ফন্ট সাইজ:
থিম:
হ্যান্ডসাম ছেলের সাথে বিয়ে

৫ম পর্ব

লেখক: সিনথিয়া ইসলাম

#হ্যান্ডসাম_ছেলের_সাথে_বিয়ে (পর্ব ৫)

#সিনথিয়া_ইসলাম 
সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়েছে রাইসার মুখে। আহসান একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।চোখ খুলতেই রাইসা সামনে আহসানকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলল,
— মিস্টার!
আহসান মুচকি হেসে উত্তর দিল,
— হুম, বলো রাইসা।
রাইসা মনে মনে ভাবল, এতো হ্যান্ডসাম একটা ছেলে এভাবে তাকিয়ে থাকলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক! এখন আমার কী করা উচিত? আমি কি আমার মিস্টারকে জড়িয়ে ধরব?আহসানের ডাকে রাইসা নিজের ভাবনা থেকে বেরিয়ে এল।
আহসান চিন্তিত কণ্ঠে জিজ্ঞাসা করলে,
— শরীর খারাপ লাগছে নাকি?
 রাইসা আহসানের দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
— এই অবাধ্য আমিটা শুধু তোমাতেই আসক্ত।
কথাটা শুনে আহসান কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। দুজনের চোখাচোখি হয়। রাইসা লজ্জায় মুখ ঢেকে নেয়।আহসান অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল ।
— কী বললে!? 
রাইসার সোজা উক্তি,
— আপনি যা শুনেলেন তাই।
আহসানের যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস হচ্ছে না। রাইসা যে এত তাড়াতাড়ি নিজের অনুভূতির কথা স্বীকার করবে, তা সে কল্পনাই ও ভাবেনি।ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।বাইরে থেকে হিয়ার ডাক শোনা গেল।
— ভাবি,নাস্তা রেডি! 
রাইসা লজ্জায় তাড়াতাড়ি উঠে চলে গেল। আহসান মুচকি হেসে তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
অন্যদিকে, তুলি রহমান সবার জন্য রুটি, ডিম ভাজি আর দুধ চা তৈরি করেছেন। কিছুক্ষণ পর, সবাই একসঙ্গে বসে নাস্তা করলে।নাস্তা শেষ করে রাইসা, আহসান, আরিশ, লিমা, হিয়া আর আদিল ঘুরতে বের হলো। তারা রাজশাহী আর্ট কলেজে এসেছিল। চারপাশে নানা ধরনের মাটির তৈরি শিল্পকর্ম আর ভাস্কর্য সাজানো ছিল। একটি মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে আছে রাইসা ।মানুষের কত ট্যালেন্ট! আর আমি? কাজ কম, আকাম বেশি করি। মনে মনে ভাবল সে।
অন্যদিকে, হিয়া আর লিমা ছবি তুলতে ব্যস্ত। রাইসার ছবি তুলতে তেমন ভালো লাগে না। তার নিজের ফোনে হাতে গোনা দশটারও কম ছবি আছে।আদিল একটু দূরে গাছের নিচে বসে ডায়রিতে কী যেন লিখছে। আরিশ তার একটু দূরে বসে আছে, তবে তার দৃষ্টি বারবার লিমার দিকেই চলে যাচ্ছে।
 আহসান নিঃশব্দে রাইসার পেছনে এসে তার কানের কাছে ঝুঁকে বলল,
— কী করছেন, ম্যাডাম?
হঠাৎ কণ্ঠস্বর শুনে রাইসা ভয়ে চমকে উঠল। পিছিয়ে যেতে গিয়ে তার হাত লেগে মূর্তিটি মুহূর্তের মধ্যেই মাটিতে পড়ে টুকরো টুকরো হয়ে গেল।আদিল ,আরিশ,হিয়া,লিমা দূর থেকে দেখলে কিন্তু কাছে যাওয়ার সাহুস পেলে না আহসান আছে তাই।রাইসা হতভম্ব হয়ে ভাঙা মূর্তির দিকে তাকিয়ে রইল।রাইসার বুক ধড়ফড় করছে।এবার মনে হয় আহসান আমাকে মেরেই ফেলবে! মূর্তিটার দামও নিশ্চয়ই অনেক। আর আর্ট কলেজের শিক্ষকরা যদি দেখে, তাহলে তো বকুনি খেতেই হবে!
ভয়ে ভয়ে সে আহসানের দিকে তাকাল।
আহসান শান্ত কণ্ঠে বলল,
— এটা কী করলেন, ম্যাডাম?
রাইসা সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে বলল,
— আমি কিছু করিনি! সব আপনার দোষ।
— আচ্ছা, মানলাম আমার সব দোষ। কিন্তু এখন কী করবেন ভাবছেন, ম্যাডাম?
রাইসা চারপাশ একবার তাকিয়ে আস্তে করে বলল,
— পালিয়ে যাই, চলেন!
কথাটা শুনে আহসান আর হাসি চেপে রাখতে পারল না। সে হো হো করে হেসে উঠল।রাইসা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
— হাসছেন কেন?
— কারণ জীবনে প্রথম দেখলাম কেউ মূর্তি ভেঙে সমাধান হিসেবে পালানোর প্ল্যান করছে!
— তাহলে কী করব? দাঁড়িয়ে থেকে জেল যাওয়ার অপেক্ষা করবে নাকি !?
এবার আহসানের হাসি আরও বেড়ে গেল। রাইসা মুখ ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল, যেন সব দোষ আসলেই আহসানের।আহসান হাসি থামিয়ে রাইসার ভীতু মুখটার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। তারপর কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গেল।রাইসা অপরাধীর মতো একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইল। ভয়ে তার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেছে।এবার বুঝি সবাই এসে বকা দেবে।কয়েক মিনিট পর আহসান ফিরে এল।
— এখন আর কেউ কিছু বলবে না। চিল, ম্যাডাম।
রাইসা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— কেন?
আহসান মুচকি হেসে তার হাত ধরে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
— আপনাকে না জানলেও চলবে, ম্যাডাম।
— মানে?
— মানে, সব ঠিক হয়ে গেছে।
রাইসা কিছু বলার আগেই আহসান তাকে গাড়ির কাছে নিয়ে এল।গাড়িতে বসিয়ে দিয়ে সে মুচকি হেসে বলল,
— আমি থাকতে আপনার ভয় কিসের এত?
কথাটা শুনে রাইসা কিছুক্ষণ চুপ করে তার দিকে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ করেই সে আহসানকে জড়িয়ে ধরল।
আহসান এক মুহূর্তের জন্য অবাক হলেও পরক্ষণেই মৃদু হেসে তাকে নিজের বুকে আগলে নিল।
****
রাজশাহী টি বাঁধ পার্কে পৌঁছাতে পৌঁছাতে বিকেল চারটা বেজে গেছে। আকাশটা তখন মেঘলা। নদীর ওপরে হালকা কুয়াশার মতো আবছা পরিবেশ, তার সাথে ঠান্ডা বাতাস।রাইসা, লিমা আর হিয়া একসাথে বসে গল্প করছিল। খাবার আসতে এখনও সময় আছে। আহসান রাইসার ঠিক সামনে বসে ছিল। অন্যদিকে আরিশ আর আদিল একটু দূরে দাঁড়িয়ে কোনো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে।হিয়া আরিশের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল।  
লিমা রাইসাকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— ভাবি, খাবার খেয়ে আমরা কিন্তু নৌকায় উঠব।
আহসান গম্ভীর কণ্ঠে বলল,
— আকাশের অবস্থা ভালো না। বাতাসও অনেক।নৌকায় ওঠার দরকার নেই।
রাইসা ধীর গলায় বলল,
— হুম।
কিছুক্ষণ পর,সবাই নদীর পাড়ের দিকে এগিয়ে গেল। দূর থেকে ঢেউগুলো দেখতে বেশ সুন্দর লাগছিল। রাইসা লিমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে ছিল। বাতাসে তার চুল বারবার মুখের ওপর এসে পড়ছে। সে বিরক্ত হয়ে বারবার চুল সরিয়ে নিচ্ছিল।কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আদিল চুপচাপ রাইসার দিকে তাকিয়ে রইলো। সেটা খেয়াল করে আরিশ বিরক্ত স্বরে হিয়াকে বলল,
— তোমার ভাইকে একটু বোঝাও তো।
হিয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— আচ্ছা, বলব।
অন্য দিকে ,আহসান সবার অগোচরে রাইসার জন্য জিনিস কিনছিল। বারবার তার চোখ রাইসার দিকেই চলে যাচ্ছিল। মেয়েটা নদীর দিকে তাকিয়ে আছে, আর বাতাসে এলোমেলো চুল সামলাতে ব্যস্ত। সেই দৃশ্য দেখে অজান্তেই আহসানের ঠোঁটের কোণে মৃদু হাসি ফুটে উঠল। হালকা হালকা বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। নদীর ওপর ধূসর মেঘগুলো আরও ঘন হয়ে এসেছে। বাতাসও আগের চেয়ে বেড়ে গেছে।রাইসা, লিমা, হিয়া, আরিশ আর আদিল দ্রুত গাড়িতে গিয়ে উঠে বসল। আহসান কে তখনও কোথাও দেখা যাচ্ছে না।কিছুক্ষণ পর হাতে একটা প্যাকেট নিয়ে আহসান এসে গাড়িতে উঠল।
 ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দিতে দিতে বলল,
— আর কোথাও যাবে নাকি? নাকি বাড়ি!?
সবাই একসাথে উত্তর দিল।
— বাড়ি!  
আহসান আর কিছু বলল না। গাড়ি ধীরে ধীরে টি-বাঁধ ছেড়ে শহরের দিকে এগিয়ে চলল। বাইরে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। বৃষ্টিভেজা রাজশাহী শহরটা জানালার ওপাশে ধোঁয়াটে হয়ে আছে। মেঘলা বিকেলটা যেন শহরটাকে এক অন্যরকম সৌন্দর্যে মুড়ে রেখেছে।
***
সন্ধ্যার সময়,আহসান ড্রইংরুমের সোফায় বসে আছে। ট্রি-টেবিলের ওপর আদিলের ডায়রিটা রাখা। একবার ডায়রিটার দিকে তাকিয়ে টিভি চালু করল সে। অন্যের অনুমতি ছাড়া তার জিনিসপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করা আহসানের একদমই পছন্দ নয়। তবু আজ মনটা অস্থির। বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে রাইসার মুখ।কিছুক্ষণ পর, টিভিটা বন্ধ করে হিয়ার রুমের দিকে হাঁটা দিলে সে।
রুমে হিয়া, লিমা, আরিশ, আদিল আর রাইসা মিলে গল্পে মেতে আছে। হাসি-ঠাট্টায় পুরো ঘর সরগরম। আহসান গিয়ে চুপচাপ রাইসার পাশে বসল।এতক্ষণ আদিল আড়চোখে রাইসার দিকেই তাকিয়ে ছিল। আহসানকে দেখে দ্রুত চোখ নামিয়ে নিল।
রাইসার হাসিমাখা মুখের দিকে তাকিয়ে আহসানের মনে মনে ভাবলো,"তোমাকে ভালোবাসি বললেও ভুল হবে, আমি তোমার মায়ায় পড়ে গেছি রাইসা....!" পানির তৃষ্ণা পেলে রাইসা রান্নাঘরে যায়। পানি খেয়ে ফেরার পথে হঠাৎ তার চোখ পড়ল ট্রি-টেবিলের ওপর রাখা ডায়রিটার দিকে।মুহূর্তেই তার মনে পড়ে গেল এটাই সেই ডায়রি, যেখানে আদিল কিছু লিখছিল।কৌতূহলবশত রাইসা ডাইরিতা খুলে। ডাইরিতে লেখাছিল!!
"রাইসা, তোমার লম্বা চুল, অপূর্ব সৌন্দর্য আমাকে তোমার প্রেমে পড়তে বাধ্য করছে।জানি, তোমাকে কোনোদিন পাব না। তবুও আমৃত্যু তোমাকে ভালোবেসে যাবে।জানি আমার তোমাকে ভালাবাসার অধিকার নাই।এটা অন্যায় নিজের ফুফাতো ভাইয়ের বউকে ভালাবাসা। কিন্তু কি করবে বলে মন মানছে না যে। আহসানের মতো গভীর মানুষ তোমাকে কেন ভালোবাসে আজ বুঝতে পারছি।আহসান এর মুখে তোমার অনেক নাম শুনেছি আজ প্রথম বার যখন তোমাকে দেখলাম তখন হুশ হারিয়ে ফেলেছি আমি।
যদি আহসান জানতে পারে আদিল তাকে ভালোবাসে, তাহলে ভয়ানক কিছু একটা হয়ে যেতে পারে।এই ডায়রি কোনোভাবেই আহসানের হাতে পড়তে দেওয়া যাবে না।
রাইসা দৌড়িয়ে গেস্ট রুম যেখানে সে আর আহসান থাকছে। রুমে এসে দ্রুত ডায়রিটা নিজের ব্যাগে ঢুকিয়ে দিল । তারপর স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করে আবার হিয়ার রুমে ফিরে আসলো।ঘরে তখনও সবাই হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত।শুধু রাইসার বুকের ভেতরটা কাঁপছে।আহসান একবার তার দিকে তাকাল। কিছুক্ষণ আগেও যে মেয়েটা হেসে হেসে গল্প করছিল, সে হঠাৎ এত চিন্তিত হয়ে গেল কেন কিছুতেই বুঝে উঠতে পারল না সে।তুলি রহমান সবাইকে খেতে ডাকলেন। একে একে সবাই ডাইনিং টেবিলে এসে বসল।
খাওয়ার মাঝেই ইশান রহমান হঠাৎ বললে উঠলেন,
— আহসান বাবা, তোমাদের এখানে থাকতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে নাকি?
আহসান মৃদু হেসে বলল,
— না মামা, কোনো অসুবিধা হচ্ছে না।
ইশান রহমান বললেন,
— তাহলে প্রতিবছর একটু ঘুরে গেলেই তো পারো।
— আসি তো মামা।
ঈশান রহমান অভিমানী সুরে বলল,
— আসো? পাঁচ বছর পর এলে, আর এখন এক মাস না থেকে দুই দিনেই চলে যেতে চাও!
— কিছু কাজ আছে মামা। পরে আবার আসব।
ইশান রহমান মাথা নেড়ে বললেন,
— আমি কিছু জানি না। কাল থাকতেই হবে। রাজশাহী শহরটা আরেকটু ঘুরে দেখো, তারপর যেও।
— আচ্ছা মামা।
খাওয়াদাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ রুমে চলে গেল। হিয়া আর লিমা একসঙ্গে ঘুমাচ্ছে। আরিশ আর আদিল একই রুমে শুয়ে ঘুমাচ্ছে।পরদিন, সকালে ছাদের এক কোণে দাঁড়িয়ে রাইসা লিমাকে আদিলের ডায়েরিটা দেখাল।লিমা কয়েক পৃষ্ঠা পড়তেই মুখ গম্ভীর হয়ে উঠেছে।
— সাহস তো কম না! নিজের ফুফাতো ভাইয়ের বউয়ের দিকে নজর দেয়! বেয়াদব একটা!
রাইসা চিন্তিত গলায় বলল,
— ডায়েরিটা নিয়ে কী করব? তোমার ভাই যদি এটা দেখে, তাহলে অনেক বড় ঝামেলা হয়ে যাবে।
লিমা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
— পুড়িয়ে ফেলি।
রাইসা মাথা নেড়ে বলল,
— আচ্ছা।
লিমা নিচে গিয়ে একটা লাইটার নিয়ে এল। তারপর দু'জনে মিলে ডায়েরিটায় আগুন ধরিয়ে দেয়।পাতাগুলো ধীরে ধীরে কালো হয়ে ছাই হয়ে যেতে লাগল।ডায়েরিটা পুরোপুরি পুড়ে যেতে দেখে রাইসা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল।
— বাঁচা গেল...!!
লিমা গভীর কন্ঠে বলল,
— ভাবি, একটা কথা মনে রাখবে। তুমি শুধু ভাইয়ারই, আর আমার ভাবি বুঝছে??
রাইসা হেসে লিমাকে জড়িয়ে ধরল।
— অবশ্যই, ননদিনী।
কিছুক্ষণ পর,রাইসা আর লিমা ড্রইংরুমের সোফায় বসে গল্প করতেসে। এমন সময় আদিল এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলল,
— তোমরা তাড়াতাড়ি রেডি হও। আহসান ভাইয়া সবাইকে নিয়ে পার্কে যাবে।
লিমা মুখ গোমড়া করে বলল,
— বুঝেছি।
লিমার এমন আচরণের কারণ আদিল বুঝতে উঠতে পারসে না। সবাই প্রায় রেডি। আহসান, হিয়া, আরিশ আর আদিল ড্রইংরুমে বসে অপেক্ষা করছে। শুধু রাইসা আর লিমার আসতে দেরি হচ্ছে।কিছুক্ষণ পর দুইজন আসলে।রাইসা লাল রঙের একটি জামা পড়সে। চুল সুন্দর করে পনিটেল করা। মুখে হালকা সাজ, তবু তাকে অসম্ভব সুন্দর লাগছে।রাইসাকে দেখেই আহসান কয়েক সেকেন্ডের জন্য স্থির হয়ে রইল। আদিল একদৃষ্টিতে রাইসার দিকে তাকিয়ে রইসে। লিমা পিংক রঙের জামার সঙ্গে খোলা চুলে তাকে বেশ প্রাণবন্ত লাগছিল।আরিশ একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে। লিমা সেটা খেয়াল করতেই ভ্রু কুঁচকে তাকাল,আরিশ দ্রুত মুখ ফিরিয়ে নিল।সবাই প্রস্তুত হলে একসঙ্গে বেরিয়ে পড়ল।
জিয়া পার্ক যাচ্ছে তারা।
গাড়ি থেকে নামতেই সকালের মিষ্টি রোদ এসে পড়ল সবার মুখে। চারপাশে সবুজ গাছপালা, রঙিন ফুল আর মানুষের কোলাহলে মুখর পুরো পার্ক। কেউ ছবি তুলতে ব্যস্ত,কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরছে, আবার কেউ বেঞ্চে বসে গল্প করছে। হালকা বাতাসে গাছের পাতাগুলো দুলে উঠছে বারবার। সবাই একসাথে ছবি তুলে, কখনো পার্কের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাসি-আড্ডা আর ছোট ছোট খুনসুটিতে মেতে ছিল ওরা।বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতে শুরু করসে।আহসানের পিছন পিছন হাঁটছে রাইসা।
 রাইসা আহসানের দিকে তাকিয়ে ভাবলে,
–"আপনাকে নিয়ে আমার অজস্র অনুভূতি, যার কোনো শেষ নেই, মিস্টার আহসান..."
কিছু দূর যেতেই একটি আইসক্রিমের দোকান চোখে পড়ল তার।
— আইসক্রিম খাব।
বাচ্চাদের মতো মুখ করে বলল রাইসা।আহসান হেসে তার জন্য একটি আইসক্রিম কিনে দিল।
অন্যদিকে হিয়া, আদিল, আরিশ আর লিমা চুপচাপ বসে ছিল।হঠাৎ আরিশ নীরবতা ভেঙে বলল,
— তোকে কতবার বলেছি ভাবির থেকে দূরে থাকতে?
আদিল অবাক হয়ে তাকাল।
— আমি আবার কী করলাম?
আরিশ রাগী গলায় বলল,
— ডায়রিতে কীসব লিখেছিস ভাবিকে নিয়ে!
মুহূর্তেই আদিলের মনে পড়ে গেল। আগের দিন সন্ধ্যায় ভুল করে ড্রইংরুমের ট্রি-টেবিলে ডায়রিটা রেখে দিয়েছিল।
— আহসান ভাইয়া কি ডায়রিটা পড়েছে?
— পড়লে এখন বেঁচে থাকতি না। ভাবি পড়েছে। তারপর ডায়রিটা পুড়িয়ে ফেলেছে।
কথাটা শুনে আদিলের বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।আরিশ এবার হিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তোমার ভাইয়াকে বুঝিয়ে দিও, তোমার ভাই যেন ভাবির আর ভাইয়ার মাঝখানে না আসে।
কথা শেষ করেই লিমার হাত ধরে সেখান থেকে চলে গেল সে।হিয়া মন খারাপ করে বসে রইল।আদিল চোখ বন্ধ করল।তার আর ভালো লাগছে না।সে তো কখনোই রাইসার কাছে ভালোবাসা দাবি করেনি। কখনো আহসান আর রাইসার মাঝেও আসেনি। তবু কেন যে সবাই তাকে অপরাধীর চোখে দেখছে।"নীরবে কাউকে ভালোবাসার অধিকারটুকুও কি আমার নেই?"মনে মনে ভাবল সে।
লিমা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল,
— আমরা কোথায় যাচ্ছি?
আরিশ কোনো জবাব দিল না। গম্ভীর মুখে সোজা গাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল। গাড়িতে গিয়ে বসে শুধু বলল,
— ওঠ।
লিমা গাড়িতে উঠে বসল।কিছুক্ষণ পর, রাইসা আর আহসানও গাড়িতে এসে বসল।
আহসান চারপাশে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল,
— আদিল আর হিয়া কোথায়?
আরিশ জানালার বাইরে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
— জানি না।
আহসান ভ্রু কুঁচকে ফোন বের করে। আদিলকে কল দিয়ে বলল,
— আমরা গাড়ির কাছে আছি। তাড়াতাড়ি আসো। সন্ধ্যা হয়ে গেছে, বাড়ি ফিরতে হবে।
কিছুক্ষণ মধ্যে হিয়া আর আদিল এসে পৌঁছাল। সবাই গাড়িতে উঠতেই আহসান গাড়ি স্টার্ট দিল।ফেরার পথে রাইসা আর লিমা গল্পে মেতে থাকলেও গাড়ির ভেতর একটা অদ্ভুত নীরবতা কাজ করছিল। আদিল জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিল। তার মনটা ভারী হয়ে আছে।বাড়িতে পৌঁছে সবাই নিজ নিজ রুমে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
 তখন আহসান বলল,
— কাল সকালে বাড়ি ফিরব।
লিমা মাথা নেড়ে বলল,
— আচ্ছা ভাইয়া।
***
 মিষ্টি নিজের পড়ার টেবিলে বসে পড়ছে। রাত তখন প্রায় দশটা। সামনে টেস্ট পরীক্ষা। তার সিলেবাস অনেক আগেই শেষ, তবুও দুশ্চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছে না। ভালো ছাত্রছাত্রীদের এটাই স্বভাব।হঠাৎ ফোন বেজে উঠল।
মিষ্টি ভেবেছিল রাইসা ফোন করেছে। তাই ফোন ধরেই বলল,
— সামনে যে টেস্ট পরীক্ষা, সেদিকে তোর কোনো খেয়াল আছে?
ওপাশ থেকে ভেসে এল গভীর পুরুষালি কণ্ঠ,
— আমি রাইসা না।
মিষ্টি চমকে উঠে ফোনের স্ক্রিনে তাকাল।
— আশিক ভাইয়া! কিছু বলবেন!?
— এমনি ফোন করা যায় না নাকি!?
— না, তেমন কিছু না...!!
তারপর এক কথা, দুই কথা বলতে বলতে কখন যে রাত বারোটা বেজে গেল, কেউ খেয়ালই করেনি। মিষ্টি ফোন রেখে বই এর উপর মাথা রেখে পড়ালেখার টেনশন ভুলে আশিককে নিয়ে ভাবতে ব্যস্ত হলো।
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন