ফন্ট সাইজ:
থিম:
ভিলেন

৩৮তম পর্ব

লেখক: মিহি সুলতানা

- "রাত ১১টা। জেল। মায়ার সেল।"

মায়া নামাজ পড়ে উঠে। সাদা জেল ড্রেস। গলায় R-12 লকেট। 

টিভিতে লাইভ: "গুলশানে ২০ লাখ মানুষ। সবাই M এর পক্ষে"

গার্ড: ম্যাডাম, ১০ মিনিট আছে। 

মায়া: ল্যাপটপ দাও। 

ভিডিও কল অন। ওপাশে আরিয়ান। ছাদে দাঁড়ায়। পিছনে ৯ জন M টিম।

মায়া: টাইম ঠিক আছে? 

আরিয়ান: ১টা বাজলেই লাইভ। পুরা দেশ দেখবে। 

মায়া চোখ বন্ধ করে: নুর, নীরা... আজকে শেষ।

- "রাত ১২টা ৫০। গুলশান। রফিকুলের বাড়ি।"

Drone Shot। 

২০ তলা বাড়ি। কাঁচের দেয়াল। চারপাশে ২০ জন গার্ড। CCTV ৩৬টা। স্নাইপার ৪ জন। 

গেটে লেখা: "RAFIQUL TOWER"

ভিতরে পেন্টহাউস। রফিকুল। ৫০ বছর। দামি পাঞ্জাবি। হাতে ১৮ বছরের পুরান হুইস্কি। 

টিভিতে নিউজ: "জনতা মায়ার মুক্তি চায়। #WeAreAllM ট্রেন্ডিং"

রফিকুল ফোনে চিল্লায়: "SP কই? ওই মেয়েটাকে জেলে পঁচায় রাখ। ১০ বছর কম কিসের? কালকেই আপিল খারিজ কর।" 

ফোন কেটে দেয়। হাসে: "আমি এমপি। আমার কিছু হবে না।"

ছাদের দরজা: কট। 

বাতাস। পর্দা উড়ে। 

রফিকুল ঘুরে তাকায়।

ছাদে ১০টা কালো ছায়া। সবার মুখে কালো মাস্ক। কালো হুডি। গলায় লকেট ঝলমল। 

মাঝখানে *আরিয়ান*। হাতে লাইভ ক্যামেরা আর স্ট্যান্ড।

আরিয়ান: লাইভ শুরু কর। 

ক্যামেরা অন। টাইটেল: "LIVE: R-01 এর বিচার" 

1M ভিউ ১০ সেকেন্ডে। 5M ৩০ সেকেন্ডে।

- "লাইভ। রাত ১টা।"

আরিয়ান ক্যামেরা রফিকুলের দিকে ধরে। 

আরিয়ান: "আসসালামু আলাইকুম বাংলাদেশ। আমি এক্স পুলিশ অফিসার আরিয়ান। আজকে আমরা জনতার কোর্ট বসাইছি।"

রফিকুল: তোমরা কারা? গার্ড! গার্ড! 

গার্ডরা দৌড়ে আসে। M টিমের ৯ জন মেয়ে ওদের আটকায়। মারামারি না। শুধু লকেট দেখায়। গার্ডরা থেমে যায়।

রফিকুল: আমি এমপি। মন্ত্রী আমার বন্ধু। আমার নামে কেস হবে। 

আরিয়ান: হবে। জনতার কোর্টে। এখানে মন্ত্রী নাই। আছে ৫ মিলিয়ন মানুষ।

স্ক্রিন স্প্লিট। একপাশে রফিকুল। ঘামতেছে। 

অন্যপাশে *জেল থেকে মায়া*। ভিডিও কলে। পিছনে জেলের দেয়াল।

মায়া: "R ভাই। চিনছেন?"

রফিকুলের মুখ সাদা: "তুই... তুই জেলে... কিভাবে..." 

মায়া হাসে: "হ্যাঁ। কিন্তু আমার টিম বাইরে। আর আমার গল্প এখনো শেষ হয় নাই।"

চ্যাটে: "Maya apu" "We love you" "Fashi chai"

- "স্বীকারোক্তি - ২১ ডিসেম্বর রাত ২টা ১৭"

লাইট ডিম। ফ্ল্যাশব্যাক প্রজেক্ট হয় ছাদের দেয়ালে।

মায়া: "২১ ডিসেম্বর। রাত ২টা ১৭। মনে আছে? 

আপনি ফোনে বলছিলেন 'ডিল ক্যান্সেলের মজা বুঝায় দে'। 

তারপর ৬ জন আসলো। 

আমার বাবাকে ২টা গুলি। শেষ কথা ছিল 'সাবিনা'। 

আমার মাকে গলা কাটা। দুধের সাথে রক্ত। 

আমার ভাই রাফসানকে রড দিয়ে মাথা। ওর লাস্ট মেসেজ ছিল 'মায়া আইসক্রিম খাবো'। 

আর আমার বোন নীরাকে ৩ দিন একটা গোডাউনে... তারপর বুড়িগঙ্গায়।"

রফিকুল: "প্রমাণ নাই! পুলিশ বলছে ডাকাতি!" 

আরিয়ান ল্যাপটপ খুলে প্রজেক্টরে দেয়:

1. রফিকুলের ফোন রেকর্ড - "১০ মিনিট। কোনো সাক্ষী থাকবে না"

2. ব্যাংক ট্রানজেকশন - সাব্বিরকে ৫০ লাখ

3. সাব্বিরের মরার আগের ভিডিও স্বীকারোক্তি

4. ইন্সপেক্টরের ডায়েরি

আরিয়ান: "M টিম ৬ মাস ধরে জোগাড় করছে। আপনি ভাবছেন আমরা ১০টা মেয়ে। আমরা ১০ লাখ।"

চ্যাটে: "ফাঁসি দাও" "জ্বালায় দাও" "খুনি"

রফিকুল হাঁটু গেড়ে বসে: "আমাকে ছাইড়া দাও। টাকা দিবো। ১০ কোটি। ২০ কোটি। আমার সব কোম্পানি তোমাদের।"

মায়া ভিডিও কলে। চোখে পানি নাই। 

মায়া: "টাকা দিয়ে নুর ফেরত আসবে? নীরা ফেরত আসবে? আমার বাবা ফেরত আসবে? 

আপনি ১ বছর আগে বলছিলেন 'শোকাহত'। আজকে বলেন 'বিচার চাই'।"

"জনতার রায়"

আরিয়ান ক্যামেরা জনতার দিকে ঘুরায়। নিচে ২০ লাখ মানুষ। মোমবাতি। 

আরিয়ান: "জনতা, আপনারা রায় দেন। কি শাস্তি হবে?"

লাইভ কমেন্ট: 

"ফাঁসি 2.3M" 

"ছাদ থেকে ফেলো 1.8M" 

"জেলে পঁচাও 900K"

আরিয়ান: "জনতা রায় দিছে।"

আরিয়ান পকেট থেকে খালি লকেট বের করে। নিজে খোদাই করে: R-01 

আরিয়ান: "এটা আপনার। নীরার পক্ষ থেকে।"

রফিকুল: "না... না... আমি এমপি..." 

M টিমের ২ জন ধরে।

আরিয়ান লকেটটা রফিকুলের বুক পকেটে ঢুকায়। 

আরিয়ান ফিসফিস: "এটা নীরার। ওর ৩ দিনের হিসাব।"

রফিকুল চিৎকার: "আমাকে মারবেন না!" 

আরিয়ান: "আমরা মারি না। আমরা বিচার করি।"

Cut to Black। 

শব্দ: একটা দেহ পরে যাওয়ার শব্দ। তারপর পানির শব্দ। ছাদের ফোয়ারা।

- "ভোর ৫টা। নিউজ + পুলিশ"

রিপোর্টার: "ব্রেকিং। ব্যবসায়ী রফিকুল চৌধুরীর লাশ ছাদ থেকে। পাশে সুইসাইড নোট - 'আমি দোষী। চৌধুরী ফ্যামিলি খুনের জন্য আমি দায়ী'। বুকে R-01 লকেট। পুলিশ তদন্ত করছে।"

SP টিভি বন্ধ করে দেয়। অফিসে একা। 

SP বিড়বিড়: "তদন্ত... আর কি তদন্ত।" 

টেবিলে নিজের ব্যাজটা রাখে।

- "সকাল ১০টা। কোর্ট। ঐতিহাসিক দিন।"

Wide Shot। 

কোর্ট ভর্তি। বাইরে ২০ লাখ। 

জজ ঢুকে। সবাই দাঁড়ায়।

জজ: "জনতার চাপ, নতুন প্রমাণ, এবং আসামির মানসিক অবস্থা বিবেচনা করে... 

আসামি মায়া চৌধুরীকে সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস দেওয়া হলো। 

একই সাথে চৌধুরী হত্যাকান্ডের ফাইল রি-ওপেন। রফিকুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের।"

গ্যালারি ফেটে যায়। "We are all M" "Justice" কান্না।

দরজা খুলে। 

*মায়া* বের হয়। সাদা জামা। চুল ছাড়া। গলায় R-12 লকেট। 

সামনে *আরিয়ান*। হাতে ফুল না। A-01 লকেট।

মায়া আরিয়ানের কাঁধে মাথা রাখে: "শেষ হইছে?"

আরিয়ান লকেটটা মায়ার গলায় পরায়: "না। এখন থেকে আমরা আইন বানাবো।"

নুরের মা এসে মায়াকে জড়ায় ধরে: "মা... তুই আমার নুরের বিচার করছিস।"

সিন শেষ - "সন্ধ্যা ৭টা। শহীদ মিনার।"

ক্যামেরা উপরে উঠে। 

২০ লাখ মানুষ। সবার হাতে মোমবাতি। সবার গলায় লকেট। R-12, R-07, R-09 

স্টেজে মায়া আর আরিয়ান।

মায়া মাইক হাতে: 

"১ বছর আগে রাত ২টা ১৭ তে আমি মায়া মরে গেছিলাম। 

আজকে ১ বছর পর রাত ১টায় M জন্ম নিছে। 

M মানে Murdered Family ছিল। 

এখন থেকে M মানে Movement। 

যেখানে আইন ঘুমাবে, আমরা জাগবো।"

সবাই একসাথে: "আমরা সবাই M!"

স্ক্রিনে লেখা: 

*M - Murdered Family* 

*এখন থেকে M মানে Movement* 

*"বিচার না পেলে, বিচারক হও"*

Bg: "আমরা সবাই M" গান।

`THE END` 

`

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন