ফন্ট সাইজ:
থিম:
পরিণীতা

৩০তম পর্ব

লেখক: তানজিনা ইসলাম স্রোতিস্বিনী

পরিণীতা

পর্ব:৩১

তানজিনা ইসলাম

আজকে হসপিটালে নিউ জয়েন প্রত্যুষের।আর প্রথমদিনেই অনেক গুলো পেশেন্টের সিরিয়াল জমা পরেছে।লন্ডনে যাওয়ার আগে যে হসপিটালে এক বছর ইন্টার্নশিপ করেছিলো, সেই হসপিটালেই আবার জয়েন লেটার দিয়েছে প্রত্যুষ।সকালে তাড়াতাড়ি আসলেও সবার সাথে ফের পরিচয় সাক্ষাৎ করতে করতে অনেকটা সময় পেরিয়ে যায়।প্রত্যুষের সে সময়ের অনেক কলিগরা এখনো ডিউটিরত আছে এই হসপিটালে। অনেকদিন পর পেয়ে ওঁকে কেও ছাড়তেই চাইছিলো না,একেকজন একেকটা ট্রিট অফার করছিলো।সবার সাথে সাক্ষাৎ শেষে চেম্বারে এসে বসলো প্রত্যুষ।একটু পর থেকেই ওর ডিউটি শুরু হবে।

প্রত্যুষ চেম্বারে বসে রোগী দেখছিলো।আজ অনেকগুলো রোগীর সিরিয়াল আছে।সবাইকে দেখতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে ওঁকে। চেম্বার থেকে একজন রোগী বেরোতেই প্রত্যুষ 'নেক্সট' বলে আরেকজনকে ডাকলো।প্রত্যুষ প্রেসক্রিপশন লিখছিলো, চোখ তুলে তাকাতেই দেখলো ওর বয়সীই একজন যুবক বুকের সাথে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে।প্রত্যুষ কোমল স্বরে বললো

-"পেশেন্ট কোথায়?"

-"আমিই পেশেন্ট।" নিঃসংকোচ দ্বিরুক্তি।

থমথম খেলো প্রত্যুষ।শাণিত স্বরে বললো

-"বসুন।"

প্রত্যুষ পূর্ণ দৃষ্টিতে দেখলো তাকে। আবার বললো

-"এই বয়সেই হার্টের প্রবলেম!আমি তো মনে করেছি কোনো বয়স্ক রিলেটিভ কে নিয়ে এসেছেন।"

বাচ্চাদের ভঙ্গিতে মাথা নাড়লো সে।প্রত্যুষ প্রেসক্রিপশন লেখায় মনোযোগ দিয়ে বললো

-"নাম।"

-"উচ্ছ্বাস শাহরিয়ার। "

-"বয়স কত?"

-"উনত্রিশ।"

প্রত্যুষ টেবিলের উপর কলম রাখলো।নম্র স্বরে সুধালো

-"সমস্যা টা কোথায়?"

-"বুকে ব্যাথা।"

-"কোন জায়গায়।"

তর্জনী আঙ্গুল বুকের একেবারে মাঝবরাবর দেখালো উচ্ছ্বাস। প্রত্যুষ আবার প্রশ্ন করলো

-"ছোটোবেলা থেকেই কী এই সমস্যা?"

-"নাহ,রিসেন্ট।"

প্রত্যুষ বোঝানোর ভঙ্গিতে বললো

-"দেখুন,কিছু মানুষের জন্ম থেকেই হার্টে সমস্যা থাকে।ছোটোবেলা থেকেই তারা অনেক নরম প্রকৃতির হয়।দৌড়-ঝাপ বেশি করতে পারে না।একটু ভারী কাজ করলেই সেন্সলেস হয়ে যায়।কিন্তু যাদের এ সমস্যা জন্ম থেকে থাকে না অর্থাৎ যারা নরমাল তাদের হার্টের সমস্যা দেখা দেয় বয়স পঞ্চাশোর্ধ হলে।যদিও এখন এই যুগে ছোট-বড়, বাচ্চা-বুড়ো সবারই এই সমস্যা দেখা যায়,তাও খুব কম।আপনার এই সমস্যা হচ্ছে কখন থেকে?"

ঢোক গিললো উচ্ছ্বাস। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে বললো

-"কয়েকদিন আগে থেকে।একটা মেয়েকে দেখার পর থেকেই এই হার্টের সমস্যা শুরু হয়েছে।তার সাথে থাকলেই বুকের মধ্যে হৃৎপিণ্ড টা ছলাৎ ছলাৎ করে লাফায়।প্রচন্ড ব্যাথা হয় বুকে।"

প্রত্যুষ চোখ ছোট ছোট করে তাকালো ওর দিকে।উচ্ছ্বাস কাচুমাচু হয়ে বসলো।প্রত্যুষ বড় করে শ্বাস ফেললো।শান্ত স্বরে বললো

-"আই সি!বুঝেছি আপনার প্রবলেম।এই বিরল সমস্যা নিয়ে আপনিই প্রথম এসেছেন আমার কাছে।এর আগে কেও আসেনি।"

উচ্ছ্বাস অসহায় চোখে তাকালো ওর দিকে।উদ্বিগ্ন স্বরে বললো

-"কিছু করুন ডক্টর।আমার ঘুম যে হারা*ম হয় গেছে।কয়েকদিন ধরেই ভালো করে ঘুমাতে পারছি না।অসম্ভব খারাপ লাগছে।আমি শুনেছি আপনি বেস্ট হার্ট সার্জনদের মধ্যে একজন।দেশের বাইরে থেকে পিএইচডি করে এসেছেন।এজন্যই অনেক খেসারত দিয়ে আপনার কাছে এসেছি।সিরিয়াল পেতে কষ্ট হয়েছে তবুও এসেছি।কারণ এর আগে যে দুটো ডক্টর কে দেখিয়েছিলাম তারা আমাকে সুস্থ করতে পারেননি।উল্টো আমাকে বলেছে, মেয়েটার সাথে দেখা করা বন্ধ করে দিলেই হয়।কিন্তু আমি ওঁদেরকে কী করে বুঝাবো মেয়েটাকে না দেখে আমি থাকতে পারি না।তার সাথে থাকলেই আমার মনটা শান্তি হয়ে যায়।কিন্তু দুরে গেলেই কষ্ট লাগে, বুকে ব্যাথা করে।আমাকে সুস্থ করেদিন ডক্টর।আমার হার্টের সমস্যা ঠিক করে দিন।"

একটানা এতোকিছু বলে থামলো উচ্ছ্বাস। প্রত্যুষ মুচকি হাসলো ওর দিকে তাকিয়ে।বলতে মন চাইলো খুব 'তুমি কয়েকদিন ধরে ঘুমাও না আর আমি ছয়টা বছর ঘুমাতে পারি না।তাহলে তো তোমার ভাষ্যমতে আমারও হার্টের সমস্যা আছে।কারণ ছয়টা বছর বুকে ব্যাথা নিয়ে ঘুরছি।যে নিজের বুকের ব্যাথায় সারাতে পারে না সে তোমারটা কী সারাবে!'

কিন্তু মুখে বললো

-"হুম বুঝেছি।প্রবলেম টা হার্টের না মনের।শুনেন এর কোনো মেডিসিন নেই।বিজ্ঞান আজ পর্যন্ত এর কোনো মেডিসিন বানাতে পারেনি।মেয়েটার সাথে কী প্রতিদিন দেখা হয় আপনার?"

-"প্রতিদিন না তবে দু-তিন দিন পরপরই দেখা হয়।"

-"মনের কথা বলে দিলে হয়তো ব্যাথা কমবে।"

উচ্ছ্বাস চকিতে চাইলো।সূক্ষ্ম স্বরে বললো

-"আই ডোন্ট লাভ হার।এমন কিছুই না।শি ইজ এ সিলি গার্ল।বাচ্চা বাচ্চা দেখতে কিন্তু কাজ কর্ম একেবারেই বাচ্চাদের মতো না।রাত বিরেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে সিগারেট টানে।সবসময় মুখটাকে পেচার মতো করে রাখে।আমার গোমড়ামুখো মেয়ে পছন্দ না।"

ভ্রুকুটি গুটিয়ে তাকালো প্রত্যুষ।কন্ঠে নির্জীবতা এনে বললো

-"কিন্তু আপনার অবস্থা তো ভালো না।দেখুন আপনার পরে আরো অনেক জনের সিরিয়াল আছে।হয়তো ওঁদের সমস্যা অনেক গুরুতর।এখন যদি আপনার মনের অবস্থা নিয়ে কথা বলতে বলতে সব সময় শেষ হয়ে যায়, তবে ওদের দেখবো কী করে!"

-"তাহলে ডক্টর আমি বুঝি সুস্থ হবো না?"উচ্ছ্বাস অসহায় মুখ করে বললো।

প্রত্যুষের হাসি পেলো ওর অবস্থা দেখে।ঠোঁট টিপে হেসে শাণিত স্বরে বললো

-"আচ্ছা। আপনার সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবো আমরা।আমি আমার কোনো পেশেন্ট কে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ছাড়ি না।কিন্তু আপনার মনের ব্যাথা নিয়ে ডিসকাস করার জায়গা এটা না।এখানে শুধু শরীরের সমস্যার সমাধান করা হয়,মনের না।আপনি আমার কার্ড নিন,যখনই সমস্যা হবে ফোন করবেন আমাকে।আমরা একসাথে সমাধান করবো।"

বলেই একটা কার্ড এগিয়ে দিলো প্রত্যুষ।উচ্ছ্বাস কার্ডটা হাতে নিয়ে বললো

-"আপনি শিউর তো ডক্টর আমরা সমাধান করতে পারবো?"

-"ইয়েস।কেনো নয়।আমার পেশেন্টদের সমস্যা গুলো আমার নিজের সমস্যা বলেই মনে হয়।এন্ড আমি আজ পর্যন্ত কোনো কেসে হারিনি।আপনার কেসটাও সল্ভ হয়ে যাবে।"

-"থ্যাঙ্কিউ ডক্টর।"

-"ওয়েলকাম।কিন্তু আপনি কোন প্রফেশনের সাথে যুক্ত আছেন? আপনাকে দেখতে অনেক নরম মনের মনে হচ্ছে।"

ফিক করে হেঁসে দিলো উচ্ছ্বাস। হাসি হাসি মুখ করে বললো

-"আমি জানি তো আমি নরম মনের। কিন্তু একমাত্র আপনিই আমাকে বুঝলেন ডক্টর।"

প্রত্যুষ ঠোঁট বাকিয়ে হাসলো।উচ্ছ্বাস আবার বললো

-"আমি একজন সিআইডি অফিসার।"

-"হুয়াট!সত্যি?"প্রত্যুষ অবাক হয়ে বললো।

উচ্ছ্বাস উপর-নীচ মাথা নাড়লো।বললো

-"হ্যাঁ।"

-"আপনার প্রোফেশনের সাথে আপনার বিহেভিয়ার যায় না।ইউ আর সো কিউট।এসব খুন-খারবির ডার্ক প্রফেশনে আপনি কীভাবে ঢুকলেন সেটা আপনিই জানেন!"

-"দেশকে, দেশের মানুষকে রক্ষার কাজে ঢুকেছি।"

গর্ব নিয়ে বললো উচ্ছ্বাস। প্রত্যুষ হেঁসে দিলো।হাসি মুখে বললো

-"সোনার টুকরো ছেলে।"

-"বাঁশ মা*রছেন?"

-"নাহ!আপনাকে ভালো লেগেছে।"

-"এবার তাহলে আসি ডক্টর।আমি কিন্তু ফোন করবো আপনাকে।আপনি ব্যস্ততা দেখিয়ে কেটে দিয়েন না।"

-"আরে নাহ।আপনি যখন ইচ্ছে ফোন করবেন।"

উঠে দাঁড়ালো উচ্ছ্বাস। বিদায় জানিয়ে বললো

-"আমার সাথে মানুষের সখ্যতা বেশি দিন থাকে না।আমাকে ভালো বলা মানুষগুলোর সাথে আমার সম্পর্কও তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়।জানি না কেন, এটাই হয় সবসময়।কেন যেন মনে হচ্ছে, খুব তাড়াতাড়িই আপনার চোখের বালিতে পরিণত হবো।"

.

হসপিটাল থেকে ফেরার পথে রাস্তার পাশে গাড়ি ব্রেক কষলো উচ্ছ্বাস।অতি গরমে তিতিবিরক্ত সকলে।গ্রাম সাইড হওয়ায় তাও ইঞ্জিনের কালো ধোয়া, গাড়ির মাত্রাতিরিক্ত হর্ণ থেকে কিছুটা রক্ষে পাওয়া যায়। শীতকালেও যে এমন চোখ ঝলসানো রোদ পড়ে তা বাংলাদেশের আবহাওয়া না দেখলে ভীনদেশী রা বিশ্বাসই করবে না।উচ্ছ্বাস ধীর পায়ে নামলো গাড়ি থেকে।গলা শুকিয়ে কাঠের ন্যায় অবস্হা।জিহ্বা পর্যন্ত শুকিয়ে গেছে।গলায় একটু পানি না ঢাললে এখানেই অজ্ঞান হয়ে পড়বে ও,এমন অবস্হা। দোকান থেকে ফ্রিজের ঠান্ডা পানির বোতল কিনে টালমাটাল পায়ে বের হলো উচ্ছ্বাস। ফ্রন্ট সিটে বসে গটগট করে গিললো পানি।বড় বড় করে শ্বাস ফেলে শান্ত করলো নিজেকে।এই অসহনীয় উত্তাপে অসুস্থ অনুভব হচ্ছে নিজেকে। বাড়িতে গিয়েই আগে একটা লম্বা ঘুম দিতে হবে ভাবলো উচ্ছ্বাস। গাড়িতে উঠতে যাবে তার আগেই থেমে গেলো ও।রাস্তার অপজিটে ফুচকার স্টলে প্রাণেশা,মুগ্ধ আর তাজিম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ফুচকা খাচ্ছে।ওরা দেখেনি ওঁকে।নিজেদের মধ্যে এতটাই ব্যস্ত ওরা,দিনদুনিয়ার কোনো খবরই নেই ওদের। উচ্ছ্বাস রাস্তা পার হয় গেলো সেই সাইডে। মুগ্ধ একের পর এক ফুচকা মুখে পুরছে।উচ্ছ্বাস কে এগিয়ে আসতে দেখেই বড় বড় দৃষ্টিতে তাকালো ও।মুখের মধ্যে খাবার ঠাসা না থাকলে হয়তো ডাকতো ওঁকে। উচ্ছ্বাস হাত বাড়িয়ে হাই জানালো ওঁকে। প্রাণেশা আর তাজিম বিপরীত দিকে ফিরেছিলো।যার ফলে তখনও ওঁকে দেখেনি ওরা।মুগ্ধর এক্সাইটমেন্টের দেখাদেখি সামনে তাকালো ওরা।ততক্ষণে ওঁদের কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো উচ্ছ্বাস। মুগ্ধ মুখের খাবার শেষ করে বললো

-"আরে,উচ্ছ্বাস ভাইয়া যে!"

-"হুম।তোমরা এখানে কী করছো?"

-"আমরা নাচছি।আপনিও নাচবেন আমাদের সাথে?"মুখ ফসকে বললো প্রাণেশা।অবুঝ দৃষ্টিতে তাকালো উচ্ছ্বাস। সুক্ষ্ম স্বরে বললো

-"কোথায় নাচছো?আমিতো দেখছি খাচ্ছো তোমরা।"

-"তো দেখছেনই যখন আবার জিজ্ঞেস করছেন কেন?' মুখ বাকিয়ে বললো প্রাণেশা।

উচ্ছ্বাস চোখ ছোট ছোট করে চাইলো ওর দিকে।মুগ্ধ আগ বাড়িয়ে সাফাই গাইলো

-"ওর কথা শুনিয়েন না তো ভাইয়া।ওর মাথা নষ্ট।"

রাগী দৃষ্টিতে তাকালো প্রাণেশা।মুগ্ধ আমতা আমতা করে হাসলো।উচ্ছ্বাসের দিকে তাকিয়ে বললো

-"আমরা এখানে মাঝেমধ্যেই ফুচকা খেতে আসি।আপনি এখানে যে?"

-"একটা ইম্পর্ট্যান্ট কাজে এসেছিলাম।"

-"ওহ!"

তাজিম খেতে খেতে বললো

-"আপনি এক প্লেট নিবেন ভাইয়া?পুরো এলাকায় এই মামার হাতের ফুচকা বেস্ট।"

উচ্ছ্বাস টাওয়ারের মতো নাক উচু করে চাইলো।নাক সিটকে বললো

-"ছ্যাহ!এসব খাবার কেন খাও তোমরা?এসব স্ট্রিট ফুডের কোয়ালিটি একেবারেই ভালো না।তোমাদের উচিত হ্যালদি ফুড খাওয়া।"

আবার মুখ বাকালো প্রাণেশা।কন্ঠে উপহাস এনে বললো

-"আপনার ভালো না লাগলে আপনি খাবেন না।আরেকজনকে মানা করার অধিকার কে দিলো আপনাকে? ওরে, এলেন আমার হ্যাল্থ বিশেষজ্ঞ।নাক উঁচা! আমার প্রিয় খাবারের এই অপমান আমি কিছুতেই বরদাস্ত করবো না।"

-"বাদ দে না প্রাণেশা।সবার তো সবকিছু পছন্দ না।ভাইয়ার হয়তো ফুচকার টেস্ট সম্বন্ধে ধারণা নেই।তাই আনহেল্থি বলে এমন করলো।" উদগ্রীব হয়ে শুধালো মুগ্ধ।

উচ্ছ্বাস হাসলো।পিঞ্চ মেরে বললো

-"বাদ দাও তো মুগ্ধ।তোমার বান্ধবী প্রচুর ঝগরুটে। আর যার তার সাথে ঝগড়া করি না আমি।"

ফুঁসতে ফুঁসতে তাকালো প্রাণেশা।মুগ্ধ দেখলো পরিস্থিতি বিগড়ে যাচ্ছে।প্রাণেশা হা করে শক্ত কিছু বাক্য বলতে যাবে তার আগেই মুগ্ধ পরিস্হিতি সামলাতে বললো

-"ভাইয়া ঘুরতে যাবেন কোথাও? পুরো গ্রাম কিন্তু এখনো ঘুরে দেখা হয়নি আপনার।"

-"তোমরা তো নিয়ে গেলেনা আর।আমিও ব্যস্ত ছিলাম,তুমি আর তাজিমও ডাকলে না।ভালো গাইড না পেলে ঘুরতে পারি না।তোমরা দুজন যেভাবে গাইড দিয়ে গ্রামের প্রতিটা কর্ণারে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলে, এরপর থেকে আর একা ঘুরতে ভালো লাগছে না।"

-"যাবেন আবার?" গদগদ হয়ে বললো তাজিম।

-"যদি তোমরা নিয়ে যাও।"

-"কালকে যাওয়া যায়।আমাদের কাল কোনো কাজ নেই। যদি আপনি চান যেতে পারি।"কোমল স্বরে বললো মুগ্ধ।

-"কিন্তু কালকে তো অনেক ইম্পর্ট্যান্ট কাজ আছে আমার। পরশু যায়?"

-"পরশু তো যাওয়া সম্ভব না।পরশু প্রাণেশার বাড়িতে আমাদের দু'জনের দাওয়াত।"ঠোঁট উল্টে বললো মুগ্ধ।

উচ্ছ্বাস ভ্রু কুঁচকে চাইলো।বললো

-"দাওয়াত কেন? কোনো স্পেশাল ডে?"

-"না এমনিই।ওর মামাকে মানে আমাদের এমপি কে দাওয়াত দিয়েছে তাই আমাদেরও দাওয়াত দিলো।"

-"ওহ,আচ্ছা।"

মুগ্ধ চুপ থাকলো কিছুক্ষণ। পরক্ষণেই সম্মানের খাতিরে বললো

-"আপনিও আসিয়েন ভাইয়া।আপনারও দাওয়াত।"

চমকে মুগ্ধর দিকে তাকালো প্রাণেশা।মুগ্ধ মাথা চুলকে হাসলো।উচ্ছ্বাস হেসে দিয়ে বললো

-"কিন্তু যার বাড়ি সেই তো দাওয়াত দিলো না।"

প্রাণেশা এলোমেলো দৃষ্টি ফেলে তাকালো।নিজেকে ধাতস্থ করে বললো

-"দিচ্ছি দাওয়াত। আপনাকে আসতে হবে।"

-"শুধু মাত্র আমি মুখ ফসকে বলে ফেললাম তাই?নাকি নিজের মন থেকে বললে?" ভ্রু নাচিয়ে বললো উচ্ছ্বাস।

-"মন থেকেই বলেছি। আসলে আপনার কথা আমার খেয়ালে ছিলো না,নয়তো আপনাকেও বলতাম।মুগ্ধ আর তাজিম আমার ছোটোবেলার বন্ধু। আর দু'জনের সাথে আপনার অনেক ভালো বন্ধুত্ব,সেই হিসেবে তো আপনাকে দাওয়াত দিতেই হতো।"

-"আর তোমার সাথে?তোমার কেও হই না?" ভ্রু নাচিয়ে বললো উচ্ছ্বাস। ঠোঁট টিপে হাসলো।

প্রাণেশা উত্তর দিলো না।মোলায়েম স্বরে বললো

-"আপনি কিন্তু আসবেন উচ্ছ্বাস। না আসলে কিন্তু অসম্ভব খারাপ লাগবে আমার।ভাববেন না আপনি মুখ ফসকে বলে ফেলেছেন তাই বললাম।আপনি আমার অনেক হেল্প করেছেন।কিন্তু তার বিনিময়ে কিছুই করতে পারিনি আপনার জন্য। আশা করি আসবেন আপনি।"

ঠোঁট বিস্তৃত করে হাসলো উচ্ছ্বাস। নম্র স্বরে বললো

-"অবশ্যই আসবো প্রাণেশা।তুমি জানো না তোমার কথা কতটা ইম্পর্ট্যান্ট আমার কাছে!তুমি দাওয়াত দিলে আমি আসবনা তাই কী হয়!তোমাকে একনজর দেখার জন্য হলেও যাবো আমি।"

.

দুপুরের সময়। গ্রামের মেঠোপথ পাড়ি দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে উচ্ছ্বাস। রাস্তার দু'পাশে সারি সারি গাছ।সূর্যের আলো গাছের পাতা ভেদ করে খুব কমই রাস্তায় পড়ছে। উচ্ছ্বাস মুগ্ধ নজরে তাকালো আশেপাশে।গাড়ি খুব কমই চলছে রাস্তায়, বেশিরভাগ মানুষ রাস্তার সাইড ধরে হেঁটে যাচ্ছে তাদের গন্তব্যে। স্কুল ড্রেস পড়া বাচ্চাদের সংখ্যা পরিমানে বেশি।দু'পাশের জমি গুলোতে কৃষকেরা চাষ করছে, কাঠফাটা রদ্দুর মাথায় নিয়ে।গাড়ির জিপিএসে প্রাণেশার বাড়ির এড্রোস দেওয়া। উচ্ছ্বাস জিপিএস ট্রেক করে প্রাণেশার বাড়ি যাওয়ার চেষ্টায় আছে। যদিও ওর মুগ্ধর সাথেই আসার কথা ছিলো।কালরাত পর্যন্ত এটাই ঠিক ছিলো মুগ্ধর সাথেই যাবে প্রাণেশার বাড়ি,যেহেতু উচ্ছ্বাস ওর বাড়ি চেনে না।কিন্তু সকালে উঠে মতামত বদলে ফেললো মুগ্ধ। ওর প্রাণপ্রিয় বন্ধুর বাড়িতে দুপুরে আসা মানায় না ওর, তাই সাত-সকালেই চলে গেছে ওঁদের বাড়ি।সেটা সকালে ঘুম থেকে উঠেই জানিয়েছিলো উচ্ছ্বাস কে।তখন সে স্বাভাবিক ভাবে নিলেও, গাড়িতে উঠার পর থেকে কন্টিনিউয়াসলি গালি দিয়ে যাচ্ছে মুগ্ধ কে।প্রাণেশা বলেছিলো পার্লামেন্ট থেকে একঘন্টার রাস্তা।কিন্তু সে রাস্তায় ও দুই ঘন্টা ধরে ঘুরছে, কিন্তু এখনো পৌঁছাতে পারেনি।রাস্তায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে অনেকজন থেকেই ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছে উচ্ছ্বাস।আর সবাই দেখিয়ে দিয়েছে।আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যতজন থেকেই বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞেস করেছে সবাই ভূইয়া বাড়ি চেনে।কিন্তু গ্রামে এতোদিন থাকার পরও উচ্ছ্বাস চিনতে পারলো না সেটা নিয়ে আফসোস প্রকাশ করলো ও।গ্রামের রাস্তা গুলো পেঁচানো, বড়ই গোলমেলে।এক মোড়ে পাঁচটা রাস্তা এসে মিলিত হচ্ছে যার ফলে, ঠিকানা খুঁজে পেতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রাস্তার মাঝখানে কোমড়ে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে উচ্ছ্বাস। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে ঠিকানায় এসে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে ও।কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে অন্য জায়গায়।রাস্তার দু'পাশে দুইটা বাড়ি।ভূইয়া বাড়ি বলতে মানুষ এখানটায় দেখিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কোন বাড়ি সেটা বলে দেয়নি।উচ্ছ্বাস বুঝতে পারছে না কোন বাড়িতে ঢোকা উচিত ওর!কোন বাড়িতে থাকে প্রাণেশা সেটাও অজানা। যদি ভুলক্রমে অন্য কারো বাড়িতে ঢুকে যায়, তাহলে মান - ইজ্জত তো সব শেষ।সেই ভেবেই আর গেস করতে ভয় হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রাণেশাকে ছয় থেকে সাত বার ফোন দেওয়া শেষ ওর।কিন্তু মেয়েটা ফোন রিসিভ করছে না।রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে এদিকে কোমড়ে ব্যাথা ধরে গেছে উচ্ছ্বাসের। আরেকবার প্রাণেশাকে ফোন দিলো ও।এবারও রিং রিং হতে হতে কেটে যায়।উচ্ছ্বাস অসহায় দৃষ্টি ফেলে তাকালো।বিরক্ত লাগছে, অসম্ভব বিরক্ত লাগছে!সচরাচর কারো দাওয়াত গ্রহণ করে না ও, মানুষের বাড়ি যাওয়াটা অনেকটা বিরক্তিকর,পেইন লাগে উচ্ছ্বাসের।কিন্তু প্রাণেশার একবার মুখ ফুটে বলায় কেন যেন রাজি হয়ে গেলো।ওর বাড়িতে আসার, ওঁকে দেখার লোভটা সামলাতে পারেনি উচ্ছ্বাস। ফলস্বরূপ এই বিশ্রী অবস্থা।সকাল থেকেই সবকিছু কুফা নিয়ে কাটছে।ভেবেই চ-বর্গীয় শব্দ বের করলো।

বাড়ির গেইট থেকে পরিচিত একজনকে বের হতে দেখে জানে পানি এলো ওর।দ্রুতপায়ে এগিয়ে গেলো উচ্ছ্বাস।

-"এক্সকিউজ মি!"

আকস্মিক কারো ডাকে চমকে উঠে পাশ ফিরে তাকালো প্রহর।উচ্ছ্বাসের হাস্যজ্বল চেহারা দেখে বুকের মধ্যে থুতু ছিটালো।প্রহরের কান্ড দেখে উচ্ছ্বাস মুখ শুকনো করে বললো

-"ভয় পেলেন?"

-"এভাবে ভুতের মতো হুট করে উদয় হলে কে ভয় পাবে না!"

নাক উচিয়ে বললো প্রহর।

-"সরি।আসলে আমি আপনাকে দেখে এক্সাইটেড হয়ে পড়েছিলাম।" কোমল স্বরে বললো উচ্ছ্বাস।

প্রহর হেঁসে দেয়।হাত বাড়ায় হ্যান্ডশ্যাক করার উদ্দেশ্যে।উচ্ছ্বাস হাসি মুখে হাত বাড়িয়ে বললো

-"চিনতে পেরেছেন?"

-"আপনাকে চিনতে পারবো না!আপনি আমার বাবার জন্য ব্লাড জোগাড় করেছেন।তারউপর আবার আমার বনুর ক্লোজ ফ্রেন্ড আপনি।আপনাকে কীভাবে ভুলে যায়,বলুন!"

শ্বাস ফেলে হাসলো উচ্ছ্বাস। বললো

-"আসলে আমি কনফিউজড হয়ে পড়েছিলাম,ভূইয়া বাড়ি কোনটা সেটা নিয়ে।ঠিকানা জিজ্ঞেস করাতে সবাই এখানটায় দেখিয়ে দিয়েছে, কিন্তু বাড়ি কোনটা সেটা বলেনি।"

-"দুটোই।"

-"মানে?" ভ্রু কুঁচকে বললো উচ্ছ্বাস।

-"মানে দু'টোই ভূইয়া বাড়ি।"

-"তাহলে প্রাণেশা কোনটাতে থাকে?"

আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো প্রহর।উচ্ছ্বাস ফের জিজ্ঞেস করলো

-"ও না আপনার বোন হয়,আপনারা একসাথে থাকেন না?"

থতমত চেহারা নিয়ে তাকালো প্রহর।হাসি-হাসি মুখ গায়েব হয়ে গেলো।পরক্ষণেই আমতা আমতা করে হেঁসে বললো

-"হ্যাঁ,একসাথেই থাকি।এমনি বাড়ি আলাদা।"

ঠোঁট গোল করে 'ও' বোঝালো উচ্ছ্বাস। কথা বলছিলো দু'জনে।প্রহর কে কারো সাথে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা বলতে দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালো প্রত্যুষ।এদিকে মালিহা বেগম খাওয়ার জন্য ডাকছে সবাইকে।ওঁকে পাঠিয়েছে প্রহরকে খুঁজতে। প্রত্যুষ দ্রুত পায়ে এগিয়ে যায় সেখানে।হাঁক ছেড়ে বলে

-"ভাই,ওখানে কী করছো তুমি?মা ডাকছে তােমাকে।"

প্রহর ফিরে তাকালো পেছনে,সাথে উচ্ছ্বাসও।উচ্ছ্বাস হতবাক দৃষ্টিতে তাকালো। প্রহর বললো

-"একজন দেখা করতে এসেছে।এদিকে আয়,পরিচিত হ।"

প্রত্যুষ এগিয়ে আসে।উচ্ছ্বাস কে দেখে আরেক দফা অবাক হয় ও।উচ্ছ্বাস বিহ্বলিত স্বরে বললো

-"ডক্টর প্রত্যুষ, আপনি এখানে?"

-"উচ্ছ্বাস।"

প্রহর একবার প্রত্যুষের দিকে তাকাই তো একবার উচ্ছ্বাসের দিকে।সন্দিহান কন্ঠে বললো

-"তোমরা একজন আরেকজন কে চেনো?"

উপর-নীচ মাথা নাড়ালো উচ্ছ্বাস। ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে উপহাস করে বললো

-ইয়েস।আমি ওনার হার্টের পেশেন্ট।"

-"ওয়াও!আপনি সলিউশন নেওয়ার জন্য আমার বাড়িতে চলে এসেছেন?"

খুশিতে গদগদ হয়ে বললো প্রত্যুষ।

-"আপনি এই বাড়িতে থাকেন?উনি আপনার কে হন?" প্রহর কে দেখিয়ে প্রশ্ন করলো উচ্ছ্বাস।

-"উনি আমার বড় ভাই।আপনি ওর সাথে পরিচিত হলেন কী করে?"

-"বাবার জন্য ব্লাড ডোনার খুঁজেছিলেন উনি।সেখান থেকেই পরিচয় আমাদের।" প্রত্যুষকে উদ্দেশ্য করে বললো প্রহর।

-"সত্যি! আপনি যে আদতে আমার এতো বড় উপকার করলেন সেটা তো জানতাম না।"প্রত্যুষ কৃতজ্ঞ হয়ে বললো।

-"উপকার টা না-হয় আমার প্রবলেম সলভ করে ফিরিয়ে দিবেন।"

-"তা তো অবশ্যই। বাড়ির ভেতরে আসুন।"

-"আজকে না,অন্য একদিন।আজকে আরেকজনের দাওয়াত আছে।"

-"কার?" জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে প্রশ্ন করলো প্রত্যুষ।

-"ওই যে,ওই বাড়িতে। প্রাণেশা দাওয়াত দিয়েছে। দুই বাড়ির মধ্যে কোন বাড়িতে ও থাকে সেটা নিয়েই তো কনফিউজড হয়ে গিয়েছিলাম।"

চমকে তাকালো প্রত্যুষ।চোখের পলক বারকয়েক ঝাপটে হতবিহ্বল আওড়ালো

-"আপনি প্রাণেশাকে কী করে চিনেন?"

-"ওই তো দাওয়াত দিয়েছে আমাকে।আমি ওর ফ্রেন্ড। কিন্তু আপনি যে প্রাণেশার ভাই সেটাতো জানতাম না।"

কিছুক্ষণ তব্দা খেয়ে তাকিয়ে থাকলো প্রত্যুষ।গুলিয়ে ফেললো সত্তা।কী বলবে,কী উত্তর দেবে,কিছুই মস্তিষ্ক তৈরি করতে পারলো না।প্রত্যুষের বুক কাপলো অচিরাৎ।হা করে কিছু বলতে যাবে তার আগেই,পেছন থেকে কেও চিল্লিয়ে ডাকলো

-"উচ্ছ্বাস।"

তিনজনে বিদ্যুৎ বেগে তাকালো সেদিকে।প্রাণেশা হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে আসছে।ওঁকে দেখে খুশিতে জ্বলজ্বলে দৃষ্টিতে তাকালো উচ্ছ্বাস।প্রাণেশা এক প্রকার দৌড়ে আসলো।হড়বড় করে বললো

-"সরি,সরি উচ্ছ্বাস। আমি এই বাড়িতে থাকি সেটা বলতে ভুলে গেছিলাম আপনাকে।"

-"ইট’স ওকে।" ঘাড় হেলিয়ে বললো উচ্ছ্বাস।

-"দাওয়াত দিলে প্রোপারলি দিতে হয়।শুধু শুধু বেচারা ছেলেটাকে এভাবে না খাটালেও পারতি।কতক্ষণ ধরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হলো ওঁকে!" উদ্বিগ্ন স্বরে বললো প্রহর।

-"আমি আসলে বুঝতে পারিনি ,উনি এভাবে বাড়ি গুলিয়ে ফেলবেন।আরো একবার সরি উচ্ছ্বাস।চলুন আমার সাথে।বাই ভাইয়া।"

-"বাই,নিয়ে যা ওঁকে।"বিদায় জানিয়ে বললো প্রহর।

-"আসুন।" বলেই উচ্ছ্বাস কে সাথে নিয়ে গেলো প্রাণেশা।

একপ্রকার অদেখা করলো প্রত্যুষকে।প্রত্যুষের ভেতরটা উশখুশ করলো কিছু বলার জন্য। কিন্তু প্রাণেশার এভাবে উপেক্ষা করায় জিভ খসে মনের কথা গুলো বের হলো না আর।ব্যগ্র, উতলা দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ও।প্রখর রোদ মাথায় নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে দুজন।পাশাপাশি কদম মিলিয়ে হাঁটছে ওরা। অনেক কথাই হচ্ছে দুজনের মধ্যে যার শব্দ এ পর্যন্ত এসে পৌঁছাচ্ছে না।শঙ্কায় তিক্ত ঢোক গিললো প্রত্যুষ।অজানা আশঙ্কায় বুকের মধ্যে ধুকপুক করছে গতিতে।জ্বলে যাচ্ছে বুকের মধ্যে। নিষ্প্রভ,বিষন্ন দৃষ্টিতে সামনে অদুরে তাকিয়ে থাকলো প্রত্যুষ। চোখের সামনে দুইজন ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছে। প্রত্যুষের মনে হলো এর চেয়ে জঘন্য, বিশ্রী দৃশ্য আজ পর্যন্ত দৃষ্টিগোচর হয়নি ওর।কেন ও বের হলো?কেন এতো বাজে ঘটনার সাক্ষী হতে হলো ওঁকে!ওর হৃৎপিণ্ড ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য কেও,কিন্তু আফসোস!প্রত্যুষ কিছুই করতে পারলো না।

চলবে

(উচ্ছ্বাস কে ভালোবাসতে পারছেন না কেন আপনারা?😞)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন