#পরিণীতা
#পর্ব:২২
#তানজিনা ইসলাম
প্রাণেশা থম মেরে তাকিয়ে থাকলো কিছুক্ষণ। উচ্ছ্বাস গম্ভীর দৃষ্টিতে দেখলো ওদেরকে।গুমোট স্বরে বললো
-"কী কাজে এসেছেন আপনারা?"
মুগ্ধ এগিয়ে গিয়ে উত্তর করলো
-"আমরা একজনকে খোঁজার জন্য এসেছি অফিসার।আমাদের খুব কাছের একজন কাল থেকে নিখোঁজ।"
উচ্ছ্বাস হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো।কন্ঠে নির্জীবতা এনে বললো
-"আবার আরেকটা নিখোঁজের ঘটনা।আপনাদের গ্রামে হচ্ছে টা কী বলবেন?"
শেষের কথাটা কিছুটা রেগেই বললো সে।থমথম খেলো মুগ্ধ।সেনসিটিভ কথার বিনিময়ে এমন রাগান্বিত প্রশ্ন এক্সপেক্ট করেনি ও। প্রাণেশা অবাক দৃষ্টিতে তাকালো তার দিকে।ছেলেটা একবারো ওর দিকে তাকাইনি। এমন নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে কথা বলছে যেন আজকেই ওদের প্রথম দেখা।ভুলে গেলো ওঁকে!মাত্র কয়েকদিন আগেরই তো ঘটনা, এর মধ্যে ভুলে গেলো।প্রাণেশা নিজেই নিজেকে ধমকালো।ও মনে রাখতে পেরেছে এর মানে এই না যে ছেলেটারও মনে থাকবে।
উচ্ছ্বাস তপ্ত স্বরে বললো
-"নতুন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এসব ঘটনা বেশি ঘটছে শুনেছি। এর আগে নাকি গ্রামের পরিস্থিতি ঠান্ডা ছিলো!এসব কী সত্যি?"
তেতে উঠলো প্রাণেশা।নিজেদের সামনেই দলের প্রতি এতো বড় অভিযোগ মেনে নিতে পারলো না।তবুও নিজেকে সামলে প্রখর স্বরে বললো
-"দেখুন, পুরোটাই বানোয়াট কাহিনী। নির্বাচনের আগেও এসব ঘটনা ঘটেছিলো, কিন্তু নির্বাচনের কারণে সব চাপা পরে গিয়েছিলো।কিন্তু এখন সব এক্সট্রাভাবে হাইলাইট করা হচ্ছে বদনাম করার জন্য। আগে যে গ্রামের মানুষ স্বর্গের স্বাদ পেতো এমনও না কিন্তু।"
প্রথমবারের মতো উচ্ছ্বাস ভ্রু কুঁচকে তাকালো প্রাণেশার দিকে।পরক্ষণেই মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে বললো
-"উনি কে?"
-"আমাদের বন্ধু।"
উচ্ছ্বাস বাঁকা হাসলো।বিদ্রুপ করে বললো
-"উনাকে চুপ করতে বলুন।মেয়েদের সাথে তর্ক বির্তক করার কোনো রুচি আমার নেই।ওঁদের বুদ্ধি থাকে হাঁটুতে। বুঝে কম চিল্লায় বেশি!"
অপমানে কান ঝা ঝা করে উঠলো প্রাণেশার।রাগে ক্ষোভে গালে দেখা দিলো লাল আভা।তাজিম মুখ লটকে তাকালো।মুগ্ধ ভয়ে ভয়ে তাকালো প্রাণেশার দিকে। রাগে ফুঁসতে দেখে আমতা আমতা করে বললো
-"আমার ফ্রেন্ড অন্যদের মতো না।সি ইজ সো ইন্টেলিজেন্ট।"
উচ্ছ্বাস ঠোঁট বাকিয়ে তাচ্ছিল্য করে হাসলো।প্রাণেশা দাঁতে দাঁত চেপে তাকালো ওর দিকে।
পরক্ষণেই সিরিয়াস হলো উচ্ছ্বাস। প্রখর স্বরে বললো
-"যে লাশটা কাল পাওয়া গেছে তার এখনো কোনো আইডেন্টিফাই পাওয়া যায়নি।না পরিবারের কারো খোঁজ পাওয়া গেছে।কেও তার দাবি নিয়েও আসেনি।আমরা এখান থেকে সোজা মর্গেই যেতাম। আপনারা চাইলে আসতে পারেন আমাদের সাথে।পরিস্থিতি শিথিল করার দায়িত্ব নিয়েই আমরা এসেছি।তাই আপনাদের বন্ধুকে খুঁজে দেওয়ার দায়িত্বও আমাদের।"
মুগ্ধ মাথা নাড়লো।উচ্ছ্বাস প্লেসে থাকা সবাইকে দ্রুত হাতে কাজ গোছানোর তাগাদা দিলো।
প্রাণেশা মুখ গোমরা বসে আছে গাড়িতে। তাজিমের হাসতে হাসতে অবস্থা কাহিল।কিছুক্ষণ পরপর পিঞ্চ মারছে প্রাণেশাকে।আর ঠোঁট গোল করে বলছে
-"মেয়েরা বুঝে কম চিল্লায় বেশি।"
আর সহ্য হলো না প্রাণেশার,জোরে ধমক দিলো ও।তাজিম চুপ হয়ে গেলো।মিটমিট করে হেসে বাবু হয়ে বসলো।সামনে একটা গাড়িকে অনুসরণ করে যাচ্ছে ওরা।প্রাণেশা মনে মনে একজনের গুষ্টি উদ্ধার করছে।সেদিন রাতে দেখে কতটা ইনোসেন্ট মনে হয়েছিলো ছেলেটা কে।হাসিখুশি প্রাণখোলা একজন মনে হয়েছিলো। কিন্তু না,ছেলেটা ইনোসেন্ট না উল্টো আস্ত একটা হাড় বজ্জাত।প্রাণেশা বিড়বিড় করে বললো
-"অসভ্যরে!এতো বড় কথা বললি তো আমাকে!তুই কী মনে করেছিস,প্রাণেশা ছেড়ে দিবে তোকে।প্রাণেশা নিজের প্রতিশোধ নিয়েই ছাড়ে।চোখের জল নাকের জল একসাথে করে যদি আমি তোকে কাঁদাতে না পারি তবে আমি আমার নাম বদলে ফেলবো।এমনভাবে কাঁদাবো না, সারাজীবন মনে রাখবি আমাকে!"
গাড়ির ব্রেক কষলো মুগ্ধ। প্রাণেশা নিজের ভাবনা ছেড়ে বেরিয়ে আসে।সামনে গাড়িটা থেমে গেছে একটা হসপিটালের সামনে। ডোর খুলে বের হলো তিনজনে।মুগ্ধ দুজনকে ছেড়ে দৌড়ে যায় উচ্ছ্বাসের কাছে।চিন্তিত বদনে গড়গড় করে বলে কিছু একটা।কিন্তু দুরত্বে থাকা প্রাণেশা আর তাজিম তা শুনতে পায় না।সবাই মিলে প্রবেশ করে হসপিটালে। সামনে সিআইডি টিমের কয়েকজন হাঁটছে,সাথে একজন ডক্টর। মুগ্ধ কন্টিনিউয়াসলি কথা বলছে উচ্ছ্বাসের সাথে।প্রাণেশা আর তাজিম যাচ্ছে পিছুপিছু। তাজিম ভাবলেশহীন আর প্রাণেশা গোমড়া মুখে ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে।
গ্রাউন্ড ফ্লোরের নিচেও একটা ফ্লোর আছে।যেটা আপেক্ষিকভাবে মাটির নিচে কল্পনা করা হয়।গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে সোজা সিড়ি চলে যায় গহীনে।ভুতুড়ে একটা জায়গা পেরিয়ে যাচ্ছে ওরা।প্রাণেশা ভীতু দৃষ্টিতে তাকালো চারপাশে।এরকম কখনো মর্গে যায় নি ও।মার্ডার কেসের ভিকটিমদের এরকম একটা আলাদা জায়গায় রাখা হয়।প্রাণেশা তাজিমের হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো।বুকের মধ্যে দ্রিমদ্রিম আওয়াজ হচ্ছে।তাজিম কোণা চোখে চেয়ে আগলে নেয় ওর হাত।ফিসফিসিয়ে বলে, 'ভয় পাস না।আমরা আছি সবাই।
প্রাণেশা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে বাইরে মর্গের বাইরে। বুকের মধ্যে দুরুদুরু অনুভূত হচ্ছে ওর।এতোক্ষণ একজনের রাগে দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে পড়লেও এবার রাগের বদলে জমা হয়েছে একরাশ আতঙ্ক।ভয়ে মর্গে ঢোকার সাহস হয়নি ওর।মূলত ভয়কে পাশে রেখে ও সাহস করে ঢুকতে চেয়েছিলো।কিন্তু তাজিম আর মুগ্ধ ওঁকে ভেতরে নিয়ে যায় নি।বাইরে দাঁড় করিয়ে দিয়ে গেছে। প্রাণেশা চোখ বুলিয়ে নেয় একবার আশেপাশে। লং বারান্দায় একটা ঝুলন্ত নিভুনিভু লাইট জ্বলছে।কেমন একটা ভৌতিক পরিবেশ!
-"মিস!"
চমকে তাকালো প্রাণেশা।এতোক্ষণ অকূল ভাবনায় ডুবে থাকার ফলে আচমকা ডাকে আতঙ্কিত হয়ে তাকালো ও।পিছিয়ে গেলো কয়েক পা।ভয়ার্ত দৃষ্টি দেখে উচ্ছ্বাস ঠোঁট বাঁকা করে হাসলো।ব্যঙ্গ করে বললো
-"বাহ!আমি তো মনে করেছিলাম ব্রেইভ গার্ল ভয় পায় না।"
প্রাণেশা ভয় ভুলে ফুঁসে তাকালো।দৃষ্টি দিয়ে ঝলসে দিতে পারলে ভালো হতো বোধহয়!উচ্ছ্বাস আবার হাসে।তর্জনী দিয়ে নাক ছুঁয়ে বলে
-"এই আক্রমণাত্মক দৃষ্টিই আশা করেছিলাম !প্রাণেশাকে ভিতু দৃষ্টিতে মানায় না।"
প্রাণেশা বিহ্বল চিত্তে তাকালো তার দিকে।ক্রোধের বিনিময়ে দেখা দিলো একরাশ চিত্তবিভ্রম।সরু চোখে তাকালো সামনের মানুষটার চোখের মণিতে।বাদামি চোখ জোড়ায় একরাশ কৌতুক।আচ্ছা,ছেলেটা কী ভীনদেশী?উত্তর জানার ইচ্ছে জাগলো না প্রাণেশার!প্রাণেশা দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। মিটমিট হাসলো উচ্ছ্বাস।
অপ্রত্যাশিত ভাবে বললো
-"প্রাণেশা,সুন্দর নাম।"
প্রাণেশা হকচকালো আবার।চঞ্চল দৃষ্টি ফেলে বোঝার চেষ্টা করলো সামনের মানুষটার উদ্দেশ্য। উচ্ছ্বাস আবার বললো
-"আমি তো সে রাতে আপনাকে দেখে ঘোস্ট বেবি মনে করেছিলাম,কিন্তু আপনি তো দেখছি হিউম্যান বেবি।"
এতোক্ষণ নিশ্চুপ শুনে গেলেও এবার বিরক্তিকর শ্বাস ফেললো প্রাণেশা।তারমানে হুদাই এতোক্ষণ ছেলেটা ভঙ ধরে ছিলো।চিনেছিলো সেই শুরুতেই। প্রাণেশা প্রখর স্বরে বললো
-"আমি বেবি নই।"
-"কিন্তু আপনাকে দেখতে বেবি মনে হয়।"
-"ওটা আপনার বোঝার সমস্যা। তাহলে তো বলতে হয়,হাঁটুর নিচে বুদ্ধি আপনার,আমার না!"
ফিক করে হেঁসে দিলো উচ্ছ্বাস।ঠোঁট টিপে হেসে বললো
-"রাগ করেছেন তাই না!"
-"আমি যার তার কথায় রাগ করি না।"
শক্ত কন্ঠে বললো প্রাণেশা।উচ্ছ্বাস হাসলো আবার,কোমল স্বরে বললো
-"আপনাকে একটা ভালো খবর শোনাতে এসেছি।"
প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকালো প্রাণেশা। উচ্ছ্বাস বললো
-"ভেতরে যে মরদেহ আছে,সেটা আপনার কাছের জনের না।"
প্রাণেশা হৃৎপিন্ড শিথিল হলো!এতোক্ষণের উৎকন্ঠায় ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেলো যেন।কোথাও না কোথাও একটা বিশ্বাস ছিলো,ভেতরের মানুষটা তুলি না।এতো সুন্দর পৃথিবীর এতো ভালোবাসার মানুষ ছেড়ে মেয়েটা চলে যেতে পারে না। উচ্ছ্বাস আবার বললো
-"আপনি তো ভয়ে দেখতেই গেলেন না।তাই আমি ভাবলাম আপনার কানে খবরটা তুলে দেওয়া উচিত।ভীতু মেয়ে!"
প্রাণেশা চোখ ছোট ছোট করে তাকালো।কন্ঠে কঠোর বিশ্বাস এনে বললো
-"আমি মোটেই ভীতু না।হুদাই আপনি আমার উপর একটার পর একটা এলিগ্যাশন লাগাচ্ছেন প্রথম থেকেই।যে হারিয়ে গেছে সে আমার খুব কাছের একজন,আল্লাহ না করুক তার কোনো খারাপ খবর আমি সহ্য করতে পারতাম না,সেটা ভেবেই যায় নি।"
উচ্ছ্বাস টেডি হাসলো।কিছু একটা বলতে যাবে তার আগেই মর্গ থেকে বেরিয়ে আসে সবাই।থেমে যায় উচ্ছ্বাস। চকিতে দুরে সরে দাড়ায় প্রাণেশা থেকে।ভন্ডামি ছেড়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে, গম্ভীর মুখে দাঁড়ালো।প্রাণেশা হতভম্ব তাকালো ওর দিকে।ছেলেটা সেকেন্ডেই যেন নিজের খোলস পাল্টে ফেললো।
মুগ্ধ এগিয়ে আসে প্রাণেশার কাছে।মুখে হাসি ফুটিয়ে বলে
-"মরদেহটির সাথে তুলির কোনো ধরনের মিল পাওয়া যায়নি দোস্ত।এছাড়াও ডক্টর রা যে বর্ণনা দিয়েছে তাতে এটা কনফার্ম যে মেয়েটা তুলি না।"
প্রাণেশা হাসিমুখে উপর-নীচ মাথা নাড়লো।মুগ্ধ আবার বললো
-"কিন্তু মেয়েটার চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে,অনেক বিভৎস অবস্থা। ভালোই হয়েছে তুই যাস নি, অনেক খারাপ লাগতো তোর।সহ্য করতে পারতি না।"
হাসি ধপ করে নিভে গেলো প্রাণেশার।করুন কন্ঠে বললো
-"সে আমাদের কাছের মানুষ না,তাই আমরা খুশি হচ্ছি।কিন্তু যার বা যাদের কাছের মানুষ তারা তো জানতেও পারলো না দোস্ত মেয়েটার অবস্থা। মেয়েটা যে আর নেই সেটা জানতে পারলে কীভাবে সহ্য করবে ওরা!"
মুগ্ধ চুপ করে গেলো।প্রাণেশার কথার প্রেক্ষিতে আর কোনো কথা আসলো না ওর মুখ দিয়ে।
উচ্ছ্বাসের ডাকে মুগ্ধ এগিয়ে গেলো ওর কাছে।উচ্ছ্বাস যথেষ্ট গম্ভীর স্বরে বললো ওঁকে
-"তোমাদের বন্ধুকে খুঁজবো আমরা। এতে তোমাদেরও কিছু সাহায্যের প্রয়োজন আমাদের।যে হারিয়ে গেছে তার ছবি আর সব ধরণের ডিটেইলস মেইল করবে আমাকে।আর হ্যাঁ নাম্বারটা দাও তোমার।"
মুগ্ধ মাথা নেড়ে নিজের নাম্বার দিলো ওঁকে। কন্ঠে কৃতজ্ঞতা এনে বললো
-"থ্যাঙ্কিউ অফিসার।"
-"ইটস আওয়ার রেসপনসেবলিটি।"
প্রাণেশা গাড়ির সিটে বসে বিরক্তিকর দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে জানালার বাইরে।তাজিম নিশ্চুপ বাধ্য ছেলের মতো ড্রাইভিং সিটে বসা।বাইরে দাঁড়িয়ে উচ্ছ্বাস আর মুগ্ধ কথা বলছে। দুজনে ঠিক কতটা সময় ধরে কথা বলছে তা হিসাব করা যায় না।দুজনের কথা যেন ফুরাচ্ছেই না।প্রাণেশা চ-বর্গীয় শব্দ করে সিটে মাথা রাখলো।পরক্ষণেই মাথা তুলে চিল্লিয়ে বললো
-"এই যাবি না তুই?নাকি আমরা চলে যাবো?যার সাথে কথা ফুরাচ্ছে না সে পৌঁছে দিবে তোকে আই গেস!"
থমথম খেলো মুগ্ধ। উচ্ছ্বাসও পিটপিট করে দেখলো সেদিকে।মুগ্ধ বিদায় নিয়ে চলে আসে ওর কাছ থেকে।ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে এসে বসতেই বিশ্রী গালি ছুড়লো প্রাণেশা।মুগ্ধ করজোড় ভঙ্গিতে ক্ষমা চাইলো ওর থেকে।তাজিম গাড়ি স্টার্ট দেই।প্রাণেশা মুখ বাকিয়ে বাইরে তাকালো।বাইরে দৃষ্টি পড়তেই,হাসি হাসি মুখে হাত নাড়িয়ে বাই জানালো উচ্ছ্বাস।ধরফর করে উঠে বসলো প্রাণেশা। গোল গোল চোখে চেয়ে থাকলো বাইরে।একসময় চোখের আড়াল হয়ে গেলো উচ্ছ্বাস।অদৃশ্য হয়ে গেলো দৃষ্টিসীমা থেকে।কিন্তু সে যে প্রাণেশার অন্তঃকরণ থেকে অদৃশ্য হতে পারলো না আর!
.
ঘন্টাখানেক সময় লাগিয়ে শাওয়ার নিলো প্রাণেশা।বাইরে বেরিয়ে এলোমেলো পায়ে হেঁটে বিছানার কাছে আসলো। দু-হাত মেলে চিৎ হয়ে বিছানার উপর শুয়ে পরলো প্রাণেশা।অর্ধ ভেঁজা চুলগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিলো শুভ্র রাঙা বেডশিট।প্রাণেশা দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো সিলিঙের দিকে।ভাবনায় বুদ হয়ে ভাবলো আজ পুরো দিন ঘটে যাওয়া সকল দৃশ্যপট।ক্ষণকাল নিরবতায় কেটে যায়।কিছু একটা ভাবনায় আসতেই মোবাইল ফোন টা হাতে তুলে নেয় প্রাণেশা।ফেসবুকে গিয়ে একটা নাম দফায় দফায় সার্চ করে।কিন্তু হাজার হাজার আইডির ভীড়ে 'উচ্ছ্বাস শাহরিয়ার' নামের কাঙ্ক্ষিত মানুষের আইডি খুঁজে পায় না ও।মিনিট তিরিশেক সময় খুঁজেও ব্যর্থ হলো প্রাণেশা।বিরক্তিকর শ্বাস ফেলে ভাবলো ছেলেটা কী ফেসবুক চালায় না!কিন্তু নিজের ভাবনা ভেবে নিজেরই হাসি পেলো ওর।এই যুগে এসে যেখানে একটা ক্লাস ফাইভ পড়ুয়া বাচ্চার পর্যন্ত ফেসবুক থাকে, সেখানে এতো বড় একটা ছেলের ফেসবুক নেই সেটা ভাবাও বোকামি।
একটা আইডি চোখে পরতেই চটজলদি সেই আইডিতে ঢুকলো প্রানেশা।একটা বাচ্চা ছেলের ছবি দেওয়া আছে প্রোফাইলে। বাচ্চা ছেলেটাকে ভালোভাবে খেয়াল করলো প্রাণেশা।একজনের মুখের আদলের সাথে খুব ভালোভাবে মিলে যায়।প্রাণেশার ভ্রু কুঁচকে আসে।আইডি স্ক্রল করে নিচে যেতেই প্রাণেশার মুখে হাসি ফুটে।পুরো আইডি জুড়ে আলাদা আলাদা ক্যাপশনে উচ্ছ্বাসের বিভিন্ন ছবি।ওদের গ্রামে আসার আপডেট টাও দিয়েছে আইডিতে।প্রাণেশা ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠাবে কিনা ভাবলো!কিছুক্ষণ আইঢাই করে বেরিয়ে এলো আইডি থেকে।ইগোর কাছে মনের ইচ্ছে হেরে গেলো।প্রাণেশা মনে মনে ভাবলো,ঐ অ্যারোগেন্ট ছেলেকে নিজ থেকে রিকুয়েষ্ট দিলে ছেলেটা নিশ্চিত ওঁকে ছ্যাচড়া ভাববে।প্রাণেশা ফোন টা সাইলেন্ট মোডে রেখে দেয় পাশে।আজ রাতে আর খাওয়ার ইচ্ছে নেই।অকূলপাথার ভাবতে ভাবতে একসময় ঘুমিয়ে যায় প্রাণেশা।
#চলবে