ফন্ট সাইজ:
থিম:
বখাটে আদিত্য

১৪তম পর্ব

লেখক: প্রিয়ন্তিকা প্রীয়ন্তি

#বখাটে_আদিত্য

#প্রিয়ন্তিকা_প্রিয়ন্তী

পর্ব:১৪

এখনো কেনো আপনারা খুনিকে ধরতে পারছেন না এর জবাব চাই আমার টেবিলে বারি মেরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারহান মিটিং রুমে এক ভয়াবহ পরিবেশ মুখর করে তুলেছেন। যার এক একেকটা বাণী বজ্রের ন্যায় মিটিং রুমে গর্জে উঠছে। মিটিং এ আসনরত সেনা সৈন্য সবাই মাথা নিচু করে বসে আছেন।

মেজর ভিরেক্স হাতে আঙ্গুলে কলম ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে টেবিলে সাজানো খুনির রিপোর্ট দেখছেন। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারহান এতে বিরক্ত বোধ করলেন মেজর ভিরেক্স এর খাবছাড়া ভাব ছেড়ে তিনি মেজর ভিরেক্স উদ্দেশ্য বলতে লাগলেন

– উপরমহল কড়া আদেশ আসছে আমাদের আগামী মাসের মধ্যেই খুনিকে ধরা চাই মেজর ভিরেক্স বলে তিনি ভিরেক্স এর উত্তর জানার অপেক্ষায় রয়েছেন কিন্তু অপরপাশের ব্যাক্তির কোন হেলদোল নেই। লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারহান এইবার অতিষ্ঠ হয়ে বলে

" হ্যালো মেজর ভিরেক্স আপনি কী একটু সিরিয়াস হবেন?? আমাদের মিশন টি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে প্লিজ দয়া করে কোয়া অপারেট করুন এমন খাপছাড়া ভাব এ থাকলে আমরা আরো এক যুগ হলেও খুনিকে ধরতে পারবো না"।

ভিরেক্স এইবার চোখ তুলে ভ্রু কুঁচকে চেয়ার থেকে উঠে পড়ে লেফটেন্যান্ট ফারহান উদ্দেশ্য বলে

" বনের রাজা সিংহ তার জঙ্গল বাঁচাতে এমনভাবে গর্জে উঠেও না যেমন ভাবে আপনি গর্জে উঠছেন। আর রইলো উপরমহল তাহলে আপনি ওনাদের বলুন না মিশনটি শেষ করতে , টাকার গদির চেয়ারে বসে বসে আদেশ দিচ্ছে একবার ওনাদের মাঠে নামতে বলুন "

" ভাষা ঠিক করুন মেজর ভিরেক্স আপনার মুখে এই কথা মানায় না এটা আমাদের দায়িত্ব " লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারহান এর সরাসরি জবাব

মেজর ভিরেক্স মুচকি হেসে বলতে থাকে

দায়িত্ব হা! হাসালেন জনাব ওনারা আমাদের মনে করে তাদের পা চাটার কুত্তা। সেনাবাহিনী মানেই সরকারের গোলাম তাই না। এই মিশন আমি কারো আদেশ এ পালন করতে পারবো না আমার রুলস মোতাবেক চলবে এইখানে আর না হলে এই মিশন থেকে আমাকে সরানো হোক এতে আমার কোন সমস্যা নেই।

মেজর ভিরেক্স তার ভাবমূর্তি পাল্টে ফেলে পর্দায় কিছু ছবি দেখিয়ে সবাইকে বলতে থাকে

" খুনি সম্ভবত পা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন। প্রত্যোকটা মেয়েদের তিনি ক্রাচ দিয়ে একটিবার হলেও আঘাত করেছেন কিন্তু প্রায় সব মেয়েদের কুঁড়াল দিয়ে নৃ*শংস ভাবে হ*ত্যা করেন।"

ক্যাপ্টেন তানভীর তখন বলে উঠে

" স্যার খুনি বুঝতে পেরে গেছে আমরা তাকে ট্রেস করছি তাই কিছুদিন জন্য হয়তো গা ঢাকা দিয়েছে "

ভিরেক্স বাকাহেসে বলে " গা ঢাকা দিয়ে আর নিজেকে বাঁচাবে কয়দিন এই মেজর ভিরেক্স তাকে আর বাঁচতে দিবে না প্রত্যেকটা নারীর জীবনের হিসাব পায় টু পাই শোধ নিবো আমি ।

মেজর ভিরেক্স এর হাত থেকে নিস্তার পাওয়া খুব দুস্কর হবে তার জন্য শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা শিকার ফাঁদে পা দিবেই দিবে বলে ভিরেক্স বাঁকা হাসতে থাকে।

লেফটেন্যান্ট ফারহান এতক্ষন চুপ করে মনোযোগ দিয়ে ভিরেক্স এর কথা শুনছেন তিনি এত বছর এই পেশায় রয়েছেন

কখনো কোনদিন উপরমহল এর আদেশ অমান্য করে নি কিন্তু মেজর ভিরেক্স যেন অন্য ধাতুর গড়া তিনি কারো আইন শৃংখল মানেন না নিজের দক্ষতা ও চতুর বুদ্ধির সাহায্য একের পর এক সংগ্রাম লড়ে গেছেন যা কখনো অন্য সেনাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

তখনি রুমের ভিতর এন্ট্রি হয় এক নারী দেখতে শ্যামলা হলেও তার চোখ যেন আগ্নেয় গিরি লাভা যা কাউকে ভৎস্য করে জ্বালিয়ে দিতে পারে। ইন করা কালো শার্ট ও জিন্সপেন্ট পরিহিতা হাত দুটি পেছনে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিটিং রুমে। লেফটেন্যান্ট ফারহান মেজর ভিরেক্স কে বলতে থাকে

" মেজর ভিরেক্স আলাপ করিয়ে দি তিনি NSI এর ইন্টেলিজেন্স গোয়েন্দা অফ "মায়া" তার সব বায়োডাটা ও আসল নাম ফাইলে চেক করে নিয়েন। এই মিশনে আমাদের সহোযোগিতা করবে এবং খুনির সব তথ্য আপডেট দিবেন।

মায়া মেজর ভিরেক্স এর সামনে এসে ডান‌ হাতের পাঁচ আঙুলের সাহায্যে সেলুট প্রদান করে বলে

– স্যার!

মায়া ভিরেক্স এর উদ্দেশ্য হাত বাড়িয়ে দেয়

" মায়া ইন্টেলিজেন্স ডিপার্টমেন্ট অফ NSI"

ভিরেক্স ও মায়ার হাতে হাত মিলিয়ে বলতে থাকে " মেজর ভিরেক্স " .....!!

––––

খান মঞ্জিল আজ ফুলে ফুলে সজ্জিত চারিপাশ , অবশ্য এনগেজমেন্টটা রাতে হচ্ছে খান বাড়ি হাজারো রঙিন লাইট এ ঝিকিমিকি করছে । আকাশে তখন মাএ সন্ধ্যা নেমেছে আকাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার তারা গুলো আজ বোধহয় একটু বেশি জ্বলছে চাঁদের আলোয় ধরনী আজ আলোকিত।

খান বাড়িতে মেহমান ও বাকি আত্মীয় স্বজন সবাই চলে এসেছে কিন্তু যার এনগেজমেন্ট তার খবর নাই। রেদোয়ান পড়ে পড়ে এখনো ঘুমাচ্ছে তার যেন কোন কিছুতেই আগ্রহ নেই।

তুর্য খান ব্যস্ত হাতে ক্যাটারিং এর লোকদের সবকিছু বুঝিয়ে দিচ্ছে যাতে কোন অসুবিধা না হয় সব অতিথিদের যেন ভালোভাবে আপ্যায়ন করা হয়।

তিথি, স্নেহা, ইভা অনুষ্ঠান এর জন্য রেডি হতে থাকে। তিথি অনুষ্ঠানে পড়ার মতো কোন ড্রেসই খুঁজে পাচ্ছে না মন খারাপ করে গালে হাত দিয়ে বসে আছে ।

তখন পাশ দিয়ে স্নেহা রেডি হয়ে যাচ্ছিলো তিথি কে এইভাবে দেখে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করে

" কী হয়েছে তোর এইভাবে অভাগীর মতো বসে আছিস কেন?"

তিথি মুখ ফুলিয়ে বলতে থাকে

" আমি অনুষ্ঠান এ কী পড়বো ভেবে পাচ্ছি না রে এতো জামার ভিতর কোনটা পড়বো বুঝতে ছি না "

স্নেহা তিথির কথায় কিছু ভেবে সে তিথির জন্য ড্রেস সিলেক্ট করতে থাকে অনেক গুলো দেখার পর স্নেহার একটা জামায় চোখ আটকে যায় টকটকে লাল রঙের একটা গ্ৰাউন যা তিথির গায়ের সাথে একদম পারফেক্ট মানাবে, সে তিথি কে বলে এটা পড়তে।

" এটা পড়বো সুন্দর লাগবে তো আমায় পাক্কা"

স্নেহা মাথা নাড়িয়ে বলে "হ্যাঁ একদম পাক্কা তোরে অনেক সুন্দর লাগবে দেখবি আজকে তোর থেকে একজন চোখ সরাতেই পারবে না বলে চোখ মারে তিথিকে।

তিথিও মুচকি হেসে স্নেহাকে জরিয়ে ধরে স্নেহা ও তিথিকে জরিয়ে ধরে। এরা যেন দুইবোন না দুই বান্ধবীর মতো যারা কিনা বিপদে আপদে সবসময় একসাথে দুইজন একে অপরের পাশে থাকে। বোনের মতো বান্ধবী পাওয়া আসলে অনেক ভাগ্যের ব্যাপার যার সাথে সবকিছু শেয়ার করা যায়, মন খুলে কথা বলা যায়।

ইভা তখন বলে উঠে

" ওরে আমার দুই জোড়া পাখি আর কতক্ষন জরিয়ে ধরবি রেডি হবি না "

স্নেহা আর তিথি আলাদা হয়ে দুজনেই তৈরি হতে থাকে।

–

ইকবাল খান যাচ্ছিলেন মেহমানদের আপ্যায়ন কোন এুটি আছে কিনা হঠাৎ তার চোখ আটকে যায় মুগ্ধের উপর।

মুগ্ধ সবকিছুর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে খেটে যাচ্ছে কি সুন্দর করেই না সবাইকে আপ্যায়ন করছে ইকবাল খান হতাশার শ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবে

– আমার আদিত্যটাও যদি এমন হতো কী সুন্দর করেই না মুগ্ধ সবাইকে আপ্যায়ন করছে। ছেলে হলে তো এমন হওয়া উচিত।

আদিত্য মাএ ঘরে ঢুকেছে তখন আদিত্যের উপর ইকবাল খান এর চোখ পড়ে সঙ্গে সঙ্গে ওনার রাগ তর তর করে বেড়ে যায় আদিত্যের সামনে গিয়ে বলেন

– ছিঃ কি এক ছেলে জন্ম দিলাম যে কিনা নিজের ভাইয়ের বিয়েতেও এমন বাদ্দাইমার মতো ঘুরে বেড়ায় , এই তোমার কী কোন দিন আঙ্কেল, জ্ঞান হবে না মুগ্ধ কে দেখে শিখো কিছু কেমন করে নিজের বাড়ির মতো করে খাটছে আর তুমি ভাদ্দাইমার মতো ঘুরে ফিরছো!

আদিত্য একটা হামি দিয়ে বাবার উদ্দেশ্য বলে

" উফফ আব্বু এইসব আমার কাজ না"

– তোমার কাজ কী? বাউন্ডুলে মতো ঘুরে বেড়ানো

তখন পিছন থেকে আদিত্যের বন্ধুরা হাজির হয় তাদের সামনে। ইকবাল খান এইবার বিরক্ত হয়ে বলে

” ওই যে চলে আসলো আরেক দল বাদ্দাইমা উপরওয়ালা জানে এদের নসিবে কী আছে ? "

ইরফান ইকবাল খান কে বলে

" চাচা আমরা এসেছি তো নো চিন্তা সব সামলে নিবো । ইকবাল খান আর কিছু না বলে সেখান থেকে সরে যাই। অনুষ্ঠান শুরু হয় মেয়ের বাড়ির লোকজন আসতে শুরু করেছে।

তিথি প্রায় রেডি শুধু একটু মুখের সাজ গোজ বাকি অবশ্য সে তেমন সাজে না তার সাজতে ভালো লাগে না। মুখে হালকা একটু ক্রিম দিয়ে হালকা লুসি পাউডার দিয়েছে। ঠোঁটে লাল রঙের লিপস্টিক আজ কেন জানি তিথির ইচ্ছে হলো চোখে গারো কাজল দিতে যেই ভাবনা সেই কাজ। হরিনী চোখ দুটোতে কাজল লেপ্টে দেয় ও হালকা করে মাশকারা লাগিয়ে নেয়।

কানে দুই জোড়া এয়ারিং আর দুই হাতে আদিত্যের দেওয়া কাঁচের চুড়ি ও রক্তচুড়ি ব্যাস এতেই যেন তিথিকে কোন অপ্সরা থেকে কম লাগছে না।

স্নেহা অপলক তাকিয়ে আছে তিথির দিকে

” হায়!

কী লাগছে তোকে আজ কেউ তোর থেকে চোখ সরিয়ে নিতে পারবে না । যেনো কোন বাগানের ফোঁটা লাল গোলাপ লাগছে তোকে "

তিথি ওড়না কোনা আঙুল দিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে লজ্জার ভান করে মুখ ঢেকে ফেলে

” উফফ লজ্জা দিস না তো এইভাবে"

ইভা হাসতে হাসতে চোখ থেকে কাজল নিয়ে তিথির ঘাড়ে দিয়ে বলে

– কারো নজর না লাগুক আমার বোনের

তিথি যেন লজ্জায় আরো লাল নীল রঙের হয়ে যাই

" দূর এতো লজ্জা দিচ্ছিস কেন তোরা যা সর তো "

ইভার চোখ যায় তিথির হাতের লাল টকটকে রক্তচুড়ির দিকে সে তিথিকে জিজ্ঞাসা করে এইগুলো আবার কেমন চুড়ি ??

তিথি তাদের দুজনকেই বলতে থাকে এইগুলো তাকে আদিত্য ভাই দিয়েছে রক্ত দিয়ে বানিয়ে।

ইভা আর স্নেহা অবাক হয়ে বলে "রক্ত দিয়ে বানিয়ে?"

তিথি মাথা নিচু করে হ্যাঁ বোঝায়। স্নেহা আর ইভা মুচকি মুচকি হেসে আর কিছু বলে না

—

তাহামিনা ও তার পরিবার এর সবাই চলে এসেছে । তাহামিনার পড়নে ছিলো হালকা গোলাপি রঙের শাড়ি সাথে মেচিং করা ব্লাউস। শ্যামলাটে মুখে কোনো কৃত্রিম প্রসাদনি নেই ন্যাচারাল সাজে সজ্জিত। ফর্সা না হলেও ওই শ্যামলা মুখের মায়ায় যে কেউ মুগ্ধ হবে। তিথি, স্নেহা আর ইভা মিলে তাহামিনাকে স্টেজ এ নিয়ে যাই। তাহামিনা ভীষণ অস্তিত্ব বোধ করছে তাই বারবার হাত কচলাচ্ছে তিথি তা খেয়াল করে মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে তাহামিনার হাত ধরে বলে

–ভাবী নার্ভাস হয়েন না আমরা আছি আপনার কিউট কিউট ননদরা বলে খিল খিল করে হেসে উঠে সাথে স্নেহা আর ইভা হেসে উঠে। তাহামিনার একটু হলেও অস্তিত্ব বোধ কমেছে সেও হালকা করে মুচকি হাসতে থাকে।

তিথির খিল খিল করে হাসাতে চলতে চলতে আদিত্যোর হঠাৎ পা থেমে যায় তার হ্নদপিন্ডটা এতটা জোরে জোরে লাফাচ্ছে যেন এখুনি বেরিয়ে আসবে, হঠাৎ করে হালকা হাওয়া তার হৃদয়টা চুরমার করে দিচ্ছে, তিথির হাসিতে মুগ্ধ হয়ে নিঃশ্বাস নিতে ভুলে গেছে কিছু সেকেন্ড, পলকবিহীন একধ্যানে দেখে চলেছে

তিথিকে কিন্তু হঠাৎ তার চোখ দুটো পড়ে তিথির লালটকটকে রাঙা ঠোঁটে আর কাজল টানা হরিণী চোখের দিকে কেন যানি আদিত্য ঈর্ষান্বিত হয়ে হাত দুটি মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে সেখানে আর এক মুহূর্তের জন্য দাঁড়িয়ে না থেকে গট গট পায়ে চলে যাই।

আত্মীয় স্বজনরা কানে কানে ফিসফিস করছে বউয়ের শ্যামলাটে মুখ দেখে অনেকে তো এই নিয়ে হাসাহাসি করে চলছে কিন্তু এতে কোন মাথা ব্যাথা নেই খান পরিবারের সদস্যদের। সবাই অপেক্ষা করছে কখন রেদোয়ান আসবে কেউ কেউ বলছে হয়তো রেদোয়ান এই শ্যামলা মেয়েকে বিয়ে করতে চাচ্ছে না বলে পালিয়ে গেছে। তুর্য খান রীতিমতো রেগে গিয়ে স্ত্রীর দিকে তাকান জুঁই খান স্বামীর এমন রাগ দেখে ভয়ে গুটিয়ে যান এবং কানে কানে বলে

" এমন রেগে যাচ্ছেন কেন ছেলেকে তো চিনেন ও এখুনি চলে আসবে আরেকটু অপেক্ষা করুন"

অবশেষে সবার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিচে নামে রেদোয়ান সাথে আদিত্য ছিলো। আদিত্য রেদোয়ান কে স্টেজ এ তাহামিনার পাশে দাঁড় করিয়ে দেয়। এইদিকে আদিত্য কে দেখে তিথির চোখ গুলো রসগোল্লার মতো হয়ে আছে।

কালো পাঞ্জাবি ও সাদা পায়জামা পরিহিত আদিত্যকে এতো সুন্দর লাগছে যে তিথির হার্টবিট ফাস্ট হয়ে যায় । বিড়াল এর মতো গোলাটে চোখ গুলো দেখে তিথির এখন একটা গানই মনে পড়ছে

——

" ছেলে তোর নেশা নেশা চোখে যেন আগুন জ্বলে বুকে সেই আগুনে পুড়তে আমার ভাল্লাগে "

——

তিথি একটার পর একটা ঢোক গিলে চলেছে তার কেমন যেন অস্থির অস্থির লাগছে সব । স্নেহা তিথির অবস্থা দেখে মিটিমিটি হেসে কানে ফিসফিস করে বলে

" কীরে আমার ভাইকে দেখে তোর তো হাওয়া ফুশ এখন কী করবি?"

তিথি স্নেহাকে অভিনয়ের সুরে বলতে থাকে

" উফফ ছেলে তো নয় যেন আগুনেরি গোলা তোর ভাইকে এতো সুন্দর হতে কে বলেছে "

রেদোয়ান আর তাহামিনার এখনো কেউ কাউকে দেখে নি, দেখে নি বললে ভুল আসলে কেউ কারো চেহারা দেখতে চায় না দুইজন দুইপাশ ফিরে বসে আছে। তখন স্টেজে তুর্য খান উঠে আসে তাহামিনার সামনে গিয়ে দাঁড়ায় , তাহামিনার সঙ্গে সঙ্গে তুর্য খান এর পা ধরে সালাম করে।

– থাক মা। অবশেষে আমি আমার বন্ধুর দেওয়া কথা রাখতে পারবো তোমাকে আমার ঘরের বউ বানিয়ে নিয়ে আসবো কখনো নিজেকে একা মনে করবে না তোমার আজ থেকে এই বাবা- মা তোমার পাশে সবসময় থাকবে। তারপর তিনি তাহামিনা আর রেদোয়ান এর হাতে একটি করে রিং ধরিয়ে দেন

–নাও এইবার দুজন দুজনের অনামিকা আঙ্গুলে পড়িয়ে দাও

রেদোয়ান আর তাহামিনা এতক্ষনে দুইজন দুজনের দিকে তাকায় কিন্তু হঠাৎ করে তাদের মুখটা রাগে পরিনত হয়।

রেদোয়ান রীতিমতো অবাক হয়ে ফিসফিস করে বলতে থাকে

" তুই? তুই আমার বিয়ে করা বউ ছ্যাঁ শেষে কিনা তোর মতো কাইল্লা আর মোটি জুটেছে আমার কপালে"

তাহামিনা ও সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেয়

" ছিঃ আপনার মতো একটা লম্পট, বিয়াদপ আর মেয়ে বাজ ছেলের সাথে বিয়ে হবে আমার ভাবতেও ঘৃণা লাগছে"

সবাই তাদের ফিসফিসানি করা দেখে বলতে থাকে আংটি পড়িয়ে দিতে আঙ্গুলে।

রেদোয়ান তাহামিনার বাম হাতটা জোরে টেনে ধরে অনামিকা আঙ্গুলে আংটি পড়িয়ে দিয়ে সেটা দিয়ে চেপে ধরে যাতে সে ব্যাথা পাই। তাহামিনা ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে বলে " ছাড়ুন লাগছে আমার"

– লাগুক আমাকে বিয়ে করার শখ একেবারে মিটিয়ে দিবো তার হাতটা ছেড়ে দেয় এবং তাহামিনা উদ্দেশ্য তার বাম হাত বাড়িয়ে দেয়।

তাহামিনা কম কিসে সেও রিং পড়িয়ে তার নখ দিয়ে রেদোয়ান এর হাতে ক্ষত করে দেয়। ।

সবাই জোরে জোরে হাততালি দিতে থাকে। সবাই এক এক করে তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে থাকে ।

তিথিকে পেছন থেকে কেউ হঠাৎ করেই গাট্টা মারে পেছনে ফিরে দেখে আরমিণ দাঁড়িয়ে আছে। স্নেহা ও তিথি রীতিমতো অবাক হয়

" কীরে তুই এখানে ? "

আরমিণ মুচকি হেসে বলল

– তাহামিনা আপু আমার ফুফির মেয়ে কিন্তু আমি কখনো ভাবি নাই তোদের সাথে এখানে দেখা হয়ে যাবে তাহলে রেদোয়ান দুলাভাই তোদের ভাই?? উফফ আমরা তাহলে বেয়াইন হয়ে গেলাম।

আরমিণ এর হঠাৎ চোখ যায় আদিত্যর দিকে সে অবাক হয়ে বলতে থাকে

– তিথিরে তোদের বলেছিলাম না একটা ছেলে আমাকে বাঁচিয়েছে আর যার প্রেমে আমি ডুবে মরছি সে এখানে কী করছে

তিথি ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করে কোথায় সেই ছেলে আরমিণ আদিত্যোর দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে দেয় স্নেহা রীতিমতো অবাক হায় রে কী হবে এখন। স্নেহা আরমিণকে বলতে থাকে

– এটা তো আমার ভাই আদিত্য তুই সিউর তোকে ওনি বাঁচিয়েছে ??

আরমিণ মাথা নাড়ায় এবং বলে দাঁড়া তোকে এখানে আমি ওনার সাথে কথা বলে আসি তাহলে তোরা বিশ্বাস করবি।

আরমিণ এক ছুটে আদিত্যোর সামনে গিয়ে দাঁড়াই । আদিত্য আরমিণকে দেখে মুচকি হেসে বলে

" আরে তুমি এখানে?"

আরমিণ ও মুচকি হেসে বলে

" হুম তাহামিনা আপু আমার ফুফাতো বোন আপনি কী দুলাভাই এর ভাই ? "

আদিত্য মাথা নাড়ায়, আরমিণ লজ্জা পেয়ে বলে

–ও তাহলে তো আমরা বেয়াই বেয়াইন হয়ে গেলাম। আদিত্য কী বলবে ভেবে পায় না সে কাজের বাহানা দেখিয়ে অন্য পাশে চলে যাই।

এতক্ষণ তাদের দুজনের কথোপকথন তিথি খুব ভালো করে দেখছিলো তার রাগে জামা চেপে ধরে আছে সে সেখানে আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে চলে যাই উপরে। আরমিণ তিথির যাওয়ার পানে তাকিয়ে স্নেহা কে বলতে থাকে

" তিথি চলে গেলো কেনো?"

স্নেহা মনে মনে বিরবির করে

– চলে যাবে না শালি তোর কী আর কোন ছেলে পেলি না ভালোবাসতে আমার ভাইকে পেলি!

তিথি তার বাবার পাশে বসে আছে ঠিক সেই সময় তাহামিনার চাচি গালিব কে নিয়ে এসে পরিচয় করিয়ে দেয় তিথির বাবার সাথে। তিথি গালিবকে দেখে মুখটা বাংলার পাঁচের মতো করে ফেলে বিরবির করে

" দূর সব আপদ কী আমাদের বাড়িতেই আসতে হলো !

গালিব তিথির দিকে হাত বাড়িয়ে বলে

" কেমন আছো তিথি এখন আমরা তো বেয়াই বেয়াইন হয়ে গেলাম "

তিথি কিছু না বলে শুধু একটু মুচকি হাসি হাসে।

সব আত্মীয় স্বজনদের খাওয়া দাওয়া শেষ হয়ে যাই এতো কাজ ছিলো যে মুগ্ধ একবার এর জন্য তার ফারুকে একপলক দেখে নি। মুগ্ধ তিথি যেইখানে বসে রয়েছে সে দিকে চলে যায় পা থেকে মাথা অব্দি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে তিথির মুখ থেকে আপনাআপনি বেরিয়ে যাই

" beautiful"

মুগ্ধ তিথির পাশ ঘিরে বসে পড়ে

” ফারুক তোকে আজ মারাত্মক সুন্দরী লাগছে, পরির রাজ্যে থেকে আসা এক নিষ্পাপ পরি "

তিথি মনে মুগ্ধের কথা কানে ঢুকছে না সে শুধু ভেবে চলেছে আদিত্যর কথা একটিবার তার প্রশংসা করলো না বরং আরমিণ এর সাথে হেসে হেসে কথা বলছে।

-

তাহামিনা আর রেদোয়ান পাশাপাশি বসে আছে ঠিক কিন্তু একজন আরেকজনের সাথে পরপর ঝগড়া করছে হঠাৎ করে শাউন্ট বক্স এ গান বেজে উঠে ইভা স্টেজে গিয়ে তাহামিনা আর রেদোয়ান কে টেনে নিয়ে আসে ফ্লোরে নাচ করার জন্য। পাশাপাশি অন্যারাও চলে আসে নাচার জন্য। আরমিণ আদিত্য কে জোর করে হাত টেনে নিয়ে আসে এবং তার হাত ধরে নাচতে থাকে।

এইদিকে রাগে ফুস ফুস করছে তিথি তার এখন আরমিণকে সহ্য হচ্ছে না। স্নেহা তিথির মাথায় ফু দিয়ে তাকে শান্ত হতে বলে কিন্তু তিথি শান্ত হওয়ার বদলে আরো দ্বিগুন রেগে যাই।

আদিত্য বেচারি কিছু বলতে ও পারছে না আরমিণকে তার অবস্থা দেখে ইরফান, অর্জুন, রুদ্র আর রাতুল হাসতে থাকে। আদিত্য তাদের দিকে ইশারা করে যাতে কেউ একজন এসে এর হাত থেকে বাঁচায়। অনেকক্ষন হওয়ার পর রাতুল এসে আরমিণ এর হাত নিজের কাঁধে নিয়ে নাচতে থাকে যাতে আদিত্য এর থেকে ছুটকারা পেতে পারে।

--

রেদোয়ান কুদ্দুস কে ইশারা দেয় যে তাদের শরবত কই কুদ্দুস ফিসফিস করে বলে

" শরবত কাউন্টার এ রেখেছে চলো গিয়ে খেয়ে আসি চুপি চুপি কেউ না জানার আগে। রেদোয়ান মুচকি হেসে কুদ্দুস কে নিয়ে শরবত কাউন্টার এ চলে যাই সেখানে গিয়ে একটা দেশী মদের বোতল থেকে অনেক গুলো গ্লাসে ঢালতে থাকে যাতে কেউ বুঝতে না পারে তারা মদ খাচ্ছে।

কিন্তু ঝামেলা হলো এখানে তিথি রাগ কমানোর জন্য একটু কোল ড্রিংকস খেতে এসেছিলো সামনে এতো গুলো গ্লাস দেখে আর কিছু না ভেবে একটা তুলে নিমিষেই খেয়ে নেয়।

কুদ্দুস আর রেদোয়ান একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে তারা কি বলবে ভেবে না। তখন আবার সেখানে স্নেহা এবং মুগ্ধ ও চলে আসে এইবার ও রেদোয়ান আর কুদ্দুস কিছু বুঝার আগে স্নেহা আর মুগ্ধ একটা একটা গ্লাস তুলে নিয়ে খেতে থাকে।

রেদোয়ান আর কুদ্দুস এর তো প্রায় কান্নার করার অবস্থা কী হবে এখন তাদের।

স্নেহা, তিথি আর মুগ্ধ কিছুটা হলেও মদের নেশায় টলে রয়েছে।

মুগ্ধ একটু মুচকি হেসে আরো কয়েকটা গ্লাস খেয়ে নেয়।

শরবত কাউন্টার এ এদের দেখে আদিত্যর বন্ধুরা চলে আসে শরবত খেতে। ইরফান তিথিকে জিজ্ঞাসা করে "শরবত কেমন"

তিথি মাথা নাড়িয়ে মাতাল এর মতো করে বলে

" অনেক... ভালো "

ইরফান, অর্জুন, রুদ্র আর রাতুল আগ্রহী হয়ে তারাও একটা একটা গ্লাস তুলে খেয়ে নেয়।

কুদ্দুস পারছে না এখানে বসে ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে কেঁদে দেয় তারা দুজনের ও প্রায় নেশা ধরে গেছে।

ইরফান টলতে টলতে শাউন্ট বক্স এ গান লাগিয়ে দেয় এবং বাকিদের আসতে বলে।

স্নেহা, তিথি, কুদ্দুস, রেদোয়ান, মুগ্ধ, অর্জুন, রুদ্র, রাতুল সবাই টলতে টলতে ডান্স ফ্লোরে এসে পড়ে বাকি সবাই হা হয়ে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।

তাদের অবস্থা দেখে আদিত্য বুঝে যায় ঘটনা কি হয়েছে তার রাগে মাথা ফেটে যাচ্ছে কিন্তু এইদিকে ইরফান খান চালু করে দেয়

তিথি স্নেহা, রেদোয়ান, কুদ্দুস, মুগ্ধ আর বাকি আদিত্যর বন্ধুরা গোল হয়ে যাই যেই গান শুরু ওমনি শুরু হয়ে যাই তাদের নাচ

——

Anan Ta Pad Chaye Apad Ti Te Tena Apad Ti Ya Apad Ti Te Teku Apad Ti To Apad Ti Kud Kud Kud Apad Cha Ye

❌

Ranu Bombay Ki Ranu Ranu Bombay Ki Ranu Ranu Gaa Jathara Nenu Ranu Nenn Aagam Gaanu

———

সবাই হা হয়ে দেখে চলেছে এই পাগলদের কান্ড তুর্য খান, ইকবাল খান ও রিপন খান লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে সাথে তাদের হাসি ও পাচ্ছে ভীষণ। রেদোয়ান এর অবস্থা দেখে তাহামিনা মুখ চেপে ধরে হাসছে।

আদিত্য ডান্স ফ্লোরে গিয়ে সবাইকে হুশে আনতে থাকে কিন্তু তারা তো এখন মাতাল তারা মাতলামো করছে।

আদিত্য এক এক করে তার বন্ধুদের রুমের ভিতর নিয়ে শুইয়ে দেয় শেষে মুগ্ধ, রেদোয়ান আর কুদ্দুস কেও রেদোয়ান এর রুমে শুইয়ে দেয়।

আদিত্য জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকে ওইদিন আরো দুই পাগলি পাগলামো করতে থাকে আদিত্য স্নেহা কে নিয়ে তার রুমে সুন্দর করে ঘুম পাড়িয়ে দেয়।

এইদিকে তিথি টলতে টলতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আজে বাজে বকতে থাকে আদিত্য দেয়ালে হেলান দিয়ে মুচকি হেসে দেখতে থাকে বিয়াদপ বেড়ির বিয়াদপির পাগলামো হঠাৎ তিথির পা স্লিপ করে পড়ে যেতে নিলেই পেছন থেকে গালিব এসে তাকে ধরে ফেলে।

আদিত্যোর চোখ জ্বলে উঠে। তিথি গালিবকে নেশার ঘোরে আদিত্য ভেবে জরিয়ে ধরে গালিব তিথি কে আগলে নেয় । তিথির নাকে গালিব এর পারফিউম এর ঘ্রাণ নাকে যায় তিথি সঙ্গে সঙ্গে গালিবকে দূরে ঠেলে দিয়ে বলে

" এই কে তুমি আমাকে জরিয়ে ধরেছো তোমার পারফিউম এর ঘ্রাণ তো অন্যরকম কেন ?

তুমি কিছুতেই আমার আদিত্য ভাই হতে পারো না দূরে যাও আমাকে স্পর্শ করবে না একদম ! আমাকে স্পর্শ করার অধিকার শুধু মাএ আমার আদিত্যোর বলে সামনে দিকে টলতে টলতে হাঁটতে থাকে"।

তিথি টলতে টলতে আদিত্যের রুমে চলে যাই ওমনি খপ করে আদিত্য তিথির হাত ধরে টেনে নিয়ে দেয়ালের সাথে জোরে চেপে ধরে যাতে তিথি ব্যাথা পায়।

তিথি কিছুটা ব্যাথা পেয়ে বলে

" সরুন ব্যাথা লাগছে"

আদিত্য দাঁতে দাঁত চেপে বলে

– আমি ধরলেই তোর ব্যাথা লাগে কই তখন তো ওর বুকে টলে পড়ছিলি খুব ভালো লাগে তাই অন্য ছেলের বুকে ঢলে পড়তে

তিথি আদিত্যর পারফিউম শুঁকে বুঝতে পারে এটা তার আদিত্য ভাই তখন হঠাৎ তার মাথায় আরমিণ এর কথা আসে এবং রাগে গিজগিজ করতে করতে আদিত্যোর ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দেয় ।

আদিত্য ব্যাথায় চোখ বন্ধ করে ফেলে তবুও তিথি কে ধাক্কা দিয়ে সরায় না।

নোনতা জাতীয় কিছু মুখে লাগতেই তিথি সরে আসে এবং দেখে যেখানে কামড় দিয়েছে সেখান থেকে রক্ত পড়ছে। তিথির চোখে পানি চলে আসে সে আদিত্যের ঘাড়ে ঠোঁটের হালকা স্পর্শ দিয়ে বলে

" খুব বেশি লেগেছে? "

আদিত্য মাথা নাড়ায় অথাৎ তার লাগে নি ।

আদিত্য তিথির কাজল আঁকা চোখ থেকে কাজল মুছে দিয়ে বলে

" আর কখনো এইভাবে চোখে কাজল দিবি না ঠিক আছে "

তিথি পা একটু উপর করে আদিত্যর ঘাড়ে দুই হাত গলিয়ে দিয়ে তার মুখের সামনে এসে বলে

" হুম আর কখনো পড়বো না"

বলে ব্যালেন্স হারিয়ে পড়ে যেতে নিলেই আদিত্য কোমড় আঁকড়ে ধরে ।

এইবার তিথির ঠোঁটের লাল লিপিষ্টিক মুছে দিয়ে বলে

" আর কখনো এইভাবে লাল টকটকে লিপিস্টিক দিবি না "

তিথি আবার মাথা নাড়িয়ে জানাই সে আর কখনো লাল লিপিষ্টিক দিবে না।

তিথি প্রায় ডুলু ভুলু অবস্থা তাই আদিত্য তিথি কে তার রুমে নিয়ে যাওয়ার জন্য কোলে তুলে নেয় ।

তিথি আদিত্যর বুকে কিল ঘুষি মারতে মারতে বলে আমাকে নামিয়ে দিন আপনার সাথে আমার কথা নেই কিন্তু আর কিছুই বলতে পারে না আদিত্য ওই ভয়ঙ্কর ঘোলাটে লাল করে রাখা চোখে।

আদিত্য তিথি কে কোলে তুলে নিয়ে তিথির রুমের দিকে যেতে থাকে তিথির হঠাৎ করে চোখ লেগে যায় ঝিমুতে ঝিমুতে আদিত্যের বুকে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।

আদিত্য তিথির মাথায় হালকা চুমু খেয়ে গুনগুন করে গাইতে থাকে

—————

আদো ঘুমের ঘোরে, আর এ আদরে

চেনা স্বপ্ন হলো অচেনা...!!

তোকে বলবো ভাবি, কিছু অল্প কথায়। তুই স্বপ্নে ছিলি, ছিলি গল্প কথায়....!!

আজ তোর নামে রাত নামে , দিন কেটে যায়। আমার মন তোর পাড়ায়....!!

এসেছে তোরই আস্কারায়। আমার মন তোর পাড়ায়, এসেছে তোরই আস্কারায়.....!!

—————

আদিত্য তিথির দিকে তাকিয়ে দেখে কেমন তার বুকে বাচ্চাদের মতো ঘুমিয়ে আছে তার রেড চেরি । আজকে একদম তাকে টসটসে লাল রেড চেরির মতো লাগছে। আদিত্য তিথিকে বিছানায় শুয়ে দিয়ে তার কানে ফিসফিস করে বলে

" আমাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছিস বিশ্বাস কর আমার ধ্বংসকারী যদি তুই হোস আমি নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যাবো রে , তোকে ছাড়া বাঁচার এক বিন্দু পরিমাণ ও ইচ্ছা ও শক্তি এই আদিত্যোর নেই" ।

আদিত্য উঠে যেতে নিলেই খপ করে আদিত্যের হাত তিথি ঘুম ঘুম চোখে ধরে ফেলে বলে

– আদিত্য ভাই ??

আদিত্য তিথির দিকে তাকিয়ে বলে

– হুমম

তিথি হালকা ঘুম ঘুম চোখে খুলে বলতে থাকে

" আমার মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেন "

আদিত্য তিথির মাথার পাশে বসে তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় তখন তিথি আবার বলে উঠে

" আপনি কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেন না বলে দিলাম কিন্তু "

আদিত্য তিথির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল

" আচ্ছা "

তিথি আদিত্যের চোখের দিকে তাকিয়ে বলে

" সত্যি সত্যি কিন্তু বলছি আপনি কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেন না কোথাও বলুন কোথাও যাবেন না"

তিথির নেশার ঘোরের কথায় সায় জানিয়ে আদিত্য মাথা নাড়িয়ে বলে

" হুম যাবো না "

তিথি এইবার নিশ্চিন্তে চোখ বুজে ঘুমের অতলে হারিয়ে যাই ।

তিথির গায়ে কাঁথা টেনে দিয়ে তার কানে কানে ফিসফিস করে বলে

— চন্দনের সুভাষে ঢাকিয়া রাখবো তোকে এই বুক পিঞ্জরাই ......!!

আদিত্যের বউ হয়ে আসবি যখন এই পাষাণ মনের দ্বারগড়ায়.....!!

আদিত্য উঠে চলে যেতে নিলেই দেখে সোফায় লুসি ঘুমিয়ে আছে তাকেও একটা কাঁথা দিয়ে ডেকে বলতে থাকে

" তোর মালিক তো মদ খেয়ে মাতাল হয়ে তোর খবর ভুলেই গেলো বলে রুম ত্যাগ করে "

চলবে ~

( বিশাল বড় পর্ব দিয়েছি তাই রেসপন্স করবেন ভালো করে আর বিশাল বড়ো করে একটা মন্তব্য করবেন আদিত্য আর তিথির জন্য তাদের কেমন লাগছে আপনাদের?? 😁)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন