ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিলেন

৩২তম পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

রাত ১২টা ০৫। আরিয়ানের ছাদ। ঠান্ডা বাতাস।

ফোনের স্ক্রিনে লাল কাউন্টডাউন: `৭১:৫৮:০০` 

আরিয়ান সিগারেটে লম্বা টান দিল: "তৃতীয় রাস্তা বের করতে হবে মায়া। এভাবে ৪৩ জনকে বাঁচানো যাবে না।"

মায়া: "স্যার M আবার কিছু করবে না তো?" 

আরিয়ান: "করবে। ও ঘড়ি ধরে চলে। ৭২ ঘন্টা পর পর ১টা।"

মায়া নিচে নেমে যায়।

ঠিক তখনই ফোন ভাইব্রেট। Unknown। 

আরিয়ান ছাদের এক কোণে গেল। গলা নামিয়ে ধরল। 

M: "অফিসার, গুড নাইট।" 

আরিয়ান: "কি করছিস?" 

M: "আরেকটা নাম কাটলাম। লিস্ট থেকে।" 

আরিয়ান: "কে রে?" 

M: "খবর দেখেন। ১০ মিনিট পর ব্রেকিং আসবে। আপনি দেরি করলে আমি করি। এটাই নিয়ম। - M" 

টুট।

আরিয়ান ফোন হাত থেকে ফেলে দিল প্রায়।

---

রাত ১২টা ১৮। সব নিউজ চ্যানেল। ব্রেকিং।

এংকর: "চট্টগ্রামের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও সাবেক এমপি রফিকুল ইসলামের পাহাড়তলীর বাসায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু। পুলিশ বলছে গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট। কিন্তু..." 

ক্যামেরা জুম। দেয়ালে রক্ত দিয়ে বড় করে লেখা: 

'১২টা মেয়ের জীবন নষ্ট করেছিস। হিসাব শেষ। - M'

রাফি দৌড়ে আরিয়ানের বাসায় যায় : "স্যার! রফিকুল ইসলাম! ৫ বছর আগে ১২টা কলেজ মেয়ের কেস। সবাইকে টাকা, হুমকি দিয়ে কেস তুলায় নিছিল। " 

আরিয়ান রিমোট ছুড়ে মারল: "৮-০ হয়ে গেল..."

টিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে লাশের পাশে ছোট একটা রুপার লকেট পরে আছে।

টুইটার, ফেসবুক। হ্যাশট্যাগ: #M_হিরো #রফিকুল_শাস্তি

---

সকাল ৭টা। CID অফিস। থমথমে।

টেবিলের মাঝে ৪৩ জনের লিস্ট। ৮ জন লাল কালিতে কাটা। 

নিচে লেখা: `বাকি: ৩৫`

IG হাতে সাসপেনশন লেটার নিয়ে ঢুকল: "আরিয়ান।" 

আরিয়ান সোজা হয়ে দাঁড়াল। 

IG: "উপর থেকে অর্ডার। এই কেস তুমি এখনই ছাড়ো। নাহলে আজকের মধ্যেই সাসপেন্ড। প্রেসার অনেক। পাবলিক M কে সাপোর্ট দিচ্ছে।" 

আরিয়ান: "স্যার ৮ জন মরে গেছে। রফিকুলের ১২টা মেয়ের ফাইল আমি নিজে ইনভেস্টিগেট করছি। প্রমাণ 'নাই' বলে ফাইল বন্ধ করছি। আজকে ও মরছে।" 

IG: "তাই তো বলি ছাড়ো। M যা করতেছে করতে দাও। তুমি চাকরি বাঁচাও।" 

আরিয়ান লেটারটা নিয়ে ছিড়ে ফেলল: "স্যার আমি পুলিশ। খুনিকে ধরাই আমার কাজ। M কে ধরব। আর বাকি ৩৫ জনকেও আদালতে দাঁড় করাব।"

IG রেগে ফায়ার: "নিজের পায়ে কুড়াল মারতেছ আরিয়ান!" 

বের হয়ে গেল।

রাফি দরজা থেকে: "স্যার... আপনি ঠিক করছেন।"

---

দুপুর ২টা। আরিয়ানের কেবিন।

টেবিলে ম্যাপ, ফটো, লিস্ট। 

আরিয়ান লাল মার্কার দিয়ে ৩ জনকে বড় করে সার্কেল করল। 

1. *মন্ত্রী কামাল* - ৮টা রেপ কেস ধামাচাপা, রাজনৈতিক পাওয়ার 

2. *SP রাশেদ* - প্রমাণ নষ্ট, ফাইল গায়েবের কিং 

3. *ডাক্তার সাব্বির* - ভিক্টিমদের মেডিকেল রিপোর্ট পাল্টাতো

আরিয়ান রাফিকে: "শোনো। এই ৩ জনের বাসায় ২৪ ঘন্টা নজর। CCTv, ড্রোন, সাদা পোশাকের টিম। কারেন্ট অফ হলেও জেনারেটর। M এদের টার্গেট করবে। ১০০%।" 

রাফি: "স্যার আপনি কি প্ল্যান করছেন?" 

আরিয়ান চোখ লাল: "M কে ফাঁদে ফেলব। ও যাকে মারতে আসবে, আমি ওখানেই থাকব। এবার আর মিস হবে না।"

মায়া পানি দিয়ে গেল: "স্যার সাবধান। M সাইকো।" 

আরিয়ান: "আমিও মায়া। ওর চেয়ে বড় সাইকো।"

---

রাত ১টা ৩০। মন্ত্রী কামালের বাড়ি। গুলশান।

আরিয়ান + ১৫ জন পুলিশ। সবাই সিভিল। ৩টা স্নাইপার ছাদের পানির ট্যাংকির পিছনে। ২টা ড্রোন আকাশে। 

১১টা ৫৫। পিন পতন নীরবতা। 

১টা ৫৮। পিছনের ১০ ফুট দেয়াল টপকানোর হালকা শব্দ।

আরিয়ান ওয়াকিটকি টিপল: "পজিশন।"

১১টা ৫৯। ছায়া। কালো বোরকা। মাথা থেকে পা ঢাকা। হাতে ছোট ব্যাগ আর সিরিঞ্জ। 

ছায়া ২য় তলার জানালা দিয়ে ঢুকতে যাবে।

আরিয়ান চিৎকার: "M! থামো! হাত উপরে!"

ছায়া থেমে গেল। আস্তে ঘুরল। মুখে কালো মাস্ক। শুধু চোখ দুইটা দেখা যায়। বরফের মতো ঠান্ডা। 

M: "দেরি করে ফেলছেন অফিসার।" 

আরিয়ান: "আর ১ জনও মরবে না। সারেন্ডার কর।"

M মাথা কাত করল। হাসল। শব্দ নাই। 

M: "তাহলে ধরেন।"

দৌড়। ৩ তলা ছাদের কিনারায়। নিচে টিনের চাল। 

লাফ। 

আরিয়ানও লাফ দিল পিছনে।

ট্যাট ট্যাট। ২টা গুলি। মিস। 

ছায়া টিন ভেঙে নিচের গলিতে পরে গেল। ধোঁয়া। 

যখন আরিয়ান নিচে নামল... গলি ফাঁকা।

শুধু মাটিতে পরে আছে একটা রুপার লকেট।

---

রাত ১২টা ০৩। গলি।

আরিয়ান হাঁপাচ্ছে। হাতে লকেট। ভিতরে ১৭-১৮ বছরের মেয়ের ছবি। মাথায় ওড়না। হাসতেছে। 

পিছনে খোদাই: `4.3.19`

--

বাসায় ফিরে রাত ১টা। 

আরিয়ান লকেটটা ফরেনসিক ল্যাবে নিয়ে গেল। UV লাইট, মাইক্রোস্কোপ। 

রাফি পাশে: "স্যার কিছু পাইলেন?" 

আরিয়ান ছবিটা উল্টাল। একদম কোণায়, চুলের ভাঁজে ছোট করে লেখা: `R-07` 

আরিয়ান: "এটা কোড। রফিকুলের কেস ডায়েরির। ২০১৯ সালের ৭ নম্বর ভিক্টিম।"

মায়া: "মানে M আমাদের ফাইল থেকেই নাম্বারিং করতেছে?" 

আরিয়ান চুপ। কপালে ঘাম।

---

ফোন বাজল। Unknown। 

আরিয়ান দরজা বন্ধ করে ধরল। 

M: "লকেট পছন্দ হইছে অফিসার?" 

আরিয়ান: "নুসরাত কোথায়?" 

M: "নিরাপদে। আমি ৫ বছর আগে ওকে পঁচা নালা থেকে তুলছি। রফিকুল ওকে মৃত ভেবে ফেলে দিছিল।" 

আরিয়ান: "তুই কে?" 

M: "যে আপনার ফেলে আসা ফাইলগুলা খুঁজে। আপনি শুধু লিস্টের ৩৮ জনকে ধরেন। নুসরাতের ধারে কাছে যাবেন না। ও আমার সাক্ষী। ৪৭ ঘন্টা বাকি। - M" 

টুট

--

ফোনে মেসেজ। Unknown। 

"৯-০ করতে চাইছিলাম। আপনি বাঁচায় দিলেন। ধন্যবাদ অফিসার। নেক্সট টার্গেট: SP রাশেদ। সময়: ৪৮ ঘন্টা। খেলেন। আমি ওয়েট করব। - M" 

কাউন্টডাউন রিস্টার্ট: `৭০:৫৯:০`

আরিয়ান লকেট শক্ত করে মুঠো করল: "খেলা শুরু M। এবার আমি ধরব তোকে।"

দূর থেকে সাইরেনের শব্দ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন