ফন্ট সাইজ:
থিম:
Tell me who i am(২য় খণ্ড)

৪র্থ পর্ব

লেখক: আয়সা ইসলাম মনি

#Tell_me_who_I_am

#পর্ব_৪_প্রথমাংশ

#আয়সা_ইসলাম_মনি

(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

🍁২য় খণ্ড🍁

__________________________________________☞

সেই মুহূর্তে কারান ছুটে গিয়ে রেলিংয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিরার কব্জি আঁকড়ে ধরল। মুহূর্তের ভেতর তার বুকের স্পন্দন বহুগুণে বেড়ে গেল। তাদের নিচে ভয়াল অতল। কংক্রিটের ধারায় কারানের শরীর ঘষে গিয়েছিল। সাদা শার্ট কিঞ্চিৎ ছিঁড়ে গিয়ে কাঁধের পাশে র*ক্তের দাগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবুও তার মুখে যন্ত্রণার কোনো ভাঁজ নেই; এই মুহূর্তে ব্যথার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিরাকে টেনে তোলা।

মিরা তখন ঝুলে ছিল। একটা হাত কাচের রেলিঙের চিকন ধাতুতে আঁকড়ে ধরা, আরেক হাতটা কারানের শক্ত মুঠোর ভেতরে। তার চোখ বড় হয়ে গেছে, ঠোঁট শুকিয়ে খসখসে হয়ে উঠেছে। ঘাড়ের পেছনে ভেজা চুল ঘামের কারণে ত্বকে সেঁটে গেছে। কিছু বলতে পারছে না, ঠিকঠাক শ্বাসও নিতে পারছে না। হাওয়ার তীব্র তোড়ে মিরার ওড়নাটা ছিঁড়ে তার শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে চাইছে।

কারানের কনুইয়ের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। হাতঘড়িটা খুলে কখন নিচে পড়ে গেছে, সে টেরও পায়নি। একটুও সরলে বিপদ। এদিকে মিরা নীচের দিকে তাকাতেই মনে হলো, তার ভেতরের সব র*ক্ত জমে বরফ হয়ে যাচ্ছে। মিরা কাঁপতে কাঁপতে ফিসফিসিয়ে উচ্চারণ করল, "কা... কারান... কা... রান... আমার হাত... হাত ফসকে যাবে..."

তার কণ্ঠস্বরে জমে থাকা ভয়, অসহায়তা আর আকুতি কারানের বুক কাঁপিয়ে দিল। কিন্তু সে কেবল হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল।

মিরার চোখ জলে ভরে উঠছে। "কারান... হাত ছেড়ো না। প্লিজ, ছেড়ো না..."

কারান ঠোঁট কামড়ে ধরে মিরাকে ধরে রেখেছে। তার নিশ্বাস তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে, ঘাড়ের রগে ঘাম জমে লবণের মতো জমাট বেধেছে। তবুও সে কিছু বলল না। বলতে গেলেই ভয় হয়; শব্দ হলে যদি হাত কেঁপে ওঠে! মিরার হাত ঘামে পিচ্ছিল হয়ে এসেছে। রেলিংয়ে ধরা হাতটা ফসকে যেতে চাইল। কর্ণধারে শুধু নিজের ধুক ধুক হৃৎস্পন্দন শুনতে পাচ্ছিল। চোখ ঘোলা হয়ে আসছিল। তাই মিরা চোখ বন্ধ করে নিতে চাইল।

তখনই কারান হঠাৎ তার দিকে তাকিয়ে কাঁপা কণ্ঠে বলল, "না, প্লিজ। মিরা, তাকিয়ে থাকো আমার চোখে। চোখ বন্ধ করো না! মিরা..." কারানের কাঁধে একটানা চাপ পড়ছিল। হাওয়ার তোড়ে তারও ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছিল। "সুইটহার্ট... আমার হাত শক্ত করে ধরো। আমি তোমাকে পড়তে দেব না, সোনা। কিছুতেই না।"

কারান রেলিংয়ে হেলে নিজেকে সামলে মিরাকে একটু ওপরে তুলল। এরমধ্যেই অকস্মাৎ নীচের দিকে চোখ পড়ল। আর সেই দৃষ্টিতেই সব কিছু এলোমেলো হয়ে গেল। চোখের সামনে বিল্ডিংটা দুলে উঠল মনে হলো। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছিল। তার কনুইয়ের নীচ দিয়ে টপটপ করে ঘাম গড়িয়ে পড়ছিল।

মিরার হাত এখন একদম ঘামে ভিজে গেছে। কারানের আঙুলের ফাঁক গলে পিছলে যেতে চাইল সে। এমন সময় মিরার আকুল আহ্বান কেঁপে কেঁপে ভেসে এলো, "কারান, আমার খুব ভয় করছে। হে আল্লাহ, আমি... আমি পড়ে যাব। কারান, তোলো আমাকে। উপরে তোলো, প্লিজ!"

কিন্তু কারান মিরার কোনো শব্দই স্পষ্ট করে আর শুনতে পাচ্ছিল না। তার চারপাশ কাঁপছিল, পায়ের নীচ থেকে মাটি যেন সরে যাচ্ছিল। এটা শুধু পরিস্থিতির চাপ নয়, এটা তার মজ্জাগত উচ্চতার ভয়! সেই ছেলেবেলায় ছাদে উঠলেও পা থরথর করে কাঁপত, মাটির দিকে তাকালে বুক ধকধক করত, মাথা ঘুরত। কিন্তু আস্তে আস্তে ভয়টাকে শোষণ করে চলেছিল সে। আর আজ?

মিরা কারানের অবস্থা দেখে আকুতি নিয়ে বলল, "আমার হাত... আর পারছি না... ছেড়ে দাও। ছেড়ে দাও, কারান। আমার হাত ছিঁড়ে যাচ্ছে..."

কারান গর্জে উঠল, "শাট আপ, মিরা!" একটা হালকা টান দিল। মিরার শরীর একটু ওপরে উঠে আসল, আবার পিছলে পড়ে যেতে থাকল। "আরেকটু... আরেকটু, মিরা। চোখ বন্ধ করো না... এই, মিরা। এখন না। আমার দিকে তাকাও, শুধু আমার দিকে তাকিয়ে থাকো!"

মিরার মুখ দিয়ে কান্নার সাথে প্রার্থনার শব্দ বেরোচ্ছিল। কারানের মনে হচ্ছে, বুকটা চেপে ধরেছে কেউ। মাথাটা অবিরত চরকির মতো ঘুরতে লাগল। চোখের সামনে অবয়বগুলো জোড়া জোড়া হয়ে ভেসে উঠল। মিরার মুখটাও বিভ্রান্তিকর ভঙ্গিতে দুলে উঠছে। কারান আপনমনে বলল, "আই মাস্ট ডু দিস। কারান, ডোন্ট গিভ আপ।"

"কা... কারান, হা-হাত ছুটে যাচ্ছে। কারান, আমি পড়ে যাচ্ছি!"

চোখ বন্ধ করে ফেলল কারান। ফিসফিস করে বলে উঠল, "হে আল্লাহ, প্লিজ... প্লিজ, আমার মিরাটাকে রক্ষা করো। আমি আর কিছু চাই না, শুধু ওকে বাঁচিয়ে দাও!"

কারান ফুস করে একটা গভীর নিশ্বাস ছাড়লো। এই নিশ্বাসের মাধ্যমেই হয়ত বুকের গভীরে জমে থাকা আতঙ্কের বিষাক্ত ধোঁয়া হঠাৎ ছিটকে বেরিয়ে এলো।

মিরা একবার নিচে তাকাল। তারপর আরেকবার কারানের দিকে তাকাল৷ তার মুখজুড়ে শুধুই ঘাম— বিন্দুগুলো কারানের কাঁপা চোয়াল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে। তার বুক ভীষণ ভারে ওঠানামা করছে। সে রেলিঙের একপাশে নিজের পা গুঁজে শক্তভাবে দাঁড়িয়ে গেল। পিঠ বাঁকিয়ে মিরাকে টেনে তুলতে শুরু করল। কারানের বাহুর পেশি যেন ফেটে যাচ্ছে, মাটিতে হাঁটু ছুঁয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল এই বুঝি দুজনে একসাথে তলিয়ে যাবে, কিন্তু হঠাৎ একটা আকস্মিক শক্তির টানে সে মিরাকে রেলিঙের ওপর টেনে তুলল। মিরা তার গলায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। এই হঠাৎ ভারে কারান মিরাকে নিয়েই ছাদের ওপর ধপ করে পড়ে গেল।

দুজনেরই শরীর কাঁপছে। মিরার কান্না গলায় আটকে আছে। মিরা কারানের বুকের ওপর মাথা রেখে, জোরে জোরে নিশ্বাস নিতে থাকল। কারান শরীরের অসাড়তা নিয়েও হাত তুলে মিরার পিঠ জড়িয়ে ধরল, কিন্তু শক্তি নেই বলে সে জড়ানোটা সম্পূর্ণ করতে পারল না।

তারপর ধীরে ধীরে চোখ খুলল, কিন্তু দৃষ্টি এখনও অস্পষ্ট। তবে সে বুঝতে পারল, মিরা তার বুকে নিশ্বাস নিচ্ছে।

মিরা কোনো শব্দ করেনি। শুধু কারানকে আরো বেশি নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। কারান কিছুক্ষণ চুপ করে থাকল। তারপর যখন একটু দৃষ্টি ফিরল, আস্তে করে ফিসফিসিয়ে বলল, "বউউ..."

মিরা তৎক্ষণাৎ মাথা তুলল। তার চোখ লাল। ঠোঁট কাঁপছে। কারানের চেহারার দিকে তাকিয়ে বুকটা কেঁপে উঠল তার। ভয়ে কারানের চোখ ডুবে গেছে, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।

কারান দুই হাত তুলে মিরার মুখকে তার তালুতে আবদ্ধ করল। "তু... তুমিহ ঠি-ঠিক আছো, বউ?"

মিরা হালকা হাসার চেষ্টা করল, কিন্তু চোখের কোনায় একফোঁটা জল জমে উঠল। তার গালে রাখা কারানের হাতের ওপর হাত রাখল। তারপর মাথা নাড়িয়ে বলল, "আমি ঠিক আছি।"

কারানের ভেজা কপালের চুল সরিয়ে সেখানে এক গভীর চুমু খেল। একটু পরে সে কারানের ঠোঁটের কাছে এসে ফিসফিসে স্বরে বলল, "আমি ঠিক আছি, হানি..."

কারান হালকা করে হাসার ব্যর্থ চেষ্টা করল। তারপর পরম মমতায় নিজের কাঁপা ঠোঁটের মধ্যে মিরার ঠোঁটকে আবদ্ধ করল।

মিরাও প্রথমে সাড়া দিল, কিন্তু অল্পক্ষণ পরেই তাল রাখতে পারল না। কারানের চুমু ক্রমেই নিয়ন্ত্রণ ছাপিয়ে গেল। কারান যেন এক নিশ্বাসে সব ভয়, সব ভালোবাসা মিরার ঠোঁটে ঢেলে দিতে চাইল। কখনো ঠোঁটের কোণে, কখনো পুরো ঠোঁট জুড়ে গভীরতর উন্মাদনায় চুম্বন চালিয়ে গেল।

একটু পর চুম্বনরত অবস্থাতেই মিরাকে নিজের নিচে নিয়ে এলো কারান। তার হাতের আঙুলগুলো মিরার ঘাড়ের পেছনে আটকে গেল। তার চুমু মিরার গালজুরে ছড়িয়ে পড়ল। মিরার চোখ তখন আধা বন্ধ। এক হাতে কারানের পিঠের ভেজা শার্ট মুঠো করে ধরল সে, অন্য হাতে কারানের চুল শক্ত করে আঁকড়ে ধরল। মিরা নিজের অনুচ্চার অনুমতির মধ্য দিয়ে কারানকে স্নেহস্পর্শের অবকাশ দিল। কারানও দমবন্ধ করা নিশ্বাসে মিরার কপালে, চোখের কোণে, গালের স্পর্শকাতর রেখায়, এবং থুতনির ধারে একের পর এক চুম্বন এঁকে দিল।

মিরার আঙুলের তীব্রতায় কারানের শার্টের বুকের একটি বোতাম কিঞ্চিৎ শব্দে ছিঁড়ে ছাদের কোণে ছিটকে পড়ল। কারান ততক্ষণে তার বেয়ে কণ্ঠনালীতে নেমে এলো। মিরার সমগ্র সত্তা কারানের দগ্ধ নিশ্বাসে ও অস্থির ঠোঁটের স্পর্শে কেঁপে উঠল। কণ্ঠদেশ রক্তাভ হয়ে উঠল। হঠাৎ থেমে গেল কারান। মিরার মাথাটা নিজের বুকে চেপে ধরল। তার ভেজা চুলে চুমু খেয়ে গভীরভাবে নিশ্বাস নিল। এরপর থুতনি মিরার মাথায় ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে কয়েকবার ঢোক গিলল। কারান ধরা গলায় আওড়ালো, "সুইটহার্ট..."

মিরা গ্লানিমুক্ত হাসি হেসে তাকাল। কারান আবার উন্মূল আবেগে মিরার মুখে কয়েকটি চুমু খেল। মিরার শরীরে শিহরন খেলে গেল, কিন্তু তা শুধুই ভালোবাসার আনন্দে। কারান তার ডান চোখের উপর অনেকক্ষণ ঠোঁট ছুঁয়ে রাখল।

তারপর সে মিরার মুখের উপর ফুঁ দিল। সেই হাওয়ায় মিরা মুহূর্তের মধ্যেই ঠান্ডা হয়ে গেল, নিমিষেই সব ভয় উবে গেল।

"আই...আই লাভ ইউ, বউ। আই লাভ ইউহ। আই অলমোস্ট লস্ট ইউ। ইউ আর মাই লাইফ, মাই রিডেম্পশন। আই লাভ ইউ... আই লাভ ইউ সো মাচ, বউ।"

মিরা হেসে মাথাটা এগিয়ে কারানের ঠোঁটে একটি নরম চুমু রাখল। "কিচ্ছু হয়নি আমার। দেখো, আমি একদম ঠিক আছি।"

কিন্তু সেই হাসি কারানের বুকের ভেতর জমে থাকা দুর্যোগকে প্রশমিত করতে পারল না। মিরার শরীরের উপর হাত বুলিয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল, কোথাও ব্যথা পেয়েছে কি না!

সে মিরার উদরের জামার অংশটা তুলতে উদ্যত হল, কিন্তু মিরা সাথে সাথেই তার হাত শক্ত করে চেপে ধরল। কঠোরতা নিয়ে কারান বলল, "দেখতে দাও।"

হঠাৎই তার মুখশ্রীর তীব্র পরিবর্তন দেখে মিরা বুঝে গেল, তার আর রক্ষা নেই। কারানের চোয়াল শক্ত, চোখ রক্তাভ, ঠোঁটের কোণ দুটো তীব্র রাগে টানটান হয়ে আছে।

মিরা কারানের হাতটা ছেড়ে চোখ নীচু করে ফেলল। তার বুকের মধ্যে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ল৷ আচমকাই কারান মিরার উদরের কাপড়টা ছিঁড়ে ফেলল। মিরা চোখে বিস্ময় নিয়ে কারানের দিকে তাকাল। সে ভাবতেও পারেনি, কারান এমনটা করতে পারে! কিন্তু কারানের থুতনি তখনো কাঁপছে।

এরপর আরেকটা টান দিয়ে মিরার কাঁধের কাপড়টাও ছিঁড়ে ফেলল। মিরা ক্ষোভে, লজ্জায়, আতঙ্কে চিৎকার করে উঠল, "কারান! করছটা কী তুমি?"

কারান ঠোঁটের উপর আঙুল রেখে আস্তে করে বলল, "একদম চুপ!"

ঘন ঘন নিশ্বাসে মিরার বক্ষস্থল উঠানামা করছিল, সেই ঢেউয়ের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল কারান। তারপর মিরাকে বুকের কাছে তুলে নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। মিরা চোখ নামিয়ে চুপচাপ রইল। কারানের আগুন দৃষ্টির সামনে নিজেকে আড়াল করতে চাইল।

কারান সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে মিরাকে জড়িয়ে ধরে রাখল। মিরা নিজেকে কারানের বুকের সাথে গুটিয়ে রাখল। কারণ সে জানে, যতই রাগ করুক, এই বুকই তার একমাত্র আশ্রয়।

নিচে পৌঁছে কারান অকস্মাৎ তাকে বিছানায় ছুঁড়ে ফেলল। মিরার চুলগুলো এলোমেলো হয়ে কপালে, মুখাবয়বে ছড়িয়ে পড়ল। মিরা ছলছল দৃষ্টিতে ঘুরে কারানের দিকে তাকালো। কণ্ঠ শুকিয়ে গেল।

কারান নিজের শার্টের বোতামগুলো একে একে ছিঁড়ে ফেলতে লাগল। মিরা জানে, এই মানুষটা এখন আর তার পরিচিত সেই কারান নয়। সে তৎক্ষণাৎ উঠতে গেল, কিন্তু তখনই কারানের হাত তার জামার পেছনের গিঁটটা টেনে ছিঁড়ে ফেলল। মুহূর্তেই তার আবরণস্নিগ্ধ বসনখণ্ডটা মেঝেতে গড়িয়ে পড়ল। মিরা স্থবির হয়ে এক মুহূর্ত নিজের শরীরের দিকে তাকাল। ভিতরে কিছু না থাকলে তার ঊর্ধ্বাংশ সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে যেত। তার বুকের ভেতর কাঁপুনি শুরু হলো। সে ঢোক গিলে চোখ তুলল।

কারানের শ্বেতাভ মুখশ্রী থরথরিয়ে কাঁপছে, নাকের পাখা ফুলে আছে।

মিরা কিছু বলতে চেষ্টা করল, "কারা..."

কিন্তু সেই মুহূর্তেই কারান ডান হাতে মিরার দুই হাত একত্রে জড়িয়ে ধরে বিছানায় চেপে ধরল। তার ঘাড়ের পেশিগুলো টানটান হলো, মুখ মিরার পানে ঝুঁকাল। বা হাতটা উপরে তুলে ধরে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল, "এই হাতের একটা থাপ্পড় যদি তোমার ওই নরম গালে পড়ে, তোমার মুখের ছাপটাই বিকৃত হয়ে যাবে, গালের চামড়া ছিঁড়ে আমার হাতে উঠে আসবে।"

মিরার চোখ ছলছল করছে। কিন্তু তবুও কিছু বলল না। কারণ সে বুঝে গেছে, এই মুহূর্তে যা চলছে, তা ভালোবাসার উন্মত্ত প্রকাশ।

ক্রোধের ভারে কারানের বুক ওঠানামা করছিল। "বেয়াদব! বেয়াদব মেয়ে কোথাকার! আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিতে খুব ভালোবাসো, তাই না? প্রাণ নিয়ে খেলার শখ হয়েছে বুঝি? উফফ!" সে তীব্র বিরক্তিতে বা হাতে কপাল ডলতে ডলতে বলল, "এই মেয়ে, কতবার বারণ করেছিলাম, তবুও শুনলে না কেন? হ্যাঁ? অসুস্থ না থাকলে, একদম রুমে আটকে দু’দিনের জন্য অজ্ঞান করে রাখার ওষুধ আমার কাছে ছিল। বেয়াদব বউ একটা!"

তার গলার প্রতিটি শব্দ ছিল ছুরি-কাটার মতো তীক্ষ্ণ আর গভীর; এইসব শুনে যে কারো পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যেত। কিন্তু মিরা? সে মুখ চেপে মুচকি মুচকি হাসল।

কারান মিরার হাত দুটো আরো জোরে বিছানায় চেপে ধরল। এমন জোরে ধরল যে ব্যথার শিরশিরানি হাত বেয়ে কাঁধ পর্যন্ত উঠে গেল। অভিমানে, ব্যথায়, ভয়ে মিরার চোখের কোনে টলটল করে পানি জমল। সে অসহায় দৃষ্টিতে কারানের চোখে তাকাল। কারান হাতের চাপ আরেকটু বাড়াতেই মিরা ককিয়ে উঠল, "আহ!"

সঙ্গে সঙ্গেই কারান ওর হাতটা ছেড়ে দিল। হাত দুটো ডলতে ডলতে ব্যথায় চোখ বন্ধ করে ফেলল মিরা। তার হাতে কারানের আঙুলের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। কিন্তু কারানের রাগ থামেনি। তাই মিরার মুখের দুই পাশ শক্তভাবে চেপে ধরল। অগ্নিদৃষ্টিতে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, "এই তুমি হাসছিলে কেন? আমি কি তোমার সঙ্গে মজা করছি? ইচ্ছে করছে আদর-আচরণ সব বাদ দিয়ে এক থাপ্পড়ে বাস্তবতা দেখিয়ে দিই। বুঝেছি, বেশি মাথায় তুলেছিলাম। এবারই শেষবার বলছি মিরা; এরপর যদি আমার কথা অমান্য করো, তাহলে কারান কে, সেটা বোঝারও সময় পাবে না। চিতাবাঘের সঙ্গে খেলছ তুমি।"

কারান এক মুহূর্ত তাকিয়ে রইল। অনুভব করল, মিরার গালের সেই স্থানটি গভীর লালিমায় আচ্ছন্ন। তাই সে মিরার গাল থেকে হাত সরিয়ে নিল। মিরা বিষণ্ন মুখে, কাঁদার আভাস নিয়ে একবার নিকটবর্তী কারানের দিকে তাকাল। কিন্তু তার অতিশয় ক্রোধ সংকেত দেখে মাথা নীচু করে ভাঙা স্বরে বলল, "এভাবে তাকিও না। আমার ভয় করছে, সত্যি ভয় করছে।"

কারান ধীরে ধীরে মিরার ওপর থেকে উঠে বসল। একবারে তিন চারবার গভীরভাবে নিশ্বাস টেনে বুকের ভেতরের জ্বালাগুলো নির্বাপণের চেষ্টা করল।

পাশ থেকে মিরা উঠে বসল। তারপর ধীরে ধীরে পেছন থেকে তার হাতদুটি কারানের পিঠে জড়াল। মাথাটা আস্তে করে কারানের কাঁধে রাখল।

কারান ঝট করে ঘুরে তাকাল। তার চোখজোড়া এখনো ধূমায়িত, কিন্তু সেই ধোঁয়ার মাঝে বিষণ্ন আলোড়ন দেখা যাচ্ছিল। তার কাঁপা আঙুল মিরার বক্ষবন্ধনের গ্রন্থি খুলে দিলো। সেটা দেহ থেকে গড়িয়ে পড়ল। মিরার ভ্রূ কুঁচকে গেল। সে হাত দিয়ে পিছনের দীর্ঘ চুলগুলো সামনে আনল।

কিন্তু কারান আবারও চুলগুলো আলতো করে পিছনে সরিয়ে দিল। হাস্কি স্বরে বলল, "এভাবে লজ্জা পাওয়ার কি আছে? আমি তো তোমার শরীরের প্রতিটি রেখা, প্রতিটি তিল আগেই দেখেছি।"

মিরা মুখ অন্যদিকে ফিরিয়ে, ঠোঁট কুঁচকে বলল, "গালি দিব কিন্তু..."

কারান আরেক ধাপ এগিয়ে এলো। তার নিশ্বাসের উত্তাপ মিরার ত্বকে গলে পড়তে লাগল। সে নীচু হয়ে মিরার মাংসপিন্ডের বিভাজে তার ঠোঁট ছুঁইয়ে রেখে ফিসফিস করে বলল, "দাও।"

মিরার শ্বাসপ্রশ্বাস এলোমেলো হয়ে উঠল। কারানের মস্তকও মিরার বক্ষস্থলে নিশ্বাসের আবর্তে আবিষ্ট হয়ে উঠছিল নামছিল। মিরার চোখের কোনে বেয়ে একফোঁটা প্রশান্তির জল গড়িয়ে পড়ল।

কারান মুখ তুলে বলল, "ডোন্ট প্লে ইনোসেন্ট। ইউ ওয়ান্ট দিস। অ্যান্ড নাউ আই’ম গোয়িং টু মেস ইউ আপ সো সুইটলি, ইউ’ল কাম ক্রলিং ব্যাক ফর মোর।" এক হাতে মিরার কোমল পদযুগল আবিষ্ট করল। "গিভ মি দ্যাট স্টানিং লেগ। আই'ল রুয়িন ইউ ইন দ্য বেস্ট ওয়ে; ওয়ান্স আই’ম ডান, ইউ ওন্ট ইভেন রিমেম্বার হাউ টু স্ট্যান্ড। এভরি ব্রেথ ইউ টেক উইল বিলং টু মি।"

মিরা চোখ ঘুরিয়ে কারানের দিকে তাকাল। কারানের গালে হাত বুলিয়ে মৃদু হেসে বলল, "আমাকে এতটা সুখ দিও না, কারান। আমি তোমাকে ধ্বংসও করে দিতে পারি।"

কারান মিরার অবসন্ন চুলের মাঝে মুখ ডুবিয়ে বলল, "পারমিশন দাও, আমি কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলেছি।"

মিরা দুই হাত দিয়ে কারানের মুখ সামনে টেনে নিয়ে বলল, "তুমি না বললে আমি অসুস্থ, তাহলে?"

"কি করব বলো? তুমি আমাকে প্রতিবার পাগল করে তোলো, চেয়েও নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারি না। এমন কেন হয়, মিরা?"

মিরা চোখ বুজে কারানের ঠোঁটে চুমু দিতে গেল, তৎক্ষণাৎ কারানের ভ্রূ কুঁচকে উঠল। "মিরা!"

মিরা চোখ খুলে ফিসফিস করে বলল, "কিহ?"

"তুমি রুফটপ থেকে পড়লে কী করে?" অতঃপর হঠাৎই কারণটা উপলব্ধি করে সে আবার মিরার দিকে বিষণ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, "ওয়েট, ওয়েট..." ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলল, "অসভ্য মেয়ে! অর্থাৎ আমি যখন চোখ বন্ধ করে ভাবছিলাম, তখন তুই রেলিঙের ওপর ওঠার চেষ্টায় ছিলি?"

মিরা চোখ বড় করে কটূক্তিময় হাসি ছেড়ে জিভ কাটল। এখন তার আর কোনো পালানোর ঠাঁই নেই। কারান দাঁত চেপে ধরে হঠাৎ মিরার গলা আঁকড়ে ধরল। মিরার গলা টানটান হয়ে গেল, সে অজান্তেই ঢোক গিলল। তবুও সে কারানের চোখে চোখ রেখে তার দিকে তাকিয়ে রইল। কারান ক্রোধে ফুঁসতে ফুঁসতে মিরার গলায় চাপ বাড়িয়ে বলল, "এই গাধী, তুই রেলিঙের উপর ওঠার চেষ্টা করেছিলি? হুম?"

কারান দাঁত চেপে শব্দ করল। কণ্ঠে বিষাদের ভার মিশিয়ে পুনরায় বলল, "আজ তোকে খু'ন করে ফেলব, মিরা। তোর ম'রার ইচ্ছে আমাকে বল! কেন করলি এমন? এই মিরা, কেন করলি?"

এরপর হঠাৎ মিরার বক্ষদেশে ধাক্কা মেরে তাকে শয্যায় উপুড় করে দিল। মুহূর্তেই সে মিরার উদরের উপর অধিষ্ঠিত হয়ে, দু'হাতে শ্বাসনালির চারপাশ আরো শক্ত করে চেপে ধরল। "বল, মৃ'ত্যুর আকাঙ্ক্ষা কী করে এলো তোর মাঝে? হাউ ডেয়ার ইউ ইভেন থিংক অফ অ্যাব‍্যান্ডনিং মি লাইক দিস? আনসার মি। আনসার মি, মিরার বাচ্চা..."

মিরার চোখে অশ্রু জমে উঠল, সে কারানের দিকে নিঃস্বার্থ আবেগে ভরা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কিছু বলতে চাইল, কিন্তু ভেতরকার অনুতাপে গলা বন্ধ হয়ে আসছিল।

মিরার জলভরা দৃষ্টি অবলোকন করে কারান তার কণ্ঠবন্ধন শিথিল করল। কিন্তু রাগের অভিপ্রায় খুঁজে না পেয়ে মিরার কোমল ঠোঁটে তীব্র কামড় বসাল। ক্ষীণ র*ক্তরেখা ধীরে ধীরে ঠোঁট বেয়ে গড়িয়ে পড়ল।

তবুও মিরা নিস্পন্দ। চোখের পলকও কাঁপল না। হঠাৎই কারান অধর ছেড়ে সরে এলো। সে নিজেরই পাগলামিতে মুহূর্তকাল হতবাক হয়ে গেল। এরপর কষ্টপীড়িত দৃষ্টিতে নিজের ঠোঁট থেকে র*ক্ত মুছে একপাশে রাখা মলম তুলে নিল। মিরার ক্ষতবিক্ষত ওষ্ঠে ধীরে ধীরে মলম বুলিয়ে দিতে দিতে বলল, "কেন করলে, সুইটহার্ট? হ্যাঁ?"

মিরা অনুভব করল, তার অনিচ্ছাকৃত সেই কাজে কারানের অন্তরটা ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। সে অপরাধবোধে ভারাক্রান্ত মুখে বলল, "স-সরি! সরি, কারান!"

কারান ডানে বায়ে মাথা ঝাঁকালো। অর্থাৎ সে শান্ত হতে পারছিল না। মুহূর্তের ব্যবধানে নিজের দেহ থেকে সমস্ত আবরণ সরিয়ে ফেলল। মিরার দিকেও এগিয়ে এসে, তার নিম্নাঙ্গের অন্তিম পরিধেয়টুকু খুলে মেঝেতে ছুঁড়ে ফেলল।

মিরা স্তব্ধ হয়ে শুধু তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল।

কারান তার শরীরের উপর ঝুঁকে পড়ল। দুই বাহুর কঠিন বন্ধনে বন্দি করে রাখল তাকে। ফিসফিসিয়ে বলে উঠল, "তুমি জানো না, তোমাকে হারানোর আতঙ্ক আমার ভেতরটা কীভাবে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে। সেই ভয়টা যেন আমার নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে; ছায়ার মতো প্রতিটি পদক্ষেপে অনুসরণ করে। প্রতিটি নিশ্বাসে, প্রতিটি মুহূর্তে আমি শুধু তোমাকে আগলে রাখতে চেষ্টা করেছি। সবসময় শুধু এটাই ভাবি, তুমি যেন একটুও ব্যথা না পাও, একটাও যেন আঁচড় না লাগে। আর তুমিই কিনা সেই ভয়টাকে সত্যি করতে গেলে? কেন করলে এমন, বউ?"

"আর কখনো তোমার বলা কথা অমান্য করব না। তোমার বলা একেকটা শব্দই আমার পৃথিবীর দিশা হয়ে উঠুক, আমি তাতে চোখ বুজে পথ চলব। শুধু এই একবার... একবার আমাকে ক্ষমা করে দাও। প্লিজ, ক্ষমা করো। প্লিজ..."

কারান মিরাকে আরও জোরালোভাবে আঁকড়ে ধরল। "এভাবে আর খেলো না, সুইটহার্ট। তোমার এই নিঃশব্দ নিষ্ঠুরতায় আমি একটু একটু করে মারা যাচ্ছি; নিশ্বাস নিতে কষ্ট হয়। তুমি কি একটুও টের পাও না, কেমন অসহ্য যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছি আমি? ভয় পাই আমি—একা হয়ে যাওয়ার ভয়, তোমার উদাস চোখের ভয়। তুমি এমন কেন, মিরা? আমি কখনও চাইনি তোমায় কষ্ট দিতে। প্রতিবার যখন রাগে কিছু করে ফেলি, বুকটা ছিঁড়ে যায় আমার। অথচ তুমি? তুমি যেন ইচ্ছে করেই চাইছো আমি আঘাত করি! বলো না, কেন এমনটা চাও?"

মিরার ভেজা চোখে হালকা ব্যথামিশ্রিত হাসল। "তোমার আঘাত যেন প্রবল সমুদ্রের ঢেউ; প্রতিবার এসে ভেঙে দেয় আমাকে, আবার গড়ে তোলে বালুকাবেলায়। তুমি কোথায় আঘাত করো? ব্যথায় তো নিজেই ছারখার হয়ে যাও। তোমার আঘাতগুলোয় ভালোবাসাই লুকিয়ে থাকে; যা যন্ত্রণার রূপে আমার শরীর জুড়ে প্রবাহিত হয়। আর আমি সে যন্ত্রণা ভালোবাসি।"

মিরার কথাগুলো যে কারানের একটুও ভালো লাগেনি, সেটা তার থমথমে মুখেই স্পষ্ট হয়ে উঠল। সে মিরাকে কোনোভাবে আঘাত করতে চায় না, কিন্তু মিরা যেন জোর করেই তাকে সেই সীমার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আরও অবাক করার মতো ব্যাপার; মিরা চায়, সে তাকে আঘাত করুক।

কারান দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "তোমাকে দেওয়া আমার সবচেয়ে হৃদয়ছোঁয়া, বেস্ট গিফট কি হবে জানো?"

মিরা তার কণ্ঠনালি দু হাতে আবদ্ধ করে বলল, "কি?"

"আমার হাতে তোমার মৃ'ত্যু।"

তার বক্তব্য যে কারানের কাছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, সেটা মিরার উপলব্ধির সীমায় ধরা দিল। তাই স্নিগ্ধ হাসি ছুঁড়ে মিরা বলল, "আচ্ছা, তারপর?"

"তারপর আমি পা'গলের মতো একাকী রাস্তায় হাঁটব, আর আকাশের নিচে একা একাই তোমার সাথে কথা বলব।"

মিরার হাসি আরও জোরালো হলো, "তারপর?"

"জানি না।"

"যদি তার উলটো হয়?"

কারান তৎক্ষণাৎ উঠে পাশের টেবিল থেকে একটি ফলের ছু'রি তুলে মিরার হাতে ধরিয়ে দিল। তারপর নিজের গলার কাছে মিরার ছু'রি ধরা হাতটা চেপে ধরে বলল, "মে'রে ফেলো। এক্ষুনি আমার গলায় ছু'রি বসিয়ে দাও।"

মিরা ছুরিটি পাশের টেবিলে সরিয়ে রেখে আলতোভাবে কারানের গলায় আঙুল বুলিয়ে দিল। তারপর গলায় আকস্মিক এক টানে তাকে নিজের গলার কাছে নামিয়ে আনল। কারান মিরার গলা জড়িয়ে তার বক্ষে শীতল প্রশান্তিতে শুয়ে রইল। মিরা হালকা অভিমান নিয়ে বলল, "তারপর আমার পরিণতিটা কি হবে, ভেবেছ?

"হুম।"

"কি ভাবলে?"

কারান গভীর, শীতল কণ্ঠে বলল, "আমাকে মে'রে ফেলো, মিরা। বুকের নিচে ছু'রি বসাও, ঠিক সেখানে যেখানে এখনো তোমার ঠোঁটের উত্তপ্ত স্পর্শ জ্বলজ্বল করছে। তারপর নিজের শরীরটাও আমার নিচে রেখে দিও। আমাদের কবর যেন পাশাপাশি না হয়ে একত্রে হয়; মৃ*ত্যুও যেন আমাদের আলাদা করতে না পারে। আমাদের শরীর দুটো পচে গিয়ে এক হয়ে যাক। আমি ঘুমিয়ে থাকব তোমার বুকের ঠিক ওপরেই, নিশ্বাস ফুরিয়ে যাওয়ার পরও তোমার হৃদয়ের স্পন্দন শুনব। আর কোনো সমাজ থাকবে না, কোনো শাসন থাকবে না, পাপ-পুণ্যের ধূর্ত নজর থাকবে না; শুধু থাকব তুমি আর আমি।"

🍁চলবে?🍁

#Tell_me_who_I_am

#পর্ব_৪_শেষাংশ

#আয়সা_ইসলাম_মনি

(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ)

🍁২য় খণ্ড🍁

🔺Trigger Warning: This post is a fictional story that contains sensitive content related to sexual violence. It is intended solely for awareness and educational purposes. It does not promote or glorify any form of abuse.

__________________________________________☞

শেফ এক দীর্ঘ, গাঢ় নিশ্বাস ছাড়লো। এরপর নিজের দিকে একটি চেয়ার টেনে নিল। অতঃপর চেয়ারে গা এলিয়ে দেহটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে রহস্যময় বক্র হাসি হাসল, "At long last, my girl is safe."

পরক্ষণেই সে মাথা ঝাঁকিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল, "মৃ'ত্যু? না। যতক্ষণ না আমার নাম তোমার আত্মায় পো'ড়াতে পারি—তোমার যাওয়ার অনুমতি নেই। এমনিতেই তুমি এত তাড়াতাড়ি ম'রে যাওয়ার মতো মেয়ে নও, লিটল ফায়ার। যদি মৃ'ত্যুর মুখেও দাঁড়াও, আমি ছিনিয়ে নেব তোমাকে। শেষ নিশ্বাসে র'ক্ত ঝরলেও, তোমাকে আমার করেই ছাড়ব। মাইন্ড ইট।"

সে আবার এক দৃষ্টিতে কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকাল। স্ক্রিনের দিকে ঝুঁকে কম্পিউটারটা মুখের কাছে এনে ধরল। মাথা কাত করে চোখ দুটো কুঁচকে চোয়াল শক্ত করে বলল, "কিন্তু এখন আমি দেখব কীভাবে ঘরের ভিতরে কি হচ্ছে? পারহ্যাপ্স কারান’স ফা*কিং হার উইথ এভরি গডড্যাম টাচ, অ্যান্ড শি লেটস হিম। হোলি ব্রো... আমার কি জেলাস ফিল করা উচিত?"

ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ জোরে হেসে উঠল শেফ। তার চোখজোড়া উন্মাদনায় জ্বলছিল।

তারপর পাশের টেবিলের ওপর রাখা ধারালো ছু*রিটার দিকে তাকাল। হালকা আলোয় চকচক করছিল ওটা। ছু*রিটা হাতে তুলে এনে কোণায় কোণায় ঘুরিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিল। আঙুলের ডগায় ছু*রির তীক্ষ্ণতার টের নিচ্ছিল বুঝি।

সে চোখের পলক না ফেলেই চাপা সুরে বলল, "টেক্সাসের ওই বাড়িটায় যদি একবার সার্ভেইলেন্স ক্যামেরা বসাতে পারতাম... বাট মাই ফা*কিং কারান ব্রো এমনভাবে সিকিউরিটি সিস্টেম বসিয়েছে; মোশন সেন্সর, ফেসিয়াল রিকগনিশন, অ্যালার্ম লিঙ্কড টু পুলিশ সবকিছু এক সঙ্গে! ভার্চুয়াল অ্যাক্সেস প্রায় অসম্ভব; এক্সটারনাল ক্যামেরাগুলোও একদম এয়ারগ্যাপড। একটা ভুলের সুযোগও দেয়নি কারান। কিন্তু সময় এগিয়ে আসছে! তুমি তোমার জীবনের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য মুহূর্তটা পাবে, যেদিন আমাকে সামনে দেখতে পাবে। তুমি হয়ত ভাবছো সব কিছু তোমার কন্ট্রোলে আছে। কিন্তু যেদিন আমাকে সামনে দেখবে, সেদিন বুঝবে, নিয়ন্ত্রণ আসলে কার হাতে। কিন্তু... কিন্তু এর পর যদি গেইমটাই ঘুরে যায়!"

শেষ কথাগুলো বলার সময় তার গলার স্বর একটু একটু করে নীচু হচ্ছিল। হঠাৎ থেমে গিয়ে চোখ কুঁচকে বলল, "নো। নো, নো, নো।"

এক ঝটকায় উঠে দাঁড়াল সে। চেয়ারটা পেছনে ঠেলে শব্দ তুলল। তারপর মাথা উঁচিয়ে ছাদের দিকে তাকাল। তার ঘাড়ের শিরাগুলো ফুলে উঠেছে, গাল পিচকে গেছে, চোখ দুটো তীক্ষ্ণ হয়ে জ্বলছে। সে চোয়াল আঁটসাঁট করে উচ্চারণ করল, "হেই রাইটার, ভুলেও ভেবো না তুমি প্লট ঘুরাতে পারবে। গল্পে টুইস্ট আনতে চেয়েছো? এবার দেখো, সেই টুইস্ট-ই কীভাবে গল্পের সাথে সাথে তোমাকেও খু'ন করে। তুমি কলম চালাও, আর আমি ছু'রি। একটা বাক্য যদি আমার বিরুদ্ধে লেখো, আমি তোমার র'ক্তে পুরো চ্যাপ্টার লিখব। এই গেমে তুমি শুধু একটা নামহীন ক্যারেক্টার। তুমি জানো না রাইটার, তুমি কাকে নিয়ে খেলছো। আমি তোমার গল্পের শেষে নয়; আমি শুরু থেকেই ছায়ার মধ্যে ছিলাম। তাই গেইম উল্টানোর চেষ্টা করো না, কারণ আমি কোনো ওয়ার্নিং দিয়ে কাজ করি না। মৃ'ত্যু কখন আসবে, সেটা ঠিক করি আমি। মার্ক মাই ওয়ার্ডস, গল্পের শেষ লাইনটা আমি লিখব, ডেডলাইনার চেরি।"

তার ঠোঁট বেঁকে উঠলো। চোখ দুটো অন্ধকারে ঝলকে উঠল আবার। তার হাতের ছু*রিটা এখন বুকের সামনে ধরে রেখেছে। তারপর ঠোঁটচেপে শয়তানি হাসি ছুঁড়ে দিয়ে বলল, "ওয়ান মোর থিং, পি. এস. আই ক্রিস্টেন্ড ইউ ‘ডেডলাইনার চেরি’। আইকনিক, আই নো। নামটা কেমন লাগল তোমার? একটু লিখেও জানিও!" কথাগুলো বলেই এক চোখ টিপ মারল সে।

পরবর্তীতে এগিয়ে এসে ফ্রিজের ভিতর থেকে একটা নির্জল আপেল অপসারণ করল। হাতের তালুতে রেখে ছু*রি দিয়ে নিখুঁতভাবে ভাগ করতে শুরু করল। আপেলের এক খণ্ড মুখে নিয়ে গ্রাস করতে করতে গম্ভীর স্বরে উচ্চারণ করল, "আমি মাইন্ড পরিবর্তন করেছি। এত তাড়াতাড়ি তোমার প্রাণ হারাবার তাগিদ নেই, কারান। আমি সেই অনিবার্য মুহূর্তের অপেক্ষায় রয়েছি; যেদিন আমি তোমার মুখোমুখি হবো, আর মিরার দৃষ্টিগোচরে তোমার নিষ্পত্তি সাধন করব।"

কিয়ৎক্ষণ পর সামনের দিক থেকে একটা লোহার চেইন উত্তোলন করল। বাঁ হাতের কব্জিতে সেটি টেনে টেনে যাাচাই করতে থাকল কতটা মজবুত!

তারপর আপেলের আরেকটি টুকরো তুলে মুখে নিল। তীক্ষ্ণ দাঁতের চাপে রসালো ফলটি ধীরেসুস্থে চিবোতে চিবোতে অন্য হাতে ধরা লোহার চেইন শো’টি ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে নিরীক্ষা করতে লাগল৷ সবকিছু নিরীক্ষণ করে নিশ্চিত হল, এটি হ*ত্যা করার জন্য যথার্থ প্রস্তুত।

মৃ*ত্যু তার কাছে কোনো তড়িঘড়ি করার মতো বিষয় নয়, বরং তার কাছে নির্ধারিত আয়োজনের মতো, যার জন্য প্রয়োজন সুনিপুণ প্রস্তুতি আর উপযুক্ত সময়।

এরপর সে ঘরের কোণ থেকে কালো ট্রেঞ্চ কোট তুলে পরিধান করল। পরবর্তী মুহূর্তে সেই পূর্বের কালো মুখোশটি তুলে নিখুঁতভাবে মুখে স্থাপন করল। যদিও এটা ধুলোবালি থেকে রক্ষা করার জন্য পরিহিত হয় না, বরং নিজের পরিচয়কে গোপন রাখার জন্য। মুখোশের পেছনে তার ঠোঁটের কোণে তখন রহস্যময় বাঁকা হাসি খেলল। এবার সুনিপুণ প্রতিরূপে দরজার দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হল।

______

মিরার নয়নের কোণে স্বচ্ছ জলরাশি জমে ছিল বহুক্ষণ, সে সব কোনো সংকোচ না মেনে ঝরঝরিয়ে গালের বেয়াড়া পথ বেয়ে গড়িয়ে পড়ল। আবেগের ঢেউ বাঁধভাঙা হয়ে উঠল; নিজেকে আর সংযত রাখতে পারল না সে। হঠাৎ করেই ছুটে গিয়ে কারানের বুক আঁকড়ে ধরল। তার চোখের একফোঁটা অশ্রু কারানের কণ্ঠনালি ছুঁয়ে নিচের দিকে নেমে গেল। কারান তা অনুভব করলেও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখালো না।

অথচ মিরা তার কণ্ঠদেশে ঠোঁট ঠেকিয়ে অস্ফুট কণ্ঠে বলল, "ম'রে যাওয়াটা সহজ, কারান। সাহস তো আসলে বেঁচে থাকার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে। মৃ'ত্যু তো পালানোর একটা পথ মাত্র, যেখানে সমস্ত যন্ত্রণা, সমস্ত দায়দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু বেঁচে থাকলে প্রতিটা দিনে টের পাওয়া যায়, কার কাঁধে কতটা ভালোবাসার ওজন ছিল, কে কাকে কতটা ভরসা দিয়েছিল। একসাথে বেঁচে থাকার যুদ্ধটা নীরব, কিন্তু অসম্ভব দামি। এমন সৌভাগ্য তো সবার হয় না, বলো?"

কারান ক্লান্ত ভঙ্গিতে দীর্ঘ একটা নিশ্বাস ফেলল। নিজের শরীরটা মিরার বাহুবন্ধন থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করতে করতে বলল, "ছাড়ো, মিরা। তুমি আমাকে একটুও বুঝো না। একটুও না। ছাড়ো।"

কিন্তু মিরা সেই কাতর আবেদনেও অনড় রইল। কিছু মুহূর্ত পর কারানের গলা থেকে মুখ তুলে নিল। তারপর কারানের কপালের ঠিক মাঝখানে গভীর এক চুম্বন রেখে ফিসফিস করে বলল, "বিশ্বাস করো, আর কখনো... কখনো তোমার অবাধ্য হবো না।"

"প্রমিস?"

মিরা মাথা নেড়ে সাড়া দিল, "হ্যাঁ, প্রমিস।"

কারান এবার মিরার মুখমণ্ডল দুহাত দিয়ে আবদ্ধ করে গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। এতক্ষণ জমে থাকা সব ভয়, অভিমান যেন সেই দৃষ্টির উত্তাপে গলে গেল। সে মৃদু স্বরে বলল, "চলো, শাড়ি পরিয়ে দিই তোমাকে। অনেক রাত হয়ে গেছে, ঘুমাতে হবে সুইটহার্ট।"

"দরকার নেই।"

কারান ভ্রূকুটি করে বলল, "কি দরকার নেই?"

"শাড়ির।"

কারানের ঠোঁটে কিশোরসুলভ হাসি খেলে গেল। জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে, চোখে দুষ্টু মমতা নিয়ে নীচু স্বরে জিজ্ঞেস করল, "এভাবেই ঘুমাবে?"

মিরা উপর নীচ মাথা নাড়ল। কিন্তু ততক্ষণে মিরার অনাবৃত দেহরেখার অপরূপ দৃশ্য কারানের ভিতর তরঙ্গ তুলল। তার হৃৎস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত ছন্দে ছুটে চলল। মিরার মসৃণ চামড়ায় বিছিয়ে থাকা কেশরাশি, কোমরের সূক্ষ্ম বক্রতা এবং উত্তেজনায় উঠানামা করা বক্ষযুগলের দৃশ্য কারানের অস্তিত্বকে আন্দোলিত করল।

তবু নিজের আকাঙ্ক্ষার দহনচিহ্ন উপেক্ষা করে চাদর তুলে এনে মিরার গায়ে জড়িয়ে দিল, নিজের গায়েও জড়িয়ে নিল। তারপর মিরার বুকের উপর মাথা রেখে নিশ্বাস ছাড়লো। সেই নিশ্বাসের তীব্রতা অনুভব করে মিরার অন্তরীক্ষ টালমাটাল হয়ে গেল। সে আলতো হাসল৷ কারান চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল, "গুড নাইট, অর্ধাঙ্গিনী।"

মিরা তার চুলে আঙুল বুলিয়ে দিয়ে চুলের ফাঁকে ঠোঁট ছুঁয়ে নরম স্বরে বলল, "গুড নাইট, হানি।"

ঘরের আলো নিভে গেল। জানালার পর্দা বাতাসে ধীরে ধীরে দুলে উঠলো। বাইরে চাঁদের ম্লান আলো ঘরের ভিতর প্রবেশ করে তাদের মুখ ছুঁয়ে রইল।

______

গভীর রাত। আকাশে একটিও তারা নেই, শুধু মেঘের আবছায়ায় ঢেকে থাকা চাঁদের আভা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এমন সময় একটি বিবর্ণ পিকআপ ট্রাক এসে এক বিশাল রিগ ট্রাকের সামনে থামল। রিগটা আগে থেকেই খানিকটা গা ঢাকা দিয়ে পথের ধারের নির্জনতায় দাঁড়িয়ে ছিল। এক বলিষ্ঠ মধ্যবয়সী ব্যক্তি পেছনের টায়ার খুলে নীচু হয়ে কাজ করছিল। সে একজন বন্দুক চোরাকারবারি।

অল্প কিছুক্ষণ পর পিকআপের দরজা ঠাস করে খুলে নামল শেফ। সে ধীরে ধীরে রিগ ট্রাকের দিকে এগিয়ে আসল। তার এক হাতে ধরা চেইন শোটা থেমে থেমে গড়গড় আওয়াজ তুলছিল। তখনও ট্রাক ড্রাইভার তার উপস্থিতি টের পায়নি। ঠিক যখন সে টায়ারটি লাগাতে যাচ্ছিল, তখনই সামনে একটি অবয়বের ছায়া পড়ল। ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল সে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই যে চোখ দুটি সে দেখল, তাতে তার মেরুদণ্ড বেয়ে শীতল স্রোত নামল।

সে কাঁপা গলায় ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করল, "Who... who are you?"

শেফ নীরব। তার চোখ দেখে মনে হচ্ছিল, বহু দিন পর আবার তার শিকারের ক্ষুধা জেগে উঠেছে।

ড্রাইভার ঠোঁট কামড়ে ধৈর্য ধরে নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করল। ভেতরে ভেতরে তীব্র ভয় জমতে থাকল। কিন্তু তার ট্রাকে লুকিয়ে আছে অবৈধ অস্ত্র, গাঁজা, আর একখানা ৯-মিলিমিটারের পিস্তল। সেই সাহসে সে গলা শক্ত করে চিৎকার করে উঠল, "I said, who the hell are you?"

শেফ তবুও নিশ্চুপ। ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি ফুটে উঠেছে। ড্রাইভারের বুকের ভিতর হৃৎস্পন্দন দ্রুত হতে লাগল, কপাল বেয়ে ঘামের বিন্দু বিন্দু কণা গড়িয়ে পড়তে থাকল।

তবু সে হাল ছাড়লো না; এই দুনিয়ায় নবীন নয়—বহুবার পুলিশের দিকে বন্দুক তুলেছে, র*ক্তে রাঙিয়েছে হাত, মৃ*ত্যুর তপোবন থেকে বেঁচে ফিরেছে। তাই সে ঝাঁপিয়ে পড়ে ট্রাকের দরজা খুলে পিস্তল বের করার চেষ্টা করল। কিন্তু তার আগেই শেফের অন্য হাতে থাকা অটো-ইনজেক্টর সিরিঞ্জের ছুঁচলো অগ্রভাগ ড্রাইভারের ঘাড়ের ক্যারোটিড ধমনির ঠিক পাশে সজোরে ফুটিয়ে দিল। হাইপার-অ্যাড্রেনালিন, ভ্যাসোপ্রেসার আর র*ক্ত-জমাটকারী এজেন্টের কারণে র*ক্তনালীগুলো সংকুচিত হয়ে পাথর হয়ে যাবে, ফলে ভেতরের অঙ্গ কাটলেও র*ক্ত বের হয়ে সে সহজে ম'রবে না।

তারপর শেফ তার চেইন শোটা পুরো শক্তিতে চালু করে দিল। বিকট শব্দে আছড়ে পড়ল লোহার ছটা। ড্রাইভারের গলার ঘাম ঘন হয়ে টুপটাপ করে ঝড়ে পড়ছে। সে পকেট থেকে বন্দুক টেনে বের করে ট্রিগারে আঙুল ছোঁয়াল, যদিও তার হাত কাঁপছিল।

🔺রেড অ্যালার্ট: অতিরিক্ত মানসিক প্রস্তুতি না থাকলে নিচের অংশ না পড়াই উত্তম।

ড্রাইভার ট্রিগারে চাপ দেওয়ার আগেই একটা মোটা লোহার চেইন তার পেটের জামা ছিঁ*ড়ে ঠিক মাঝ বরাবর ঢু*কে পড়ল। সেই চেইনের শেষে এক বিশেষ কনট্যুর-ডিজাইন্ড ব্লে*ড বসানো ছিল। মুহূর্তেই ব্লে*ডের মাথাটা পাক খেতে খেতে অন্ত্র ছি*ন্ন করতে করতে পেটের গভীরে ঢু*কে পড়ল। ড্রাইভারের চোখ বিস্ফোরিত হলো, ঠোঁট কেঁপে উঠে একবারের জন্য তার গলা থেকে একটা গরগর শব্দ বেরিয়ে এলো।

শেফ ঠান্ডা হাতে চেইনটা ধীরে ধীরে ভেতরে ঠেলে দিল। ব্লে*ড ঘুরতে ঘুরতে ভিতরের টিস্যু, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আঁকড়ে ধরল। পে*ট ফুঁ*ড়ে প্রথমে লালচে র*ক্তে ভিজে থাকা এক ঝলক পাতলা, সাদা-নীলাভ অন্ত্র বেরিয়ে এলো। একটার পর একটা টেনে বের করতে করতে অবশেষে আধা-পঁচা খাবারে ভরা, ঘিনঘিনে তরলে সিক্ত পাকস্থলী বেরিয়ে এলো।

শেফ সেটাকে এক ঝাঁকুনিতে মাটিতে ছুঁড়ে ফেলল। থলিটা ফে*টে গিয়ে ভিতরের তরল চারদিকে ছিটকে পড়ল। একটা পচা ডিম আর বাসি মাংসের সংমিশ্রিত গন্ধে গা গুলিয়ে উঠল ড্রাইভারের। এরপর ছিঁ*ড়ে গেল চর্বি, ছি*ন্ন হলো পেশি, ছিঁ*ড়ে গেল মূত্রথলি। এই মুহূর্তেই ড্রাইভারের গলা থেকে একটা চাপা চিৎকার বেরিয়ে এলো। অর্থাৎ এতক্ষণে নিজের অঙ্গ হারানোর প্রথম বোধটা মাথায় পৌঁছেছে।

সে ছটফট করতে লাগল, দু’হাতে পেট চেপে ধরল, কিন্তু আঙুলের ফাঁক গলে আঠালো র*ক্ত, ছেঁ*ড়া অন্ত্র, আধা বি*চ্ছিন্ন লিভার নিচে পড়ছিল। তার নখর আঁকড়ে ধরতে চাইল ভিতরের অঙ্গগুলো, যেন সেগুলোকে শরীরে ফেরত আনা যায়, কিন্তু লাভ করতে পারল না কিছুই। ট্রাকের বাহিরটা তখন র*ক্তে সিক্ত হয়ে চর্বি আর তরলে পিছল হয়ে গেল।

ড্রাইভারের চোখ ঘোলা, মুখ অর্ধখোলা। এমন সময় শেফ ব্লে*ডটা পেট থেকে বুক বরাবর ছিঁ*ড়ে তুলল। ধারালো, র*ক্তস্নাত ফলাটা জামার ছেঁ*ড়া কাপড় ঠেলে উঠে এলো। ব্লে*ডের ডগায় ঝুলছিল মাং*স, চর্বি, র*ক্তসিক্ত চামড়া।

এবার ড্রাইভারের চোখ উলটে গেল। সে মুখ হা করে বমি করল, কিন্তু পচা খাদ্যের বদলে জমাট বাঁধা, লালচে কালো র*ক্তের দলা বেরিয়ে এলো। যা ছিটকে গিয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে পড়ল।

সে কেঁপে কেঁপে শেফের দিকে তাকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করল। ফুসফুসের শেষ কোণাগুলো থেকে শ্বাস টেনে নিয়ে ভাঙা গলায় বলতে চাইল, "হো... য়াই ডু ই... ইউহ ওয়া... ওয়ান্ট টু কি'ল মি? হো... য়াট হ্যাভ আই ডান টুহ... ইউ?"

তবু শেফ নিস্পৃহ রইল। সে শুধুই মাথাটা খানিকটা নীচু করে ড্রাইভারের র*ক্তাক্ত, বি*কৃত মুখটার দিকে চাইল।

না, ড্রাইভার তার সঙ্গে কিছুই করেনি। কিন্তু সে ভুল করেছে এমন একজনের সঙ্গে, যার অস্তিত্ব শেফের নিজের র*ক্তচক্রের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

শেফের দৃষ্টি শানিত হয়ে উঠল। মনে হচ্ছিল, যে কোনো মুহূর্তে দৃষ্টির তীব্রতায় চোখজোড়া ফেটে বেরিয়ে আসবে। তার চোয়াল দৃঢ় সংকল্পে আঁটসাঁট হয়ে উঠলো। সে একবার ঘাড় ঘুরিয়ে চারদিকে মাথাটা ঘোরাতে লাগল।

এদিকে ড্রাইভারের শরীরের ভার শূন্য হয়ে এসেছে, সে কাঁপতে কাঁপতে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল। তবুও শেষ শক্তিটুকু দিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে ফিসফিস করে বলল, "ইফ... ইফ...আই’ভ হার্ট ইউহ...অর ডান সাম... সামথিং রং, আ...আই সিন...সিয়ারলি অ্যাপলজাইজ। প...প্লিজ লেট মিহ গোহ..."

এটা কর্ণগোচর করে শেফ উচ্চস্বরে হেসে উঠল। তার গলার ভয়াবহ হাসি শুনে ড্রাইভারের মনে হল, সে শয়তানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। শেফ এবার সামনের দিকে এক পা এগিয়ে এলো। গভীর কণ্ঠে বলল, "ক্ষমা? ক্ষমা নামের দুর্বলতা আমার ভোকাবুলারি থেকে বহু আগেই নির্বাসিত। ক্ষমা হল দুর্বলদের অস্ত্র, কাপুরুষদের সান্ত্বনা। আমি সে দলে পড়ি না। এ শব্দ আমার ডিকশনারিতে না ছিল, না আছে, না কখনো থাকবে। ক্ষমার ধারণাটাই আমার কাছে অপরাধ মনে হয়।"

শেফ ধীরে ধীরে নীচু হয়ে গেল। ড্রাইভারের কোমর বরাবর সোজা ব্লেডের ছুঁচলো ধার চালিয়ে দিল। তারপর বাঁ হাতে রা*মদা তুলে, পাকস্থলীর দুই প্রান্ত কে*টে দু’পাশে ফাঁ*ক করে ধরল। পেটের ভেতরটায় তখন গুহার মতো গর্ত তৈরি হলো। সে চুপচাপ ভেতরে হাত ঢুকিয়ে একে একে অন্ত্রনালির সর্পিল পাক উলটে আনতে লাগল।

সেই গ*র্তের ভেতর থেকে ছেঁড়া পাকস্থলী বেরিয়ে এলো। শেফ ওগুলো একের পর এক ছিঁ*ড়ে ছিঁড়ে ট্রা*কের একপাশে ছুঁড়ে দিচ্ছিল। তবে ওখানেই থামেনি সে।

তারপর আঙুল ঢুকিয়ে চেপে ধরল অগ্ন্যাশয়। এক তীব্র টানেই ছিঁ*ড়ে ফেলল সেটা। সেই মুহূর্তে ড্রাইভারের মুখ দিয়ে সাদা ফেনা বেরিয়ে এলো, গলা দিয়ে কক কক শব্দ হলো। শেফ নিচু হয়ে দুই আঙুলের ফাঁকে মূত্রথলি টেনে বের করল—ফেটে যাওয়া ফোঁড়ার মতো ছিঁ*ড়ে প্রস্রাব-মল মিশ্রিত নোংরা তরল বেরিয়ে এলো, যেটা ছিটকে তার পায়ের কাছে পড়ল। দু’হাত দিয়ে পেটের ভেতরটা ফাঁক করে ধরল। ডান পাশে ধরা পড়ল দুটো কিডনি। সে একটাকে তুলে এনে এক নিশ্বাসে কামড়ে ছিঁ*ড়ে ফেলল।

ড্রাইভার তখনো বেঁচে আছে, কিন্তু গলার শ্বাসনালি উলটে মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিল। চোখ দুটো আকাশের দিকে তাকিয়ে ছটফট করে শেষ আকুতি জানাচ্ছিল। হয়ত তার ঈশ্বরকে ডাকছে, কিন্তু ঈশ্বরও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

তার দেহ খিঁচুনি খেতে খেতে ছটফট করতে লাগল। চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু কণ্ঠ ভেদ করে আওয়াজ বের হলো না।

এদিকে একপাশে কালচে রঙের, গাঢ় তরলে ভেজা ক্লেদাক্ত যকৃৎ পড়ে ছিল। সেটার গায়ের ধমনি তখনো কাঁপছিল।

শেফ সেটা হাতে তুলে চোখের সামনে একবার ঘুরিয়ে দেখল। তারপর সেটায় দাঁত বসিয়ে একদম ধীরভাষ্যে বলল, "তোর লিভারটা টক, এটাই তোর দোষ।"

সেসময় চালকের উদগ্রীব কণ্ঠের প্রশ্নের উত্তর উচ্চারণ করল সে। যদিও সে আমেরিকান, বাংলা ভাষার বোধগম্যতা তার নেই। এ সত্য শেফও অবগত, তবু হয়ত কৌতুকপ্রবণ মনোভাবে পরিস্থিতির রস আস্বাদন করতেই এভাবে কথা বলল।

হঠাৎ শেফ তার বুকের মাঝখানে নিজের শক্ত হাত ঢু*কিয়ে চে*পে ধরল হৃৎপিণ্ডটা। তারপর একটা হিংস্রতম টান দিল। ধমনি উপড়ে র*ক্ত ছিটকে ছিঁ*ড়ে গেল অঙ্গটা। ফোয়ারার মতো গলগল করে র*ক্ত উগরে পড়ল শেফের মুখে, কপালে, চোখের পাতায়। তবু শেফ সেই কাঁপতে থাকা হৃৎপিণ্ডের দিকে তাকিয়ে রইল। ঠোঁটের কোণে বিকৃত হাসি এনে সেখানেও দাঁত বসাল, এক কামড়ে চিবিয়ে ছিঁ*ড়ে নিল।

সে একবার ড্রাইভারের দিকে তাকিয়ে র*ক্তাক্ত হৃৎপিণ্ডটা তার মুখে গুঁজে দিল। যতক্ষণ না তার গলার নিচে আটকে যায়, ততক্ষণ মুখের মধ্যে ঠেলতে থাকল।

ড্রাইভারের দেহ কাঁপছিল। কিন্তু তখনো সে জীবিত ছিল। শুধু চোখ দুটো অসহায়ের মতো তার নিজের ছিঁ*ড়ে-খাওয়া হৃদয়ের বক্ষ স্থানের দিকে তাকিয়ে ছিল।

দেহের ভেতরের প্রতিটি অলিগলি শেফ জানে। সে পিছন দিক থেকে আঙুল চালিয়ে খুঁজে বের করল ডানদিকের কিডনি। একটানে ছিঁড়ে ফেলল সেটাও। স্নায়ুর শেষপ্রান্ত ছিঁ*ড়ে র*ক্ত চুঁইয়ে পড়ল। তার পায়ের নিচে জমে থাকা গাঢ় তরলে কিডনির ছায়া প্রতিফলিত হলো।

ড্রাইভারের চোখের পানিতে ভিজে গেছে তার গলা, বুক। শেফ এবার বাঁ হাত দিয়ে তার বক্ষস্থল চেপে ধরল। ঠান্ডা হাতে ট্রেঞ্চ কোটের ভেতরে, পিঠের সাথে আটকে রাখা ভারী রামদাটি টেনে বের করল। কাঁপতে থাকা বক্ষপিঞ্জর কেটে কেটে মাঝ বরাবর চি*রে দিল।

ধারালো ব্লে*ড হাড় ফুঁড়ে গ্ল্যান্ড ছেদ করে চুঁইয়ে চুঁইয়ে র*ক্ত বেরিয়ে আসল। ড্রাইভারের দেহটা শেষবারের মতো আকস্মিক ঝাঁকুনি দিয়ে উঠল—মস্তিষ্কের স্নায়ু তীব্র ধাক্কায় দেহের প্রান্তে শেষ স্পন্দন পাঠাল। মাথাটা হঠাৎ করেই দুলে পড়ল একপাশে, ঘাড়ের শিরদাঁড়ার সংযোগ আলগা হয়ে নিথর হয়ে গেল। র*ক্তের লালাভ রেখা চুঁইয়ে পড়ল নাকে, গালে, চোয়ালের কিনার ধারে। তারপর নিস্তব্ধতা।

তবু শেফের খেলা এখানেই শেষ হয়নি। সে ঠান্ডা মুখে ঝুঁকে এলো। এক নিশ্বাসে কোমর বরাবর তার দেহটিকে ব্লে*ডের ধারালো টান দিয়ে চি*রে ফেলল। ড্রাইভারের ট্রাউজারের ভাঁজ ফে*টে গিয়ে চামড়া, স্নায়ু আর মাংস ছিঁ*ড়ে গেল। সেই চি*রে ফেলা দেহপিণ্ডের নিচে তখন একজোড়া অ*ণ্ড*কো*ষ লটকে ছিল।

শেফ এবার নিচু হয়ে বসল। হাতের র*ক্তমাখা ব্লে*ডটাকে ঘষে ঘষে আরও শানিত করল। তারপর প্রথমবার ডান অ*ণ্ড*কো*ষে ব্লে*ড বসাল, কিন্তু তা একটানে কা*টল না। মাংস ছিঁ*ড়ল, ধমনি ছিঁ*ড়ল, সাদা স্নায়ুর নলগুলি কেঁপে কেঁপে ওঠা শুরু করল। সে এবার ধীরে ধীরে খোঁচাতে খোঁচাতে ছেঁচড়ে পুরোটা কে*টে ফেলল। হঠাৎ একটি ফাটল থেকে ছিটকে দুধের মতো সাদা তরল বেরিয়ে এলো। পাশের কংক্রিট র*ক্ত আর শুকিয়ে যাওয়া শুক্রাণুর মিশেলে ভিজে উঠল।

এরপর তীক্ষ্ণ, নীলাভ ব্লেড দিয়ে ধীরে ধীরে মাংসপেশি ছিঁ*ড়তে ছিঁ*ড়তে বাম অ*ণ্ড*কো*ষটাও কা*টল।

পিছলিয়ে একসাথে ধমনি, স্নায়ু আর জমাট র*ক্তের দলা বেরিয়ে এলো। তারপর সেটাকে উল্টেপাল্টে দেখতে দেখতে তীক্ষ্ণ চোখে কণ্ঠে বিকৃত কোমলতা এনে শেফ বলল, "পু*রুষত্বের এই টুকরোগুলোকে একটার সাথে একটা গেঁথে যদি নেকলেস বানিয়ে ব্ল্যাকরোজের গলায় পরিয়ে দিই, তবে কি ওকে আরো ভয়াবহ সুন্দর লাগবে?"

🍁চলবে?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন