ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক অবেলায় তুমি এলে

১১তম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম তালুকদার বুশরা

#এক_অবেলায়_তুমি_এলে

#পর্ব_১১

#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা

হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

আহিয়ান তবুও কোনো সাড়া দিল না। চোখ দুটো বন্ধ, মুখে নিস্তব্ধতার ছাপ। যেন তিতলির প্রতিটি কথা তার কাছে পৌঁছাচ্ছে না অথচ তিতলির মন কিছুতেই এই নীরবতাকে মেনে নিতে পারছিল না।

কান্নায় ভেঙে পড়া কণ্ঠে সে আবার বলল,

— “আমার সঙ্গে আপনি এত অভিমান করেছেন যে কথাও বলছেন না? একবারের জন্যও না?”

কথার সঙ্গে সঙ্গে তার গলা ভারী হয়ে এলো,

— “অভিমান করে থাকার কথা তো আমার ছিল। আমি অভিমান করেছিলাম, আপনি রাগ করে আমাকে কত কথা শুনিয়েছি। অথচ আপনি...!”

সে আহিয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল,

— “আপনি এভাবে অভিমান করে পড়ে আছেন। এটা কিন্তু মোটেও ঠিক হচ্ছে না। আপনি চিটিং করছেন।”

কান্নার মধ্যেও কথাটার শেষে সামান্য অভিমানের সুর ফুটে উঠল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলল,

— “কেন কথা বলছেন না? দেখুন না, আমি কত কাঁদছি। এত কান্না করলে কিন্তু আমার মাথা ব্যথা করবে। তারপর আবার সেই ভয়ানক ব্যথা শুরু হবে। কারণ আমার মাইগ্রেনে ব্যথা আছে। আপনি তো সবই জানেন তাই না?!”

চোখের পানি হাতের পিঠ দিয়ে মুছে নিল তিতলি।

কিন্তু চোখের পানি থামল না,

— “একটু কথা বলুন না... প্লিজ। আমার ভীষণ খারাপ লাগছে।”

তার কণ্ঠ এবার এতটাই ক্ষীণ হয়ে এলো যে মনে হলো, কথাগুলো যেন নিজের কাছেই স্বীকারোক্তি,

— “আমার ভেতরটা কেমন যেন দোমড়ে মোচড়ে দিয়ে উঠছে। আপনি কি সেটা অনুভব করতে পারছেন?”

আহিয়ানের আঙুলগুলো নিজের মুঠোর মধ্যে নিয়ে সে খুব আস্তে করে বলল,

— “মিস্টার খিটখিটে খান... আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?”

কোনো উত্তর নেই। শুধু কেবিনের যন্ত্রপাতির মৃদু শব্দ আর নিয়মিত ওঠানামা করা নিঃশ্বাসের শব্দ।

তিতলি আবারও কথা বলতে শুরু করল। কখনো অভিমান করে, কখনো অভিযোগের সুরে, কখনো আবার শিশুর মতো অনুনয় করে। কখনো নিজের ভুলের কথা বলল, কখনো আহিয়ানকে দোষ দিল, আবার পরক্ষণেই তার জন্য দুশ্চিন্তায় কেঁদে ফেলল। কতক্ষণ ধরে সে এভাবে একতরফা কথা বলে গেল, তার হিসাব তিতলি নিজেও জানল না।

সময় যেন কেবিনের ভেতর থমকে ছিল। একসময় তার কণ্ঠস্বরও ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে এলো। দীর্ঘ কান্না আর মানসিক ক্লান্তিতে শরীর অবসন্ন হয়ে পড়েছে। চোখের পাতায় নেমে এসেছে ভারী ঘুম।

শেষবারের মতো আহিয়ানের হাতের দিকে তাকিয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল,

— “আপনি কিন্তু আমাকে এভাবে চুপ করে থাকতে পারবেন না... আমি অভিমান করলেও আপনি কথা বলবেন।”

কথাটি শেষ করার আগেই তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে এলো। চেয়ারে বসে থাকতে থাকতে শরীরটা একদিকে হেলে পড়ল। শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত মাথাটি বেডের পাশে আলতো করে ঠেকিয়ে দিল সে। কান্নায় ভেজা মুখে তখনও রয়ে গেছে গভীর অভিমানের ছাপ। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিতলি নিঃশব্দে ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেল। কেবিনে আবার নেমে এলো নিস্তব্ধতা। একজন ঘুমিয়ে আছে ক্লান্তিতে, আর অন্যজন নিশ্চুপ শুয়ে আছে অচেতনতার গভীরে। তবুও তাদের মাঝখানে পড়ে রইল তিতলির বলা অসংখ্য কথা অভিমান, অনুতাপ আর এমন কিছু অনুভূতি, যেগুলোর নাম তারা কেউই এখনো উচ্চারণ করতে শেখেনি।

~~

সকাল সাতটা...!

হাসপাতালের কেবিনজুড়ে তখনও ভোরের নিস্তব্ধতার রেশটুকু পুরোপুরি কাটেনি। জানালার পর্দার ফাঁক গলে সকালের কোমল রোদ এসে নিঃশব্দে মেঝের ওপর ছড়িয়ে পড়েছে। সেই আলো ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে এসে পড়ল আহিয়ানের মুখের ওপর।আলোর তীব্রতায় কপাল কুঁচকে উঠল তার। বন্ধ চোখের পাতায় অস্বস্তির ছাপ ফুটে উঠতেই আহিয়ান ধীরে ধীরে চোখ মেলল। কয়েক মুহূর্ত তার দৃষ্টি ছিল সম্পূর্ণ স্থিরহীন সাদা ছাদের দিকে তাকিয়ে যেন বোঝার চেষ্টা করছিল, সে কোথায় আছে। তারপর ধীরে ধীরে চোখ ঘুরিয়ে চারপাশটা পর্যবেক্ষণ করতেই বাস্তবতাটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। হাসপাতাল। কেবিনের সাদা দেয়াল, পাশে ঝুলে থাকা স্যালাইনের বোতল, যন্ত্রপাতির ক্ষীণ শব্দ সবকিছু মিলিয়ে হঠাৎ করেই তার স্মৃতির দরজায় যেন ধাক্কা লাগল। বাইক এক্সিডেন্ট...শব্দটা মনে আসতেই ভ্রু কুঁচকে গেল তার। এরপর কী ঘটেছিল?সে মনে করার চেষ্টা করল। দুর্ঘটনার পরের কোনো দৃশ্যই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে না। স্মৃতিগুলো কেবল এলোমেলো কুয়াশার মতো যতই হাত বাড়িয়ে ধরতে চায়, ততই দূরে সরে যায়। অবশেষে বিরক্ত হয়ে চোখ বন্ধ করলো আহিয়ান। তারপর চোখ খোলতেই তখনই তার দৃষ্টি গিয়ে থামল পাশের বেডের।

তিতলি।

চোখ বন্ধ করে নিশ্চুপ হয়ে শুয়ে আছে মেয়েটা। ঘুমন্ত মুখটায় অদ্ভুত এক শিশুসুলভ সরলতা। অথচ সেই মুখের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, দীর্ঘক্ষণ কান্নার পরই হয়তো ক্লান্তিতে চোখ লেগে এসেছে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রুর চিহ্ন গাল বেয়ে শুকিয়ে একরকম দাগ হয়ে আছে। বড় বড় পাপড়িগুলো ঘুমের মধ্যেও মাঝেমধ্যে কেঁপে উঠছে। এলোমেলো চুল কয়েক গোছা কপালের ওপর এসে পড়েছে।

আহিয়ান বেশ কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর অতি ক্ষীণ স্বরে, যেন নিজের সঙ্গেই কথা বলছে, বিড়বিড় করে উঠল,

— “তখন তো চলে আসতে বলেছিলে... এখন এখানে এসেছ কেন?”

কণ্ঠে ক্ষীণ অভিমানের আভাস। কিছুক্ষণ থেমে আবার তিতলির দিকে তাকাল সে। চোখের দৃষ্টিতে এবার কঠোরতার পরিবর্তে অদ্ভুত এক কোমলতা এসে ভর করল,

— “ঘুমালে তোমাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগে...!”

কথাটা বলেই আহিয়ান নিজেই কিছুটা থেমে গেল। যেন নিজের মুখে এমন কথা শুনে নিজেকেই অবাক লাগছে। তারপর আরও নিচু স্বরে বলল,

— “অবাধ্য মেয়ে...!”

কেবিনের নিস্তব্ধতায় তার কণ্ঠস্বরটুকু মিলিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর আহিয়ানের চোখে এমন এক অনুভূতি ফুটে উঠল, যার ব্যাখ্যা সে নিজেও জানে না। তিতলির ঘুমন্ত মুখের দিকে তাকিয়ে অজান্তেই মনে হলো যদি প্রতিটি সকাল এমনই হতো! ঘুম ভাঙার পর চোখ মেলেই যদি এই শান্ত মুখটা দেখতে পেত...ভাবনাটা আসতেই বুকের ভেতর অচেনা এক অনুভূতির ঢেউ উঠল। অতি মৃদু স্বরে সে বলল,

— “আমার তো খুব করে মন চায় তোমাকে আমার কাছে নিয়ে যেতে... যেন প্রতিদিন ঘুম ভাঙার পর তোমার এই ঘুমন্ত মুখটা দেখতে পাই।”

কথাগুলো যেন কেবল তার নিজের কাছেই বলা।

কিন্তু সে জানত না, তার প্রতিটি শব্দ নীরবতার আড়ালে কারও কানে পৌঁছে যাচ্ছে।হঠাৎ তিতলির চোখের পাতা কেঁপে উঠল। কয়েক সেকেন্ড পর ধীরে ধীরে চোখ মেলল সে। ঘুমঘোরে প্রথমে দৃষ্টি ঝাপসা ছিল। কিন্তু পাশ ফিরে তাকাতেই তার চোখ স্থির হয়ে গেল। আহিয়ান জেগে আছে। আর তার দৃষ্টি সরাসরি তিতলির ওপর নিবদ্ধ। মুহূর্তের মধ্যেই তিতলির ঘুমের সমস্ত রেশ উধাও হয়ে গেল। বিস্ময় আর উৎকণ্ঠায় সে প্রায় এক লাফে উঠে বসল। চোখ বড় বড় করে আহিয়ানের দিকে তাকিয়ে উত্তেজিত কণ্ঠে বলে উঠল,

— “আপনি... তাকিয়েছেন! আপনার জ্ঞান ফিরেছে?”

আহিয়ান তিতলির দিকে তাকিয়ে সংক্ষিপ্ত স্বরে শুধু বলল,

— “হু।”

মাত্র একটি শব্দ। কিন্তু সেই একটিমাত্র শব্দই যেন তিতলির সমস্ত স্বস্তির মাঝখানে হঠাৎ একরাশ অভিমান ছুড়ে দিল। এতক্ষণ যে উৎকণ্ঠায় বুক ধড়ফড় করছিল, আহিয়ানের জ্ঞান ফিরেছে জেনে যে স্বস্তি হৃদয়টাকে ভরিয়ে দিয়েছিল, তার বিনিময়ে সে যেন আরও কিছু প্রত্যাশা করেছিল কয়েকটি কথা, সামান্য আশ্বাস, কিংবা অন্তত এমন কোনো উত্তর, যাতে বোঝা যায় জেগে ওঠার পর তার চোখও প্রথমে তিতলিকেই খুঁজেছে।

কিন্তু আহিয়ানের এই নির্বিকার সংক্ষিপ্ত উত্তর তার ভালো লাগল না।

তিতলি ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর আর নিজেকে সংযত রাখতে না পেরে খানিকটা জোরালো কণ্ঠেই বলে উঠল,

— “আপনি কীভাবে এরকম করতে পারলেন? কীভাবে বাইক চালান আপনি? একবারও কি ভেবে দেখেছেন, দুর্ঘটনা হয়ে গেলে কী হতে পারে?”

কথার সঙ্গে সঙ্গে তার কণ্ঠে জমে থাকা উৎকণ্ঠা স্পষ্ট হয়ে উঠল,

— “আপনি জানেন, আপনার জন্য আঙ্কেল-আন্টি কালকে কতটা কান্না করেছেন? উনাদের কথা অন্তত ভাববেন! নিজের ব্যাপারে না ভাবলেও উনাদের কথা ভাবা উচিত ছিল। আর শুনুন, এখন থেকে আপনি আর বাইক চালাবেন না। একদম না। আমি কিন্তু বলে দিলাম।”

শেষ কথাটার মধ্যে এমন দৃঢ়তা ছিল, যেন আহিয়ান তার নিজের মানুষ! তারই কোনো অবাধ্য মানুষ যাকে শাসন করার অধিকার তিতলি নিজের অজান্তেই নিজের হাতে তুলে নিয়েছে।

আহিয়ান একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল মেয়েটার দিকে।

তিতলির কণ্ঠে যে তীব্র অধিকার, তার প্রতিটি বাক্যের আড়ালে যে নিঃশব্দ আতঙ্ক, তা আহিয়ানের চোখ এড়াল না। অদ্ভুত এক মুগ্ধতা এসে ছুঁয়ে গেল তার মনকে। মেয়েটা এতটা চিন্তা করেছে তাকে নিয়ে এই উপলব্ধিটুকুই যেন আহত শরীরের সমস্ত ক্লান্তির মধ্যেও তার ভেতর কোথাও একরাশ প্রশান্তি ছড়িয়ে দিল। তবুও নিজের মনের সেই কোমলতাকে প্রকাশ্যে আসতে দিল না আহিয়ান। মুখের অভিব্যক্তি কঠোর রেখেই ধীর, গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

— “হ্যাঁ, আমার কথা ভাবার জন্য শুধু তোমার মা-বাবাই আছে। আর তো কেউ ভাবে না।”

কথাটার পর সামান্য থামল সে। তারপর ঠোঁটের কোণে তিক্ত এক হাসির রেখা ফুটিয়ে যোগ করল,

— “একজন তো আমাকে ছেড়ে বিদেশে চলে যাচ্ছে। তাহলে এখন এভাবে অধিকার দেখানোর মানে কী? আমাকে কি মায়ায় ফেলে রেখে মারার কারণ খুঁজছে?”

তিতলি মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেল। আহিয়ানের কথার আড়ালে লুকিয়ে থাকা অভিমানটা এবার তার কাছেও স্পষ্ট হয়ে উঠল। আহিয়ান দৃষ্টি সরিয়ে জানালার দিকে তাকাল। কণ্ঠটা এবার আরও নিচু হলো,

— “সেদিন যা বলেছিলাম... সবই তো রাগের মাথায় বলেছিলাম। মানুষ রাগের সময় অনেক কিছু বলে ফেলে। তোমার তো বোঝা উচিত ছিল, তাই না?”

তিতলির বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। সে কিছুক্ষণ নিশ্চুপ থেকে ধীরে ধীরে বলল,

— “একদম খোঁচা মেরে কথা বলবেন না আপনি।”

কণ্ঠে অভিমান, কষ্ট আর জমে থাকা ক্ষোভ সবকিছু একসঙ্গে মিশে গেল,

— “আপনি নিজেই তো বলেছিলেন, আপনার মায়ের জন্য আপনি আমাকে মেনে নিয়েছেন। কোনো মেয়েকে যদি তার হবু স্বামীর মুখ থেকে এই কথাটা বলে, তাহলে সেই মেয়েটা কি আর স্বেচ্ছায় সেই সম্পর্কটা ধরে রাখতে চাইবে?”

তিতলির চোখের দৃষ্টি এবার স্থির হয়ে উঠল,

— “আপনার মনে আমার জন্য আদৌ কোনো অনুভূতি আছে কি না, সেটা না জেনে... আপনার মুখে ওই কথাগুলো শোনার পর আমি কেন আপনার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াবো? বলুন তো।”

শেষ কথাটুকু বলতে গিয়ে তার কণ্ঠ সামান্য কেঁপে উঠল।কেবিনের বাতাস যেন হঠাৎ ভারী হয়ে গেল। আহিয়ান কয়েক মুহূর্ত কোনো উত্তর দিল না। তার ভ্রু দুটি ধীরে ধীরে কুঁচকে এল। চোখে ফুটে উঠল এমন এক দৃষ্টি, যেন তিতলির বলা শেষ কয়েকটি শব্দ সে নিজের মতো করে বিশ্লেষণ করছে।তারপর অপ্রত্যাশিতভাবে মুখ তুলে সরাসরি তিতলির চোখের দিকে তাকাল। কণ্ঠে এবার আগের সেই কঠোরতা নেই; বরং অদ্ভুত এক কৌতূহল মিশে আছে,

— “তার মানে...!”

আহিয়ান সামান্য থামল। তারপর খুব ধীরে, প্রতিটি শব্দ যেন তিতলির হৃদয়ের দরজায় গিয়ে আঘাত করছে এমন স্বরে বলল,

— “তোমার মনে আমার জন্য ভালোবাসা আছে?”

এক মুহূর্ত বিরতি। আহিয়ানের চোখে এবার এক চিলতে প্রশ্নের দীপ্তি।

— “ফিলিংস আছে?”

প্রশ্নটা যেন আচমকাই ছুড়ে দেওয়া হলো তিতলির দিকে। তিতলি মুহূর্তের জন্য সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে গেল। তার ঠোঁট সামান্য ফাঁক হয়ে রইল, অথচ কোনো শব্দ বেরোল না। চোখের পাতা কয়েকবার দ্রুত কেঁপে উঠল। এতক্ষণ যে মেয়েটা নির্দ্বিধায় নিজের অভিমান, অভিযোগ আর কষ্টের কথা বলে যাচ্ছিল, সেই মেয়েটাই হঠাৎ যেন নিজের কথার ফাঁদে নিজেই আটকে গেছে। আহিয়ানের প্রশ্নের কোনো প্রস্তুত উত্তর তার কাছে ছিল না।

আর আহিয়ান? সে নীরবে তাকিয়ে রইল তিতলির দিকে যেন এই মুহূর্তে তিতলির মুখের একটি সামান্য পরিবর্তনও তার বহুদিনের অমীমাংসিত প্রশ্নের উত্তর হয়ে উঠতে পারে।

চলবে....??

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন