ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্ত বিলাসিনী

৬ষ্ঠ পর্ব

লেখক: ইশরাত জাহান জেরিন

#বসন্ত_বিলাসিনী

#ইশরাত_জাহান_জেরিন

#পর্ব_৬

রাতে জলদি বাড়ি চলে এসেছিল স্নিগ্ধ।সেই যে রুমে ডুকেছে জনাবের বের হওয়ার নাম গন্ধ নেই।রোকেয়া বেগম এবং তার বড় ছেলের বউ মিলে খাবার সাজাচ্ছেন। অধোরাও তাদের সঙ্গে হাতে হাতে কাজ করছে।হঠাৎ রোকেয়া বেগম কাজ থাকিমে অধোরাকে বললেন,

'মা তুই একটু স্নিগ্ধকে ডেকে দে না।খাওয়ার সময় হয়ে গেছে তো।'

অধোরা একটু অস্তিত্ববোধ করে।আজ স্নিগ্ধ তার সঙ্গে যা করলো তাতে স্নিগ্ধর সামনে তার মোটেও যেতে ইচ্ছে করছে না।যাকে শুরু থেকে এতটা ভালোবেসে এসেছে, সে এখন অন্য কাউকে নিজের করে পেতে ব্যস্ত।এখন তো এই বাড়িতে নিঃশ্বাস ফেলাও দায় হয়ে উঠেছে।কি করে এসব সইবে অধোরা?রোজ ভালোবাসার মানুষের মুখোমুখি কি করে হবে সে?এমন চলতে থাকলে তো স্নিগ্ধকে ভুলা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে উঠবে।

একগাদা চিন্তা নিয়ে অধোরা স্নিগ্ধর দরজার সামনে যায়।দরজায় কোন মতে একটা কড়া নাড়তেই দেখে দরজা খোলা।কি করবে বুঝতে পারছে না।হঠাৎ ভেতর থেকে আওয়াজ আসে,

'ভেতরে আসো সমস্যা নেই।'

অধোরা ভয়ে ভয়ে স্নিগ্ধর রুমে প্রবেশ করতেই তার শ্বাস রুখে আসে।কি অবস্থা স্নিগ্ধর?কালো একটা ট্রাউজার ছাড়া শরীরে আর কিছুই নেই।সুঠাম দেহের প্রতিটা ভাঁজ স্পষ্ট। টপটপ করে শরীর বেয়ে ঘাম ঝরছে।আকর্ষনের চরম মাত্রা আজ স্নিগ্ধ পার করে ফেলেছে।এভাবে চলতে থাকলে তো সে বার বার এই ছেলের প্রেমে পড়ে যাবে।

'ইয়ে মানে আমি পরে আসি তাহলে।আসলে খালা আপনাকে খেতে আসতে বলেছে।’

স্নিগ্ধ যখন জিমে যেতে পারে না ব্যস্ততার জন্য তখন বাসায় শরীরচর্চা করে।স্নিগ্ধর ঘর ভর্তি ওইসব শরীরচর্চার কিসব জিনিসপত্র।এই তো সবেমাত্রই স্নিগ্ধ শরীরচর্চা শেষ করেছে।

'আমি সাওয়ার নিয়ে আসি।বেশি সময় লাগবে না।সাওয়ার শেষে খেতে আসছি।'

অধোরা প্রত্যুত্তর করে না ।তবে তার চোখ বলছে সে স্নিগ্ধর সব কথা মাথায় ভালো মতোই ডুকিয়েছে।স্নিগ্ধ পানির বোতল থেকে ঢকঢক করে পানি পান করে তোয়ালে হাতে সাওয়ারে চলে যায়।অধোরাও রুম থেকে চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতে নেয় কিন্তু হঠাৎ কি যেন একটা ভেবে থমকে দাঁড়ায়।স্নিগ্ধ ততক্ষণে ওয়াশরুমে চলে গেছে।অধোরা বিছানার ওপর এবড়োখেবড়ো করে ফেলে রাখা স্নিগ্ধর কালো রঙের শার্টটা হাতে তুলে নেয়।তাতে পরম যত্নে হাত বুলায়।নাকের কাছে নিয়ে গন্ধ শুঁকে। অদ্ভুত সুন্দর একটা গন্ধ।এই পারফিউমের গন্ধই অধোরাকে বার বার মাতাল করে।নিয়তি কেন যে সব কিছু এত প্যাঁচায়?অধোরা শার্টটা জায়গা মতো রেখে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।কারন এতক্ষণ স্নিগ্ধর রুমে থাকাটা ভালো দেখায় না।বাকিরা অন্য মাইন্ডেও এসব নিতে পারে।

-

চোখে চাঁদনীর ঘুম নেই।কেনো যে আজ ঘুম আসছে না তা সে নিজেও জানে না।রাত তো ভালোই হয়েছে।বাড়ির সবাই ১১ টার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ে।চাঁদনী আজ সারাদিন জারিফ ভাইয়ের আতঙ্কে কাটিয়েছে।কেন জানি খুব ভয় করে লোকটাকে দেখলে। হঠাৎ চাঁদনীর ফোনে একটা কল আসে।কলটা তার বান্ধবী নাদিয়া করেছে।চাঁদনী দেরি না করে বারান্দায় চলে যায়।রুমে নেট সমস্যা। বারান্দায় কোনো আলো নেই।রুমে শুধুমাত্র একটা ড্রিম লাইট জ্বলছে।চাঁদনী কলটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে নাদিয়া বলে উঠে,

'কিরে চাঁদনী তোর ব্যাগ গুছানো হয়েছে?'

চাঁদনীর হঠাৎ মনে পড়ে পিকনিকের কথা।কলেজ থেকে এবার তাদেরকে সিলেট নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।পরশুদিন পিকনিক। তিন’'দিন সকলে সিলেট থাকবে।সব ঘুরে ঘুরে দেখবে।যদিও চাঁদনীর এখনো গোছগাছ করা বাকি।কথা শেষ করে চাঁদনী যখনি রুমে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নেয় তখনি কেউ একজন তার মুখটা শক্ত করে চেপে ধরে।নিজেকে ছাড়ানোর যথেষ্ট চেষ্টা চালিয়েও লাভ হয় না।মুখ দিয়ে শুধু গোঙানির শব্দ করে যায় সে।

'এত তাড়া কিসের চাঁদ? আমাকে এত দূরে দূরে কেন রাখছিস? দেখ আমি তোর কত কাছে চলে এসেছি।'

জারিফ চাঁদনীকে মুক্ত করে দেয়।মুহুর্তেই চাঁদনী তেঁতে উঠে।শক্ত কন্ঠে বলে,

'তোমার সাহস কি করে হলো আমার রুমে আসার?আমাকে স্পর্শ করার?খালা কিংবা অন্যকেউ এসব দেখলে কি হবে ভেবে দেখেছো?'

'তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।চাঁদ তুই কেমন করে সব ভুলে গিয়েছিস?অতীত ভুলা কি এত সহজ?'

'তুমি ভালোয় ভালোয় এখান থেকে যাবে?'

চাঁদনীর কাঠকাঠ জবাবে জারিফের কিছু বলার আর সাহস থাকে না।তবে সে তো তার উদ্দেশ্য আজ নয়তো কাল ঠিকই পূরণ করেই ছাড়বে।

'আজ চলে যাচ্ছি।তবে ভাবিস না তুই আমার থেকে পালিয়ে বেড়াতে পারবি।জেনে রাখ অতীত না চাইতেও একদিন উন্মোচন হবেই ।'

কথাটা বলেই জারিফ তরতর করে অন্ধকারের মধ্যে চাঁদনীর রুম থেকে বেরিয়ে যায়।সে যেতেই চাঁদনী নিজের বুকে হাত দিয়ে ঘন নিশ্বাস নেয়।রুমের দরজা লাগিয়ে দেয়।ভয় হচ্ছে তার, খুব ভয় হচ্ছে। মনে মনে একটাই চিন্তা কিছু পাওয়ার আগেই সব হারাতে হবে না তো?কেন যে জারিফ ভাইয়ের এখনি চলে আসতে হলো?

-

শীতের কুয়াশায় আচ্ছন্ন সকাল। দূরের গাছপালাগুলো কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেছে। বাতাসে শীতলতা এতটাই গভীর যে, হাত-মুখ জমে আসছে। মনে হচ্ছে আজ প্রকৃতির বুকে শৈত্যপ্রবাহ নেমেছে। কনকনে ঠাণ্ডায় চারপাশ নিস্তব্ধ হলেও জীবন থেমে নেই।ক্লাসরুমের জানালার কাচ বাষ্পে আবৃত। স্যারের অনুপস্থিতিতে ক্লাসের পরিবেশ স্বাভাবিকের চেয়ে ঢিলেঢালা। ছেলেমেয়েদের কোলাহলে ক্লাসরুম মুখরিত। কেউ বেঞ্চে বসে গল্পে মশগুল, কেউবা জানালার ধারে বসে বাইরের কুয়াশা দেখতে ব্যস্ত।চাঁদনীও ব্যস্ত তার বান্ধবীদের সঙ্গে গল্প করতে।কথোপকথনের ফাঁকে ফাঁকে কখনো সে হাত উষ্ণ করতে মুঠোয় ফুঁ দেয় আবার কখনোবা চুলের ঢেউ নাড়িয়ে দেয় শীতল বাতাসে। হঠাৎ চাঁদনীর বান্ধবী নাদিয়া তাকে হিসহিসিয়ে বলে উঠে,

'কিরে স্নিগ্ধ ভাইকে আর কত পেছনে ঘুরাবি?ওর মত একটা ছেলেকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপর।কি নেই ওই ছেলের? ভালো সার্টিফিকেট আছে,ব্যবসা আছে।এত সুন্দর দেখতে তার ওপর শেখ বাড়ির ছেলে।শেখ বাড়ির বউ হতে পারলে তার ভাগ্য খুলে যাবে।'

চাঁদনী জানালার দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ নিশ্বাস ছেড়ে নাদিয়ার দিকে তাকায়।তাকে বলে,

'টাকা-পয়সা আমার কাছে মেটার করে না।ভালো একজন জীবন সঙ্গী পেলেই হয়েছে।'

'সব বুঝলাম কিন্তু তুই তো স্নিগ্ধ ভাইকে ভালোবাসিস।কিরে ঠিক বলছি না?'

'কে বলেছে?যতসব বানোয়াটি কথা।'

'হয়েছে চাঁদনী। আমরা মেয়ে মানুষ, তাই অন্য মেয়ের চোখ দেখলেই মন পড়তে পারি।যাই হোক যদি তুই স্নিগ্ধকে ভালোবেসে থাকিস তাহলে সময় থাকতে বলে দে।কারন কখন মাটি খুঁড়ে হিরা অন্য কেউ নিয়ে চলে যাবে তা বুঝে উঠতে পারবি না।’

চাঁদনী জবাব দেয় না।হয়তো বিষয়টাকে ইচ্ছে করেই এড়াতে চাইছে।হঠাৎ তার চোখ যায় ফাস্ট বেঞ্চে বসে থাকা অধোরার ওপর।কি একটা ভেবে চাঁদনী তার কাছে যায়।অধোরার বেঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে মিহি কন্ঠে প্রশ্ন করে,

'তুমি স্নিগ্ধর কি হও ?আসলে একই ক্লাসে পড়ার পরেও তোমার সঙ্গে আমার তেমন একটা আলাপ নেই।কাল যখন জানতে পারলাম তুমি স্নিগ্ধর বোন হও তখন একটু অবাক হয়েছিলাম।’

অধোরা বুঝতে পারছে না তার কি জবাব দেওয়া উচিত?যেইসব বিষয় সে এড়িয়ে যেতে চায় সেইসব বিষয়ই তাকে বার বার ঘিরে ধরে।অধোরা কিছু বলতে যাবে তার আগেই ক্লাসে স্যার চলে আসে।স্যারকে দেখে চাঁদনী উত্তরের আশা না করে নিজের জায়গায় গিয়ে বসে।অধোরা হাফ ছেড়ে বাঁচে। এখন না হয় সে বেঁচে গেছে কিন্তু এরপর কি হবে?

-

শীতের রাত। আকাশ কুয়াশায় ঢাকা,যা গ্রামকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। ঠান্ডা হাওয়া আর দূর থেকে ভেসে আসা শেয়ালের ডাক রাতের গভীরতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। মোল্লা বাড়ি আলোকময়, কারণ কাল এই বাড়ির ছোট মেয়ের বিয়ে। বাড়ির চারপাশে ঝলমলে আলোর সারি, রঙিন কাগজের ঝালর, আর ফুলের সাজে পুরো জায়গাটা অসাধারণ রূপ নিয়েছে।দিনভর অতিথিদের আনাগোনা, হাসি-খুশি, আর প্রস্তুতির ব্যস্ততায় বাড়ি জমজমাট ছিল। উঠোনে প্যান্ডেল তোলা হয়েছে, বড় বড় হাঁড়িতে রান্না হয়েছে।নারীরা কাজ গুছিয়ে রাতের খাবার শেষ করেছেন। উঠোনের কোণে গল্পের আসরে বড়দের জমজমাট আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন সেই বাড়ি যেন শান্তিনীড়।অতিথি-স্বজন সবাই এখন গভীর ঘুমে মগ্ন।কারন রাত যে অনেক হয়েছে।

বাড়ির উঠোনে টিমটিমে বাতি জ্বলছে। পাশেই ধানের ক্ষেতে কুয়াশার আস্তরণ পড়ে আছে। বাড়ির পেছন দিকে তিনটা বাইক দাঁড়িয়ে আছে।পেছনে দু'টো আর সামনে একটি।সামনের বাইকে যে ছেলেটা বসে আছে মাথায় তার কালো হেলমেট।গায়ে কালো লেদারের জ্যাকেট। পায়ে কালো বুট, হাতে গ্লাভস।তার ওপর মাক্স পড়ে থাকায় চেহারা পুরো অস্পষ্ট। ছেলেটার পেছনে আরেকটা ছেলে বসে আছে।তার মাথায়ও হেলমেট।হঠাৎ সামনের সেই ছেলেটি বাইক থেকে নেমে বাকিদের উদ্দেশ্যে বলে,

'তোরা এখানেই থাক কারন বাকি কাজ আমার।’

পাশের বাইকে বসে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে সে পুনরায় বলে উঠে,

‘মামা! এবার তোর বউকে আর কেউ নিজের নামে লিখে নিতে পারবে না তুই দেখিস।'

ছেলেটিও তাকে জবাব দেয়,

'সাবধানে যাস স্নিগ্ধ। বিয়ে বাড়ি থেকে বউ তুলে আনা মুখের কথা নয় কিন্তু। আমরা এখানেই আছি। কোনো জামেলা হলেই কল দিস।আর আমরাও চারিপাশে নজর রাখছি,বিপদের হদিস পেতেই তোকে তৎক্ষনাৎ কল করবো।'

স্নিগ্ধ মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।তবে সে যাওয়ার আগে রাফসান পুনরায় তাকে বলে,

'সাবধানে ভাই।স্বপ্না কিন্তু তোর হবু ভাবী হয়।এই ভেবে হলেও ওকে যে করেই হোক তোর তুলে আনতেই হবে।আমিই যেতাম কিন্তু তুই তো এসব কাজে এক্সপার্ট।’

'ডোন্ট ওয়ারি।স্নিগ্ধ যেহেতু কাজ হাতে তুলে নিয়েছে এর মানে সে এই কাজ পারফেক্ট ভাবেই করবে।'

-

'প্রথম চ্যাপ্টার থেকেই তবে শুরু করি।কি বলো?'

অধোরা মাথা নেড়ে জ্বী বলে বইটা খুলল।আদিপ এসেছে তাকে পড়াতে।আজ থেকেই পড়ানো শুরু করে দিয়েছে।

'আপনি স্নিগ্ধ ভাইয়ার সঙ্গে দেখা করলেন না যে?'

'একবার ওর রুমে উকি মেরেছিলাম। মহারাজা তো ঘুমাচ্ছেন।'

'ঘুমাবেনই তো কারন ভোরে বাড়ি ফিরেছেন।'

'আই নো, আই নো।'

হঠাৎ খাটের দিকে তাকাতেই আদিপ একটু অবাক হয়।

'ব্যাগ ট্যাগ গুজিয়ে কই যাওয়া হচ্ছে?'

অধোরা বিছানার দিকে একবার তাকায়।তারপর হেসে জবাব দেয়,

'কলেজ থেকে পিকনিকে ৩ দিনের জন্য সিলেট নিয়ে যাচ্ছে।তাই প্রয়োজনীয় জিনিস সব প্যাক করেছে।'

আদিপ কিছু বলতে যাবে তার আগেই কেউ একজন বলে উঠে,

'বাপরে কি বলো?তোমাদের তিন দিনের ট্যুরে সিলেট নিয়ে যাচ্ছে?'

আদিপ আর অধোরা দরজার সামনে তাকাতেই স্নিগ্ধকে দেখতে পায়।কালো রঙের একটা হুডি আর ট্রাউজার পড়া।হয়তো কিছুক্ষণ আগেই ঘুম ভেঙেছে শেখ সাহেবের।স্নিগ্ধ দেরী না করে অধোরার রুমে ডুকে তাকে জিজ্ঞেস করে,

'তোমাদের কলেজের সবাই যাচ্ছে?'

'জ্বী সবাই যাচ্ছে।'

'একটা কথা জিজ্ঞেস করি?ওই যে কাল একটা মেয়েকে ক্লাবমোড়ে দেখলে না?ওই মেয়েও তোমার কলেজে পড়ে।ওকে চিনো তুমি?'

এসব প্রশ্ন কেন স্নিগ্ধর তাকেই করতে হবে?অধোরাকে এত কষ্ট দিয়ে কি পাচ্ছে স্নিগ্ধ?এতই যদি ওই চাঁদনীকে ভালোবাসে তাহলে নিজে গিয়ে সব তদন্ত করলেই তো পারে।

'বলো?'

'হ্যাঁ পড়ে।আর সেও যাচ্ছে সিলেট।

অধোরা আগেই বুঝতে পেরে গেছে এই প্রশ্নটাও স্নিগ্ধ তাকে করবেই।তাই প্রশ্ন করার আগেই উত্তরটা দিয়ে দিলো।তাতে অবশ্য স্নিগ্ধর উপহার হয়েছে বটে।

'তো মামা তুমি এই ঘরে কি করছো?'বলল আদিপ।

'কি করছি মানে অধোরাকে পড়াচ্ছি।'

'ওহ হ্যাঁ মা বলেছিলো অধোরাকে যেন আমি পড়াই।পরে আমিই কাজটা তোর কাঁধে চাপিয়ে দেই।চিল মুডে পড়াতে থাকো মাস্টারমশাই। আমি একটু রুম থেকে আসছি।অধোরা তুমি একটু তোমার মাস্টারের জন্য চা নাস্তার ব্যবস্থা তো।বাড়িতে এই মুহুর্তে তো আর কেউ নেই।সব তো জন্মদিনের দাওয়াতে গেছে।তুমিও গেলে পারতে।এসব পড়ালেখা করে লাভ কি বলো?'

কথাটা বলেই স্নিগ্ধ গুন-গুন করে সেখান থেকে চলে যায়।সঙ্গে সঙ্গে অধোরা উঠে যায় নাস্তার জোগান করতে।সত্যি মানুষটা কতক্ষণ হলো এসেছে আর অধোরা তাকে একটু জল অব্দি দেই নি।নিশ্চয়ই রোকেয়া খালা থাকলে এমনটা হতো না।অধোরা বসা থেকে উঠতে যাবে তার আগেই কারেন্ট চলে যায়।ধ্যাত কারেন্ট যাওয়ারও আর সময় পেলো না।

-

অন্ধকারের ভেতর একপা দুইপা করে স্নিগ্ধ অধোরার রুমে আসে।অদিপ সেখানেই আছে।অধোরা তো বোধহয় রান্নাঘরে।অন্ধকারের মধ্যেই রান্না ঘরে কাজ করছে হয়তো কিংবা আবার মোমবাতি খুঁজছে। তাতে স্নিগ্ধর কি?তার এসবে যায় আসে না।ওইতো একটা অস্পষ্ট ছায়া দেখতে পাচ্ছে সে।কি যেন খুঁটিনাটি করছে।এই আদিপ টাও না।অন্ধকারের মধ্যে এক জায়গায় স্থির ভাবে বসে থাকতেও পারে না।স্নিগ্ধ দেরি না করে পেছন থেকে আদিপের পশ্চাদদিকে একটা মৃদু চাপড় মেরে বলে,

'শালা তুই মেয়ে নাকি রে?এত নরম ক....'

কিছু বলে উঠার আগেই মেয়েলি চিৎকারে ঘরসুদ্ধ কেঁপে উঠে।চিৎকারের শব্দে জলদি ওয়াশরুম থেকে আদিপ বের হয়ে ফোনের লাইট ধরতেই স্নিগ্ধ নিজেও

'আসতাগফিরুল্লাহ' বলে চমকে উঠে।

তার সামনেই চোখ মুখ খিঁচে দাঁড়িয়ে আছে অধোরা।আদিপের মাথায় তো কিছুই ডুকছে না।সে উভয়কেই জিজ্ঞেস করে,

'কি হয়েছে?'

কারো মুখে কোন কথা নেই।হঠাৎ স্নিগ্ধ ঢোক গিলে প্রশ্ন করে,

'অধোরা তুমি ছিলে?'

চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৬ষ্ঠ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন