পরিণীতা
পর্ব:৩৪
তানজিনা ইসলাম
রাত্রির তৃতীয় প্রহর চলছে।ঘড়ির কাটায় একটা ছুঁইছুঁই।
ক্লান্ত জনজীবন পাড়ি জমিয়েছে ঘুমের দেশে।জীবনের সমস্ত চিন্তাকে এক পাশে সরিয়ে চোখ বুজেছে আয়েশে।তবে এই রাত্রির সময়টা সবার জন্য আয়েশের হয় না।অনেকেই গভীর রাত্রিকে প্রকৃষ্ট সময় হিসেবে বেছে নেয় নিজের দুঃখ গুলো সকলের চক্ষু গোচরে, একান্ত চিত্তে বিসর্জন দেওয়ার জন্য।যা হয়তো দিনের ঝকঝকা ফকফকা আলোতে সম্ভব হয় না।
রওশা থম মেরে বসে আছে ড্রইংরুমের সোফায়।চোখ দু'টো স্হির,নিচের দিকে তাকিয়ে।ঘুটঘুটে অন্ধকার নিমজ্জিত পুরো ড্রইং রুম।বাড়ির সকলে ঘুমে কাঁদা। শুধু ওর চোখেই ঘুম নেই,শুধু আছে কারো আসার একরাশ আশা, অপেক্ষা। রওশা জানে না সে আসবে কি-না!তার অপেক্ষার সময় ফুরাবে কি-না।তবুও অপেক্ষা করতে ক্ষতি কীসের! আশা আর অপেক্ষায় তো আমাদের বাঁচিয়ে রাখে।
ফোনের টুং আওয়াজে ধ্যান কাটলো ওর।রওশা তড়িঘড়ি করে মোবাইল হাতে নেয়।মেসেজ পাঠিয়েছে কেও,লিখেছে
-"বাগান সাইডে আসো।আমি দাঁড়িয়ে আছি।"
মলিন হাসলো রওশা।কথা রেখেছে সে।রওশার মতো অমূল্যবান,তুচ্ছ মেয়েটার কথা অবজ্ঞা বা অবহেলা করে ফেলে দেয়নি।ধীরে-স্হির উঠে দাঁড়ালো রওশা।মন্হর বেগে সদরদরজা পেরিয়ে বাইরে বেরোলো।চঞ্চল দৃষ্টি ফেলে তাকালো আশেপাশে। গেটের কাছে দারোয়ান টহল দিচ্ছে। হাতে লাঠি নিয়ে চক্কর দিচ্ছে চারিদিকে।রওশা নিশ্চুপ পা টিপে টিপে বাগান সাইডে গিয়ে দাঁড়ালো।তবে এখানে তেমন অন্ধকার নেই।লাইটের ছটা আসছে কোথাও থেকে। এতোক্ষণ নিশ্চিন্তে থাকা রওশার এবার শঙ্কায় বুক কাঁপছে। ভয়ে হৃদপিণ্ড ওঠানামা করছে।কেও যদি দেখে ফেলে?তাহলে ওর চরিত্রে কালি লেপন হতে যে বেশি সময় লাগবে না।
রওশা অবিরত হাত কচলাচ্ছে। এই শীতের রাতেও দরদর করে ঘামছে ও।একটু বেশিই সাহস দেখিয়ে ফেললো কী?
নাহ,ঠিকিই আছে।এই সাহসটুকু এই মুহুর্তে খুব করে প্রয়োজন ওর।এভাবে প্রতিনিয়ত মরার চেয়ে একবারে এটুকু সাহস দেখানোই শ্রেয়। আজ হয় ও বাঁচবে, নয়তো সারাজীবনের মতো সবার কাছে কলুষিত হবে।কলঙ্ক নিয়ে তখন নিশ্চয়ই মৃত্যু ছাড়া আর উপায় থাকবে না।অথচ রওশা মুক্তিই পেতে চায়।সেটা বেঁচে থেকে হোক বা নিঃশ্বাস ত্যাগ করে।ওঁকে যে আরেকজনকেও মুক্তি দিতে হবে।
আচমকা কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেতেই রওশা আঁতকে উঠলো।পিলে চমকে উঠলো ওর,ছলাৎ করে লাফিয়ে উঠলো কলিজা।ছিটকে দুরে সরে আতঙ্কিত দৃষ্টিতে তাকালো সামনে।আগন্তুক দাঁত দেখিয়ে কৌতুক করে হাসছে।রওশার ভয় উবে গেলো তার উপস্থিতিতে।কোমড়ে হাত দিয়ে কটমট দৃষ্টিতে তাকালো।বললো
-"এভাবে কেও ভয় দেখায় নীল?"
-"আমি তোমাকে ভয় দেখিয়েছি? অথচ এভাবে খোলা চুলে দাঁড়িয়ে থেকে তুমিই ভূতনীর পরিচয় দিলে।তোমার কাছে আসতে ভয় লাগছিলো আমার কী না কী ভেবে! দোয়া-দলুত পড়ে তারপর এসেছি।"
বলেই আবার ঠোঁট টিপে হাসলো।রওশা হতাশ চিত্তে তাকালো ওর দিকে।নেতিয়ে যাওয়া কন্ঠে বললো
-"তুমি কী সবসময়ই মজার মুডে থাকো নীল! কয় আমার জীবনে তো একটুও মজা আসে না।"
নীল হাসি থামালো সহসা।রওশার কন্ঠ স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না।কেমন যেন দুঃখী দুঃখী ভাব।নীল শশকের ন্যায় ব্যস্তভাবে বললো
-"এভাবে বলছো কেন?কী হয়েছে তোমার?এতো রাতে এভাবে জরুরি তলব কেন?"
-"আমার জরুরি তলবে তুমি আসতে গেলে কেন?"
থমথমে দৃষ্টিতে তাকালো নীল।প্রশ্নের প্রেক্ষিতে এহেন প্রশ্ন আশা করেনি ও।পরক্ষণেই ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বললো
-"তুমি জানো না কেন এসেছি?"
-"কেন? জানলেও আরেকবার জানাও।"
-"তুমি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তাই।"
-"গুরুত্বপূর্ণ কেন?"
-"এসব তুমি কী প্রশ্ন করছো আজ বলতো?"
ধৈর্য খুইয়ে বললো নীল।রওশা উত্তর দিলো না।
নীল উদগ্রীব স্বরে আবার বললো
-"আর তুমি এভাবে দুরে অন্ধকারের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছো কেন?"
রওশা ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে আসে।আলোর ছটা ছড়িয়ে পরে ওর চোখেমুখে।নীলের আত্মা কেঁপে উঠে ওঁকে দেখে।ফর্সা মুখ বিবর্ণ দেখাচ্ছে ওর।দু’চোখ ফুলে গেছে,চোখের নিচে পরেছে কালশিটে দাগ।ঠোঁটের আশেপাশে অসংখ্য কালসিটে দাগের অস্তিত্ব।রওশার এই অবস্থা দেখে খানিকটা সময় হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকলো নীল।বিষাদ ঢোক গিলে উদ্বিগ্ন স্বরে বললো
-"এসব কী রওশা?"
রওশা বিষন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।দৃষ্টিতে ঠিকরে পরে এক আকাশ সম দুঃখ।নীল ফের ধৈর্য হারা হয়ে বললো
-"কিছু বলো রওশা।এ অবস্থা কী করে হলো তোমার?"
-"তোমার বন্ধু করেছে?মেরেছে আমাকে!"
মস্তিষ্কের প্রতিটি শিরা দপদপিয়ে উঠলো নীলের।কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে বললো
-"প্রত্যুষ এটা করেছে রওশা! হাউ! এটাও আমাকে বিশ্বাস করতে হবে?"
-"তোমার মর্জি তুমি বিশ্বাস করবা কি-না। আমি তোমাকে জোর করছি না।"
-"ওর সাথে আমার অনেক বছরের ফ্রেন্ডশিপ রওশা।প্রত্যুষ কতটা নরম মনের সেটা আমি জানি! ও তো মানুষের মনে কষ্ট দিয়ে কথাই বলতে পারে না।যতটা স্ট্রং দেখানোর চেষ্টা করে, ততটা স্ট্রং ও না।ও তোমাকে কী করে মারতে পারে?"
রওশা প্রতিত্তোর করলো না নীলের।একদৃষ্টে চেয়ে থাকলো শুধু।অপ্রত্যাশিত ভাবে বললো
-"আমাকে নিয়ে পালাতে পারবে নীল?"
রওশার এই বাক্য শব্দযুক্ত বজ্রপাত ঘটালো যেনো।নীল বজ্রাহতের ন্যায় চাইলো।বিহ্বল স্বরে কিছুটা চিল্লিয়ে বললো
-"হুয়াট?"
-"না বোঝার মতো তো কিছু বলিনি।বলেছি আমাকে নিয়ে পালাতে পারবে?মুক্ত করতে পারবে আমাকে এই জাহান্নাম থেকে?আমি মুক্ত পাখির মতো উড়তে চাই নীল! কাউকে খুব করে ভালোবাসতে চাই।চাই কেও আমাকে ভালোবাসুক,আমাকে নিজের মানুক। পারবে নীল?"
নীল পিটপিট করে চাইলো।দ্বিধান্বিত হলো মন-মস্তিষ্ক। সামনের নারীর এসব বাক্য বুকে সুনামি তুলছে ওর।নীল জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজালো। তুতলে বললো
-"রওশ্ শা!"
-"বাহ! এতোদিন যখন কথা বলতে তখন তো স্পষ্টই কথা বলতে নীল। এখন কেন গলা কাঁপছে তোমার? যেই নিজের করতে বললাম ওমনিই তোতলানো শুরু হয়ে গেলো?"
আরেক দফা অবাক হলো নীল।মেয়েটা ভুল বুঝছে ওঁকে। এতো বড় ধাক্কা মস্তিষ্ক নিতে পারে নি ওর।নীল উদগ্রীব স্বরে বললো
-"ভুল বুঝো না।তবে এই অপ্রত্যাশিত আবদার কেন রওশা?"
-"আমাকে ভালোবাসো না তুমি নীল? বলো আমাকে।তাহলে কেন তোমার গলা কাঁপছে?
-"আমি তোমাকে কখন বলেছি আমি তোমাকে ভালোবাসি?এমন কথা তো কোনোদিন হয়নি আমাদের মধ্যে!"
রওশা ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো কিছুক্ষণ ওর দিকে। এতোদিন কথা বলার পর বলছে ছেলেটা ভালোবাসেনি ওঁকে। অক্লিষ্ট ঢোক গিলল রওশা।চোখের পলকেই বিদ্যুৎ বেগে নীলের কলার খামছে ধরলো ও।
আগুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বললো
-"অ্যাই! যদি ভালো নাই বাসো,তাহলে এতোদিন এসব কী ছিলো!কেন ফোন দিয়েছো আমাকে? কেন টেক্সট দিয়ে কনসার্ন হয়েছো আমার জন্য।তুমিই প্রথম এক পা বাড়িয়েছিলে আমার দিকে।আমি কিন্তু যায়নি তোমার কাছে। তাহলে আজ এসব কেন বলছো? কেন আমার হাতটা আঁকড়ে ধরতে পারছো না তুমি?"
নীলের চোখ কোটর থেকে বের হওয়ার উপক্রম।রওশার এসব ব্যবহার কল্পনাতীত নীলের। আগুন চোখের দিকে তাকিয়ে নীল আইঢাই করে বললো
-"কী করছো রওশা?সামলাও নিজেকে।"
রওশা ঝরঝর করে কেঁদে দিলো।ওভাবে কলার আঁকড়ে ধরেই নীলের প্রশস্ত বুকে মাথা ঠেকালো। হিচকি তুলে বললো
-"নীল,নীল প্লিজ।প্লিজ আমাকে গ্রহণ করো।আমি বাঁচতে পারছি না নীল,মরে যাচ্ছি আমি।এভাবে থাকতে থাকতে হয়তো মরে যাবো।তুমি আজ আমাকে প্রত্যাখ্যান করে চলে গেলে, হয় আমার দু’চোখ যেদিকে যায় সেদিকে চলে যেতে হবে।নয়তো আমার মরা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।বাঁচাও আমাকে নীল,প্লিজ বাঁচাও।"
নীলের বুক কাঁপলো অচিরাৎ,মেয়েটা খালি মরার কথা বলছে।তবুও নিজেকে সামলে সুক্ষ্ম স্বরে বললো
-"রওশা তুমি আমার বন্ধুর বউ।প্রত্যুষ আমার বেস্টফ্রেন্ড।আমি কী করে তোমার হাত আঁকড়ে ধরতে পারি?আমি কী করে ওঁকে ঠকাতে পারি রওশা? বোঝার চেষ্টা করো আল্লাহর ওয়াস্তে।"
-"এতোদিন যে কথা বললে।তোমার সো কল্ড ভালোবাসা দেখালে তখন মনে হয়নি যে বন্ধুকে ঠকানো হচ্ছে! আর কীসের ঠকানোর কথা বলছো তুমি? প্রত্যুষের জীবনের বোঝা আমি।আমি সরে গেলে ও বরঞ্চ আরো খুশি হবে।দোয়াও করতে পারে তােমার জন্য।"
কাঁদতে কাঁদতে বললো রওশা।নীল যেন অকূল পাথারে পড়লো।ও জানে প্রত্যুষ ভালোবাসে না রওশাকে।তবুওতো প্রত্যুষের সম্মান জড়িয়ে আছে রওশার সাথে,রওশা বউ হয় ওর।প্রত্যুষকে কী জবাব দেবে ও? একদিকে বন্ধুর সম্মান আরেকদিকে ওর প্রিয় মানুষ। কোনদিকে যাবে নীল?
নীল নিশ্চুপ থাকলো ক্ষণকাল।এদিকে রওশা মাথা ঠেকিয়ে একাধারে কেঁদেই যাচ্ছে। নীল বিষাদ শ্বাস ফেললো।কিছু ভাবনায় শক্ত করলো নিজের মনকে।শক্ত হস্তে ছাড়ালো নিজের থেকে রওশাকে।রওশা অসহায় দৃষ্টিতে তাকালো ওর দিকে।মেয়েটার অসহায় দৃষ্টিতে বুকটা এফোঁড়ওফোঁড় করে দেয় ওর।চোখ খিঁচে শক্ত কন্ঠে বললো নীল
-"রওশা আমি তোমাকে নিয়ে যেতে পারবো না।মাফ করে দাও আমাকে।ফিরে যাও তুমি।আমি পারবো না প্রত্যুষকে ঠকাতে।"
বলেই পিটপিট করে চোখ খুললো নীল।বোঝার চেষ্টা করলো মেয়েটার অবস্থান। চোখ খুলে দেখলো মেয়েটা এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ওর দিকে।রওশার ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপের হাসি ছড়ায়। বিষাদ কন্ঠে বলে
-"প্রত্যুষ তো শুধু বাহানা মাত্র।সরাসরি বলুন না নীল,যে একটা বিবাহিত বা ডিভোর্সি মেয়েকে গ্রহণ করতে পারবেন না আপনি।আপনিও তো একজন ইন*টেক কাওকে লাইফে ডিজার্ভ করেন।কিন্তু যার বিয়ের ছয় বছর হয়ে গেছে সে তো ভা*র্জিন থাকবে না তাই না!"
নীলের কোটর ভরে আসে।শ্বাস আটকে আসে।দিশেহারা অবস্থায় জিভে ঠোঁট ভেজায় ও।কন্ঠ রোধ হয়ে আসছে নীলের।মেয়েটা ওঁকে আপনি আপনি করে বলছে।নিজেকে নিয়ে খারাপ কথা বলছে।অথচ সে মেয়েটাকে পাওয়ার জন্য নীল নিজের সবকিছু ত্যাগ করতে পারবে।কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতা কী করে করবে ও!নীল উতলা হয়ে কিছু বলতে যাবে তার আগেই রওশা হাত দিয়ে থামিয়ে দিলো ওঁকে।নিহত, ভাঙা গলায় বললো
-"হি ডোন্ট ইভেন টাচ মি নীল।চারটা বছর এক ছাদের তলায় থেকেও সে আমার দিকে চোখ তুলে তাকাই নি পর্যন্ত। কারণ সে ভালোবাসে অন্য জনকে। যাকে সে ছয় বছরেও আরেকটা মেয়ের সান্নিধ্যে থেকে ভুলতে পারেনি।সে বিশ্বাস করে তার মনে যে মেয়েটা বসবাস করে, দেহ ছোয়ার অধিকারও একমাত্র সে মেয়েটার। আমি এখনও ভা*র্জিন আছি নীল।"
বলেই আবার হাসলো রওশা।নীল টলটলে আখি তুললো।থৈ থৈ সমুদ্রের আঁখিতে দেখলো এক নারীর মন টুকরো টুকরো হয়ে ভেঙে যাওয়ার করুণ দৃশ্যপট।রওশা মুচকি হাসলো ফের।আক্ষেপ করে বললো
-"আমার জীবনটাই এমন জানো নীল।সবাই আমার সাথে এমনই করে।আল্লাহ হয়তো আমার কপালে সুখ লিখেনি।"
-"রওশা আমাকে ভুল বুঝোনা। আমি...
-"না, ভুল বুঝিনি গো।আমার মতো একটা মেয়ের সাথে তুমি নিজের জীবন কী করে জড়াতে পারো নীল! আমিই ভুল,এতোটা অশোচনীয় আবদার আমার না করাই উচিত ছিলো।সবাই খালি বন্ধুই বানাই আমাকে জানো!প্রত্যুষও, তুমিও।হয়তো কারো পরিণীতা হওয়ার ভাগ্য আমার নেই।আমাকে ফিরিয়ে দিয়ে ভালোই করেছো তুমি। আমি আরেকবার বুঝে নিলাম আমি সস্তা, যদি তুমি আমাকে গ্রহণ করতে আমি নিজেকে দামি ভেবে আকাশে উড়তাম।তুমি চলে যাও নীল।প্রত্যুষের কাছে আমি মাফ চেয়ে নেবো। তবে যে করেই হোক না কেন,মুক্তি আমি ওঁকে দেবোই।
আর কোনোদিন আমাদের দেখা হবে না,কথা হবে না।এটাই শেষ দেখা।ভালো থেকো,একটা সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করে নিয়ো।তােমার জীবন সুন্দর হোক নীল। বিদায়।"
বলেই বিষাদ হাসলো রওশা।মেয়েটার দৃষ্টিতে যেন জন্ম-জন্মান্তরের দুঃখ লেপ্টে আছে।মেয়েটার ভেজা গাল,গলা পর্যন্ত ভেজা অশ্রু দেখে নীলের বুকটা হু হু করে উঠে।রওশা দাঁড়ালো না আর, পেছনে ফিরে পা বাড়ালো। নীল স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে রওশার পা টলমল করছে।উদভ্রান্তের ন্যায় হাঁটছে ও।উফ! কী ভীষণ যন্ত্রণা। মেয়েটার সাথে আর কথা হবে না,ওর সুন্দর,মায়াবী মুখটা আর দেখা হবে না নীলের।নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি এতো আকাঙ্খা, এতো ভালোবাসা কেন জন্মায়! অসময়ের অসম্ভবের প্রতি আমাদের অসম্ভব টান।
চলবে
(রওশার কষ্টগুলো কেও দেখে না ক্যান?)