#Tell_me_who_I_am
#পর্ব_৫_প্রথমাংশ
#আয়সা_ইসলাম_মনি
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
🍁২য় খণ্ড🍁
🔺Trigger Warning: This post is a fictional story that contains sensitive content related to sexual violence. It is intended solely for awareness and educational purposes. It does not promote or glorify any form of abuse.
__________________________________________☞
পলাশ বুঝতে পারল, শীঘ্রই শাহানাও ওদের করালগ্রাসে আবদ্ধ হবে। 'OWL' দানবদের র*ক্তপিপাসু থাবা থেকে ওর নিস্তারের আশা করা নিতান্তই বোকামি। নিখুঁত খু*ন আর গুম করার পেছনে থাকা ওদের শয়তানি বুদ্ধির কাছে আজ পর্যন্ত সবাই হেরে গেছে।
পাশের সিটে বসে থাকা শাহানার নিশ্বাস গলার কাছে এসে আটকে যাচ্ছে। সে চোখ বড় করে পলাশের দিকে তাকালো। কাঁপতে কাঁপতে বলল, "সা-সা-স্যার... স্যার, এরা... এরা কারা? এরা কারা, স্যার?"
পলাশ থমকে গেল। এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নয়তো তার আর শাহানার লা*শ একসাথেই পড়বে। ঠোঁট কামড়ে পকেট থেকে বন্দুকটা বের করে শক্ত হাতে ধরল। তার কপালে ঘাম নেই, কিন্তু হাতের তালু ভিজে গেছে। মৃ*ত্যু সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও সে তার পেশাগত শপথ ভাঙতে চায় না। নিজের মনে বলল, "না, আর নয়। আজকে এই নরপিশাচদের শেষ করেই তবে মর'বো।"
সে শাহানার দিকে একবার তাকাল। মেয়েটার কপাল ঘামে চকচক করছে, চোখ দুটো স্থির হয়ে এসেছে আতঙ্কে, ঠোঁট কাঁপছে। পলাশ নিচু গলায় বলল, "ভয় পেও না, মেয়ে। আমি থাকতে তোমার কিচ্ছু হতে দিব না। শুধু আল্লাহর নাম নিতে থাকো। এই শয়তানগুলোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহসটা জোগাড় করো। আজ হয় ওরা মর'বে, নয়তো আমরা। কিন্তু লড়াইটা করতে হবে।"
শাহানা বুঝতে পারল, যেখানে পলাশ নিজে পুলিশ হয়েও বিপন্নচিত্তে কাঁপছে, সেখানে স্পষ্ট—এরা কোনো নগণ্য অপরাধী নয়, বরং ভয়ংকর অপরাধ জগতের কুখ্যাত নরপিশাচ।
শাহানার ঠোঁট শুকিয়ে গেছে। ঢোক গিলে ফিসফিস করে বলল, "কিন্তু স্যার, প্লিজ বলুন, এরা কারা?"
মৃ*ত্যুর ছায়া মাথার উপর থাকলে আর কিছু লুকিয়ে লাভ নেই। তাই পলাশ ধরা গলায় বলে উঠল, "এরা... এরা সেই জা*নোয়ার, যারা তোমার ম্যাডামকে শুধু গায়েব করেনি, খু*ন করে টুকরো টুকরো করে ছিঁ'ড়ে খেয়েছে।" তার কণ্ঠ ক্ষোভে জ্বলে উঠল, "এরা আউল, এরা বিশ্বের সবচেয়ে পেশাদার, সবচেয়ে বিকৃত রে*পিস্ট গোষ্ঠী। ওদের নেশা হলো নারীদের শরীরে ভয় ছড়িয়ে দেওয়া। ওরা শুধু ধ*র্ষণ করে না, ওরা মৃ*ত্যুর আগেই সর্বোচ্চ কষ্ট দিয়ে মে*রে ফেলে আত্মাটাকে।"
চোখের সামনে পাথুরে মুখের তিনজন যমদূত ধীর পায়ে এগিয়ে আসছে। ওদের ঠোঁটের কোণে হালকা বাঁকা হাসি খেলা করছে। তাদের আদলের উদ্দাম প্রশান্তি দেখে মনে হয়, তারা শাহানার দেহকে নিজেদের কবলে করতে মরিয়া।
এদিকে পলাশের কণ্ঠে উচ্চারিত কথাগুলো যেন বজ্রপাতের মতো শাহানার বুকের মধ্যে ঢুকে পড়ল। তার শিরদাঁড়ায় ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। থুতনি কেঁপে উঠল। কিন্তু ভয় যতটা চেপে ধরল, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি পুঞ্জীভূত হলো ক্ষোভ।
ওরা? ওরাই? এই জা*নোয়ারগুলোই তার ম্যাডামকে আর সেই নিষ্পাপ শিশুটিকে মে*রে ফেলেছে? যে সন্তান এখনও পৃথিবীর আলোই দেখেনি, সেই শিশুটিও ছাড় পায়নি ওদের পাশবিকতা থেকে?
শাহানার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, দৃষ্টিতে খেলল আগুন। তর্জনী একটুখানি কেঁপে উঠল, কিন্তু সে ভয়ে কাঁপছিল না, ক্রোধে ফুঁসছিল।
ডার্ক মুখে বিকৃত আত্মতৃপ্তি নিয়ে ঠান্ডা গলায় বলল, "কেন জানি না, আমরা জাল না পাতলেও শিকার নিজে থেকেই আমাদের দোরগোড়ায় এসে ধরা দেয়। হয়ত ভাগ্যও আমাদের এই হিংস্র খেলাটা বেশ উপভোগ করছে।"
ব্লাডশেড ঠোঁটের কোণে বিদ্রুপমিশ্রিত হাসি ঝুলিয়ে, দুই হাত উপরে তুলে আরাম করে আড়মোড়া ভাঙল। সে শীতল কণ্ঠে বলল, "আসতেই হবে। আফটার অল, আমাদের মতো হ্যান্ডসাম রে*পিস্ট কয়টাই বা আছে? তাছাড়া দুনিয়াটাই তো এখন 'ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ'-এর বিষাক্ত নেশায় বুঁদ। তাই আমাদের রূপের মোহে পড়ে নারীরা নিজেরাই সারেন্ডার করতে এগিয়ে আসে।"
এই কথা শেষ হতে না হতেই তারা তিনজন একসাথে হো হো করে হেসে উঠল। ব্লাডশেডের ঠান্ডা কণ্ঠে উচ্চারিত এই কথাটা সজোরে এসে শাহানার বুকের মাঝখানে আঘাত করল। তার কানের ভিতরে যেন হাজারো ধ*র্ষিতা, খু*ন হওয়া, কা*টা-ছেঁ*ড়া হয়ে লা*শ হয়ে যাওয়া নারীরা চিৎকার করে উঠল। শাহানা ঠোঁট কামড়ে ধরে ছিল, কিন্তু ওদের উপচে পড়া বিকৃত মুখ দেখে তার আর সহ্য হলো না। কটমট করে বলে উঠল, "তোরা... তোরা সেই জা*নোয়ার? আমার ম্যাডামকে... আর তার নিষ্পাপ ভ্রূণকে..." তার গলা কেঁপে উঠলো। সে চিৎকার করে উঠলো, "তোরা মানুষ না, তোরা নরকের উগড়ে দেওয়া পচা কু*ত্তার বাচ্চা; খা*ন*কির পোলারা আজকে তোদের আমি শেষ কইরা ফালাইবো!"
শাহানা বিদ্যুৎগতিতে পলাশের কাঁপা হাত থেকে বন্দুকটা ছিনিয়ে নিল। সোজা ট্রিগারে আঙুল চেপে ধরল। জানে না সেই তপোময় সিসার বুলেট ঠিক কোথায় গিয়ে বিদ্ধ হবে, তবু এই মুহূর্তে অগ্নিসঞ্চার করাটা জরুরি, একান্ত প্রয়োজন।
বন্দুকের নল থেকে গু*লিটা বেরিয়ে গাড়ির কাচ ভেদ করে ডার্কের কাঁধ ঘেঁষে বেরিয়ে গেল। সাথে সাথে বিকট আর্তনাদ ফুটে উঠল ডার্কের কণ্ঠে। উষ্ণ র*ক্তকণাগুলো কাচ ও লাইটপোস্টে ছিটকে পড়ল।
ডার্ক হতবিহ্বল হয়ে এক হাত দিয়ে ক্ষ*তচিহ্ন চেপে ধরল, তার মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেল যন্ত্রণায়। তার চোখে তখন পিশাচের মতো উন্মত্ততা জেকে বসলো। শাহানার বুকের মধ্যে শক্তির সঞ্চার হলো। ক্রমে ক্রমে সেই অস্পষ্ট প্রতিহিংসার আগুন আনন্দে পরিণত হলো।
এদিকে র*ক্তে ভিজে গেল ডার্কের হুডির একপাশ। অবস্কিউর ছুটে এসে তার কাঁধ চেপে ধরল, কিন্তু কিছুই কাজে আসছিল না। র*ক্ত থামছিল না, বরং তীব্র গতিতে বেরিয়ে আসছিল। তার হাতে লাল র*ক্ত লেপ্টে যাচ্ছে। ডার্ক গর্জে উঠলো, "ফা*কিং বি*চ! তুই ম'রবি আজ!"
OWL-দের চোখ মুহূর্তে র'ক্তবর্ণ হয়ে উঠলো। আগের সেই ঠান্ডা শিকারির মুখগুলো হিংস্র বাঘে রূপ নিল। ডার্ক এক পা সামনে বাড়িয়ে বলল, "তোর সুন্দর মুখটা আজ কেটেকুটে রোস্ট বানিয়ে গিলে ফেলব, বেবিগার্ল।"
অবস্কিউর ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি টেনে বলল, "তোর সাহস তো দেখি অনেক বেশি! এবার তোর জ*রায়ু ছিঁ*ড়ে তোরই মুখে গুঁজে দেব, ফা*কিং পিস অফ শি*ট।"
অথচ শাহানার বুক ফুলে ছিল। তাকে ফুঁসে ওঠা কোনো সিংহীর মতো মনে হচ্ছিল।
পাশে বসে থাকা পলাশ কিছুক্ষণ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল। তার চোখ বড় হয়ে উঠলো। সে অবিশ্বাসে তাকিয়ে বলল, "এই মেয়ে, তু-তুমি... তুমি পিস্তল চালাতে জানো?"
শাহানা পলাশের দিকে তাকালো না। ঠোঁট ফাঁকা হয়ে নড়ে উঠল। কাঁপা কাঁপা এক হাতে বন্দুক ধরে রেখেছে। ভয়ের ঘাম তার জামা লেপ্টে দিয়েছে শরীরে, কিন্তু দৃষ্টিতে স্পষ্ট ক্রোধ ছিল। সে ফিসফিস করে বলল, "জানি না, স্যার... চালাতে জানি না। কিন্তু... কিন্তু এদেরকে আমি শেষ করব। শেষ করেই ছাড়ব।"
তার গলার নিচে রাগে ফুলে থাকা শিরা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, এই মেয়েটা আর পলায়নপর নয়।
সে আবারও কয়েকটি গু*লি চালাল। কিন্তু কাঁপা কাঁপা হাতের দুর্বল নিশানায় সেগুলো কাউকে স্পর্শ না করে শূন্যেই ছুটে গেল। এদিকে হিংস্র ক্রোধে OWL দের চোয়াল কাঁপছিল। ব্লাডশেড নিজের পকেট থেকে ছু*রি বের করল।
তখনই পলাশ বুঝল, এখানে আজ র*ক্ত ঝরবে। হয় এদের, না হয় নিজেদের। সে দেরি না করে গাড়ির দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। বন্দুকটা তুলে ধরল সামনে। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে একটা ছু*রি শিস কেটে উড়ে এসে তার বুকে সজোরে ঢুকে গেল।
পলাশ কেঁপে উঠলো, পেছন দিকে হেলে পড়ল।
ব্লাডশেড উত্তেজিত গলায় বলল, "ড্যাম! পারফেক্ট নিশানা। ছু'রিটা একদম বডির ভেতর হার্টকে গিয়ে চুমু খেয়েছে।" তার ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি ফুটে উঠলো।
অবস্কিউর ঠোঁট বাঁকিয়ে শীতল গলায় বলে উঠল, "ব্লাডশেডের টার্গেট কখনো মিস করে না, ব্রাদার।"
পলাশ দম নিয়ে বোঝার চেষ্টা করল কী হয়েছে। তার বুকের ভেতরটা ফেটে যাচ্ছে। শার্টটা র*ক্তে টইটম্বুর, আর নিচে পড়তে থাকা র*ক্ত রাস্তার পাথরের ফাঁকে ফাঁকে গিয়ে জমছে। তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে। শ্বাস নিতে গেলে মনে হচ্ছে যেন বুক ফেটে যাবে। দাঁড়িয়ে থাকাও কষ্ট মনে হচ্ছে। শরীর ভারী হয়ে এসেছে।
তবুও সে পাশ ফিরে তাকাল। দেখল, শাহানা কাঁপছে। ফুঁপিয়ে কান্না করছে, তার চোখে আবার আতঙ্ক ফিরে এসেছে।
OWL-রা এবার শাহানার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। কিন্তু অবস্কিউর হঠাৎ পথ ঘুরিয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে পলাশের দিকে এগিয়ে গেল। তার চোখের হিংস্রতা অবলোকন করে পলাশ বুঝল, শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে। সে বুক চেপে ধরে কাঁপতে থাকা আঙুলে আবারো বন্দুক তুলে অবস্কিউরের গায়ে গু*লি ছুঁড়তে গেল।
কিন্তু তার আগেই একটি গু*লি শিস কেটে ছুটে এসে তার বাম হাতকে ক্ষ*তবিক্ষ*ত করল। গু*লিটা গাড়ির অপর দিক থেকে ডার্কের কালো নলওয়ালা বন্দুক থেকে ছুটে এসে, কাচ ছিন্নভিন্ন করে সোজা তার কবজির মধ্যে প্রবেশ করেছে। মুহূর্তের মধ্যে চরম যন্ত্রণা তার স্নায়ু ধরে টান দিতে শুরু করল। আরেকটা গু*লি শাহানার ঠিক এক সেন্টিমিটার সামনে দিয়ে ছুটে গিয়ে পলাশের হাড় চিরে অপর পাশে র*ক্ত মাখা ধাতব টুকরোটা বেরিয়ে গেল।
"আআআঘহ!" পলাশ চিৎকার করে উঠলো।
র*ক্ত লাফিয়ে বেরিয়ে এলো। তার হাত থেকে বন্দুকটা রাস্তায় পড়ে পাথরে ঠোক্কর খেল। গরম র*ক্ত তার আঙুল, কনুই, বাহু বেয়ে নেমে রাস্তা রাঙিয়ে দিল।
ডার্ক এবার ঠোঁট চাটল, র*ক্তের গন্ধে উন্মাদের মতো বলল, "এটা তো সবে শুরু। এখনো তো তোর হাঁটু ভাঙা, চোখ তোলা, দাঁত ফাটানো বাকি।"
অবস্কিউর সামনে এগিয়ে এসে নীচু গলায় বলল, "নিজের ভাগ্যের উপর কৃতজ্ঞ হও, অফিসার। কারণ তোমার মৃ'ত্যুটা সহজ হতে চলেছে।"
কারণটা স্পষ্ট, অতিরিক্ত সময় নষ্ট করলে শাহানাকে পাশবিক লালসার শিকার বানাতে দেরি হয়ে যাবে। পলাশ বুঝে গেল, এই তিনজন নরপিশাচের সঙ্গে র*ক্তক্ষয়ী লড়াইয়েও তার পরাজয় অবশ্যম্ভাবী। পলাশের মুখ সাদা হয়ে যাচ্ছে। তার ঠোঁট কাঁপছে, চোখ কুঁচকে যাচ্ছে ব্যথায়।
গাড়ির ভিতর দরজার ছিটকিনি আঁকড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ছে শাহানা। আর ক্ষীণস্বরে বিড়বিড় করে মোনাজাত করে চলেছে। পলাশ গাড়ি থেকে নেমে যাওয়ার আগে শীতল কণ্ঠে নির্দেশ দিয়েছিল, দরজা লক করে রাখতে। শাহানা তা-ই করেছে। কারণ পলাশ ভালো করেই জানে, শাহানা গাড়ি থেকে বেরিয়ে যতই ছুটুক না কেন, এই হিংস্র শ্বাপদগুলো থেকে মুক্তি নেই—ওরা ঠিকই ক্ষিপ্রতার সাথে পাকড়াও করবে তাকে।
শাহানা কাচের ফাঁক দিয়ে আতঙ্কিত চোখে চারপাশে তাকালো। তিমিরে ঢাকা রাস্তা, হাওয়ার বেগ, গাছের পাতার নড়াচড়া—সবই ওর কাছে অশুভ সংকেত মনে হচ্ছে। শাহানার বুক উঠানামা করছে, ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে ফেটে যাবে মনে হচ্ছে। চোখের নীচ দিয়ে একটা ঘামের ফোঁটা গড়িয়ে পড়ল। তার হাতটা ধীরে ধীরে নীচে পড়ে থাকা বন্দুকের দিকে বাড়ছিল।
শাহানা জানত, দরজা খুললেই ওর শরীরটা তিনজনে মিলে ছিঁ*ড়ে টু*করো টু*করো করে ফেলবে। সে একবার গাড়ির দরজার দিকে তাকালো।
দেখল, গাড়ির দরজার কাচে মাথা ঠেকিয়ে তীক্ষ্ণ শকুনের চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে ডার্ক। সেই চোখে খু*নের লালসা, র*ক্তের তৃষ্ণা। একে তো শাহানাকে ছিন্নভিন্ন করে ভো*গ করার ক্ষুধা, তার উপর শাহানা আবার দুঃসাহস দেখিয়ে গু*লি চালিয়ে ডার্কের কাঁধ চি*রে দিয়েছে। সেই ক্ষতে ক্রমে র*ক্ত চুঁইয়ে পড়ছে, আর রাগে তার নাসারন্ধ্র থেকে উঠে আসছে গরম শ্বাস। শাহানা স্পষ্ট বুঝতে পারল, ডার্কের র*ক্তচক্ষুতে এখন একটাই লক্ষ্য— তাকে খেয়ে ফেলা। সেই দৃষ্টি সাপের মতো ঠান্ডা মনে হয়, কিন্তু ভিতরে জ্বলছে দাউদাউ আগুন। সে গলগল করে র*ক্ত খেতে চায়। কান কেটে মুখে পুরে দিতে চায়। শরীরটাকে ছেঁচড়ে কুকুরের মতো জিভের সাহায্যে চাটতে চায়।
ডার্কের কাঁধে গু*লির ক্ষত তীব্র হচ্ছে, কিন্তু তার রাগ সেই ব্যথাকে ঢেকে দিয়েছে। তার ঠোঁটে এক চিলতে বিদ্বেষমাখানো হাসি ফুটলো।
ডার্কের পাশেই গাড়ির দেহে গা ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ব্লাডশেড। সে ঠোঁট চাটছে। সেই ঠোঁটের কোণায় বিকৃত হাসি টেনে রেখেছে। তার হাতে ধরা ভারী ছুরির ফলায় র*ক্ত জমে কালচে হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে, এরা দু’জনই তাকে ঘিরে রাখা ক্ষুধার্ত শেয়াল, আর সে শুধুই শিকার।
ডানদিকের দরজার খানিক দূরে রা*ম দা হাতে অবস্কিউর দাঁড়িয়ে আছে।
শাহানা কী করবে ভেবে কূলকিনারা পেল না। আতঙ্কে তার স্নায়ুগুলো যেন গিঁট পাকিয়ে যাচ্ছে। সে নিজেকে কাঁচুমাচু করে গুটিয়ে নিল। হাঁটু জড়িয়ে ধরল শক্তভাবে।
ওদিকে পলাশ বুঝে গেল, তার অবশিষ্ট সময় ফুরিয়ে এসেছে। তার বুকের মধ্যে তখনো ছু*রি ঢোকানো। গলা শুকিয়ে কাঠ। তবু একটা শেষ সুযোগ আছে। শাহানাকে ওদের নোংরা ছোঁয়া থেকে বাঁচানোর শেষ একটা সুযোগ আছে। সে হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে পড়ল। মূহুর্তের মধ্যে পিস্তল তুলে গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে শাহানার দিকে ঘুরিয়ে ধরল।
তৎক্ষণাৎ ট্রিগারে চাপ দিল। গুলির শব্দে কাচ ফেটে গেল। ধোঁয়া ছড়িয়ে এক ঝলকে বেরিয়ে আসা বুলেট শাহানার কপাল ভেদ করে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে গেল। শাহানার হাত ছুঁয়ে গেল মাথার পেছন, আর মুহূর্তেই ভলভল করে র*ক্ত গড়িয়ে পড়ল। গাড়ির ছাদ, সিট সব র*ক্তে রাঙিয়ে গেল। মাথার পেছন থেকে র*ক্তে ভেজা মগজ ছিটকে গিয়ে সীটে লেগে থাকল।
তার গলা আধা হাঁ করা, কিন্তু মুখে অচিন শান্তি এখন। র*ক্ত তার মুখ, চুল, কানের পেছনে গড়িয়ে যাচ্ছে। শাহানা চোখ খোলা অবস্থাতেই ধপাস করে সিটের উপর নিস্তেজ দেহে লুটিয়ে পড়ল। হঠাৎ পরে যাওয়ায় তার করোটিতে ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছে, মগজ আঘাতে থেঁতলে গেছে। কিন্তু তাতেও বা কী? তার ফুসফুসের শেষ বাতাসটুকু ইতোমধ্যেই নিষ্ক্রান্ত, হৃৎপিণ্ডের চূড়ান্ত স্পন্দনও থেমে গেছে। সে মৃ*ত্যুর করাল আলিঙ্গনে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেছে।
OWL-রা হতবাক। তাদের চোখের সামনে থেকে একটা গু*লির ঝটকায় শিকারটা চুরি হয়ে গেল।
ব্লাডশেড দাঁতে দাঁত ঘষে বলল, "শালা, ডি*ক*হে*ড! এই কু*ত্তা আমাদের মুখ থেকে খাবারটা কেড়ে নিল।"
ডার্ক ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, "প্রি*ক! তোর মতো একটা ছুঁচোর জন্য কিনা আজকে আমাদের ক্ষুদার্থ থাকতে হবে!"
পলাশ কাঁপতে কাঁপতে বলে উঠলো, "মা... মা রে, আমাকে ক্ষমা করে দিস। কারণ আমি... আমি জানি, ওই জা*নোয়ারগুলো তোকে কীভাবে ধ*র্ষণ করে মৃ*ত্যু দিত, তোর শরীর কে'টে র*ক্তে ভাসিয়ে দিত, তার চেয়ে এই মৃ'ত্যুটা অনেক সুন্দর, অনেক শান্তির। আমি... আমি তোকে রক্ষা করতে পার..."
'পারলাম না' কথাটা শেষ করার আগেই অবস্কিউরের রা*ম দাটা শব্দ করে পলাশের পেটের মাঝখানে ঢুকে গেল। পলাশ একবার নিচে তাকাল। পেটটা দু’দিকে চি*রে খুলে গেছে, সে নিজেই দেখল তার নাড়িভুঁড়ি কেমনভাবে বেরিয়ে আসছে। এক মুহূর্তেই পলাশের ইউনিফর্মটা নীল রং থেকে র*ক্তাভ লাল হয়ে উঠল। র'ক্ত চুঁইয়ে চুঁইয়ে তার কোমরের ভাঁজে জমা হচ্ছে। ভেতর থেকে ঘোলাটে তরল গড়িয়ে তার বুটের ওপর পড়ছে। রাম দাটা আবার বের করে আনল অবস্কিউর। আর সাথে গরম র*ক্ত, ছি*ন্ন নাড়িভুঁড়ি, আধপচা খাবারের চাটনি আর হলদেটে রঙের গন্ধছড়ানো তরল টেনে আনল।
অবস্কিউর হালকা মাথা কাত করে বলে উঠল, "ইয়াক, থু।"
পলাশের গায়ে থুতু ফেলল সে। তার চোখ ধীরে ধীরে উল্টে যেতে লাগল। মুখ ফাঁকা হয়ে আছে, ঠোঁট কাঁপছে। চিৎকারের সাথে গেঁজলা বেরিয়ে এলো। তারপর পলাশের শরীরে অবস্কিউর ইনজেকশন দিয়ে কিছু একটা পুশ করে দিল। মরফিন! যা Owl-দের প্রতিটি শিকারকে মা'রার আগের সিগনেচার ড্রাগ। এটি মূলত শিকারের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমকে এমন একটা ঘোরে আটকে রাখে, যা তীব্র ব্যথার কারণে হওয়া কার্ডিওভাসকুলার শক হওয়া প্রতিরোধ করে; কাটাকাটির সময় সে ব্যথার চোটে যাতে সাথে সাথে মা'রা না গিয়ে, বরং পুরো ট্রমাটা সহ্য করে শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
ডার্ক এক ভ্রূ উঁচিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "মানুষের শরীরে সবচেয়ে বেশি তাপ থাকে লিভারে। গরম থাকতে থাকতে সেটা যদি মুখে ঢুকিয়ে দিই, কেমন লাগবে জানিস?"
বলেই একটানে পলাশের শরীর ছেদ করে তাজা লিভার ছিঁ*ড়ে বের করে আনল, আর গরম র*ক্তমাখা সেই অঙ্গটা পলাশের ঠোঁট ঠেলে গলায় গুঁজে দিল। মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই পলাশ বমি করল। তার মুখ দিয়ে র*ক্ত, পাকস্থলীর শর্করা, আর হলদে তরল গড়িয়ে পড়ল। কিন্তু সে তখনও জীবন্মৃত অবস্থায় কষ্ট ভোগ করছিল। তার আতঙ্কিত চোখের কোণ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল। মুখমণ্ডলে গভীর যন্ত্রণার কুঞ্চন স্পষ্ট, ঠোঁট নিস্তেজভাবে কেঁপে উঠছে, কিন্তু কোনো শব্দ বেরোতে পারছে না। শ্বাস টেনে নেওয়ার শক্তিটুকুও আর অবশিষ্ট নেই।
অবস্কিউর তার দুই পা টেনে মাটিতে ফেলে দিল। রাস্তায় কনুইয়ের হাড়ে ঘষা লাগল। তারপর সে একটা লোহার দণ্ড হাতে নিল, একে একে দুই হাঁটুর হাড় চূর্ণ করে দিল।
পলাশ আর্তনাদ করতে পারল না। কারণ ততক্ষণে ডার্ক তার গলায় স্ক্রু ড্রাইভারের মতো একটা সরু রড ঢুকিয়ে দিয়ে গলার স্নায়ু ছিঁ*ড়ে দিয়েছে। তার চোখ উলটে গেছে, জিভ বেরিয়ে পড়েছে। নিশ্বাস থেমে থেমে আসছে, কিন্তু মৃ*ত্যু এখনো আসেনি।
ব্লাডশেড ঠোঁটে হিমশীতল হাসি টেনে বলল, "যে আমাদের শিকার মুখ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে, তার মৃ*ত্যু সহজ হলে তো আমাদের নীতির অপমান হবে, তাই না অফিসার?"
তারপর এক এক করে বাম হাতের আঙুলগুলো ছু*রি দিয়ে চেপে ধরে কেটে ফেলল; প্রতিটি কাটায় কেবল র*ক্তের সাথে হাড়ের গাঁথুনি থেকে সাদা স্নায়ু-ঝুলন্ত মজ্জা ঝরে পড়তে লাগল। সেই কা*টা আঙুলগুলো ঠেসে ঠেসে পলাশের মুখে ঢোকানো হলো। একটা আঙুল ঠোঁট ফুঁড়ে বেরিয়ে গেল, অন্যটা গলার ভিতরে ঢুকে এলো। সে গিলে ফেলতে পারছিল না, মুখ র*ক্তে ভরে উঠছিল।
এরপর ব্লাডশেড রাম দার বাঁকা ফলা দিয়ে তার পিঠ বরাবর তির্যকভাবে কেটে দিল। চামড়ার ফাঁক দিয়ে পাঁজরের হাড় দেখা গেল। একটা ধারালো ছু*রি দিয়ে কাঁধের মাংসের টুকরো কে'টে ছিঁ'ড়ে নিল। তারপর সেটা নিজের গালে ঘষে ঘষে চা*টতে লাগল ডার্ক। তার মুখাবয়ব দেখে মনে হবে, সে বিরিয়ানির গোশত মুখে পুরেছে।
ডার্ক এবার পলাশের চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলল। ব্লাডশেড ছু*রির ফলা শান দিচ্ছে। অবস্কিউর একটা পুরোনো বস্তা থেকে ছোট একটা ব্লো টর্চ বের করল।
এইবার শুরু হলো চূড়ান্ত অত্যাচার।
পলাশের হাতদুটো একটা লোহার খুঁটিতে বেঁধে দেওয়া হলো। তার চোখের কোটরে আঙুল গলিয়ে চোখের বল টেনে ছিঁ*ড়ে ফেলল ব্লাডশেড। ছু*রি দিয়ে কুচি কুচি করল সেই চোখ। গর্ত থেকে এখন কেবল র*ক্ত আর সাদা তরল বেয়ে পড়ছিল। পলাশের মস্তিষ্ক প্রায় কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। হয়ত এখনি মৃ*ত্যু ঘটবে।
ব্লাডশেড হেসে বলল, "খুব তো নিজেকে বীর দেখাতে গিয়েছিলি, এখন কেমন লাগছে, সোনা?"
তারপর পলাশের বুকে আরো একখানা ছু'রি ঠুকে দিল, চামড়ার নীচ দিয়ে হাড়ে ঠুকে একটা ঠক করে শব্দ হলো। সেটা বের করে সেই ছু*রির ফলায় ব্লো টর্চের আগুন ধরানো হলো। সেই তপ্ত ছুরির শানিত ফলক নির্মমভাবে পলাশের বুক চি*রে ঢুকে গেল। মাংস পুড়*তে লাগল। তার স্নায়ু এক লহমায় অবশ হয়ে গেল, মস্তিষ্ক আর কোনো সাড়া দিল না। ফলে বুকফাটা আর্তনাদও তার ঠোঁট থেকে বেরোতে পারল না।
পলাশ দম আটকে ছটফট করতে লাগল, তার গলার কাছ থেকে একটা গার্গল ধরা শব্দ হচ্ছিল। কারণ তখনো তার কণ্ঠনালি কা*টা হয়নি। এবার সেই সময়ও এসে গেছে। ডার্ক ছু*রিটা নৃশংসভাবে টেনে এনে এক টানে পলাশের শ্বাসনালি বি*দীর্ণ করে দিল। ক্ষত*বিক্ষত গলার মধ্য দিয়ে তীব্র গতিতে র*ক্ত উথলে উঠল, ছিটকে পড়ল চারপাশে। সেই তপ্ত, লোহিত প্রবাহের মধ্যে জীবনের শেষ সঞ্চারটুকুও নিঃশেষ হয়ে গেল। এখানেই পলাশের অন্তিম পরিসমাপ্তি ঘটলো।
তবে তখন পলাশের বুক চি*রে গরম ছু*রি তার হৃৎপিণ্ডে পৌঁছাতেই কার্যত সমস্ত হেমোডাইনামিক সার্কিট ধসে পড়েছিল। লিভার সম্পূর্ণ ছি*ন্ন করার পরও, মস্তিষ্কে পূর্বসঞ্চিত অক্সিজেনের কারণে প্রায় ১০-২০ সেকেন্ড তার নিউরনগুলো সচল ছিল। সেই সময়ে সে কার্যত মৃ*ত্যুর প্রক্রিয়ায় থেকেও কয়েক সেকেন্ডের জন্য বেঁচে ছিল। বোঝাই যাচ্ছে, তারা কতটা দ্রুত আর নিখুঁত দক্ষতায় তাকে নিষ্প্রাণ করেছে।
পলাশের পো*ড়া হৃৎপিণ্ডটা তখনও ধুকপুক করছিল। অবস্কিউর বুকের হাড় ফাটি*য়ে হার্টটা বের করল। তার আদল দেখে মনে হলো, যুদ্ধের ট্রফি পেয়েছে সে। সে সেটাকে হাতে নিয়ে বলল, "হায়রে পলাশ, হায়রে জীবন! কেন যে মর'তে এলি? মেয়েটাও গেল, তুইও গেলি, লাভ কি হলো?"
তারপর তারা পলাশের পেট, বুক, মাথা, পা কে*টে চার ভাগে ছড়িয়ে দিল। মাথাটা উল্টে ধরে পাথরের ধারালো কোণায় চেপে ধরল। নাক চ্যাপ্টা হয়ে গেল, ঠোঁট ফেটে দাঁত বেরিয়ে গেল, মাথার খুলি ফেটে গিয়ে মাটিতে মস্তিষ্ক গড়িয়ে পড়ল। ডার্ক তখন হাঁটু গেড়ে বসে মুখে লেগে থাকা র*ক্ত আঙুল দিয়ে তুলে নিজ মুখে দিল। তারপর পলাশের দাঁতের মাড়ি ছিঁড়ে দিল।
তাদের পোশাকের ভাঁজে ভাঁজে সেই গলিত, আঠালো র*ক্ত লেগে আছে। চোখের কোণ, গালের খাঁজ বেয়ে গাঢ় লাল র*ক্তের ধারা অনবরত গড়িয়ে পড়ছে। তিনজনেরই মুখমণ্ডল বিকৃত। অকস্মাৎ সবার নজর গিয়ে ঠেকল গাড়ির ভিতর, যেখানে মৃ*ত শাহানার শরীর পড়ে আছে। কাছের শিকারটা ফসকে গেছে!তাতে তাদের র*ক্তগরম মাথা আরও ক্ষুধার্ত, আরও বন্য হয়ে উঠলো। আরেকটা শিকার, আরেকটা নতুন শিকার চাই-ই চাই।
ডার্ক ঠান্ডা গলায় প্রশ্ন ছুঁড়লো, "নেক্সট টার্গেট কে?"
ব্লাডশেড তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে হেসে বলল, "মিস মনি।"
অবস্কিউর ভ্রূ কুঁচকে তাকাল, "হু ইজ শি?"
ব্লাডশেড সামনের দিকে তাকিয়ে বলল, "আওয়ার রাইটার।"
🍁চলবে?
#Tell_me_who_I_am
#পর্ব_৫_দ্বিতীয়াংশ
#আয়সা_ইসলাম_মনি
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)
🍁২য় খণ্ড🍁
🔺সতর্কতা: গল্পটা কেমন, সে সম্পর্কে সবার আইডিয়া তো আছেই। তবুও শুরুতেই বলে দিচ্ছি, এটা শুধুমাত্র একটি কল্পকাহিনি। যারা খারাপ তারা খারাপই, তাদের বিবেক বা ধর্মীয় বোধ থাকে না; এই সত্যটা আমাদের চারপাশেই প্রতিনিয়ত দেখা যায়। যেমন: আপনার সামাজিক মাধ্যমে আপলোড করা ছবিগুলো ব্যবহার করে কীভাবে কুৎসিত, অ'শ্লীল কাজকর্ম চালানো হয়, তা আপনি জানতেও পারবেন না। এই গল্পে খারাপ চরিত্রদের প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখানো হবে না। বিশেষ করে, এই পর্বের প্রথম ও দ্বিতীয় প্যারাগ্রাফ খুবই জঘন্য ও বীভৎস; পড়লে বমিও আসতে পারে। তবে না পড়লেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু মিস করবেন। অতিরিক্ত মানসিক প্রস্তুতি ছাড়া না পড়াই ভালো।
🔺Trigger Warning: This post is a fictional story that contains sensitive content related to sexual violence. It is intended solely for awareness and educational purposes. It does not promote or glorify any form of abuse.
__________________________________________☞
[বি.দ্র. বড় পর্ব, মেইন ফেসবুক অ্যাপ দিয়ে পড়বেন।]
শেফের মুখাবয়ব দেখে এতটুকুও প্রতীয়মান হলো না যে, সে কথাগুলো সেরেফ কৌতুকের ছলে উচ্চারণ করেছে। তার চোখ দুটো শীতল। গালের তলায় শিরাগুলো শিরশির করে নড়ে উঠছে। তার আঙুলে লেগে থাকা র*ক্ত ইতিমধ্যে শুকিয়ে কালচে হয়ে গেছে।
ধীরে ধীরে সে প্যান্টের পকেট থেকে চকচকে একটা লাইটার বের করল। সেই তাজা কাটা একটা অ*ণ্ড*কো*ষ তুলে নিল। সেটা লাইটারের শিখার ওপর ধরে রাখল। আগুনের হলুদ-নীল শিখা তক্ষুনি সেই কোমল মাংসপিণ্ড স্ফীত করল, ধীরে ধীরে ভেতর থেকে পিচ্ছিল লালচে মাংস বেরিয়ে এলো। সেই কাঁচা মাংসের গায়ে লেগে থাকা র*ক্তকণাগুলো গলতে গলতে ছোট ছোট বুদ্বুদ হয়ে ফেটে ছিটকে পড়ল শেফের গালে। পোড়া মাংসের উৎকট গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল। ধোঁয়ার কুণ্ডলী শেফের মুখের চারপাশে ঘুরপাক খেতে লাগল। সে নিশ্বাস নিতেই সেই দগ্ধ গন্ধ নাকে ঢুকে গেল।
অথচ শেফ নির্বিকার। এবার সে অন্য হাতে আরেকটা অ*ণ্ড*কো*ষ তুলল। নিঃসংশয়ে মুখ খুলে জিভের ওপর রেখে চিবোতে শুরু করল। মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে জেলির মতো আঠালো পদার্থ ঠোঁটের কোণ বেয়ে চুঁইয়ে পড়তে লাগল। ভেতর থেকে র*ক্ত হঠাৎ ফেটে বেরিয়ে এলো, লবণাক্ত স্বাদে তার মুখের ভাঁজ আরও কুৎসিত হয়ে উঠলো। সে দাঁতে চেপে সেই নরম মাংস চূর্ণ করতে করতে আচমকা থমকে গেল। তার চোখ সরু হয়ে এলো, কপালে গভীর ভাঁজ পড়ল। হঠাৎ সে মুখ থেকে সেই থেঁতলানো মাংসের দলা থুতুর মতো দূরে ছুড়ে দিল।
সেই অ*ণ্ড*কো*ষটা বলের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে ফুটপাথ পার হয়ে গেল। কংক্রিটের ওপর সেটার ভেজা ত্বকের গায়ে লেগে থাকা গাঢ় লাল র*ক্তের সরু রেখা এঁকে দিয়ে যাচ্ছিল।
আচমকা একটা দমকা বাতাস এলো। সেই হাওয়ায় তাড়িত হয়ে মাংসপিণ্ডটা গড়িয়ে গড়িয়ে গিয়ে জিপিএস লোকেশন আই থার্টি ফাইভ সাউথবাউন্ড, টেক্সাসের অস্টিন শহরের উপকণ্ঠের এক জীর্ণ রাস্তার কোণে থামল। সেখানে একটা ভাঙা স্ট্রিট ল্যাম্পের নিচে ম্লান হলুদ আলো জ্বলছিল। সেই আলোর মধ্যে দুটো উজ্জ্বল হলদেটে চোখ মাঝে মাঝে দৃশ্যমান হচ্ছিল।
রাত প্রায় আড়াইটা। চারপাশ নিস্তব্ধ। শহরের মূল রাস্তা থেকে একটু দূরের এক পুরোনো ওভারপাসের নিচে ঘটনাগুলো ঘটছিল।
সহসা সেই স্ট্রিট ল্যাম্পের আলোর নীচ থেকে এক ভবঘুরে কুকুর বেরিয়ে এলো। তার পেট হাড়ে হাড়ে লেগে গেছে। দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা ফেনা ঠোঁটের কোণে সাদা আঁশের মতো লটকে আছে। কুকুরটা ঘ্রাণ নিল, তারপর পাগলের মতো সেই র*ক্তাক্ত অ*ন্ড*কো*ষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। কুকুরের ঠোঁট থেকে গরম র*ক্ত ছিটকে পড়ল। র*ক্তে তার সাদা দাঁতগুলো লাল হয়ে গেল। কুকুরটা জিভ বের করে রাস্তার র*ক্ত চেটে নিল। তার লেজ দুলছিল।
শেফ এক দৃষ্টিতে নিবিষ্ট হয়ে কুকুরটার দিকে চেয়ে রইল। তার শ্বাসপ্রশ্বাস ক্রমশ ভারী ও অনিয়মিত হয়ে উঠলো। সে ধীরে ধীরে হাঁটু গেঁড়ে বসল। তার ঠোঁটের কোণে রহস্যময় স্নিগ্ধ হাসি ফুটে উঠলো। চাহনি দেখে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, কুকুরটিকে দেখে তার অন্তরবৃত্তিতে মায়ার আবির্ভাব ঘটেছে।
দুই হাত ছড়িয়ে কুকুরটাকে ডাকতে ডাকতে বলল, "হাই, লিটল বিস্ট।"
কুকুরটা তখনো মাংস ছিঁড়ছিল। শেফ তার মাথায় হাত রাখল। র*ক্তমাখা আঙুলগুলো কুকুরের ময়লা পশমে ডুবে গেল।
শেফের হাসি তখন চওড়া হলো। সে এক পেশল টানে চেইন-শো চালু করল। ঘড়ঘড় করে বিকট শব্দে সেটা ঘুরতে থাকল। শেফ মাথা একপাশে কাত করে কুকুরটাকে মায়াভরা চোখে দেখতে দেখতে চেইন-শোটা একদম ওর কাছে আনল।
কুকুরটা ঘাবড়ে গিয়ে পিছিয়ে যেতে লাগল, কিন্তু তার আগেই শেফ ঠোঁটের কোণে ঠান্ডা হাসি ফুটিয়ে এক চাপেই চেইন-শোটা ওর গলার উপর চালিয়ে দিল। কুকুরটার গলা থেকে একটা আধভাঙা গোঙানির শব্দ বের হলো। র*ক্তের প্রথম ছিটা শেফের চোখে এসে লাগল। তারপর এক সেকেন্ডের ব্যবধানে গলা থেকে ছিটকে গরম গরম র*ক্ত বেরিয়ে এলো।
কুকুরটার লেজ কাঁপতে কাঁপতে স্থির হয়ে গেল। শেফ তখন র*ক্তে ভিজে যাওয়া দাঁতগুলোতে চামড়ার শেষ অংশটা ছিঁড়ে ফেলে চেইন-শোটা থামাল। মাত্র ছয় সেকেন্ডে কুকুরটার গলা পুরোপুরি কে*টে গেল। শেষ মুহূর্তে তার চোখ দুটো বিশাল হয়ে গিয়েছিল। মাথাটা শূন্যে লাফিয়ে চার ফুট দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ল। শেফের গায়ে, গালে, ট্রেঞ্চ কোটের কলারে গরম গরম র*ক্তের ছিটা ঝলসে পড়ছে। সে একদম নীরব মুখে আঙুল দিয়ে নিজের গাল থেকে সেই র*ক্ত তুলল। কুকুরটার মুখটা তখনো খোলা। দেহটা মাটিতে ঢলে পড়েছে। ছি'ন্ন গলা থেকে তখনো ফোয়ারার মতো র*ক্ত বেরোচ্ছে।
শেফ কুকুরের মাথার দিকে এগিয়ে গেল, মাটিতে হাঁটু গেঁড়ে বসল। হাত দিয়ে সেই কা*টা মুখের চোখের ওপর আলতো চাপ দিল। আড় হেসে বলল, "চুপ চুপ, একদম চুপ। এখন আর ভয় পাস না। তোকে তো আমি ভালোবেসেই খু*ন করলাম। এত ভালোবেসে আমি কাউকে খু*ন করিনি।"
সে উঠে দাঁড়াল। তার কালো ট্রেঞ্চ কোটের নিচে জমে থাকা র*ক্ত ফোঁটা ফোঁটা করে রাস্তায় পড়ছিল। চেইন-শোটা তখনো ঘুরছে—ব্লেডের ধার ঘেঁষে লেগে থাকা মাংস-আঁশ জ্বলন্ত ইস্পাতের ঘর্ষণে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। তার পায়ের নিচে গলে যাওয়া র*ক্তে রাস্তা ভিজে গেল।
শেফ ধীরে ধীরে সামনে এগোতে লাগল। পায়ের তলায় হঠাৎ কুকুরের কা*টা কান চাপা পড়ল, সেটা চ্যাপ্টা হয়ে ফেটে গেল। সে হাত থেকে চেইন-শোটা নামিয়ে রাখল। ঠান্ডা গলায় বলল, "আমার খু*নের সাক্ষী কেউ থাকবে না। একটা কুকুর কেন, মশা হলেও মে'রে চিবিয়ে খেয়ে ফেলতাম।"
তারপর সে আকাশের দিকে তাকাল। গলা থেকে এক টানা দীর্ঘ নিশ্বাস বের করল। আবার সেই ড্রাইভারের ম*রদেহের কাছে ফিরে গেল৷ হুট করেই ড্রাইভারের পা'য়ুপ'থের ভেতর চেইন-শো ঢু'কি'য়ে দিল। ভেতরের রেকটাম, পেলভিসের হাড়, স্পাইনাল কর্ড—সব একসাথে চূর্ণ হয়ে গেল। র*ক্ত, হাড়ের গুঁড়া, মজ্জা আর স্পাইনাল ফ্লুইড একজোট হয়ে ছুটে বেরিয়ে আসল।
শেফ চেইন-শো ফেলে দিয়ে দুই হাত পায়ুপথে ঢুকিয়ে দিল। তার আঙুলগুলো মাংস ভেদ করে ভেতর দিয়ে গলা পর্যন্ত উঠে গেল। তারপর হঠাৎ এক ধাক্কায় হাত উলটো করে ড্রাইভারের মুখ দিয়ে নিজের র*ক্তমাখা আঙুল বের করে আনল।
শেফের হাত তখন ভিজে ঘন, গরম র*ক্তে গলগল করছে। আঙুলের ফাঁকে মগজের সাদা তরল গলে গলে পড়ছে, সাথে গাঢ় লাল স্পাইনাল ফ্লুইড মিশে থকথকে হয়ে আছে।
সে সেই মাথাটা ধরে আড় চোখে তাকাল। তার ঠোঁটের কোণে নেশাগ্রস্ত হাসি ফুটে উঠলো। তারপর চোখ কুঁচকে বলল, "হোলি মো'লি! তোর মগজটা দেখছি এখনো গরম।"
চুলের মুঠি ধরে সে সেই ড্রাইভারের নিথর মাথাটা উপরে তুলে ধরল।
শেফ কনুই একপাশে সরিয়ে তার ঘূর্ণমান চেইন-শোটা চালু করল। মাথার ঠিক মাঝ বরাবর ব্লেডটা নামিয়ে দিল। প্রথমে কাটা পড়ল চুল, চামড়া। তারপর শক্ত স্ক্যাল্পটা কটাস শব্দে ভেঙে দু’ভাগ হয়ে গেল। মগজের গোলাপি ভাঁজগুলো ফেটে গিয়ে উষ্ণ সাদা-লাল ঘন পদার্থ বেরোতে লাগল। একটুখানি গিয়ে গিয়ার লিভারে আটকে থাকল, সেখান থেকে র*ক্তমাখা মগজের ফেনা গড়িয়ে পড়ছিল। আরেক দিক থেকে একটা চোখ ফেটে ছিটকে বেরোল। র*ক্ত আর মগজের স্নায়ু একসাথে মিশে কাঁদার মতো কংক্রিটের ওপর জমে রইল। কিছু স্নায়ু ছিটকে গিয়ে শেফের গালে, কপালে গিয়ে আটকালো।
কিন্তু শেফ থামেনি। সে এবার চেইন-শোটা ড্রাইভারের বুক বরাবর নামালো। চেইন-শোর দাঁতগুলো বুকের হাড় আর পাঁজর ফা'টিয়ে ভেতরের সবকিছু ছিঁ*ড়ে দিল। ফোয়ারার মতো র*ক্ত ছিটে শেফের চুল ভিজিয়ে দিল।
তখন শেফ নীচু হয়ে সেই ফেটে বের হওয়া চোখটা তুলে নিজের মুখে পুরে ফেলল। ভেতরে গলে যাওয়া চোখের লেন্সের কষ গড়িয়ে তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে বের হয়ে থুতনি বেয়ে পড়তে লাগল।
সে তর্জনী আর মধ্যমা একসাথে সেই চোখের গর্তের ভেতর ঢুকিয়ে দিল। আঙুল বের করে এনে হাতের আঙুলগুলো চুষে চুষে র*ক্ত চেটে পরিষ্কার করছিল।
গম্ভীর কণ্ঠে শেফ বলল, "আমি কারান নই যে মৃ*ত্যুর আগে তোকে তোর ভুল মনে করিয়ে দেব বা সেকেন্ড চান্স দেব। তোর জন্য আমার ব্ল্যাকরোজ পায়ে আ'ঘা'ত পেয়েছে, আর এটা তার ছোট্ট একটা শাস্তি মাত্র। মিরার যদি কিছু হয়ে যেত... তাহলে শুধু তোকে না, তোর পুরো গোষ্ঠীকে মে'রে মাংসের দলা করে এই রাস্তায় ফেলে রাখতাম।"
অর্থাৎ এই সেই ট্রাকচালক, যার চালানো ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মিরার গাড়িটি ব্রেক ফেল করায় দুমড়ে-মুচড়ে গিয়েছিল। যদিও তার কোনো ত্রুটি ছিল না, তবু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে মিরার সেই যন্ত্রণার শাস্তি তাকে পেতে হলো।
শেফ একদৃষ্টে বিকৃত লা*শটির দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর নীচু হয়ে বসল। রাস্তার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাংসপিণ্ডগুলো নির্লিপ্ত চোখে পর্যবেক্ষণ করতে থাকল। হঠাৎই তার হাত সর্পিল গতিতে মৃ*তের ফ্যাকাশে পায়ের ফাঁকের দিকে নেমে এলো। তারপর পু*রু*ষা*ঙ্গটি আঙুলের ফাঁদে নিয়ে চেপে ধরল। ছু'রির সহিত মাংসের নিচের ভিসেরা কে*টে ছিঁ*ড়ে ফেলল। তাতে র*ক্তের কুণ্ডলী থেকে সাদা রেশমি তন্তু আর হালকা সবুজ তরল ছিটকে তার গালের ওপর পড়ল। সে চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাসে সেই কাঁচা র*ক্তের উষ্ণ গন্ধ শুঁকলো।
তারপর নির্বিকারভাবে ছু*রির ধার চালিয়ে সম্পূর্ণ নরম ত্বক ছাড়িয়ে নিল। পু*রু*ষা*ঙ্গটি ছেঁটে প্যান্টের পকেটে গুঁজে রাখল। উদ্দেশ্য— এই উপকরণ দিয়ে মিরার জন্য এক অভূতপূর্ব গলার মালা তৈরি করবে। এমন ভয়াবহ উপহার তো কারানও মিরাকে কখনো দিতে পারেনি। অবশ্যই শেফের উপহারটি হতে হবে অদ্বিতীয়, দৃষ্টান্তভঙ্গকারী ও উৎকট শিল্পসম্মত।
এরপর সে কুকুরের র*ক্তমাখা কা*টা মুণ্ডু, দেহাংশ, এবং ট্রাকচালকের বিচ্ছি'ন্ন দেহের টুকরোগুলো গাড়ির ডিকিতে ঠেলে ফেলল। এবার সে-ও গাড়িতে উঠে বসে ইঞ্জিন চালু করল।
দীর্ঘ পথ পেরিয়ে সেই রেস্টুরেন্টের বেসমেন্টের সামনে এসে গাড়ি থেকে নামল শেফ। সেই কাটা খণ্ডাংশগুলো একটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়ে রেস্টুরেন্টের অভ্যন্তরে ঢুকে গেল।
রেস্তোরাঁর অভ্যন্তরটা শীতল। এক কোণে ঝুলন্ত শিকল-হুক থেকে মানবহস্ত দুলছে, র*ক্তস্নাত আঙুলগুলো অনিয়মিত দোল খাচ্ছে। রান্নাঘরের টেবিলে বিভাজিত পু*রু*ষা*ঙ্গ রাখা রয়েছে। তার পাশেই সযত্নে রাখা একগ্লাস গাঢ় রেড ওয়াইন। রান্নাঘরের কেন্দ্রে উচ্চাসনে রাখা এক কৃষ্ণস্ল্যাব। সেটার চারপাশে সাজানো রয়েছে ধারালো করাত, শিলং, ছু'রি, গদা, আর জবানকাটা হুক। আরেক প্রান্তে কাঁচের কনটেইনারে মানুষের খুলি আবদ্ধ করে রাখা।
শেফ কুকুরটার মাথাটা কিচেন কাউন্টারে ঝুলিয়ে রাখল, তার জিভ আধা বেরিয়ে এসেছে। সে পিছন ফিরে তাকাতেই পেছনের আসনের উপর রাখা মৃ*ত নারীর কাটা যৌ*না*ঙ্গ*টা নজরে এলো। তা কাচের জারে সযত্নে সংরক্ষিত করা হয়েছে।
তারপর সে বেসিনে পানির স্রোতে হাত-মুখ ধুয়ে নিল। কাঁধ থেকে ভারী ট্রেঞ্চকোটটি একপাশে ছুঁড়ে ফেলতেই স্পষ্ট হয়ে উঠল তার সুগঠিত, ধারালো আর তীব্র মোহনীয় অবয়ব।
সে এবার মার্বেল-খচিত স্নানকক্ষে প্রবেশ করল। সেখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে দেয়ালজুড়ে গাঢ় পান্না-সবুজ রঙের টাইলস। বামপাশে কাচ দিয়ে ঘেরা শাওয়ার এরিয়া, যার ওপারেই স্পষ্ট ঘন ট্রপিক্যাল গাছপালা। আর ডানপাশের কাঠের কাউন্টারটপে বসানো দুটি পাথরের বেসিনের ওপর ঝুলন্ত ভিন্টেজ লণ্ঠন থেকে ছড়িয়ে পড়ছে উষ্ণ আলো। কাচের দরজা ঠেলে সে শাওয়ারের নিচে গিয়ে দাঁড়াল। সশব্দে ঝরে পড়া পানির ধারা ভিজিয়ে দিল তার ভাস্কর্যের ন্যায় নিখুঁত শরীর। ফরসা ত্বক বেয়ে নেমে আসা গাঢ় র*ক্তের ধারা ধুয়ে-মুছে মিশে যেতে থাকল গড়িয়ে পড়া পানির সাথে। শীতল দেওয়ালে এক হাত ঠেকিয়ে, মাথা সামান্য নুইয়ে সে কিছুক্ষণ নিশ্চল দাঁড়িয়ে রইল। তারপর লম্বাটে আঙুলগুলো অলস ভঙ্গিতে চালিয়ে দিল নিজের ভেজা, অবাধ্য চুলগুলোর মধ্য দিয়ে।
কিছুক্ষণ পর একটি সাদা তোয়ালে কোমরে শক্ত করে জড়িয়ে যখন সে ফিরে এলো, তার চওড়া বুক, তীক্ষ্ণ চোয়ালের ধার আর শরীর বেয়ে গড়িয়ে পড়া জলকণাগুলোর ফাঁকে তাকে দেখাল আক্ষরিক অর্থেই 'পাপের মতো সুন্দর'।
সে এক গোপন প্রকোষ্ঠে প্রবেশ করল। চারদিকের দেয়াল ঢাকা রয়েছে মিরার সহস্র ছবিতে। কোনোটিতে মিরা শাড়িতে সুশোভিত, কোনোটায় থ্রিপিসে, আবার কোনোটায় শুধুমাত্র তার চোখের রহস্যময় দৃশ্যাবলি দেখা গেল। রয়েছে মিরার ন'গ্ন ছবিও। প্রতিটি দৃশ্যই গোপন সিসিটিভি ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত। ন'গ্ন মিরার পাশে নিশ্চয়ই কারানও বিরাজমান ছিল। তাই যে-সব ছবিতে কারানের উপস্থিতি ছিল, সেই অংশ যত্নসহকারে কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সে এগিয়ে গিয়ে ন'গ্ন মিরার ছবিটার দিকে অপলক তাকিয়ে থাকল। দীর্ঘকাল তার দৃষ্টি সেই ছবির তৃষ্ণায় নিমগ্ন রইল। তারপর নেশাগ্রস্ত, গভীর কণ্ঠে বলল, "প্রতিবার তোমার ছবি খুললেই মনে হয়, এই ফ্রেমটাই যদি বিছানা হতো, আমি তখনই ঢুকে যেতাম; নিশ্বাস ফুরানোর আগপর্যন্ত তোমাকে ছুঁয়ে যেতাম। তোমার ছবিগুলো দেখলে আমার শরীর বারবার ধাক্কা খায়, র*ক্ত গরম হয়ে ওঠে, মাতাল হয়ে যাই। ইচ্ছে করে ছবিটার সাথেই মিশে যাই, আদর করতে করতে সম্পূর্ণ গলে যাই।"
সে এবার মিরার ঠোঁটের উপর আঙুল বোলাতে লাগল। তারপর ধীরেসুস্থে আঙুলগুলো মিরার গলার উপর নেমে এলো। হাতের ভঙ্গিমায় এমন ইঙ্গিত তৈরি করল যেন সে মুহূর্তেই মিরার শ্বাসরোধ করবে। তার মুখাবয়ব কেমন কৃশ হয়ে উঠলো। চোখদুটোতে হিংস্র দাহ জ্বলে উঠলো।
একটু পর সে হঠাৎই কটমট করে মিরার বক্ষে নেমে এলো। সেখানে আঙুল চালাতে লাগল। ধীরে ধীরে তার হাত মিরার কোমর বরাবর নেমে এলো, তারপর তার আঙুল মিরার কোমরের কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছে গেল। সেখানে সে বেশ কিছুক্ষণ আঙুল বুলিয়ে চলল, ক্ষুধার্ত কৌতূহলে দৃষ্টিপাত করল।
আরো নীচে নামাতে লাগল আঙুলগুলো, কিন্তু অকস্মাৎ তার আঙুলে যেন বৈদ্যুতিক শক খেয়ে পিছিয়ে এলো। হাত ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে সে পা'গল কণ্ঠে বলল, "তুমি জানো না, হয়ত জানার প্রয়োজনও অনুভব করো না, তোমার জন্য উন্মাদ কেবল একজন নয়—দুজন। কারান তোমার প্রতিটি শ্বাসে জীবন খুঁজে পায়, আর আমি? আমি প্রতিটি মুহূর্তে ধ্বংস হচ্ছি তোমাকে না পাওয়ার দহনজ্বালায়। ও তোমাকে ভালোবাসে, আর আমি তোমাকে ছিঁ*ড়ে ফেলতে চাই। ওর চোখে তুমি সুখ, আর আমার চোখে তুমি অনন্ত যন্ত্রণা। কিন্তু জানো, এই অন্ধকার আমি নিজ হাতে গড়িনি। এই শয়তান... এই শয়তান জন্মেছে আমার দুই বাপের নিষ্ঠুরতা আর দুই মায়ের অপূর্ণতা থেকে। আমি তো আগুন নিয়েই জন্মেছি, আর তুমি অজান্তেই সেই ঘুমন্ত আগুনে বাতাস দিয়েছ। তুমি আমাকে বানাওনি, তুমি শুধু আমাকে আমার ভেতরের অসংজ্ঞায়িত ‘আমি’কে চিনিয়ে দিয়েছো।"
পরমুহূর্তে আঙুলগুলো দিয়ে নিজের ভিজে চুলগুলো নিপুণভাবে কপাল থেকে সরিয়ে নিল। তারপর নিস্পৃহ ভঙ্গিতে কোমর থেকে তোয়ালেটা মাটিতে ফেলে দিল। এখন সে নিঃসংশয়ে সম্পূর্ণ উদোম দেহে দাঁড়িয়ে আছে; তার সিক্ত কেশগুচ্ছ থেকে জলের বিন্দু বিন্দু কণা মেঝেতে ঝরে পড়ছে।
পুনরায় সে দেয়ালে ঝোলানো মিরার লাল শাড়ি পরা একটা ছবির দিকে এগিয়ে গেল। ঠোঁটের কোণে কদর্য ব্যঙ্গহাসি খেলে গেল। গম্ভীর কণ্ঠে সে ফিসফিস করে বলল, "আবারো বলছি, যদি সম্ভব হতো, তোমার ছবির ফ্রেমেই ঢুকে পড়তাম; আর রাতভর এখানেই শরীর খরচ করতাম, যতক্ষণ না ক্যানভাস ভিজে যেত ঘামে আর তৃপ্তিতে, যতক্ষণ না প্রতিটা ফটোতেই আমার নখের দাগ থেকে যেত। তোমার প্রতিটা ছবি আমার কাছে শুধু ছবি না; ওগুলো আমার কা'মনার পুতুল, যেগুলোর সঙ্গে আমি চোখ বুজে রাত কাটাই। উফফ..."
আচানক সে ছুটে গিয়ে প্রথমবারের মতো মিরার ছবির ঠোঁটে গভীর চুম্বন আঁকল। সেই চুম্বনের নেশায় তার চোখ অবচেতনে বুজে এলো। সে যেন হঠাৎই মিরাকেই দেখতে পেল। মনে হলো মিরা তার সান্নিধ্যে, আর সে মিরার কোমল ও স্নিগ্ধ ঠোঁটের স্বাদ নিচ্ছে।
সেই চুম্বন ক্রমে এক ঘোরতর নেশায় পরিণত হলো। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সে ছবির ঠোঁটে তার কা'মনার ছাপ রেখে চলল, ভিজে গেছে ছবিটা। ছবিটার কাচের ফ্রেমের উপস্থিতি আর তার বোধগম্যেই আসছে না। সহসা সে উন্মত্ত হয়ে ছবিটার ঠোঁট কা'মড়াতে শুরু করল। তার নিশ্বাস ঘন হতে লাগল। সে ছবির কাচ চা'টতে লাগল। মনে হয়, কাচ ভেদ করে মিরার র*ক্তমাংসের স্বাদ পেতে চাইছে।
একসময় কাচের ফ্রেমটি ভেঙে গেল। ধারালো টুকরো তার ঠোঁটে গভীর ছেদ রেখে গেল। ঠোঁট বেয়ে র*ক্ত ধীরে ধীরে গড়িয়ে পড়তে লাগল। কিন্তু তাতেও তার নেশা থামল না। সে ক্ষুধার্ত জন্তুর মতো ছবির ভগ্নাংশে তার মুখ গুঁজে রাখল। মনে হচ্ছে, ছবিটাকে গিলে ফেলবে।
ঠিক সেই মুহূর্তে তার ফোনে রিংটোন বেজে উঠল। সমস্ত ঘোর এক লহমায় ভেঙে গেল। এগিয়ে গিয়ে বিছানা থেকে ফোনটা তুলে যখন স্ক্রিনে তাকাল, অচেনা নাম্বার দেখে কিছুটা ধীর ভঙ্গিতে কল রিসিভ করে চুপচাপ কানে ধরল। তখনই অপর প্রান্ত থেকে শীতল এক কণ্ঠস্বর শোনা গেল, "স্যার, মিরা ম্যা..."
আর শোনার প্রয়োজন নেই ভেবে সে মোবাইলটা এমন এক ঝাঁঝালো ভঙ্গিতে ছুঁড়ে মারল, যে মুহূর্তেই সেটি চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে কাচ আর সার্কিটের টুকরো ঘরের কোণে কোণে ছিটকে পড়ল। তার শ্বাস ভারী হয়ে এলো, রাগে চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে গেল।
সে এগিয়ে গিয়ে ভাঙা ফোনের ভেতর থেকে সিমকার্ডটা তুলে আনল। কিছুক্ষণ সেই ক্ষুদ্র সিমের দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর ধীরে ধীরে দুই আঙুলে চেপে সেটি মুচড়ে ভেঙে পাশের কাচের ডাস্টবিনে ছুঁড়ে মারল। সেখানে দেখা গেল, শত শত ভাঙা সিমকার্ড। অর্থাৎ তাকে যেন কেউ অনুসন্ধান করে করতে না পারে, সেই জন্য সে সর্বদা প্রজ্ঞাপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করে।
এবার সে সাদা ট্রাউজার পড়ে আবার রান্নাঘরের দিকে চলে গেল। ঢুকেই প্রথমে টেবিলে শুয়ে থাকা কুকুরটার দিকে চোখ পড়ল। সে কুকুরটার পেট চি*রে ভেতর থেকে আধ পচা হাড়, অর্ধহজম মাংসের দলা বের করল। ধীরে ধীরে তার আঙুল কুকুরের দেহের ভেতরে ঢুকতে থাকল। চিড়ে চিড়ে ফাটিয়ে দিল পাঁজর। এক হাতে চামড়া ধরে টান দিল।
তারপর সে কুকুরের লি*ঙ্গ ধরে আঙুলে নিয়ে খেলতে থাকল। মাংসের টেক্সচার পরীক্ষা করল। কাঁচা অবস্থাতেই কুকুরের সেই অঙ্গের ওপর দাঁত বসাল। এক নিশ্বাসে মুখে পুরে নিল। গরম, লবণাক্ত, আয়রনমিশ্রিত র*ক্ত তার গলাধঃকরণ বেয়ে পাকস্থলীতে নেমে গেল। দাঁতের ফাঁক দিয়ে ছিটকে এলো লাল মাংসের তন্তু। গালে লেগে থাকা র*ক্তের রেখা থুতনিতে নেমে গেল। পুরোটা শেষ করতে পারল না। তাই মুখ থেকে বের করে থু দিয়ে ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলল।
এরপর সে ছু*রি চালিয়ে কুকুরের জিভ ছিঁ*ড়ে নিল। জিভের শিরা ছিঁড়ে ছিঁড়ে তখন ফিনকি দিয়ে গাঢ় র*ক্ত ছুটে এলো। সেটাতে কামড় দিতেই সেই গলিত মাংস থেকে নরম, সাদা তন্তুর দলা ফেটে বেরোল—যা শেফের ঠোঁটে গড়িয়ে পড়ল। সে চোখ বুজে চিবোতে চিবোতে বলল, "Not bad. Chewy but tender."
শেফ একটা মেটাল ট্রেতে কুকুরের কা*টা চোখের বল আর লিভার সাঁজাল। শিরাগুলো টেনে টেনে ছিঁ*ড়ে নিল। চুলায় বসানো পাত্রে মানুষের চর্বি দিয়ে বানানো তেল ঢেলে দিল। সেই তেলে হাড়ের গুঁড়ো ফেলে দিল, যা তার সিক্রেট গাস্ট্রোনমিক ইনগ্রেডিয়েন্ট। এরপর পুরুষের মাংস, কুকুরের চর্বি, মজ্জা, র*ক্ত সব মিশিয়ে এক নতুন ধরনের স্যাভরি পেস্ট তৈরি করল। তাতে দিল পিঁয়াজ, রসুন, বিট লবণ, গাঁজার পাতা। হালকা আঁচে ভাজতে থাকল। কাবাব ভাজার সময় গ্যাসের আগুনে ঝলসে ওঠা মাংস থেকে ঘ্রাণ ছড়াল।
একটা ফ্রাইং প্যানে মানুষের হৃৎপিণ্ড থেকে চেপে আনা র*ক্ত, লেবু আর গরম মশলা দিয়ে ফুটিয়ে বানাল ‘ব্লাড রিডাকশন সস’। পাত্র গরম হতেই র*ক্ত বুদ্বুদ করে ফুটতে লাগল।
রান্নার ফাঁকে ট্রাক ড্রাইভারের পু*রু*ষা*ঙ্গ ছোট ছোট টুকরো করে ছু*রি দিয়ে কাটতে থাকল। সেই টুকরোগুলো পুড়িয়ে এক লালচে চোকার বানাল। সে সেটার নাম দিল ‘মিরা'স রিভেঞ্জ চোকার।’
রান্না শেষে সেই মাংস এক কাঠিতে গেঁথে গ্রিল তৈরি করল। তারপর তার ওপর দুধ-মিশানো র*ক্তের সস ছিটিয়ে দিল। সে কামড় দিতেই র*ক্ত ছিটকে পড়ল, ঠোঁট পেরিয়ে গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল গলায়। শেফ চোখ বন্ধ করে শুধালো, "So juicy!"
রেস্টুরেন্টের ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লা*শগুলোর দিকে তাকিয়ে বিকৃত হাসি হাসল। নিজের জন্য এক প্লেট কাবাব সাঁজাল। ঠান্ডা কণ্ঠে আওড়ালো, "Ladies and gentlemen, hell has never tasted so good."
অবশেষে পুরু র*ক্তের সসে ডুবিয়ে কাবাব মুখে পুরল। গম্ভীর হেসে বলল, "Fu*cking heavenly..."
_______
ব্লাডশেডের কথায় ডার্ক তার কাঁধে হাত রাখল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "ফা*ক ব্রো, আর ইউ কিডিং আস?"
ব্লাডশেড বাঁকা হাসিতে উত্তর দিল, "ইয়েস।"
অবস্কিউর চোয়াল শক্ত করে বলল, "সৃষ্টিকর্তা আমাদের শুধু গড়েছেন, কিন্তু আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলো আমরা নিজেরাই গড়ে তুলেছি। কোনো রাইটার আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না; বরং আমরা তার কলম হয়ে তারই গলায় গেঁথে যেতে পারি।"
ব্লাডশেড ব্যঙ্গমিশ্রিত বিকৃত হাসি ছুঁড়ে বলল, "দ্যাটস আ ফ্যাক্ট। হাউএভার, ফিস্ট তো সাজানোই আছে, এখন কেবল মুখে ঢোকানো বাকি।"
তাদের চোখে চোখে নীরব সংকেত চালাচালি হলো। তিনজনে একসাথে গাড়ির দিকে ফিরল, যেখানে শাহানার নি'থর দেহ অবিন্যস্ত ভঙ্গিতে ছড়িয়ে রয়েছে। অবস্কিউর এগিয়ে গিয়ে লা*শটা কাঁধে তুলে নিল। এদিকে ব্লাডশেড নিপুণ দক্ষতায় রাস্তাটা স্যানিটাইজ করার কাজে লেগে পড়ল।
ঠিক তখনই ডার্ক গম্ভীর গলায় বলল, "অত কষ্টের দরকার নেই। পুলিশ অলরেডি আঁচ করেছে আমরা এখানে ছিলাম। বুঝে নেবে, এই মেয়ে আর অফিসারকেও আমরা ইরেডিকেট করেছি। সো, ইনস্টেড অফ ওয়েস্টিং টাইম, লেটস চেরিশ দিজ মোমেন্ট।"
তারা শাহানার লা*শ নিয়ে রওনা দিতে যাবে, তখনই ব্লাডশেড শীতল দৃষ্টিতে পেছনে তাকাল। মাটিতে জমাট র*ক্ত হয়ে আছে, যেখানে ডার্কের কাঁধেরও র*ক্ত পরে আছে। কঠোর কণ্ঠে ব্লাডশেড বলল, "Hold on!"
অবস্কিউর কপাল ভাঁজ করল। ডার্ক সরু চোখে বলল, "What now?"
"লা*শ থেকে গেলেও ক্রাইমসিন ক্লিন করা মাস্ট দরকার। এক ফোটা ব্লাডস্প্যাটারও থাকলে ট্রেস হতে বেশি সময় লাগবে না।"
ডার্ক ও অবস্কিউর এক মুহূর্তের জন্য চুপ থেকে ব্লাডশেডের ইঙ্গিত বুঝে নিল। অবস্কিউর লা*শটা কাঁধ থেকে নামিয়ে কিছুক্ষণ পর হাই-প্রেশার পাম্প নিয়ে ফিরল। জলরাশি লাল র*ক্তের ওপর ঝরে পড়ল। ঠান্ডা পানিতে পুরো জায়গা পরিষ্কার করে দিল। ব্লাডশেড পকেট থেকে ব্লিচ বের করে চারপাশে ছড়িয়ে দিল, যেন কোনো লাতেন্ট প্রিন্ট, ডিএনএ ট্রেস বা মাইক্রোফাইবার না থাকে।
সব কাজ নিখুঁতভাবে শেষ করে তারা পলাশের কিম্ভূতকায় ছি'ন্ন দেহটাকে ওখানেই রেখে দিল। এরপর পুলিশের গাড়িটাকে উন্মত্তভাবে ভেঙে চুরমার করে নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দিল। এখন আর তাদের বিরুদ্ধে কোনো ট্যাংগিবল এভিডেন্স নেই।
অবস্কিউর অদ্ভুতভাবে হেসে বলল, "আমাদের সিগনেচার না রাখলে তো নীতির অপমান হবে।"
সে ব্লেড বের করে পলাশের মৃ'তদেহের গো'পনা'ঙ্গের উপর কে*টে লিখল ‘OWL’, আর পাশে তাদের কুখ্যাত সেই বিষাক্ত চিহ্ন আঁকতেও ভুলল না।
উঠে দাঁড়িয়ে সে র*ক্তমাখা হাত রুমালে মুছতে মুছতে বলল, "Let’s baffle the cops one more time."
তাদের তিনজনের বিকৃত অট্টহাসি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এরপরই সেই অপবিত্র আয়োজনের অন্তর্গত অধ্যায় শুরু হলো। তিনজন মিলে শাহানার নিথর দেহটাকে গাড়ির ট্রাঙ্কে ঠেসে ঢুকিয়ে দিল। তারা গাড়িতে আসীন হয়ে ইগনিশনে স্পার্ক জ্বালাল, অতঃপর ধ্বংসমুখর পথচলায় প্রবৃত্ত হলো। কিছু ঘণ্টা পর সেই ‘নিষিদ্ধ শাশ্বত’ অরণ্যের গহীনে ঢুকে পড়ল। চারদিকে ঘন কালো অন্ধকার। কোথাও একটা পশুর ডাকও নেই। কেবল তাদের পায়ের শব্দ শোনা যাচ্ছে। আশপাশ থেকে ভেজা পাতা আর মাটির গন্ধ ভেসে আসছিল। গাছের শিকড়গুলো মাটির উপর জট পাকিয়ে পড়েছিল।
তারা সেই নির্জন বেসমেন্টের ভেতর ঢুকল। চারদিকে স্যাঁতসেঁতে দেয়ালে ছত্রাকের দাগ দেখা গেল, ছাদের ফাঁকফোকর বেয়ে জল চুঁইয়ে পড়ছে। তারা টেবিলের ওপর শাহানার লা'শ'টা রাখল। মুহূর্তের মধ্যে তিনজনে একসাথে তার পোশাক ছিঁ'ড়ে ছিন্নভিন্ন করে দিল। কাপড়ের ফালি ফালি হয়ে মেঝেতে পড়তে থাকল। শাহানার মৃ*তদেহ এখন সম্পূর্ণ ন'গ্ন, তার ত্বকে ম্লান ঔজ্জ্বল্য ছড়িয়ে পড়েছে। যা দেখে তার দেহের প্রতি নরপিশাচদের ক্ষুধা আরো বেড়ে চলল।
ডার্ক, অবস্কিউর আর ব্লাডশেড তিনদিক থেকে মৃ'ত'দেহটাকে ঘিরে ধরল। তাদের চোখের মণিতে পিউপিল প্রসারিত হলো। তাতে শুধুই বিকৃত কামনা আর নৃশংস ক্ষুধা স্পষ্ট। ডার্কই প্রথম শিকারির মতো ঝাঁপিয়ে পড়ল। তার ধারালো, হিংস্র দাঁত শাহানার কাঁধের পেশিতে গেঁথে গেল। একসাথে ছাল, চর্বি আর মাংস ছিঁড়ে আনল। উষ্ণ র*ক্তের ধারা ডার্কের ঠোঁট বেয়ে নামতে থাকল, সে তৃপ্তির সাথে সেই র*ক্ত চেটে খেল। তারপর বারবার কামড়াতে থাকল শাহানার ঘাড়, গলা। প্রতিটি কামড়ে সে দাঁত দিয়ে মাংস ছিঁ*ড়ে আনছিল, আর তার সাথে গরম র*ক্ত মেঝেতে ঢলে পড়ছিল।
অবস্কিউর আর ব্লাডশেডও পিছিয়ে নেই। অবস্কিউর নিচে শাহানার বাম স্ত*নে*র ওপর নেমে এলো। তার চোখ দুটোতে উন্মুক্ততা জ্বলজ্বল করছিল। সে নখ দিয়ে ক্ষত তৈরি করতে লাগল, তারপর সেই ক্ষত থেকে র*ক্ত চুষে খেল।
ব্লাডশেড তখন শাহানার নাভির কাছে নেমে এলো। ঠান্ডা আঙুলের মৃদু স্পর্শে দেহটাকে অনুভব করে নিচ্ছিল। এরপর সে ছু*রি চালিয়ে শাহানার পেটের চামড়া ফুঁড়ে খুলে ফেলল। গরম অন্ত্র, পাকস্থলী বেরিয়ে এলো। আর অবস্কিউর সেই নরম, ভিজে দেহঅঙ্গ হাতে তুলে নিল। কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করল, তারপর সেই ভেজা মাংস মুখে পুরে নিল। তার দাঁতের ফাঁক দিয়ে র*ক্তের স্রোত গড়িয়ে পড়ল।
ডার্ক হেসে তৃপ্ত গলায় বলল, "Even her lifeless form fascinates me. I’m hopelessly hooked."
অবস্কিউর শাহানার মুখের দিকে তাকিয়ে তার চোখের ওপর চুমু খেল। তারপর ঠান্ডা গলায় বলল, "Let’s hollow her out, and leave nothing for the worms."
সে এক হাতে শাহানার পাঁজরের কাছে চামড়ার নিচের মাংস খামচে ধরল। ধীরে ধীরে ত্বক ছিঁ*ড়ে তুলতে থাকল। মুহূর্তেই চামড়ার ফাঁটল ধরে গা গুলানো উষ্ণ র*ক্তের ফোয়ারা ছুটে বেরিয়ে এলো, যা ছিটকে গিয়ে অবস্কিউরের মুখমণ্ডল লাল করে দিল। অবস্কিউর হিংস্র জা'নো'য়ারের মতো লাফিয়ে উঠে শাহানার পেটের উপর বসল।
প্রথমে সে ডান স্ত*ন*কে হালকাভাবে স্পর্শ করল। মুহূর্তেই মুখ নীচু করে স্ত*নে*র উপর ঠোঁট ডুবিয়ে দিল। তারপর হঠাৎই বীভৎস তীব্রতায় কা*মড় বসাল। তীক্ষ্ণ দাঁত দিয়ে মাংস ছিঁ*ড়ে ফেলল, স্ত*নে*র গোলাকৃতি সৌন্দর্য চূর্ণ হয়ে মাংসের দলায় পরিণত হলো। র*ক্ত ফেনিয়ে উঠে অবস্কিউরের গাল, গলা আর বুকে ছড়িয়ে পড়ল। সে চোখ বন্ধ করে, ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি এনে সেই গরম র*ক্তকে উপভোগ করল। অন্যদিকে এক হাতে তীক্ষ্ণ নখ দিয়ে পাঁজরের মাংস খোঁড়াতে লাগল, ফেটে যাওয়া ক্ষত থেকে কালো র*ক্ত ঝরতে লাগল।
ডার্ক তখন নিজের কোমরের বেল্ট খুলে ফেলল। তার শ্বাস ফোঁস ফোঁস করছে। মৃ*তদেহের ঊরু দু’পাশে ঠেলে সে নিষিদ্ধ নারকীয় সংসর্গে প্রবেশ করল। ডার্ক ক্ষুধার্ত জা'নো'য়ারের মতো ক্রমাগত আঘাত হানছিল। ঘাম, মৃ'তদেহের পচা গন্ধ আর লালার দম বন্ধ করা দুর্গন্ধে উন্মাদ সে। কাঁপতে কাঁপতে একের পর এক দফায় ধাক্কা দিতে থাকল। শাহানার মৃ*তদেহের নরম অংশ বারবার ফেটে গিয়ে র*ক্ত আর শ্লেষ্মা বেরিয়ে তলপেট ভিজিয়ে দিল। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেই পা'গলাটে উন্মত্ততা চালিয়ে যেতে লাগল। ডার্কের কপাল থেকে টপ টপ করে ঘাম শাহানার খোলা বুকের উপর পড়তে থাকল।
অন্যদিকে ব্লাডশেড শাহানার মুখের কাছে গিয়ে তার ঠোঁট চুষতে শুরু করল। চুষতে চুষতে হঠাৎই কাম'ড়ে ছিঁ*ড়ে নিল। কা*টা ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে গাঢ় র*ক্ত গড়িয়ে পড়ল। সেই র*ক্ত ঢেউ খেয়ে গড়িয়ে চলল বক্ষের খাদের ভেতর দিয়ে পেট অবধি, তারপর মেঝের ওপরে ছিটকে পড়ল। একবার সে তৃপ্তির শ্বাস নিল। ব্লাডশেড বিকৃত হাসি নিয়ে শাহানার জিভ কা'মড়ে ছিঁ*ড়ে নিল। সেই র*ক্তমাখা কা*টা জিভটি নিজের হাতে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল, তারপর থুতু ফেলে মেঝেতে ছুঁড়ে মারল। মেঝেতে সেটা পড়ে কাঁপতে কাঁপতে স্থির হলো, লাল আঠালো লালা চারপাশে ছড়িয়ে গেল।
ডার্ক হেসে উঠল। সে শরীর সরিয়ে উঠতেই ব্লাডশেড শাহানার উন্মুক্ত যৌ*না*ঙ্গে*র কাছে মুখ নিল। সরাসরি তার নরম অংশে তীক্ষ্ণ দাঁত বসিয়ে দিল। কাম'ড়ের সাথে সাথে হিমেল দেহ থেকে উষ্ণ র*ক্ত গড়িয়ে তার মুখ ভিজিয়ে দিল।
অন্যদিকে অবস্কিউর ধীরে ধীরে নিজের প্যান্টের জিপ খোলার শব্দ তুলল। তারপর সে তার উগ্র লি*ঙ্গ বের করে আনল। র*ক্ত আর ঘামের গন্ধে লালসা এমনিতেই বেড়ে উঠেছিল। শাহানার নিথর মুখের চোয়াল মুষ্টি করে চেপে ধরল, জোর করে ঠোঁট ফাঁক করে দিল। সে শাহানার মস্তক মুঠো করে ধরে মুখের ভেতর ঠেলে তার কঠিন, শিরাভরা অঙ্গ ঢুকিয়ে দিল। তারপর শাহানার চুলের মুঠি চেপে ধরে ওঠানামা শুরু করল। তার চোখ আধবোজা, কপাল বেয়ে ঘাম গড়িয়ে পড়ছে। মাথা পেছনে হেলে দিয়েছে, নাকে-মুখে র*ক্তের গন্ধে মত্ত সে।
এদিকে ব্লাডশেডের চোখ কেমন লালচে, লেলিহান শিখা জ্বলছে তাতে। তার বুক ভারীভাবে ওঠানামা করছে। গরম ঘামে তার গা ভিজে গেছে, চুলগুলো স্যাঁতসেঁতে হয়ে কপালের গা ঘেঁষে লেগে আছে।
সে আর কোনো বিলম্ব করল না। নিজের সমস্ত কাপড় ছিঁড়ে ফেলল, উন্মুক্ত হয়ে সেই নিথর দেহের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। মৃ*তদেহের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ ও বিকৃত শারীরিক মেলামেশায় মগ্ন হয়ে গেল।
একসময় ব্লাডশেড শিরা-উপশিরায় ফেঁপে থাকা অঙ্গটা সরিয়ে নিল, তাতে গাঢ় র*ক্তের দাগ লেগে ছিল। তারপর নিশ্বাস ফেলে তৃপ্তিমাখা হাসল। কিন্তু পরমুহূর্তেই সে হিংস্র হয়ে উঠে শাহানার উদরের কাছে ঝুঁকে পড়ল। তার ধারালো দাঁত দিয়ে বাম পাশের উদরের মাংস কাম*ড়ে ছিঁ*ড়ে নিল। সেই কামড়ের তীব্রতায় র*ক্তের উষ্ণ ধারা বেরিয়ে তার মুখ ভিজিয়ে দিল, দাঁতের ফাঁক গলে গড়িয়ে পড়তে লাগল গলা বেয়ে বুকে। তার দাঁতে ছোট ছোট মাংসের আঁশ আটকে রইল।
তাদের তিনজনের মুখ তখন কেমন বীভৎস নেশানিতে ছায়াচ্ছন্ন। মনে হবে, তিনটি ক্ষুধার্ত শয়তান।
একসময় অবস্কিউর গভীর এক শ্বাস ফেলল। তার চোখ তখন আবেশে ভরা। শাহানার মুখ থেকে নিজের অঙ্গ বের করে আনল। মৃ*ত মুখের কোণ দিয়ে লালা মিশ্রিত র*ক্ত গড়িয়ে গলায় নামতে লাগল। সে শাহানার মাথাটা ছেড়ে দিল। নিথর, ফ্যাকাশে মাথাটা হেলে পড়ে, মৃ*ত চোখ দুটো এক দৃষ্টিতে শূন্যের দিকে তাকিয়ে রইল।
শাহানার কে*টে নেওয়া ঠোঁটে র*ক্তমাখা আঙুল বুলিয়ে অবস্কিউর বলল, "Every part of a woman is hauntingly gorgeous."
সে কদর্য হাসি হেসে শাহানার যো*নি*র কাছে মুখ নামালো। ঠোঁট ছুঁয়ে একবার চুষে নিল লেবিয়াকে। লেবিয়ার মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে লাল হয়ে কাঁচা হয়ে গেছে, র*ক্ত আর লাল লালা মিশে সেখানকার চামড়া ভিজিয়ে ফেলেছে। ক্ষতগুলো থেকে ক্রমাগত গাঢ় র*ক্ত বেরিয়ে এসে শাহানার ঊরুর ভাঁজে ছড়িয়ে পড়ছে, চুঁইয়ে চুঁইয়ে গিয়ে জমছে নিচে। কিছু জায়গা থেকে মাংসের কাটা খণ্ড পড়ে ঝুলে আছে, হয়ত এখনই পড়ে যাবে। কিন্তু হঠাৎই অবস্কিউরের চোয়াল শক্ত হয়ে গেল। সে বিকট কামড়ে ছিঁড়ে নিল যৌ*না*ঙ্গে*র নরম মাংস। র*ক্তের গরম স্রোত বেরিয়ে এসে তার মুখ ভিজিয়ে দিল। তারপরে ঠোঁট বেয়ে নেমে এলো গলায়, সেখান থেকে বুকে। সে সেই কা*টা অংশটাকে মুখে নিয়ে চুষতে চুষতে দাঁত দিয়ে চিবোতে লাগল। মুখের ভেতর মাংস থেঁতলে গেল। জিভ দিয়ে র*ক্ত চেটে খেয়ে নিল। সেই উষ্ণতা তাকে আরও উন্মত্ত করে তুলল।
এরপর সে একদম ক্লি*ট*রি*সে নেমে এলো। প্রথমে জি'ভ চালিয়ে চু'ষে নিল। এক দমে দাঁত দিয়ে ক্লি*ট*রি*সটাকে ছিঁ'ড়ে আনল। মাংসের সেই ক্ষুদ্র, সংবেদনশীল টুকরোটা তার দাঁতের ফাঁকে লটকে রইল। সে সেটাকে কয়েকবার জি'ভে উল্টে পাল্টে চেখে নিল, তারপর অবজ্ঞার সাথে শাহানার লাশের বু'কে ছুঁড়ে ফেলল।
কিন্তু ডার্ক যেন সেই তৃপ্তির জন্যই অপেক্ষা করছিল। সে দ্রুত এগিয়ে এসে সেই ছেঁড়া ক্লি*ট* তুলে মুখে পুরল। তারপর দাঁতে দাঁত ঠেকিয়ে চাবাতে চাবাতে কচমচ শব্দ তুলল। তার চেহারায় তখন বিকৃত তৃপ্তির আবেশ খেলা করল। চোখ নিমীলিত। মনে হচ্ছে, সে কোনো সুস্বাদু খাবার খাচ্ছে।
কিন্তু এতকিছুতেও তাদের কা'মনা থামেনি। ডার্ক র*ক্তাক্ত মুখে শ্বাস টেনে বলল, "উঁহুঁ, আমার উ'ত্তে'জনা কমছে না। এই লা'শ... ও তো এখন অকেজো, ও আমার তৃষ্ণা মেটাতে অক্ষম।"
এই বলে সে কোমর সোজা করল। তারপর শাহানার কোমর থেকে সরাসরি বুকে এক প্রবল কো*প বসিয়ে দিল। তীক্ষ্ণ ছু*রির ফলা পাঁজর কেটে শব্দ তুলল। খানিক চেষ্টার পর বুকের হাড় ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেল, ভেতরের গরম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উন্মুক্ত হয়ে পড়ল। গাঢ় লাল র*ক্তের স্রোত সেই ফাঁক দিয়ে মেঝেতে ঢলে পড়ল।
ডার্ক হাত গলিয়ে বুকের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। তার আঙুলের নখ হার্টের কোমল গহ্বর চেপে ধরল। তারপর সে একটা টান দিয়ে হৃৎপিণ্ডটা ছিঁ*ড়ে বের করে আনল। ডার্ক বিকৃত দৃষ্টি নিয়ে হেসে বলল, "আমি ওর হার্ট নিয়ে একটু খেলতে যাচ্ছি। তোরা বাকিটা সামলাস।"
র*ক্তমাখা হাতের মুঠোয় হৃৎপিণ্ডটা নিয়ে সে ধীরে ধীরে সামনে আগাতে থাকল, তার পায়ের নিচে জমে থাকা র*ক্তে ফচফচ শব্দ হলো।
মৃ'তের পাশে তখন বসে থাকা ব্লাডশেড বলল, "আমি জাস্ট ওর কলিজাটা দেখতে চাই। কোন সাহসে এই মেয়েটা তোর ডান কাঁধে গু'লি করেছিল?"
তার হাত তখন ইতোমধ্যেই পেটে গিয়ে ঢুকেছে। ভেতর থেকে গলগলে গরম কলিজা হাত ভিজিয়ে দিচ্ছে। ব্লাডশেড তাতে হাত ঘুরিয়ে মাংসের শিরা-উপশিরার সিক্ততা অনুভব করছিল।
ডার্ক তখন দরজার কাছে পৌঁছে থমকে দাঁড়িয়ে কঠিন চোখে বলল, "That's why I gotta mess with her heart. Anyway, I'm on my way home. Peace out, bro!"
অবস্কিউর তখন শাহানার ক্ষতবিক্ষত যৌ*ন*দ্বার থেকে মুখ তুলল। তার ঠোঁটের কোণায় লালচে র*ক্তের ফেনা জমে ছিল। সে নোংরা তৃপ্তি নিয়ে জিভ বের করে চেটে বলল, "ওকে, ইয়ার।"
ডার্ক বাহিরে গিয়ে গাড়ির দরজার লক টিপে গাড়ি স্টার্ট দিল। নিস্তব্ধ রাতে গাড়ির শব্দ মিলিয়ে গেল। তখন সেই ঘরে থেকে গেল কেবল ব্লাডশেড আর অবস্কিউর।
কিন্তু হঠাৎই ঘরের বাইরের পাথরের ফ্লোরে টপ টপ টপ ভারী হিলের শব্দ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো। ব্লাডশেড আর অবস্কিউর সাথে সাথে চঞ্চল হয়ে গেল। দুজনের চোখ মিলে গেল, আর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে ইশারায় একে অন্যকে সাবধান করল। ব্লাডশেডের হাত গিয়ে ছু*রি স্পর্শ করল। অবস্কিউর তখনই টেবিল থেকে চাপাতির মোটা হাতল শক্ত করে ধরল। তারা চোয়াল শক্ত করে একে একে নিজেদের গায়ে ট্রাউজার গলিয়ে নিল।
ঘরের আধো অন্ধকারে হঠাৎই একটি নারীমূর্তি স্পষ্ট হয়ে উঠল। দেয়ালে অনায়াস ভঙ্গিতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। তার পরনে ম্যাট ব্ল্যাক বডি-হাগিং লেদার স্যুট, যা তার শরীরের প্রতিটা ধারালো ভাঁজকে নিখুঁতভাবে স্পষ্ট করে তুলছে। পায়ে র'ক্তলাল হাই স্টিলেটো হিল। সোজা কালো চুলের নিচের অংশটা টকটকে লাল রঙে চুবানো। মুখজুড়ে পরা ম্যাট সাদা গাই ফক্সের হাসিমাখা মাস্ক। তার বাম হাতে ধরা ছিল কালো কম্পাউন্ড ধনুক। পিঠে ঝুলছিল সারি সারি তীরে ঠাসা কালো কুইভার। সে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে মাস্কের ফাঁক দিয়ে ঠিক ওদের দুজনের বুক লক্ষ্য করছিল। তার ঠোঁট ফাঁক হয়ে তীক্ষ্ণ হাসি ফুটল। সে সম্মোহনী গলায় বলল, "Two hot, s'ex'y ra'pists? Kinda messed up, but I’m into it."
ব্লাডশেড একটু সামনের দিকে এগিয়ে এলো। কড়া চোখে তাকিয়ে ঠান্ডা স্বরে বলল, "জেনেশুনে বাঁশ বাগানে বোধ হয় এই প্রথম কোনো মেয়ে পা রাখল। ওয়েলকাম, ডার্লিং।"
অবস্কিউর এগিয়ে গিয়ে চাপাতি হাতের আঙুলে ঘুরিয়ে সামনে নিয়ে এলো। ঠান্ডা চাপাতির ফলা মোমের আলোতে চিকচিক করে উঠলো। সে ঠোঁটে অর্ধেক হাসি ফুটিয়ে বলল, "খাবার যেহেতু নিজে থেকেই হাজির হয়েছে, তাকে একটু যত্ন করা উচিত।"
তখনই হঠাৎ আর.এ নিজের মাস্কের দুটি দড়ি ধরে হালকা টান দিয়ে খুলে ফেলল। মাস্ক নিচে পড়তেই তার আসল মুখ দেখা গেল। তার চক্ষুদ্বয় শীতল, আর অধরদ্বয় লাল লিপস্টিকে মোড়ানো। ব্লাডশেডের মুখ সাথে সাথে কুঁচকে গেল, নাকের পাঁজর দুলে উঠলো। মেয়েটি হালকা মাথা কাত করে মুচকি হাসল। কঠিন স্বরে বলল, "আমি তোমাকে চিনি, ব্লাডশেড। তবে এটা যে তোমার রিয়েল নাম না, সেটাও জানি। আর ‘OWL’ এর মানে কি, তাও অজানা নয়।"
মেঝের র*ক্ত তখন আর. এ-এর লাল হিলের নিচে চপচপ করে শব্দ তুলছিল। হিল সরাতেই তলা থেকে ফোঁটা ফোঁটা র*ক্ত গড়িয়ে পড়ল।
ব্লাডশেড এবার তীক্ষ্ণ হাসি দিল। তারপর গভীর কণ্ঠে বলল, "সে তো আমিও তোমাকে চিনি।"
_______
ঘুমের আবেশে মিরা ক্ষীণভাবে নড়েচড়ে উঠলো। অবচেতনেই হাত বাড়িয়ে পাশে রাখতেই আঙুলের অগ্রভাগে শূন্যতা ঠেকল। কপাল কুঁচকে আধো ঘুমে চোখ মেলল সে। তপ্ত নিশ্বাসে বুক উঠানামা করছে। অন্ধকারে চোখ কিছুই ধরতে পারছে না। হাতড়ে হাতড়ে কারানের গায়ের খোঁজ নিতে লাগল। কিন্তু কোথাও নেই সে। তৎক্ষণাৎ টেবিলের বাতি জ্বালিয়ে নিল।
বিছানার অন্য প্রান্তে তাকিয়ে দেখল, সযত্নে চাদর ভাঁজ করে রাখা হয়েছে। অজানা আশঙ্কায় হঠাৎই মিরার নিশ্বাস ক্রমশ ঘন হয়ে এলো।
শুষ্ক কণ্ঠে মিরা ডাকল, "কারান... কারান, কোথায় তুমি?"
মিরা গায়ে চাদর জড়ানো অবস্থায় বিছানা থেকে উঠলো। ওয়াক ইন ক্লোজেট থেকে তড়িঘড়ি করে একটা পাতলা শাড়ি টেনে গায়ে চড়িয়ে নিল। ধীর পায়ে বাথরুমের দিকে এগিয়ে গেল। দরজার হাতল টিপে ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই জলপাত্র থেকে টুপটাপ করে জল পড়ার শব্দ কানে এলো। সেই শব্দে তার ভেতরটা কেমন করে উঠলো।
চারপাশে চোখ বুলিয়ে বলল, "এখানেও নেই।"
তার কপাল ভাঁজ হয়ে এলো। হালকা সন্দেহভরা গলায় আপন মনে বলল, "এত রাতে হঠাৎ কোথায় উধাও হলে তুমি?"
অস্থিরভাবে বাথরুম থেকে বেরিয়ে সরাসরি টেবিল থেকে ফোন তুলে নিল। সাড়া পাওয়ার আশা নিয়ে কল করতেই পাশের কক্ষ থেকে রিংটোন ভেসে এলো। পায়ের তলে ঠান্ডা টাইলসে টুক টুক শব্দ তুলে সেদিকে এগোল। দরজা ঠেলেই দেখল ফোনটা টেবিলের ওপর অবহেলায় পড়ে আছে। কিন্তু কারান নেই।
মিরা কারানের ফোনটা হাতে তুলতেই পর্দায় ভেসে উঠল নিজের নাম, ‘My Queen Victoria.’ যা দেখে তার ঠোঁটের কোণে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মুচকি হাসি ফুটে উঠলো। বুকের গভীরে কেমন উষ্ণ ঢেউ খেলে গেল। অথচ পরমুহূর্তেই হৃদয় আবার অস্থির হয়ে উঠলো।
"ফোন তো এখানে, তাহলে ও কোথায় গেল?"
মিরা শুকনো ঢোক গিলল। শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। ফোনটা শক্ত করে হাতের মুঠোয় নিয়ে সিঁড়ি ধরে নেমে এলো। একতলা, দোতলা, তিনতলা করে প্রতিটি কক্ষের দরজা ঠেলল।
ছাদে উঠে চারপাশে তাকালো। দূরের শহরের আলো ক্ষীণ দেখা গেল। চাঁদটাও আজ বড় নিস্পৃহ। কিন্তু কোথাও কারান নেই।
হঠাৎ ভয়ংকর এক কল্পনা মাথায় এলো— কারানের কিছু হয়ে গেল না তো? মিরা দুই হাতে মাথা চেপে ধরল। চোখের কোণে অশ্রুর কণা স্পষ্ট হয়ে উঠলো। দ্রুত দু'পাশে মাথা নেড়ে নিজেকে সামলাতে চাইল। কাঁপা গলায় নিজেকেই ধমক দিয়ে বলল, "বোকা মিরা, কিসব ভাবছিস! কিছু হয়নি, কিচ্ছু হয়নি। না না, কিছুই হয়নি!" কিন্তু তার ভিতরকার কণ্ঠস্বর কেটে কেটে বলে যাচ্ছিল, "তবু যদি কিছু..."
মিরা আবার সিঁড়ি বেয়ে নামল। হলঘরের বিশাল দেয়ালের ঘড়ির কাঁটায় রাত চারটা ছুঁতে চলেছে। সেই টিকটিক শব্দ যেন ঘরের নিস্তব্ধতায় ভয়ংকর ঠেকছিল। চারপাশের আসবাব, ঝুলন্ত পর্দা সবকিছুই কেমন যেন অস্বস্তিকর অনুভূতি দিচ্ছিল।
ফোনের স্ক্রিনে আবার চোখ রাখল। ভাঙা গলায় ফিসফিসিয়ে বলল, "কারান... কোথায় তুমি?"
তৃতীয় তলার করিডোর পেরিয়ে মিরা আরেকবার প্রতিটি কক্ষের কোণা-প্রান্ত তন্ন তন্ন করে খুঁজল। বুকের ভিতর হু-হু করা শূন্যতা কেবলই আরও ভারী হয়ে উঠছিল।
এরমধ্যেই হঠাৎ করেই মস্তিষ্কের কোষে শানিত হয়ে কারানের সেই রহস্যময় গোপন কক্ষের কথা ভেসে উঠলো। কপালের ভাঁজ আরও সূক্ষ্ম হলো। ওখানেই হয়ত সে আছে!
মিরা ঘুরে তিনতলা থেকে সিঁড়ির দিকে পা বাড়াতে যাবে, তখনই অকস্মাৎ সেই যান্ত্রিক দেহধারী এ্যারোনের কথা মনে পড়ল। রোবটটি সবসময় কারানের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকত। সম্ভবত ওর কাছ থেকে কিছু জানা যাবে।
মিরা তৎক্ষণাৎ দিক পাল্টাল। লম্বা করিডোর পেরিয়ে এক ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ল, এ্যারোন নিস্তব্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। মিরা এগিয়ে গিয়ে কাঁপা হাতে রোবটের শীতল বর্ম ছুঁয়ে বলল, "এ্যা-এ্যারোন, কারান কোথায়?"
কিন্তু কোনো সাড়া পেল না। মিরা এবার তার ঠান্ডা ধাতব বাহু দু’হাতে আঁকড়ে ধরল। দম আটকানো গলায় বলল, "কারান কোথা..."
কথা শেষ করার আগেই দেখতে পেল, রোবটটি ডিঅ্যাক্টিভেট মোডে রাখা। চোখের লেন্স নিস্তেজ হয়ে নীল আলো নিভে গেছে।
মিরার কপালের রেখা আরও গভীর হলো। ভয়টা যেন বেড়েই চলেছে! এ অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকা বৃথা, তাই সোজা বেরিয়ে গেল। করিডোরে পা রেখেই নীচের দিকে চোখ পড়ল।
সেখানে দৃশ্যটি দেখে তার দেহে যেন প্রাণের জোয়ার ফিরে এলো। দেখল, কারান দরজার ভেতর দিয়ে ঘরে ঢুকছে।
বুকের উপর হাত রেখে সে তৃপ্তির দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। চোখে-মুখে উদ্বেল হাসি খেলে গেল। মুচকি হাসি নিয়ে সে এগিয়ে যাবে, ঠিক তখনই কারানের ডান কাঁধে দৃষ্টি স্থির হলো।
সেখানে শার্ট ছিঁড়ে গেছে। গাঢ় লাল র*ক্ত তুষারশুভ্র মার্বেলের মেঝের ওপর ছোট ছোট বিন্দু হয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। সম্ভবত গুলিবিদ্ধ অথবা ছুরিকাঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
মিরার দৃষ্টি ছলকে উঠল। গলা দিয়ে করুণ আর্তি বেরিয়ে এলো, "কারান, কী-কী হয়েছে তোমার?"
কারান থমকে দাঁড়াল। তৃতীয় তলার করিডোরের দিকে দৃষ্টি তুলল। মিরার চোখের সাথে চোখ পড়তেই তার মুখের রেখাগুলো বিস্ময়ে স্থবির হয়ে গেল।
আর মিরারও গলা শুকিয়ে এলো। কারণ তার চোখ নেমে গেল কারানের হাতের তালুতে।
কারান ডান হাতে একখানা মানুষের হৃৎপিণ্ড শক্ত করে ধরে আছে। সেই কাঁচা, ভেজা ধকধকে মাংসপিণ্ডের থেকে ফোঁটায় ফোঁটায় র*ক্ত ঝরছিল। কারানের আঙুলের ফাঁক দিয়ে র*ক্তের ধারা গড়িয়ে হাতের পিঠ বেয়ে কনুই থেকে ফোঁটা ফোঁটা করে মেঝেতে পড়ছিল।
মিরা স্তব্ধ হয়ে হা করে তাকিয়ে রইল। তার চোখ বড় বড় হয়ে গেছে, নিশ্বাস আটকে গেছে। তার মাথার ভেতরটা কেমন ঝিমঝিম করে উঠছে।
এদিকে কারানের চোখও বিস্ফোরিত। পা যেন মাটির সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে আটকে গেছে। গলার ভিতর থেকে কেবল অস্ফুট স্বর বেরিয়ে এলো, "মহারানি ভিক্টোরিয়া..."
_______
সেদিন সারা বিকেলটা ইলিজার সাথে বসে থেকে কত ঘণ্টা পার করেছিল কাব্য, তার হিসেব নেই। কাব্য ভেবেছিল, কয়েক মিনিটের জন্য বসেছে, অথচ পুরো বিকেল তার নরম হাসির উষ্ণতায় গলে গিয়েছিল।
ফিরে এসে দরজা বন্ধ করে যখন বিছানার প্রান্তে বসেছিল, তখনই মনে পড়েছিল প্রোগ্রামিং ল্যাবের প্র্যাকটিক্যাল জমা দেওয়ার শেষ তারিখ সেদিনই। প্র্যাকটিক্যাল ফাইলের সাথে কোডের স্ক্রিনশট, আউটপুটের প্রিন্টও জমা দিতে হবে। না হলে সেমিস্টারের মার্ক শিটে ইনকমপ্লিট উঠে যাবে। আর তখন পুনরায় সেই কোর্স করতে হবে, টাকার সাথে মানসিক নরকও পোহাতে হবে। তার ভিতর থেকে দীর্ঘ নিশ্বাস বেরিয়ে এসেছিল। মাথা ভার হয়ে গিয়েছিল। এক হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরেছিল। তার মতো ছাত্র, যে সবসময় লেকচারারদের চোখে বিনয়ী, পড়াশোনায় সর্বদা মনোযোগী, তার পক্ষে এটা সত্যিই অস্বস্তির ব্যাপার।
অনেক বিবেচনার পর উপলব্ধি করেছিল, এতো কর্মকাণ্ড এক দিনে সম্পন্ন করা অসাধ্য। ফলে সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের প্রভাষককে ফোন করে যুক্তিপূর্ণভাবে অবহিত করে স্বল্প অবকাশ প্রার্থনা করেছিল। তাই প্রভাষক কিঞ্চিৎ সহানুভূতি প্রদর্শন করে বলেছিলেন, "ঠিক আছে কাব্য, তোমাকে পারফেক্ট স্টুডেন্ট বলেই জানি। তবে এক জনের জন্য সময় বাড়ানো ঠিক না, তাই ক্লাসের সবার জন্য এক সপ্তাহ এক্সটেনশন দিচ্ছি।"
এই কথায় কাব্যের মুখে কৃতজ্ঞতার আভা ছড়িয়ে পড়লেও, অন্তরে সংকোচের সূক্ষ্ম শূল বিঁধে গিয়েছিল। বিষয়টি এই যে, জীবনে প্রথমবার সে এমন অনুরোধে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল।
আবার দুই দিন আগেই বাড়িওয়ালা এসে তার দরজার পাশে দাঁড়িয়েছিল। কাগজের নোটিশ বাড়িয়ে দিয়ে বলেছিল, "এই মাসের মাঝেই রুম খালি কইরা ফেলবা।"
কাব্য প্রথমে ভেবেছিল কোনো ভুল করেছে। কিন্তু সে তো মাসের প্রথম সপ্তাহেই ভাড়া মিটিয়ে দিয়েছিল। সবমসময়ই খাবার না খেয়েও টাকাটা ঠিক সময়ে দেওয়ার জন্য খরচ বাচিয়ে রাখে সে, কারণ মানুষের কটুকথা শুনলে তার আত্মসম্মানে আঘাত লাগবে।
সেদিন বাড়িওয়ালা গোঁফের ঘাম মুছতে মুছতে নির্লিপ্ত হাসি হেসে বলেছিল, "বুঝবার পারসো কাব্য, কয়দিন পর আমার ভাইগ্না আইবো। তারপরের থেইকা ওয় ওই ঘরেই থাকবো। জায়গা দরকার।"
তবে কাব্য জানত, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তার পাশের রুমের তপন-অরুনকে তো বলা হচ্ছিল না।
কাব্যও নাছোড়বান্দা। জিজ্ঞেস করেছিল, "কিন্তু আঙ্কেল, আপনার ভাগনে তো আর মেসে থাকবে না। বাকি ছেলেরা সবাই তো থাকছে, তাহলে আমার থাকায় সমস্যাটা কী?"
তখন বাড়িয়ালার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কেয়ারটেকার আমজাদের চোখের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, আর ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি অবলোকন করে কাব্য সবকিছু বুঝে গিয়েছিল। এই নোটিশটা আসলে মাস কয়েক আগের সেই ঘটনারই খেসারত। কয়েক মাস আগে এক রাতে, গেটের তালা খোলা নিয়ে ঝগড়ার সময় কাব্য রাগের মাথায় লোকটাকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিল। কাব্যের পাঁজরে শীতল স্রোত বয়ে গিয়েছিল। আপনমনে ভেবেছিল, "কেন জানি, আমার জীবনের সবকিছুই আমাকে এভাবেই ধাক্কা মেরে বের করে দেয়।"
সে আর কথা বাড়ায়নি। দীর্ঘ এক নিশ্বাস ছেড়ে চোখ বন্ধ করেছিল। বাড়িওয়ালা মুখ খুলে কিছু বলতে চাচ্ছিলেন, তার আগেই কাব্য শুষ্ক মুখে উচ্চারণ করেছিল, "আচ্ছা, ঠিক আছে।"
এই মাসে সে এক অতিরিক্ত টিউশনিতে জড়িয়েছে। যদিও অর্থের অভাব সরাসরি কুঁড়ে খাচ্ছিল না, তবে এখন থেকে ইলিজা তার জীবনসঙ্গিনী হতে চলেছে। প্রেমিকের দায়বদ্ধতা থেকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র উপহারও তো তাকে দিতে হবে। তাছাড়া ইলিজা যদি কোনোদিন নিজ মুখে কিছু আবদার করে বসে, তখন কি আর ‘না’ বলতে স্পর্ধা হয়? তার চেয়েও বড় কথা, একদিন তো ইলিজাকে বিবাহের পিঁড়িতেও বসাতে হবে; সেজন্য কিছু অর্থ সঞ্চয় করা অপরিহার্য।
ফলে আজ দিনভর তার অবস্থা ছিল ছুটোছুটি আর দমবন্ধ ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, টিউশন, হেঁটে যাওয়া-আসা—সব মিলিয়ে দিনের প্রায় সমস্ত প্রহরই নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখনো নিস্তার নেই; সামনে প্র্যাকটিক্যালের কাজ পড়ে আছে। তার উপর পরবর্তী মাসেই পরীক্ষা। সবকিছু একসাথে মিলে যেন তাকে নিঃশেষ করে দেওয়ার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
সে বহুক্ষণ ধরে ল্যাপটপের মনিটরে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে, অথচ সকাল থেকে এই পর্যন্ত পাকস্থলীতে এক কণাও অন্ন পড়েনি।
মাথায় তখনো বাড়িওয়ালার সেই নোটিশ নিয়েই ভাবনা চলছে। আর মনের মধ্যে দপদপ করছে ইলিজার আদল। তার সরল হাসি, স্নিগ্ধ মুখাবয়ব, কোমল কণ্ঠস্বর মনে পড়ায় অধরে শান্ত হাসি ফুটে উঠলো। কিন্তু তাতেও আজ স্বস্তি নেই। "কিছু মানুষ কেবল পছন্দের বইয়ের মতো; অজস্রবার পড়েও তৃপ্তি মেটে না। যেমন আমার ইলিজা। আর অন্যরা কেবল কাঁটা, অকারণে আঘাত করে র*ক্তাক্ত করে দেয় মন।"
কাব্যের চোখে বারবার ঘুমের ঢেউ আঁছড়ে পড়ছে। তবু সে জোর করে চোখ মেলে ডেস্কের দিকে তাকিয়ে বসে আছে। মাই এস কিউ এলের সিলেক্ট স্টার ফ্রম স্টুডেন্টস বারবার চালাচ্ছে, কিন্তু সার্ভার কানেকশনে বারবার ত্রুটি দেখাচ্ছে।
অতিরিক্ত চাপে মনে হলো, মাথার ভেতর যেন লোহার রড দিয়ে কেউ শব্দ করে পেটাচ্ছে। একবার মনে হলো, ল্যাপটপটাকে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিবে। কিন্তু সে জানে, এই প্রজেক্ট না দিলে সেমিস্টারের প্র্যাকটিক্যালে ফেল। সে আরেকবার ঠোঁট চেপে নিল।
পাশেই জানালার বাইরে কেমন গা-ছমছমে নীরবতা। দূরের হাইওয়েতে মাঝেমধ্যে লরি চলে যাওয়ার শব্দ ভেসে আসে। মাথার উপর ফ্যান ঘুরছে, কিন্তু সেকেন্ড হ্যাণ্ড আর অনেক পুরোনো হওয়ায় তেমন একটা বাতাস নেই। সদ্য স্নান করা তার শরীরেও আবার চিটচিটে ঘাম জমে গেছে।
এমনি সময়ে হঠাৎ ফোনের রিংটোন বেজে উঠলো। ঘুমের শূন্যতায় বিভোর কাব্য চমকে উঠলো। রাত চারটা বাজে। এত রাতে কে আবার কল দেবে?
স্ক্রিনে দেখা গেল শুভ্রের নাম। কাব্য কপাল উঁচিয়ে ক্লান্ত হাসি হেসে কল ধরল। ওপাশ থেকে প্রথমেই মূর্ধন্য কণ্ঠের কটু শব্দ ভেসে এলো, "খা*নকির পুত, মরছ তুই? কতগুলা মেসেজ দিছি তোরে!"
"রাইত চারটায় ফোন দিছোস; ধরছি এইটাই তোর ভাগ্য, হালা।"
"হুর, মামা। আমি ভাসি গাঙ্গে, মেজাজ আমার চাঙ্গে!"
কাব্য ভ্রূ কুঁচকে বলল, "কেন রে? কাহিনি কী?"
"আরাইফফা হালার প্র্যাকটিক্যালের এহনো দুই ভাগও কমপ্লিট করতে পারি নাই। ডাটাবেজে জয়েনস দেইখাই মাথা ঘুইরা যায়। মা'উ'গার পুতে বা'লের প্রজেক্ট দিছে! এইবার সিজিপিএ আমার হইবেনে। মামা, ওইদিকে মায়রে কইয়া আইছি, আমি হাই-টেক ইঞ্জিনিয়ার হমু।"
কাব্য হালকা হাসল। যদিও তার অবস্থাও তো ভিন্ন নয়। কাব্য আবার নিশ্বাস টেনে কোমর সোজা করল। গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "স্যাররে গালি পরে দিবি, এখন যা গিয়ে নিজের কাজ কর। আমারও তো সব উল্টায়ে পড়ে আছে।"
শুভ্র ঘাড় চুলকালো। বিনয়ী স্বরে বলল, "মামা, একটা হেল্প করবি?"
"কী হেল্প?"
"পাক্কা প্রমিস, তোরে পাঁচ হাজার টাকার এক টাকাও কম দিমু না। কইরা দে ভাই, নইলে আমার মা আমারে ঘর থেইকা আউট কইরা দিবে।"
কাব্যর বুকের মধ্যে টান পড়ল। পাঁচ হাজার টাকা! সে জানে, এই কটা টাকায় তার পেট চলবে, রাতে হোস্টেলের দারোয়ানের কাছে বাকির লিস্ট থেকে নিজের নামটা কেটে ফেলতে পারবে। কিন্তু তবুও ঠোঁট কামড়ে ঝাঁঝালো কণ্ঠে চেঁচিয়ে উঠলো, "হা*রামজাদা! তোকে সামনে পাইয়া নেই একবার! তুই কি আমারে টাকা দিয়া কিনতে চাস?"
ওপাশে শুভ্র কাঁচুমাচু গলায় হেসে বলল, "আরে আরেএএ... কাব্যের ছাও, তুই তো ভুল বুঝতাছোস। তুই তো শিল্পী ভাই। আর আমি তো শিল্পের একটুখানি মূল্যায়ন করতে চাইতাছি। এইটা কি খারাপ নাকি?"
কাব্য গলা ভারী করে বলল, "ঠিক আছে, পনেরো দিস। কইরা দিমু।"
শুভ্র খিলখিলিয়ে হেসে উঠল, "এইতো! সবে লাইনে আইছোস, হালারফো। এতক্ষণ ঢং মারাইলি ক্যান?"
কাব্য নিজের গলাটা আড়ষ্ট করেই রাখল। দরকার বড়ই নিদারুণ। এই দুনিয়ায় পেটের খিদে সব অহংকার গিলে খায়। তাছাড়া শুভ্র সুস্পষ্টভাবে অবগত কাব্য কেন স্বনির্ভরভাবে উপার্জন করে, তাই তার সামনে সংকোচ প্রদর্শন করে কোনো সার্থকতা নেই। আর সে তো পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ করবে, নিঃশুল্কে তো নয়।
ঠিক সেই সময় শুভ্র হঠাৎ বলল, "মামা, মিস ক্যালিস্তার কোনো খবর জানিস? মাইয়াটা কি এখনো আমার উপর রাগ কইরা বইসা আছে?"
শুভ্রের মুখে ইলিজার নাম শুনেই কাব্যের মুখের অভিব্যক্তি বিষাদমাখা হয়ে উঠলো। ইলিজা এখন তার, শুধুই তার; তাই সে চায় না অন্য কেউ তার সম্পর্কে এত কৌতূহল প্রদর্শন করুক। কিন্তু শুভ্র, সে তো বরাবরই ইলিজাকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড় তুলবে। তার কৌতূহল শুধু অনুধাবনের নয়, বরং গ্রহণের আকাঙ্ক্ষাও ছিল। কাব্য চোয়াল শক্ত করে মুখ বন্ধ রেখে ল্যাপটপে হাতের কাজ চালিয়ে গেল।
শুভ্র কিছুটা বিব্রত হয়ে উদাসীন স্বরে বলল, "কি রে? কিছু বলিস না যে!"
কাব্য গম্ভীর মুখে বলল, "রাগ থাকাটাই তো স্বাভাবিক, তাই না? আজও স্নেহার কথা মনে পড়লে আমার তোরে চটকানা দিতে ইচ্ছে করে।"
"ভাই, তুই অন্তত এমন কইরা কথা কইস না। কসম, আমি জানলে জিন্দেগীতেও ওদের আইতে কইতাম না।"
কাব্য নিশ্চুপ রইল। সে ভালো করেই জানে, এই স্নেহার প্রসঙ্গে ইলিজার চিত্তে গোপন বিষোদ্গার ঢেউ তোলে। যতই হোক, এখানে দায় একান্তই শুভ্রের। দায় নয়, প্রকৃতপক্ষে অন্যায়। যেখানে তার হৃদয়ে স্নেহার জন্য এক বিন্দু স্পন্দনও জাগেনি, সেখানে সে কী করে স্নেহাকে পার্কে আসার আশ্বাস দিল?
ওপাশে দাঁড়িয়ে শুভ্রের বুকের ভেতর যেন অপরাধবোধের শিকল গলা চেপে ধরলো। সে নিজের অবিমৃষ্যকারিতার ভয়ানকতা উপলব্ধি করল। তাই কণ্ঠের ভার কমিয়ে নরম সুরে বলল, "তারপর... তারপর কি স্নেহার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি?"
কাব্য দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে উত্তরে বলল, "নাহ।"
"কিহ! তাহলে ও কোথায় গেছে? মা'রা গেলেও তো লা'শ পাওয়ার কথা।"
কাব্যের কপাল কুঁচকে গেল। চিন্তার করুণ ভার মাথার ভেতরে ছড়িয়ে পড়ল, "ভালো কথা মনে করছিস। আসলেই তো! স্নেহা এখন কোথায়? আর ওর বাবা মায়েরও বা খবর কি?"
"শোন না মামা, আমরা কি কিছু করতে পারি?"
"আমরা তো আর কিছু করতে পারব না। তবেএএএ, তবে জা*নোয়ার পুলিশগুলারে ধরব কালকে। শোন, কাল কিন্তু তুই আমার সাথে থানায় যাবি। মনে থাকে যেন।"
"হুঁ, পাক্কা।"
"আচ্ছা, ফোন কাটলাম তাইলে। টেক্সটে কালকের সময় বলে দিব।"
"আচ্ছা। আর ইলিজার কথা তো..."
কিন্তু তার পূর্বেই কাব্য সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিল। কারণ ইলিজাকে কেন্দ্র করে অন্য পুরুষদের সাথে আলাপচারিতায় সে ন্যূনতমও আগ্রহান্বিত নয়।
অন্যদিকে শুভ্র হতবাক হয়ে গলা পাতলা করে বলল, "যাহ বাবা! থাক, সমস্যা নাই গা, কাল দেখা করে সরাসরি জিজ্ঞেস করে নিবনে।"
এদিকে কাব্যের মস্তিষ্কে হঠাৎই সেদিনের বিকেলের স্মৃতি জেগে উঠলো। ইলিজার সঙ্গে একসাথে হাঁটা, পাশাপাশি কথা বলা, বৃষ্টির জল গায়ে ছিটে পড়ার অনুভূতি, ইলিজার হাতের স্পর্শ পাওয়া, তার নরম পায়ে আলতো হাতে ছুঁয়ে দেওয়া; এই স্মৃতিগুলো মনকে মধুর আবেগে ভাসিয়ে তুলছে। সে ফোন থেকে ইলিজার ছবি বের করে একটার পর একটা দেখতে লাগল। একপর্যায়ে মেঝেতে একটি নরম বালিশ টেনে শুয়ে পড়ল। চোখ দুটো ছবির ওপর আটকে গেল। ছবিগুলো ধীরে ধীরে জুম করে দেখতে থাকল।
তার অনিন্দ্য শ্যামবর্ণ মুখমণ্ডলে মৃদুমন্দ হাসি ফুটে উঠলো। হঠাৎই অন্তঃস্থলে অদম্য আকাঙ্ক্ষা জাগল, ইলিজাকে একটি বার্তা প্রেরণ করা যাক। বলল, "এত রাতে তো মিস ইলি অনলাইনে থাকেন না জানি, কিন্তু আপনাকে ভীষণভাবে মিস করছি। ভীষণ। এই কয়েকটি দিন আপনাকে ছাড়াই কাটিয়েছি। প্রতিটি দিন যেন আমার কাছে এক যুগের সমান দীর্ঘ মনে হয়েছে। কিন্তু আপনাকে কল বা মেসেজ করলে যদি বিরক্ত বোধ করেন, সেই আশঙ্কায় সহস্রবার ইচ্ছা সত্ত্বেও তা করিনি। কিন্তু আজ আর ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। মার্জনা করবেন, কিন্তু একবার, কেবল একবার আপনার কণ্ঠ শুনতেই হবে। নতুবা এই উদ্বেগে আমার সারাটাদিন নষ্ট হয়ে যাবে।"
ইলিজার হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা লিখতে লাগল,
"আপনার ওই চোখজোড়া এতটাই মনোহরণ যে ইচ্ছে করে আপনাকে সারাটি জীবন না ছুঁয়ে কেবল ওই দু'টি চোখের দৃষ্টিতেই নিজেকে নিঃশেষ করে দিই।
বিশ্বাস করুন, আমি ‘ভালোবাসি’ শব্দটির উচ্চারণে বিশ্বাসী নই। সেদিন আপনাকে আপনার কোরিয়ান ভাষায় নিজের করে চেয়েছিলাম, সেটাই ছিল আমার প্রথম এবং শেষ উচ্চারণ। আমার মুখ থেকে আর কখনো ওই তিনটি শব্দ আপনার কানে পৌঁছাবে না। কারণ যা সত্য, তার প্রমাণের প্রয়োজন হয় না। যদি হৃদয়ের ভাষা বোঝেন, আমার নীরবতার ভেতরেই প্রতিদিন শুনতে পাবেন, আমি কীভাবে আপনাকে প্রতিটি মুহূর্তে ভালোবেসে যাচ্ছি।"
বার্তা পাঠিয়ে দিতেই চোখ পড়ল ইলিজা অ্যাকটিভ আছে। কাব্যের কপাল কুঁচকে গেল। ভারাক্রান্ত মনে ভাবতে লাগল, "এত রাতে মেয়েটা অ্যাকটিভ কেন?"
ভ্রূ কুঞ্চিত করে গভীর সুরে উচ্চারণ করল, "শুভ্রও অ্যাকটিভ, ইলিজাও... আমি যা ভাবছি, তা কি সত্য?"
হঠাৎ মাথায় হাত দিয়ে বিছানা থেকে উঠে বসল। হৃদয়ের গভীরে শঙ্কা আর সন্দেহ ধাক্কা দিল। বলল, "না না, এসব কী ভাবছি আমি? কিন্তু ইলিজা তো ১১টার দিকেই ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে?"
🍁চলবে?🍁