ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরিণীতা

২১তম পর্ব

লেখক: তানজিনা ইসলাম স্রোতিস্বিনী

#পরিণীতা

#পর্ব:২১

#তানজিনা ইসলাম

প্রত্যুষ চুপচাপ আধশোয়া হয়ে বসে আছে বিছানার উপর। কোলে থাকা লেপ্টপে মনোযোগ দিয়ে দেখছে কিছু।পাশেই প্রোজ্জ্বল ঘুমোচ্ছে।রওশা পা টিপে টিপে এসে কক্ষে ঢুকলো। প্রত্যুষকে কাজে মগ্ন দেখে আইঢাই করলো কিছুক্ষণ। গলা খাঁকারি দিয়ে মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করলো।প্রত্যুষ মাথা তুলে চাইলো।কোমল স্বরে বললো

-"কিছু বলবেন?"

রওশা উপর নিচ মাথা নাড়ে।প্রত্যুষ নিজের কোল থেকে লেপটপ টা নিয়ে বিছানার উপর রাখলো।রওশাকে উদ্দেশ্য করে বললো

-"বসুন।"

রওশা গুটিগুটি পায়ে হেঁটে বিছানার উপর বসলো।হাত মোচড়াতে মোচড়াতে, মিনমিন স্বরে বললো

-"চাচি মা ফোন দিয়েছিলো।"

-"হু।কী বলেছে?"

রওশা ঢোক গিলে।জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বলে

-"আমি যাতে আমার ভাগের সম্পত্তিটা তাদেরকে দিয়ে দেই।আমার নাকি বিয়ে হয়ে গেছে, তাই আমার ওসব দিয়ে কাজ নেই।জায়ানের ফিউচার সিকিউর করার জন্য, আমি যাতে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও সম্পত্তির ভাগ ছেড়ে দিই!"

-"আপনি কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?"

-"আমি সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছি।"

প্রত্যুষ মোলায়েম স্বরে বললো

-"দেখুন রওশা,এটা সম্পূর্ণ আপনার ব্যাক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু তবুও যদি আপনি আমার মতামত জানতে চান,তাহলে বলবো বাবার সম্পত্তির ভাগ একজন মেয়ের অধিকার।আমাদের ধর্মেও এর প্রতি কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে যাতে একজন মেয়েকে তার ভাগ থেকে বঞ্চিত করা না হয়।

আপনার উচিত হবে না আপনার এই অধিকার ছাড়া।"

রওশা চুপ করে থাকলো ক্ষণকাল।পরক্ষণেই মলিন স্বরে বললো

-"জানেন,আমার চাচী আমার সাথে অনেক সুন্দর করে কথা বলেছে।একটুও তিক্ত স্বরে কথা বলেনি আমার সাথে।সুন্দর করে বুঝিয়ে বলেছে আপনি বড়োলোক। আমার কাঁড়ি কাড়ি টাকা পয়সার অভাব হবে না।আমি সারাজীবন এমনিতেই রাণীর হালে থাকতে পারবো,সুখের অভাব হবে না আমার। তারা আমাকে বড়লোক,ডাক্তার ছেলে দেখে বিয়ে দিয়েছে আমি তাদের জন্য এটুকু করতে পারবো না!"

প্রত্যুষ তাচ্ছিল্য করে হাসলো।ব্যাঙ্গ করে বললো

-"আপনার চাচীর তো দেখি কোনো তুলনায় হয় না।যখন আমি আপনাকে ছেড়ে চলে এসেছিলাম তখন তো তার মাতৃত্ববোধ উতলে উঠেছিলো।সে আপনাকে ছোট থেকে বড় করেছে তাই আপনার প্রতি এই অবিচার সে নাকি সহ্য করতে পারছিলো না।তাই সে আমার পরিবারের সম্মান পর্যন্ত ধূলিসাৎ করতে উঠে পড়ে লেগেছিলো।এখন তার এতো মাতৃত্ব বোধ কোথায় রওশা?"

রওশা মাথা নিচু করে ফেলে।ঠোঁট কামড়ে কান্না আটকায়।

তার চাচী যে কত বড় ছল-ছাতুরী করে তাকে এখানে পাঠিয়েছে সেটা ও কী করে ভুলতে পারে!এই ভয়েই তো সে সবসময় কুঁকড়ে থাকে প্রত্যুষ কোনো না কোনো একদিন হয়তো তাকে অতীতের কথা মনে করে খোঁটা দিবে।এই সুদুর লন্ডনে একটা বিচ্ছিরী পরিস্থিতিতে একা একা এসেছে ও,সেটা ভাবতেই আঁতকে উঠে মাঝে মাঝে।প্রত্যুষ তো ওঁকে আনতে চায়নি,উল্টো ওর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য নিজের সবকিছু ছেড়ে এখানে এসে পড়েছিলো।কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে রওশাকে আবারও প্রত্যুষের কাছে এসেই ঠাঁই নিতে হয়েছে।শেষমেশ ভাগ্য ওঁকে এখানে এনেই ফেললো।উহু!ভাগ্য না,ওর চাঁচির অতি চালাকি। যে চাঁচি ও মরে গেলেও খবর নেওয়ার কথা চিন্তা করতো না সে চাঁচি ঐ দুই বছরে প্রতিনিয়ত ফোন দিয়ে খোঁজ নিতো ওর।খোঁজ নিতো তা বললে ভুল হবে,আসলে সে কূটনামি করতো।প্রতিদিন শুধু একটা টপিকে কথা বলতো কবে রওশাকে প্রত্যুষ তার সাথে নিয়ে যাবে।রওশা বরাবরই এড়িয়ে যেতো।ওর সহ্য হতো না এসব কথা।কিন্তু এমন একটা কান্ড ঘটালেন তিনি যার জন্য রওশা নিজেও প্রস্তুত ছিলেন না।এক সকালে বাড়িতে পুলিশ নিয়ে আসলেন তিনি, অপবাদ দিলেন রওশা প্রতিনিয়ত অত্যাচার হচ্ছে সে বাড়িতে।উদাহারন হিসেবে দেখালেন প্রত্যুষের ওঁকে ছেড়ে চলে যাওয়া। যদিও পুলিশ পলক ভূইয়ার মুখের উপর কিছুই বলতে পারনি,কারণ গ্রামে ভূইয়া বাড়ির অনেক সুনাম তাই পুলিশ আসমা বেগমের কোনো কথায় কানে তুলেননি।কিন্তু আসমা বেগম দমে যান নি,অনেক কথা শুনিয়েছিলো পরিবারের সবাইকে,অপমান করেছিলেন যেহেতু তিনি প্রাণেশা আর প্রত্যুষের ব্যাপারে সব জানতেন।তিনি এটাও বলেন পুরো গ্রামে নাকি,ভূইয়া পরিবারের মুখোশ উন্মোচন করবেন।সবাইকে জানাবেন তারা উপরে উপরে ভালো দেখালেও একটা মেয়ে তাদের পরিবারে কতটা অবিচারের স্বীকার হচ্ছে! গ্রামে মানসম্মান খোয়ানোর ভয়ে পলক ভূইয়া অনেক সাফার করে রওশা কে এখানে পাঠান।আর তারপর থেকে রওশা এখানে থাকছে।যদিও প্রত্যুষ তখনও নির্বাক ছিলো আর এখনো নির্বাক।ওর যেন এসব নিয়ে কিছুই বলার নেই।পলক ভূইয়া ওঁকে এখানে পাঠানোর পরও প্রত্যুষ কিছুই বলেনি।ওর এমন একটা গা ছাড়া ভাব যে যা করবে করুক ওর যায় আসে না।

দীর্ঘক্ষণ রওশাকে চুপ করে থাকতে দেখে বড় করে শ্বাস ফেললো প্রত্যুষ।নম্র স্বরে বললো

-" আমি বুঝতে পারছি আপনার অনেক কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু কী করবো বলুন আমিই বা কতটা শান্তিতে আছি!আমার কষ্ট তো কেও দেখলো না রওশা।"

রওশা কন্ঠ খাদে নামিয়ে বললো

-"আমরা শুধু এক ছাঁদের নিচে একটা সাইনের ভিত্তিতেই আছি প্রত্যুষ।এর বহির্ভূত কোনো সম্পর্ক নেই আমাদের মধ্যে। আমি কোনোদিন দোষ দিই নিই আপনাকে।দেওয়ার কোনো সুযোগই নেই,প্রয়োজন মনে হয় নি।আপনি আমাকে

থাকতে দিয়েছেন, আমার সব প্রয়োজন পূরণ করেছেন,একটা স্ট্যেন্ডার্ড লাইফ লিড করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি কৃতজ্ঞ আপনার প্রতি। কিন্তু আপনি আমাকে এখনো মানতেই পারলেন না, আমাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর কোনো সম্পর্কই নেই।

চাচী এমন কেন করেছিলো জানেন,সে মনে করেছিলো আপনি দূরদেশে চলে গেছেন।এখন আমাকে চাইলেই ডিভোর্স দিতে পারবেন আপনি।কিন্তু আপনি যদি আমাকে ডিভোর্স দেন আমাকে আবার ঐ বাড়িতেই ফিরে যেতে হবে।তখন আবার আমার ভরণপোষণের দায়িত্ব চাচু কে নিতে হবে,আমার গায়ে ডিভোর্সির তকমা লেগে যাবে।আমার আর বিয়ে হবে না, সারাজীবন আমাকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াতে হবে।এই ভয়েই সে এমন করেছিলো,মাতৃত্বের জন্য নই।"

প্রত্যুষ মুচকি হাসলো।কোমল স্বরে বললো

-"আপনার কথায়ই আপনি আপনার উত্তর পেয়েছেন রওশা।যে মানুষ টা আপনাকে নিজের ভাবতে পারলো না,সে মানুষটার জন্য আপনি সেক্রিফাইজ কেন করবেন!"

রওশা উঠে দাড়ালো।উচ্ছ্বসিত হেসে মাথা নাড়িয়ে বললো

-"হ্যাঁ,ঠিক বলেছেন। আমি আমার সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছি।আমি আমার অধিকার ছাড়বো না।তবে যে অধিকারবোধ প্রতিনিয়ত অসহ্য যন্ত্রণার কারণ হয় সে অধিকার ছেড়ে দেওয়া উচিত!"

বলেই ধীর পায়ে বেরিয়ে গেলো রওশা।প্রত্যুষ কপাল কুঁচকে তাকালো। শেষ কথাটার মানে ধরতে পারলো না।পরক্ষণেই এসব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আবার ও নিজের কাজে মনোযোগ দিলো,এখন আর কারো কথা প্রভাব ফেলতে পারে না প্রত্যুষের উপর।

.

সকালে ভূইয়া বাড়ির সকলে টেবিলে বসে নাস্তা করছে। প্রিয়ম বাচ্চাদের মতো মোবাইল দেখে দেখে খাচ্ছে।পিয়াস ভূইয়া একবার বিরক্তিকর চোখে ওঁকে দেখছে আরেকবার খাচ্ছে।মানারা বেগম কিছুক্ষণ পরপর জিজ্ঞেস করছে ওদের কিছু লাগবে কিনা!শুধু প্রাণেশাই খেতে বসেনি।ঘুমাচ্ছে ও। প্রিয়ম খাওয়ার মাঝে বোনের অভাব বোধ করলো। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললো

-"তোমার মেয়ের ঘুম এখনো ভাঙেনি আম্মু?"

-"আরে না!এতো তাড়াতাড়ি ঘুম ভাঙবে নাকি ওর!এখনো তো সকাল আটটা বাজে।"

প্রিয়ম কাঁদো কাঁদো স্বরে বললো

-"হ্যাঁ।ওরই তো সব সুখ!ওর এতো আরাম দেখলে গায়ে জ্বালা ধরে যায় আমার।আর এদিকে তোমার স্বামী অফিসে আমাকে খাঁটিয়ে মারছে।বিছানা থেকে উঠছিনা বলে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখের উপর এক গ্লাস পানি ঢেলে দিয়েছে।"

পিয়াস ভূইয়া ছোট ছোট চোখে দেখলেন ওঁকে। শাণিত স্বরে বললেন

-"এসব কী কথা বার্তা হ্যাঁ!নিজের বাবাকে নিয়ে এতো বড় অপবাদ দিচ্ছিস, লজ্জা করছে না।পানি কেন মেরেছি সেটা বল,যে তুই অফিসে না যাওয়ার জন্য ঘুমের নাটক করছিলি আমার সাথে। আর তুই কী মনে করেছিস তোর মতো দামড়া ছেলেকে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো।আমার বাড়িতে থাকতে হলে কাজ করে খেতে হবে।"

প্রিয়ম বাবাকে কিছু না বলে,মানারা বেগমকে অভিযোগের সুরে বললেন

-"দেখো আম্মু!কীভাবে খোঁটা দিচ্ছে আমাকে।"

মানারা বেগম প্রতিবাদ করে উঠলেন।বললেন

-"এই খবরদার আমার ছেলেকে কিছু বলবে না তুমি।ছেলেটা আমার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কতো কাজ করে।তুমি তো পারো না সব কাজ ওর উপর গছিয়ে দিতে।"

পিয়াস ভূইয়া দমে গেলেন।মানারা বেগমের উপর জোর গলায় কথা বলার সাধ্য ওনার এই বয়সে এসে পর্যন্ত হয়নি।তাই সে মিনমিন করে বললো

-"ফিউচারে এসব তো ওঁকেই দেখতে হবে।সব কিছুই তো ওর আর প্রাণেশার। আমার তো সারাজীবন কাজ করার শক্তি থাকবে না।এখন থেকে কাজ শিখে না নিলে পরে যখন বেশি প্রেসার পরবে তখন তো ওঁকে আর খুঁজেই পাওয়া যাবে না।সবকিছুর দায়িত্ব নিতে হবে না ওঁকে!"

-"কিন্তু তাই বলে আমার ছেলেটাকে এভাবে খাটাতে পারো না তুমি।"

পিয়াস ভূইয়া চুপ করে গেলেন।এখন মানারা বেগম কে না চেঁতানোই বেটার।উনি চেঁতে গেলে ঘরে সুনামি বইয়ে ছাড়ে।প্রিয়ম বাবার দিকে তাকিয়ে শয়তানি হাসি দিলো। পিয়াস ভূইয়া দৃষ্টি দিয়ে আস্বস্ত করলেন 'শুধু অফিসে আয়, দেখাচ্ছি তোকে!'

ওঁদের কথার মাঝেই দপদপিয়ে সিড়ি বেয়ে নামলো প্রাণেশা।টেবিলে বসা তিনজনকে একত্রে উদ্দেশ্য করে বললো

-"আমি যাচ্ছি।"

-"খেয়ে যা।"

মানারা বেগম চেঁচিয়ে বললেন।প্রাণেশা নামতে নামতে বললো

-"বাইরে গিয়ে খেয়ে নিব।"

ভেংচি কাটলো প্রিয়ম।ব্রেডে নিউটেল্লা মাখাতে মাখতে বললো

-"ঢং!কী এমন রাজকার্য করতে যাচ্ছে তোমার মেয়ে যে বাইরে থেকে খাবে।আমি অফিসে যাবো,তাও কত সুন্দর বাড়ি থেকে খেয়ে যাচ্ছি!"

বলেই চকলেটে ভরপুর ব্রেডে কামড় দিবে তার আগেই ছো মেরে নিয়ে নিলো প্রাণেশা।প্রিয়ম হতভম্ব হয়ে তাকালো ওর দিকে।প্রাণেশা ব্রেডটা মুখে পুরতে পুরতে বাইরের দিকে পা বাড়ালো।প্রিয়ম পাথর হয়ে বসে থাকলো কিছুক্ষণ। পরক্ষণে নিজের মধ্যে ফিরে আসতেই চেচিয়ে বললো

-"দেখলে, দেখলে কী বেয়াদবি করলো ও!"

পিয়াস ভূইয়া বাঁকা চোখে তাকিয়ে বললেন

-"আশ্চর্য! এখানে বেয়াদবির কী হলো।আরেকটা ব্রেডে চকলেট লাগাতে তোমার হাত ক্ষয় হয়ে যাবে?হয়তো ওর তাড়া ছিলো।ভাই হয়ে এটুকু সেক্রিফাইজ করতে পারছো না!"

হতাশ শ্বাস ফেললো প্রিয়ম।এই পারশিয়ালিটি ওর রক্তে মিশে গেছে।তাই আর আগের মতো ছ্যাত করে উঠে না। তথাকথিত আছে প্রাণেশা ওর বাবার প্রিন্সেস আর ও গরু।তাই ওঁকে কাজ করে খেতে হলেও প্রাণেশা পায়ের উপর পা তুলে বসে খেতে পারবে।আর কোনো প্রতিবাদ না করে হতাশ ভঙ্গিতে প্রিয়ম আরেকটা পাউরুটি তে নিউটেল্লা লাগাতে ব্যস্ত হলো।

.

প্রাণেশা মুখ কালো করে বসে আছে পার্লামেন্টের সামনে সবুজ বিস্তীর্ণ মাঠে, সজ্জিত ঘাসের উপর।তার সামনেই মুগ্ধ মাথা নিচু করে বসে আছে।তাজিমসহ দলের কয়েকজন উপস্থিত আছে।কিন্তু কারো মুখেই কোনো কথা নেই।সবাই নিশ্চুপ,মনে মনে শঙ্কিত।কালকে পুরোটা রাত হন্যে হয়ে খুঁজেছে সবাই তুলি কে।কিন্তু তুলির দেখা নেই।ওর মা চিন্তায় চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পরেছে।একটু আগেই মিটিং ছিলো।সবাই খুব বেশিই চিন্তিত গ্রামে ঘটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা গুলো নিয়ে।ইয়াসির আহমেদ সবাইকে জানিয়েছেন পুলিশের থেকে ইনভেস্টিগেশনের দায়িত্ব নিয়ে এখন সে দায়িত্ব সিআইডি টিমকে অর্পণ করা হয়েছে।যেহেতু পুলিশ তাদের কাজে ব্যার্থ হয়েছে তাই এবার থেকে গ্রামে ঘটা প্রতিটা ঘটনা নিয়ে তদন্ত করবে সিআইডি টিম।তবুও সবাইকে চোখ কান খোলা রাখতে বলা হয়েছে।শত্রুরা যে কোনো সময় যেকোনো কিছু ঘটাতে পারে।

নিরবতা মাড়িয়ে তাজিম মুখ খুললো। বললো

-"এভাবে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকবো?এদিকে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষগুলোর আমাদের উপর থেকে ট্রাস্ট উঠে যাচ্ছে।আমরা কী কিছুই করতে পারি না?"

প্রাণেশা মলিন স্বরে বললো

-"যেখানে নিজের মানুষগুলোকেই সেইভ করতে পারছি না,সেখানে ওঁদের জন্য আর কি করবো আমরা?কোনো কাজের না আমরা!"

তাজিম সূক্ষ্ম করে বললো

-"এভাবে ভেঙে পরিস না দোস্ত।শত্রুরা চেয়েছিলো আমাদের মনোবল ভেঙে দিতে,এখন যদি আমরা এভাবেই হা-হুতাশ করতে থাকি তাহলে ওরা মনে করবে ওরা জিতে গেছে।ওদের কে জিততে দেওয়া যাবে না।"

মুগ্ধ একলাফে উঠে দাঁড়ালো।প্রাণেশা সহ সকলে অবাক হয়ে তাকালো ওর দিকে।মুগ্ধ উদ্বিগ্ন স্বরে বললো

-"আমাদের ঐ জায়গাটায় যাওয়া উচিত, যেখানে গতকাল লাশ পাওয়া গেছে।"

প্রাণেশা উঠে দাঁড়িয়ে নিজের জামা থেকে ধুলা ঝাড়লো।তাজিম সহ যারা যারা বসে ছিলো সবাই উঠে দাঁড়ালো ওর সাথে।প্রাণেশা জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে ভ্রু কুঁচকে বললো

-"ওখানে গিয়ে কী করবি?স্পটে সম্ভবত কারো প্রবেশ নিষিদ্ধ। পুলিশ তো ইনভেস্টিগেশন করছে।আমরা গিয়ে কী করবো?"

-"খুঁজবো। ক্লু খুঁজবো।আর তুই যে বলছিস পুলিশের কথা,এতোদিন এতো কাহিনী ঘটলো, এতোগুলো মানুষ হারিয়ে গেলো কয় পুলিশ তো খুঁজে বের করতে পারেনি।না পেরেছে কালপ্রিট কে ধরতে।জাস্ট হাতে চুরি পরে বসে থাকার মতো বসে আছে!"

প্রাণেশা ভাবলো কিছুক্ষণ। মুগ্ধ উৎকন্ঠা নিয়ে বললো

-"মেয়েটা কী অবস্থায় আছে আমরা কেও জানিনা প্রাণেশা।আদোও বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে সেটাও জানা নেই।

কালকে পুলিশও কেমন যেন গা ছাড়া ভাবে কথা বলছিলো আমাদের সাথে। পরিচয় দেওয়ার পর কেইস ফাইল করেছে নয়তো সেটাও করতো না।"

প্রাণেশা সায় জানালো।মুগ্ধ আগে আগে এগিয়ে যায়।দলের অন্য ছেলেদের প্রতি ভিন্ন কাজের দায়িত্ব চাপিয়ে প্রাণেশা আর তাজিম পা বাড়ালো।

ফুল স্পিডে গাড়ি চালাচ্ছে মুগ্ধ।আগেভাগেই জিপিএস লাগিয়ে রেখেছে যার ফলে ঠিকানা চিনতে সমস্যা হচ্ছে না। ওর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে গাড়ি চালিয়ে না,উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারলে ভালো হতো।প্রাণেশা বসে আছে ওর পাশে আর তাজিম পিছনে।

গাড়ি চালিয়ে অবশেষে স্পটে পৌঁছালো ওরা তিনজন।মুগ্ধ দ্রুত পায়ে গাড়ি থেকে নামলো।কিন্তু প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার প্ল্যাকার্ড দেখে থেমে যায় ও।ততক্ষণে প্রাণেশা আর তাজিমও ওর পাশে এসে দাঁড়ালো। প্রাণেশা ভ্রু কুঁচকে বললো

-"এ সময়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ কেন?ইনভেস্টিগেশনের কাজ চলছে?"

-"হয়তো।"তাজিম ধীর কন্ঠে বললো।

মুগ্ধ তাগাদা দিয়ে বললো

-"ভেতরে আয় আমরাও দেখি কী কাজ চলছে?"

ভেতরে প্রবেশ করলো তিনজন মিলে।তখনই কেও একজন এসে বাঁধা প্রধান করলো ওদেকে।গম্ভীর স্বরে বললো

-"আপনারা এখানে ঢুকেছেন কেন?বাইরে যে প্রবেশের নিষিদ্ধতা নিয়ে সাইনবোর্ড আছে তা দেখেননি!"

-"কিন্তু নিষিদ্ধ কেন?"

মুগ্ধ জিজ্ঞেস করলো।

তিনি আবার তার গম্ভীর কন্ঠে বললেন

-"কারণ এখানে গতকাল রাতে খুন হয়েছে।ইনভেস্টিগেশনের কাজ চলছে। আপনারা আমাদেরকে কাজ করতে দিন।চলে যান এখান থেকে।"

-"আপনারা কারা?"তাজিম সন্দিহান কন্ঠে প্রশ্ন করলো।

-"আমি একজন সিআইডি অফিসার।"

অবাক হয়ে তাকালো তিনজনে।তাজিম প্রাণেশার কাছে গিয়ে বিরবির করে বললো

-"হয়তো!সিআইডির একটা টিম টাউন থেকে আসার কথা

ছিলো।"

মুগ্ধ আঁড়চোখে ওদের দিকে তাকিয়ে অফিসারকে নিজেদের পরিচয় দেয়।আর সব ঘটনা খুলে বলে যে,তারা এখানে একটা মেয়ের খোঁজে এসেছে।

অফিসার ভাবান্বিত কন্ঠে বললো

-"আপনারা তাহলে আমাদের হ্যাডের সাথে কথা বলেন।"

-"হুম অবশ্যই।" মুগ্ধ বললো।

অফিসার ওদেকে সাথে নিয়ে হাঁটা দেয় সামনে।একটা সার্কাল করা জায়গার ভিতর ঢুকলো ওরা।সামনেই কয়েকজনের একটা টিম দেখা যাচ্ছে।অফিসারটা দ্রুত পায়ে একজনের কাছে এগিয়ে যায়।বিনয়ের স্বরে বলে

-"স্যার, আপনার সাথে তিনজন দেখা করতে এসেছে।"

সে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকালো।অফিসার চোখের ইশারায় দেখিয়ে দেয় ওদেরকে।সে গাম্ভীর্যের সহিত এগিয়ে আসলো।

প্রাণেশা চমকে তাকালো তার দিকে।বিরবির করে বললো

-"সেই রাতের অদ্ভুত ছেলেটা।কী যেনো নাম!"

প্রাণেশা মনে করার চেষ্টা করলো। কিন্তু মস্তিষ্কে অতটা জোর খাটাতে হলো না।বিপরীত পাশের পুরুষটি নিজেই নিজের পরিচয় দিলো।গুরুগম্ভীর স্বরে বললো

-"হাই,আমি সিআইডি উচ্ছ্বাস শাহরিয়ার!সিআইডি প্রধান!"

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন