#বসন্ত_বিলাসিনী
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
#পর্ব_৪
স্নিগ্ধ গভীর ঘুমে মগ্ন, হঠাৎ রোকেয়া বেগম
জানালার পর্দা সরিয়ে দেন। সকালের সোনালি রোদ ঘরের ভেতর প্রবেশ করে, মৃদু আলোর ঢেউ স্নিগ্ধর মুখে এসে পড়ে।সেই কিরণ স্নিগ্ধর চোখের পাতা স্পর্শ করতেই সে অপ্রস্তুতভাবে নড়েচড়ে ওঠে। ঘুমের ভারে তার চোখ আধবোজা।যেন ঘুম এখনো তার চোখের কোণে লেপ্টে আছে।
'কিরে বাবা ক'টা বাজে?তুই তো এত বেলা অব্ধি ঘুমাস না?’
স্নিগ্ধ তন্দ্রাচ্ছন্ন ভগ্ন স্বরে মাকে জবাব দেয়,
'কয়টা বাজে?'
'১১ টা।'
'কি! ধ্যাত! অনেক দেরি করে ফেলেছি।আজকে সকাল সকাল আমার নিজস্ব চাঁদটার মুখটাও দেখা হলো না।' বিরবির করে বলল স্নিগ্ধ।
'কিরে কিছু বলছিস? '
'না আম্মু। '
হঠাৎ স্নিগ্ধর রাতের কথা মনে পড়তেই শরীর ঝাঁকা দিয়ে উঠলো।মনে পরে গেলো সেই স্বাস্থ্যবান মেয়ে ভূতনির কথা।যাকে ভূত ভেবে স্নিগ্ধ গলা চাপতে বসেছিলো সে ছিল মূলত পাশের বাড়ির ভোটকি তাহমিনা।জলহস্তীর মতো দেখতে মেয়েটা নাকি কাল রাতে তার প্রেমিকের সঙ্গে পালানোর জন্য বাহিরে অপেক্ষামান ছিলো।কারেন্ট না থাকার ফলে যেমন তাহমিনা স্নিগ্ধকে নিজের প্রেমিক মনে করেছিলো তেমনি স্নিগ্ধও তাকে স্বাস্থ্যবান ভূতনি মনে করেছিলো।ভাগ্যিস ঠিক সময়ে কারেন্টটা চলে এসেছিলো।তা না হলে কি যে হতো!কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে শেষে তাহমিনার প্রেমিক আর আসে নি।মানে লম্পটটা কট মেরেছে।কিন্তু এর থেকেও কষ্টের বিষয় হচ্ছে এই ভোটকিরও প্রেমিক ছিলো।সেও জমিয়ে প্রেম করেছে।আর এদিকে শেখ শাহরিয়ার স্নিগ্ধর মত সুপুরুষ কিনা এখনো সিঙ্গেল মহামারিতে ভুগছে?বার বার একজনের কাছ থেকেই রিজেক্ট হচ্ছে।ছিঃ কি লজ্জার বিষয়!
-
'স্নিগ্ধ তুই তো এখন বের হবি তাই না?একটু অধোরাকেও সঙ্গে করে নিয়ে যা না বাপ।'
স্নিগ্ধ পরোটার সঙ্গে ডিম আর আলুভাজি পেচিয়ে মুখে দেয়।চিবোতে চিবোতে মাকে জিজ্ঞেস করে,
'কেন বলতো?অধোরা আজ কলেজে যায় নি?আর ওকে আমিই বা এখন কোথায় নিয়ে যাব?'
'আরে মেয়েটার সকাল থেকে শরীরটা ভালো না।শরীরে জ্বর। এই অসুস্থতা নিয়ে কলেজে যেতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি যেতে দেই নি।তুই একটু ওকে ডাক্তার দেখিয়ে আন না।তোর ভাবী রাহাকে সামলাচ্ছে। আমি রান্নার জোগার করব।সায়েম থাকলে তোকে কি আর বলতাম?'
শুরু হয়েগেছে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল।মায়েরা পারেও।কয়েকটা কথা বলে মুড একেবারে বদলে দেয়।
'ওকে জলদি বলো তৈরি হতে।'
ছেলের এরূপ কথায় রোকেয়া বেশ খুশি হন।রুমে গিয়ে সে অধোরাকে তৈরি হওয়ার জন্য তাড়া দেন।
-
ডাক্তারে কাছ থেকে ফিরতে ফিরতে ১:৪০ বেজে যায়।অধোরাকে নামিয়ে দিয়ে যে করেই হোক চাঁদনীর সঙ্গে স্নিগ্ধকে দেখা করতেই হবে।ক্লাবমোড় অতিক্রম করেই স্নিগ্ধর বাড়ির রাস্তা পড়ে।
'অধোরা বোরকা সামলে বসো।পড়ে বোরকার জন্য দেখবে দুজনে একসাথেই বোয়াল মাছ ধরছি।'
অধোরা মুচকি হাসে।খুশী হয় কারন একটু হলেও তো স্নিগ্ধ তার প্রতি কেয়ার দেখাচ্ছে।পরক্ষণেই মনটা তার ভীষণ খারাপ হয়ে যায়।একপাক্ষিক জিনিস গুলো সবসময়ই কেন এত কষ্ট দেয়? এ যেন হৃদয়ের রক্ষক্ষরণের চেয়ে কোন অংশে কম যায় না।নিজের অনুভূতি চাপা রেখে জীবন চালিয়ে যাওয়া মূলত এক কঠিন লড়াই।যেই লড়াই একটা মানুষকে ভেতর থেকে খু*ন করার ক্ষমতা রাখে।সেদিন যখন কলেজে স্নিগ্ধকে সে দেখেছিল তখন তো খুব খুশীই লাগছিল কিন্তু পরমুহূর্তে যখন সহপাঠী চাঁদনীর হাত ধরে স্নিগ্ধ তার চোখের সামনে দিয়ে চলে গেলো।একবারটিও তার দিকে ফিরে তাকালো না, তখন বুকের ভেতর কেমন যেন তীব্র একটা চিনচিন ব্যথা অনুভব করলো সে।অথচ তার ব্যথা বোঝার মত দুনিয়াতে সে ব্যতিত আর কেউই নেই।
স্নিগ্ধর বাইক ক্লাব অতিক্রম করার আগেই থমকে যায়।যাবেই তো কারন ক্লাব মোড়ে স্বয়ং চাঁদনী আজ নিজেই দাঁড়িয়ে আছে।চেহারা দেখে মনে হচ্ছে চাঁদের শীতল স্নিগ্ধতা আজ বোধহয় সূর্যের মত তেজস্বী হতে চলেছে।বাইকের গতি ধীর হতেই চাঁদনীর কন্ঠস্বরে পুরোপুরি বাইক টা থামিয়ে দেয় স্নিগ্ধ।চাঁদনী একবার বাইকের পেছনে বসে থাকা অধোরার দিকে তাকায়।তারপর স্নিগ্ধ কে উদ্দেশ্য করে বলে,
'আপনার সঙ্গে জরুরি কথা ছিলো।যদি সময় থাকে...'
কথাটা থামিয়ে দিয়ে স্নিগ্ধ বলে উঠে,
'আমার সব সময় শুধুমাত্র তোমার জন্য বরাদ্দ।'
চাঁদনী আরেকবার অধোরার দিকে তাকায়।অধোরা বেশ অস্তিত্বতে পড়ে যায়।স্নিগ্ধরও চাঁদনীর চাহনি খুব একটা সুবিধার মনে হচ্ছে না।তাই স্নিগ্ধ পুনরায় বলে উঠে,
'আরে এ হচ্ছে অধোরা।আমার ছোট বোন বলতে পারো।আচ্ছা অধোরা আমরা তো বাড়ির প্রায় কাছে চলেই এসেছি, তোমাকে না হয় একটা অটোতে উঠিয়ে দেই?বাকিটা পথ তুমি একটু কষ্ট করে যাও।মাকে তুমি ম্যানেজ করে নিও বোন।'
স্নিগ্ধ অধোরাকে অটোতে উঠিয়ে দেয়।ব্যথার ওপর ব্যথা দিলে নাকি ব্যথা সেরে যায়।যা অধোরার কাছে পৃথিবীর নিকৃষ্ট মিথ্যা বলে মনে হয়।এই তো সে ব্যথার ওপর সবেমাত্রই আঘাত পেলো।কই তার ব্যথা তো সারলো না?উল্টো যন্ত্রণা এখন দ্বিগুণ মনে হচ্ছে।
অধোরা অটোতে উঠে বসতেই চাঁদনী স্নিগ্ধর সম্মুখে এসে দাঁড়ায়।শক্ত স্বরে তাকে বলে,
'আপনার সাথে জরুরি কথা আছে।জলদি বাইক থেকে নামুন।'
চাঁদনীর কড়া হুকুমে স্নিগ্ধর সব বুঝা হয়ে যায়।তাই তো সে বুঝেও এমন একটা ভাব ধরে যেন সে ভাজা মাছটাও উল্টে যেতে জানে না।
'তোমার সব কথা শুনে চলবো।যদি তুমি ভালোয় ভালোয় আমার বাইকে উঠে বসো।'
'বললেই হলো?কে আপনি?যে আমাকে আপনার সব কথা শুনতে হবে?'
'কে মানে?এই মেয়ে হবু স্বামী হই তোমার।সম্মান দিয়ে কথা বলো।'
'এখন একটু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে না?বিল্ডিং হওয়ার আগেই লিফটে উঠার শখ?'
'তুমি কি বসবে?নাকি নিজের ভেতরকার কাবির সিং কে জাগাতে হবে?তখন কিন্তু কন্ট্রোল হারিয়ে অনেক কিছু করে বসতে পারি।'
চাঁদনি চোখ বড় বড় করে স্নিগ্ধর দিকে তাকায়।যা দেখে স্নিগ্ধ মোড়ের চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা তার বন্ধু রাফসানকে জিজ্ঞেস করে,
'তোকে না বলেছিলাম ইথার স্প্রেটা আনতে।এনেছিস?তোর ভাবীকে বেহুঁশ না করে দেখছি কিছুই করা যাবে না।বউটা আমার অবাধ্য।'
'এই যে ফালতু কথা কি বন্ধ করবেন?ভয় পাই আপনাকে?কথা আছে তাই এসেছি, এর মানে এই না আপনি যা না তাই বলবেন।'
'কিরে রাফসান স্প্রেটা কোথায়?'
রাফসান ইথার স্প্রেটা নিয়ে এগিয়ে আসতেই চাঁদনী ঘাবড়ে যায়। এই স্প্রের গন্ধ একবার নাকে এসে লাগলে বেহুঁশ হতে একটুও সময় লাগবে না।চাঁদনির ভয়ালমুখটা দেখে স্নিগ্ধ মিটিমিটি হাসে।কিন্তু আপাতত দাঁত দেখালে চলবে না।রাগ দেখাতে হবে।স্নিগ্ধ ভালো করেই বুঝে গেছে সোজা কথায় যে চিরে ভিজবে না।হাতে সময় ও নেই।সুন্দরীকে পটাতে না পারলে নির্গাত শাড়ি-চুরি পড়ে চিকনি চামেলি ডান্স করতে হবে।
'এই ময়না! ভালো করে বলছি বাইকে উঠে বসো।আমার ঘাড়ের রগ যে কি পরিমান বাঁকা তার বিন্দু মাত্র ধারণা তোমার মধ্যে নেই।খারাপ হতে আমাকে বাধ্য করো না।পড়ে দেখবে এক বেহুঁশ থেকে উঠতে না উঠতেই শেখ বাড়ির ছোট বউ হয়ে গেছো।আর পরবর্তী বেহুঁশ হবে বাসর ঘরে।কতদিন পর জ্ঞান ফিরবে আই ডোন্ট নো।সো আমাকে কঠোর হতে বাধ্য করো না ময়না।'
'ছিঃ! আপনার মুখে কি কোন লাগাম নেই নাকি?'
'তোমাকে বিয়ের পর সবখানেই লাগাম দিয়ে দিবো ময়না।মুখ তো তুচ্ছ জায়গা।'
-
সূর্যের আলো পাতা ছিটকে পড়তেই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে মধুর সোনালী রঙ। পুকুরের জল কিছুটা চকচক করছে, যেন সূর্যের রশ্মি তার গায়ে সোনালী নীল পাথরের মতো জ্বলে উঠেছে। হালকা বাতাসে চাঁদনির চুল উড়ছে।যা স্নিগ্ধর চোখে এক স্বর্গীয় রূপ। দু'জনে এক সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছে।স্নিগ্ধ নীরব অথচ তার অনুভূতি স্পষ্ট।ফুল আর সবুজে ঘেরে এই পরিবেশ স্নিগ্ধর বেশ পছন্দ।মন খারাপের দিনে স্নিগ্ধকে একমাত্র এই সুন্দর ছোট্ট রিসোর্টটাতেই পাওয়া সম্ভব।স্নিগ্ধ আর চাঁদনি নীরবে হাঁটছে। হঠাৎ চাঁদনি প্রশ্ন করে,
'আমি সাহসী দেখেই আপনার সঙ্গে এখানে এসেছি।আর এমনিতেও রাস্তায় দাঁড়িয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলা বিপদ।পরে কে কোন গুজব রটাবে আল্লাহ ভালো জানে।তাই এখানে এসেছি।কিন্তু ভাবিনি আপনি আমাকে একটা রিসোর্টে নিয়ে আসবেন।উদ্দেশ্য কি বলুন তো?'
স্নিগ্ধ বাঁকা হেসে বলে,
'যদি বলি উদ্দেশ্য একমাত্র তুমি।'
'আমার তো মনে হচ্ছে আপনার লক্ষণ ভালো না।লক্ষণ ভালো হলে কি এই দিন-দুপুরে একটা যুবতী মেয়েকে নিয়ে রিসোর্টে আসতেন?'
'লক্ষণ ভালো দেখেই তো দিন-দুপুরে এনেছি।খারাপ হলে তো রাতেই আনতাম।'
'ছিঃ।'
স্নিগ্ধও সঙ্গে সঙ্গে চাঁদনিকে অনুকরণ করে বলে,
'ছিঃ!'
'এখন বলুন আমার বন্ধুদের সঙ্গে আপনি কি করেছেন?
‘তোমার বন্ধু মানে?ওহ ওই আফ্রিকান গরু দু'টোর কথা বলছো?কেন কি হয়েছে ওদের?
স্নিগ্ধর কথার ধরন দেখে মনে হচ্ছে তার কিছু যায় আসে না।সে কিছু জানেও না।
‘ওদের পেট খারাপ হয়েছে।ডাইরিয়া চিনেন?ওইটা হয়েছে। আমি সিউর ওদের সঙ্গে আপনি কিছু না কিছু একটা করেছেন।কারন কাল যখন ওরা আমার থেকে খাবার খাচ্ছিলো তখন আপনি ওদের দিকেই তাকিয়েছিলেন। হয়তো মনে মনে ওদের সেই মুহুর্তেই কেলিয়ে চিকেন কিমা বানিয়ে ফেলেছিলেন।’
'কই বেশি কিছু তো করি নি?খালি কাল রাতে ওদেরকে নিয়ে একটা পার্টি করেছিলাম।বিশ্বাস না হলে আমার বন্ধুদেরকে জিজ্ঞেস করতে পারো।বাপরে কি জমানা চলে এলো মানুষকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়ালেও কথা শুনতে হয়।গিয়ে দেখো ওরা কাল গাধার মত সব গিলেছে দেখে প্রকৃতি ওদের বার বার স্মরণ করছে। এই জন্যই গুরুজনরা বলেন, শরীর মেপে খাবার খেতে হয়।’
‘সমস্যা নেই আমিও খুঁজে বের করবো কারা আমার বন্ধুর এই অবস্থা করেছে।’
কথাটা শেষ হতে না হতেই স্নিগ্ধ চাঁদনীর দিকে এগিয়ে এসে এক লহমায় তার সরু কোমরটা শক্ত করে চেপে ধরে নিজের আয়ত্তে নিয়ে নেয়।চাঁদনীকে একেবারে বুকের কাছে টেনে নেয় স্নিগ্ধ।চাঁদনীর নিশ্বাস ভারী হয়ে আসে।হৃদপিন্ডের কম্পন বেগ পায়।সেদিকে স্নিগ্ধর বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই।সে চাঁদনীর আরো কাছে যেতে ব্যস্ত।তাঁদের মধ্যে এখন নাম মাত্র দুরত্ব।চাঁদনী আজও ভয়ে চোখ-মুখ খিঁচে কাঁপছে।তা দেখে স্নিগ্ধ একটু বাঁকা হাসে।সে চাঁদনীর কানের কাছে গিয়ে হিসহিসিয়ে বলে উঠে,
‘বন্ধু?তোমার বন্ধু, তোমার স্বামী, তোমার প্রেমিক সবই হবে এই শেখ শাহরিয়ার স্নিগ্ধ। আমি ব্যাতিত অন্য কোনো পুরুষকে শুধু শুধু বন্ধু বানিয়ে তাদের মৃ*ত্যু আমার জন্য ফরজ করে দিও না ময়না।আরেকটা কথা তোমার ছেলে বন্ধুর কোনো দরকার নেই।কোনো ছেলের সাথে যদি তুমি নিজ থেকেও কথা বলো তবুও তার মাশুল ওই ছেলেকেই চুকাতে হবে।লিসেন আমি অনুরোধ করছি না ওয়ার্নিং দিচ্ছি সুইটি।’
কথাগুলো বলেই স্নিগ্ধ চাঁদনীকে মুক্ত করে দেয়।চাঁদনী কোনোমতে নিজেকে সামলায়।একটুর জন্যেই তার প্রাণপাখি শূন্যে মিলিয়ে যেত।কিন্তু
স্নিগ্ধর রাগ মিশ্রিত গম্ভীর কথাগুলোর মধ্যেও যেন লুকিয়ে ছিলো অপারগ মোহ,অসমাপ্ত ভালোবাসা।কিন্তু চাঁদনী কি তা কখনো অনুভব করবে?চাঁদনীর আর স্নিগ্ধর কথায় পাল্টা জবাব দেওয়ার সাহস হয় না।সে হাঁটতে হাঁটতে স্নিগ্ধকে উদ্দেশ্য করে কম্পিত কন্ঠ বলে,
'কোচিং মিস করে এখানে এসেছি।চারটার আগে বাড়ি পৌঁছাতে হবে ।আমার হাতে অত সময় নেই।কেউ যদি একটু করুণা করত তাহলে কৃতজ্ঞ হতাম।'
'আমি মনে হয় সময়ের কারিগর? আমার বুঝি খুব সময় আছে?আমার বন্ধু নয়নের ডাইরিয়া,আমাশয় সব হয়েছে।ওকে দেখতে যাওয়ার কথা ছিল।তবুও দেখো তোমাকে ভালোবাসি বিধায় সময় দিচ্ছি।’
চাঁদনী ভ্রু কুঁচকে একবার স্নিগ্ধর দিকে তাকায়।কোন জবাব দেয় না।দুজনে একসঙ্গে হাঁটছে।রিসোর্টের দু'পাশে ঝোপ আর মাঝখানে একটা সুরু রাস্তা।নীরবতা পালন করে সেই রাস্তা ধরেই হাঁটছে দুজনে।হঠাৎ চাঁদনী থমকে দাঁড়ায়। তাকে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে স্নিগ্ধও থেমে যায়।জিজ্ঞেস করে,
'কি হয়েছে?থামলে যে?পা ব্যথা করছে তাই না?কোলে চড়তে চাও সেটা মুখে বললেই তো হয়।আমার সামনে এত লজ্জা কিসের?'
'আপনি চুপ করবেন?'
স্নিগ্ধ তৎক্ষনাৎ চুপ হয়ে যায়।মনে মনে শুধায়,
'এই মেয়ের মধ্যে কোনো ফিলিংস নেই নাকি?রোমেন্সের তো র ও বুঝে না।'
'দেখুন ওই ঝোপটা কেমন নড়ছে!'
চাঁদনী হাত দিয়ে ইশারা করতেই স্নিগ্ধ সামনে থাকা ঝোপটার দিকে তাকায়।দেখতে পায় সত্যি সত্যি ঝোপটা কেমন যেন নড়ছে।ঝোপের পেছনে আবার বাঘ-সিংহ নেই তো?
'দেখুন কি এক জায়গায় আমাকে মারতে নিয়ে এসেছেন?শেষে কিনা বাঘের খাবার হব?'
'বাঘিনীও তো থাকতে পারে।তাতে ভয় পাওয়ার কি আছে?আমার ছিক্স প্যাক দেখেছো?এই ছিক্স প্যাক যদি বাঘিনীকে দেখাই না সে ফিদা হয়ে মরেই যাবে।'
'তাহলে বুঝে নিন কি এমন আপনার ছিক্স প্যাক যা দেখলে বনের বাঘিনীও লজ্জায় মরিমরি।'
স্নিগ্ধ জবাব দেয় না।কারন তার চোখ আপাতত ওই ঝোপটার দিকেই আঁটকে আছে।কি আছে ঝোপের পেছনে তা দেখের কৌতূহল বেড়েই যাচ্ছে।
'তুমি এখানে দাঁড়াও। আমি দেখে আসছি কি আছে।'
'আরে আমাকে একা ফেলে চলে যাবেন?যদি পেছন থেকে আমাকে কেও ধরে নিয়ে যায়?
'স্নিগ্ধর হবু বউকে ধরে নিয়ে যাবে?কার এত বড় কলিজা?আচ্ছা তুমি আমার সঙ্গেই আসো।'
স্নিগ্ধ আর চাঁদনী ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ঝোপের কাছে।পা টিপে টিপে পৌঁছায় সেখানে।একেবারে নিশ্চুপ দু'জনে।হঠাৎ স্নিগ্ধ দু'হাত দিয়ে ঝোপটা দু'পাশে সড়াতেই তার চক্ষু চড়কগাছ। এ কি দেখছে সে?দিনদুপুরে তার বন্ধু নয়ন ঝোপের আড়ালে মেয়ে নিয়ে চুমু খাচ্ছে?
'নয়ন!......'
চলবে?