ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘের ডানায় রোদ

১ম পর্ব

লেখক: ইশরাত জাহান জেরিন

জগতে কিছু কিছু মানুষ জন্মায় চিরকাল একা থাকার জন্য। তারা ভিড়ের মধ্যে হাঁটে, বাসে চড়ে, বন্ধুদের আড্ডায় হো-হো করে হাসে অথচ দিনশেষে নিজের ঘরটায় ফিরে যখন চাদর মুড়ি দিয়ে শোয়, তখন আবিষ্কার করে পুরো ব্রহ্মাণ্ডে সে আসলে একলা একটা গ্রহাণুর মতো ভাসছে। তার চারপাশের আলো, শব্দ, কোলাহল সবই মায়া, সবই দৃষ্টিবিভ্রম। অয়নান্তের ধারণা, সে নিজেও এই বিশেষ শ্রেণীর মানুষ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার শেষ বর্ষের ছাত্র সে। চারুকলার ছাত্রদের একটা মজ্জাগত রোগ থাকে তারা জগতের সবকিছুর মধ্যে একটা জ্যামিতিক ভারসাম্য আর রঙের অনুপাত খোঁজে। অয়নান্তও খুঁজত। তবে একটু অন্যভাবে। সে চারকোল পেনসিলে সাদা কাগজের ওপর যখন স্কেচ করত, তখন তার মনে হতো, দুনিয়ার সবচেয়ে খাঁটি সত্যটা লুকিয়ে আছে কালো রঙে। সাদা কাগজটা হলো শূন্যতা, আর কালো দাগগুলো হলো সেই শূন্যতাকে কাটাকুটি করার ব্যর্থ চেষ্টা।

টেকনাফ ঘাট থেকে যখন ‘কেয়ারি সিন্দাবাদ’ জাহাজটি ছাড়ল, তখন সকাল সাড়ে নয়টা। নাফ নদীর ঘোলা জল কেটে জাহাজটি যখন বঙ্গোপসাগরের নীল জলের দিকে এগোচ্ছিল, অয়নান্ত তখন ডেকের এক কোণায় জং ধরা লোহার রেলিংটা ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার পরনে একটা মলিন জিন্স আর কালো ফতুয়া। কাঁধে ঝুলছে একটা শান্তিনিকেতনি ঝোলা ব্যাগ, যার ভেতর গোটা তিনেক স্কেচবুক আর এক বাক্স চারকোল পেনসিল ছাড়া আর কিছুই নেই। মোবাইল ফোনটা সে বন্ধ করে ব্যাগের সবচেয়ে ভেতরের পকেটে রেখে দিয়েছে। সে চায় না এই কয়েকটা দিন যান্ত্রিক কোনো শব্দ তার নির্জনতাকে বিঘ্নিত করুক। জাহাজের ইঞ্জিনটা একটা একটানা একঘেয়ে শব্দ করে চলেছে। ভট-ভট-ভট-ভট। এই শব্দটারও একটা নিজস্ব সুর আছে, যা কিছুক্ষণ শুনলে কান সয়ে যায়, তখন মনে হয় ওটা আসলে কোনো শব্দ নয় ওটা সমুদ্রের বুকের হৃদস্পন্দন। অয়নান্ত দেখল, আকাশের রংটা আস্তে আস্তে পাল্টাচ্ছে। টেকনাফে আকাশটা কিছুটা ধোঁয়াটে, মেঘে ঢাকা ধূসর। কিন্তু জাহাজ যতই মাঝসমুদ্রের দিকে যাচ্ছে, আকাশটা ততই যেন তার পর্দা সরিয়ে গাঢ় নীল রূপ ধারণ করছে।

"মানুষ যখন খুব একা থাকে, তখন সে আকাশের দিকে তাকায় কেন বলতে পারেন?" খুব মৃদু, স্পষ্ট একটা কণ্ঠস্বর ভেসে এল বাম পাশ থেকে। কণ্ঠটা এতই স্বাভাবিক যে অয়নান্তের মনে হলো না কেউ তাকে হঠাৎ চমকে দিল। সে শান্ত চোখে মাথা ঘুরিয়ে তাকাল। রেলিংয়ের ওপর দুই হাত রেখে একটি মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। মেয়েটির পরনে আকাশী নীল রঙের একটা সুতি শাড়ি। সাগরের তীব্র বাতাসে শাড়ির আঁচলটা অবাধ্য পাখির ডানার মতো উড়ছে। মেয়েটির গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা, চিবুকে একটা ছোট্ট তিল। চোখ দুটো বড় বড়, আর সেই চোখে কোনো চঞ্চলতা নেই, আছে শান্ত হাহাকার। তার গলার দিকে তাকালে চোখ আটকে যায়, সেখানে একটা কালো সুতোয় ঝুলছে একটা ছোট কাঁচের বোতলের লকেট। খুব ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, সেই স্বচ্ছ বোতলটার ভেতরে সামান্য বালুকণা পোরা রয়েছে। অয়নান্ত কিছুক্ষণ মেয়েটির মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। চারুকলার ছাত্র হিসেবে সে মানুষের মুখাবয়ব দ্রুত বিশ্লেষণ করতে পারে। এই মুখটি সাধারণ সুন্দরী মেয়েদের মতো নয়। এই মুখে একটা মন খারাপ করা আবহ আছে, যা হুট করে কোনো জলরঙের ছবিতে ফুটিয়ে তোলা যায় না।

অয়নান্ত বলল, "জানি না। হয়তো মানুষ আকাশকে নিজের চেয়েও বড় একটা শূন্যতা মনে করে। একটা ছোট শূন্যতা যখন একটা বিশাল শূন্যতার দিকে তাকায়, তখন সে নিজের দুঃখটাকে ভুলে থাকার একটা বাহানা পায়।" মেয়েটি একটু হাসল। সেই হাসিতে দাঁত দেখা গেল না, শুধু ঠোঁটের কোণটা সামান্য বেঁকে গেল। সে বলল, "চমৎকার উত্তর। চারুকলার ছাত্ররা কি সবসময় এত গুছিয়ে দার্শনিক কথা বলে?"

অয়নান্ত কিছুটা অবাক হলো। "আপনি কী করে জানলেন আমি চারুকলার ছাত্র?" মেয়েটি অয়নান্তের কাঁধের ঝোলা ব্যাগটার দিকে ইশারা করল। ব্যাগটার মুখ থেকে একটা স্কেচবুকের কোণা বের হয়ে ছিল, আর অয়নান্তের ডান হাতের আঙুলের ডগায় তখনো চারকোল পেনসিলের কালচে দাগ লেগে আছে।

"সূত্র খুব সহজ, অয়নান্ত সাহেব। প্রকৃতি নিজেই তো সব ক্লু বা সূত্র ছড়িয়ে রাখে, মানুষ শুধু চোখ মেলে দেখতে পারে না।" মেয়েটি বলল।

অয়নান্তের ভ্রু সামান্য কুঁচকে গেল। "আপনি আমার নামও জানেন? আমরা কি আগে কখনো কোথাও দেখেছি?"

"না, আগে দেখিনি। তবে আপনার ব্যাগের কাপড়ে বড় বড় অক্ষরে লেখা আছে 'অয়নান্ত, ব্যাচ ২৫, চারুকলা'। একজন মানুষের নাম যদি অয়নান্ত হয়, তবে তার দিকে অন্তত একবার তাকিয়ে দেখাটা তো নাগরিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে, তাই না?" মেয়েটি সমুদ্রের দিকে মুখ ফিরিয়ে আবার বলল। অয়নান্ত নিজের বোকামিতে নিজেই একটু হাসল। আসলেই তো, তার এক বন্ধু গত বছর চারুকলার এক প্রদর্শনীতে এই ঝোলা ব্যাগটায় তার নাম ক্যালিগ্রাফি করে দিয়েছিল। সে বলল, "তা ঠিক। তবে নামটা আমার বাবা রেখেছিলেন। অয়নান্ত মানে হলো সূর্যের গতিপথের শেষ বিন্দু। সূর্যের আর কোনো পথ থাকে না যেখানে গিয়ে সে আলো ছড়াতে পারে। নামটা বড্ড বেশি নেতিবাচক।"

"নেতিবাচক কেন হবে?" মেয়েটি চুলের অবাধ্য গোছা কানের পেছনে গুঁজতে গুঁজতে বলল, "গতিপথের শেষ বিন্দু মানেই তো একটা পরম স্থিতি। এরপর আর কোনো ছোটাছুটি নেই, কোনো ব্যাকুলতা নেই। সব নদী যেমন সাগরে এসে শান্ত হয়ে যায়, অয়নান্ত মানেও তেমনি পরম শান্তি। আমার নামটা শুনবেন?"

"যদি বলেন।"

"আমার নাম তিস্তানি। নদী থেকে অনুপ্রাণিত নাম। তবে নদী যেমন চঞ্চল হয়, ধেয়ে চলে আমার জীবনটা কিন্তু তেমন নয়। আমার জীবনটা স্থবির, একদম থমকে যাওয়া একটা ডোবার মতো।" অয়নান্ত তিস্তানির গলার সেই কাঁচের লকেটটার দিকে তাকাল। বোতলের ভেতরের বালিগুলো জাহাজের দুলুনির সাথে সাথে সামান্য নড়ছে। সে জিজ্ঞেস করল, "আপনার গলার লকেটে কি ওটা বালি?"

তিস্তানি লকেটটা হাত দিয়ে স্পর্শ করল। তার আঙুলগুলো সরু এবং লম্বা। সে বলল, "হ্যাঁ, বালি। সেন্টমার্টিন দ্বীপের বালি। মানুষ তার প্রিয় মানুষের ছবি মানিব্যাগে রাখে, চুলে গোঁজা শুকনো ফুল ডায়েরির পাতায় লুকিয়ে রাখে। আর আমি একটা আস্ত দ্বীপকে আমার গলায় ঝুলিয়ে ঘুরি। এই বালুকণাগুলো শুধু পাথর গুঁড়ো নয়, অয়নান্ত সাহেব। এর একেকটা কণা হলো একেকটা স্মৃতির কঙ্কাল।"

জাহাজটি তখন মাঝসমুদ্রে। সাগরের ঢেউগুলো এখন বেশ বড় বড় আকার ধারণ করেছে। কেয়ারি সিন্দাবাদ একবার ডানে, একবার বামে দুলছে। জাহাজের ট্যুরিস্টরা ডেকের ওপর দাঁড়িয়ে চিৎকার করে আনন্দ করছে, কেউ কেউ দল বেঁধে গান গাইছে, "সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী..."। এই বিপুল আনন্দের মাঝে অয়নান্ত আর তিস্তানি দাঁড়িয়ে আছে দ্বীপের মতো, যেন তাদের চারপাশের কোলাহল অন্য কোনো জগতের দৃশ্য। অয়নান্ত তার ঝোলা ব্যাগ থেকে একটা স্কেচবুক আর একটা চারকোল পেনসিল বের করল। সে রেলিংয়ে হেলান দিয়ে তিস্তানির একটা অবয়ব আঁকার চেষ্টা করতে লাগল। চারকোলের কালচে টানে ধীরে ধীরে কাগজের বুকে ফুটে উঠতে লাগল তিস্তানির উড়ন্ত চুল, তার শাড়ির আঁচল আর চোখের সেই চিলতে বিষাদ। তিস্তানি স্কেচবুকের দিকে না তাকিয়েই বলল, "আমার ছবি আঁকছেন? লাভ নেই। কাগজে মানুষের অবয়ব ধরা যায়, তার ভেতরের মানুষটাকে তো আর ধরা যায় না। ক্যামেরার লেন্স বা পেনসিলের দাগ এগুলো হলো মানুষের ওপরের চামড়াটাকে বন্দি করার সস্তা ফাঁদ।"

অয়নান্ত আঁকতে আঁকতে বলল, "সব ফাঁদ সস্তা হয় না, তিস্তানি। কিছু কিছু ফাঁদে মানুষ স্বেচ্ছায় ধরা দেয়। আর চারকোল পেনসিলের একটা গুণ আছে, এটা দিয়ে কখনো কারো মিথ্যা রূপ আঁকা যায় না। জলরং দিয়ে আপনি একটা কালো মেঘকে সোনালী রোদে ঢেকে দিতে পারেন, কিন্তু চারকোলে আপনাকে সত্যটাই ফুটিয়ে তুলতে হবে।" তিস্তানি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সাগরের নোনা বাতাস তার দীর্ঘশ্বাসটাকে কেড়ে নিয়ে দূর সমুদ্রে ভাসিয়ে দিল। সে বলল, "জগতে সত্য বলে আসলেই কি কিছু আছে? আমার তো মনে হয়, সত্য হলো একটা আপেক্ষিক বিষয়। আপনি যাকে আলো ভাবছেন, একটু দূর থেকে দেখলে ওটা হয়তো কারো ঘরের জ্বলন্ত চিতা। ভালোবাসার কথাই ধরুন না কেন। ভালোবাসার কোনো নিখুঁত সংজ্ঞা কি আজ পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞানী বা দার্শনিক দিতে পেরেছেন?"

"হুমায়ূন আহমেদ এক জায়গায় লিখেছিলেন," অয়নান্ত পেনসিলটা সামান্য থামিয়ে বলল, "ভালোবাসা হলো মানসিক ব্যাধি। এই ব্যাধিতে আক্রান্ত হলে মানুষ নিজেকে ছাড়া বাকি দুনিয়াটাকে ধোঁয়াটে দেখে।"

তিস্তানি খিলখিল করে হেসে উঠল। সেই হাসির শব্দে সাগরের গাঙচিলগুলো যেন একটু চমকে ডানা ঝাপটালো। হাসলে মেয়েটাকে অন্যরকম দেখায়, যেন মেঘের আড়াল থেকে হুট করে এক চিলতে কড়া রোদ এসে প্রবালের ওপর পড়ল। সে বলল, "হুমায়ূন আহমেদ রসিক মানুষ ছিলেন, তাই ওভাবে বলেছেন। কিন্তু আমি আপনাকে একটা খাঁটি সত্য কথা বলি, অয়নান্ত সাহেব। ভালোবাসার আসলে কোনো বিশ্লেষণ হয় না। মানুষ প্রেমে পড়ে বারবার, প্রতিটা নতুন ঋতুতে, নতুন কোনো ভালো লাগার আড়ালে মানুষের মন টালমাটাল হয়। মানুষ এক জীবনে হাজার বার প্রেমে পড়তে পারে। ওটা একটা হরমোনের খেলা, প্রকৃতির একটা জৈবিক নিয়ম। কিন্তু মায়া? মানুষ মায়ায় পড়ে মাত্র একবারই।"

অয়নান্ত স্কেচবুক থেকে চোখ তুলে তিস্তানির দিকে তাকাল। "প্রেম আর মায়ার মধ্যে তফাতটা কী?"

"তফাতটা অনেক গভীর," তিস্তানি জাহাজের রেলিং ছেড়ে একটু সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার চোখের দৃষ্টি তখন দিগন্তের সেই নীল রেখায় স্থির, যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে। সে বলতে লাগল, "প্রেম হলো চৈত্র মাসের দুপুরের এক পশলা বৃষ্টি। খুব তীব্রভাবে আসে, ধুলোবালি উড়িয়ে চারপাশ ভাসিয়ে দেয়, আবার চট করে চলেও যায়। কিছুক্ষণ পর রোদের তাপে বোঝাই যায় না যে একটু আগে এখানে বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু মায়া হলো শীতের সকালের কুয়াশা। সে অত তীব্র নয়, কিন্তু সে চারপাশটাকে এমনভাবে চেপে ধরে যে আপনি চাইলেও সামনের পথ দেখতে পাবেন না। মায়া হলো একমুখী রাস্তা, অয়নান্ত সাহেব। সেখান থেকে ফেরা যায় না। প্রেম ভাঙলে মানুষ কাঁদে, কিছুদিন পর আবার নতুন কারো হাত ধরে হাসে। কিন্তু মায়া যদি একবার কারো জন্য তৈরি হয়ে যায়, আর সেই মানুষটা যদি হারিয়ে যায় তবে মানুষের ভেতরের কিছু একটা চিরতরে মরে যায়। মানুষটা বেঁচে থাকে, অফিস করে, ভাত খায়, কিন্তু সে আসলে একটা জীবন্ত লাশ।"

অয়নান্তের বুকের ভেতর তখন একটা অদ্ভুত অনুভূতির জন্ম নিল। সে চারুকলার ছাত্র, রঙের হিসাব বোঝে। সে জানে, কিছু কিছু রং এতই গাঢ় হয় যে একবার ক্যানভাসে পড়লে তাকে আর অন্য কোনো রং দিয়ে ঢাকা যায় না। তিস্তানির এই কথাগুলো যেন চারকোলের সেই কালো দাগের মতো তার মনের সাদা পাতায় চিরকালের জন্য বসে যাচ্ছে।

সে মৃদুস্বরে জিজ্ঞেস করল, "আপনি কি তেমন কোনো মায়ার জালে জড়িয়ে আছেন, তিস্তানি?"

তিস্তানি উত্তর দিল না। সে তার গলার সেই কাঁচের লকেটটা মুঠো করে ধরল। তার চোখ দুটো হঠাৎ করেই কেমন যেন আর্দ্র হয়ে উঠল, যেন সমুদ্রের নোনা জল বাষ্প হয়ে তার চোখের পাতায় জমা হয়েছে। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, "দেখুন, মেঘের ডানায় কেমন রোদ লেগেছে। দেখতে কত সুন্দর লাগছে, তাই না? কিন্তু এই রোদটা বেশিক্ষণ থাকবে না। মেঘের ডানা ভারী হলেই রোদটা মরে যাবে, আর তারপর শুরু হবে বৃষ্টি। প্রকৃতির এই নিয়মটা বড় নিষ্ঠুর।"

জাহাজের মাইকে তখন ঘোষণা করা হলো, "সুধী যাত্রীসাধারণ, আমরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সেন্টমার্টিন দ্বীপের জেটি ঘাটে পৌঁছাবো। আপনারা দয়া করে আপনাদের মালামাল গুছিয়ে নিন।"

দূরে নারকেল গাছের সারি আর হালকা ধূসর বালিয়াড়ি স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। অয়নান্ত তার স্কেচবুকটা বন্ধ করে ব্যাগে রাখল। সে তিস্তানির দিকে তাকিয়ে বলল, "দ্বীপে নেমে আপনি কোথায় উঠবেন? আপনার সাথে কি কেউ আছে?"

তিস্তানি অয়নান্তের দিকে ফিরে সেই চেনা মন খারাপ করা হাসিটা হাসল। "আমি একাই এসেছি। মায়ারা কখনো দল বেঁধে আসে না, অয়নান্ত সাহেব। তারা একাই আসে, আর একাই হারিয়ে যায়। ভালো থাকবেন।"

তিস্তানি ভিড়ের মধ্যে মিশে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। অয়নান্ত জ্যামিতিক নকশার মতো দাঁড়িয়ে রইল ডেকের ওপর। তার মনে হলো, সেন্টমার্টিনের এই নীল জল যতটা না সুন্দর, তার চেয়েও অনেক বেশি রহস্যময়ী এই মেয়েটি। সমুদ্রের জল নোনা হয় কারণ তাতে লবণ থাকে, আর মানুষের চোখ কেন নোনা হয়, তার কোনো লজিক্যাল বিশ্লেষণ আজ পর্যন্ত কোনো ল্যাবরেটরিতে আবিষ্কৃত হয়নি। জাহাজটি যখন জেটিতে এসে ভিড়ল, তখন দুপুরের কড়া রোদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু অয়নান্তের মনের ভেতর তখন কেবলই প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল তিস্তানির সেই শেষ কথা কটি, “মানুষ প্রেমে পড়ে বারবার, কিন্তু মায়ায় পড়ে একবারই...!!”

চলমান......

#মেঘের_ডানায়_রোদ

#ইশরাত_জাহান_জেরিন

#সূচনা_পর্ব

( আমার মনে হয় গল্প গুলো আপনাদের ফ্রিতে দেওয়া উচিত হচ্ছে না। ফ্রি জিনিসের মানুষ মূল্য দিতে জানে না। আর এত যে ভালো, শালীন গল্প খুঁজেন, লেখিকারা নাকি শালীন কিছু লিখতে পারেন না, তো শালীন মার্জিত গল্পই তো আপনাদের দেওয়া হচ্ছে এখন কোথায় আপনাদের রেসপন্স? এর চেয়ে ই-বুকে গল্প গুলো দিলেও কাজে লাগত। ২ জন মানুষ কিনে পড়লেও আপত্তি ছিল না। আপনাদের জন্য ভালো হয়ে লাভ নাই। রেসপন্স করলে, রিয়েক্ট দিলে গল্প দিব নইলে না।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন