ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

১৫তম পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

#বখাটে_আদিত্য

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী

পর্ব:১৫

তিথি ভোরে আস্তে আস্তে তার চোখ খুলে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে। উঠতেই কেন যানি তার মাথায় খুব যন্ত্রণা অনুভূত হয় সহ্য করতে না পেরে তিথি মাথা চেপে ধরে। হঠাৎ কিছু মনে পড়তেই সে চারপাশে খেয়াল করেই চমকে উঠে

" একি! আমি রুমে কী করে এলাম?" আর কালকে ড্রেস এখনো পড়ে আছি !

মাথা চেপে ধরে কিছু মনে করার‌‌ চেষ্টা করছে যে ও এখানে কি করে এলো কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না । পাশে শুয়ে থাকা স্নেহাকে জাগাতে থাকে

" এই স্নেহা উঠ আর কতো পড়ে পড়ে ঘুমাবি?"

স্নেহা কোড়বালিশ জরিয়ে চোখ বন্ধ অবস্থায় ঘুম ঘুম কন্ঠে বলে

"উমম দূর সর তো! ঘুমোতে দে আমায় বিরক্ত করিস না"।

তিথি তাও স্নেহাকে টেনে ধরে তুলে বসিয়ে দেয় । স্নেহা ঘুম চোখ কচলাতে কচলাতে বলে

– সমস্যা কী তোর একটু ঘুমাতেও দিবি না।

– আরে বেডি পরে ঘুমাস আগে বল আমরা এখানে কি করে এলাম রাতে তো আমরা ওই খানে ছিলাম আর কিছু মনে পড়ছে না কেন?

স্নেহা তখনো ঘুমে ঝিমোছিলো কিন্তু তিথির কথা শুনে সে চমকে উঠে ভাবতে থাকে

" হ্যাঁ তাই তো এখানে কিভাবে আমরা?"

তারা দুজনেই ভাবনার জগতে তলিয়ে যাই। কিন্তু কেউ কিছু মনে করতে পারলো না তিথি হঠাৎ স্নেহাকে তাড়া দিয়ে বলে

" চল তাড়াতাড়ি নিচে যাই, জানি না আমরা কোন অঘটন ঘটিয়েছে তারাতাড়ি চল "

তারপর ওরা দুজনেই বিছানা থেকে নেমে ফ্রেশ হতে চলে যাই।

––

সোফায় বসারত ইকবাল খান, তুর্য খান ও রিপন খান এর অগ্নিমূর্তি ধারণ কারী তিনজন ব্যাক্তি সামনে কান ধরে দাঁড়িয়ে আছে কুদ্দুস, রেদোয়ান, মুগ্ধ আর আদিত্যের বন্ধুরা। তারা সবাই মাথা নিচু করে কান ধরে খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছে।

– তোমাদের স্পর্ধা কী করে হয় এই বাড়িতে দ্বিতীয় বার এর মতো ওই সব হাবিজাবি আনার ??

গুরুগম্ভীর ইকবাল খান এর আওয়াজটা যেন খান মঞ্জিল বাড়ির প্রত্যোকটা দেওয়ালে দেওয়ালে বারি খেয়ে একটা বিকট শব্দ তৈরি হলো। তিনি উঠে দাঁড়িয়ে রেদোয়ান এর উদ্দেশ্য বলে

" ওরা না হয় ভুলে খেয়ে ফেলেছে কিন্তু তুমি আর কুদ্দুস এটা কী করলে?"

বারবার মানা করেছি এইসব এই বাড়িতে চলবে না, জানো কালকে কতো লোক এই নিয়ে হাসাহাসি করছিলো ! তোমার শশুর বাড়ির লোকগুলোই বা কী ভাববে? যে তাদের জামাই একটা মাতাল এনগেজমেন্ট এর দিনেও মাতলামো করছে এটাই কী !

ইকবাল খান আজ ভীষণ রেগে গেছেন তিনি রেগে গেলে তা কিছুতেই কন্ট্রোল করতে পারেন না রেদোয়ান এর নিশ্চুপতা দেখে রাগ যেন আরো তর তর করে বেড়ে গিয়ে জোরে চিৎকার করে বলে উঠে

– জবাব দাও.....

চিৎকারটা এতোটাই জোরে ছিলো যে রেদোয়ান সহ বাড়ির প্রত্যোকটা লোকের আত্মা কেঁপে উঠে। সিঁড়ি দিয়ে তখন স্নেহা আর তিথি নাম ছিলো বাড়ির এমন পরিবেশ দেখে তারা ভয়ে আবার উপর উঠে যায়।

রেদোয়ান আমতা আমতা করে যেই না কিছু বলবে ওমনি তুর্য খান বসা থেকে উঠে ঠাস করে ছেলের গালে চড় বসিয়ে দেন " বেয়াদপ ছেলে এই শিক্ষা দিয়েছি তোমায় আমি? ছিঃ কালকে কতো লোকের সামনে আমার মাথা হেঁট হয়ে গেলো তার খবর আছে??

রেদোয়ান বাবার কথায় মাথা নিচু করে তার বাবার উদ্দেশ্য বলে " সরি আব্বু আর এমন করবো না কখনো"

-

ইকবাল খান এইবার কুদ্দুস এর দিকে এগিয়ে যায় বেচারি কুদ্দুস ভয়ে কাঁপা কাঁপি করতে থাকে যেই না তার সামনে ইকবাল খান দাঁড়িয়েছে তখনি ভয়ে সে সব গড় গড় করে অটোমেটিক বলে দেয়

"আমার কোন দোষ নেই মেজো সাহেব রেদোয়ান ভাইয়া আমাকে বলেছে মদ আনতে। যাতে তিনি নাকি এই বিয়েটা ভাঙ্গতে চান , মাতলামো করে বিয়েটা ভেঙ্গে পরিকল্পনা করেছিলেন "

এক নিঃশ্বাসে এই কথা গুলো বলে কুদ্দুস জিহ্বায় কামড় দেয় হায়রে ভয়ের চোটে কী বলে ফেললো সে।

রেদোয়ান চোখ লাল করে কুদ্দুস এর পা*ছায় একটা লাথি মেরে বলে

" শা*লা হারা*মী তোকে কে বলতে বলছে এইসব!

তুর্য খান রীতিমতো আবারো তেড়ে আসছিলো ছেলের দিকে কিন্তু ইকবাল খান ওনাকে থামিয়ে দিয়ে কুদ্দুস এর উদ্দেশ্য বলে

" টাকলার ঘরের টাকলা ও বলবে আর তুই ওর কথা শুনবি কেন?? তোর কী মনে ছিলো না আগের বারের কথা যে তুই টাকলা কি জন্য হয়েছিস"

কুদ্দুস সব সহ্য করতে পারে কিন্তু তাকে কেউ এইভাবে টাকলা বলা সে সহ্য করতে পারে না সে রাগান্বিত হয়ে বলে উঠে

" মেজো সাহেব আর যাই বলেন টাকলা কিন্তু বলবেন না একদম! আপনার জন্য তো আমি আজ টাকলা"

ইকবাল খান বুকের পাটা ফুলিয়ে বলে উঠে

" বলবো একশো বার বলবো টাকলার ঘরের টাকলা, কী করবি তুই?? টাকলা...

কুদ্দুস নাক মুখ ফুলিয়ে বলল

" আপনার বাপ টাকলা আরে সেই টাকলা বাপের ছেলে আপনি ফকলা খালি মাছির মতো ভ্যান ভ্যান করতে পারেন "

কুদ্দুস এর কথা শুনে সবাই মিটমিট করে হাসছে কিন্তু ইকবাল খান এর মাথা গরম হয়ে গেলো

কুদ্দুস কথা টা বলে তো ফেললো কিন্তু পরে তার খেয়াল আসলো এইরে সে কী বলে ফেললো, সে নিজের মাথায় হাত দিয়ে একটা ডোগ গিলে ধীরে ধীরে চোখ তুলে ইকবাল খান এর পানে তাকায় তখন ইকবাল খান পুরোপুরি রণমূতি ধারণ করে রয়েছে। কুদ্দুস কিছু বুঝা উঠার আগেই তার দুইগালে স্বজোরে দুই পাশ থেকে দুইটা থাপ্পড় বসে পড়ে।

কুদ্দুস সঙ্গে সঙ্গে দুইগাল চেপে ধরে কান্না ভান করে মুখ ফুলিয়ে ফেলে। ইকবাল খান শেষে কুদ্দুস আর রেদোয়ান কে শাস্তি দিয়েছে যে ছাদে কড়া রোদ প্রায় ১ ঘন্টার মতো যেন দাঁড়িয়ে থাকে।

না চাইতেই তাদের শাস্তি মানতে হয়েছে কেননা তারা দুজনেই সমান অপরাধ করেছে। প্রায় ৩০ মিনিট হলো তারা দুজনেই ছাদে দাঁড়িয়ে । সূর্যের কড়া রোদে পুরো ছাদ গরম হয়ে আছে

- কুদ্দুস আর রেদোয়ান এর পায়ে জুতো না থাকায় যার ফলে তাদের পা পুড়ে যাচ্ছিলো। রেদোয়ান কুদ্দুস এর উপর খুব রাগ উঠতে ছিলো তাই সে আর থাকতে না পেরে কুদ্দুস এর টাকলা মাথায় জোরে বারি দিয়ে বসে।

কুদ্দুস ও কম না সেও রেদোয়ান এর চুল টেনে ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।

ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে রেদোয়ান বলতে থাকে

" শা*লা ছাড় আমার চুল। তুই নিজে টাকলা বলে আমাকে বানাতে চাস নাকী ছাড় বেডা।

তবুও কুদ্দুস ছাড়ে না সে আরো জোরে টেনে ধরে বলে

" ছাড়বো না তোমার জন্য সবসময় আমি ফেসে যাই আজ কিছুতেই ছাড়বো না।

রেদোয়ান ব্যাথায় বারবার বলছে চুল ছেড়ে দিতে কিন্তু কুদ্দুস আজ চুল ছাড়বে না বলে পণ করেছে। তখন রেদোয়ান আর কিছু না পেয়ে সোজা কুদ্দুস এর লুঙ্গি টেনে ধরে খুলে ফেলে ।

কুদ্দুস সঙ্গে সঙ্গে নিজের ই*জ্জত বাঁচাতে রেদোয়ান এর চুল ছেড়ে দেয়। রেদোয়ান ছাড়া পেয়ে তো পুরোই রাগে ফুঁসে উঠে। সে চারপাশে তাকিয়ে কিছু খুঁজতে খুঁজতে গাছের বড় ঢাল পাই আর সেটা দিয়ে কুদ্দুস এর পা*ছায় মারতে মারতে বলতে থাকে

" কু*ত্তা বিশ্বাসঘাতক পেটে কোন কথা আটকায় না গলগল করে বমি করে দিতে হয় তাই না"।

রেদোয়ান এর মারার সাথে সাথে কুদ্দুস ব্যাথায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যঙের মতো "ওমা ওমা " করে লাফাতে থাকে। কুদ্দুস মার খাওয়া থেকে বাঁচার জন্য ছাদে ছোটাছুটি করতে থাকে তার পিছন পিছন ঢাল নিয়ে রেদোয়ান ও ছুটছে ।

কুদ্দুস এমন ভাবে ছুটছে যে তার খেয়াল ই করে নাই সে ছাদের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।

একসময় ছুটতে ছুটতে সে না দেখেই দেওয়ালের সাথে স্বজরো বারি খাই। দেওয়ালের সাথে বারিটা এতো জোরে লেগেছিলো যে কুদ্দুস সঙ্গে সঙ্গে তার কপাল ফেটে রক্ত গড়িয়ে পড়ে এবং সে সেখানেই ধপাস করে পড়ে " হায় আ মা " বলে অজ্ঞান হয়ে যাই ।

রেদোয়ান ঢাল ফেলে কুদ্দুস এর অবস্থা দেখে জোরে জোরে পেট চেপে ধরে হাসতে থাকে।

———————————

দেখতে দেখতে কেটে গেলো কয়েকটি দিন

“আজ খান মঞ্জিলে‌ যেন রঙের মেলা। আজ তাহামিনা ও রেদোয়ান এর গায়ে হলুদ।সকালের রোদে ঝলমল করছে ফুল আর কাপড়ের সাজ।

উঠোন থেকে গেট পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে গাঁদা ফুলের হলুদের আভা, সাদা জুঁইয়ের গন্ধ আর রঙিন কাপড়ের দোল। প্রবেশপথে বড় করে লেখা

— তাহামিনা ♥ রেদোয়ান।

উঠোনের মাঝখানে সাজানো প্যান্ডেল, চারপাশে অতিথিদের হাসি আর আড্ডার শব্দে গায়ে হলুদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো বাড়িজুড়ে। দিনের আলোতেই খান মঞ্জিল আজ উৎসবের রাজপ্রাসাদ, যেখানে রঙ, ফুল আর ভালোবাসা মিলে নতুন জীবনের শুরুটা করে তুলেছে স্বপ্নের মতো।”

হলুদের সব আয়োজন করা হচ্ছে সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আজ মেয়েরা সবাই কাঁচা হলুদ রঙের শাড়ি পড়েছে। এইদিকে তিথি শাড়ি নিয়ে বাড়ির চারিপাশ ঘুরে বেড়াচ্ছে তাকে কেউ শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে না সবাই যার যার সাজ গোজ নিয়ে ব্যস্ত। তিথি মাটিতে বসে পুরো হাত পা ছুড়ে কান্না করে চললো

" কেউ তো আমাকে শাড়িটা পড়িয়ে দে"

সুফিয়া খান তখন সেই পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন হঠাৎ তিথির কান্না শুনে তিনি থেকে যান এবং তিথির সামনে গিয়ে বলেন " আমার তিথি মামনির কী হয়েছে কাঁদছিস কেন মা?"

তিথি নাক টেনে টেনে তার মেঝো মাকে বলে " মেঝো মা দেখো না আমাকে কেউ শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছে না সবাই নিজেদের সাজে ব্যস্ত আমি কখন তৈরি হবো" বলে আবার কান্না জুড়ে দেয়।

সুফিয়া খান তিথির চোঁখের পানি মুছে দিয়ে তাকে বলে

" পাগলি আমাকে ডাকবি তো আর এখানে এতো কান্না করার কী আছে? আয় আমি পড়িয়ে দিচ্ছি "

অতঃপর সুফিয়া খান তিথিকে সুন্দর করে আগের কার যুগের গায়ের বধূদের মতো শাড়ি পড়িয়ে দিলো। তিথি নিজেকে আয়নায় দেখছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে উমম তাকে কেমন জানি আজ বধূ বধূ লাগছে। নিজেই নিজেকে এই কথা বলে লজ্জা পেয়ে যাই। সুফিয়া খান মুচকি হেসে তিথির কপালে চুমু দিয়ে বলেন

– হয়েছে আর লজ্জা পেতে হবে না রেডি হয়ে নে তাড়াতাড়ি ছাদে চল আমরা অপেক্ষা করছি

তিথি মেঝো মায়ের কথায় মাথা নাড়ায়। তখন সুফিয়া খান রুম থেকে বেরিয়ে যান। তিথি আবারো নিজেকে আয়নায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন। তারপর কাজল নিয়ে যেই না চোখে দিবে তখন তার কিছু মনে পড়ে যাই সে মনে করার চেষ্টা করছে অস্পষ্ট ভাবে তার কিছু মনে পড়ে যে তাকে আদিত্য ভাই কাজল আর লাল লিপিষ্টিক দিতে মানা করেছিলো।

কিন্তু তিথির পুরোপুরি মনে পড়ছে না এটা কখন বললো। তাই সে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়ে আর চোখে কাজল পড়ে নি। শুধু ঠোঁটে হালকা লিপ বাম দিয়েছে ব্যাস আর কিছুই না। মাথায় হাতে গলায় কাঁচা ফুলের মালা দিয়ে নিজেকে একদম পরিপূর্ণ করে তুলেছে। নিজেই নিজেকে দেখে মিটিমিটি হাসছে পেছন থেকে স্নেহা তাকে এমন হাসতে দেখে বলে উঠে

– কীরে তোকে জ্বিনে টিনে ধরলো নাকী এমন পাগল এর মতো হাসছিস কেনো?

তিথি স্নেহার আওয়াজ পেয়ে পেছনে ঘুরে রাগী চোখে তাকিয়ে বলে

" বিয়াদপ আমাকে শাড়ি না পড়িয়ে দিয়ে এখন ঢং এর কথা বলোস ??

স্নেহা তিথি কে এইরকম সাজে দেখে পুরোই অবাক হয়ে বলে " আরে বাজ তোকে এইভাবে শাড়ি পড়িয়ে দিলো কে ?? আজ তো মনে হয় কারো বুক থেকে হ্নদপিন্ডটা বেরিয়ে আসবে! এটা কি করলি তুই তিথি??

তিথি মুখ বেঁকিয়ে বলে উঠে

" ঢং মারিস না এইভাবে আমাকে মেঝো মা পড়িয়ে দিয়েছে "

স্নেহা শয়তানি হাসি হেসে তিথির কানে ফিসফিস করে বলে" বাহ্ হবু শাশুড়ি পড়িয়ে দিয়েছে শাড়ি তার ছেলেকে ধ্বংস করার জন্য তাই বুঝি "

তিথি চোখ লাল করে স্নেহা মাথায় গাট্টা মেরে বলে" যা বিয়াদপ এমন কিছু নয় "

–––

রেদোয়ান এর গায়ে হলুদ শুরু হয়ে যাই রেদোয়ান কে নিয়ে সবাই ছাদে চলে যাই সেখানে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান করা হবে। তাকে স্টেজে এ বসিয়ে দেওয়া হয় । ইচ্ছে না থাকা সত্বেও রেদোয়ান বাবার ভয়ে চুপচাপ সব কিছু রিচুয়াল্স মেনে চলছে। প্রথমে রেদোয়ান কে তার মা হলুদ ছোঁয়ায় গালে পর হাত , পা , কপালে সব‌ জায়গায়। তারপর এক এক করে সুফিয়া খান, জুঁই খান সবাই মিলে হলুদ ছোঁয়ায় রেদোয়ান এর গায়ে।

তিথি সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে আসতেছিলো ছাদে কিন্তু কিছু একটার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যেতে নিলেই তখনই তার কোমড় কোন একটা শক্ত পোক্ত একটা হাত তাকে আগলে নেয়। তিথি ভয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে আদিত্যের পাঞ্জাবির অংশ আঁকড়ে ধরে। আদিত্য পলকবিহীন তার বোকাহরণী মেয়েটার কে দেখে চলেছে।

তিথির চোখে মুখে চুল গুলোর কারণে আদিত্য ভালো করে তিথির চেহারা দেখতে পারছিলো না তাই সে মুচকি হেসে মুখ থেকে চুল গুলো সরিয়ে দেয়। তিথি এইবার ফট করে চোখ খুলে ফেলে তখনি একে অপরের চোখে চোখাচোখি হয়।

এক মিনিট, দুমিনিট কতক্ষন না জানি তারা একে অপরের চোখে হারিয়ে গিয়েছিলো। তিথির বুক ধরফর ধরফর করছিলো ওই বিড়ালের চোখের মনির মধ্যে কখন হারিয়ে গিয়েছিলো সে জানেই না। হঠাৎ আদিত্যের হুঁশ আছে সে সঙ্গে সঙ্গে তিথি কে সড়িয়ে দিয়ে মাথার পেছনে হাত দিয়ে চুল চুলকাতে থাকে।

তিথি ও কেমন জানি কাচুমাচু হয়ে গেলো। আদিত্য ভির আবার তিথির দিকে তাকায় এইবার তো তার চোখ আটকে যায় কেননা এতক্ষন সে পুরোপুরি তিথিকে দেখে নি।

আদিত্যের চোখ যেন আজ তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে কিছুতেই সরাতে পারছেই না। নিজেকে সামলে নেয় এবং জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে সে তিথিকে পাশ কাটিয়ে চলে যাই।

তিথি আদিত্যের যাওয়ার পানে হতাশা চোখে তাকায় থাকে এবং মনে মনে ভাবে " এইভাবে চলে গেলো কেনো ?

একটা বার ও আমার প্রশংসা করলো না যে আমাকে দেখতে কেমন লাগছে ?? তিথির মনটা খারাপ হয়ে যাই সে স্টেজে দিকে যেতে যেতে ভাবে

" আদিত্য ভাই কী সত্যি সত্যি আমাকে একটু ও পছন্দ করে না " কিন্তু সে আর মন খারাপ করে থাকতে পারলো না বেশিক্ষণ। কেননা তিথি কে টেনে নিয়ে গেলো স্নেহা স্টেজ এর সামনে। মধু, স্নেহা, ইভা আর তিথি গানের তালে নেচে চলেছে এতে করে তিথির মনটা আবার ফুরফুরে মেজাজে হয়ে গেলো।

তিথি আজকে এই রুপে দেখে তিথির মা বেলা খান মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। চোখের থেকে একটু কাজল নিয়ে মেয়েকে পড়িয়ে দিয়ে বলে

" আমার মেয়েটা দেখি অনেক বড়ো হয়ে গেছে কত্তো সুন্দর লাগছে শাড়িতে আমার মামনিটাকে কারো নজর না লাগুক "

যা তোর জন্য সবাই অপেক্ষা করছে রেদোয়ান কে হলুদ ছোঁয়ায়ে আয়। তিথি মায়ের কথায় লজ্জা পেয়ে শুধু মাথা নাড়ায়।

রেদোয়ান অনেকক্ষন বসতে বসতে বিরক্ত হয়ে গেলো যেই না উঠতে যাবে ওমনি তিথি, স্নেহা, মধু, ইভা, আর আদিত্যের বন্ধুরা তাকে ঘিরে ফেলে। সবার হাত একগাদা করে হলুদ। রেদোয়ান এতো হলুদ দেখে নাক মুখ কুঁচকে ফেলে বলে

– প্লিজ আর দিস না এমনিতেই অনেক হলুদ মাখিয়েছে আমায়!

ইরফান সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠে " উহু হবে না হবে না আমাদের হাত থেকে ও হলুদ ছোঁয়াতে হবে তোমায়" । ইরফান এর বলতে দেরি কিন্তু বাকি সবার হলুদ দিয়ে রেদোয়ান সারা মুখে ডলতে দেরি নেই। যেই যেভাবে পারছে রেদোয়ান এর মুখে হাত পায়ে ভালোমতো হলুদ মাখিয়ে দিচ্ছে। বেচারা রেদোয়ান কেউ ঠেলে কাকে সরাবে বুঝতে ছে না।

এইদিকে রেদোয়ান এর পরিস্থিতি দেখে কুদ্দুস জোরে জোরে হেসে চলেছে , জোরে জোরে হাসার তার মাথায় কিঞ্চিৎ ব্যাথা পেয়ে কপালের ব্যান্ডেজ ধরে ফেলে। তখনি তার রাগ তির চির করে বেড়ে গেলো। সেও হাতে একগাদা হলুদ নিয়ে রেদোয়ান মুখে ভালো মতো ঘষতে থাকে।

রেদোয়ান জোরে জোরে চিৎকার করে কুদ্দুস কে বলতে থাকে

" কুদ্দুসরেএএএএএ তোরে আমি দেখে নিবো শা*লা।

বাড়ির মেহমান সহো প্রত্যোক এ জোরে জোরে হাসতে থাকে এদের কান্ড দেখে। এইবার সবাই ভাবে আদিত্য আর মুগ্ধ কে হলুদ মাখানোর জন্য তখন ই মুগ্ধের এন্টি হয় । মুগ্ধ কে দেখে সবাই একেঅপরের দিক চেয়ে শয়তানি হাসি দেয়। খপ করে মুগ্ধ কে ইরফান, রাতুল আর রুদ্র ধরে ফেলে এবং পিছন থেকে স্নেহা, তিথি আর মধু হলুদ লাগিয়ে দেয় মুগ্ধের সারা মুখে। তার পরপরই সবাই হলুদ অ্যাটাক করে মুগ্ধের উপর।

মুগ্ধ এসেছিলো তার ফারু কে দেখতে কিন্তু কি থেকে কি হয়ে গেলো বুঝতেই পারলো না। এইবার সবাই ভাবে কীভাবে আদিত্য কে হলুদ ছোঁয়ানো যায় এটা যে বিরাট ভয়ঙ্কর কাজ কিভাবে মাখাবে হলুদ আদিত্যেকে। সবাই ভাবতে ভাবতে তিথির দিকে কেমন যানি একটা তাকায়। তিথি সবার নজর তার উপরে আছে দেখে সে কাচুমাচু হয়ে বলে উঠে

– সবাই এইভাবে আমার দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে আছো কেন?? আমি বাবু পারবো না আদিত্য ভাইকে হলুদ ছোঁয়াতে । ওনি এক হিংস্র বাঘ আর আমি একটা পিচ্চি ইঁদুর সামনে পেলেই আমাকে পিষে ফেলবে।

ইরফান শয়তানি হাসি দিয়ে বলে

" আদিত্য কে তুমিই হলুদ ছোঁয়াবে এই কাজ তুমি ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না আর বাঘ কিন্তু তার পিচ্চি ইঁদুর কে পিষে ফেলে আদর করে গিলে খাই বুঝলে "

বাকি সবার ইরফান এর কথায় সায় জানালেও মুগ্ধ প্রচন্ড বিরক্ত হয়ে বলল

– কী দরকার এই সব করার এমনিতেই আদিত্য তিথিকে দেখতে পারে না তার উপর আবার হলুদ ছোঁয়ানো শুধু শুধু ঝামেলা করার দরকার নাই। ফারু নিচে চল। এইসব ঝামেলায় পড়িস না।

ইরফান মুগ্ধ কে মুখ বেঁকিয়ে মনে মনে বিরতির করে

" শা*লা ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা ওদের প্রেমে কাবাব এর হাড্ডি হোষ "

কিন্তু মুখে বলে আরে মুগ্ধ ভাই আমরা সবাই হলুদ মাখছি আর আদিত্য কে মাখাবো না এটা কী হয় ? কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ওকে একমাত্র তিথি ই পারবে হলুদ ছোঁয়াতে। তাই তিথি আদিত্য কে হলুদ ছোঁয়াতে।ইরফান তিথিকে বলে

– তিথি তুমি যাও তোমার দুষ্টু বুদ্ধি দিয়ে আদিত্য কে জব্দ করো।

মুগ্ধের বোধহয় ইরফান এর কথা পছন্দ হয় নি সে কিছু বলতে যাবে ওমনি তিথি বলে উঠে

" আচ্ছা কিন্তু আমি যদি বিপদে পড়ি তোমরা আমাকে বাঁচাবে কিন্তু"

মুগ্ধ কিছু বলতে ও পারছে না আবার এইগুলো সহ্য করতে ও পারছে না সে তিথি কে বলে

" উফফ ফারু!

কী দরকার তুই যাবি হলুদ ছোঁয়াতে আর আদিত্য তোকে তোর গালে থাপ্পড় মেরে ফাটিয়ে দিবে এটাই চাস তুই? দরকার নেই ওকে ওর মতো থাকতে দে "

ইরফান রাতুল আর রুদ্রের দিকে চোখ দিয়ে কিছু ইশারা করে সাথে সাথে তারা বুঝে যাই। ওরা তিনজন ই মুগ্ধ কাঁধ ধরে তাকে টেনে নিয়ে যেতে থাকে মুগ্ধ চমকে উঠে বলতে থাকে

" আরে কী করছো তোমরা কই নিয়ে যাচ্ছো আমাকে? আশ্চর্য নামাও বলছি "

ইরফান শয়তানি হাসি হেসে বলে" মুগ্ধ ভাই চিল এখানে আমাদের আর প্রয়োজন নাই চলো আমরা তোমায় গোসল করিয়ে দি ,,,,চু চু চু দেখো তো তোমার কী অবস্থা হলো সারা গায়ে হলুদ তাই এইগুলো ধোঁয়াতে নিয়ে যাচ্ছি ।

-

স্নেহা , ইভা , মধু আর রেদোয়ান তিথি কে অনেক সাহস জোগাচ্ছে যাতে করে আদিত্যেকে হলুদ ছোঁয়াতে পারে। তিথি বুকে অনেক সাহস নিয়ে হলুদের বাটি নিয়ে ছাদ থেকে নামতে যায় কিন্তু হঠাৎ তার পা আটকে যায় ছাদের কর্নারে একটা ওইখানে জবা গাছ ছিলো সেখানে অনেক রকমের জবা ফুল ফুটেছিলো।

তিথির হঠাৎ খুব ইচ্ছে জাগলো সে জবা ফুলের গাছ থেকে একটা গোলাপী রঙের জবা ফুল নিয়ে কানে গুঁজে দেয় । অতঃপর ছাদ থেকে নেমে চারিদিকে আদিত্য কে খুঁজতে থাকে কিন্তু কোথাও যেন আদিত্য কে খুঁজে পাচ্ছে না। পরিশেষে দেখলো আদিত্য তার রুমেই আছে হয়তো কারো সাথে কথা বলছিলো।

তিথি চুপি চুপি নিঃশব্দে পা ফেলে রুমে ঢুকে আদিত্যের পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ে যাতে আদিত্য বুঝতে না পারে।

কিন্তু তিথি চমকে উঠে যখন আদিত্য পেছনে না তাকিয়ে বলে উঠে

– এখানে কি চাই তোর ? এভাবে চোরের মতো এসেছিস কেনো?

তিথি পুরোই অবাক আদিত্য ভাই বুঝলো কি করে সে এখানে এসেছে। তিথির থেকে কোন উত্তর না পেয়ে আদিত্য এইবার পেছনে ফিরে তাকায়। আদিত্যের তাকানোতে তিথি কেমন চুপসে গেলো এতক্ষন ধরে রাখা সাহস যেনো একটু একটু করে কমে যাচ্ছিলো। তিথি কাচুমাচু করে বলে উঠে

" আ..আমি মোটেও কোন কিছু চুরি করতে আসি নি "

আদিত্য তিথি কথায় মনে মনে বিরবির করে

" মনটাই তো চুরি করে নিয়ে গেছিস আর কি চুরি করবি তুই?"

কিন্তু মুখে বলে উঠে " আচ্ছা তাহলে এখানে কেনো এসেছিস?"

তিথি অনেক সাহস জোগাড় করে পেছন হাতে ধরে হলুদের বাটি থেকে হাতে নিয়ে যেই না আদিত্য কে ছোঁয়াতে যাবে ওমনি আদিত্য ভ্রু কুঁচকে তিথির হাত থামিয়ে দিয়ে তাকে টেনে নিয়ে হলুদের মাখানো হাতটা দেয়ালের সাথে চেপে ধরে। তিথি ব্যাথায় কিছুটা কেঁপে উঠে বলে

" আদিত্য ভাই ছাড়েন ব্যাথা পাচ্ছি তো "

আদিত্য না ছেড়ে হাতটা আরেকটু শক্ত করে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে বলে

-" তোর সাহস দেখে আমি অবাক বাহ্ ভালোই সাহস হয়েছে তোর তা এই সাহস কো থেকে পেলি?"

তিথি ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে বলে – সবাই মিলে আমাকে পাঠিয়েছে আপনাকে হলুদ ছোঁয়াতে আ.. আমার কোন দোষ নেই এখানে, আহ্ ছাড়ুন লাগছে তো!

আদিত্য তবুও তিথি কে ছাড়ে না একনজরে শুধু ওকে দেখে চলেছে তিথি ও এইবার সব ভুলে আদিত্যের চোখ হারিয়ে যাই। কিছু মিনিট পর আদিত্য হলুদের বাটি থেকে কিছুটা হলুদ নিয়ে আস্তে আস্তে তিথির গালে লাগিয়ে দেয় ।

বিদ্যুৎ ঝটকার মতো যেন তিথির শরীরে কম্বন বয়ে গেলো তিরতির করে সে কাঁপতছে তিথি আবেশে চোখ বুজে ফেলে এবং অন্য হাত দিয়ে শাড়িটা কিছুটা অংশ শক্ত করে চেপে ধরে।

আদিত্য আবার তিথির অন্য পাশে হলুদ লাগিয়ে দেয় এইবার তিথি কাঁপা কাঁপি যেন আরো বেড়ে যাই। তখন হঠাৎ ছাদ থেকে একটা গান বাজতে থাকে গানটি চলার সাথে সাথে তাদের দুজনের নিঃশ্বাস যেনো আরো গাঢ়ো হতে থাকে

——

Ang Laga De Re

Mohey Rang Lagaa Dey Rey

Main Toh Teri Joganiyaa

Tu Jog Lagaa Dey Rey

——

কিছু মধুর অনুভুতি দুজনেই অনুভব করতে থাকে। দুজনেরি শ্বাস উঠানামা করছে কিন্তু কারো মুখে কোন কথা নেই। দুই পাশ থেকে দুই ব্যাক্তি একে অপরকে ভালবাসে তবুও কেউ কাউকে ভালোবাসার কথা বলছে না। আদিত্যের হ্নদপিন্ডটা খুব জোরে জোরে লাফাচ্ছে যার আওয়াজ তিথির কানে অব্দি বারি খাচ্ছে সে শুনতে পাচ্ছে আদিত্যের হৃদয়ে সুর যে সুর একমাত্র তার নামেই প্রতিদিন ধ্বনিত হয়।

আদিত্য এইবার তিথির আরো কাছে চলে আসে এবং তিথির গালের সাথে তার গাল মিলিয়ে দিয়ে তিথির গাল থেকে হলুদ তার গালে ছোঁয়ায়। তিথি এইবার পুরোপুরি কাপাকাপি শুরু করে দেয় সে পারছে না দৌড়ে চলে যেতে এইখান থেকে।

আদিত্য মুচকি হেসে তিথির কোমড় আঁকড়ে ধরে তাকে আরো কাছে নিয়ে আসে।

তিথি শাড়ি পড়ায় তার কোমড়ে দিকে শাড়ি সরে গিয়েছিলো কিন্তু যখন সেখানে আদিত্যের হাতের ছোঁয়া পায় তার শরীরে যেন কারেন্ট এর শক বয়ে যাই।

আদিত্য তিথির কানে ফিসফিস করে বলছে

– এসেছিস তো আমাকে জব্দ করতে তাই না কিন্তু নিজেই এখন জব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছিস। কেমন হাঁপানি রোগীর মতো অবস্থা তোর । এইটুকু তে এই হাল আসল কাজে যখন যাবো উপরওয়ালা মালুম তখন কি করবি কে জানে?।

আদিত্য এইবার তিথিকে ছেড়ে দিয়ে বিছানায় বসে পড়ে যেই না তিথি পা বাড়াবে ওমনি আদিত্য তিথি কে সতর্ক বার্তা দেয় যে সে এখানে থেকে এখন যেতে পারবে না।

আদিত্য পকেট থেকে সিগারেট বের করে আগুন দিয়ে ধরিয়ে তা মুখে পুরে নেয়। তিথির একদম সিগারেট পছন্দ নয় তাই সে নাকমুখ কুঁচকে ফেলে।

আদিত্য লম্বা লম্বা টান দিয়ে সিগারেট ধোঁয়া উড়াচ্ছে আর তিথি কে দেখে চলেছে।

তিথি অনেকখন ধরে দাঁড়িয়ে আছে এখানে না পারছে বসতে না পারছে চলে যেতে বিরক্ত হয়ে সে কানে গুঁজে রাখা জবা ফুল টা ফ্লোরে ছুড়ে মারে। আদিত্য কোনো চোখে তিথি কান্ড কারখানা দেখে চলেছে। একটানায় অনেক গুলো সে সিগারেট শেষ করে ফেলেছে শেষ সিগারেট টা হাতের মধ্যে নিয়ে তিথির দিকে এগিয়ে যায়।

আদিত্য ফ্লোর থেকে জবা ফুলটি তুলে তিথির কানে আবার গুঁজে দিয়ে বলে

" জবা ফুল মাটিতে নয়, তোর কানে গুঁজে দিলেই মানায়—কারণ রাগ নয়, সৌন্দর্যই তোর ঠিকানা।"

সে এইবার কিছুটা গুনগুন করে গাইতে থাকে তিথির চোখের দিকে তাকিয়ে

———

কন্যার চিড়ল-বিরল চুল

তাহার কেশে জবা ফুল

সেই ফুল পানিতে ফেইলা

কন্যা করলো ভুল

কন্যা, ভুল করিস না

ও কন্যা, ভুল করিস না

আমি ভুল করা কন্যার লগে কথা বলবো না

———

আদিত্য গাইতে গাইতে আবার সিগারেট মুখে পুড়ে রুমে থেকে বেরিয়ে যাই। তিথি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো সে বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। আপনাআপনি তার হাত চলে যাই কানে গুঁজে রাখা জবার ফুলের মধ্যে সে জবা ফুলটি ধরে মিটিমিটি হেসে লজ্জায় মুখ ঢেকে ফেলে।

তখনই হুড় হুড় করে রুমে স্নেহা, ইভা আর মধু চলে আসে। তিথি কে লজ্জা পেতে দেখে তারাও মিটিমিটি করে হেসে চলেছে।

—

রুদ্র তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি বেয়ে কিছু আর্জেন্ট কথা বলার জন্য আদিত্যোর রুমে দিকে যাচ্ছিলো কিন্তু পথে স্নেহা তাকে আটকে ফেলে। রুদ্র পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নিলেই আবার স্নেহা পথ আটকিয়ে দাড়াই রুদ্র এইবার কিছুটা বিরক্ত হয়ে জিজ্ঞাসা করে

– সমস্যা কী তোমার এইভাবে পথ আটকাচ্ছো কেন??

স্নেহা ভাবলেন হীন ভাবে বলে

– আমি কই আপনাকে আটকাচ্ছি যেতে পারলে যান

রুদ্র স্নেহা হাবভাব দেখে মুখে বিরক্ত ছাপ ফেলে বলে " মেয়ে তুমি বেশি বিরক্ত করছো কিন্তু আমায় ! সামনে থেকে সরো বলছি " তবুও স্নেহা সরে দাড়াই না।

–" এই তোমার সমস্যাটা কী বলবে একটু?"

স্নেহার সরাসরি উত্তর " আমি যা চাই তা দেন "

– " তুমি যেটা চাচ্ছো তা কখনো সম্ভব নয় পথ থেকে সরে দাঁড়াও মেয়ে। যাও না তোমার ভাবীর মেহেদী অনুষ্ঠানে সেখানে না গিয়ে এখানে আমাকে বিরক্ত করছো কেন?"

স্নেহা এইবার সরে দাড়াই না মাথা নিচু করে সোজা খাম্বার মতো দাঁড়িয়ে আছে ।রুদ্র স্নেহা কে এইভাবে দেখে এইবার কিছুটা নরম গলায় বলে উঠে

– কী চাই তোমার?

স্নেহা মাথা তুলে ফটাফট বলে " আপনাকে চাই"

– তা সম্ভব নয়.....

স্নেহাও ফির বলে উঠে

" কেন সম্ভব নয়?"

–কারণ আমি তোমাকে চাই না আর আমি এটাও চাই না তোমার জন্য আমার আর আদিত্যের বন্ধুত্বটা ভেঙে যাক আশা করি বুঝতে পেরেছো।

স্নেহা হয়তো রুদ্রের কথায় কিছুটা কষ্ট পায় সে আর তর্ক না করে সোজা উপরে উঠে চলে যায়। রুদ্র স্নেহার যাওয়ার পানে তাকিয়ে ভাবে

" মেয়েটা কী আমার কথায় বেশি কষ্ট পেয়ে গেলো " তারপর একটা হতাশার শ্বাস ফেলে আদিত্যের রুমের দিকে অগ্রসর হয়।

–

তখন ধরনীতে সন্ধ্যা নেমেছে চারিদিকে ফেরি লাইটের আলোয় ঝিকিমিকি করছে। খান পরিবারের সবাই এখন তাহামিনাদের বাড়িতে যাবে সেইখানে রেদোয়ান আর তাহামিনার একসাথে হলুদ সন্ধ্যা অনুষ্ঠান করা হবে।

চলবে ~

( বড় পর্ব দিয়েছি জানি না কেমন হয়েছে প্লে বয় রেদোয়ান এর সংসার জীবন সুখের হোক 🤧 ভালো লাগলে একটা মন্তব্য করে জানাবেন। কুদ্দুস এর জন্য একটা গফ😁 আনতে চাচ্ছি কি বলেন আপনারা?)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন