#এক_অবেলায়_তুমি_এলে
#পর্ব_৭
#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
সেদিনের সেই তিক্ত ঘটনার পর কেটে গেছে সম্পূর্ণ তিনটি দিন। সময়ের হিসাব অনুযায়ী দিনগুলো খুব দীর্ঘ না হলেও তিতলির কাছে প্রতিটি মুহূর্ত যেন ছিল অসহনীয় এক যন্ত্রণার নাম। এই তিন দিনে আহিয়ান একবারের জন্যও তার সঙ্গে কথা বলেনি, এমনকি চোখ তুলে তাকানো পর্যন্ত প্রয়োজন মনে করেনি। কলেজের ব্যস্ত করিডোর, ক্লাসরুম কিংবা প্রাঙ্গণের যেখানেই তিতলি আহিয়ানকে দেখেছে, সেখানেই লোকটিকে পেয়েছে ভীষণ নির্লিপ্ত, অচেনা এবং দূরবর্তী।
প্রথম দিন তিতলির মনে প্রবল অভিমান ছিল। সে মনে করেছিল, ভুলটা একা তার নয়। কিন্তু ধীরে ধীরে নিজের আচরণের কথা স্মরণ করে তার অন্তরে অনুশোচনার তীব্র স্রোত বয়ে যেতে লাগল। ছেলেটিকে সে রাগের বশে অপমান করেছিলো, তারপর নিজের ভুল বুঝতে পেরে ছেলেটির কাছে নিজেই ক্ষমা চেয়েছে। হয়তো একটু ধৈর্য ধরলেই বিষয়টা অন্যরকম হতে পারত। কিন্তু মুহূর্তের উত্তেজনায় মানুষ অনেক সময় এমন কিছু করে ফেলে, যার অনুশোচনা তাকে দীর্ঘকাল তাড়িয়ে বেড়ায়।
এসব ভাবতে ভাবতেই তিতলির হৃদয় অকারণে ভারী হয়ে উঠছিল। লোকটা তো সেদিন তাকে কত যত্ন করে ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিল! কত শান্ত কণ্ঠে বুঝিয়েছিল, কতটা ধৈর্য নিয়ে তার অবুঝ আচরণ সহ্য করেছিল! অথচ সে নিজেই নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। এই উপলব্ধিই যেন তিতলির বুকের ভেতর অপরাধবোধের এক নিঃশব্দ ঝড় তুলছিল। কলেজের দীর্ঘ করিডোর দিয়ে ধীর পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল তিতলি। আজ তার পাশে সাথীও নেই। নিঃসঙ্গতা মানুষকে যেমন ভাবুক করে তোলে, তেমনি সাহসীও করে দেয়। ঠিক তখনই দূর থেকে আহিয়ানকে আসতে দেখল সে। লোকটা স্বভাবসুলভ গাম্ভীর্যে ফোনের স্ক্রিনে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে হাঁটছিলো, যেন চারপাশের কোনো কিছুর প্রতিই তার বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই।তিতলির বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। তবুও সমস্ত দ্বিধা ও সংকোচকে অতিক্রম করে সে ধীর কণ্ঠে বলল,
— “স্যার, আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা ছিল।”
আহিয়ান থেমে দাঁড়াল। তবে চোখ দুটি ফোনের স্কিনে থেকেই সরাল না। কিছুক্ষণ নীরব থেকে গম্ভীর স্বরে বলল,
— “বলো।”
একটি মাত্র শব্দ। অথচ সেই শব্দের শীতলতা তিতলির অন্তরকে বিদীর্ণ করে দিল। গলায় কান্না দলা পাকিয়ে উঠলেও সে নিজেকে সংযত করে বলল,
— “আপনি আমাকে এভাবে অবহেলা করছেন কেন, স্যার? আমি না বুঝে ভুল করেছি। তার জন্য কি আপনি আমাকে এভাবে শাস্তি দেবেন?”
আহিয়ান এবার ধীরে ধীরে ফোনের স্ক্রিন নিভিয়ে তিতলির দিকে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে কোনো কোমলতা ছিল না, ছিল কেবল কঠোর বাস্তবতার ছাপ।
— “এটা তোমার প্রাপ্য, তিতলি।”
তিতলি নিঃশব্দে তার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
আহিয়ান আবার বলল,
— “তুমি আমার যাই হও না কেন, কলেজে আমি তোমার শিক্ষক। কিন্তু এই সাধারণ সত্যটা যেন কখনোই তোমার মনে থাকে না। একবারও কি ভেবে দেখেছ, যদি কলেজের সবাই জেনে যায় তুমি আমার হবু স্ত্রী, তাহলে তারা বিষয়টাকে কীভাবে দেখবে? মানুষ কথা বলবে, প্রশ্ন তুলবে। আমার দায়িত্ব আছে, আমার একটা অবস্থান আছে।”
কিছুক্ষণ থেমে সে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলল।
— “আমি যথেষ্ট চেষ্টা করেছি তোমার সঙ্গে মানিয়ে নিতে। এমনকি সেদিন তোমাকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে শান্তভাবে সব বুঝিয়েছি। কিন্তু তুমি এখনও সেই একই রয়ে গেছ অবুঝ। সত্যি বলতে কি, শুধু আম্মুর কথার কারণেই আমি তোমাকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, তুমি আর আমি সম্পূর্ণ আলাদা দুই মানুষ। আমাদের এক হওয়ার সম্ভাবনা হয়তো নেই।”
কথাগুলো বলার সময় আহিয়ানের কণ্ঠে উচ্চস্বরে রাগ ছিলো, যা তিতলির হৃদয়কে আরও বেশি আহত করল।
এরপর আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না আহিয়ান। পুনরায় ফোনের স্ক্রিনে দৃষ্টি রেখে ধীর পায়ে করিডোরের শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
তিতলির বুকের ভেতরটা যেন মুহূর্তেই শূন্য হয়ে গেল। আহিয়ানের প্রতিটি শব্দ ধারালো অস্ত্রের মতো তার হৃদয়ে আঘাত হানছিল। এতদিনের সমস্ত অভিমান, ভালোবাসা আর প্রত্যাশা এক নিমেষে যেন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। অশ্রুসজল চোখে সে কিছুক্ষণ আহিয়ানের চলে যাওয়ার দিকে নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। তারপর কাঁপতে থাকা ঠোঁট জোড়া শক্ত করে নিজের সমস্ত সাহস একত্রিত করে পেছন থেকে ডেকে উঠল,
—“স্যার...!”
আহিয়ান থেমে গেলেও ফিরে তাকাল না। তিতলির কণ্ঠ কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করতেও যেন তার বুক চিরে যাচ্ছিল,
—“আপনি... আপনি এটাই চান তো? আমি আপনার থেকে দূরে থাকি?”
এক মুহূর্তের জন্য চারপাশটা নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
তিতলি আবার বলল,
—“আপনি তো নিজেই বললেন, শুধু আপনার আম্মুর জন্য আমাকে মেনে নিতে চেয়েছিলেন। তার মানে... আমি কখনোই আপনার নিজের ইচ্ছের মানুষ ছিলাম না, তাই না?”
শেষ বাক্যটি বলতে গিয়েই তার গলা ভেঙে এল। চোখের জল আর কোনো বাধা মানল না। সে কষ্টভরা এক তিক্ত হাসি হেসে ধীরস্বরে বলল,
—“ঠিক আছে, স্যার। আজ থেকে আমি আর আপনাকে বিরক্ত করব না। আপনার জীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। আজই বাসায় গিয়ে আব্বুকে বলব আমার কলেজ বদলে দিতে। এরপর আমার মুখও আর আপনাকে দেখতে হবে না।”
কথাগুলো শেষ করেই আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পেল না তিতলি। চোখের জল হাতের পিঠ দিয়ে মুছে দ্রুত পদক্ষেপে করিডোর ছেড়ে চলে গেল। কিন্তু সে জানত না, তার প্রতিটি শব্দ আহিয়ানের বুকের ভেতরেও সমান তীব্রতায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
করিডোর পেরিয়ে নিজের কেবিনে ঢুকতেই আহিয়ান দরজাটা ভেতর থেকে আস্তে করে বন্ধ করে দিল। নীরব কেবিন টি যেন মুহূর্তেই তার মনের অস্থিরতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠল। হাতে ধরা মোবাইল ফোনটি টেবিলের ওপর ছুড়ে রেখে ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ল সে। পরক্ষণেই দুই হাত দিয়ে নিজের চুল শক্ত করে চেপে ধরল। চোখদুটো বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলতেই বুকের ভেতর জমে থাকা যন্ত্রণাগুলো যেন একসঙ্গে বেরিয়ে আসতে চাইল। কয়েক মুহূর্ত নীরব থাকার পর অত্যন্ত ক্ষীণ ও ভাঙা কণ্ঠে বিড়বিড় করে বলল,
—“আমি তোমার সঙ্গে এমন আচরণ করতে চাইনি, তিতলি... বিশ্বাস করো, একটুও চাইনি।”
সে মাথা নিচু করে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল,
—“কিন্তু আমি নিরুপায়। নিজের অনুভূতির কাছে হার মানার সুযোগ আমার নেই। যদি কলেজে কেউ জেনে যায় তুমি আমার হবু স্ত্রী... তাহলে শুধু আমার নয়, তোমারও সম্মান প্রশ্নের মুখে পড়বে। আমার শিক্ষকতার অবস্থান, কলেজের সুনাম সবকিছু নিয়ে শুরু হবে অসংখ্য প্রশ্ন। আমি চাই না আমার কারণে তোমাকে কারও কটূক্তি শুনতে হোক...!”
কথাগুলো বলতে বলতেই তার গলাও ভারী হয়ে এল। সে যেন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল,
—“কারণ...!”
ঠিক তখনই কেবিনের নিস্তব্ধতা ভেঙে মোবাইল ফোনটি হঠাৎ করেই বেজে উঠল। টেবিলের ওপর রাখা ফোনের স্ক্রিন বারবার আলোকিত হয়ে উঠছে। রিংটোনের শব্দ নীরব কেবিন টিকে আরও ভারী করে তুলছে। আহিয়ান ধীরে ধীরে চোখ তুলে ফোনটির দিকে তাকাল। স্ক্রিনে ভেসে উঠেছে একটি পরিচিত নাম ফোনের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সে। আঙুল বাড়িয়েও কল রিসিভ করল না। যেন ওপাশের মানুষটির সঙ্গে কথা বলার মতো মানসিক শক্তিটুকুও এই মুহূর্তে তার অবশিষ্ট নেই। রিংটোনটি একটানা বেজেই চলেছে, আর আহিয়ানের চোখের গভীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব।
~~
সন্ধ্যার আবছা আলো ধীরে ধীরে জানালার কাঁচ বেয়ে রুমের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। অথচ সেই আলোও যেন তিতলির মন থেকে জমে থাকা অন্ধকারটুকু দূর করতে পারছিল না। কলেজ থেকে ফিরে আসার পর থেকেই সে নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে আছে। চোখ দুটো কান্নায় ফুলে লাল হয়ে আছে, মুখে অভিমান আর অপমানের ছাপ স্পষ্ট। হঠাৎ করেই সে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। বেড থেকে উঠে দ্রুত পায়ে বাইরে এসে ড্রয়িংরুমে বসে থাকা তিহানের সামনে দাঁড়াল। গলায় জমে থাকা সমস্ত ক্ষোভ এক নিঃশ্বাসে উগরে দিয়ে বলল,
—“ভাইয়া, আমি বলে দিচ্ছি... আমি আর ওই কলেজে পড়ব না। তুমি আমাকে অন্য একটা কলেজে ভর্তি করিয়ে দাও।”
তিহান হাতে থাকা ফাইলটি টেবিলের ওপর রেখে বিস্মিত দৃষ্টিতে বোনের দিকে তাকাল। কয়েক মুহূর্ত তার মুখের দিকে তাকিয়েই বুঝে গেল, বিষয়টা যতটা সহজ শোনাচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। সে শান্ত স্বরে বলল,
—“আরে, আগে আমাকে বল তো কী হয়েছে? হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন?”
তিতলি মুখ ফিরিয়ে নিল। কিন্তু তিহান থামল না,
—“তুই তো এই কলেজে পড়ার জন্য কত জেদ করেছিলি। এখন হঠাৎ কলেজ বদলাতে চাইছিস কেন? তাছাড়া এখন তো আহিয়ানও আছে। ও থাকলে অন্তত তোর খেয়াল রাখতে পারবে।”
আহিয়ানের নাম উচ্চারিত হতেই যেন তিতলির সমস্ত সংযম ভেঙে গেল। সে প্রায় চিৎকার করেই বলে উঠল,
—“একদম ওই খিটখিটে লোকটার নাম আমার সামনে নেবে না! আমি ঐলোক কে একদমই সহ্য করতে পারি না... একদম না!”
ঘরজুড়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য নীরবতা নেমে এল।
তিহান বোনের রাগী মুখটার দিকে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারল, আহিয়ান আর তিতলির মধ্যে নিশ্চয়ই এমন কিছু ঘটেছে, যার অভিঘাত এখনো তিতলির মনে তাজা হয়ে আছে। তবে এই মুহূর্তে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে পরিস্থিতি আরও জটিল করার কোনো অর্থ হয় না। সে ধীরে ধীরে উঠে এসে তিতলির মাথায় আলতো করে হাত রাখল।অত্যন্ত শান্ত কণ্ঠে বলল,
—“আচ্ছা... আগে তুই শান্ত হ।”
একটু থেমে মৃদু হেসে আবার বলল,
—“একটা কথা সব সময় মনে রাখিস। রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত আর অতিরিক্ত খুশির মুহূর্তে দেওয়া প্রতিশ্রুতি দুটোই সব সময় ভুল প্রমাণিত হয়।”
তিতলি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখেমুখে এখনো অভিমানের ছাপ স্পষ্ট। তিহান আবার বলল,
—“আজ কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। নিজেকে একটু সময় দে। যদি এরপরও তোর মনে হয় সত্যিই ওই কলেজে পড়বি না, তাহলে আমি নিজেই সব ব্যবস্থা করব। কিন্তু এখন রাগের বশে কোনো সিদ্ধান্ত নিবি না।”
কথাগুলো বলে তিহান আর কিছু না বলে সোফায় বসে পরলো।
তিতলি নিজের রুমে চলে গেলো আবার। তারপর
দরজাটা বন্ধ করে তিতলি মুখ বাঁকিয়ে দরজার দিকেই তাকিয়ে ভেংচি কাটল। তারপর বিড়বিড় করে বলল,
—“হুঁ! ওই খিটখিটে, রাগী লোকটা যেখানে থাকবে, আমি সেখানে কোনোদিনও থাকব না।”
কথাটা বললেও বুকের গভীরে যেন অদ্ভুত এক শূন্যতা খচখচ করে উঠল। কিন্তু নিজের অভিমান কে সে কোনোভাবেই প্রকাশ হতে দিল না।রাগে- ক্ষোভে বেডে গিয়ে ধপ করে শুয়ে পড়ল। পাশের টেবিল থেকে মোবাইল ফোনটা হাতে নিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রিনে আঙুল চালাতে লাগল। একের পর এক ছবি, ভিডিও, স্ট্যাটাস সবই চোখের সামনে ভেসে উঠছিল, অথচ কোনোটাই তার মন ছুঁতে পারছিল না। যতবারই নিজেকে অন্যদিকে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছিল, ততবারই আহিয়ানের সেই কঠোর মুখ আর নির্দয় কথাগুলো কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল।
—“আমাদের এক হওয়ার সম্ভাবনা নেই...!”
বাক্যটি যেন হৃদয়ের গভীরে গেঁথে থাকা কোনো কাঁটার মতো বারবার তাকে বিদ্ধ করছিল।
হঠাৎ করেই তিতলি আধশোয়া অবস্থা থেকে সোজা হয়ে বসল। তার চোখে দুষ্টুমির এক ঝলক খেলে গেল। পরক্ষণেই ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল রহস্যময় এক হাসি। মুহূর্তের মধ্যেই তার মাথায় এক অদ্ভুত পরিকল্পনা এসে ভর করল। সে বিড়বিড় করে বলল,
—“এক মিনিট... উনি তো আমার ফ্রেন্ডলিস্টেই আছেন!”
কথাটা মনে পড়তেই তার অভিমান যেন নতুন এক রূপ নিল। রাগ, কষ্ট আর শিশুসুলভ প্রতিশোধ স্পৃহা একসঙ্গে মিলে তার চিন্তাগুলোকে আরও অস্থির করে তুলল। তিতলি দ্রুত গ্যালারিতে ঢুকে বেশ কিছু ছবি উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল। শেষ পর্যন্ত নীল রঙের শাড়ি পরা একটি ছবির সামনে এসে তার আঙুল থেমে গেল। কয়েক সেকেন্ড ছবিটার দিকে তাকিয়ে থেকে সে সেটিই নিজের ফেসবুকে আপলোড করল। এরপর ক্যাপশন লেখার ঘরে কিছুক্ষণ আঙুল স্থির রেখে ধীরে ধীরে লিখল,
—“আর কত দিন সিঙ্গেল থাকব? এখন তো মিঙ্গেল হওয়া দরকার!”🙂↔️
লেখাটা শেষ করেই সে পোস্ট বাটনে চাপ দিল।
পোস্টটি আপলোড হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই একের পর এক নোটিফিকেশন আসতে শুরু করল। লাইক, রিঅ্যাকশন, মন্তব্য সবকিছুই দ্রুত বাড়তে লাগল। তিতলি তখন হঠাৎ করেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট তালিকায় ঢুকে পড়ল। এতদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য রিকোয়েস্ট একে একে তার সামনে ভেসে উঠল। এক মুহূর্তও না ভেবে সে সবগুলোই একসেপ্ট করতে শুরু করল। সব রিকোয়েস্ট গ্রহণ করা শেষ হলে সে ফোনটা বুকের ওপর রেখে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল।মুখে জোর করে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে মনে মনে বলল,
—“হুঁ... এবার ঠিক আছে। আমি কেন ওই খিটখিটে, রাগী লোকটার জন্য কষ্ট পাব? পৃথিবীতে কি শুধু একজন মানুষই আছে? উনি যদি আমাকে এত সহজে দূরে ঠেলে দিতে পারেন, তাহলে আমিও ওনাকে দেখিয়ে দেব, ওনাকে ছাড়াও আমি দিব্যি ভালো থাকতে পারি...!”
চলবে...??