ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিলেন

৩১তম পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

রাত ১টা ১৫। মন্ত্রী ফারুকের বাড়ি।

ফারুক অজ্ঞান। হাসপাতালে। ২৪ ঘন্টার সিকিউরিটি। 

আরিয়ান: "এবার M ঢুকতে পারবে না।"

রাফি: "স্যার ইন্সপেক্টর হাসানের বদলে আমরা ফারুককে বাঁচাইছি। ৩-১।" 

আরিয়ান: "কিন্তু M হার মানে না। ও আবার আসবে।"

ঠিক তখনই আরিয়ানের ফোন। Unknown।

M: "অফিসার, ঘুম আসতেছে?" 

আরিয়ান: "তুই কি চাস M?" 

M: "৪৭ ঘন্টা। মনে আছে? এখন বাকি আছে ৪৬ ঘন্টা ১০ মিনিট।" 

আরিয়ান: "ফারুকের কাছে ২০ জন আর্মি। তুই ছুঁতেও পারবি না।" 

M হাসল: "দেখি। আর হ্যাঁ... হাসপাতালের নার্সদের সাবধান কইরেন।" 

টুট।

---

সকাল ৬টা। হাসপাতাল।

আরিয়ান দৌড়ে গেল। 

রুম ফাঁকা। জানালা খোলা। বেডে শুধু চাদর।

নার্স কাঁদতেছে: "স্যার ৫টা ৩০ এ একজন ডাক্তার আসছিল। মাস্ক পরা। বলল ইমারজেন্সি ইনজেকশন। তারপর..."

আরিয়ান জানালা দিয়ে নিচে তাকাল। 

নিচে লাশ। মন্ত্রী ফারুক। ১০ তলা থেকে ফেলা। 

বুকের উপর কাগজ: "৪-০। হিসাব বরাবর। - M" 

সময়: সকাল ৫টা ৪০।

আরিয়ান দেওয়ালে ঘুষি মারল: "আর্মি থাকতেও... কিভাবে?"

---

দুপুর ১২টা। CID অফিস।

টিভিতে ব্রেকিং নিউজ: "মন্ত্রী ফারুকের রহস্যজনক মৃত্যু।" 

৪৭ ঘন্টার মধ্যে ৪ জনই শেষ।

রাফি: "স্যার আমরা ফেইল করলাম।" 

আরিয়ান: "না। M জিতছে।"

টেবিলে নতুন খাম। ডাকপিয়ন দিয়ে গেছে।

ভিতরে ১টা পেনড্রাইভ আর চিঠি।

চিঠি: "অফিসার, 

আমি বলছিলাম না? আপনি ধরলে আইন। আমি ধরলে ন্যায়। 

৪-০ তে আমি জিতলাম।

এই পেনড্রাইভে বাকি ৪৩ জনের নাম, ঠিকানা, প্রমাণ।

এবার আপনি কি করবেন?

আইন মানবেন নাকি সবাইকে ছেড়ে দিবেন?

সিদ্ধান্ত আপনার। ৭২ ঘন্টা।

- M"

আরিয়ান পেনড্রাইভ হাতে নিয়ে কাঁপল।

---

রাত ৯টা। আরিয়ানের ফ্ল্যাট।

আরিয়ান পেনড্রাইভ ল্যাপটপে ঢুকাল। 

৪৩টা ফোল্ডার। প্রতিটাতে ভিডিও, অডিও, ব্যাংক হিসাব। 

বিচারপতি, পুলিশ, নেতা, ডাক্তার, শিক্ষক।

মায়া পাশে বসে: "স্যার এতজন?" 

আরিয়ান: "হ্যাঁ মায়া। ১২ বছরে ৫০০+ মেয়ে।"

ফোন বাজল। Unknown।

M: "দেখছেন অফিসার?" 

আরিয়ান: "তুই আমাকে ফাঁদে ফেলছিস।" 

M: "না। আমি আপনাকে সুযোগ দিচ্ছি। ৪৩ জনকে একসাথে ধরেন। প্রেস কনফারেন্স করেন। দেশ জানুক।" 

আরিয়ান: "আর যদি না করি?" 

M: "তাহলে আমি করব। একে একে। ৪৭ ঘন্টা করে।" 

আরিয়ান: "তুই খুনি M।" 

M: "আর আপনি? আপনি চুপ করে ছিলেন ১২ বছর। এখন কে বড় খুনি অফিসার?" 

টুট।

---

রাত ১২টা।

আরিয়ান ছাদে। সিগারেট হাতে। 

মায়া পিছনে: "স্যার কি করবেন?"

আরিয়ান: "জানি না মায়া। আইন মানলে ৪৩ জনের ৫ জনও শাস্তি পাবে না। টাকায় ছাড়া পাবে। 

আর M এর হাতে ছাড়লে... সবাই মরবে।"

মায়া: "তাহলে?" 

আরিয়ান: "তৃতীয় রাস্তা বের করতে হবে।"

---

রাত ১২টা ০১। 

আরিয়ানের ফোনে কাউন্টডাউন শুরু: "৭১:৫৯:৫৯"

আর শহরের অন্য প্রান্তে, ছাদের রেলিং এ বসে কালো হুডি পরা মেয়েটা ঘড়ি দেখল। 

বিড়বিড় করল: "সময় শুরু অফিসার।"

-------

-----------

রাত ১২টা ০৫। আরিয়ানের ছাদ।

ফোনে কাউন্টডাউন: "৭১:৫৮:০" 

আরিয়ান: "তৃতীয় রাস্তা বের করতে হবে মায়া।"

মায়া: "স্যার M আবার কিছু করবে না তো?" 

আরিয়ান: "করবে। ওয়েট করবে না।"

ঠিক তখনই ফোন। Unknown।

M: "অফিসার, গুড নাইট।" 

আরিয়ান: "কি করছিস?" 

M: "৫ম নাম কাটলাম। লিস্ট থেকে।" 

আরিয়ান: "কে?" 

M: "খবর দেখেন। ১০ মিনিট পর ব্রেকিং আসবে।" 

টুট।

---

রাত ১২টা ২০। নিউজ চ্যানেল। ব্রেকিং।

"বিচারপতি আনোয়ার হোসেনের বাসায় আগুন। লাশ উদ্ধার। 

টেবিলে চিরকুট: '৩০টা মেয়ের রায় বিক্রি করেছ। হিসাব শেষ। - M'"

রাফি ফোনে চিৎকার: "স্যার! বিচারপতি আনোয়ার! ওনার বাসায় গ্যাস লিক করায় আগুন!" 

আরিয়ান টিভি বন্ধ করে দিল: "৫-০ হয়ে গেল..."

মায়া: "স্যার এভাবে তো সবাই মরবে।"

---

সকাল ৭টা। CID অফিস।

আরিয়ান পেনড্রাইভ নিয়ে বসে। ৪৩ জনের মধ্যে ৫ জন কাটা। 

বাকি ৩৮ জন।

IG ঢুকল: "আরিয়ান, উপর থেকে অর্ডার। এই কেস তুমি ছাড়ো। নাহলে সাসপেন্ড।" 

আরিয়ান: "স্যার ৫ জন মরে গেছে। আর ৩৮ জন বাকি।" 

IG: "তাই তো বলি ছাড়ো। M যা করতেছে করতে দাও। তোমার চাকরি বাঁচাও।" 

আরিয়ান উঠে দাঁড়াল: "স্যার আমি পুলিশ। খুনিকে ধরাই আমার কাজ। M কে ধরব। আর ৩৮ জনকেও ধরব।"

IG রেগে বের হয়ে গেল।

---

দুপুর ২টা।

আরিয়ান ৪৩ জনের লিস্ট নিয়ে বসল। সবচেয়ে পাওয়ারফুল ৩ জনকে মার্ক করল। 

1. মন্ত্রী কামাল

2. SP রাশেদ

3. ডাক্তার সাব্বির

আরিয়ান রাফিকে: "এই ৩ জনের বাসায় ২৪ ঘন্টা নজর। M টার্গেট করবে ওদের।"

রাফি: "স্যার আপনি কি প্ল্যান করছেন?" 

আরিয়ান: "M কে ফাঁদে ফেলব। ও যাকে মারতে আসবে, আমি ওখানেই থাকব।"

---

রাত ১টা ৫০। মন্ত্রী কামালের বাড়ি।

আরিয়ান + ১৫ জন পুলিশ লুকানো। 

১১টা ৫৯। জানালার কাঁচ ভাঙার শব্দ।

সবাই দৌড়। ছাদে। 

কালো বোরকা পরা একটা ছায়া। হাতে সিরিঞ্জ।

আরিয়ান: "M! থামো!" 

ছায়া ঘুরে তাকাল। মুখ ঢাকা। শুধু চোখ দেখা যায়। 

M: "দেরি করে ফেলছেন অফিসার।" 

আরিয়ান: "আর ১ জনও মরবে না।"

M হাসল: "তাহলে ধরেন আমাকে।" 

দৌড়। ছাদ থেকে লাফ। 

আরিয়ানও লাফ দিল।

---

*সিন শেষ:*

রাত ১২টা ০৩। 

গলিতে শুধু আরিয়ান। M নাই। 

কিন্তু মাটিতে পরে আছে একটা লকেট। মেয়েদের লকেট। ভিতরে ছবি।

আরিয়ান লকেট হাতে নিয়ে বিড়বিড় করল: "M... তুই মেয়ে।"

আর ফোনে মেসেজ: "৬-০ করতে চাইছিলাম। মিস হয়ে গেল। নেক্সট টাইম অফিসার। - M" 

কাউন্টডাউন: "৭০:৫৯:০"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন