ফন্ট সাইজ:
থিম:
মেঘের ডানায় রোদ

২য় পর্ব

লেখক: ইশরাত জাহান জেরিন

#মেঘের_ডানায়_রোদ

#ইশরাত_জাহান_জেরিন

#পর্বঃ০২

সেন্টমার্টিন দ্বীপের একটা অদ্ভুত চরিত্র আছে। দিনের বেলা এই দ্বীপটি এক রকম হৈচৈ, কোলাহল, ট্যুরিস্টদের ছবি তোলার হিড়িক, আর ডাব বিক্রেতাদের চড়া গলার হাঁকডাক। দ্বীপে পা রাখতেই মনে হয় যেন একটা মেলা বসেছে। কিন্তু সূর্য যখনই পশ্চিম আকাশের নীল জলরাশির বুকে টুপ করে ডুব দেয়, দ্বীপের চরিত্র তখন একশো আশি ডিগ্রি বদলে যায়। সে তার সব জাঁকজমক ঝেড়ে ফেলে এক প্রাচীন, আদিম রূপ ধারণ করে। ট্যুরিস্টদের একটা বড় অংশ বিকেলের জাহাজেই টেকনাফ ফিরে যায়, আর যারা থেকে যায়, তারা তখন হোটেলের বারান্দায় কিংবা রেস্তোরাঁর আলোয় নিজেদের বন্দি করে ফেলে। সমুদ্র তখন একা হয়ে যায়।

সন্ধ্যা নামার পরপরই দ্বীপের জেনারেটরগুলো চালু হয়। হোটেল আর রেস্তোরাঁগুলোর সামনে টিমটিমে আলো জ্বলে। বাজারে শুঁটকি মাছ আর কাঁকড়া ভাজার তীব্র গন্ধ বাতাসে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু রাত ঠিক বারোটা বাজতেই একযোগে সব জেনারেটর বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো দ্বীপ নিশ্ছিদ্র, অন্ধকারে ডুবে যায়। তখন আর কোনো মিছে আলো থাকে না, থাকে না কোনো মানুষের তৈরি শব্দ। চারপাশটা এতই নিঝুম হয়ে যায় যে, তখন মনে হয় পুরো পৃথিবীটাই আসলে একটা কুহক, একটা প্রকাণ্ড মায়া। জেগে থাকে শুধু সমুদ্রের গর্জন একটা বিশাল, যে শ্বাস ফেলে আর বালুচরে এসে হুঙ্কার ছাড়ে। আর জেগে থাকে আকাশের কোটি কোটি তারা। ঢাকা শহরের ধোঁয়াটে আকাশে যে তারাগুলোকে কোনোদিন দেখাই যায় না, সেন্টমার্টিনের আকাশে তারা যেন একেকটা হীরের টুকরোর মতো জ্বলজ্বল করে। মনে হয় হাত বাড়ালেই মহাবিশ্বের সেই নক্ষত্রপুঞ্জকে ছুঁয়ে ফেলা যাবে।

অয়নান্ত তার হোটেলের ছোট ঘরটায় চুপচাপ শুয়ে আছে। জেনারেটর বন্ধ হওয়ার পর ঘরের ভেতরের গরমটা একটু অসহ্য ঠেকছে, আর তার চেয়েও বড় কথা, তার চোখে কোনো ঘুম নেই। চারুকলার ছাত্রদের একটা মজ্জাগত বৈশিষ্ট্য থাকে, তারা এমনিতে একটু নিশাচর প্রকৃতির হয়। রাতের নির্জনতা তাদের ভেতরের ভাবনাগুলোকে, সুপ্ত রংগুলোকে আরও উস্কে দেয়। অয়নান্ত বিছানা ছেড়ে উঠল। কাঁধে তার সেই চিরসঙ্গী ঝোলা ব্যাগটা ঝুলিয়ে নিল, আর পকেটে পুরল টর্চলাইটটা। তবে সে ঠিক করল, টর্চলাইটটা সে জ্বালাবে না। অন্ধকারেরও একটা নিজস্ব ভাষা আছে, চোখকে সেই অন্ধকারের সাথে মানিয়ে নিতে দিলে প্রকৃতির অনেক গোপন রূপ দেখা যায়। যে মানুষ অন্ধকারের ভাষা বোঝে না, সে আসলে প্রকৃতির অর্ধেকের বেশি সৌন্দর্য থেকেই বঞ্চিত রয়ে যায়। হোটেল থেকে বের হয়ে সে বালিয়াড়ির দিকে হাঁটতে লাগল। পিচঢালা পথটা শেষ হতেই পায়ের নিচে নরম, ঠাণ্ডা বালির স্পর্শ পাওয়া গেল। সমুদ্রের হাওয়াটা এখন বেশ জোরালো। সেই হাওয়ায় নুনের একটা কড়া গন্ধ আছে, যা ফুসফুসের ভেতর ঢুকে এক ধরণের মাদকতা তৈরি করে। অয়নান্ত ভাঙা ভাঙা প্রবাল পাথরের টুকরো আর বালির ওপর দিয়ে সাবধানে পা ফেলে এগোতে লাগল। দূর থেকে সমুদ্রের ঢেউগুলোর সাদা ফেনা অন্ধকারের মধ্যেও মৃদু আলো ছড়াচ্ছে। প্রবাল পাথরে ধাক্কা খেয়ে যখন জল ছিটকে উঠছে, তখন মনে হচ্ছে অন্ধকার ক্যানভাসে কেউ সাদা কালির ছোপ লাগাচ্ছে। নারকেল গাছের সারির নিচে আসতেই অয়নান্তের মনে হলো, একটা গাছের গুঁড়িতে কে যেন হেলান দিয়ে বসে আছে। অন্ধকারের মধ্যেও সেই অবয়বটা চিনতে তার এক মুহূর্তও সময় লাগল না। আকাশী নীল শাড়িটা রাতের অন্ধকারে কালচে দেখাচ্ছে, কিন্তু বাতাসের তোড়ে তার ওড়ার ছন্দটা একই রকম। তিস্তানি বসে আছে। হাঁটু দুটো বুকের কাছে জড়ো করে, দুই হাতে পা দুটোকে জড়িয়ে ধরে সে তাকিয়ে আছে অন্তহীন সমুদ্রের দিকে। অয়নান্ত খুব নিঃশব্দে এগিয়ে গেল। বালির ওপর দিয়ে হাঁটার কারণে কোনো শব্দ হয়নি, কিন্তু তিস্তানি যেন টের পেল। সে মাথা না ঘুরিয়েই বলল, "আসুন অয়নান্ত সাহেব। বসুন। আমি জানতাম আপনি আসবেন।"

অয়নান্ত তিস্তানির থেকে হাত দুয়েক দূরে বালির ওপর বসল। সে কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "কী করে জানলেন আমি আসব? আমি তো নিজে জানতাম না যে আমি মাঝরাতে সমুদ্রের পাড়ে আসব। আপনি কি মানুষের মন পড়তে পারেন?"

তিস্তানি মৃদু হাসল। এই ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যেও তার চোখের মণি দুটো তারার আলোয় চকচক করে উঠল। সে বলল, "জগতের সব খবর কি মানুষ নিজে আগে থেকে জানে? কিছু কিছু অদৃশ্য টান থাকে, যা মানুষকে অবচেতনভাবেই টেনে নিয়ে যায়। আপনার মনের ভেতর যে অস্থিরতা, চারকোল পেনসিল দিয়ে কাগজের বুকে দাগ কাটার যে ছটফটানি, সেটা আপনাকে এই নিঝুম রাতে ঘরের কোণায় বন্দি করে রাখতে পারত না। প্রকৃতি তার একলা মানুষদের ঠিকই চিনে নেয় আর তাদের এক জায়গায় জড়ো করে। আপনি আর আমি তো একই গোত্রের মানুষ, অয়নান্ত সাহেব। আমরা দুজনেই ভিড়ের মধ্যে একা।"

অয়নান্ত একটু চুপ করে থেকে বলল, "আপনি কি সব কিছুতেই এমন রহস্য তৈরি করতে ভালোবাসেন, তিস্তানি? আপনার কথা শুনলে মনে হয় আপনি এই জগতের মানুষ নন, অন্য কোনো গ্রহ থেকে ভুল করে এখানে এসে পড়েছেন। কিংবা হয়তো আপনি আসলেই কোনো সমুদ্রের জলপরী, রূপকথা থেকে উঠে এসেছেন।"

"অন্য গ্রহ নয়, অয়নান্ত সাহেব। আমি এই জগতেরই মানুষ, তবে একটু পেছনের দিকে হেঁটে যাওয়া মানুষ," তিস্তানি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল, যা সমুদ্রের গর্জনের সাথে মিশে হারিয়ে গেল। সে আবার বলল, "হুমায়ূন আহমেদের কোনো একটা উপন্যাসে একটা চরিত্র ছিল না, যে রাতের বেলা ভূত দেখার জন্য শ্মশানে গিয়ে বসে থাকত? মানুষ তাকে পাগল ভাবত। কিন্তু সে আসলে ভূত খুঁজতে যেত না, সে যেত একাকীত্বের চরম সীমাটা ছুঁতে। আলোর মধ্যে মানুষ নিজেকে লুকিয়ে রাখে, মুখোশ পরে ঘোরে। কিন্তু অন্ধকারের সামনে দাঁড়াল মানুষের আসল রূপটা বেরিয়ে আসে। আমি এই দ্বীপে প্রতি বছর আসি শুধু এই অন্ধকারটার জন্য। এই যে জেনারেটর বন্ধ হওয়ার পর তীব্র অন্ধকার নামে, এটা আমার খুব চেনা লাগে। আমার মনে হয়, আমার নিজের ভেতরের আলোটাও কেউ একজন এসে এভাবেই চট করে নিভিয়ে দিয়ে গেছে। এখন শুধু চারপাশের এই শূন্যতাটাই আমার পরম সঙ্গী।"

অয়নান্ত তিস্তানির প্রগাঢ় বিষাদের কথাগুলো শুনছিল। চারুকলার ছাত্র হিসেবে সে রঙের অনুপাত বোঝে। সে জানে, বিষাদেরও একটা নিজস্ব নীল রং আছে, যা সমুদ্রের এই রঙের চেয়েও গভীর। তার খুব ইচ্ছা করল তিস্তানির ভেজা হাতটার ওপর নিজের হাতটা রাখতে, তাকে বলতে যে এই বিশাল শূন্যতায় সে একা নয়। কিন্তু তার ভেতরের দ্বিধা আর শালীনতাবোধ তাকে আটকে দিল। সে জানে, কিছু কিছু মানুষের দুঃখ এতই ব্যক্তিগত হয় যে, সেখানে সান্ত্বনা দিতে যাওয়াটা অভদ্রতা। সে প্রসঙ্গ পাল্টানোর জন্য বলল,"দুপুরের জাহাজে আপনি যখন প্রেম আর মায়ার কথা বলছিলেন, আমি তখন থেকে একটা কথা ভাবছি। ভালোবাসার যদি আসলেই কোনো বিশ্লেষণ না থাকে, তবে মানুষ কেন এর পেছনে এত ছোটে? কেন প্রতিটা মানুষ জীবনে অন্তত একবার হলেও কারো হাত ধরতে চায়, ভালোবাসার নামে অলীক মায়ায় জড়াতে চায়? জীবন তো একাই কাটানো যেত।"

তিস্তানি তার গলার সেই ছোট কাঁচের বোতলের লকেটটা আঙুল দিয়ে ঘোরাতে ঘোরাতে বলল, "কারণ মানুষ বড় একা, অয়নান্ত সাহেব। খোদা, মানুষকে তৈরি করেছেন একলা করে, কিন্তু তার ভেতর একটা খামতি রেখে দিয়েছেন। সেই খামতিটা পূরণের জন্য মানুষ আজীবন অন্য একটা মানুষকে খোঁজে। এটা হলো একটা অদ্ভুত অসুখের মতো। ধরুন আপনার টাইফয়েড হলো, কিংবা ম্যালেরিয়া। ডাক্তার আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ দেবে, আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন। কিন্তু ভালোবাসার অসুখটা অন্যরকম। এর কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক নেই, কোনো প্রেসক্রিপশন নেই। এর একমাত্র চিকিৎসা হলো আরও বেশি করে সেই অসুখে ডোবা। মানুষ ভাবে সে প্রেমে পড়ে সুখী হতে চায়, কিন্তু আসলে সে তীব্র ও মধুর যন্ত্রণা খোঁজে। আর আমি যা বলেছিলাম প্রেম তো বারবার হতে পারে। আজকে আপনার চারুকলার কোনো সহপাঠিনীকে ভালো লাগতে পারে, কালকে রাস্তায় হেঁটে যাওয়া কোনো অচেনা রূপবতীকে দেখে মন চঞ্চল হতে পারে। ওটা চোখের ক্ষুধা, কিংবা সাময়িক মুগ্ধতা। ওটার বিশ্লেষণ হয়তো বিজ্ঞান দিতে পারবে, শরীরের কিছু নিউরোট্রান্সমিটার, ডোপামিন আর অক্সিটোসিনের খেলা। কিন্তু মায়া? মায়ার কোনো বিজ্ঞান নেই।"

"মায়ার বিজ্ঞান নেই মানে?" অয়নান্ত কৌতুহলী হয়ে উঠল। সে তিস্তানির দিকে আরও একটু ঝুঁকে বসল।

"মায়া হলো একপ্রকার জাদুটোনা," তিস্তানি তার পা দুটো সোজা করে ছড়িয়ে দিল বালির ওপর। "মায়া কখনো রূপ দেখে হয় না, গুণ দেখেও হয় না। একটা মানুষের হাজারটা খুঁত থাকতে পারে। সে হয়তো দেখতে বড্ড সাধারণ, হয়তো তার মেজাজ খিটখিটে, হয়তো সে আপনার জীবনের সমস্ত হিসাব ওলটপালট করে দেয় তবুও আপনি তাকে ছাড়া অন্য কারো কথা ভাবতেই পারেন না। তার গলার একটা সাধারণ আওয়াজ শোনার জন্য আপনার চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে ইচ্ছা করে। এই যে একটা নির্দিষ্ট মানুষের জন্য ভেতরের সমস্ত লজিক, সমস্ত যুক্তি ধুলোয় মিশে যায় এটাই হলো মায়া। আর এই মায়া মানুষের জীবনে কেবল একবারই আসে। এরপর আপনি হাজারটা মানুষের সাথে মিশতে পারেন, তাদের সাথে সিনেমা দেখতে পারেন, এমনকি তাদের ভালোবাসতেও পারেন কিন্তু ওই প্রথম মায়ার মানুষটার যে কমতি, তার যে ভেতরের শূন্যস্থান, সেটা পৃথিবীর কোনো কিছু দিয়েই আর কোনোদিন পূরণ করা সম্ভব হয় না। জীবন তার নিয়মে চলে যায়, কিন্তু মনটা ওই এক জায়গাতেই লঙ্গর ফেলে আটকে থাকে। মায়া হলো স্থায়ী জলছাপ, যা কাগজের বুক থেকে কোনোদিন মোছা যায় না।” অয়নান্ত তিস্তানির কথাগুলো মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনছে। সমুদ্রের হাওয়া তখন তাদের চারপাশের বাতাসকে সম্মোহনে ভরিয়ে দিয়েছে। অয়নান্ত তার পকেট থেকে সেই ছোট টর্চলাইটটা বের করল। সে তিস্তানির মুখে আলো ফেলল না, সে আলোটা ফেলল তাদের মাঝখানের বালিয়াড়িতে। আলোর বৃত্তে দেখা গেল অসংখ্য ছোট ছোট ভাঙা প্রবাল আর ঝিনুকের খোলস।

অয়নান্ত বলল, "আপনি যখন কথা বলেন তিস্তানি, তখন মনে হয় আপনি জীবনের একটা বিশাল ট্রাজেডিকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আপনার এই লকেটের ভেতরের বালিগুলো কি সেই ট্রাজেডিরই কোনো অংশ? নাকি এটা কোনো হারিয়ে যাওয়া মানুষের শেষ চিহ্ন?"

তিস্তানি টর্চের আলোর বৃত্তটার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখে এক ফোঁটা জল তারার আলোর মতো জ্বলজ্বল করে উঠল, কিন্তু সে সেটাকে গড়িয়ে পড়তে দিল না। তার মুখে আবার সেই মন খারাপ করা রহস্যময় হাসিটা ফুটে উঠল। সে বলল, "কৌতূহল ভালো নয়, অয়নান্ত সাহেব। চারুকলার ছাত্ররা ক্যানভাসে রং চাপায়, তারা রহস্যের জট খোলে না। কিছু কিছু প্রশ্ন না করাই ভালো, কারণ তার উত্তরগুলো বড় বেশি নোনা হয়। সমুদ্রের জলের মতো নোনা, যা গিললে বুকটা জ্বলে যায়।"

সে একটু থামল, তারপর সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে আবার বলতে লাগল, "মানুষ ভাবে সে প্রকৃতিকে জয় করেছে। কিন্তু এই সমুদ্রের সামনে দাঁড়ালে বোঝা যায় আমরা কত ক্ষুদ্র। এই সমুদ্র কত মানুষকে গিলে খেয়েছে, কত স্মৃতিকে তার তলায় চাপা দিয়ে রেখেছে। আমরা তার ওপর দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি আর ভাবছি আমরা খুব সুখে আছি। আসলে সুখ জিনিসটাই একটা মরীচিকা।"

তিস্তানি হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। তার শাড়ির আঁচলটা বাতাসে চাবুকের মতো শব্দ করে উড়ল। সে বলল, "অনেক রাত হয়েছে। এবার ফেরা যাক। কাল সকালে যদি সময় পান, তবে ছেঁড়া দ্বীপে যাবেন। জোয়ার আসার আগে সকালের দিকে ওখানকার রূপ অন্যরকম থাকে। সেখানে গেলে হয়তো আপনার চারকোল পেনসিল নতুন কোনো দাগ কাটার রসদ পাবে। মৃত প্রবালদের সাথে একটু কথা বলে আসবেন।"

অয়নান্তও উঠে দাঁড়াল। সে টর্চলাইটটা নিভিয়ে দিল। আবার সেই অন্ধকার তাদের গ্রাস করল। কিন্তু এই অন্ধকারে অয়নান্ত এখন আর একা বোধ করছিল না। তার মনে হচ্ছিল, তার ভেতরের কম্পাসের কাঁটাটা কোনো এক অদৃশ্য শক্তির টানে পুরোপুরি ঘুরে তিস্তানি নামের এই রহস্যময়ী মেয়েটির দিকে স্থির হয়ে গেছে। সে বুঝতে পারছে, সে এক বিপজ্জনক গোলকধাঁধায় পা রাখছে, যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো মানচিত্র তার জানা নেই। তারা দুজনে পাশাপাশি হোটেলের দিকে হাঁটতে লাগল। কেউ কোনো কথা বলল না। তাদের পায়ের নিচে প্রবাল ভাঙার মৃদু মচমচ শব্দ আর সমুদ্রের অবিরাম গর্জনই যেন তাদের হয়ে সব কথা বলে দিচ্ছে। অয়নান্তের মনে হলো, মানুষের পুরো জীবনটাই আসলে একটা মেঘে ঢাকা আকাশ, আর তিস্তানি হলো সেই মেঘের ডানায় লেগে থাকা এক চিলতে রোদ যা ক্ষণিকের জন্য এসে চোখ ধাঁধিয়ে দেয়, কিন্তু তার পরেই এক অনন্ত কালবৈশাখীর পূর্বাভাস রেখে যায়। সে মনে মনে ভাবল, কাল সকালে ছেঁড়া দ্বীপে সে অবশ্যই যাবে, তিস্তানির এই মায়ার কুয়াশাকে আরও একটু কাছ থেকে দেখার জন্য।

চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন