"সকাল ১০টা। ঢাকা কোর্ট।"
Wide Shot।
হাজার মানুষ। পুলিশ। মিডিয়া। হাতে প্ল্যাকার্ড: "We are all M" "Justice for Nur"
ব্যারিকেড ভাঙার উপক্রম।
ভিতরে কোর্টরুম। AC চলতেছে। কিন্তু গরম।
জজের চেয়ার খালি। উকিল, সাংবাদিক, পাবলিক গ্যালারি ফুল।
দরজা খুলে।
*মায়া* ঢোকে। হাতে হাতকড়া। সাদা জেল ড্রেস। চুল বাঁধা।
সারা কোর্ট চুপ।
মায়া মাথা উঁচু করে হাঁটে। চোখে পানি নাই।
আরিয়ান পিছনে। সিভিল ড্রেস। চোখ লাল।
PP: Your Honor, আসামি M। ৫টা খুনের দায়ে অভিযুক্ত।
"জেরা"
জজ: নাম?
মায়া: মায়া চৌধুরী।
জজ: পেশা?
মায়া: কলেজ স্টুডেন্ট। আর Murdered Family এর লিডার।
পুরা কোর্টে গুঞ্জন।
PP: তুমি ডাক্তার সাব্বিরকে খুন করছো?
মায়া: হ্যাঁ।
PP: উকিল করিমকে?
মায়া: হ্যাঁ।
PP: ইন্সপেক্টরকে?
মায়া: হ্যাঁ।
PP: কেন?
মায়া কাঁচের দিকে তাকায়। ক্যামেরার দিকে তাকায়।
মায়া: কারণ আইন ৭ দিন আগে আমার বোন নুরকে বাঁচায় নাই।
মায়া: কারণ পুলিশ ১ বছর আগে আমার মা-বাবা-ভাইকে বাঁচায় নাই।
মায়া: কারণ কোর্ট ৬ মাস পরের ডেট দেয়। আর ওরা ৬ ঘন্টার মধ্যে ভিক্টিমকে শেষ করে দেয়।
গ্যালারি থেকে কান্নার শব্দ।
PP: তাহলে তুমি আইন নিজের হাতে তুলে নিলা?
মায়া: আমি আইন হইছি স্যার। যেদিন রাত ২টা ১৭ তে আমার বাবার লাশের পাশে বসে পুলিশ বলছিল "ডাকাতি", সেদিন।
জজ PP এর দিকে তাকায় তারপর বলে,
জজ: সাক্ষী ডাকেন।
আরিয়ান উঠে দাঁড়ায়।
PP: আপনি পুলিশ ছিলেন। আসামিকে ধরছেন। এখন ওর পক্ষে বলবেন?
আরিয়ান: আমি সত্য বলবো স্যার।
আরিয়ান: আমি ৫ বছর চাকরি করছি। অনেকগুলো কেস ক্লোজ করছি "প্রমাণ নাই" বলে।
আরিয়ান: মায়া মিথ্যা বলে নাই। সিস্টেম মিথ্যা।
PP: Objection!
জজ: Let him speak.
আরিয়ান মায়ার দিকে তাকায়: আমি পদত্যাগ করছি। কারণ আমি বুঝছি, বিচার চাইলে আগে অপরাধী হতে হয়।
জজ মায়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
তুমি শেষ কিছু বলবা?
মায়া উঠে দাঁড়ায়। হাতকড়া ঝনঝন।
মায়া: স্যার, আমার নামে ৫টা খুন।
মায়া: কিন্তু এই শহরে ৪৩টা মেয়ে সুইসাইড করছে "সম্মান" এর ভয়ে। ওদের খুনির নাম কি?
মায়া খালি লকেটটা বের করে: এইটা আমার বোন নীরার। ওকে ৩ দিন আটকে রেখেছিলো।পরে আমি ওকে উদ্ধার করি। এখন ও মানসিক রোগী হয়ে হাসপাতালে পড়ে আছে। আজকে আমাকে ফাঁসি দেন। কিন্তু কালকে যখন আরেকটা নুর মরবে, তখন আরেকটা M জন্ম নিবে।
পুরা কোর্ট নিস্তব্ধ।
জজ ২ মিনিট চুপ। কলম হাতে নেয়।
জজ: আসামি মায়া চৌধুরী...
সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে।
জজ: ...আপনাকে ১০ বছরের জেল দেওয়া হলো। ধারা ৩০২। কিন্তু...
জজ চশমা খুলে: কোর্ট এই কেস রি-ওপেন করতেছে। চৌধুরী হত্যাকান্ড। রফিকুল চৌধুরীর নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু হলো।
---
Wide Shot।
রায় শোনার সাথে গেট খুলে যায়।
হাজার হাজার মানুষ। হাতে মোমবাতি। প্ল্যাকার্ড। মোবাইলের ফ্ল্যাশ।
স্লোগান:
"We are all M!"
"Justice for Nur!"
"Maya ke chere dao!"
"System change koro!"
নিউজ চ্যানেল লাইভ।
রিপোর্টার: "এটা ইতিহাস। ঢাকা কোর্টের সামনে এত মানুষ আমি জীবনে দেখি নাই।"
নুরের মা মাইক হাতে। কাঁদতে কাঁদতে:
"আমার মেয়েটা ১৯ বছরের ছিল। পুলিশ বলছে ডিপ্রেশন। এই মেয়েটা M ওর বিচার করছে। ওকে ছাইড়া দেন। ও অপরাধী না, ও বিচারক!"
জনতা: "ছাইড়া দাও! ছাইড়া দাও!"
- কলেজের স্টুডেন্টরা
১০০টা মেয়ে। সবার গলায় R-12 লকেট।
একজন বলে: "আমরা সবাই নুর। আমরা সবাই মায়া। যদি আইন বিচার না করে, আমরা করবো।"
- আরিয়ানের বাবা
বুড়া মানুষ। সাবেক পুলিশ।
"আমার ছেলে ১০ বছর চাকরি করছে। ও বলছে সিস্টেম পচে গেছে। আমি বাবা হয়ে বলতেছি, মায়াকে মাফ করেন।"
- সোশ্যাল মিডিয়া মন্টাজ টুইটার ট্রেন্ড: #FreeMaya #WeAreAllM 2M টুইট
ফেসবুক লাইভ: ৫০ লাখ মানুষ দেখতেছে
টিকটক: মেয়েরা R-12 লকেট বানায় ভিডিও দিতেছে
"জেলের ভিতর। টিভি রুম।"
মায়া একা বসে টিভি দেখতেছে।
টিভিতে নিজের নামে স্লোগান।
গার্ড এসে বলে: "ম্যাডাম, বাইরে আপনার জন্য ২০ হাজার মানুষ।"
মায়ার চোখে প্রথমবার পানি আসে।
মায়া ফিসফিস: "নুর... দেখছিস?"
"রাত ১১টা। SP এর অফিস।"
SP ফোনে: "স্যার, সামলানো যাচ্ছে না। জনতা বলতেছে মায়াকে ছাড়তে হবে।"
মন্ত্রী ওপাশে: "ছাড়া যাবে না। আইন আইনের জায়গায়।"
SP ফোন রাখে। জানালা দিয়ে বাইরের মোমবাতি দেখে।
SP বিড়বিড়: "আইন... নাকি জনতা?"
- "রাত ১২টা। মায়ার সেল।"
দরজা খুলে। আরিয়ান ঢোকে। সাথে উকিল।
উকিল: মায়া, জনতার চাপে কোর্ট আপিল শুনবে কালকে। জামিনের আবেদন করবো।
মায়া: লাগবে না।
আরিয়ান: কেন?
মায়া A-01 লকেটটা হাতে নেয়: কারণ R-01 এখনো বাইরে। আমি জেলে বসেই ওকে শেষ করবো।
মায়া: আর জনতা? ওরা আমার উকিল।
আরিয়ান হাসে: তাহলে M এর পরের প্ল্যান কি?
মায়া জানালা দিয়ে বাইরের মোমবাতি দেখে:
"কালকে রাত ১টা। রফিকুলের বাড়ি। লাইভ হবে। পুরা দেশ দেখবে।"