ফন্ট সাইজ:
থিম:
এক অবেলায় তুমি এলে

১০ম পর্ব

লেখক: কলমে তাসনিম তালুকদার বুশরা

#এক_অবেলায়_তুমি_এলে

#পর্ব_১০

#কলমে_তাসনিম_তালুকদার_বুশরা

হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫

তিতলিদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার পরও আহিয়ানের বুকের ভেতরটা অস্বাভাবিক ভারী হয়ে রইল। বাইকে উঠে কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে থাকল সে। তারপর ধীরে ধীরে ইঞ্জিন চালু করল। বাইকের শব্দ সন্ধ্যার নীরবতা ভেদ করে ছড়িয়ে পড়ল, আর আহিয়ান নীরিবিলি রাস্তা ধরে এগিয়ে যেতে লাগল। কিন্তু তার দৃষ্টি ছিল রাস্তার দিকে, আর মন পড়ে ছিল বহু পেছনে একটি মেয়ের কাছে।তিতলির শেষ কথাগুলো বারবার কানে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল। “না।” মাত্র একটি শব্দ।

অথচ সেই একটি শব্দই যেন তার সমস্ত আশাকে নিঃশেষ করে দিয়েছে।বাইক চালাতে চালাতে হঠাৎ নিজের অজান্তেই বিষণ্ন স্বরে বলে উঠল,

— “হয়তো... আমি সত্যিই বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছিলাম।”

কণ্ঠে জমে থাকা অনুশোচনা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।

— “আমার জন্যই মেয়েটা আমার কাছ থেকে দূরে সরে যেতে চাইছে। আমি তো ক্ষমা চেয়েছি, তিতলি। স্বীকার করেছি যে আমি ভুল করেছি। তবুও তুমি...!”

কথাটা শেষ করতে পারল না সে। কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর আবার বিড়বিড় করে বলল,

— “আমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে, তিতলি। তুমি কি সেটা একটুও বুঝতে পারছ না?”

রাস্তা তখন ক্রমশ ফাঁকা হয়ে আসছিল। চারপাশের দৃশ্য তার চোখের সামনে দিয়ে দ্রুত পিছিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু নিজের চিন্তায় এতটাই ডুবে ছিল আহিয়ান যে সামনের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মনোযোগ এক মুহূর্তের জন্য বিচ্যুত হয়ে গেল।

পরের মুহূর্তেই—একটি ভারী ট্রাক হঠাৎ সামনে এসে পড়ল। সবকিছু ঘটল এত দ্রুত যে নিজেকে সামলে নেওয়ার সুযোগও পেল না আহিয়ান।

এক বিকট শব্দে সংঘর্ষ হলো। বাইকটি ছিটকে একদিকে চলে গেল, আর আহিয়ান অন্যদিকে রাস্তার ওপর পড়ে গেল। ভারসাম্য হারিয়ে কয়েক মুহূর্তের জন্য তার চারপাশের পৃথিবী যেন সম্পূর্ণ এলোমেলো হয়ে গেল। ঘটনার পরও বড় ট্রাক টি থামল না। দ্রুত সেখান থেকে চলে গেল।

রাস্তার আশপাশের মানুষজন ছুটে এলো। কেউ সাহায্যের জন্য ফোন করতে লাগল, কেউ পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করল। আহিয়ানের চোখ তখন ধীরে ধীরে ভারী হয়ে আসছে।

চারপাশের মানুষের অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর তার কানে ভেসে আসছিল, কিন্তু কোনো কথাই স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছিল না সে। চোখ বন্ধ হয়ে আসার ঠিক আগমুহূর্তে তার মনে আবারও ভেসে উঠল তিতলির মুখ। অচেতন হয়ে যাওয়ার আগেও তার ঠোঁট নড়ল। অত্যন্ত ক্ষীণ কণ্ঠে শুধু বলল,

— “তিতলি... তুমি আমার সঙ্গে এমনটা না করলেও পারতে...!”

কণ্ঠ আরও ক্ষীণ হয়ে এলো,

— “আমাকে ফিরিয়ে না দিলেও... পারতে...!”

এরপরই তার চোখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল।চারপাশের মানুষজন দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করল। আর শহরের অন্য প্রান্তে, কিছুই না জেনে তিতলি তখনও হয়তো নিজের রুমেই নিস্তব্ধতায় বসে ছিল অজান্তেই তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির ভাগ্যে ঘটে যাওয়া এক আকস্মিক বিপর্যয় থেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

~~

সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা....!

দিনের শেষ আলোটুকুও অনেক আগেই মুছে গেছে। চারপাশে ধীরে ধীরে ঘনিয়ে এসেছে রাতের নীরবতা। অথচ তিতলির ঘরে তখনও কোনো আলোড়ন নেই। বেডে চুপচাপ শুয়ে ছিল তিতলি।

সন্ধ্যার সময় সাধারণত তার ঘুম আসে না। বরং এই সময়টুকু সে নিজের মতো করে কাটাত কখনো বই পড়ে, কখনো ফোন হাতে নিয়ে, আবার কখনো জানালার পাশে বসে অন্যমনস্ক হয়ে বাইরে তাকিয়ে। কিন্তু আজ যেন কোনো কিছুতেই তার মন বসছিল না। আহিয়ানের সঙ্গে বিকেলের কথোপকথনগুলো বারবার মনে পড়ছিল।তার বলা শেষ কথাগুলো...আহিয়ানের ভেঙে পড়া মুখ...

সবকিছু মিলিয়ে বুকের ভেতরটা অকারণেই ভারী হয়ে ছিল। ঠিক তখনই ধড়াম করে দরজা খুলে গেল। তিতলি চমকে উঠে সঙ্গে সঙ্গে বেডে বসে পড়ল। দরজার দিকে তাকিয়ে দেখল, তার মা আশা শেখ প্রায় হুড়মুড়িয়ে রুমে ঢুকেছেন। মুখের স্বাভাবিক কোমলতা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক, কণ্ঠে অস্থিরতা। মাকে এমন অবস্থায় দেখে তিতলির বুকের ভেতরটা হঠাৎ কেঁপে উঠল। সে দ্রুত বেড থেকে উঠে বসে উৎকণ্ঠিত কণ্ঠে বলল,

— “আম্মু? কী হয়েছে? এভাবে আসছো কেন? তোমাকে এত চিন্তিত লাগছে... কিছু হয়েছে?”

আশা শেখ যেন কয়েক মুহূর্তের জন্য কথা খুঁজে পেলেন না। তারপর দ্রুত এগিয়ে এসে বললেন,

— “তিতলি, আমাদের এখনই হাসপাতালে যেতে হবে। এক্ষুনি।”

হাসপাতাল শব্দটি শুনতেই তিতলির মুখের সমস্ত স্বাভাবিকতা মুহূর্তে বিলীন হয়ে গেল। কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়ল। সে উৎকণ্ঠিত স্বরে জিজ্ঞেস করল,

— “হাসপাতালে? কেন? আম্মু, আব্বু ঠিক আছে তো? ভাইয়ার কিছু হয়েছে? কার কী হয়েছে?”

প্রশ্নগুলো এক নিঃশ্বাসে বেরিয়ে এলো তার মুখ থেকে। কিন্তু আশা শেখ তখন আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার অবস্থায় নেই। তিনি শুধু মেয়ের হাত ধরে তাড়াহুড়ো করে বললেন,

— “এখন কিছু জিজ্ঞেস করিস না, মা। কথি বলার সময় নেই। তাড়াতাড়ি আমার সঙ্গে চল।”

তিতলি হতভম্ব হয়ে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। তার বুকের ভেতর অজানা এক আশঙ্কা ধীরে ধীরে শিকড় গাড়তে শুরু করেছে। তবুও শেষবারের মতো বলল,

— “আম্মু, অন্তত আমাকে কাপড়টা বদলাতে দাও...!”

আশা শেখ সঙ্গে সঙ্গে মাথা নাড়লেন,

— “না, না। এখন কাপড় বদলানোর সময় নেই। এমনিই চল।”

মায়ের কণ্ঠের সেই অস্থিরতা তিতলিকে আর কোনো প্রশ্ন করার সাহস দিল না। সে দ্রুত বেড থেকে নেমে মায়ের সঙ্গে বেরিয়ে এলো। বাড়ির দরজা পেরিয়ে বাইরে পা রাখতেই বুকের ভেতর অজানা আতঙ্ক আরও তীব্র হয়ে উঠল। হাসপাতাল...কিন্তু কেন? কার জন্য? কী হয়েছে?

কোনো উত্তরই সে জানে না। শুধু জানে, তার মা এমনভাবে কখনো তাকে তাড়াহুড়ো করে কোথাও নিয়ে যাননি। আর সেই অজানা আশঙ্কাটাই যেন তিতলির বুকের ভেতর ক্রমশ ভারী হয়ে উঠতে লাগল। মায়ের হাত শক্ত করে ধরে সে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।

~~

কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়িটি হাসপাতালের সামনে এসে থামল। গাড়ির দরজা খোলার আগেই তিতলির বুকের ভেতর অজানা এক আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছিল। হাসপাতালের উজ্জ্বল সাদা আলো, চারপাশের ব্যস্ততা, ছুটে চলা মানুষজন সবকিছুই তার কাছে কেমন যেন অস্বাভাবিক লাগছিল। মায়ের সঙ্গে দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করতেই হঠাৎ তার দৃষ্টি গিয়ে আটকে গেল করিডোরের এক পাশে। সেখানে বসে আছেন আহিয়ানের বাবা-মা। আজমীর খান কাঁদতে কাঁদতে প্রায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁর চোখ দুটো অশ্রুসিক্ত, মুখে গভীর আতঙ্কের ছাপ। পাশে বসে আর্জুন খান স্ত্রীকে সান্ত্বনা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। অথচ তাঁর নিজের মুখেও উৎকণ্ঠা স্পষ্ট। বারংবার নিজেকে সামলে নিয়ে স্ত্রীকে শক্ত থাকার কথা বললেও তাঁর কণ্ঠের ভারী কম্পন বুঝিয়ে দিচ্ছিল, তিনিও ভেতর থেকে সমানভাবে বিধ্বস্ত।

দৃশ্যটি দেখেই তিতলির বুক ধক করে উঠল। সে আর এক মুহূর্তও দাঁড়িয়ে থাকতে পারল না। প্রায় দৌড়ে গিয়ে আজমীর খানের পাশে বসে পড়লো। তারপর স্পষ্ট আতঙ্ক কণ্ঠে বললো,

— “আন্টি! কী হয়েছে? এভাবে কাঁদছেন কেন? হাসপাতালে কেন এসেছেন?”

তার কণ্ঠস্বর কানে যেতেই আজমীর খান ধীরে ধীরে মুখ তুলে তাকালেন। তিতলিকে দেখেই তাঁর চোখের বাঁধ যেন আরও ভেঙে গেল। কোনো উত্তর না দিয়ে তিনি তিতলিকে কাছে টেনে নিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন। কাঁপতে থাকা কণ্ঠে বলতে লাগলেন,

— “তিতলি মা... তুই জানিস না... আহিয়ান বাইক অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। ওর অবস্থা ভালো না রে মা। আমি কিছু বুঝতে পারছি না... কী করব, কোথায় যাব...!”

কথাগুলো তিতলির কানে পৌঁছাতেই যেন সময় থমকে গেল। বাইক অ্যাক্সিডেন্ট! কয়েক মুহূর্ত সে কোনো শব্দই খুঁজে পেল না। চোখের সামনে ভেসে উঠল বিকেলের সেই দৃশ্য। আহিয়ান দাঁড়িয়ে ছিল তার সামনে। ভাঙা কণ্ঠে ক্ষমা চাইছিল। বারংবার বলছিল, “বিদেশ যেও না...!” আর সে? সে তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিল। তারপর আহিয়ান একা চলে গিয়েছিল। তিতলির বুকের ভেতর হঠাৎ অদ্ভুত এক শীতল ভয় ছড়িয়ে পড়লো। “তাহলে... আমার সঙ্গে দেখা করার পরই?” “ও যদি এতটা ভেঙে পড়ে থাকে?” “আমার কথাগুলো কি ওর মনে এতটাই আঘাত করেছে?” ভাবনাগুলো একে অপরকে ধাক্কা দিতে লাগল। সে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারল না। চোখের পানি মুহূর্তেই গড়িয়ে পড়ল গাল বেয়ে।

আর্জুন খান পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত আজমীর খানকে নিজের কাছে টেনে নিলেন। স্ত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করতে করতে একবার তিতলির দিকে তাকালেন। তারপর চোখের ইশারায় আশা শেখকে তিতলির পাশে যেতে বললেন। আশা শেখ সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের কাছে এসে বসলেন। তিতলি যেন এতক্ষণ নিজেকে কোনোভাবে ধরে রেখেছিল। মাকে পাশে পেতেই সমস্ত বাঁধ ভেঙে গেল। সে মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল,

— “আম্মু... আমি বিশ্বাস করি না! উনার কিছু হয়নি। কিছুই হয়নি। উনি ঠিক হয়ে যাবেন... বলো আম্মু, উনি ঠিক হয়ে যাবেন!”

আশা শেখের নিজের চোখও তখন অশ্রুসিক্ত। কিন্তু মেয়ের সামনে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করলেন। তিতলির মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে ধীর কণ্ঠে বললেন,

— “একদম চিন্তা করিস না, মা। আল্লাহ আছেন। তিনি নিশ্চয়ই সব ঠিক করে দেবেন। তুই শক্ত থাক।”

তিতলি মায়ের বুকে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগল।

তার মনের ভেতর তখন শুধু একটি কথাই ঘুরপাক খাচ্ছে—আহিয়ানকে একবার দেখতে হবে।

কিছুক্ষণ পর অটির দরজা খুলে নার্স ও হাসপাতালের কর্মীরা আহিয়ানকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। পরিবারের সবাই উৎকণ্ঠায় দাঁড়িয়ে রইল।

কিছু সময় পর ডাক্তার বাইরে এসে জানালেন, একজন মাত্র ভেতরে থাকতে পারবেন। বাকিদের বাইরে অপেক্ষা করতে হবে। কথাটি শুনে পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের দিকে তাকালেন।

শেষ পর্যন্ত সবার দৃষ্টি এসে থামল তিতলির ওপর।

আশা শেখ মেয়ের কাঁধে হাত রাখলেন,

— “যা মা... তুই ভেতরে যা।”

আশা শেখের কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিতলি আর এক মুহূর্তও বসে রইল না। মায়ের হাতের স্পর্শ সরিয়ে প্রায় ছুটে গেল কেবিনের দরজার দিকে। বুকের ভেতর তখন হৃদস্পন্দনের অস্থিরতা এতটাই প্রবল যে নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও তার কানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছিল। কাঁপা হাতে দরজাটি ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই তিতলি থমকে দাঁড়িয়ে গেল। চোখের সামনে যে দৃশ্যটি ভেসে উঠল, তার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিল না সে। সাদা হাসপাতালের বেডে নিস্তেজ হয়ে শুয়ে আছে আহিয়ান। মাথার একাংশ ব্যান্ডেজে মোড়ানো, শরীরের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসার চিহ্ন। মুখের স্বাভাবিক দৃঢ়তা নেই, নেই সেই কঠোর দৃষ্টি কিংবা বিরক্তির ছাপ। চোখ বন্ধ করে সম্পূর্ণ নিশ্চুপ হয়ে পড়ে আছে মানুষটি। তিতলির বুকের ভেতরটা হঠাৎ মোচড় দিয়ে উঠল। কয়েক মুহূর্ত সে শুধু তাকিয়েই রইল। তারপর চোখের পানি আর ধরে রাখতে পারল না। নিঃশব্দে গড়িয়ে পড়া অশ্রু মুহূর্তের মধ্যেই কান্নায় রূপ নিল। ধীর পায়ে বেডে পাশে রাখা চেয়ারটিতে বসে পড়ল সে। এতটাই কাঁপছিল তার হাত যে কয়েকবার নিজের আঙুলগুলোও ঠিকমতো স্থির রাখতে পারল না।

অবশেষে কাঁপতে কাঁপতে নিজের হাতটি আহিয়ানের হাতের ওপর রাখল। হাতটি স্থির।

তিতলির বুকটা আরও ভারী হয়ে উঠল। সে নিচু হয়ে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল আহিয়ানের দিকে। তারপর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ফিসফিস করে বলতে শুরু করল,

— “আমি তো ছোট মানুষ...!”

কণ্ঠটা মাঝপথেই কেঁপে গেল। তবুও নিজেকে সামলে আবার বলল,

— “আমি সবকিছু বুঝি না। অনেক সময় রাগের মাথায় উল্টাপাল্টা কথা বলে ফেলি। সেদিনও তাই করেছি। কিন্তু তাই বলে... নিজের এমন ক্ষতি করতে হবে?”

অশ্রুগুলো গাল বেয়ে নেমে আসছিল অবিরত।

—“এই যে এভাবে পড়ে আছেন... আমার বুঝি কষ্ট হয় না?”

কথাটা বলতে গিয়েই তার গলা ভারী হয়ে এলো।

আহিয়ানের হাতের ওপর নিজের আঙুলগুলো আরও শক্ত করে রাখল সে।

— “আমি রাগ করব, অভিমান করব, হয়তো আপনাকে কিছু না কিছু বলব এটাই তো আমার স্বভাব। কিন্তু আপনি কি আমাকে একটু বুঝতে পারতেন না?”

তার চোখ আবার আহিয়ানের মুখের দিকে উঠে গেল।

— “আমি তো বলেছিলাম, আমি আর আপনার সঙ্গে কথা বলব না। তাই বলে সত্যি সত্যিই আমাকে কথা বলার সুযোগটাও কেড়ে নেবেন?”

একটি দীর্ঘশ্বাস তার বুকের গভীর থেকে বেরিয়ে এলো।

— “আমি রাগের মাথায় বলেছিলাম, আপনি আমাকে মানাবেন। ভাবিনি... আপনি এভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে থাকবেন।”

কথাগুলো বলতে বলতে তার ঠোঁটে এক অদ্ভুত কাঁপুনি ফুটে উঠল। কান্নার মাঝেও যেন অভিমানটুকু ছাড়তে পারছে না।

— “এখন জানি আপনি যদি জেগে থাকতেন, তাহলে আমার কান্না দেখে হয়তো খুব খুশি হতেন, তাই না?”

চোখ মুছে নিয়ে অভিমানী স্বরে বিড়বিড় করল,

— “নিষ্ঠুর পুরুষ...!”

কয়েক মুহূর্ত চুপ করে থেকে আবার বলল,

— “খিটখিটে পুরুষ কোথাকার...!”

শেষ কথাটুকু বলতে গিয়ে তার কণ্ঠ একেবারেই ভেঙে গেল। তিতলি মাথা নিচু করে আহিয়ানের হাতের ওপর নিজের কপাল ঠেকিয়ে দিল।

চোখের পানি একের পর এক ঝরে পড়ছিল।

তার সমস্ত রাগ, অভিমান, আত্মসম্মানের কঠিন দেয়াল সবকিছু যেন এই মুহূর্তে অর্থহীন হয়ে গেছে। শুধু একটি কথাই বারবার মনে হচ্ছিল আহিয়ান যেন একবার চোখ খুলে তাকায়।

একবার শুধু বলুক,

—“অবাধ্য মেয়ে...!”

তাহলেই হয়তো তার বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত অভিমান মুহূর্তেই গলে যাবে।

চলবে...??

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন