#আনাস্তাসিয়া
#লেখিকা_সামিয়া
#পর্বঃ১
রাশিয়ার মস্কো শহরের শেষ প্রান্তে এক বিশাল জঙ্গলের মাঝে একটি বিশাল রাজপ্রাসাদের মত ৭ তলা ভবন। যার সামনে বিশাল এক গাডেন যার একপাশে শারিশারি ফুল ও ফলের গাছ।আরেক পাশে রয়েছে বিশাল বড় এক সুইমিং পুল।ভবনটি চায় পাশে বিশাল পাঁচিল দ্বারা আবদ্ধ। রাজকীয় এক বিশাল সদর দরজা থেকে শুরু করে পুরো ৭ তলা ভবনটিকে ঘিরে রেখেছে কালো পোশাক পরিহিত রাইফেল ও রিভলবার হাতে ধরে রাখা বডিগার্ড। এই ভবনের প্রতিটি কোনায় লাগানো আছে অসংখ্য হিডেন ক্যামেরা। ভবনটি কালো রং দিয়ে আবদ্ধ। পুরো ৭ তলা ভবনটি সাজানো রয়েছে আধুনিক সব আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতি দ্বারা। এই ভবনেরি ২ তলায় একটি কালো অন্ধকার ঘরে আরামদায়ক চেয়ারে পায়ের উপর পা তুলে চোখ বন্ধ করে বসে আছে একটি মেয়ে। যার এক হাতে রিভলবার আর উপর হাত কপালে উপরে ঠেকানো। যার পরনে ব্লেক সট ব্জিন্স প্যান্ট যা হাঁটুর উপর পর্যন্ত ও হুয়াইট টপস আর লম্বা কোট। যা এই মুহূর্তে রক্তে লাল হয়ে আছে। আর পায়ে ব্লেক কালার বুট র্শু। শরীরে থাকা পোশাক থেকে রক্ত চুইচুই করে পরছে। মাথার লাল কালার চুল গুলো স্টাইলিশ ভাবে ঝুটি করা যা হাঁটুর সমান লম্বা। গায়ের রং ধবধবে ফর্সা ।ঠোঁট গুলো গোলাপি যাতে হাল্কা লিপবাম লাগান ফলে ঠোঁট গুলো দেখতে গোলাপের পাপড়ির মত রসালো লাগছে । তার পাশে রিভলবার হাতে দাঁড়িয়ে আছে ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি লম্বা এক সুদর্শন যুবক। যার পরনে কালো জিন্স প্যান্ট কালো টিশার্ট ও কালো জ্যাকেট পায়ে কালো বুট। আর বাম হাতের কব্জি তে কুমিরের চামড়ার স্মার্ট ওয়াচ। গায়ের রং উজ্জল ফর্সা ঠোঁট গুলো সিগারেটে পোড়ার কারণে কালচে বাদামী রং ধারণ করেছে। গোল্ডেন ব্রাউন চুল গুলো স্টাইলিশ ভাবে কাটা। চোখের ভেতরের মনি গুলো ধুসর ছাই রঙের। পিটান শরীরে জিম করা বডি। তাদের দুজনের সামনে ছিন্নভিন্ন করে খুবলে খাওয়া তিনটি পুরুষের লাশ। লাশ গুলোর খুবি বিচ্ছিরি অবস্থা। তিনটি লাশেরি চোখ গুলো খুবলে উঠান হাত গুলো বাহু থেকে আলাদা করা। হাতের নখ গুলো উঠান লাশ তিনটি দেহ ছিন্নভিন্ন করে কলিজা বের করে নেওয়া হয়েছে। কক্ষের দেয়াল জুড়ে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র দা কুড়াল চাপাতি আর সব আধুনিক অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি। কক্ষের নিরবতা ভেঙ্গে কপাল থেকে হাত নামিয়ে চোখ খুললো চেয়ারে বসে থাকা অতি সুন্দর রমনি মেয়েটি। চোখ খুলতেই ভাসমান হলো তার রক্তের মতো লাল রঙের চোখের মণি দুটো। চোখ দুটো যেন শিকারি বাঘিনীর নেয় হিংস্র। মেয়েটি গম্ভীর কণ্ঠে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন যুবকটিকে জিজ্ঞেস করে বললো: আমান তুমাকে আমি যে কাজ দিয়েছিলাম তা কমপ্লিট হয়েছে।
রিয়ান আহমেদ আমান গম্ভীর কণ্ঠে জবাব দিয়ে বললো,
__ "জি আনাস্তাসিয়া, ওই আশরাফ শেখ এর বেপারে সব ইনফরমেশন কালেক্ট করা হয়ে গেছে।"
আরশিতা আহমেদ আনাস্তাসিয়া ঠোঁটে বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,
__"গুড।"
বলেই বাম হাতটা বাড়িয়ে দিলো আমান একজন গার্ডকে ইশারা করতেই গার্ডটি একটি আই পেট এনে আমানের হাতে দিতেই সে একটি ফাইল বের করে আনাস্তাসিয়ার হাতে দিল। আনাস্তাসিয়া আইপেটি নিয়ে দেখতে লাগলো আর আমান ভাড়ি ও গম্ভীর কণ্ঠে বলতে লাগলো,
__"আশরাফ শেখ SK গ্ৰুপ অফ ইন্ডাস্ট্রির মালিক তার কম্পানির আরালে চালায় কালো টাকার লেনদেন মেয়ে পাচারের ব্যবসা। ড্রাগ হিরয়িন ও বিভিন্ন নেশার দ্রব্য পাচারের ব্যবসা ছড়িয়ে আছে রাশিয়া ছাড়া ও বাইরের দেশে। তার একটি সুন্দরী মেয়ে আছে নাম আইরিন শেখ নিদ্রা। বহু বছর ধরে দেশের বাহিরে থেকে পড়াশোনা করছে। তার ছোট ভাই হাসিবুল শেখ আর তার ছেলে শীশীর শেখ তার এই কালো ব্যবসার দেখা শুনা করে। শুনেছি আর একটা ছেলে ও আছে কিন্তু তার সম্পর্কে কোন ডিটেইল পাওয়া যায় নি। আমাদের স্নাইপার টিম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন তার সম্পর্কে কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি।"
আমান এর কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিরক্তি তে 'চ' উচ্চারণ করল আনাস্তাসিয়া। রাগি কন্ঠে বললো,
__"ফা****কিং ইউর এক্সপ্লেইন।এট এনিকস্ট আমার আশরাফ শেখের ছেলের বেপারে সব ইনফরমেশন চাই। গট ইট।"
বলেই হাতে থাকা আইপেটি পাশে থাকা টেবিলে ছুড়ে ফেলে দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। গম্ভীর কণ্ঠস্বরে বলে,
__"লাশ গুলো খাঁচায় বন্দী কুকুরদের দিয়ে দেও।"
বলেই কক্ষ থেকে বের হওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই পিছন থেকে গম্ভীর কণ্ঠে ভেসে এলো,
__"টনি আবার তার লোকেদের নিয়ে আমাদের ৪ টা ট্রাক আটক করেছে। যাতে পাঁচ শত কোটির বেশি টাকা ড্রাগ,আধুনিক অস্ত্র ছিল।"
আমান এর কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাগে আনাস্তাসিয়া পাশে থাকা টেবিলে জরে একটা লাথি মারলো। সঙ্গে সঙ্গে কাঁচের টেবিলটা ভেঙ্গে চুন্নবিচুন্ন হয়ে কাঁচ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রইলো ফ্লোরে। রাগের চোটে চিৎকার করে বললো,
__"ফা***কিং বিচ। শালা বহুত বার বেড়েছে। আরশিতা আহমেদ আনাস্তাসিয়াকে এখন চেনেনা। শালার ডানা কি করে ছাঁটতে হয় তা আরশিয়া আহামেদ আনাস্তাসিয়া খুব ভালো করেই জানে।"
তার পার ঘার কাত করে আমান এর উদ্দেশ্যে বললো,
__"ফাস্ট রেডি হয়ে আসো। ডানা ছাঁটতে যেতে হবে।"
ঠোঁটের কোণে বাঁকা এক শয়তানি হাসি দিয়ে কক্ষ ছেড়ে চলে গেল। তার পেছন পেছন আমান যাওয়ার আগে একটা গার্ড কে ইশারায় লাশ গুলো দেখিয়ে সেও কক্ষ ত্যাগ করলো। তিন তলার লিফলেট দরজা টুং শব্দ করে খুলে যায়। বেরিয়ে আসে আনাস্তাসিয়া তার পেছন পেছন আমার। সোজা হেঁটে গিয়ে সামনে আধুনিক দরজার সামনে দাঁড়িয়ে পাসওয়ার্ড দিতেই পিপি শব্দ করে খুলে যায়। ভাসমান হয় বিশাল এক লিভিংরুমে। যা সম্পূর্ণ কালো এবং লাল থিমে সজ্জিত। লিভিংরুম এর মাঝখানে এক বিশাল বড় চাওরা সোফা। দুই পাশে দুটো সিঙ্গেল সোফা। মাঝখানে একটি কাঁচের টি-টেবিল। টি-টেবিল এর উপর মাঝখানে একটি এন্টিক ফুলদানি। সোফা থেকে সামনে তাকালে রয়েছে বিশাল বড় এক আধুনিক মনিটর তার পাশেই বারো ইঞ্চি টিভি। পুরো লিভিংরুম চারপাশ ঘিরে সাজানো রয়েছে আধুনিক এবং এন্টিক জিনিস পত্র দ্বারা সাজানো। লিভিংরুম এর মাঝখান দিয়ে লাল কালো রঙের সংমিশ্রণে আধুনিক ডিজাইন করা কাঁচের শিরি সোজা উপরে উঠে গেছে। শিরির ডান পাশে রয়েছে একটি আকর্ষণীয় বার কাউন্টার। সামনের টেবিলে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের মদের গ্লাস ।পেছনের সুপিছে সাজানো আছে দেশি-বিদেশি ব্যান্ডের ইম্পটেড ওয়াইল্ড ও বিভিন্ন ধরনের পানীয়। ডান পাশের দেওয়ালে বিশাল বড় এক কালো রঙের এনাকন্ডার ছবি যার চোখ এবং দাঁত গুলো চকচক করছে। যে কেও দেখলে ভয় পেয়ে যাবে। লিভিং রুম এর মাঝ বরাবর মাথার উপরে এক বিশাল বড় ড্রাগনের ঝাড়বাতি। শিরির বাম পাশে এক বিশাল বড় আধুনিক কিচেন। যার মধ্যে রান্না করার সকল আধুনিক যন্ত্রপাতি আছে। কিন্তু কিচেনটা দেখে মনে হয় না যে এখানে আদেও কোন দিন রান্না বান্না হয়েছে। আনাস্তাসিয়া কোন দিক না তাকিয়ে সোজা উপরে ডান পাশের বিশাল বড় রুমটায় চলে গেল। রুমটি লাল কালো রঙের কম্বিনেশনে সাজানো। রুমটি তে ঢুকলেই ডান পাশে বিশাল বড় বৃত্ত আকৃতির কালো চাদর বিছানো ব্লেক কালার রাউন্ড বেড। যার চার পাশে বড় বড় স্টেন্ড এর মধ্যে লাল রং এর পর্দা ঝুলানো।যা স্টেন্ড এর সাথে ব্লেক কালার বেল্ট দাঁড়া গুছিয়ে এক সাইডে বাঁধা। বেড এর দুই পাশ ব্লেক পান্ডার দুটো টেডিবিয়ার। তার দুই পাশে ড্রয়ারে উপরে রাখা দুটো টেবিল ল্যাম্প। বেড এর মাঝ বরাবর 3D পাইথন এর ভয়ংকর পেইন্টিং। গারো সবুজ চোখ জোড়া দেখলে মনে হয় যেন জীবন্ত। হা করা মুখটার দুই পাশের লম্বা শুচাল দাঁত দুটো চিকচিক করছে। লম্বা জিভটা খানিক বের হয়ে থাকা মানে হচ্ছে এখনি ছবল মারবে বেড থেকে নামলে ডান দিকে এক মস্ত বড় বেলকনি। বেড রুম এর দরজার থেকে বাম পাশে বড় আয়না যুক্ত আধুনিক ডিজাইন করা ড্রেসিংটেবিলের। যার মধ্যে সাজসজ্জার অসংখ্য মেকআপ প্রডাক্ট রয়েছে। পাশে একটি দরজা যা দিয়ে ঢুকলে বিশাল বড় একটি আকর্ষণীয় ওয়াশরুম। আনাস্তাসিয়া রুমে ঢুকেই সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল। ওয়াস রুমে ঢুকতেই ডান দিকে বিশাল আকারের বাথটাব। বাথটাবের পানির মধ্যে গোলাপের পাপড়ি দ্বারা সাজানো। ওয়াশরুম এর বাম দিকে বড় আয়না যুক্ত আধুনিক ডিজাইন করা বেসিক তার পাশে কিছুটা দুলে শাওয়ার। আনাস্তাসিয়া শাওয়ারের নিচে দাঁড়িয়ে দৃঘ এক শাওয়ার নেয়। শাওয়ার নেওয়ার সময় তার ঘাড়ের আর্টিস্টিক স্টাইলে রোজ এন্ড স্নেকের খুব নিখুঁত ভাবে ডিজাইন করা টেটুটি উজ্জ্বল ভাবে ফুটে উঠেছে। যা দেখতে খুবি আর্কষনীয় ও ভয়ংকর লাগছে। শাওয়ার শেষে সাদা টাওয়াল পেঁচিয়ে বেরিয়ে এলো। ওয়াশরুম এর ডান দিকের একটি দরজা দিয়ে ঢুকতেই একটি বিশাল বড় রুম। রুমের ভেতরে বড় বড় কাবাডে পুরোটা জুড়েই বিভিন্ন ধরনের পোশাক,জুত, জুয়েলারি এগুলো দিয়ে ভর্তি। যা সুন্দর করে কাবাড গুলোতে সাজানো। আনাস্তাসিয়া কাবাড থেকে একটি ড্রেস বের করে পড়ে নে চুল গুলো সুন্দর করে বেঁধে হাল্কা মেকআপ করে জুত পরে রেডি হয়ে নিচে নেমে আসে।এসে দেখে আমান কালো ফর্মাল ড্রেসআপে তৈরি হয়ে পায়ের উপর পা তুলে আরাম করে গা এলিয়ে চোখ দুটো বন্ধ করে বসে আছে। তার পরনে কালো কোট পেন্টি ভেতরে কালো শার্ট।হাতে স্মার্তাট ওয়াচ। আনাস্তাসিয়া আমানের দিকে তাকিয়ে খুবি স্বাভাবিক কন্ঠে বলে,
__"এ'ম রেডি। লেসগো।"
আনাস্তাসিয়া কন্ঠ শুনে আমান চোখ খুলে উঠে দাঁড়ায়। তার পর দু জনে এক সাথে বের হয়ে যায়।
________________________
রাশিয়ার মস্কো শহরে শীতের তীব্রতা এবং তুষার পাতের ফলে আঁধার নামতে না নামতেই পুরো শহর নিস্তব্ধতা নেমে এসেছে। কিন্তু এই নিস্তব্ধতার শহরের মাঝেও ক্লাবের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। অন্ধকার জগতের সকল কালো ব্যবসায়ী এবং মাফিয়াদে আনাগোনা হয় এখানে। লাল নীল হলুদ সবুজ গ্লীটারি আলোয় জ্বলে উঠেছে সমগ্র মাফিয়া ক্লাবে। চারিদিক থেকে ভেসে আসছে ইংলিশ মিউজিক। মিউজিক এর তালে তালে কিছু ছেলে মেয়ে পা মিলিয়ে এক সাথে ড্যান্স করছে। চারিদিকে ম ম করছে রেড ওয়াইন আর স্ন্যাক্সের ঝাঁজালো সুঘ্রাণ। ফ্রন্ট গেইটের সামনে বিস্তৃত লাল গালিচা পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছে একের পর এক নামি দামী গাড়ি। গাড়ি গুলোকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য গেইটের কাছে দাঁড়িয়ে আছে একঝাঁক সুন্দরী রুশ তরুণী। তাদের আবেদনময়ী পোশাক আর দাঁড়িয়ে থাকার ভঙ্গিমা যে কোন মাফিয়ার মনে কামনার ঢেউ তুলে দিতে সক্ষম। দেশি-বিদেশি আন্ডার গ্ৰাউন্ড সহিংস মাফিয়াদের আসর বসেছে মাফিয়া ক্লাবে। শহরের নিস্তব্ধতা ভেদ করে একেরপর এক গাড়ি এসে থামলো রেড ওয়াইন নামক এই মাফিয়া ক্লাবটিতে। এক এক করে গাড়ি দরজা খুলে নেমে এলো কালো পোশাকে অস্ত্র হাতে অসংখ্য বডি গার্ড। একজন গার্ড এসে কালো মারসেডিস এর দরজা খুলে দিল। গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো এক সুন্দরী রমণী আনাস্তাসিয়া। আনাস্তাসিয়া গাড়ি থেকে নেমে গার্ড দের ইশারায় চারিদিকে ছড়িয়ে যেতে বললো। তার পর সোজা ক্লাবের ভেতরে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল। আচমকা সামনে কিছুর সাথে ধাক্কা খেল। ধাক্কা খাওয়ার কারণে ভ্রু কুঁচকে বিরক্তি তে 'চ' উচ্চারণ করে,
__ "ডিসকাস্টিং এখানে খাম্বা কে রেখেছে।"
আনাস্তাসিয়ার কথা শেষ হতে না হতেই এক পুরুষালী গলার কন্ঠ ভেসে এলো,
__ আই এ'ম নট খাম্বা ওকে।
কথাটি শুনেই আনাস্তাসিয়া ভ্র কুঁচকে সামনে তাকাতেই দেখতে পেল তার সামনে একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে। যার পরনে কালো কোট পেন্ট রেড সার্ট আর ব্লেক ফর্মাল শু। কোটে বাম পাশে লাগানো রেড ডাইমন দিয়ে ডিজাইন করা পিন। ব্রাউন কালার চুল স্টাইলিশ ভাবে কাটা। ফর্সা মুখে ভ্রু দুটো কুঁচকানো। বাম ভ্রু থেকে মাথার চুল পর্যন্ত লম্বা দাগ কেটে ডিজাইন করা। পেটানো শরীর জিম করা বডি। সমুদ্র নীল চোখ ক্লিন শেভ করা মুখ। ছেলেটি তার দিকে মুগ্ধ ভাবে তাকিয়ে রয়েছে।
আনাস্তাসিয়ার পরনে রয়েছে গোলাপের পাপড়ি মতো ডিজাইন করা শোল্ডার লেস রেড কালার সট ড্রেস যা হাঁটুর উপর পর্যন্ত। লাল চুল গুলো স্টাইলিশ ভাবে ঝুটি করা। মুখের সামনে বেবি হেয়ার গুলো বেরিয়ে আছে। ঠোঁটে রেড লিপস্টিক আর পায়ে সবুজ রঙের কাঁচের ৬ ইঞ্চির হিল।
ছেলেটি তার আগুন এর মতো লাল চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ হালকা কন্ঠে বলে উঠল,
__"blood rose।"
__ "what ? you r........
__"what happened?"
বাক্যটি শেষ করার আগেই আমান এর কন্ঠ শুনে আনাস্তাসিয়া পেছনে তাকাতেই দেখতে পেল আমান এই দিকেই আসছে। আমানকে দেখেই আনাস্তাসিয়া তার দিকে চলে যেতে যেতে বললো,
__"nothing।"
আনাস্তাসিয়ার চলে যাওয়ার দিকে ছেলেটি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। হঠাৎ কেউ তার কাঁধে হাত রাখতেই তার ধেন ভেঙ্গে গেল। পাশে তাকাতেই দেখতে পেল তার বন্ধু দাঁড়িয়ে আছে। তার বন্ধু ভ্রু নাচিয়ে জিজ্ঞেস করল,
__ "ওয়াট হ্যাপেন্ড ব্রো। এভাবে কি দেখছিস।"
__"নাথিং। চল লেট হয়ে যাচ্ছে।"
অতঃপর দুজন আর কোন বাক্য ব্যায় না করে ক্লাবের ভেতরে চলে গেল। _______________________
রেড ওয়াইন ক্লাবটি দশ তলা বিল্ডিং এর দুই তলায় অবস্থিত। এটি দশ তলার একটি আলিশান হোটেল। এটি আনাস্তাসিয়ার বাকি সব ক্লাব এবং হোটেল এর মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয়। অতঃপর আনাস্তাসিয়া আর আমান ভেতরে প্রবেশ করতেই, একজন সুন্দরী রমণী এসে তাদের সামনে একটি থালা ধরে। যার মধ্যে মখমলের কাপড় বিছিয়ে পার্টি মার্ক্স রাখা। আমান আর আনাস্তাসিয়া দু'জনেই একটি করে মার্ক্স তুলে নিয়ে চোখে বেঁধে নেয়। তারপর রমনী মেয়েটা চলে যায়। আনাস্তাসিয়া চারিদিক লক্ষ্য করে বলে,
__"You keep an eye on Tony's people. I'm watching this side."
__"ok.".
কথাটি বলেই আমান চলে গেল। অতঃপর আনাস্তাসিয়া একবার চারিদিক লক্ষ্য করে, নিজের বরাদ্দ জায়গায় গিয়ে সোফায় পায়ের উপর পা তুলে বসে পরলো। আনাস্তাসিয়া বসতেই তার কাছে একজন ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করল,
__" ma'am what is your order."।
__"one Virgin Mojito."।
__"Do you need anything else, ma'am?"।
__"no,thanks".
__"ok,ma'am".
ওয়েটার আর কিছু না বলে চলে গেল। অতঃপর কিছুক্ষণ এর মধ্যে ওয়েটারটি অর্ডার নিয়ে চলে আসল। সামনে রাখা টেবিলে উপর ড্রিংকস এর গ্লাসটি রেখে বলে,
__" enjoy your drink ma'am". আনাস্তাসিয়া কোন বাক্য ব্যায় না করে ড্রিংকস এর গ্লাসটি হাতে নিয়ে এক চুমুক দিল। ওয়েটারটিও নিজের কাজে ফেরত চলে গিয়েছে। আনাস্তাসিয়া এক দৃষ্টিতে সামনে তাকিয়ে রইল। কারণ তার থেকে কিছু দূরে টনি বসে ড্রিংকস করছে,আর দু'ট মেয়ে তাকে সার্ভিস দিচ্ছে। আনাস্তাসিয়া বাঁকা হেসে এক দৃষ্টিতে সব কিছু লক্ষ করে যাচ্ছে।
______________>>>>>>>>>>>>___________
বার কাউন্টার এর কাছে বসে ড্রিংকস করছে আর আড্ডা দিচ্ছে চার পাঁচ জন ছেলে । তাদের মধ্যে থেকে নীল চোখের ছেলেটি হঠাৎ পাশে তাকাতেই থমকে গেল। এক দৃষ্টিতে কিছু দূরে বসে থাকা এক রমনী কে দেখে তাকিয়ে থাকল। তার দৃষ্টি যেন থমকে গেছে । তার থেকে কিছু দূরে বসে আছে আনাস্তাসিয়া। তাঁকে দেখেই তার বুকে বা পাশে হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। চারিদিক যেন থমকে গেছে, সে এরকম অপরূপ সৌন্দর্য যেন আগে দেখেনি। মনে হচ্ছে এই পৃথিবীর সবথেকে অপরুপ সুন্দরী রমণী যেন তার সামনে বসে আছে। সে ঘোর লাগা এক মোহনীয় দৃষ্টি মুগ্ধ ভাবে তাকিয়ে রয়েছে। মুহুর্তেই তার হৃদয় যেন তার কাছে ছুটে যেতে চাইছে।
__" ওয়াট রং ব্রো? ওই দিকে কি দেখছিস"।
__" উহু কিছু না"।
তাদের কথা শেষ হতেই পাশ থেকে আরে জন বিরক্তি ভরা কন্ঠে বলে উঠল, __" শালা বালের পার্টি হচ্ছে এখানে।কি তখন থেকে
ইংলিশে বালের পেন পেনানি মিউজিক বাজাচ্ছে, ধুর আর ভাল্লাগে না।এই আদ্রিয়ান একটা গান গা না।
ছেলেটি কথা শুনে বাকিরাও তাল মিলিয়ে নীল চোখ আলা ছেলেটিকে বললো,
__"ইয়েস আদ্রিয়ান ব্রো একটা গান গা না,তর মতো অতো সুন্দর গান কে গায়ে পারে বল"। তাদের কথায় আদ্রিয়ান এর ধেন ভাঙ্গতেই তাদের দিকে তাকিয়ে বলে,
__"জাস্ট আ মিনিট"। বলেই আদ্রিয়ান চলে গেল । আদ্রিয়ান চলে যেতেই তার এক বন্ধু বললো, __" শালা এ আবার কোথায় গেল"। অতঃপর সকলে আবার আড্ডা দিতে লাগলো। আর ঐ দিকে আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার সামনে গিয়ে,তার পাশে রাখা সিঙ্গেল সোফায় বসতে বসতে বলে,
__" হেয় বিউটিফুল লেডি ওয়াট ইউর নেম"? হঠাৎ পুরুষালী কন্ঠ শুনে আনাস্তাসিয়ার ধ্যান ভাঙ্গতেই পারে তাকাতে তাকাতে বলে,
__"ওয়াট"?
অতঃপর পাশে তাকাতেই দেখল সেই নীল চোখের ছেলেটা। ঠিক তার পাশের সোফায় বসে আছে। তার চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু মুহুর্তের জন্য আনাস্তাসিয়া থমকে গেল। গভীর সমুদ্রের মতো নীল চোখ দু'ট যেন তাকে টানছে। তার ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি বয়ে গেল। কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থাকতেই আদ্রিয়ান তার সামনে হাত নামিয়ে ভ্রু নাচিয়ে দুষ্টুমি কন্ঠে বলে, __" ওয়াট হ্যাপেন্ড বিউটিফুল লেডি এভাবে কি দেখছ"।
__"Excuse me, who are you and why are you occupying this seat?"।
__" Bicos you are so hot। তাই তোমাকে দেখতে....
__" ওয়াট ননসেন্স! ওই আর মেন্টালি সীক ? আপনি জানেন আপনি কার সামনে বসে কথা বলছেন "।
আনাস্তাসিয়া রাগ দেখিয়ে কথা গুলো বললো। অতঃপর আদ্রিয়ান ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে,
__" I no that, but you are so beautiful". আনাস্তাসিয়া কিছু ক্ষণের জন্য নিস্তব্ধ হয়ে যায়। অতঃপর কিছু বলতে যাবে তার আগেই আদ্রিয়ান দুষ্টু কন্ঠে বলে উঠে,
__"আপনি কি ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)?
কথাটি শুনে আনাস্তাসিয়া বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে বলে,
__" কেন"।
__" কারণ আমি আপনার সাথে একটা সুন্দর কানেকশন অনুভব করছি"!
কথাটি শুনা মাত্রই আনাস্তাসিয়া থতমত খেয়ে গেল। অবাক হয়ে আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগল, যেখানে আন্ডার গ্ৰাউন্ড এর মাফিয়ার তার সাথে কথা বলতে ভয় পায়। তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সাহস পায় না, সেখানে একটি ছেলে তার সামনে বসে তার সাথে ফ্ল্যাট করছে। তার সাথে জীবনের প্রথম এমন হলো। আর সে ভেবে পায় না যেখানে তার রাগ হাওয়ার কথা, সেখানে এসব চুপচাপ বসে শুনছে। আদ্রিয়ান এর জায়গায় অন্য কেউ হলে হয়ত এতো ক্ষণে এখানে লাশ হয়ে পড়ে থাকতো। কিন্তু তার কেন জানিনা এসব ভালো লাগছে। তাই চুপ করে বাকিটা দেখার জন্য কিছুটা অবাক হয়ে বলে,
__" ইউ ফ্ল্যাটিং মি"?
__" নো এ'ম সিরিয়াস"।
__" bay the way,তোমার ড্রেসটা দারুণ, you have great taste! আনাস্তাসিয়া মৃলিন হেসে বলল , __" i know that, আনাস্তাসিয়াকে হাসতে দেখে আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার দিকে একটু ঝুঁকে হাস্কি শুরে বলে ,
__" তোমার হাসিটা just incredible, এবং তোমার কথা শুনলে আমার হৃদয়ে গান বেজে ওঠে। You have a very charming personality।"
আনাস্তাসিয়া চোখ ছোট ছোট করে তাকিয়ে রইল তার দিকে। সে কখনো ভাবতে ও পারেনি এমনটাও তার সাথে হতে পারে।সে যেন বিশ্বাস করতে পারছেনা। আদ্রিয়ান কিছু একটা ভেবে তার দিকে আর একটু ঝুঁকে এসে ফিসফিস করে বলে, __"জাস্ট ওয়েট এন্ড দিস ইজ ফর ইউ "।
বলেই আদ্রিয়ান স্টেজের দিকে চলে গেল। আর আনাস্তাসিয়া কপাল কুঁচকে ভাবতে লাগল এ আবার কি করতে যাচ্ছে। তার ভাবনার মাঝে একটি সুরেলা কণ্ঠে গান শুনা গেল। সে সামনে তাকাতেই দেখল আদ্রিয়ান গান গাইছে।
Pehli nazar mein
Kaise jaado kar diya
Tera ban baita hai mera jiya
Jaane kya hoga
Kya hoga kya pata
Is pal ko milke aa jee le zara
Mein hoon yahan
Tu hai yahan
Meri bahon mein aa aa bhi ja
O jaan-e-jaan dono jahan
Meri bahon mein aa bhool ja, ah-ah
O jaan-e-jaan dono jahan
Meri bahon mein aa bhool ja, ah-ah
Baby, I love you, baby, I love you
Baby, I love you, baby, I love you so
Baby, I love you, oh, I love you
I love you, I love you so
Baby, I love you
আনাস্তাসিয়া মুগ্ধ হয়ে তার গান শুনতে লাগলো। সে যেন এক অন্য জগতে হারিয়ে গেছে।তার হৃদয়ে এক অদ্ভুত অনুভূতি কাজ করছে। সে বুঝতে পারছেনা তার এই অনুভূতির কারণ। সে চোখ বন্ধ করে গানটি শুনতে থাকলো।
Har dua mein shamil tera pyaar hai
Bin tere lamha bhi dushwar hai
Dhadkanon ko tujhse hi darkar hai
Tujhse hai rahatein
Tujhse hai chahatein
Har dua mein shamil tera pyaar hai
Bin tere lamha bhi dushwar hai
Dhadhkon ko tujhse hi darkar hai
Tujhse hai rahatein
Tujhse hai chahatein
Tu jo mili ek din mujhe
Mein kahin ho gaya lapata
O jaan-e-jaan dono jahan
Meri bahon mein aa bhool ja, ah-ah
O jaan-e-jaan dono jahan
Meri bahon mein aa bhool ja, ah-ah
Kar diya deewana dard-e-khas ne
Chain cheena ishq ke ehsaas ne
Bekhayali di hai tere pyaas ne
Chaya suroor hai
Kuch to zaroor hai
Kar diya deewana dard-e-kash ne
Chain cheena ishq ke ehsaas ne
Bekhayali di hai tere pyaas ne
Chaya suroor hai
Kuch to zaroor hai
Yeh dooriyan jeene na dHaal mera tujhe na patO jaan-e-jaan dono jahaaMeri bahon mein aa bhool ja, ah-ahO jaan-e-jaan dono jahaaMeri bahon mein aa bhool ja, ah-ah
আনাস্তাসিয়া গান শুনতে থাকার সময় কিছু একটা ভেবে চোখ খুলে। অতঃপর দেখতে পায় টনি তার জায়গায় নেয়। তারমানে স্বীকার ধরার সময় এসে গেছে, ভেবেই মুখে শয়তানী একটা হাসি ফুটে উঠে। অতঃপর ফোন বের করে কাওকে একটা মেসেজ দেয়, রিপ্লাই আস্তেই জায়গা ছেড়ে চলে যায়।
ঐদিকে আদ্রিয়ান নিজের গান শেষ করে আনাস্তাসিয়ার কাছে আসে তাঁকে পায় না। তাঁকে এদি ওদিকে খুঁজেও যখন পায় না তখন সে তার কাজে ফিরে যায়।
_____________>>>>>>>>>>>>___________
মস্কো শহরে রাত গভীর হতে হতে শীতের তীব্রতা ও বেড়েছে। চারিদিকে অন্ধকার ও তুষারপাতে ডাকা। রাতের এই অন্ধকারে রেড ওয়াইন নামক ক্লাবের পঞ্চম তলায় মৃত্যুপুরীতে পুরিনত হচ্ছে। চতুর্থ তলা থেকে পঞ্চম তলা অব্দি অন্ধকারে মধ্যে শারিশারি গার্ড দাঁড়িয়ে আছে। চারিদিকে যেন নিস্তব্ধতা ছেড়ে গেছে, শুধু নিশাষের শব্দ শুনা যাচ্ছে। এই নিস্তব্ধতার আঁধার ভেদ করে খুবি ধীর পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে দু জন মানব মানবী। দুজনের হাতেই রয়েছে ধারালো বিষাক্ত নাইফ। তাঁরা সেই বিষাক্ত নাইফ দিয়ে সামনে আসা গার্ড গুলো কে একে একে মৃত্যুর কোলে ফেলে দিয়ে করিডোর দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁরা যে দিক দিয়ে যাচ্ছে সেদিকে দিয়েই লাশ গুলো বিছিয়ে পরছে। করিডোর পেরিয়ে তারা একটি কক্ষের সামনে থামলো। মানবটি দরজায় এক লাথি দিয়ে ভেঙ্গে দুজনেই ভেতরে চলে গেল। ভেতরে যেতেই দেখতে পেল একটি যুবক দুটি মেয়ে সাথে খালি গায়ে উপুড় হয়ে তাদের উপর শুয়ে আছে। মেয়ে দু'টোর গায়ে তেমন কাপড় নেই,অধ্যনগ্ন অবস্থায়। যুবকটি দরজা ভাঙ্গার আওয়াজ পেয়ে বিরক্তিতে পিছে তাকাতে তাকাতে বলে,
__" কে"।
বলেই সামনে তাকাতেই দেখল দু'টো মানব মানবীর অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মধ্যে থেকে মেয়েলী কন্ঠে ভেসে এলো, __"Твоя смерть ( তোমার মৃত্যু )। কথাটি শুনে আতঙ্কে,উঠে সামনে তাকিয়ে শুকনো ঢোঁক গিলে কাঁপা কাঁপা গলায় আমতা আমতা করে বলে, __"অ....আ...আ...আনা....আনা....আনাস্তাসিয়া..
কথাটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আনাস্তাসিয়া আর আমান শয়তানি হাসি দিয়ে ধীর পায়ে সামনে দিকে এগিয়ে যায়। বেড থেকে কিছু দূরে সামনে রাখা সোফায় আনাস্তাসিয়া পায়ের উপর পা তুলে বসে। আর আমান হাতের নাইফ পকেটে ভরে অপর পকেট থেকে রিভলবার বের করে হাতে রিভলবার ধরে তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। আনাস্তাসিয়া বাঁকা হেসে গম্ভীর কন্ঠে বলে, __" কিরে শালা টনি ভয় পেয়ে গেলে নাকি সোনা? কথা বলছো না কেন? শেষ বারের মত কিছু বলার থাকলে বলে দে, এটাই তর শেষ সুযোগ।এর পর কিছু বলতে পারবি কি না তার গ্যারান্টি নেই।
টনি কথা গুলো শুনে ভয়ে ও আতঙ্কে শুকনো ঢোঁক গিলে থাকে। তার কথা বলার শক্তি যেন হারিয়ে গেছে। কারণ সে জানে আনাস্তাসিয়া তাকে ছাড়বে না। সে আর বাবার কাছে শুনেছে আনাস্তাসিয়া যতোটা সুন্দর তার থেকে বেশি ভয়ংকর আর সাঙ্ঘাতিক। আনাস্তাসিয়া ভয়ংকর এক সাইক কিলার।আজ তার এখান থেকে বেঁচে ফিরে যাওয়া মুস্কিলি না অসম্ভব। তবুও সে ভয়ার্তক কন্ঠে বলে,
__" আ.. আমার ভুল হয়েছে, এ'ম সরি, আমি ক্ষমা চাইছি প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দেও। প্লিজ একটা লাস্ট চান্স দেও।
আনাস্তাসিয়া রাগে দাঁতে দাঁত চেপে বলে, __" ক্ষমা...হা হা হা, তুই হয়তো ভুলে গেছিস, মাফিয়ারা কক্ষনো কাওকে ক্ষমা করে না আর না কাওকে সেকেন্ড চান্স দেয়"।
কথাটি শুনে টনি আরো বেশি ভয় পেয়ে যায়। টনি ভয়ে ভয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে উঠে আসে। অতঃপর আনাস্তাসিয়ার পায়ের কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে হাত জোড় করে বলে,
__"দয়া করে আমায় শেষ বারের মত ছেড়ে দেও। আমি ভুল করেছি তোমার বিরুদ্ধে গিয়ে। আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি আমি আর তোমার বিরুদ্ধে যাব না। দয়া করো প্লিজ ।
__" দয়া মাই ফুড, আনাস্তাসিয়া কখনো কাউকে দয়া করে না। আর তুই বেঁচে থাকলে তো আমার বিরুদ্ধে যাবি। আমান ব্লেক স্যুটকেসটা আন"।
শেষের কথাটি আমান এর দিকে তাকিয়ে একটু জোরে বলে। আমান হাতের ইশারায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তাদের একজন গার্ড কে সু্টকেসটি আনতে বললো। তাদের অন্যমনস্কতার সুযোগ নিয়ে টনি, আচমকা আনাস্তাসিয়ার মুখ বরাবর আঘাত করে। আচমকা আঘাতের ফলে আনাস্তাসিয়া ছিটকে দূরে সরে যায়। অতঃপর পড়ে যেতে নিলে আমান তার বাহু শক্ত করে ধরে ফেলে। এই সুযোগে টনি পালিয়ে যাওয়ার জন্য দরজার দিকে পা বাড়ালে, আমান পিছে ঘুরে তাঁর পা বরাবর গুলি করে। টনি মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। আনাস্তাসিয়া নিজেকে সামলে পনির দিকে ঘুরে, তাঁকে জোরে একটা লাথি মেরে রাগে চিৎকার করে গর্জে উঠে,
__" ইউ মাদার ফাকার, ফাকিং বিচ। তর সাহস হলো কি করে আমাকে আঘাত করার । তকে এতক্ষন বাঁচিয়ে রাখার আমার ভুল হয়েছে।
একটু থেমে আবার বলল,
__" ভেবেছিলাম তকে বেশি কষ্ট দিয়ে মারব না। কিন্তু না তর তো তা সয্য হলো না, তোর মত কুত্তার বাচ্চাকে তো তিলে তিলে যন্ত্রনা দিয়ে শেষ করবো এখন। তুই মরতে চাইলেও মরতে পারবি না, তর মৃত্যু হবে ভয়ংকর।
কথাটি শেষ হতেই, গার্ড এসে সুটকেসটি দিয়ে যেতেই আমান সুটকেসটি খুলতে লাগল। এদিকে টনি এসব দেখে ভয়ে তার আত্মা বেড়িয়ে যাওয়ার যোগাড়। তার শরীরের রক্ত ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।সে ভয়ে কিছু বলতে ও পারছেনা। আর সে জানে কিছু বললে ও কোন লাভ হবে না। তাই সে ভয়ার্তক চোখে সামনে তাকিয়ে থাকল আর নিজের ভয়ঙ্কর মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। অতঃপর আমান সুটকেসটি খুলতেই আনাস্তাসিয়া সুটকেসটি একটি কাঁচের বোতল বের করে নিল। তারপর টনির দিকে ঘুরে, বোতলের মুখ খুলে শয়তানি এক হাঁসি দিয়ে, বোতলের ভেতরে থাকা সম্পুর্ন তরল টুকু টনির উপর ঢেলে দিল। অতঃপর টনি গ্ৰগণ কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠে।
__"আআাআাআআাআাআআ......আাআআ.....
টনি চিৎকারে পুরো রুমটি কেঁপে উঠে। তার শরীরের জায়গায় জায়গায় ঝলসে গেছে। ত্বক পুড়ে লালচে কালো হয়ে গেছে। সে চিৎকার করে আত্মনাদ করতে থাকে। তার এই যন্ত্রনার মধ্যে, আনাস্তাসিয়া আরো একটি বোতল নিয়ে তার ভেতরে থাকা সম্পুর্ন তরল টনির উপর ঢেলে দেয়।
__"নানানাআআআআআআআআআ.............
টনির শরীরের মাংস আর হার ধীরে ধীরে গলে যেতে থাকে। সে যন্ত্রনায় বারবার চিৎকার করে উঠছে। তার সর্বাঙ্গ জলে পড়ে যাচ্ছে, যন্ত্রনায় তার চোখ দিয়ে অশ্রু বেরিয়ে আসে। আনাস্তাসিয়া আর আমান তার দেখে তীপ্তির হাসি দেয়। অতঃপর আনাস্তাসিয়া ঘাড় একটু কাত করে কঠিন ও গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
__" চিৎকার করে কোন লাভ নেই, আজ এ ঘরে শুধু তর মৃত্যুর নিঃশ্বাস শোনা যাবে।
অতঃপর চিৎকার করে বলে,
__" কি ভেবে ছিলি আমার সাথে বেয়মানি করে পর পেয়ে জাবি। আজ তকে শুধু মৃত্যু দেবনা বরং ভয়ঙ্কর ও যন্ত্রণা দায়ক মৃত্যু দেব।
কথাটি বলেই একটি সুচালো শিক হাতে নিয়ে টনির দিকে এগিয়ে গেল। টনি ভয়ে আত্মনাদ করে বলে উঠলো,
__" দয়া করে আমাকে ছেড়ে দেও। আমায় মেরনা, মেরনা আমায়..আআআআআআআ আ......
আনাস্তাসিয়া তার কথায় পাত্তা না দিয়ে শিকটি তার চোখ বরাবর ঢুকিয়ে দেয়। একটানে বের করে নিয়ে আসে তার চোখ। টনি গ্ৰগণ কাঁপিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠে। অতঃপর অপর চোখ ও একই ভাবে বের করে নিয়ে আসে। টনির দুই চোখ দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়তে থাকে। এসব দেখে বিছানার এক কোনায় বসে থাকা মেয়ে দুটো ভয়ে চোখ বন্ধ করে কাঁপতে থাকে। আর ঐদিকে টনি গলা কাটা মুরগীর মত ছটফট করতে থাকে। আনাস্তাসিয়া সুটকেস থেকে একটি সাঁড়াশি বের করে, টনির ডান হাতের আঙ্গুল গুলো এঁকে এঁকে টেনে ছিঁড়ে উঠিয়ে ফেলে। টনি শুরু চিৎকার করে গলাকাটা মুরগীর মত ছটফট করতে থাকে। অতঃপর অপর হাতের আঙ্গুল গুলো ও এটি ভাবে ছিঁড়ে উঠিয়ে ফেলে দেয়। তার পর পায়ের আঙ্গুল গুলো ও এককি ভাবে উঠায় যন্ত্রনায় টনির কথা বলার শক্তি প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তবুও সে কয়েক ফোঁটা অশ্রু বিসর্জন দিয়ে কাঁপা গলায় বলে,
__" দয়া করে আমাকে মেরে ফেল, আমি আর এই যন্ত্রনা সহ্য করতে পারছি না"।
আনাস্তাসিয়া তাচ্ছিল্যের একটি হাসি দিয়ে বলে,
__" বলেছিলাম না, তুই মরতে চাবি, কিন্তু এতো সহজে তর মৃত্যু হবে না। আজ তোকে আমার হাত থেকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তোর বাপ ও না।
টনি আর কিছু বলতে পারলো না। তার আর বলার মতো শক্তি নেই। অতঃপর আনাস্তাসিয়া একটি ধারালো কুড়াল হাতে নিয়ে টনির কাছে গিয়ে বসলো। ঠোঁটে কোনে একটু হাঁসি টেনে কুড়ালটি দিয়ে তার দুই পা আর দুই হাত কেটে টেনে ছিঁড়ে শরীর থেকে আলাদা করে দিল। টনি আর চিৎকার করতে পারছেনা তার পুরো শরীর ঝাকুনি দিয়ে নিস্তেজ হয়ে গেল। আনাস্তাসিয়া এরপর তার বুকের বাম পাশে কুড়াল দিয়ে কুপাতে লাগলো। এর মধ্যেই টনির প্রাণ পাখি উড়াল দেয়। তবুও আনাস্তাসিয়া থামে না।বুকের বাম পাশে কুপিয়ে, সেখানে ক্ষতবিক্ষত করে, তার মধ্যে ডান হাত ঢুকিয়ে দেয়। তার পর কিছু একটা খুঁজতে থাকে, কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা পেয়ে গেলে সেটি টেনে বের করে নিয়ে আসে। তার পর কিছু ক্ষণ কলিজা টির দিকে তাকিয়ে থেকে শব্দ করে হেসে উঠে। অতঃপর কলিজাটি একটি বাক্সে রেখে, টনির দেহটি কুপিয়ে কুপিয়ে ছোট ছোট পিস পিস করে কাটতে থাকে। দেখে মনে হচ্ছে এজন্য কসাই কোন পশুর মাংস কাটছে। তার এই কাজের মধ্যে দরজার ওপাশে একটি ছায়া দেখা গেল। জায়গাটি একটু নড়ে বিরবির করে বলে উঠে,
__" blood rose ".
হঠাৎ আনাস্তাসিয়ার কিছু একটা মনে হতেই দরজার দিকে তাকাল। তার আগেই ছায়াটি সরে যাওয়ায় কিছু দেখতে পেল না। অতঃপর নিজের কাজে মন দিয়ে একদম নিখুঁত ভাবে পিছ পিছ করে কেটে কিছু মাংস একটি পলিথিন ব্যাগে ভরে নিল। আর কলিজা রাখার বক্স টিতে চোখ এবং হাত পায়ের আঙ্গুল গুলো ভরে উঠে দাঁড়ালো। বিশ্ব জয়ের একটি হাসি দিয়ে আমান এর দিকে তাকিয়ে বলে,
__" ওই দুই কেজি মাংস ওর বাপকে পাঠিয়ে দাও।আর বাকি মাংস গুলো জংলি পশুদের খাইয়ে দাও।
কথাটি বলেই সমনে তাকাতেই দেখতে পেল, সেই দু'টো মেয়ে একে অপরকে ঝাপটে ধরে ভয়ার্তক মুখে বসে আছে। তাদের দিকে ইশারা করে বললো,
__" আর এদের গুলি করে মেরে ফেল "।
মেয়ে দুটো ভয় পেয়ে তখনি আনাস্তাসিয়ার পায়ের কাছে এসে হাত জোড় করে কাঁদতে কাঁদতে বলে,
__" দয়া করে আমাদের ছেড়ে দিন।আমরা কিছু করিনি,কিছু দেখিনি।দয়া করে আমাদের মারবেন না।
তাদের কথা পাত্তা না দিয়ে, আনাস্তাসিয়া একটি মেয়েকে জরে থাপ্পর মেরে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। যার ফলে মেয়েটি ছিটকে দূরে পড়ে যায়।অপর মেয়েটি ভয়ে আতঙ্কে দূরে সরে আসে। সে কয়েকটা শুকনো ঢোঁক গিলে আমান এর আছে এসে কাঁপা গলায় আকুতি করে বলে,
__" দয়া করে আপনি আমাদের বাঁচান। ওনাকে দয়া করে আমাদের ছেড়ে দিতে ব.........
বাকি কথা শেষ করার আগেই আমান মেয়েটার মাথায় গুলি করে দিল। মেয়েটি ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ে। তখনি আনাস্তাসিয়ার কন্ঠে ভেসে আসে,
__" তোদের মত মেয়েদের জন্যেই আজকে নিষ্পাপ মেয়ে গুলো ধর্ষণ হয়। ঠিক তোদের জন্য জন্য সকল পুরুষ সব মেয়েদের এক ভাবে। আমান মেরে ফেল এঁকে।
কথাটি শেষ হতেই আমান মাথা বরাবর গুলি করে মেরে ফেললো। আনাস্তাসিয়া টনির মাথাটি অপর একটি ব্যাগে ভরে নিয়ে, কলিজা রাখা বাক্সটি হাতে নিয়ে দরজার দিকে পা বাড়ায়। আমান গার্ড দের ইশারায় এই দিকটা দেখে নিতে বলে সেও পেছন পেছন বেরিয়ে আসে। দুজনে করিডোর দিয়ে চলতে থাকে। করিডোর পেরিয়ে সোজা গাড়ির সামনে এসে থামে। আনাস্তাসিয়া ব্যাগ আর বাক্সটি গাড়ির ডিকিতে রেখে, ডাইভিং সিটের পাশের সিটে গা এলিয়ে বসে পড়ে। আমান ডাইভিং সিটে বসে, গাড়ি স্টাট দিয়ে গাড়ি ড্রাইভ করতে থাকে। আনাস্তাসিয়া চোখ বন্ধ করে সিটে মাথা এলিয়ে দেয়। গাড়িটি এসে সোজা সাত তলা ভবনটির সামনে থামে। আনাস্তাহিয়া গাড়ি থেকে নেমে গাড়ির ডিটি খুলতে ব্যাগ আর বাক্সটি নিয়ে ভিতরে চলে যায়। আমান গাড়ি পার্ক করে সেও ভেতরে চলে যায়। আনাস্তাসিয়া দুই তলায় এসে একটি খাঁচার মতো দেখতে কক্ষের সামনে এসে ঠেকে উঠে,
__" স্কারফেস... স্কারফেস....
অতঃপর বেরিয়ে এলো একটি ভয়ঙ্কর কালো রঙের সিংহ। তার চোখ গুলো লাল হওয়া আর ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে। লাল চোখ গুলো চিকচিক করে মনে হয় জ্বলছে। বেরিয়ে এসে একটি হুঙ্কার দিল, যার ফলে দুপাশের শুচালো দাঁত গুলো চকচক করে উঠলো। আনাস্তাসিয়া দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে, আলতো করে তার গলায় হাত বুলিয়ে দিল।তার পর ব্যাগ এবং বাক্সটি খুলে তার থেকে মাথা কলিজা আর না গুলো সিংহটির সামনে রাখলো। সিংহটি সেগুলো খেতে লাগল। অতঃপর আরেক বার হাত বুলিয়ে দিয়ে দরজা আটকিয়ে চলে গেল।তিন তলায় এসে আমানের সাথে দরজার কাছে দেখা হতেই জিজ্ঞাসা করে,__" পাঠিয়ে দিয়েছ"।আমান মাথা নাড়িয়ে" হ্যাঁ " বলে। অতঃপর দুজনে আর কোন কথা না বলে উপরে চলে যায়। আনাস্তাসিয়ার পাশের রুমটাই আমানের। দুজনে যার যার কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে সোজা ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার নিয়ে বেরিয়ে আসে। আনাস্তাসিয়া নাইট ড্রেস পরে নিয়ে ক্লান্তিতে বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে পরে। আনাস্তাসিয়ার পরনে ছিল pj সেট, hello kitty প্রিন্টের টপস আর পাজামা। ক্লান্ত থাকার কারণে শুয়েই ঘুমের দেশে পাড়ি জমায়।
চলছে .....
[ এটা আমার লেখা প্রথম উপন্যাস, যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে লাইক আর কমেন্ট করবেন এবং বেশি বেশি সেয়ার করে দিবেন। আর আইডিটা follow করে পাশে থাকবেন। আপনারা যদি চান তাহলে পরের পর্ব দিব।]