রাত ১টা ১৫। মন্ত্রী ফারুকের বাড়ি।
ফারুক অজ্ঞান। হাসপাতালে। ২৪ ঘন্টার সিকিউরিটি।
আরিয়ান: "এবার M ঢুকতে পারবে না।"
রাফি: "স্যার ইন্সপেক্টর হাসানের বদলে আমরা ফারুককে বাঁচাইছি। ৩-১।"
আরিয়ান: "কিন্তু M হার মানে না। ও আবার আসবে।"
ঠিক তখনই আরিয়ানের ফোন। Unknown।
M: "অফিসার, ঘুম আসতেছে?"
আরিয়ান: "তুই কি চাস M?"
M: "৪৭ ঘন্টা। মনে আছে? এখন বাকি আছে ৪৬ ঘন্টা ১০ মিনিট।"
আরিয়ান: "ফারুকের কাছে ২০ জন আর্মি। তুই ছুঁতেও পারবি না।"
M হাসল: "দেখি। আর হ্যাঁ... হাসপাতালের নার্সদের সাবধান কইরেন।"
টুট।
---
সকাল ৬টা। হাসপাতাল।
আরিয়ান দৌড়ে গেল।
রুম ফাঁকা। জানালা খোলা। বেডে শুধু চাদর।
নার্স কাঁদতেছে: "স্যার ৫টা ৩০ এ একজন ডাক্তার আসছিল। মাস্ক পরা। বলল ইমারজেন্সি ইনজেকশন। তারপর..."
আরিয়ান জানালা দিয়ে নিচে তাকাল।
নিচে লাশ। মন্ত্রী ফারুক। ১০ তলা থেকে ফেলা।
বুকের উপর কাগজ: "৪-০। হিসাব বরাবর। - M"
সময়: সকাল ৫টা ৪০।
আরিয়ান দেওয়ালে ঘুষি মারল: "আর্মি থাকতেও... কিভাবে?"
---
দুপুর ১২টা। CID অফিস।
টিভিতে ব্রেকিং নিউজ: "মন্ত্রী ফারুকের রহস্যজনক মৃত্যু।"
৪৭ ঘন্টার মধ্যে ৪ জনই শেষ।
রাফি: "স্যার আমরা ফেইল করলাম।"
আরিয়ান: "না। M জিতছে।"
টেবিলে নতুন খাম। ডাকপিয়ন দিয়ে গেছে।
ভিতরে ১টা পেনড্রাইভ আর চিঠি।
চিঠি: "অফিসার,
আমি বলছিলাম না? আপনি ধরলে আইন। আমি ধরলে ন্যায়।
৪-০ তে আমি জিতলাম।
এই পেনড্রাইভে বাকি ৪৩ জনের নাম, ঠিকানা, প্রমাণ।
এবার আপনি কি করবেন?
আইন মানবেন নাকি সবাইকে ছেড়ে দিবেন?
সিদ্ধান্ত আপনার। ৭২ ঘন্টা।
- M"
আরিয়ান পেনড্রাইভ হাতে নিয়ে কাঁপল।
---
রাত ৯টা। আরিয়ানের ফ্ল্যাট।
আরিয়ান পেনড্রাইভ ল্যাপটপে ঢুকাল।
৪৩টা ফোল্ডার। প্রতিটাতে ভিডিও, অডিও, ব্যাংক হিসাব।
বিচারপতি, পুলিশ, নেতা, ডাক্তার, শিক্ষক।
মায়া পাশে বসে: "স্যার এতজন?"
আরিয়ান: "হ্যাঁ মায়া। ১২ বছরে ৫০০+ মেয়ে।"
ফোন বাজল। Unknown।
M: "দেখছেন অফিসার?"
আরিয়ান: "তুই আমাকে ফাঁদে ফেলছিস।"
M: "না। আমি আপনাকে সুযোগ দিচ্ছি। ৪৩ জনকে একসাথে ধরেন। প্রেস কনফারেন্স করেন। দেশ জানুক।"
আরিয়ান: "আর যদি না করি?"
M: "তাহলে আমি করব। একে একে। ৪৭ ঘন্টা করে।"
আরিয়ান: "তুই খুনি M।"
M: "আর আপনি? আপনি চুপ করে ছিলেন ১২ বছর। এখন কে বড় খুনি অফিসার?"
টুট।
---
রাত ১২টা।
আরিয়ান ছাদে। সিগারেট হাতে।
মায়া পিছনে: "স্যার কি করবেন?"
আরিয়ান: "জানি না মায়া। আইন মানলে ৪৩ জনের ৫ জনও শাস্তি পাবে না। টাকায় ছাড়া পাবে।
আর M এর হাতে ছাড়লে... সবাই মরবে।"
মায়া: "তাহলে?"
আরিয়ান: "তৃতীয় রাস্তা বের করতে হবে।"
---
রাত ১২টা ০১।
আরিয়ানের ফোনে কাউন্টডাউন শুরু: "৭১:৫৯:৫৯"
আর শহরের অন্য প্রান্তে, ছাদের রেলিং এ বসে কালো হুডি পরা মেয়েটা ঘড়ি দেখল।
বিড়বিড় করল: "সময় শুরু অফিসার।"
-------
-----------
রাত ১২টা ০৫। আরিয়ানের ছাদ।
ফোনে কাউন্টডাউন: "৭১:৫৮:০"
আরিয়ান: "তৃতীয় রাস্তা বের করতে হবে মায়া।"
মায়া: "স্যার M আবার কিছু করবে না তো?"
আরিয়ান: "করবে। ওয়েট করবে না।"
ঠিক তখনই ফোন। Unknown।
M: "অফিসার, গুড নাইট।"
আরিয়ান: "কি করছিস?"
M: "৫ম নাম কাটলাম। লিস্ট থেকে।"
আরিয়ান: "কে?"
M: "খবর দেখেন। ১০ মিনিট পর ব্রেকিং আসবে।"
টুট।
---
রাত ১২টা ২০। নিউজ চ্যানেল। ব্রেকিং।
"বিচারপতি আনোয়ার হোসেনের বাসায় আগুন। লাশ উদ্ধার।
টেবিলে চিরকুট: '৩০টা মেয়ের রায় বিক্রি করেছ। হিসাব শেষ। - M'"
রাফি ফোনে চিৎকার: "স্যার! বিচারপতি আনোয়ার! ওনার বাসায় গ্যাস লিক করায় আগুন!"
আরিয়ান টিভি বন্ধ করে দিল: "৫-০ হয়ে গেল..."
মায়া: "স্যার এভাবে তো সবাই মরবে।"
---
সকাল ৭টা। CID অফিস।
আরিয়ান পেনড্রাইভ নিয়ে বসে। ৪৩ জনের মধ্যে ৫ জন কাটা।
বাকি ৩৮ জন।
IG ঢুকল: "আরিয়ান, উপর থেকে অর্ডার। এই কেস তুমি ছাড়ো। নাহলে সাসপেন্ড।"
আরিয়ান: "স্যার ৫ জন মরে গেছে। আর ৩৮ জন বাকি।"
IG: "তাই তো বলি ছাড়ো। M যা করতেছে করতে দাও। তোমার চাকরি বাঁচাও।"
আরিয়ান উঠে দাঁড়াল: "স্যার আমি পুলিশ। খুনিকে ধরাই আমার কাজ। M কে ধরব। আর ৩৮ জনকেও ধরব।"
IG রেগে বের হয়ে গেল।
---
দুপুর ২টা।
আরিয়ান ৪৩ জনের লিস্ট নিয়ে বসল। সবচেয়ে পাওয়ারফুল ৩ জনকে মার্ক করল।
1. মন্ত্রী কামাল
2. SP রাশেদ
3. ডাক্তার সাব্বির
আরিয়ান রাফিকে: "এই ৩ জনের বাসায় ২৪ ঘন্টা নজর। M টার্গেট করবে ওদের।"
রাফি: "স্যার আপনি কি প্ল্যান করছেন?"
আরিয়ান: "M কে ফাঁদে ফেলব। ও যাকে মারতে আসবে, আমি ওখানেই থাকব।"
---
রাত ১টা ৫০। মন্ত্রী কামালের বাড়ি।
আরিয়ান + ১৫ জন পুলিশ লুকানো।
১১টা ৫৯। জানালার কাঁচ ভাঙার শব্দ।
সবাই দৌড়। ছাদে।
কালো বোরকা পরা একটা ছায়া। হাতে সিরিঞ্জ।
আরিয়ান: "M! থামো!"
ছায়া ঘুরে তাকাল। মুখ ঢাকা। শুধু চোখ দেখা যায়।
M: "দেরি করে ফেলছেন অফিসার।"
আরিয়ান: "আর ১ জনও মরবে না।"
M হাসল: "তাহলে ধরেন আমাকে।"
দৌড়। ছাদ থেকে লাফ।
আরিয়ানও লাফ দিল।
---
*সিন শেষ:*
রাত ১২টা ০৩।
গলিতে শুধু আরিয়ান। M নাই।
কিন্তু মাটিতে পরে আছে একটা লকেট। মেয়েদের লকেট। ভিতরে ছবি।
আরিয়ান লকেট হাতে নিয়ে বিড়বিড় করল: "M... তুই মেয়ে।"
আর ফোনে মেসেজ: "৬-০ করতে চাইছিলাম। মিস হয়ে গেল। নেক্সট টাইম অফিসার। - M"
কাউন্টডাউন: "৭০:৫৯:০"