#My_Angry_Albatross
#লেখিকা_রুমি_ইসলাম
#পর্ব_৫
❌ কপি করা নিষিদ্ধ ❌
★— "আমি চাই, এবার থেকে কোম্পানির মূল দায়িত্ব তোরা দুই ভাই সামলাবি। আগামীকাল সকাল দশটায় বোর্ড মিটিং। কোম্পানির সব ডিরেক্টর আর সিনিয়র স্টাফ সেখানে উপস্থিত থাকবে। সবার সামনে তোদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেব।"
তারপর জোরাভের দিকে তাকিয়ে বললেন,
— "জোরাভ, তুমি কোম্পানির CEO হিসেবে দায়িত্ব নেবে।"
এরপর রিদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন,
— "আর রিদ, তুমি COO হিসেবে জোরাভকে সহযোগিতা করবে।"
রিদ চামচটা প্লেটের পাশে রেখে একটু ইতস্তত করে বলল,
— "চাচ্চু... এত বড় দায়িত্ব... আমরা পারব তো?"
আজাদ চৌধুরী আশ্বস্ত করার ভঙ্গিতে হেসে বললেন,
— "ভয় পাস না। আমি আর তোর বাবা তো আছিই। শুরুতে হয়তো একটু কঠিন লাগবে, কিন্তু আমি জানি তোরা দু'জনই পারবি।"
এরপর তিনি আবার জোরাভের দিকে তাকালেন।
— "কী বলো, জোরাভ? নিজের ওপর ভরসা আছে তো?"
জোরাভ বাবার চোখে চোখ রেখে দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
— "ইনশাআল্লাহ... আপনার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখব, বাবা।"
আজাদ চৌধুরীর ঠোঁটে তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল।
তিনি জানতেন...
যে ছেলে কথা কম বলে, সে দায়িত্ব থেকে কখনো পিছু হটে না।
★★★
রাত ১০টা ৪৫ মিনিট।
চারপাশে নেমে এসেছে গভীর নীরবতা।
দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর মাঝেমধ্যে হালকা বাতাস এসে ছাদের পরিবেশটাকে আরও শান্ত করে তুলছে।
চৌধুরী বাড়ির ছাদের এক কোণায় একা দাঁড়িয়ে আছে জোরাভ।
পরনে বাদামি ট্রাউজার আর সাদা টি-শার্ট।
এক হাতে ধোঁয়া ওঠা চিনি ছাড়া তেতো কফির মগ, অন্য হাতটা ট্রাউজারের পকেটে।
চোখ স্থির রাতের আকাশে ঝুলে থাকা পূর্ণিমার চাঁদের দিকে।
মাঝে মাঝে কফিতে ছোট্ট চুমুক দিচ্ছে।
আজ তেতো কফির স্বাদটাও যেন অনুভব করতে পারছে না।
কারণ...
সারাদিন ধরে একটা মুখই বারবার ভেসে উঠছে তার চোখের সামনে।
ইনায়া।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে বহু বছরের পুরোনো কিছু স্মৃতি ধীরে ধীরে জেগে উঠতে লাগল তার মনে...
~ফ্ল্যাশব্যাক~
চৌধুরী বাড়ির সেই একই ছাদ।
ছাদের একপাশে একটা খড়ের মাদুর পাতা।
সেই মাদুরের ওপর পা মুড়ে চুপচাপ বসে আছে সাত বছরের ছোট্ট ইনায়া।
পরনে সাদা ফ্রক।
হালকা বাতাসে ওর চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়ছে।
দুই হাতের ওপর থুতনি রেখে গোল গোল চোখে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে আকাশের বিশাল পূর্ণিমার চাঁদের দিকে।
আর তিন-চার ফুট দূরে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে চৌদ্দ বছরের জোরাভ।
দুই হাত পকেটে।
মুখে চিরচেনা গম্ভীর ভাব।
সে ছাদে এসেছিল একটু নিরিবিলিতে দাঁড়াতে।
কিন্তু এই ছোট্ট মেয়েটা যেন ওর পিছু ছাড়তেই জানে না। জোরাভ ছাদে এলেই কখন যে চুপিচুপি এসে পাশে বসে পড়ে, সেটা সে নিজেও বুঝতে পারে না।
চারপাশে নিস্তব্ধতা।
শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর রাতের মৃদু বাতাস।
হঠাৎ ইনায়া ভয়ে ভয়ে খুব আস্তে ডাকল—
— "ভাইয়া..."
জোরাভ ঘুরেও তাকাল না।
চোখ চাঁদের দিকেই রেখে সংক্ষিপ্ত উত্তর দিল—
— "হুম।"
শুধু একটা শব্দ।
তাতেই ইনায়ার বুকটা ধক করে উঠল।
ছোট্ট ইনায়ার ধারণা, এই রাগী ভাইয়াটা হাসতে জানে না। শুধু বকতেই জানে। তবুও কেন জানি না, ওর আশেপাশেই ঘুরঘুর করতে ভালো লাগে।
ইনায়া আকাশের দিকে আঙুল তুলে নিষ্পাপ গলায় জিজ্ঞেস করল—
— "জোরাভ ভাই...., চাঁদে কে থাকে...?
জোরাভ একবার ঘাড় কাত করে আকাশের চাঁদটার দিকে তাকাল।
কয়েক সেকেন্ড নীরব থেকে শান্ত গলায় বলল,
— "কেউ না।"
ইনায়া ঠোঁট ফুলিয়ে আবার প্রশ্ন করল,
— "তাহলে চাঁদ এত আলো দেয় কেন,?
জোরাভ এবার ধীরে ধীরে মুখ ফিরিয়ে ওর দিকে তাকাল।
গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— "অন্ধকারে যারা ভয় পায়... তাদের পথ দেখানোর জন্য।"
কথাটা শুনে ইনায়া চুপ করে গেল।
কারণ, অন্ধকারকে সে ভীষণ ভয় পায়।
আর সেই কথাটা জোরাভও জানে।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে ইনায়া আবার আঙুল তুলে চাঁদের দিকে দেখিয়ে কৌতূহলী গলায় বলল,
— "আচ্ছা জোরাভ ভাই... চাঁদের গায়ে ওই গুলো কী... গর্ত.?
প্রশ্নটা শুনে চৌদ্দ বছরের জোরাভ হঠাৎ করেই হেসে উঠল।
জোরাভকে হাসতে দেখে ইনায়া বিস্ময়ে হা করে তাকিয়ে রইল।
কারণ...
তার জোরাভ ভাই তো হাসেই না!
বর্তমান...
ছাব্বিশ বছরের জোরাভের ঠোঁটের কোণেও অজান্তেই এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল।
একই প্রশ্ন...
একই স্মৃতি...
শুধু বদলে গেছে সময়।
তবে আজ...
সেই হাসিটা দেখার জন্য ইনায়া তার পাশে নেই।
★★চলবে........
★(“পড়েছেন যখন, হাজিরাটাও দিয়ে যান! 😌❤️”)