ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিলেন

৩৭তম পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

"সকাল ১০টা। ঢাকা কোর্ট।"

Wide Shot। 

হাজার মানুষ। পুলিশ। মিডিয়া। হাতে প্ল্যাকার্ড: "We are all M" "Justice for Nur" 

ব্যারিকেড ভাঙার উপক্রম।

ভিতরে কোর্টরুম। AC চলতেছে। কিন্তু গরম। 

জজের চেয়ার খালি। উকিল, সাংবাদিক, পাবলিক গ্যালারি ফুল।

দরজা খুলে। 

*মায়া* ঢোকে। হাতে হাতকড়া। সাদা জেল ড্রেস। চুল বাঁধা। 

সারা কোর্ট চুপ। 

মায়া মাথা উঁচু করে হাঁটে। চোখে পানি নাই।

আরিয়ান পিছনে। সিভিল ড্রেস। চোখ লাল।

PP: Your Honor, আসামি M। ৫টা খুনের দায়ে অভিযুক্ত।

"জেরা"

জজ: নাম? 

মায়া: মায়া চৌধুরী। 

জজ: পেশা? 

মায়া: কলেজ স্টুডেন্ট। আর Murdered Family এর লিডার।

পুরা কোর্টে গুঞ্জন।

PP: তুমি ডাক্তার সাব্বিরকে খুন করছো? 

মায়া: হ্যাঁ। 

PP: উকিল করিমকে? 

মায়া: হ্যাঁ। 

PP: ইন্সপেক্টরকে? 

মায়া: হ্যাঁ। 

PP: কেন? 

মায়া কাঁচের দিকে তাকায়। ক্যামেরার দিকে তাকায়।

মায়া: কারণ আইন ৭ দিন আগে আমার বোন নুরকে বাঁচায় নাই। 

মায়া: কারণ পুলিশ ১ বছর আগে আমার মা-বাবা-ভাইকে বাঁচায় নাই। 

মায়া: কারণ কোর্ট ৬ মাস পরের ডেট দেয়। আর ওরা ৬ ঘন্টার মধ্যে ভিক্টিমকে শেষ করে দেয়।

গ্যালারি থেকে কান্নার শব্দ।

PP: তাহলে তুমি আইন নিজের হাতে তুলে নিলা? 

মায়া: আমি আইন হইছি স্যার। যেদিন রাত ২টা ১৭ তে আমার বাবার লাশের পাশে বসে পুলিশ বলছিল "ডাকাতি", সেদিন।

জজ PP এর দিকে তাকায় তারপর বলে,

জজ: সাক্ষী ডাকেন। 

আরিয়ান উঠে দাঁড়ায়।

PP: আপনি পুলিশ ছিলেন। আসামিকে ধরছেন। এখন ওর পক্ষে বলবেন? 

আরিয়ান: আমি সত্য বলবো স্যার। 

আরিয়ান: আমি ৫ বছর চাকরি করছি। অনেকগুলো কেস ক্লোজ করছি "প্রমাণ নাই" বলে। 

আরিয়ান: মায়া মিথ্যা বলে নাই। সিস্টেম মিথ্যা।

PP: Objection! 

জজ: Let him speak.

আরিয়ান মায়ার দিকে তাকায়: আমি পদত্যাগ করছি। কারণ আমি বুঝছি, বিচার চাইলে আগে অপরাধী হতে হয়।

জজ মায়ার দিকে তাকিয়ে বলে,

তুমি শেষ কিছু বলবা? 

মায়া উঠে দাঁড়ায়। হাতকড়া ঝনঝন।

মায়া: স্যার, আমার নামে ৫টা খুন। 

মায়া: কিন্তু এই শহরে ৪৩টা মেয়ে সুইসাইড করছে "সম্মান" এর ভয়ে। ওদের খুনির নাম কি? 

মায়া খালি লকেটটা বের করে: এইটা আমার বোন নীরার। ওকে ৩ দিন আটকে রেখেছিলো।পরে আমি ওকে উদ্ধার করি। এখন ও মানসিক রোগী হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে।  আজকে আমাকে ফাঁসি দেন। কিন্তু কালকে যখন আরেকটা নুর মরবে, তখন আরেকটা M জন্ম নিবে।

পুরা কোর্ট নিস্তব্ধ।

জজ ২ মিনিট চুপ। কলম হাতে নেয়।

জজ: আসামি মায়া চৌধুরী... 

সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে।

জজ: ...আপনাকে ১০ বছরের জেল দেওয়া হলো। ধারা ৩০২। কিন্তু... 

জজ চশমা খুলে: কোর্ট এই কেস রি-ওপেন করতেছে। চৌধুরী হত্যাকান্ড। রফিকুল চৌধুরীর নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলো।

---

Wide Shot। 

রায় শোনার সাথে গেট খুলে যায়। 

হাজার হাজার মানুষ। হাতে মোমবাতি। প্ল্যাকার্ড। মোবাইলের ফ্ল্যাশ।

স্লোগান: 

"We are all M!" 

"Justice for Nur!" 

"Maya ke chere dao!" 

"System change koro!"

নিউজ চ্যানেল লাইভ। 

রিপোর্টার: "এটা ইতিহাস। ঢাকা কোর্টের সামনে এত মানুষ আমি জীবনে দেখি নাই।"

নুরের মা মাইক হাতে। কাঁদতে কাঁদতে: 

"আমার মেয়েটা ১৯ বছরের ছিল। পুলিশ বলছে ডিপ্রেশন। এই মেয়েটা M ওর বিচার করছে। ওকে ছাইড়া দেন। ও অপরাধী না, ও বিচারক!"

জনতা: "ছাইড়া দাও! ছাইড়া দাও!"

- কলেজের স্টুডেন্টরা

১০০টা মেয়ে। সবার গলায় R-12 লকেট। 

একজন বলে: "আমরা সবাই নুর। আমরা সবাই মায়া। যদি আইন বিচার না করে, আমরা করবো।"

- আরিয়ানের বাবা

বুড়া মানুষ। সাবেক পুলিশ। 

"আমার ছেলে ১০ বছর চাকরি করছে। ও বলছে সিস্টেম পচে গেছে। আমি বাবা হয়ে বলতেছি, মায়াকে মাফ করেন।"

- সোশ্যাল মিডিয়া মন্টাজ টুইটার ট্রেন্ড: #FreeMaya #WeAreAllM 2M টুইট 

ফেসবুক লাইভ: ৫০ লাখ মানুষ দেখতেছে 

টিকটক: মেয়েরা R-12 লকেট বানায় ভিডিও দিতেছে

"জেলের ভিতর। টিভি রুম।"

মায়া একা বসে টিভি দেখতেছে। 

টিভিতে নিজের নামে স্লোগান।

গার্ড এসে বলে: "ম্যাডাম, বাইরে আপনার জন্য ২০ হাজার মানুষ।" 

মায়ার চোখে প্রথমবার পানি আসে।

মায়া ফিসফিস: "নুর... দেখছিস?"

"রাত ১১টা। SP এর অফিস।"

SP ফোনে: "স্যার, সামলানো যাচ্ছে না। জনতা বলতেছে মায়াকে ছাড়তে হবে।" 

মন্ত্রী ওপাশে: "ছাড়া যাবে না। আইন আইনের জায়গায়।" 

SP ফোন রাখে। জানালা দিয়ে বাইরের মোমবাতি দেখে।

SP বিড়বিড়: "আইন... নাকি জনতা?"

- "রাত ১২টা। মায়ার সেল।"

দরজা খুলে। আরিয়ান ঢোকে। সাথে উকিল।

উকিল: মায়া, জনতার চাপে কোর্ট আপিল শুনবে কালকে। জামিনের আবেদন করবো। 

মায়া: লাগবে না। 

আরিয়ান: কেন? 

মায়া A-01 লকেটটা হাতে নেয়: কারণ R-01 এখনো বাইরে। আমি জেলে বসেই ওকে শেষ করবো। 

মায়া: আর জনতা? ওরা আমার উকিল।

আরিয়ান হাসে: তাহলে M এর পরের প্ল্যান কি? 

মায়া জানালা দিয়ে বাইরের মোমবাতি দেখে: 

"কালকে রাত ১টা। রফিকুলের বাড়ি। লাইভ হবে। পুরা দেশ দেখবে।"

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন