ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমায় না চিনেও চেনা

২য় পর্ব

লেখক: এইশাত রাদিয়া

গল্প:#তোমায়_না_চিনেও_চেনা

লেখিকা:#এইশাত_রাদিয়া

পর্ব:২

"হ্যালো,, কে বলছেন?"

অপর পাশ থেকে মাতাল করা পুরুষালি কণ্ঠস্বর ভেসে এলো,

"কে সেটা এখনই বলে দিলে তো মজা শেষ, একটুও আন্দাজ করুন তো কে এত সাহস করে আপনার সাথে কথা বলতে এসেছে??"

ইরার মনে হল এই কণ্ঠস্বর যেন তার খুব পরিচিত ।কিন্তু সে নিজেকে সামলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন করল,

"আপনি কি মজা করার জন্য আমার কাছে কল দিয়েছেন?"

"আমি তো জানতাম মানুষ কল দেয় কথা বলার জন্য আজ জানলাম মানুষ মজা করার জন্য কল দেয়।"

"আজাইরা প্যাচাল না পেরে ঝেড়ে কাশুন তো,,কে আপনি? নাম কি আপনার? বাসা কোথায় আপনার? আপনি কি আমাকে চিনেন??"

"আপনি কি রোবট নাকি? আমি কি ভুল করে মানুষকে কল দিতে গিয়ে রোবট কে কল দিয়ে ফেললাম নাকি.. বাংলাদেশে এই রোবট কবে তৈরি হলো? কোন মানুষ তো এভাবে এত প্রশ্ন করতে পারেনা।"

"আমার আপনার সাথে ফাউল প্যাচাল পাড়ার এত টাইম নেই। আপনি নিজের পরিচয় দিতে ভয় পাচ্ছেন নাকি?? নাকি আপনি ওই ফেসবুকের বেয়াদব ছেলেটা??"

যদিও ওই কন্ঠের সাথে এই কন্ঠের আকাশ পাতাল পার্থক্য, তবুও ইরা তাকে রাগানোর জন্য এই কথাটা বলল।

এবার সত্যি সত্যি ওয়াসিফ চৌধুরী উদয় আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারল না। এতক্ষণ ফ্রেন্ডদের মন রাখতে এই বেয়াদব মেয়েটার সাথে আজাইরা প্যাঁচাল পারল। এবার সে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গম্ভীর এবং রাগী স্বরে বলল,

"এই ওয়াসিফ চৌধুরী কাউকে ভয় পায় না মিস। আর আপনি কাকে বেয়াদব বলছেন,, আপনার সাহস কি করে হলো আমাকে বেয়াদব বলার,,একটু মিষ্টি করে কথা বলেছি বলে ভাববেন না আপনাকে মাথায় তুলে ফেলেছি।"

ইরা কিছু বলতে নিবে তার আগেই ওয়াসিফ আবার আগের নেই বলতে শুরু করল,

"আপনাদের মত গায়ে পড়া মেয়েদের আমার খুব ভালো করে চেনা আছে। কোন ছেলে একটু মিষ্টি করে কথা বললেই আপনারা মাথায় উঠে যান। ভাবেন ছেলেটা আপনার জন্য পাগল। এসব মেয়েদের আমি ঘৃণা করি,, বুঝেছেন??"

কথা বলার শুরুতে ছেলেটার কণ্ঠ শুনে ইরার যতটা ভালো লেগেছিল এখন আর সে ভালোলাগাটা কাজ করছে না। ইরার চোখ টলমল করছে। সে কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারছে না। গলায় যেন কিছু একটা আটকে গেছে। সে ভেবে পায়না মানুষ এতটা অহংকারী কিভাবে হতে পারে। কই সেও তো সুন্দরী তার তো কোনো অহংকার নেই। ছেলেটা নিজেই কল দিয়ে, নিজেই ফালতু কথা বলে, এখন নিজেই রাগ দেখাচ্ছে। ইরা নিজেকে সামলে নিয়ে কিছু একটা বলতে যাবে ঠিক ওই সময়ে উদয় আবার ধমকে সুরে বলে উঠলো,

"বেয়াদব মেয়ে"

তৎক্ষণাৎ উদয় কলটা কেটে দিয়ে নাম্বারটা ব্লক করে দিল। উদয়ের এই রূপ দেখে সামনে বসা ওর ফ্রেন্ডরা স্তব্ধ হয়ে বসে রইল। তারা বলার মত কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছে না। উদয়ের এই রুপ তাদের কাছে অপরিচিত নয়। কিন্তু ওই বেচারী মেয়েটার কি দোষ ছিল মেয়েটা তো ভদ্রভাবেই কথা বলছিল। উল্টো মেয়েটাকে বেয়াদব বলে দিল ।

কিছুক্ষণ আগে ঘটনা,নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটন শহরে তখন সময় বারোটা।

আজকে উদয়ের এক ফ্রেন্ডের এনগেজমেন্ট ছিল। তাই তারা সব বন্ধুরা মিলে পার্টি শেষে রুফটপে ট্রুথ এন্ড ডেয়ার খেলার আয়োজন করে। উদয় যদিও থাকতে চাইছিল না কারণ তার এইরকম ছেলেমানুষী পছন্দ না। তবে যার এঙ্গেজমেন্ট ছিল তার জোরাজুরিতে রাজি হয়ে যায়। খেলার মাঝে বিপত্তি বাধে তখন,যখন বোতল গিয়ে থামে উদয়ের দিকে। উদয় চেয়েছিলো ট্রুথ নিতে কিন্তু ওই সময়ই তার এক ফ্রেন্ড বলে উঠে,

"Uday doesn't have any courage, he'll only take truth."(উদয়ের তো সাহসই নেই, ও তো ট্রুথই নিবে)

(পরবর্তী পর্ব আসার সাথে সাথে পেতে চাইলে এই পেইজে ফলো দিয়ে রাখুন)

এটা যেন উদয়ের ইগোতে তীরের মত আঘাত করে। সে কোন কিছুই না ভেবে ডেয়ার নেই,তখন তার এক ফ্রেন্ড তাকে বলে,

"Uday, your dare is: now find a number on your phone that isn't saved under any name, call it and talk for 5 minutes. If it's a girl,flirt with her a little, if it's a guy, you have to make him look like a fool within 5 minutes"(উদয়,তোর ডেয়ার হচ্ছে তুই এখন তোর ফোনে এমন একটা নাম্বার খুঁজে বের করবি যেটা কোন নাম দিয়ে সেভ করা নেই এবং তাতে কল দিয়ে পাঁচ মিনিট কথা বলবি। যদি মেয়ে হয় তাহলে একটু ফ্লার্ট করবি আর যদি ছেলে হয় তাহলে তাকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে বোকা বানাতে হবে।)

উদয় বলল,

"I can't flirt with any girl,i just can't do this, you guys know that."( আমি কোন মেয়ের সাথে ফ্লার্ট করতে পারবো না,আমি এসব পারি না, জানিসই তো তোরা)

পাশ থেকে উদয়ের সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং সম্পর্কে উদয়ের ফুপাতো ভাই সিয়াম বলে উঠলো,

"Come on bro,, আমি শিখিয়ে দিব,আমি যা বলতে বলব তুই শুধু তাই বলবি, তাহলেই হবে।"

উদয় এক প্রকার চাপে পড়ে রাজি হয়ে গেল এবং সিয়াম যা বলতে বলছিল সে তাই বলছিল কিন্তু মাঝখানে ইরার কথায় তার খুব রাগ উঠে গেল।

তারপর এই ঘটনা।

উদয় নাম্বার ব্লক করে চলে গেল। তাকে কেউ কিছু বলল না বা আটকালোও না। কারণ তারা জানে এখন উদয়কে কিছু বলে লাভ নেই বরং এখন কিছু বললে তা আগুনে ঘি ঢালার মত কাজ করবে। তারপর সব রাগ এসে পড়বে তাদের ওপর। তাই এখন কিছু না বলাই ভালো।

--

এইদিকে উদয়ের ধমক শুনে ইরা আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। রাগে দুঃখে সে কেঁদে দিল। কাঁদতে কাঁদতে তার একপর্যায়ে হেঁচকি উঠে গেল। এতক্ষণ নিশি ওয়াশরুমে ছিল। সে এসব কিছুই জানে না। সে ওয়াশরুম থেকে এসে দেখল ইরা বারান্দার দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে আর তার শরীর একটু পরপর কেঁপে উঠছে। তাই সে দেরি না করে ততক্ষণাত ইরার কাছে গেল এবং দেখল ইরা কাঁদছে। সে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে কিন্তু ইরা কান্নার কারণে কথা বলতে পারলো না। নিশি ইরাকে বিছানায় বসিয়ে কান্না থামানোর চেষ্টা করতে লাগলো।

তখনই রহিমা চা দিতে এলো। ইরাকে এভাবে কান্না করতে দেখে সে উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞেস করল,

"কি হয়ছে মামণি? তুমি এমনে কানতাছো কেন??"

তখন ইরার কান্না কিছুটা কমে এসেছে। সে কান্না

জরানো কন্ঠে থেমে থেমে জবাব দিল,

"ও..ওই.. লোকটা আ.. আমাকে কি সব বলছিল খালা"

এই কথা শুনে রহিমার মুখের রং কেমন যেন চেঞ্জ হয়ে গেল। সে নিজে নিজেই বিড়বিড় করল,

"তাহলে কি ওরা ইরাকে সব জানিয়ে দিয়েছে!!"

তৎক্ষণাৎ নিশি রহিমাকে সন্দিহান গলায় প্রশ্ন ছুঁড়লো,

"কে ইরাকে সব জানিয়ে দিয়েছে খালা?? আর কি বা জানাবে??"

তৎক্ষণাৎ এমন প্রশ্নে রহিমা কিছুটা ভরকে গেল,সে এবার কি জবাব দেবে ভেবে পেল না।

--

চলবে--

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন