতেই ইরার ফোনে আননোন নাম্বার থেকে কল এলো, ইরা ফোনটা ধরে বলল...
"হ্যালো, কে বলছেন??"
চলবে...
#তোমায়_না_চিনেও_চেনা
#সূচনা_পর্ব
#লেখিকা_এইশাত_রাদিয়া