ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরিণীতা

২৬তম পর্ব

লেখক: তানজিনা ইসলাম স্রোতিস্বিনী

পরিণীতা

পর্ব:২৬

তানজিনা ইসলাম

প্রাণেশা মলিন মুখে সিটের উপর পা ঝুলিয়ে বসে আছে।একটু আগেই পলক ভূইয়ার জ্ঞান ফিরেছে।প্রায় বিশ ঘন্টা অবজারভেশনে রাখার পর জ্ঞান ফিরেছে তার। সবাই প্রচন্ড আতঙ্কে ছিলো এই পুরোটা সময়।অবশেষে জ্ঞান ফেরার পর স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে সবাই।আইসিইউ থেকে কেবিনে শিফট করা হয়েছে তাকে, তাই দেখা করতে গেছে সকলে ওনার সাথে।শুধু প্রাণেশাই যায়নি।কেমন যেন অনুভূত হচ্ছে ওর!এতোক্ষণ উদ্বিগ্ন চিত্তে অপেক্ষা করলেও এখন মনের মধ্যে শুধুই আক্ষেপ, অপরাধবোধ। বুকের মধ্যে ধুপধাপ করছে।মানুষটা তো ওঁকে নিজের মেয়ের মতোই

ভালোবাসতো। সবসময় নিজের মেয়ে বলেই পরিচয় করিয়েছে সকলের সাথে,ভাইয়ের মেয়ে বলতে শোনেনি প্রাণেশা।তবুও কেন একটা ভুলের কাছে এতো বছরের ভালোবাসা সব ফিকে পড়ে গেলো!

ছয়টা বছর তার সাথে দেখা করেনি প্রাণেশা।রিধিতা আর প্রহরের সাথে মাঝেমধ্যে ফোনে কথা হলেও ওর বড় আম্মু আর বড় আব্বুর সাথে ওর টোটালি কথাই হয় নি।কেন হয় নি জানে না প্রাণেশা!ওরাও কখনো ফোন দেয়নি ওঁকে, আর না প্রাণেশা কল দিয়েছে নিজ থেকে।অথচ সামনাসামনিই বাড়ি ছিলো।ও বাড়ির মানুষ গুলোকে এ বাড়ি থেকে স্পষ্ট দেখা যেতো, হয়তো ওদের ক্ষেত্রেও তাই।তবুও কেন যেন একটা বাঁধা কাজ করতোই সবসময়।এমন না যে প্রাণেশার অভিমান ছিলো ওঁদের প্রতি বা রাগ করে ফোন করেনি।এমন কিছুই না,তবুও কোথাও না কোথাও একটা বাঁধা কাজ করতো।প্রাণেশা একপ্রকার ভুলেই ছিলো ওদেরকে।না সত্যিই ভুলে ছিলো এমন না,শুধু নিজেকে নিজেই বুঝ দিতো ওদেরকে ছাড়া বাঁচতে শিখে গেছে।কিন্তু আদোও কী তাই! মানুষগুলোর জন্য কী ওর কান্না পেতো না?পেতো,খুব বেশিই কান্না পেতো।মাঝেমধ্যে বেলকনি থেকে উঁকি দিয়ে দেখা হতো ওদেরকে,লুকিয়ে। শুধু ফোন করতেই বাঁধা কাজ করতো মনের মধ্যে। রিধিতা তো বলেইছিলো ওর বড় বাবা আর বড় মা অসুস্থ, তারপরও প্রাণেশা একবার দেখতে পর্যন্ত যায়নি ওদেরকে।কিন্তু সবশেষে এটাই সত্যি ওর জন্যই পরিবার ভেঙে গেছে।না ও সুইসাইড করতো আর না মানারা বেগম আলাদা হওয়ার জন্য এতটা পাগলামি করতেন।যে পরিবারের মানুষগুলো একে অপরকে ছাড়া এক সেকেন্ডও কাটাতে পারতো না, সেখানে অর্ধ যুগ কেও কাউকে না দেখেই নির্লিপ্তে কাটিয়ে দিলো।দীর্ঘশ্বাস ফেললো প্রাণেশা।

প্রহরের ডাকে ভাবনার সুতো কাটে ওর।প্রাণেশা উঠে দাঁড়ালো।উদ্বিগ্ন স্বরে বললো

-"ভাইয়া বড় বাবা কেমন আছে?"

-"নিজে গিয়ে দেখে আয়।"

-"আমার না কেমন জানি লাগছে!আমাকে দেখে কেমন রিয়্যাক্ট করবে কে জানে!"

-"কিছুই বলবে না বনু।উল্টো বাবা অনেক খুশি হবে।তুই জানিস না বাবা তোর জন্য কেমন করে?চোখে অন্ধকার নেমে আসার আগ পর্যন্ত বাবা তোর নাম জপে গেছে।এটা পর্যন্ত বলেছে, সে যদি বেঁচে না থাকে তাহলে যাতে তুই শেষবার তাকে দেখতে আসিস।তাকে যাতে ক্ষমা করেদিস।"

প্রাণেশা অসহয় চোখে তাকালো প্রহরের দিকে।প্রহর ইশারা দিয়ে বললো ভেতরে যেতে।

প্রাণেশা ধীর পায়ে এগিয়ে যায় কেবিনের দিকে।দরজার কাছ থেকে উঁকি মেরে দেখলো ভেতরে।পিয়াস ভূইয়ার কথার মাঝেই চোখ পড়ে ওর দিকে।ডাক দিয়ে বলে

-"প্রাণেশা,ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন!ভেতরে এসো।"

ঢোক গিললো প্রাণেশা। দুরুদুরু বুক নিয়ে প্রবেশ করলো ভেতরে।পলক ভূইয়া ওর দিকে তাকিয়ে মলিন হাসলেন।প্রাণেশা মাথা নিচু করে দাড়ালো। লোচনে পানি টইটম্বুর। যেকোনো সময় গড়িয়ে পড়তে পারে।পলক ভূইয়া হাত নাড়িয়ে ডাকার চেষ্টা করলেন ওঁকে।কিন্তু মুখ দিয়ে এক শব্দও বের করতে পারলেন না। প্রিয়ম সূক্ষ্ম স্বরে বললো

-"বড় বাবা তোকে ডাকছে প্রাণেশা।"

প্রাণেশা মাথা নিচু করে এগিয়ে যায় তার দিকে।বেডের পাশে মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসে টলমল চোখে তাকালো তার দিকে।পলক ভূইয়া মুখ নাড়িয়ে বলার চেষ্টা করলেন অনেক কিছু, কিন্তু তার শরীরের শক্তিতে কুলিয়ে উঠতে পারলেন না।শুধু নিশ্চুপ চোখের কার্ণিশ বেয়ে টপটপ করে পানি পড়লো।প্রাণেশা হাত বাড়িয়ে আলতো হাতে মুছে দিলো অশ্রুজল।হাতের উপর মাথা রেখে ভাঙা গলায় বললো

-"বড় বাবা।"

প্রাণেশার কান্না পেলো ভীষণ।পলক ভূইয়ার শুঁকনো মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ ঝাপিয়ে জল এলো ।কাঁদতে কাঁদতে বললো

-"আই এম সরি বড় বাবা।বিশ্বাস করো আমি তোমাকে অনেক মিস করেছি।কিন্তু তোমার সাথে দেখা করতে ঐ বাড়িতে যেতে আমার অসম্ভব কষ্ট লাগতো। আমি সহ্য করতে পারতাম না বড় বাবা।আমি জানতাম না তুমি এতোটা অসুস্থ।"

পলক ভূইয়া নিশ্চুপ চোখের জল ফেললেন।কথা বলতে গেলেই বুকের মধ্যে খিঁচে উঠছে। প্রচুর যন্ত্রণায় মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না।নয়তো অনেক কিছুই যে বলার ছিলো ওনার।

.

প্রত্যুষ নিষ্পলক তাকিয়ে আছে প্লেনের গোলাকৃতি জানালার বাইরে। বাইরে সাদা তুলার মতো পুঞ্জীভূত মেঘ ছাড়া আর কিছুই দৃশ্যমান নয়।দূরদৃষ্টি তে সাদা আস্তরণ ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।অধিক তুষারপাতের ফলে ওয়ানস্টপ ফ্লাইটে ইংল্যান্ড থেকে আসতে হয়েছে।এর মাঝে ইউরোপীয় আরেকটা কান্ট্রিতে ঘন্টাখানেকের জন্য নেমেছিলো ফ্লাইট বাসী।আনুমানিক তেইশ ঘন্টা লেগেছে বাংলাদেশে আসতে।

পাশের সিটেই প্রোজ্জ্বল ওর উরুতে মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে।রওশার সিট পরেছে সামনে।রওশা যাতে আনকম্ফোর্টেবল ফিল না করে এজন্য একজন মেয়ের পাশেই প্রত্যুষ সিট কনফার্ম করেছে।

ঘোষণা হচ্ছে, আর কিছুক্ষণ পরই বাংলাদেশের মাটিতে ল্যান্ড করবে ওরা।প্রত্যুষের বুক ফুঁড়ে প্রবোধ শ্বাস বেরিয়ে আসে।বাইরে তাকাতেই মনের মধ্যে বয়ে যায় শিহরণ।প্লেন ল্যান্ড করছে বিডি এয়ারপোর্টে।প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে প্রোজ্জ্বলকে নিজের সাথে আরেকটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো প্রত্যুষ।প্রোজ্জ্বল নড়েচড়ে উঠলে প্রত্যুষ আদুরে হাত বুলিয়ে দেয় ওর গায়ে।

অবশেষে সেই কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতেই যাত্রীদের নামার ঘোষণা আসলো।প্রত্যুষ মায়াময় দৃষ্টিতে দেখলো বাইরে।সবাই নামতে শুরু করলে,প্রোজ্জ্বলের গালে আলতো হাত চাপড়ে ডাকলো প্রত্যুষ।ছেলেটা কিছু চিবানোর ভঙ্গি করে আবার ঘুমিয়ে পড়লো।প্রত্যুষ মুচকি হাসলো।মাথায় আলতো চুমু খেয়ে মোলায়েম স্বরে ডাকলো ওঁকে। অনেক্ষণ ডাকাডাকির পর প্রোজ্জ্বলের ঘুম ভাঙে।চোখ কঁচলে ঘুমকাতুরে দৃষ্টিতে তাকালো বাবার দিকে।প্রত্যুষ নম্র স্বরে বললো

-"আমরা চলে এসেছি বাবা।তুমি না অনেক এক্সাইটেড ছিলে বাংলাদেশ দেখার জন্য।"

প্রোজ্জ্বল গোল গোল চোখে তাকিয়ে মাথা নাড়লো।প্রত্যুষ কোলে তুলে সিট থেকে নামালো ওঁকে। ছোট হাতটা আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে গেলো।রওশা দাঁড়িয়েই ছিলো সামনে ওঁদের দেখে হাসিমুখে বললো

-"চলে এসেছি আমরা।"

প্রত্যুষ মুচকি হেসে মাথা নাড়ায়।অবশেষে প্লেন থেকে নামলো ওরা।সকল ফর্মালিটিস পূরণ করে বের হতে হতে অনেকটা সময় কেটে যায়।

প্রত্যুষ ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে বেরিয়ে এসে প্রাণভরে শ্বাস নিলো।স্নিগ্ধ, ঠান্ডা বাতাস গা ছুঁয়ে দিতেই ভালোলাগায় মন প্রফুল্ল হয়ে উঠে।আহা!নিজের দেশ যেমনই হোক, তারপরও দেশের মাটিতে পা রেখে,দেশের মুক্ত বাতাসে শ্বাস নিয়ে যে শান্তি সে শান্তি আর কোথাও নেই।প্রত্যুষের চোখ ভরে আসে।ছয়টা বছর এই সুন্দর দেশ থেকে দুরে ছিলো ও।এমনকি এটা পর্যন্ত ভেবেছিলো আর কোনোদিন এই দেশে পা রাখবে না।তবুও তো ফিরে আসতেই হলো নিজের নীড়ে।'নিজের' শব্দ টার প্রতি যে অসম্ভব মায়া তা বুঝি অন্য কিছুতে আছে!হৃদয়ের কম্পন জোড়ালো হয় প্রত্যুষের,

তীব্র আকাঙ্খা জন্মে নিজের প্রিয় মানুষগুলোকে দেখার জন্য।

প্রত্যুষ প্রোজ্জ্বলের হাত ধরে ছিলো।ওর দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হেঁসে বললো

-"কেমন লেগেছে বাংলাদেশ বাবা?"

প্রোজ্জ্বল ঠোঁট উল্টে তাকালো ওর দিকে।প্রত্যুষ হেঁসে দিলো, মানে ও এখনো শিউর হতে পারেনি বাংলাদেশ কেমন!রওশা চারপাশে চোখ বুলিয়ে বললো

-"আমাদের কী কেও নিতে আসবে?"

-"হু,আদনান।"

-"এখনো আসলো না যে?"

-"সেটাতো আমিও বুঝতে পারছি না।এতোক্ষণে তো চলে আসার কথা।"

বলেই জিন্সের পকেট থেকে ফোন বের করলো।পরপর কল দিলো আদনানকে।

আদনান মোবাইল কানে চাপিয়ে দুর থেকে দৌড়ে আসলো।প্রত্যুষ কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়ালো ওঁকে দেখে।আদনান হাঁপাতে হাঁপাতে বললো

-"সরি,সরি।লেইট হয়ে গেছে।"

প্রত্যুষ জড়িয়ে ধরলো ওঁকে। টেডি হেসে বললো

-"ইট’স ওঁকে, দোস্ত।"

আদনান ঠোঁট বিস্তৃত করে হাসলো।রওশাকে দেখতেই বললো

-"কেমন আছেন,ভাবী?"

-"আলহামদুলিল্লাহ, ভালো।"

রওশা হাসি উপহার দেয় ওঁকে। প্রোজ্জ্বলের দিকে চোখ পড়তেই হাঁটু মুড়ে বসলো আদনান।থুঁতনি ধরে প্রত্যুষের দিকে তাকিয়ে বললো

-"জুনিয়র পাপ্পা,তাই না!"

প্রত্যুষ চোখের ইশারায় 'হ্যাঁ' বোঝায়।আদনান কোলে নিলো ওঁকে।অপরিচিত মুখ দেখতেই প্রোজ্জ্বল ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো বাবার দিকে। প্রত্যুষ মাথায় হাত বুলিয়ে বললো

-"তোমার চাচ্চু হয়।ভয় পেয়ো না।"

-"কী কিউট রে!ভয় পেলেও কতটা শান্ত।আমিতো ভেবে ছিলাম কান্না করে দিবে।"

-"আমি চোখের আড়াল হলে কাঁদবে। সামনে আছি তাই কাঁদছে না।"

আদনান গাল টেনে দিলো ওর।প্রত্যুষকে উদ্দেশ্য করে বললো

-"চল।এবার যাওয়া উচিত আমাদের।"

ড্রাইভিং করছে আদনান।প্রত্যুষ আর রওশা পিছনে বসেছে।ওদের দুজনের মাঝখানে বসেছে প্রোজ্জ্বল। প্রত্যুষ মনোযোগ দিয়ে দেখছে বাইরের পরিবেশ।সন্ধ্যা নামার সময় হয়ে এসেছে।ধীরে ধীরে কুয়াশাচ্ছ্ন্ন হচ্ছে বাইরে।কালো আভায় ঢাকতে শুরু করেছে চারপাশ। ছয়টা বছরে কত কিছুই না বদলে গেলো।জীবন থেকে ছয়টা বছর কত তাড়াতাড়িই না চলে গেলো,ভেবেই দীর্ঘশ্বাস ফেললো প্রত্যুষ।প্রোজ্জ্বল ডাকলো ওঁকে,অবুঝ কন্ঠে বললো

-"একানে স্নো ফল হচ্ছে না কেনো,ড্যাড?"

-"তোমাকে ড্যাড ডাকতে মানা করেছি না।বাবা ডাকবে ওঁকে!"

প্রোজ্জ্বল মাথা নাড়লো।প্রত্যুষ আবার বললো

-"এটা তো ইংল্যান্ড না বাবা।এটা বাংলাদেশ, এখানে স্নো ফল হয় না।কারণ এদেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ।"

প্রোজ্জ্বল বুঝলো না নাতিশীতোষ্ণ কী!শুধু এইটুকুই বুঝলো এখানে ইংল্যান্ডের মতো স্নো ফল হয় না।

প্রত্যুষ সামনে তাকিয়ে আদনান থেকে জিজ্ঞেস করলো

-"বাবা কে দেখতে গেছিস?"

-"না,তোর সাথেই যাচ্ছি। তুই না বললে তো আমি প্রহর ভাইকে কল করতাম না আর জানতেও পারতাম না।"

-"তো তুই দেশে থেকে কী করস!আমি ওখানে থেকেই এখানের সব খবর পেয়ে যেতাম।আর তুই এখানে থেকেও জানতে পারিস না।"

আদনান উত্তর দিলো না। চুপিসারে গাড়ি চালিয়ে গেলো শুধু।

হসপিটালের সামনে গাড়ি থামতেই দ্রুত পায়ে বের হলো প্রত্যুষ।রওশাকে তাগাদা দিয়ে বললো

-"আপনি প্রোজ্জ্বল কে নিয়ে আসেন।"

রওশা মাথা নাড়লো।প্রত্যুষ অপেক্ষা করলো না ওঁদের জন্য। ওর হাতে অতো সময় নেই।বাবাকে না দেখা পর্যন্ত শান্তি হবে না ওর।কাউন্টার থেকে এড্রেস নিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে প্রত্যুষ পলক ভূইয়ার কেবিন খুঁজে পেলো।দরজা খুলে ঢুকতেই একযোগে অবাক হয়ে তাকালো সবাই।ভুত দেখার মতো চমকে উঠলো সবাই।প্রত্যুষ থমথম খেলো ওঁদের তাকানোর ধরণ দেখে।বিহ্বল চিত্তে আমতা আমতা করে হেঁসে বললো

-"আমি চলে এসেছি।"

প্রহর অবাকের চোটে দাঁড়িয়ে যায়।প্রত্যুষ ঢুকলো ভেতরে।কক্ষে শুধু পিয়াস ভূইয়া আর প্রহর উপস্থিত ছিলো।প্রত্যুষ এগিয়ে গেলো বেডের কাছে।পলক ভূইয়া অবাক চোখে দেখলো ওঁকে। প্রত্যুষ শোয়া অবস্থায় জড়িয়ে ধরলো ওনাকে।ভাঙা গলায় বললো

-"বাবা,কী হয়েছে তোমার!আমি চলে এসেছি বাবা।আর কক্ষণো যাবো না তোমাকে ছেড়ে।শুধু তুমি সুস্থ হয়ে যাও।"

পিয়াস ভূইয়া মনে মনে স্বস্তি পেলেন।প্রত্যুষ যে এভাবে হুট করে চলে আসবে তা ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কেও।সবার চিন্তার বাইরে ছিলো ওর আগমন।তবুও ভাগ্যেস প্রাণেশাকে প্রিয়মের সাথে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।নয়তো এ অবস্থায় দুজনেই হয়তো অপ্রীতিকর অবস্থার সম্মুখীন হতো।

প্রত্যুষ ননস্টপ কথা বলে যাচ্ছে পলক ভূইয়ার সাথে।চোখে পানি টইটম্বুর ওর।পলক ভূইয়া ঠোঁট টেনে কাঁদছেন। বলার চেষ্টা করছেন কিছু।কিন্তু পারছেন না।প্রত্যুষ থামিয়ে দেয় তাকে।নাক টেনে বলে

-"কিছু বলো না বাবা।কিচ্ছু বলার দরকার নেই।আমি জানি তো সব।তুমি নিজেকে আর কষ্ট দিও না।"

প্রত্যুষ হিচকি তুলে কাঁদছে।ওর কান্না দেখে আরো বেশি উতলা হয়ে পরলেন তিনি।প্রহর গিয়ে একহাতে জড়িয়ে ধরলো ওঁকে। শান্ত করার চেষ্টা করে বললো

-"কাঁদিস না।তোকে কাঁদতে দেখে বাবা আরো অস্হির হয়ে যাচ্ছে। শান্ত হ প্রত্যুষ,কাঁদিস না।"

প্রত্যুষ মাথা তুলে দু'হাতে চোখ মুছলো।পলক ভূইয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো

-"ঠিক হয়ে যাও বাবা।তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে যাও। আমরা সবাই আছি তোমার সাথে।"

বলেই উঠে দাঁড়ালো প্রত্যুষ।পিয়াস ভূইয়াকে দেখে মলিন হেঁসে জড়িয়ে ধরলো।পিয়াস ভূইয়া শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন ওঁকে।কোমল স্বরে বললেন

-"এতোদিনে মনে পড়লো আমাদের।"

কাঁধে মুখ গুঁজলো প্রত্যুষ।বিড়বিড় করে বললো

-"তোমারও তো একবারো মনে পড়লো না আমাদের!"

পিয়াস ভূইয়া হাতের বাঁধন শক্ত করলেন।ব্যগ্র স্বরে বললেন

-"অভিমানের নিচে ভালোবাসাগুলো চাপা পড়ে গেছে তাই না বাবা!"

প্রত্যুষ উত্তর দিলো না।শক্ত করে জড়িয়ে ধরে থাকলো ওনাকে।কাছে থাকতে আমরা আমাদের প্রিয়জনদের মূল্য বুঝি না।কিন্তু যখন তারা আমাদের থেকে দুরে সরে যায় তখন থেকেই শুরু হয় আমাদের মনস্তাপ। আমরা ব্যাকুল হয়ে চেয়ে থাকি তাদের পানে।হয়তো তারা ফিরবে আমরা আবার তাদের সেই অসীম ভালোবাসা গুলো অনুভব করতে পারবো।দুরত্ব আমাদের ভালোবাসা গুলোকে বাড়িয়ে দেয়।দুরত্ব ভালোবাসার গুরুত্ব বাড়ায়।

চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন