#আনাস্তাসিয়া
লেখিকা:#সামিয়া
#পর্ব:২
ঘড়ির কাঁটায় দু'বার ঢং করে ঘন্টা বাজিয়ে মাত্র জানান দিল রাতের প্রহর গড়িয়ে দু'টোতে ঠেকেছে, সন্ধ্যা হতে না হতেই প্রকৃতি তার চিরাচরিত রুপে ফিরে এসেছে। খোলা আকাশ থেকে ধুতরো ফুলের নেয় অবিরত ঝড়ে পরছে শুভ্র তুষারপাতে কুচি। মধ্যরাতের হিমেল হাওয়ায় সেই পেঁজা তুলোর মতোন কোমল তুষারের বহর উড়ে এসে ঠাঁই জমিয়েছে ছাঁদ বারান্দার কাঁচের দেওয়ালে। জঙ্গলের মধ্যে অবস্থিত আনাস্তাসিয়ার এই বিশাল সাত তলা ভবনটির বেশিরভাগ সময়ই তুষারে ঢাকা পড়ে থাকে। স্টাফরা যদিও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সর্বক্ষণ তৎপর তবে প্রকৃতি কি আর এতোকিছু মেনে চলে? সে তো বয়ে চলে তার আপন নিয়মে। তুষারপাতে আবদ্ধ এই ছাঁদ বারান্দার পেরিয়ে আনাস্তাসিয়া তার বেডে আরামে ঘুমিয়ে রয়েছে। অতঃপর ভবনটির চারপাশের জঙ্গল থেকে ভেসে আসছে হুঙ্কার আর হাউলিং করার আওয়াজ। কারণ জঙ্গল টিকে চারিদিক থেকে পাহারা দিচ্ছে আনাস্তাসিয়ার অসংখ্য গার্ড, পোশা কালো সিংহ, নেকড়ে আর ভয়ঙ্কর জঙ্গি কুকুর। ভবনটির চারপাশে শাওন প্রটেক্টর গ্লাস লাগানোর ফলে, ভেতর থেকে বাইরের কোনো আওয়াজ শুনা যায় না। কিন্তু হঠাৎ করেই আনাস্তাসিয়ার কপালে ভাঁজ পড়ে, দুই ভ্রু আরাআরি ভাবে কুঁচকে যায়। এই শীতের মাঝেও তার শরীরে ঘাম ছুটে যায়। মাথা এপাশ ওপাশ করে জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে। অস্থিরতায় ছটফট করে উঠে। হঠাৎ ভাঙা ভাঙা কন্ঠে বিচলিত হয়ে বলে উঠে,
__"মম...ড্যাড....মম...মম...ড্যাড....উঠো... ড্যাড ওপেন ইউর আইস্ ..মম... তোমরা চোখ খুলছ না কেন,মম ড্যাড চোখ খুল উঠো তোমরা......
আনাস্তাসিয়া ঘুমের মধ্যে কথাগুলো বলতে থাকে আর তার ছটফটানি বারে।
__" রক্ত .... রক্ত ...মম ড্যাডডডডডডড ডডডডড
চিৎকার করে ঘুম থেকে উঠে যায় এবং জোরে জোরে শ্বাস নিতে থাকে।
আনাস্তাসিয়া এত জোরে চিৎকার দেয় যা আমান এর রুম পর্যন্ত চলে যায়।আমান এর রুম পাশে হওয়ায়, সে আনাস্তাসিয়ার চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে ছুটে রুমে চলে আসে। রুমে ঢুকতেই দেখে আনাস্তাসিয়া জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে আর অস্থিরতায় ছটফট করছে। আমান ছুটে গিয়ে আনাস্তাসিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। আমান জড়িয়ে ধরতেই আনাস্তাসিয়া তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে। আর কান্নার তরে ভাঙ্গা গলায় বলতে শুরু করে,
__" ভা..ভা... ভাইয়া ওরা.... ওরা মম ড্যাড কে মেরে ফেললো...............
আমান এর আর বুঝতে বাকি নেই তার বোন আবার ও দুঃস্বপ্ন দেখেছে। তার আজ ও মনে আছে তার সেই ছোট্ট নিষ্পাপ ফুলের মতো বোনটা যেদিন প্রথম খুন করেছিল। সেদিন দেখেছিল একটি নিষ্পাপ মেয়ের ভয়ঙ্কর ও হিংস্র হয়ে যাওয়ার রুপ। সে তার বোনকে খুব ভালোবাসে তাই তো মাঝে মাঝে আফসোস হয়, সে তার বাবাকে সুন্দর একটা জীবন দিতে পারেনি। সেদিনের সেই ভয়ঙ্কর রাত, সেই ঘটনা যার ফলে তার ফুলের মতো নিষ্পাপ বোন আজ একজন সাইকো কিলার। যাকে কালো অন্ধকার জগতের মাফিয়ারা সকলেই ভয় পায়, যাদের কাছে তার বোন ম্যান হান্টার ও সে কিলিং ম্যান হিসেবে পরিচিত। মাঝেমাঝে ভাবে সে একজন ভালো ভাই হতে পারলো না।
__" ভাইয়া .... ভাইয়া ...... ওরা....ওরা........
আর কিছু বলতে পারলো না সে আবার ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল।
আমান তার বনের এই অবস্থা দেখে আর থাকতে পারলো না, তার চোখ থেকে দু ফোঁটা অশ্রু ঝরে পড়ল। সে আনাস্তাসিয়ার মাথা আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল।আর তাকে সান্তনা দিতে বলে,
__" শান্ত হ বোন আমার, দেখ কিছু হয়নি সব ঠিক আছে। শান্ত হ দেখ....
তার পর আনাস্তাসিয়ার মুখ তুলে, দুই হাত আলতো করে তার দুই গাল স্পর্শ করে, একটু উপরে তুলে ডান হাতের আঙ্গুল দিয়ে তার চোখের পানি মুছে দিল। তার পর আলতো করে তার কপালে পরম আবেশে একটি স্নেহের চুমু এঁটে দিল। তার পর মাথাটা তার বুকের সাথে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
__" শান্ত হ শান্ত হ আমি আছি না সব ঠিক করে দিব সব।
কিছু ক্ষণ পর আনাস্তাসিয়া শান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। আর আমান তাকে বুক থেকে তুলে অতি যত্নে বালিশে সুইয়ে দিয়ে ব্লেংকেট গাঁয়ে জড়িয়ে দেয়। তার পর এক নজর দেখে আস্তে করে দরজা লাগিয়ে বেরিয়ে যায়। নিজের রুমে এসে দরজা ভেতর থেকে লক করে বেলকনিতে গিয়ে রকিং চেয়ারে বসে গা এলিয়ে দেয়। আজ আর তার ঘুম আসবে না। তাই সে কিছু ক্ষণ আকাশের দিকে তাকিয়ে থেকে ভাবতে থাকে। সে হয়তো ভাই হওয়ার যোগ্য না। সে তার বোনকে ঠিক মত আগলে রাখে পারেনি। তারা ভাই বোন হয়েও দুয়ার সকলের কাছে তা অজানা। একে অপরের সুরক্ষা জন্য, তারা নিজেরা ছাড়া বাইরের কেউ জানে না তাদের সম্পর্ক আসলে ভাই বোনের। যদি কেউ জানতে পারে বিশেষ করে শত্রুরা তাহলে তাদের দুর্বলতা জেনে যাবে। আর তাকে বা তার বোনকে আঘাত করার মধ্যেমে আরেক জন কে দুর্বল করে, তাদের সমস্ত কিছু শেষ করে দিবে। তাদের সব কিছু ধ্বংস করে দিয়ে তাদের দুনিয়া থেকে মুছে ফেলবে। কি দোষ করেছিল তারা যার জন্য তাদের এই দিন দেখতে হচ্ছে। কি চেয়েছিলো তাঁরা, শুধু একটু ভালো থাকতে। কিন্তু না ঐই জানুয়ার গুলো তাদের থাকতে দিল না। সব শেষ করে দিয়েছিল তাদের সব। এসব ভাবতে ভাবতে আমান একটি দীর্ঘ শ্বাস ছাড়লো। তার পর কপালে ডান হাত রেখে চোখ দুটো বন্ধ করে আবারো ভাবনার জগতে ডুবে গেল।
_________>>>>>>>>>>_________
মস্কো শহরে শেষ প্রান্তে, জনবসতির থেকে বেশ খানিকটা দূরে বেশ অনেকটা জায়গা নিয়ে অবস্থিত একটি বিলাসবহুল দালান বাড়ী। এই বাড়ির দূর দূরান্তে কোন জনবসতি তো দূরে থাক কোন মানুষের ও ছায়া দেখা যায় না। দালান বাড়িটির চার পাশে উঁচু উঁচু দেয়াল মধ্যে কাটা তারে আবদ্ধ। যাতে কেউ দেয়াল টপকে ভেতরে আসতে না পারে। দালান বাড়িটির সামনে বিশাল বড়ো একটি বাগান। বাগানের বাম পাশে ফুলের গাছ আর ডান পাশে ফলের গাছ। বাড়ির প্রবেশ দ্বার থেকে শুরু করে, পুরো বাড়িটির চার পাশ ঘিরে পাহারা দিচ্ছে, কালো পোশাক পরিহিত রাইফেল হাতে নিয়ে দাড়িয়ে থাকা অসংখ্য গার্ড। প্রবেশ দ্বারের বিশাল বড় গেট টির পাশে একটি বড় কালো বোর্ড গোল্ডেন অক্ষরে লেখা ' শেখ নিবাস '। চারিদিকে কোন বাড়িঘর না থাকায়, রাত হওয়ার কারণে অন্ধকারে চারপাশ গা ছমছমে পরিবেশ। যার ফলে দালান বাড়িটি এখন ভূতুড়ে বাড়ির মত মনে হচ্ছে। এই বিশাল বাড়িটির দুই তলার, করিডোর দিয়ে এগিয়ে একেবারে শেষ প্রান্তে, একটি অন্ধকার রুমে রকিং চেয়ারে হেলান দিয়ে, চোখ বন্ধ করে বসে আছে কালো পোশাক পরিহিত এক লোক। যার পরনে রয়েছে কালো শার্ট প্যান্ট আর কালো ফর্মাল শু। শার্ট টি প্যান্ট এর সাথে ইং করা আর হাতে ব্যান্ডের লরেন্স ঘড়ি। রুমের ভেতর শুধু একটি ডিম লাইট জ্বলছে যার ফলে লোকটিকে আর রহস্যময় লাগছে। তখনি দরজায় কেউ নক করল। লোকটি তাঁকে ভেতরে আসার পারমিশন দিতেই, দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে এটি সুদর্শন যুবক। যার পরনেও কালো পোশাক আর পায়ে ব্লেক ফর্মাল শু। যার গায়ের রং ফর্সা, চোখ দুটো বাদামী রঙের। হাল্কা লম্বা ঘন কালো চুল গুলো স্টাইলিশ ভাবে কাটা। হাল্কা গোলাপি ঠোঁট মুখে, গম্ভীরতার ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সে একটি ফাইল এনে লোকটির সামনে ধরতেই লোকটা ফাইটি নিয়ে দেখতে লাগলো।
__" বস তার সম্পর্কে সব ইনফরমেশন আমরা কালেক্ট করেছি।
__" হুম বলো কি জানতে পেরেছ"?
__" বস মেয়েটির পুরো নাম আরশিতা আহামেদ আনাস্তাসিয়া। রাশিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর মাফিয়া রোমান আহামেদের মেয়ে। আজ থেকে প্রায় বারো বছর আগে,কোন শত্রু পক্ষ তাদের পুরো পরিবারকে শেষ করার জন্য আক্রমণ করে। সেদিন তাদের বাড়িতে কোনো করা সিকিউরিটি ছিল না কোন এক বিশেষ কারণে।আর যারা ছিল তারা শত্রু দের হাতে মারা যায়।যার ফলে রোমান আহমেদ একা হাতে শত্রুদের সাথে পেরে উঠে না। যার ফলে রোমান আহমেদ আর তার স্ত্রী আনা আহমেদ মারা যান। সেদিন আনাস্তাসিয়া বাসায় ছিল না বলে বেঁচে যায়। কিন্তু রোমান আহমেদের ছেলে তার কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি, সে বেঁচে আছে না কি মারা গেছে তা আজ যানা যায় নি। এমনকি তার নাম ও কেউ জানে না, আমরা অনেক খোঁজ করেছি তার সম্পর্কে কোন হিস্ট্রি খুঁজে পাওয়া যায় নি। রোমান আহমেদ আর আনা আহমেদের মারা যাওয়ার পর, আনাস্তাসিয়াই তাদের সমস্ত ব্যাবসা আর অন্ধকার জগতের সমস্ত কিছু দেখা শুনা করে। যে বয়সে বাচ্চারা স্কুলে যায় সে বয়সে আনাস্তাসিয়া রিভলবার হাতে মানুষ খুন করেছে। মাফিয়া জগতে তার বাবার থেকে ও বেশি নাম কামিয়েছে সে। তার নাম শুনলেই সকলে ভয়ে কাঁপতে থাকে, অন্ধকার জগতের ম্যান হান্টার সে। মানুষ শিকার করা আর তাদের নৃশংস ভাবে খুন করা যেন তার নেশা। একপ্রকার সাইকো কিলার বললেই চলে। শুনেছি যারা তার পরিবারের উপর আক্রমণ করেছিল তাদের লাশ পরের দিন সকালে শহরের শেষ প্রান্তে পঁচা নর্দমায় পাওয়া যায়। কেউ তাদের খুব নৃশংস ভাবে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলে দিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত জানা যায়নি কে তাদের এভাবে মেরেছে। পুলিশ অনেক তদন্ত করেছে সেই বেপারে কিন্তু কিছু না পাওয়ায় পরে তদন্তে করা বন্ধ করে দিছে। আনাস্তাসিয়া তার বাবা মার মৃত্যুর শোক না নিতে পেরে এক প্রকার সাইকোতে পরিনত হয়। যার ফলে তার তাকে মেন্টাল হসপিটালে ও ভর্তি করা হয়, কিন্তু সে সেখানে হসপিটালের সকলকে খুন করে আগুন ধরিয়ে দেয়। তার পর থেকেই মাফিয়া জগতে তার রাজত্ব চলতে থাকে এবং আজ ও চলে আসছে।
কথা গুলো শুনে চেয়ারে বসে থাকা লোকটি একটু ভাবতে লাগল। এর মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি আবার বল,
__" বস একটা কথা জিজ্ঞেস করি?
কথাটি শুনে লোকটি ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে এলো।
__" হুম বলো কি বলতে চাও"?
__" বস আপনাদের সাথে আরশিতা আহামেদ আনাস্তাসিয়ার কি শত্রুতা ? যে কারণে আপনাদের সব কিছু ধ্বংস করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আমি যতদূর জানি সে চাইলেই যে কাওকে এক নিমেষে শেষ করে দিতে পারে, সেখানে আপনাদের সে একটু একটু করে শেষ করতে চাইছে স্ট্রেঞ্জ।
লোকটি এবার দাঁড়িয়ে থাকা লোকটির দিকে তাকিয়ে বলে,
__" এরিক আই ডোন্ট নো তার আমাদের সাথে কি শত্রুতা,But now he wants to end everything for me. আর আমি এসব হতে দিতে পারি না।
এরিক নামের লোকটি কিছু একটা ভেবে বলে্
__" তাহলে এখন কি করবেন বস"?
__" সে যেমন আমাদের সাথে গেম খেলছে, এবার আমি ও তার সাথে গেম খেলবো।
তার পর ঠোঁট বাঁকিয়ে শয়তানি একটা হাসি টেনে বলে,
__" সে ভুল মানুষের সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে ফেলেছে। আহিয়ান শেখ আদ্রিয়ান কখনো হেরে যাওয়ার পাত্র নয়। দ্যা গেম ইস স্টাট মাই ডেয়ার ফাকিং ব্লাড রোজ, এবার জমবে খেলা"।
বলেই জোরে শব্দ করে হেসে উঠলো আদ্রিয়ান। তার পর আদ্রিয়ানের হাতে থাকা ফাইলটি এরিকের হাতে দিয়ে দিতেই, এরিক রুম থেকে বেরিয়ে গেল। এরিক চলে যেতেই আদ্রিয়ান উঠে দাঁড়িয়ে, পিছন ঘুরে জানালা দিয়ে এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে।
__" তোমার সব কিছু শেষ করে দিয়ে আমি তোমাকে নিঃস্ব করে দেব মাই ডেয়ার ফাকিং ব্লাড রোজ। কি ভেবেছিলে গেম কি তুমি শুধু একাই খেলতে পার ? নো বেইবি ইউ আর রং, গেম আমি ও খেলতে পারি। জাস্ট ওয়েট এন্ড ওয়াচ।
কথা গুলো বলে ভাবতে লাগলো আজ যখন রেড ওয়াইন ক্লাবে, সে গান গেয়ে স্টেজ থেকে নেমে আনাস্তাসিয়াকে খুঁজে কিন্তু পায় না, তখন সে তার বন্ধু দের কাছে চলে যায়।
আদ্রিয়ান ফিরে যেতেই তার বন্ধুরা বলে,
__" কি হয়েছিল বস এ'নি প্রবলেম ?
__" নো, কাজ কত দূর?
__"হয়ে গেছে বস, টনি ১০২৩ নাম্বার কেবিনে আছে। আর আমরা পুরো হোটেলের সিসিটিভি হ্যাক করে নিয়েছি। আপনি চাইলে আপনার কাজ শুরু করতে পারেন।
__" গুড জব।
বলেই আদ্রিয়ান দুই তলার করিডোর দিয়ে এগোতে থাকে। মূলত লোক গুলো তার বন্ধু না, তারা ছদ্মবেশে এসেছে যাতে কেউ তাদের সন্দেহ না করে। তারা একটি মিশনে এসেছিল রেড ওয়াইন ক্লাবে, কিন্তু এখানে এসে আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার দেখা পাবে সে তা কখনো ভাবেনি। তাই তো সে আনাস্তাসিয়ার সম্পর্কে আর একটু ভালো করে জানার জন্য তার সাথে ফ্ল্যাটিং করছিল। আদ্রিয়ান যখন তিন তলার করিডোর দিয়ে যাচ্ছিল, তখন লক্ষ্য করে টনির গার্ড দের আগে থেকেই কেউ মেরে ফেলেছে ! বিষয়টি তার কাছে সন্দেহ জনক লাগে, অতঃপর সে বেশি না ভেবে সামনে এগিয়ে যায়। যখন চার তলায় ১০২৩ নম্বর রুমের দরজার কাছে যায়, তখন দেখতে পায় আনাস্তাসিয়া অলরেডি টনিকে নিসংস ভাবে খুন করছে। তাই সে লুকিয়ে পুরো বিষয়টি দেখতে থাকে। মূলত সেও টনিকে খুন করতেই সেখানে গিয়েছিল! কারণ টনি আর সে বিজনেস পার্টনার ছিল, আর টনি তার সাথে ব্যায়মানি করে তার সব কিছু নিজের দখলে নিতে চেয়েছিল। আর আদ্রিয়ান তার মতো বিশ্বাসঘাতকে কখন ছেঁড়ে দেবে না, তাই তাকে মারতে আসে। কিন্তু আনাস্তাসিয়া তার কাজ আগে থেকেই করে দিয়েছে, তাই তো তার আর হাত নোংরা করতে হলো না। আর যখন লক্ষ্য করে আনাস্তাসিয়া কিছু একটা সন্দেহ করেছে, তখন সে আর কোন রিস্ক না নিয়ে চলে আসে যার ফলে আনাস্তাসিয়া তাকে দেখতে পায়নি। কিন্তু আনাস্তাসিয়ার ওই লাল চোখ তাকে যেন টানে, তার দিকে তাকালে কোন এক অজানা অনুভূতি হয়। কোন এক নিষিদ্ধ চাওয়া কাজ করে। সে নিজেও জানে না তার এরকম হওয়ার কারণ। না আর ভাবতে পারছে না সে, তাই কেবিন থেকে বেরিয়ে সোজা নিজের রুমে চলে গেল। রুমে ঢুকে টাওয়াল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে সোজা বিছানায় গিয়ে শুয়ে পরে।
__________>>>>>>>>>>_________
তুষারপাতের এই শহরটিতে আজ ও যেন সূর্যের দেখা নেই। যার ফলে চারিদিকে তুষা যমে স্তুপ হয়ে গেছে। সূর্যের দেখা না মেলায় চারিদিকে আবহাওয়া শীতল ও কনকনে ঠান্ডা। যার ফলে শহরের শেষ প্রান্তে জঙ্গলের সকল গাছ পালার ডাল পাতাতে তুষার জমেছে। জঙ্গলে অবস্থিত সাত তলা ভবনের একটি রুমে ব্লেংকেট মুরি দিয়ে ঘুমিয়ে আছে এক রমনী। ঘড়ির কাঁটায় সাতটার ঘরে আসতেই ঢং করে শব্দ করে জানান দিল। আনাস্তাসিয়ার ঘুম হাল্কা হতেই পিটপিট করে চোখ খুলে উঠে বসে। ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখে সাতটা বেজে গেছে। তার পর বিছানা থেকে উঠে ওয়াশ রুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে। ফ্রেশ হয়ে একে বারে রেডি হয়ে নিচে নামে ! নিচে নামতেই দেখতে পায় আমান ডাইনিং টেবিলে বসে তার জন্য অপেক্ষা করছে । সে সোজা ডাইনিং টেবিলের কাছে এসে চেয়ার টেনে বসে পড়ে। আনাস্তাসিয়া বসতেই আমান তার দিকে তাকায়।
__"Are you okay now?
__"Hmm, I'm fine now.
__" এখন কেমন লাগছে?
__" বেটার।
এরপর আর কোন কথা না বলে দুজনে খাওয়া শুরু করে। আনাস্তাসিয়ার পরনে আজ ছিল সাদা শার্ট আর কালো প্যান্ট। হাতা কুনোই পর্যন্ত ভাঁজ করে রাখা। বাম হাতে দামি ব্র্যান্ডের স্টাইলিশ লেডিস ওয়াচ, আর পায়ে চার ইঞ্চির কালো হিল। চুল গুলো কার্ল করে ছেড়ে দেওয়া। ঠোঁটে হাল্কা গোলাপি লিপস্টিক আর চোখে কালো সানগ্লাস। আর আমান এর পরনে ও অফিসার জন্য ব্লেক ফর্মাল সুট। হাতে ব্যান্ডের ওয়াচ ও পারে ব্রাউন কালার ফর্মাল শু। চুল গুলো জেল দিয়ে সুন্দর ভাবে সেট করা আর চোখে কালো সানগ্লাস।
দুজনেই নাস্তা করে একসঙ্গে অফিসে জন্য বের হল। আমান ডাইভিং সিটে বসে ড্রাইভ করছে আর আনাস্তাসি পাশে বসে গম্ভীর মুখে কিছু ইনপটেন্ট ডকুমেন্ট চেক করছে। কিছু ক্ষণ পর গাড়িটি গেট পেরিয়ে একটি বিশাল বড় বিল্ডিং এর সামনে থামলো। বিল্ডিং এর উপর বড় বড় অক্ষরে লেখা ঝলমল করছে "Black Dragon Group of Industries " । গাড়ি থেকে নেমে আনাস্তাসিয়া আর আমান সোজা ভেতরে চলে গেল, আর একটি গার্ড তাদের গাড়ি পার্কিং লটে পার করে রেখে নিজের কাজে চলে গেল। আনাস্তাসিয়া আর আমান লিফটে উঠে সাত নম্বর বাটনে ক্লিক করে দিল। সাত তলায় আসতেই লিফটের দরজা খুলে যায়,আর তাঁরা বেরিয়ে আসে। তাঁরা কম্পানির ভেতর ঢুকতেই সকলে আনাস্তাসিয়া আর আমানকে দাঁড়িয়ে গুড মর্নিং ওইস করে। তাঁরা দুজন কোন দিকে না তাকিয়ে সোজা মিটিং রুমে চলে যায়।
__________>>>>>>>>>>_________
লোকালয়ের থেকে দূরে শহরের অপর প্রান্তের দালান বাড়িটির ভেতরে, লিভিং রুমে সোফায় বসে টিভিতে খবর দেখচে একজন মাঝবয়সী লোক। দালান বাড়িটির ভেতরে রয়েছে বিশাল বড় এক লিভিং রুম। যার চারপাশে আধুনিক ও আকর্ষণীয় ডিজাইন করা আসবাবপত্র। পুরো দালান বাড়িটি সাদা কালো ও সিলভার রঙের কম্বিনেশনে সাজানো। লিভিং রুমের মাঝখানে রয়েছে সাদা রঙের বড় সোফা সেট, তার মাঝখানে একটি টি টেবিল। সোফা থেকে সামনে তাকালে একটি বিশাল বড় টিভি ও মনিটর রাখা। লিভিং রুমের মাঝ বরাবর উপরে যাওয়ার জন্য সিঁড়ি। লিভিং রুমের মাঝ বরাবর মাথার উপর বড় ঝাড়বাতি। বাম পাশে বিশাল বড় ডাইনিং রুম, তার সাথে আধুনিক কিচেন। ডাইনিং রুমে মাঝখানে রাখা একটি ডাইনিং টেবিল ও চেয়ার।
লোকটির টিভি দেখার মাঝেই একজন সার্ভেন্ট এসে কফি দিয়ে গেল। লোকটি কফিতে চুমুক দিতেই সিঁড়ি বেয়ে কার নামার শব্দ পাওয়া গেল। লোকটি ঘার ঘুরিয়ে পিছে তাকাতেই দেখল আদ্রিয়ান সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে। তার পরনে কার্গো প্যান্ট, কালো টিশার্ট আর লেদার জ্যাকেট। পায়ে কালো শু আর হাতে বাম হাতে ব্র্যান্ডের ঘুড়ি। জ্যাকেট এর হাতা কুনোই পর্যন্ত ভাঁজ করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসছে। তাঁকে দেখে সোফায় বসে থাকা লোকটি জিজ্ঞেস করে,
__" সকাল সকাল কোথায় যাওয়া হচ্ছে শুনি?
কথাটি শুনে আদ্রিয়ান লোকটির দিকে একনজর তাকিয়ে তার পর অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে বলে,
__" আপনার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে"।
__" সম্মান দিয়ে কথা বলো আদ্রিয়ান ভুলে যেও না আমি তোমার বাবা হুই"।
লোকটির রাগি কন্ঠে কথা গুলো শুনে আদ্রিয়ান তাচ্ছিল্যের একটি হাসি দেয়।
__" বাবা মাই ফুড, আপনি বাবা হওয়ার যোগ্য না। আর সম্মান? সেটা কখনো জোর করে পাওয়া যায় না সেটা অর্জন করতে হয় মিঃ আশরাফ শেখ।
__" তুমি কি বলতে চাইছ ?
__" সেটা আপনি ভালো করেই জানেন ! ভুলে যাবেন না আপনার লোভ আর পাপের কারণেই মা আজ এই পৃথিবীতে নেই।
আশরাফ শেখ আর কিছু বলতে পারলো না। সে কি করেই বা বলবে, সত্যিই তো তার জন্যেই তার স্ত্রী আজ আর এই পৃথিবীতে নেই। আদ্রিয়ান আর কোন কথা না বলে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। আর আশরাফ শেখ তার যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল। তার পাপের জন্যেই আজ তার থেকে দূরে সরে গেছে। তাঁকে বাবা বলে আর ডাকে না, তার সাথে ঠিক মতো কথা ও বলে না। ভেতর থেকে একটি আফসোসের দীর্ঘ নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো। তার পর আবার ও টিভির দিকে মন দিল।
অতঃপর আদ্রিয়ান তার অফিসে এসে, সোজা কেবিনে ঢুকে চেয়ারে বসে গা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে ভাবতে থাকে। এরপর কি করবে, কিভাবে সে আনাস্তাসিয়াকে তার পথ থেকে সরাবে। কিভাবে পরের চালটা দিবে সে, কি করবে, কিভাবে সে আনাস্তাসিয়ার দুর্বলতা খুঁজে বের করবে। দুর্বলতা খুঁজে বের করতে হলে আগে তাকে আনাস্তাসির কাছে থাকতে হবে। সব সময় তাকে নজরে রাখতে হবে, তার প্রতিটা পদক্ষেপ লক্ষ্য করতে হবে। কিন্তু কিভাবে সে এসব করবে পরক্ষনেই কিছু একটা ভেবে হেসে উঠলো। তার পর নিজের কাজে মন দিল।
আদ্রিয়ান এর কম্পানির নাম সোলন্তসেনস্কায়া ব্রাতভা (Solntsevskaya Bratva): এটি রাশিয়ার সবচেয়ে বড় এবং শক্তিশালী অপরাধী সিন্ডিকেট। মস্কোর সোলন্তসেভো জেলায় এদের উৎপত্তি এবং এরা তাদের কম্পানির আরালে মাদক চোরাচালান, অর্থপাচার ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে জড়িত। আদ্রিয়ানে অন্ধকার জগতের সূত্র পাত এই কম্পানি থেকে। মূলত এটি তার বড় একটি অংশ, সে এই কম্পানির আরালেই সব করে থাকে। কম্পানির তার নিজের হাতে গড়ে তোলা, সে তার বাবার লোভ আর পাপের সাম্রাজ্য থেকে দূরে থাকে। সে চায় না তার বাবার মতো হতে, তবুও যেন তার বাবার জন্য তার ক্ষতি করতে চাইছে। সে তো আর তা হতে দিতে পারে না তাই তো সে ও এক অদ্ভুত খেলায় মেতে উঠেছে।
________>>>>>>>>>>_________
গাড়ি চলছে তার নিজ গতিতে। মাত্রই আনিসুল ইসলামের বাসভবন থেকে ফিরল সি.আই.ডি অফিসার নিতান আর তার তিন সহকারী। তাদের প্রতিটি কাজেই রয়েছে শতভাগ সাফল্য। এই চার সদস্যের ট্রিমের লিডার হলো মিঃ নিতান আহসান। পুরো ট্রিম সে একাই লিড করে। চল্লিশ বছর বয়সেই ইতিমধ্যে নিজের দুঃসাহসের জন্য বেশ কয়েক বার এওয়ার্ড পেয়েছে। পাঁচ ফিট দশ ইঞ্চির নিতান আহসান এর খোঁচা খোঁচা দাড়ি যুক্ত তামুক চেহারায় সবসময়ই দেখা যায় হাসির ঝলকানি। গাড়ি চালাচ্ছে অফিসার মাহার। নিতান আহসান প্যাসেঞ্জার সিটে গা এলিয়ে চোখ বুজে নিজের মতো করে কেসটা সাজাচ্ছে মস্তিষ্কে।
মাহাব ড্রাইভ করতে করতে বলল,
__" স্যার গোপন সূত্রে জানা গেছে কাল যখন মন্ত্রীর ছেলে রেড ওয়াইন ক্লাবে গিয়েছিল। তখন সেখানে সেই গ্যাংস্টার গার্ল ও সেই ক্লাবে গিয়েছিল তার গার্ড দের নিয়ে"।
চোখ খুলে সোজা হয়ে বসে মিঃ নিতান। কপাল ভাঁজ, দৃষ্টি গভীর,
__" গ্যাংস্টার গার্ল আরশিতা আহমেদ আনাস্তাসিয়া"?
__" জি স্যার, আরশিতা আহমেদ আনাস্তাসিয়া। যখনি সে আর তার বডিগার্ড আমান রহস্যময় ভাবে কোন হোটেলে যায় তখনি কারোর না কারোর লাশ পাওয়া যায়। অধিকাংশ সময়ই দেখা গিয়েছে বড় বড় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, মাফিয়া আর সংস্থার লোকজন। কিন্তু পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে আজ ও পর্যন্ত এর বিরুদ্ধে প্রসাশন কোন স্টেপ নিতে পারেনি।
__" উপরের কারোর হাত আছে ?
__" না স্যার! এই গ্যাংস্টার গার্ল নিজের মতো চলে। কারোর ধার ধারে না। বরংচ বড় লোকদের জন্য আনাস্তাসিয়া এক নতুন আতঙ্ক এখন। রাশিয়ায় গড়ে তুলেছে নিজের কালো ব্যবসার সাম্রাজ্য। সরকার ও এর বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না। সকাল কিছু নিজের হাতে নিয়ে নিয়েছে। বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তার শেয়ার ব্যবসার আড়ালে বড় বড় ক্যাসিনো। বিদেশি অস্ত্র আর মদ, ড্রাগ সাপ্লাই করে থাকে রাশিয়া থেকে। নারী পাচার থেকে শুরু করে সকল ধরনের অন্যায়ের সাথে জড়িত। তবুও পুলিশ ফাইলে নাম নেই।
খুবই মনোযোগ দিয়ে কথা গুলো শুনলো মিঃ নিতান। হঠাৎ কিছু ভেবে ঠোঁটে বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। ওষ্ঠপুতে রহস্য ময় হাঁসি বজায় রেখেই বলল,
__" একবার দর্শন নেয়ায় যাক সাহসী গ্যাংস্টার গার্লের।
[ ব্রেকিং নিউজ: তথ্যমন্ত্রী আনিসুল হকের ছেলের লাশ পাওয়া যায় আজ সকালে। খুবি নিসংস ভাবে তাকে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে পাঠানো হয়। যদিও লাশটা পাওয়া গেলেও মাথাটি এখন নিখোঁজ। একটি কালো পলিথিন ব্যাগে করে সরাসরি তথ্যমন্ত্রীর বাসভবনে পাঠানো হয়েছে। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হন আনিসুল হকের স্ত্রী। বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। ধারণা করা হচ্ছে এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে। কেসটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিআইডি অফিসার মিঃ নিতান আহসানের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের একটি বিশেষ দলকে। আইনসিঙ্খলা বাহিনী দ্রুতই অপরাধীদের শনাক্ত করার ব্যাপারে আশাবাদী]
নিউজটি শুনে আনাস্তাসিয়া আর আমান শব্দ হিন হাসল।
__" ওয়েলকাম ম্যান ওয়েলকাম"।
আনাস্তাসিয়ার এহেন মধু মিশ্রিত টিটকারিময় স্বরে কপালে ভাঁজে দেখা মিলে ডিবানে বসে থাকা আমানের। উৎসুক হয়ে সামনে তাকাল। দেখতে পেল অফিসার মিঃ নিতান ব্যগ্ৰপায়ে এগিয়ে আসছে। ঠোঁটে কোনে লেগে আছে বক্র হাসি। আনাস্তাসিয়া হেড অফিসের চিপ অফ হেডডেক্স টপে বসে কিছু ফাইল চেক করছিল।উমহু অধীর অপেক্ষায় ছিল কারোর জন্য। বারো তলায় অবস্থিত চেম্বারের ভিতর কাঁচের গ্লাস গলিয়ে সোনালী দৃত্যি আলোক রশ্মি ছড়াচ্ছে।
পুরো কক্ষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আধুনিকতার নিখুঁত ছোঁয়া। ডেক্সের উপর নানান ধরনের ফাইল এলোমেলো করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা। অর্ধ খাওয়া আপেল খচিত ল্যাপটপে তখন ভবন বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ লাইভে ছিল। ভবনের মতো অফিসের দেওয়ালে ও ড্রাগনের বিশাল আকৃতির একটি পেইন্টিং রয়েছে। দূর থেকে মনে হচ্ছে আনাস্তাসিয়া সুবিশাল আকৃতির ড্রাগন সিংহাসনে বসে আছে। কোন কথা ছাড়া অফিসার নিতান এসে পায়ের উপর পা তুলে বসল ডেস্কটপের সামনের চেয়ারে। আনাস্তাসিয়া নিতানের এটিটিউড দেখে নিচের ঠোঁট ঠেলে উপরের ঠোট উঁচিয়ে ভ্রু নাচাতে নাচাতে নাচাতে বলে,
__" ট্রি আর কফি"?
নিতান চোখ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পুরো কক্ষ স্ক্যান করছিল। এদিকে ওদিকে তাকাতে তাকাতে চোখ গিয়ে ঠেকল আমান এর উপর। আমানকে দেখে ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলে,
__" ইন্টারেস্টিং"।
থেমে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে হেসে।
__" ক্যাসিনোর মালিক চা অফার করছে? সো রুড অফ ইউ ম্যাম।
ঠোঁট এলিয়ে হাসল আনাস্তাহিয়া,
__" উইস্কি অর ভডকা"?
__" আই থিংক ইট উডন্ট বিএনজয়েবল
উইদাউট গার্লস।
__" ডু ইউ প্রেফার বিইং ইন এ ডার্ক রুম অন উইথ লাইটিং?
থমকে গেল নিতান। ঠোঁটের কোণের বক্র হাসি গায়েব হয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজের ছাপ ফুটে উঠল। তার দেখে আবার ও বাঁকা হাসল আনাস্তাসিয়া। তবে বরাবরের মতোই তা ছিল অদৃশ্য। আমান এর দিকে তাকাতেই আমান ব্যগ্ৰ হয়ে এসে আনাস্তাসিয়ার ডেক্সটপের সামনে দাঁড়ায় মাথা কিছুটা ঝুঁকিয়ে।
__"Upakuyte, pozhaluysta, posylku krasivo i podgotov'te yeyo pryamo seychas(পার্সেলটা সুন্দর করে সাজিয়ে রেডি কর এক্ষুনি)।
__" স্পিক ইংলিশ"।
প্রচন্ড জোরে ডেক্সে থাবা মেরে উঠে দাঁড়িয়ে গেল নিতেন। ক্রোধে গলার নীল বড় গুলো ফুলে ফেঁপে উঠেছে। তার সেই তেজ স্থায়ী হলো না বেশিক্ষণ। আমান ঝড়ের বেগে ছুটে গিয়ে নিতানের মাথা ডেক্সের সাথে চেপে ধরে। ঘটনা টা এতোই দ্রুত হলো যে নিজেকে প্রতিরক্ষার জন্য কিছুই করতে পারেনি নিতান। ছুটার জন্য মোচড়ামুচড়ি করতে থাকে নিতান। নিতানের দুই হাত আমান এর দখলে। হাত মোচকিয়ে পিঠে চেপে রেখেছে। যতই ছোটার চেষ্টা করে নিতান ততই তার হাতের উপর চাপ বাড়ায়।আনাস্তাসিয়া চেয়ারে গা এলিয়ে শক্ত চিবুকে তাকিয়ে আছে। গুরুগম্ভীর অগ্নিস্ফুলিঙ্গ আবার ও ফিরে যায় নিজ বৈশিষ্ট্যে। চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,
__" আমার দিকে হাত বাড়ানো তো দূর, আগে এঁকে অতিক্রম করে নে।
অতঃপর আমানের দিকে তাকিয়ে জলদগম্ভীর গলায় বলে,
__" লিভ হিম"।
আমান আনাস্তাসিয়ার কথায় মাথা নাড়িয়ে নিতানের দিকে চোখ গরম করে তাকিয়ে গমগম পায়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। শক্ত চোখে তাকায় আনাস্তাসিয়ার চোখে। এক জোড়া কালো আখিদ্বয় আর লাল আখিদ্বয়ের মধ্যে নিরব যুদ্ধ হলো কিছুক্ষণ।
__" মন্ত্রীর ছেলের মাথা কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস?
__" পাতালে। পারলে খুঁজে নে"।
আনাস্তাসিয়ার কাঠকাঠ জবাব। তিরতির করে রাগ বাড়তে থাকে নিতানের। তবে রাগ দেখানোর সময় না। বুদ্ধিমানরা কখনো রাগ দেখিয়ে হাতের কাছে থাকা সুযোগ ক্রোধে দূরে ঠেলে দেওয়ার মতো বোকামি করে না। হঠাৎ করে অদ্ভুত ভাবে গোল গোল ভাসা ভাসা চোখ গুলোকে কিঞ্চিৎ ছেট করে বলে,
__" তার মানে স্বীকার করছিস তুই - ইং মেরেছিস মন্ত্রীর ছেলেকে।
__" হ্যাঁ আমিই সেই মাদারফ**** টনিকে মেরেছি"।
আনাস্তাসিয়া চিবিয়ে চিবিয়ে বলা কথাগুলোর বিপরীতে রহস্যময় হাসি দিল নিতান কন্ঠ খাদে নামায়।কথার মধ্যে রস আনে যেন দু'জন বন্ধুর মধ্যে নরমাল কনভারসেশন।
__" তার পর মাথা কি করেছিস"?
__" চোখ গুলো গলিয়ে একুরিয়ামে দিয়েছি মাছের খাবার হিসেবে। আর জিভ ঠোঁট কেটে সিদ্ধ করে বিড়ালকে খাইয়েছি।
নিতানের মুখভঙ্গি স্বাভাবিক। এই নৃশংস ভয়ংকর বর্ণনা গুলো তাকে একটুও বিচলিত করছে না। বরংচ আগ্রহ বাড়ায়, বাড়ে ছটফটানি।অধিক আগ্ৰহে চেয়ে থাকে আনাস্তাসিয়ার পানে পরবর্তী প্রশ্নের উত্তরের আশায়।
__" আর মাথার খুলি! সেটা কি করেছিস"?
__" ওয়েট "।
বলে আনাস্তাসিয়া ল্যাপটপ নিতানের দিকে ঘুরিয়ে দিল। ল্যাপটপের স্ক্রিনে তাকাতেই পাথরের মতো পুরুষালী শক্ত হৃদয় নাড়া দিয়ে উঠল। ভিতরে ভিতরে শুকনো ঢোঁক গিললো নিতান। তবে তা বাইরে প্রকাশ করল না। স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে নিল দ্রুত। বেশিক্ষণ চেয়ে থাকতে পারলো না সেই বিধ্বস্ততী দৃশ্যে। মাথার খুলি থেকে তখন ও মগজ চুঁইয়ে চুঁইয়ে পরছিল। কালো সিংহের পায়ে পায়ের সাথে লেপ্টে যাচ্ছিল মগজের সেই তরল ধাতু। বিধ্বস্ত ভাবে কাটাছেঁড়া করা হয়েছে মুখের অংশ। চোখ উপরে তুলে ফেলা হয়েছিল। নাক মাঝখানে থেকে দুভাগ করে কাটা হয়েছে খুব ধারালো ছুরি দিয়ে। ঠোঁটের অংশে যেন কেউ কোদাল দিয়ে কেটে নিয়েছে মাংস। খুলির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা তরল মগজ গুলো খাঁচার ভিতর বন্দী হিংস্র কালো সিংহ খেলার সাথে সাথে লম্বাটে জ্বিব দিয়ে চেটে চেটে খাচ্ছিল। নিতান মুখভঙ্গির ছাপ পরিবর্তন করে শক্ত চোখে তাকাল আনাস্তাসিয়ার দিকে। আনাস্তাসিয়ার ঠোঁটের প্রতিটা বাঁকা হাসি কাঁটার মতো বিঁধছে তার শরীরে। রুষ্ট গলায় বলল,
__" কি প্রমাণ আছে যে এটা টনির খুলি"?
__"প্রমাণ তো তোর হাতে"।
আবার ও অতর্কিত আক্রমণে ভরকে গেল নিতান। তার বাক্য শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে বিকট একটি শব্দ হলো। নিতান ভয়ে কিছুক্ষণের জন্য থমকে রইল। তার পর হুঁশ ফিরতেই ঘার ঘুরিয়ে দেখল পেছনের ফুলদানিটা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তার পর সামনে তাকানোর সাথে সাথে নিতানের মাথায় গান পয়েন্ট করল আনাস্তাসিয়া। তপ্ত শ্বাস ফেলল নিতান।এক টুকরো প্রত্যাশার আশা গিয়ে দাঁড়াল শূন্যের কোঠায়। আনাস্তাসিয়া একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে নিতানের থমথমে মুখের দিকে। মুখভঙ্গির কোনো ভাবান্তর নেই, চাহনি খুবই শান্ত। অকস্মাৎ সংযম হারিয়ে হিংস্র প্রাণীর মতো গর্জে উঠল নিতান।
__" কতদিন এভাবে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবি? তোর শেষ খেলা এবার আমার হাতেই হবে"।
ডেস্কটপে থাকা এলোমেলো ফাইল গুলো কিছুটা নড়েচড়ে ওঠে আনাস্তাসিয়ার অট্টহাসি থেকে নির্গত হওয়া উপ্তত নিঃশ্বাসে। বরফ গলিত ঠান্ডা পানির ন্যায় মেজাজ তিরিক্ষি মেজাজে পরিণত হয়। হাঁসি থামিয়ে কর্কশ গলায় দাঁতে দাঁত চেপে বলে,
__" পরবর্তীতে আমার সাথে খেলতে আসার আগে খেলার গুটি কীভাবে চালতে হয় তা শিখে আসিস। নাদান শিশু,,,,,,"।
আনাস্তাসিয়ার অট্টহাসির ধ্বনি গুলো প্রচন্ড জোরে জোরে করাঘাত করতে থাকে নিতানের কানে। মস্তিষ্ক নিউরন, শ্রবণ ইন্দ্রিয় ঝাঁঝরা করে দিচ্ছে আনাস্তাসিয়ার বিদঘুটে হাসির শব্দ। রক্ত গরম চোখে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসতে ফুঁসতে বেরিয়ে গেল নিতান।
নিতান বেরিয়ে যেতেই হাঁসি থেমে যায় আনাস্তাসিয়ার। চোয়াল শক্ত করে হাত নামিয়ে অপর হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নেয়।
_________>>>>>>>>>>________
কিছুক্ষণ আগেই সন্ধ্যা নেমেছে ধরণীতে। তুষারপাতের কারণে চারিদিকের রাস্তাঘাটে বরফ জমেছে। তবুও গাড়ি চলাচল থামেনি, নিজ গতিতে চলে যাচ্ছে নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। রাস্তার ধারে লেম্পস্টের আলো জ্বলছে। একটি কালো রঙের মার্সেডিজ বেঞ্জ জোরে স্পিডে চলে যাচ্ছে হাইওয়ে রাস্তা দিয়ে। ভেতরে ড্রাইভিং সিটে বসে আছে আমান আর পাশের সিটে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে আনাস্তাসিয়া। হঠাৎ গাড়ির সাথে কিছুর ধাক্কা লাগতেই জোরে ব্রেক টানল আমান। আমানের আচমকা ব্রেক টানায় আনাস্তাসিয়া আমান এর দিকে তাকাল।
__" ওয়াট রং"? এভাবে ব্রেক টানলে কেন।
__" মনে হয় গাড়ির সাথে কিছু ধাক্কা লেগেছে। আমি দেখছি।
বলেই আমান সিট বেল্ট খুলে গাড়ি থেকে নামল। সামনে এগোতেই দেখল একটি ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ির সামনে পরে আছে। তার মানে গাড়ির সাথে ছেলেটির ধাক্কা লেগে এক্সিডেন্ট করেছে। সে আর কিছু না ভেবে আনাস্তাসিয়াকে ডাক দিল। আনাস্তাসিয়া গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগোতেই থমকে গেল। তার সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় আদ্রিয়ান পরে আছে। তার মনে পরলো সেই নীল চোখের ছেলেটা। যার চোখের দিকে তাকিয়ে আনাস্তাসিয়া অজানা এক ঘোরে ডুবে যায়। সেই সমুদ্র নীল চোখ দু'ট এখন বন্ধ হয়ে আছে। আনাস্তাসিয়া আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে গেল, হাঁটু গেড়ে আদ্রিয়ানের সামনে বসল। আল্ত হাতে তার গাল স্পর্শ করতেই বুকটা ধুক করে উঠলো।
__" আমাদের একে হসপিটালে নিয়ে যেতে হবে।
তার পর আমান এসে আদ্রিয়ানকে তুলে পেছনের সিটে শুইয়ে দিল। তারপর দুজনে গাড়িতে উঠে হসপিটালের দিকে রওনা দিল।
মস্কো শহরের বেস্ট হসপিল(Buyanov Moscow City Hospital) তীতৃয় তলায় করিডোরে পিনপতন নীরবতা। এই নিরবতার মধ্যে অপারেশন থিয়েটারের সামনের চেয়ারে বসে আছে আমান আর আনাস্তাসিয়া। কিছু ক্ষণ আগেই আদ্রিয়ানকে পাশের কেবিনে সিফ্ট করা হয়েছে এখন জ্ঞান ফিরেননি।তখনি একজন নার্স এসে বলে,
__" পেশেন্ট এর জ্ঞান ফিরেছে। সে বউ বউ বলে চিল্লাচ্ছে আর পাগলাম করছে। আপনারা জলদি চলুন।
আমান আর আনাস্তাসিয়া উঠে কেবিনের দিকে পা বাড়াল। কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই আচমকা কেউ ছুটে এসে আনাস্তাসিয়াকে জড়িয়ে ধরলো।
__" বৌ... বৌ তুমি এসেছ। এরা আমাকে আটকে রেখেছে দেখ, তুমার কাছে যেতেও দিচ্ছে না। তুমি এসে গেছে এখন আর এরা তোমাকে আমার কাছ থেকে কেউ আলাদা করতে পারবে না।
বলেই আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। আনাস্তাসিয়া হতভম্বের মত তাকিয়ে রইল। আচমকা ঘটনায় বুঝতে পারলো না কি হয়েছে। কিছু ক্ষণ একই ভাবে স্থির দাঁড়িয়ে থাকল। তার পর জোরে ধাক্কা দিয়ে আদ্রিয়ানকে তার থেকে ছাড়িয়ে নিল।
__" কি হচ্ছেটা কি এখানে? আর কে কার বৌ ? আমি কার বৌ টৌ না। এ কি বলছে পা কি ডক্টর?
শেষ কথাটা ডক্টরের দিকে তাকিয়ে বলে। ডাক্তার আনাস্তাসিয়াকে প্রশ্নের উত্তরে বলে,
__" দেখুন এক্সিডেন্টের ফলে উনার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে যার ফলে উনি স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। (Amnesia) কারনে সাধারণত মস্তিষ্কের টিস্যু, রক্তনালী বা স্নায়বিক সংযোগের ক্ষতির কারণে ঘটে। এটি হালকা কনকাশন (concussion) থেকে শুরু করে গুরুতর Traumatic Brain Injury (TBI) বা আঘাতজনিত মস্তিষ্কের আঘাতের ফলে হতে পারে, যা স্মৃতি গঠন, সঞ্চয় বা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া ব্যাহত করে দেয়। যার ফলে উনার কিছু মনে নেই এবং আপনাকে উনার বৌ ভাবছে।
__" এ ঠিক হবে কি করে? যত টাকা লাগে আমি দেবো তবুও একে ঠিক করে বাড়ি পাঠান।
__" দেখুন এটা টাকার বিষয় না। ওনার ঠিক হতে সময় লাগবে আর দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য সুস্থ পরিবেশ দরকার। আপনারা বরং ওনাকে বাড়ি নিয়ে যান। ওনার ভালো ভাবে দেখা শুনা করুন আর ওনার মাথায় বেশি চাপ পরতে দিবেন না। এতে করে পেশেন্টের আর খুতি হতে পারে।
ডাক্তারের কথা শুনে আনাস্তাসিয়া রাগে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিল। মনে তো চাইছে পুরো হাসপাতালে আগুন ধরিয়ে দিতে। কিন্তু না নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রন করল।
__" বৌ তুমি আমার সাথে এমন করছ কেন। আর এভাবে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিলে কেন।
__" এই শুনুন আমি কারোর বৌ টৌ না। আমার এখন বিয়েও হয় নি। সো আ'ই এ'ম নট ইউর ওয়াইফ।
__" বৌ তুমি এমটা বলতে পারলে। তুমার সাথে না আমার বিয়ে হয়েছে।
অবাক হয়ে ঠোঁট উল্টে কথা গুলো বললো আদ্রিয়ান। আনাস্তাসিয়া আর কিছু না বলে দরজা দিয়ে বাইরে বেরতে বেরতে বলে,
__" আমি বাসায় যাচ্ছি। ওকে ও তোমার সাথে বাসায় নিয়ে এসো আমান।
বলেই বেরিয়ে গেল। আনাস্তাসায়া বেরিয়ে যেতেই আমান আদ্রিয়ানকে নিয়ে সব ফর্মালিটিজ পুরোন করে বেরিয়ে গেল। আনাস্তাসিয়া বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সোজা বিছানায় গা এলিয়ে শুয়ে পরলো।
চলবে ....
[ আগে আগে আরো পর্ব পড়তে চাইলে আমার ফেসবুক পেজে থেকে পড়তে পারেন
https://www.facebook.com/profile.php?id=61589361991462
এটা আমার ফেসবুক পেজে লিংক]