#পরিণীতা
#পর্ব:১২
#তানজিনা ইসলাম
প্রাণেশা বেডের উপর পা তুলে বসে আছে।একজন নার্স এসে ওর হাত থেকে ক্যানোলা খুলে নিয়েছে।প্রাণেশা হাসিমুখে তাকিয়ে আছে পলক ভূইয়ার দিকে।পলক ভূইয়া বসে আছে সোফার উপর।অবশেষে আজকে ও ছাড়া পাবে এই বন্দী দশা থেকে ভাবতেই প্রাণেশার খুশি উপচে পরে।একদিনেই অবস্থা কাহিল হয়ে গেছে ওর।অসম্ভব ছটফটানি অনুভব হচ্ছিল শরীরে। অনেক প্যানপ্যানানির পর পিয়াস ভূইয়া আর প্রিয়ম ডিসচার্জ করাতে গেছে।ওঁদের তো আরো ডিসিশন ছিলো প্রাণেশাকে আরো একদিন রাখবে হসপিটালে।অবিলম্বে প্রিয়ম আর পিয়াস ভূইয়া ডিসচার্জ পেপার হাতে নিয়ে কেবিনে ঢুকলো। প্রাণেশা হেসে তাকালো ওদের দিকে, বললো
-" হয়ে গেছে?"
-"হুম এবার তোকে নিয়ে যেতে পারবো।" প্রিয়ম হাসি মুখে উত্তর দেয়।
প্রিয়ম এসে প্রাণেশাকে ধরে উঠালো।বুকের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে এলো কেবিন থেকে।
নীল হন্তদন্ত হয়ে কেবিনের কাছে আসলো।এতোক্ষণ নিজের চেম্বারে বসে বসে ঘুমাচ্ছিলো ও।পরক্ষণে ঘুম ভাঙতেই প্রত্যুষের কথা মনে করে দৌড়ে এখানে চলে এসেছে।নীল এসে দেখলো কেবিন খালি।ভাবনায় কপাল ভাজ পরে ওর।একজন নার্স কে ডেকে জিজ্ঞেস করলো
-"এই কেবিনে একজন পেশেন্ট ছিলো না।কোথায় গেলো?কেবিন খালি কেন?"
-"এই কেবিনের পেশেন্ট কে ডিসচার্জ দেওয়া হয়েছে আজ।পেশেন্টের পরিবার তাকে নিয়ে চলে গেছে স্যার!"
বলেই চলে গেলো নার্স। নীল ঠোঁট উল্টালো।কোনো কাজই ঠিক মতো হয় না ওর দ্বারা।একটা মানুষ ওঁকে একটা কাজ দিয়ে গেছিলো সেটাও ঠিক মতো করতে পারলো না।নীল হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নেড়ে আবার নিজের চেম্বারে চলে যায়।
প্রিয়ম প্রাণেশাকে গাড়ির দরজা খুলে বসিয়ে দেয়।নিজে গিয়ে সামনে ড্রাইভিং সিটে বসে।পলক ভূইয়া আর পিয়াস ভূইয়া অন্য গাড়িতে আসবেন।প্রাণেশা সিটে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে তখনই সামনের সিট থেকে কেউ ভাউ করে ভয় দেখায়। প্রাণেশা চমকে যায়। বুকে থুথু দিয়ে সামনে তাকিয়ে দেখে মুগ্ধ দাঁত কেলিয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে। প্রাণেশা চোখ ছোট ছোট করে তাকায় ওর দিকে।মুগ্ধ টেডি হেসে বললো
-"কিরে মরিসনি এখনো তুই?আমিতো ভেবেছিলাম খুব তাড়াতাড়িই একটা মেজবান খেতে পারবো!"
প্রাণেশা আফসোস করে বললো
-"আহারে বেচারা! আশার মধ্যে এক বালতি জল পড়লো। থাক রে প্রথমে মনে হয় আমার চান্স আসবে। তুই আমারটা খেতে না পারলেও আমি তোর টা খেতে পারবো।"
মুগ্ধ হাসলো, সামনের সিট থেকে লাফ দিয়ে পেছনের সিটে প্রাণেশার পাশে চলে এলো ও। ঝাপটে জড়িয়ে ধরে বললো
-" বন্ধুরে অনেক মিস করেছি তোকে আমি।"
-" চুপ কর হারামি, এতোক্ষণে মনে পড়েছে আমার কথা তোর? কালকে যখন মরতে বসেছিলাম তখন কোথায় ছিলি তুই?"
-"বিশ্বাস করবি কলেজ থেকে ফেরার পর আম্মুর সাথে নানুরবাড়ি গিয়েছিলাম। নেটওয়ার্ক তো সেখানে একাবারে নেই বললেই চলে তাই তোর কল ধরতে পারিনি। কিন্তু কালকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পর অনেকবার ফোনে ট্রাই করেছি তোকে পাইনি। সকালে প্রিয়ম ভাইয়ার কাছ থেকে জানতে পেরেছি।"
প্রাণেশা মলিন হেসে মাথা রাখলো ওর কাধে, মুগ্ধ ভাবুক স্বরে বললো
-"কিন্তু এতো মরার ইচ্ছে কেন জেগেছিলো তোর? এতো মরতে মন চাইলে আমাকে বলতি আমিই গলা টিপে দিতাম তোর । শুধু শুধু এতো কষ্ট করার কি প্রয়োজন ছিলো?"
প্রাণেশা উত্তর দিলো না ওর কাধে মাথা রেখে নিশ্চুপ শুনে গেলো সব। মুগ্ধ হাত বুলিয়ে দেয় ওর মাথায়। নরম স্বরে বলে
-"ঘুমা।"
সত্যি সত্যিই প্রাণেশার চোখে ঘুম এসে ধরা দেয়। পুরোটা রাস্তা ও ঘুমিয়েই কাটিয়ে দিলো। গাড়ি থামায় ঝাঁকুনিতে ঘুম ভেঙে যায় ওর। মাথা তুলে জানালা দিয়ে তাকিয়ে দেখে ভূইয়া বাড়িতে এসে পড়েছে ওরা।
-"উঠে পড়েছিস তুই!"
মুগ্ধের কন্ঠে পাশ ফিরে তাকালো ও, উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে হ্যাঁ জানালো। মুগ্ধ ওর গাল টেনে দিয়ে বললো
-"ঘুমাতি, উঠে গেলি কেন? ডাকিনি তো তোকে!"
-"ঘুমালে বাড়ির ভেতরে যেতাম কি করে?"
প্রাণেশা ভ্রু উঁচিয়ে বললো।
-"কোলে করে নিয়ে যেতাম আর কি বাবেশ!"
বলেই ভাব নিল মুগ্ধ। প্রাণেশা হাসতে হাসতে বললো
-"হ্যাঁ হ্যাঁ তারপর অর্ধেক গিয়ে আমাকে সহ নিয়ে উল্টে পরতি।"
মুগ্ধ গাড়ি থেকে নেমে দরজা খুলে নামালো ওকে, প্রিয়ম ও নিচে নেমে এসে নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় বোনকে। প্রাণেশা দূর্বল পা ফেলে হাটতে থাকে।
ড্রয়িং রুমে মানারা বেগম প্রাণেশাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরে কাদছেন। কতক্ষণ এভাবে তিনি প্রাণেশাকে নিয়ে বসে আছেন তার হিসাব নেই। প্রাণেশা চুপচাপ লেপ্টে আছে মায়ের বুকের সাথে। মালিহা বেগম হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন ওর মাথায়। ড্রয়িং রুমে প্রায় বাড়ির সবাই উপস্থিত আছে। প্রিয়ম মাকে শান্ত করার চেষ্টা করলো বললো
-"আম্মু ওর রেস্টের প্রয়োজন কিছু খেতে দাও ওকে। কাদতে কাদতে তো দেখি তুমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পরবে।"
মানারা বেগম নিজেই ওকে ছেড়ে চোখ মুছেন।প্রাণেশার সারা মুখে হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন
-"একদিন আমার থেকে দূরে ছিলি তাতেই কি অবস্থা হয়েছে তোর?"
প্রাণেশা ঠোঁট উল্টালো, বললো
-"খিদে পেয়েছে অনেক আম্মু।"
মানারা বেগম মমতার দৃষ্টিতে তাকালেন ওর দিকে। মেয়েটা যে একেবারে খিদে সহ্য করতে পারেনা।
মালিহা বেগম আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো প্রত্যুষ নেই। এতোক্ষণে খেয়াল হলো তার বাড়ির সবাই আসলেও প্রত্যুষ আসেনি,তাই তিনি বাড়ির পুরুষদের উদেশ্যে জিজ্ঞেস করলেন
-"তোমরা সবাই এসেছো প্রত্যুষ কই? ও আসেনি তোমাদের সাথে?"
প্রিয়ম অবাক হয়ে বললো
-" কি বলছো বড় মা প্রত্যুষ ভাইয়া তো কাল রাতেই হসপিটাল থেকে বেরিয়ে গেলো।"
-"তাহলে প্রহর যে আমাকে বললো ও তোমাদের সাথে আসবে সকালে।"
ওদের কথার মাঝেই গটগট পায়ে হেটে সদর দরজা দিয়ে ঢুকলো প্রত্যুষ। কারো দিকে দৃষ্টিপাত না করে সোজা সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো। সবাই অবাক হয়ে তাকালো ওর দিকে। কিন্তু প্রাণেশা মাথা নিচু করে থাকে, একবার চোখ তুলে তাকায়নি পর্যন্ত সে দিকে। মানারা বেগম ফোস করে শ্বাস ফেললেন। প্রিয়মকে উদ্দেশ্য করে বললেন
-"ওকে নিয়ে ঘরে যা আমি নাস্তা বানিয়ে আনছি।"
প্রিয়ম এগিয়ে উঠালো প্রাণেশাকে, বুকের সাথে এক প্রকার জড়িয়ে ধরে সিড়ি দিয়ে উঠলো। দোতলায় উঠতেই রওশার সম্মুখীন হয় ওরা দুজন।রওশার পা থমকে যায় ওদের দেখে। প্রিয়ম একবার শুধু তাকায় আড়চোখে ওর দিকে। কোনো মতবিনিময় না করে বোনকে নিয়ে তিনতলায় উঠে যায়। রওশা একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে ওদের যাওয়ার দিকে।
মানারা বেগম চুলায় মাংস চাপিয়েছে আরেক চুলায় রুটি, মালিহা বেগম মাংসের পাতিল নামিয়ে রেখে চা চড়ালেন।আসমা বেগম সেই কখন চা চেয়েছেন প্রাণেশা আসায় আর দেয়া হয়নি, মালিহা বেগম চটজলদি চা বানিয়ে একটা কাপে ঢেলে দ্রুত পায়ে ড্রয়িং রুমে আসলেন। সোফায় বসে থাকা মানারা বেগমের দিকে এগিয়ে দিলেন চায়ের কাপটি।আসমা বেগম হাত বাড়িয়ে নিলেন।মুখ বাকিয়ে বললেন
-" এক কাপ চা দিতে এতোক্ষণ লাগে?সেই সাত সকালে উঠে এক কাপ চা চেয়েছিলাম তোর কাছে কিন্তু তুই দিচ্ছিস এখন।"
মালিহা বেগম শাড়ির আঁচলে নিজের ঘামার্ত মুখ মুছলেন। বললেন
-"আমি তখনই চা বানিয়ে দিতাম তোমাকে কিন্তু প্রাণেশা টা বাড়ি ফিরলো কতো ঝড় ঝাপটা পেরিয়ে বেঁচে ফিরেছে মেয়েটা। একটা মাত্র মেয়ে আমার।ওর পাশে না বসে আমি কি করে চা বানিয়ে দিতাম বলো তো?"
আসমা বেগম মুখ বাকালেন আবার।তাচ্ছিল্য করে বললেন -"মরতে গিয়েছিলো কেন রে?শুধু শুধু বাড়ির ছেলেগুলা রে দৌড় -ঝাপ করানোর লাইগা?"
মালিহা বেগম বিরক্তিতে নাক কুচকান, তার মায়ের প্রতিটা ব্যাপারে খুত ধরার স্বভাব আর গেলো না। আস্তে ধীর কন্ঠে বললেন
-"মা এসব বলা বন্ধ করো কেউ শুনতে পাবে।"
আসমা বেগম তেতে উঠলেন আরো। গলার স্বর বড় করে বললেন
-"শুনুক না, কাউকে ভয় পাই নাকি আমি!আর ওই মাইয়াডা তোর দেবরের মাইয়া তোর পেটের মাইয়া না!তাই তো তোর ছেলেকে না পাওয়ার দুঃখে মরতে বসলো। কি বেলাজা মাইয়ারে বাবা, আমরা আমাদের চাচাতো জেঠাতো ভাইদের নিজের ভাইয়ের চোখে দেখতাম কিন্তু ওই মাইয়াডা জেঠাতো ভাইয়ের সাথে পিরিতি করতে না পাইরা দুঃখের সাগরে ভাসতাছে। আবার হাতের রগ ও কাটতে যায়। ছি!তোর জা রেও বলিহারি। মাইয়া রে বুকে নিয়া কানতাছে।আমার যেন মাইয়া জন্ম দি নাই!যদি এমন করতো না এতো কাঁদন না কইরা, চাপকে সিধা কইরা ফেলতাম।
মালিহা বেগম ধমকে উঠলেন নিজের মা'কে। আসমা বেগম কাচুমাচু হয়ে বসলেন।মালিহা বেগম রাগে কাঁপতে কাঁপতে বললে
-"তোমার সমস্যা টা কী মা,বলবে আমাকে! কেন এসব বলছো?প্রাণেশা কে নিয়ে একটা খারাপ কথাও বলবে না তুমি।বিশ্বাস করো যদি আমি জানতাম, ও ভালোবাসে প্রত্যুষকে তবে কখনই এই বিয়েটা হতে দিতাম না।মেয়েটা তো আমাদের দোষারোপ পর্যন্ত করলো না,যেখানে সব দোষ আমাদের।সেখানে তুমি ওঁকে নিয়ে কন্টিনিউয়াসলি খারাপ কথা বলে যাচ্ছো! প্লিজ,হাত জোড় করে বলছি তোমাকে।আমার সংসার টা ভেঙো না তুমি। প্রাণেশা এ বাড়ির প্রাণ, ওর কিছু হলে ভেঙে যাবে আমার সাজানো বাড়িটা।"
আসমা বেগম আর কিছু বললেন না,চুপ থাকায় শ্রেয় মনে করলেন।মালিহা বেগম আর কিছু না বলে গটগট পায়ে হেঁটে কিচেনের দিকে চলে যান।কিন্তু কিচেনের দরজার পাশে মানারা বেগম কে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে থেমে যায় ওনার পা।মানারা বেগম মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছেন।হাতে খাবারের ট্রে।মালিহা বেগম মনে মনে ভয় পেলেন ভীষণ!শুনে ফেললো না তো ওনার মায়ের কথাগুলো।তিনি আগ বাড়িয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই মানারা বেগম বললেন
-"প্রাণেশার জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলাম।"
বলেই তিনি যাওয়ার জন্য পা বাড়ালেন। একটু গিয়ে আবার পেছনে ফিরে তাকালেন তিনি।শক্ত কন্ঠে বললেন
-"তোমার প্রতিবাদ করার দরকার ছিলো না আপা।আসলেই আমি আমার মেয়েটাকে শাসন করতে পারিনি।কী করে করবো বলো,ওর গায়ে একটু ফুলের টোকা লাগলেও আমার বুক ছারখার হয়ে যায়। সেখানে আমার মেয়েটা মরতে মরতে বেঁচেছে কী করে ওঁকে মারি বলতো।ওটা হয়তো শুধু ওনার দ্বারাই সম্ভব।"
বলেই দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে গেলেন উনি।মালিহা বেগম থম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে।মনের মধ্যে কু ডাকছে।ওনার সাধের সংসারটা না ভাঙলেই হয়।বাড়িটা যেমন একটা একটা ইট গেঁথে বানানো হয়েছে তেমনই তিনি একটু একটু ভালোবাসা ঢেলে সংসার টা সাজিয়েছিলেন।কিন্তু এখন যে সে ভালোবাসায় ফাটল ধরছে।
প্রাণেশা বালিশের সাথে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে আছে। রাহাত ঘুমোচ্ছে ওর কোলে। প্রাণেশা অতি আদরে হাত বুলিয়ে দিচ্ছে ওর মাথায়।কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়েছে ছেলেটা।মাম্মা কে নাকি অনেক বেশিই মিস করেছিলো সে।রিধিতা আর আরিশা চুপচাপ বসে আছে বিছানার উপর। নিরবতা ভেঙে রিধিতা বললো
-"জানিস,কাল পুরোটা রাত ঘুমোয়নি ও।ওর নাকি পেটে ব্যাথা করছে।পরে বুঝলাম পেটে ব্যাথা করছে না ওটা, ওর মাম্মার জন্য মন জ্বলছে ওর।বেশিরভাগ রাত তো তোর সাথেই ঘুমাতো।পুরোটা রাত কান্না করেছে।"
প্রাণেশা মিষ্টি হেঁসে আরেকটু বুকের সাথে জড়িয়ে নিলো ওঁকে। আরিশা মুখ কালো করে বললো
-"কেন করলি এটা দোস্ত? "
-"কী করেছি?"কোনো ভনিতা ছাড়াই বললো প্রাণেশা।
আরিশা আর বললো না কিছু।শুধু বিশ্রী ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেওয়ার দরকার কী! এর চেয়ে প্রাণেশাকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করবে ওরা।
মানারা বেগম খাবারের ট্রে নিয়ে ঢুকলেন ভেতরে।প্রাণেশা মায়ের দিকে তাকিয়ে হাসলো।সেও বিনিময়ে হাসি দেওয়ার চেষ্টা করলো।
মানারা বেগম খাইয়ে দিচ্ছেন প্রাণেশাকে।প্রাণেশা মনোযোগ দিয়ে দেখলো নিজের মা'কে। গোমরা মুখে খাইয়ে দিচ্ছেন উনি।প্রাণেশা খেতে খেতে জিজ্ঞেস করলো নিজের মা'কে
-"কী হয়েছে আম্মু? মন খারাপ এখনো তোমার!"
-"না,তোমাকে এতো কথা বলতে কে বলেছে। চুপচাপ খাও তুমি!"
প্রাণেশা অবাক হয়ে তাকালো মায়ের দিকে।কেন বকা খেলো,মাথায় ঢুকলো না ওর।
কিন্তু মানারা বেগমের মনে অন্য চিন্তা। প্রাণেশা কী আদোও স্বাভাবিক থাকতে পারবে এ বাড়িতে!যতই বলুক স্ট্রং হবে,কিন্তু রওশা আর প্রত্যুষকে একসাথে দেখলে যদি আবার দুর্বল হয়ে পড়ে ও! আবার যদি কষ্ট পায় তার মেয়েটা তাহলে! কী করবে!চলে যাবে এই বাড়ি ছেড়ে! ভাবতেই মানারা বেগমের আত্মা কেঁপে উঠলো।কী করে যাবেন উনি এই বাড়ি ছেড়ে।যে বাড়িতে বউ হয়ে আসলো,একটু একটু করে সাজালো সংসার টা।সেই বাড়ি ছেড়েই চলে যাবেন উনি!মানারা বেগম আর ভাবতে পারলেন না।দ্বন্দ্বে ভুগছেন তিনি।যাই হোক,তিনি এটুকু বুঝে গেছেন, হয়তো ভবিষ্যতে তাঁকে এই বাড়িটা বেছে নিতে হবে নয়তো তার মেয়েকে।
#চলবে