#আনাস্তাসিয়া
লেখিকা: #সামিয়া
#পর্ব:৩
চারিদিকে অন্ধকার নেমে এসেছে অনেক আগেই। বাইরে তুষারপাতে ফলে আবহাওয়া বেশ ঠান্ডা। এই শীতের মধ্যে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছে আনাস্তাসিয়া। অন্ধকার ঘরে ডিম লাইট এর আলো চারিদিকে ছড়িয়ে আছে। ঘুমের মধ্যে হঠাৎ তার কোমরে শীতল হাতের স্পর্শ পেতেই একটু নড়ে চড়ে উঠলো। আচমকা তার ঘুম ভেঙ্গে গেল, কিন্তু চোখ খুললো না। বুঝার চেষ্টা করল কি হচ্ছে, হাতের স্পর্শটা আর গভীর হতে লাগলো। আনাস্তাসিয়া মুহুর্তেই বুঝে গেল কোন শত্রু তার ঘরে ঢুকে পরেছে। সে এবং তার বিছানায় তার পাশের শুয়ে আছে আর তাকে খারাপ ভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করছে। আচমকা আনাস্তাসিয়া খুব জোরে লাথি মেরে লোকটি কে বিছানা থেকে ফেলে দিয়ে উঠে বসলো। আচমকা আঘাত করার লোকটি ফ্লোরে মুখ থুবড়ে পড়ে।
__" আহহহ বৌ কি জোরে লাথি দিলে । নিজের বরকে কেউ এভাবে লাথি মেরে বিছানা থেকে ফেলে দেয়।
পরিচিত কন্ঠে শুনে আনাস্তাসিয়া পাশে তাকাতেই দেখল আদ্রিয়ান কোমরে হাত দিয়ে ডলতে ডলতে কথা গুলো বলছে।
__"এই আপনি আমার রুমে কি করছে? বের হন আমার রুম থেকে বের হন।
আদ্রিয়ান ঠোঁট উল্টে বলল,
__" আমার সাথে তুমি এমন করছ কেন বৌ। তুমি ছাড়া আমি কার কাছে যাব বল। সেই কখন থেকে তুমি একা একা ঘুমিয়ে আছ। আমাকে তো একটু সাথেও নিলে না। তুমি এমন কেন বৌ। আমার তো একটু যত্ন ও নিতে পার। আমি না তোমার একটা মাত্র বর।
__" চুপপপপ। চুপ করুন আপনি। কি তখন থেকে বর বর বৌ বৌ করে যাচ্ছেন। আরে আপনার যদি এতই বৌ এর শখ হয় তো গিয়ে বিয়ে করে নিন না। কেন আমরা পেছনে লাগছেন।
আনাস্তাসিয়া বিছানা থেকে উঠে বসল। তার আর সহ্য হচ্ছে না, কোথা থেকে এই উটকো ঝামেলা এসে তার গলায় ঝুললো। তার জীবনটা এলোমেলো করে দিল।
__" আচ্ছা বলুন তো আপনার নাম কি?
কথাটি শুনে আদ্রিয়ান ফ্লোর থেকে উঠে এসে, আনাস্তাসিয়ার সামনে বসে, তার বা হাত ধরে ঠোঁট উল্টে বেবি ফেস বানিয়ে বলে,
__" এটি বৌ তুমি আমার নাম ভুলে গেছ। দিস ইজ নট ফেয়ার। আমি তোমার দশটা না পাঁচটা না একটা মাত্র বর। তাও তুমি আমার নাম ভুলে গেলে। তুমি আমাকে একটুও ভালোবাসো না।
আদ্রিয়ান কথাটা বলেই কাঁদো কাঁদো মা করে, মুখটা ঘুরিয়ে নিল। আনাস্তাসিয়া তা দেখে বিরক্ত আর রাগে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে। রাগে দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বল,
__" স্টপ দ্যা ড্রামা এন্ড টেল মি ওয়াস ইউর নেম"?
আদ্রিয়ান এবার আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে, নিজের দুই হাত দিয়ে আলতো করে আনাস্তাসিয়ার দুই গালে রাখে, তারপর নিজের মুখটা তার মুখের দিকে ঝুঁকিয়ে দিল। তাদের মধ্যে এক ইঞ্চি ও ফাঁকা নেই একদম দুজন এর নাক ছুঁই ছুঁই। আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের গভীর সমুদ্রের মতো নীল চোখের দিকে তাকিয়ে থাকে।
__" দেখ বৌ তুমি আমারে ভালো না বাসলেও আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি তাই এবারের মতো তোমায় মাফ করে দিলাম। এইবার বলছি আর বলবো না মনে রাখবে। তোমার বরের নাম মানে আমার নাম আদ্রিয়ান বুঝেছ। আর ভুলবে না কেমন।
আনাস্তাসিয়া এবার নিজের মুখটা আদ্রিয়ান এর হাত থেকে ছাড়িয়ে দূরে সরিয়ে নিল। তার পর খুব স্বাভাবিক ভাবে জিজ্ঞেস করল,
__" আদ্রিয়ান তা আপনার পুরো নাম কি ? আর আপনি থাকেন কোথায়"?
__" বৌ তুমি এভাবে বলছ কেন আমার নাম তো শুধু আদ্রিয়ানই । আর আমি অন্য কোথাও থাকবো আমি তো তোমার সাথেই এই বাসায় থাকি। আমি কি তোমায় ছাড়া অন্য কোথাও এক মুহুর্তের জন্য ও থাকতে পারি।
বেশ অবাক হয়ে কথা গুলো বললো আদ্রিয়ান। তার পর আনাস্তাসিয়ার বাম হাত ধরে টেনে উঠতে উঠতে বলল,
__" এসব বাদ দাও বৌ! চলো বৌ তুমি অনেক্ষণ ধরে না খেয়ে। খাবে চলো।
আনাস্তাসিয়া নিজের হাত এক ঝটকায় ছাড়িয়ে নিল।
__" ছাড়ুন বলছি। আমার হাত ধরে টানছেন কেন"? আমি খাবো না, আমার খিদে নেই, আপনি যান রুম থেকে বের হন।
__" ও বুঝেছি তুমি কোলে উঠতে চাইছো। আগে বলবে তো তোমার এখন তোমার বরের মানে আমার কোলে উঠতে মন চাইছে।
বলেই আনাস্তাসিয়াকে কোলে তুলে নিল। তার পর দরজার দিকে পা বাড়াল।
__" আরেএএএ কি করছেন,,,,,"?
বলেই হাত পা ছুড়তে আরম্ভ করলো। আদ্রিয়ান কোন রকম পাত্তা না দিয়ে আনাস্তাসিয়াকে কোলে নিয়ে হাঁটতে লাগলো।
__" এই শয়তান লোক সমস্যা কি ছেড়ে দিন বলছি। নামান আমাকে। ছেঁড়ে দিন বলছি।
আদ্রিয়ান ছাড়লো না সে আরো শক্ত করে নিজের সাথে জড়িয়ে নিল। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় আনাস্তাসিয়ার চোখ পড়ল ডাইনিং টেবিলে উপর। সেখানে আমান বসে একটি মেয়ের সাথে কথা বলছে। মেয়েটি দেখতে লম্বা ও ফর্সা, ছাই রঙা ঘন চুল গুলো স্টেট করা যা কোমর ছুঁই ছুঁই। ঠোঁট গুলো হাল্কা গোলাপি। তার পরনে কালো ওয়েস্টান ড্রেস যা হাঁটুর সমান, পারে কালো বুট, হাতে ও গলায় ডায়মন্ডের অলঙ্কার। বাদামী চোখ, যে কেউ দেখলেই নিসন্দেহে বলে দিবে সে একজন সুন্দরী রমণী। সিঁড়ি দিয়ে কারোর নামার আওয়াজ পেয়ে দুজনেই তাকাল। তাকাতেই দু'জনের মুখে বিস্ময়ের রেখা ফুটে উঠল। কারণ আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে কোলে করে নিয়ে আসছে। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়াকে চেয়ারে বসিয়ে নিজে পাশের চেয়ারে টেনে বসল।
__" উহ বাবাগো। তুমি কি বলোতো হ্যাঁ। কি এতো পরিমান খাও তুমি। কি ভারী বাবাগো। কোন আটার বস্তার চেয়ে কম না। শোন আর কখনো এরকম কোলে উঠার বায়না করবে না। আমি তোমাকে আর উঁচু করতে পারব না।
আনাস্তাসিয়া রাগে চেঁচিয়ে বলে,
__" এই আমি আপনাকে কোলে নিতে বলেছি হ্যাঁ। আপনিই তো আমাকে জোর করে কোলে তুলে নিলেন। আর আপনি আমাকে মোটা বললেন? আপনি জানেন আমি মাত্র ফর্টি ফাইভ কেজি।
__" আচ্ছা বৌ আমার ভুল হয়েছে এ'ম সরি। রাগ করো না,দেখ তোমার জন্য আমি নিজের হাতে কোত কিছু রান্না করেছি।
আনাস্তাসিয়া সামনে তাকাতেই দেখল টেবিল ভর্তি সুস্বাদু সব গরম গরম খাবার সাজানো। এই প্রথম তাদের ডাইনিং টেবিল ভর্তি এতো খাবার সাজানো দেখলো। খাবারের তালিকায় রয়েছে বোরশট (বিটরুট স্যুপ), শ্চি (বাঁধাকপির স্যুপ), বা হালকা সবজির স্যুপ। হেরিং বা স্যামনের মতো মাছ সেদ্ধ, গ্রিল বা ধূমায়িত (smoked) করে খাওয়া হয়। গ্রিল করা বা সেদ্ধ মুরগি, গরুর মাংসের সাথে আলু, বাঁধাকপি, গাজর ও বিটরুট সালাদ।কাশু (Kasha/Buckwheat): এটি একটি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর এবং সাধারণ রুশ খাবার, যা এক ধরণের শস্য দিয়ে তৈরি এবং ভাতের মতো খাওয়া হয়। আরো আছে ফ্রেশ সবজির সালাদ বা মেয়োনেজ ছাড়া হালকা সালাদ,পেলমেনি (Pelmeni): মাংস দিয়ে তৈরি ডাম্পলিং, যা সাধারণত সেদ্ধ করে খাওয়া হয়,কালো বা বাদামী রুটি (Borodinsky bread)।
আনাস্তাসিয়া বেশ অবাক হলো একজন মানুষ এতো কিছু একা কি করে রান্না করতে পারে। খাবার গুলো দেখতেই সুস্বাদু মনে হচ্ছে। আনাস্তাসিয়া একটু সন্দেহ নিয়ে আদ্রিয়ান এর দিকে চোখ ছোট ছোট করে তাকালো।
__" এতো সব রান্না আপনি নিজের হাতে করেছেন?
__" কোন সন্দেহ আছে ? আমি ছাড়া আর কে করবে বলো? আমি নিজের হাতে ভালোবেসে আমার বৌয়ের জন্য সব রান্না করেছি।
আনাস্তাসিয়া আর কথা বাড়ালো না। সে জানে এখন কিছু বললেই আর কথা বাড়বে। তাই সে আদ্রিয়ান এর দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে বলল,
__" লেনি কখন যে আসলে তুমি? আর আমাকে জানালে না যে তুমি আজ আসবে"?
__" এই তো কিছুক্ষণ আগেই এসেছি। আমান বললো তুমি খুব ক্লান্ত রেস্ট নিচ্ছ তাই তোমাকে যেন এখন ডিস্টার্ব না করি। তাই আর জানানো হয় নি।
__" মিশনের কি হলো"?
__" মিশন সাকসেসফুল। সব গুলোকে মেরে কেটে টুকরো টুকরো করে কুকুরদের খাইয়ে দিয়েছি।
__" গুড! আমাকে শেষ করতে চেয়েছিল না এখন নিজেরাই শেষ।
অতঃপর ঠোঁটের কোণে একটু হাসি ফুটে উঠল। লেনি নামের মেয়েটা আদ্রিয়ান এর দিকে এক পলক তাকিয়ে বলে,
__" আনাস্তাসিয়া ইনি কে? আর তুমি বিয়ে করলে কবে? আমাকে তো একবার বললেও না।
__" আমি কাউকে বিয়ে করিনি। আমান এর গাড়ির সাথে এক্সিডেন্ট হয়েছে যার ফলে এর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে গেছে। আর আমাকে তার বৌ ভাবছে বেস আর কিছু না।
অনাস্তাসিয়ার কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথে আদ্রিয়ান বলে উঠল,
__" বৌ তুমি এভাবে বলছ কেন? আমি তোমার বর এটা বলেই হয়! তুমি না বলছো কেন?যে আমি তোমার বর না? তোমার কি আর একটা বিয়ে করার ইচ্ছে আছে নি যে তুমি আমাকে তোমার বর মানছ না। এমন ইচ্ছে থাকলে ইচ্ছে কে মাটি চাপা দেও আমি তোমাকে কখনো অন্যকারো হতে দেব না।
তার পর লেনির দিকে তাকিয়ে বলল,
__" হাই আমি আদ্রিয়ান, আনাস্তাসিয়ার হাসবেন্ড। তুমি কে তোমাকে তো চিনলাম না?
লেনি মলিন হেসে বলে,
__" হাই আমি লেনি আনাস্তাসিয়ার সাথে বহু বছর ধরে কাজ করি। আনাস্তাসিয়ার বডি গার্ড ও বলতে পারো।
এরপর আর কিছু না বলে সকলে খাওয়া শুরু করলো। খাবার খাওয়ার মাঝে আদ্রিয়ান আর চোখে আনাস্তাসিয়াকে দেখ আর আনাস্তাসিয়া নিজের মতো খেতে থাকে। খাবার খাওয়া শেষে সকলে লিভিং রুমের সোফায় জেয়ে বসল। আনাস্তাসিয়া বড় সোফায় বসে তার ডান পাশে আদ্রিয়ান বাম পাশের সিঙ্গাল সোফায় আমান অপর পাশে লেনি। আনাস্তাসিয়া হঠাৎ কাউকে ডেকে উঠলো,
__" স্কারফেস.....চু...চু... কাম হেয়ার।
তখনি একজন গার্ড গলায় শিকল বাঁধা কালো সিংহকে নিয়ে এলো। আনাস্তাসিয়া তাঁকে ইশারা করে শিকল খুলে দিতে বলতেই সে খুলে দিল। ছাড়া পেয়েই স্কারফেস আনাস্তাসিয়ার দিকে ছুটে এলো। কালো রঙের হিংস্র সিংহ টিকে দেখে আমান, আদ্রিয়ান ও লেনি সহ সকল বডি গার্ড দূরে সরে গেল। কারণ স্কালফেস এতোটাই ভয়ঙ্কর আর হিংস্র যে আনাস্তাসিয়া যখন না থাকে তখন সে ভয়ঙ্কর সব কান্ড ঘটায়। বহু বছর ধরে স্কারফেস তার মালিকের খুব আদরের। স্কারফেস সোজা তার মনিবের পায়ের কাছে গিয়ে মাথা ঘসতে লাগলো। আনাস্তাসিয়া আলতো করে তার মাথায় আর গলায় হাত বুলিয়ে দিল। সে পরম আবেশে তার মনিবের পায়ের কাছে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পরলো।
অপর দিকে আদ্রিয়ান স্কারফেসকে দেখে ভয়ে কয়েক বার শুকনো ঢোঁক গিলতে লাগলো। কালো সিংহের লাল লাল চোখ গুলো যেন জ্বলছে। স্কারফেসকে দেখতে ভিশন ভয়ঙ্কর লাগছে। আদ্রিয়ান এর মনে হচ্ছে এখনি বুঝি ছুটে এসে তার উপর হামলা করবে। তার চোখে মুখে স্পষ্ট ভয় ফুটে উঠেছে। ভয়ে চোখ গুলো বড় বড় হয়ে গিয়েছে। সে কখনো ভাবতে ও পারেনি আনাস্তাসিয়া এতো ভয়ঙ্কর একটা প্রাণীকে এভাবে নির্ভয়ে কাছে টেনে আদর করতে পারে। স্কারফেসকে দেখেই তার শরীরে পানি শুকিয়ে গেছে। তর এই ভাবনা চিন্তার মধ্যেই আনাস্তাসিয়া স্কারফেসের মাথা আর গলায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে,
__" my good boy.
তার পর একজন গার্ড কে ইশারায় স্কারফেসকে নিয়ে গিয়ে খাবার দিতে বললো। তারপর শেষ বারের মত স্কারফেসকে আদর করে দিল। গার্ড এসে স্কারফেসকে নিয়ে যেতেই তার তিন জন সোফায় বসে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলে। তখনি দরজা দিয়ে একটি সুদর্শন যুবকে আসতে দেখা গেল। ছেলেটি পরনে সাদা শার্ট কালো প্যান্ট আর কালো রং ওভারকোট। স্টাইলিশ ভাবে কাটা বাদামী রঙের চুল গুলো জেল দিয়ে এক পাশে সেট করা। ফর্সা মুখে ক্লিন শেভ করা, ঠোঁট গুলো হাল্কা রেড কালার। হাতে ব্যান্ডের ওয়াচ আর কালো রঙের একটা সুটকেস, পায়ে ব্রাউন ফর্মাল শু। তার হাঁটার স্টাইল তার সবকিছুই যেন অসাধারণ। সকলে ছেলেটির দিকে তাকিয়ে থাকলো। তখনি আনাস্তাসিয়া ছেলেটিকে বলল
,
__" চকলেট প্রিন্স এথেরিয়ন তুই এখানে ?
চকলেট প্রিন্স এথেরিয়ন যায় চকলেটের আরালে তৈরি হয় ড্রাগ সহ বিভিন্ন নেশা দ্রব্য। যার চকলেট তৈরির ফেক্টরির চকলেটের আরালে তৈরি হওয়া ড্রাগ আর নেশা দ্রব্য অন্ধকার কালো মাফিয়া জগতে খেত । সে সকল ড্রাগ ডিলারদের ড্রাগ আর নেশা দ্রব্য সাপ্লাই দিয়ে থাকে। অতীতে তার পুর্ব পুরুষেরা রাশিয়ার সবচেয়ে বড় চকলেট তৈরির ব্যবসা ছিল। তাই তাদের চকলেটের রাজা বলা হতো। এথেরিয়ন এই ব্যবসার একমাত্র উত্তরাধিকারী হওয়ায় তাকে সকলে চকলেট প্রিন্স বলে। সেই এই চকলেটের আরালে ড্রাগ তৈরির ব্যবসা শুরু করে। চকলেট প্রিন্স এথেরিয়নকে কেউ কেউ ভয়ঙ্কর হায়নার ও বলে থাকে। কারণ তার বুদ্ধিমত্তা আর শিকারি নজর। তার বুদ্ধিমত্তার কোন তুলনা হয় না, শত্রুকে দেখেই তার পরবর্তী পদক্ষেপ বুঝে যায়। তার শিকারি নজর দেখে একবার যা দেখে সে তা হাসিল করে ছাড়ে। এথেরিয়ন বেশ অনেক বছর ধরেই আনাস্তাসিয়ার সাথে কাজ করে আসছে। চকলেট প্রিন্স আনাস্তাসিয়ার ছোট বেলার বন্ধু। আমান আর আনাস্তাসিয়ার সাথে একসাথেই বড় হয়েছে। মূলত এথেরিয়ন তাদের বাবার ছোট বেলার অতি কাছের বন্ধুর ছেলে। তাদের সম্পর্ক বন্ধুত্ব কম ভাই ভাই এর ছিল বেশি। বেশিরভাগ সময় বিজনেস এর কারণ এথেরিয়নের বাবা মা দেশের বাহিরে যেতে হতো।তাই এথেরিয়নকে অনাস্তাসিয়াদের বাসায় রেখে যেত।যার ফলে আমান, আনাস্তাসিয়া আর এথেরিয়নের একসাথে বড় হওয়া। এবং এই অন্ধকার জগতে নিজেদের রাজত্ব গড়ে তোলা।
এথেরিয়ন সোজা এসে আনাস্তাসিয়ার গা ঘেঁষে সোফায় বসে পরলো। হাতের সুটকেসটা সামনের টেবিলের উপর রেখে দিয়ে সোফার দুদিকে হাত ছড়িয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিল। সকলে তার দিকে কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থাকল। এই তাকানোর মধ্যে দুজনে তাকানো ছিল একটু আলাদা। তার দুজন হলো আদ্রিয়ান আর লেনি। লেনি চকলেট প্রিন্স এর দিকে মুগ্ধ ভাবে তাকিয়ে আছে। তার চাহনিতে আছে একরাশ ভালোবাসা আর মায়া। চকলেট প্রিন্সের ক্লান্তি মাখা মুখটা দেখে তার বুকের বাম পাশটা ধুক করে উঠলো। কি মায়া এই ছেলেটার মুখে, তার সবকিছুই যেন অসাধারণ হাঁটা চলা থেকে শুরু করে কথা বলা সব যেন তাকে মুগ্ধ করে। লেনির কাছে মনে হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সুদর্শন পুরুষ হয়তো এই চকলেট প্রিন্স। তার অতি ভালোবাসার একটা মানুষ, এখন তাকে দেখতে কি নিষ্পাপি না লাগছে। কে বলবে একে দেখলে যে সে কতটা ভয়ংকর। লেনি এক ধেয়ানে তাকিয়ে রইল চকলেট প্রিন্স এর দিকে।
অপর দিকে আদ্রিয়ান ভ্রু কুঁচকে চোখ ছোট ছোট করে চকলেট প্রিন্সের দিকে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারছেনা এ আবার কোন কেরেক্টার। কোন কথা ছাড়াই আনাস্তাসিয়ার পাশ ঘেঁষে বসে আছে। আবার আনাস্তাসিয়া তাকে 'তুই' বলে সম্বোধন করছে, ব্যাপারটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না।এ আবার আনাস্তাসিয়ার বয়ফ্রেন্ড টয়ফ্রেন্ড নয় তো, কিছু ভেবে পাচ্ছেনা তাই সে ও তাকিয়ে রইল। এমন সময় চকলেট প্রিন্স চোখ খুলে তাকালো তারপর আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
__"হাই মাই রেড মুন। এভরিথিং ইজ অল গুড?
__" ইয়েস এভরিথিং ইজ অল ওকে। বাট তুই এখানে কি করছিস?
__" কেন আমি কি আসতে পারি না"?
__" পারিস বাট আমি যতদূর জানি তুই এমনি এমনি তো আসিস নি"।
__" right, I brought new goods. তাই তোমাকে দেখাতে এলাম"।
__" চল উপরে চল এখানে দেখানোটা ঠিক হবে না"।
চকলেট প্রিন্স উঠতে যেতেই তার চোখ গেল আদ্রিয়ান এর দিকে। তার দিকে তাকিয়ে ভাবল আগে তো একে এখানে দেখে নি। দেখে গার্ড বা কোন ক্লাইন্ট ও মনে হচ্ছে না। কারণ তার পরনে রয়েছে একটি সবুজ টিশার্ট আর কালো ট্রাউজার। সেও ঠিক আনাস্তাসিয়ার পাশ ঘেঁষে বসে আছে। তাই চকলেট প্রিন্স ভ্রু দুটি কুঁচকে আদ্রিয়ান এর দিকে তাকিয়েই আনাস্তাসিয়াকে জিজ্ঞেস করলো,
__" রেড মুন এই লোকটি কে আগেতো দেখিনি"?
আনাস্তাসিয়া এবার আদ্রিয়ান এর দিকে তাকাল। দেখল আদ্রিয়ান ও তার দিকেই তাকিয়ে আছে যার ফলে দুজন এর মধ্যে চোখাচোখি হলো। চোখাচোখি হতেই আনাস্তাসিয়া চোখ নামিয়ে নিল তার পর কিছু বলতে যাবে তার আগেই একটি পুরুষালী হাঁসি মেশানো কন্ঠে শুনা গেল,
__" হাই ব্রো, আমি আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার হাসবেন্ড"।
আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ান এর দিকে তাকাতেই দেখল আদ্রিয়ান চকলেট প্রিন্স এর দিকে তার এক হাত বাড়িয়ে দিয়েছে হেডসেট করার জন্য। চকলেট প্রিন্স মুলিন হেসে হাত বাড়িয়ে হেডসেট করে বলে,
__" হাই আমি চকলেট প্রিন্স এথেরিয়ন, আনাস্তাসিয়ার ছোট বেলার বন্ধু"।
বাক্য শেষ হওয়ার সাথে সাথে আদ্রিয়ান তার হেডসেট করা হাত আর শক্ত করে চেপে ধরল। এতে চকলেট প্রিন্স এর ভ্রু কিছুকা কুঁচকে এলো। তার পর কিছু একটা ভেবে বাঁকা হেসে সেও তার সর্ব শক্তি দিয়ে হাত চেপে ধরে। অতঃপর আদ্রিয়ান ও শয়তানি একটা বাঁকা হাসি ঠোঁটের কোণে ঝুলিয়ে হাতের চাপ বাড়ায়। এভাবেই তারা একে অপরের চোখের দিকে তাকিয়ে হাতের বলপ্রয়োগ করতে থাকে। তাদের দৃষ্টি দুজনে চোখের দিকে, মনে হচ্ছে তারা চোখ দিয়েই এঁকে অপরকে জ্বালিয়ে ভস্স করে দিবে। আনাস্তাসিয়া এদের কান্ড দেখে বিরক্ত নিয়ে হাল্কা চেঁচিয়ে বলে,
__" কি করছো কি তোমরা দুজন? হাত ছাড়ো"।
আনাস্তাসিয়ার কন্ঠ শুনে দু'জনের হুঁশ ফিরতেই এঁকে অপরের হাত ছেড়ে দিল। অতঃপর চকলেট প্রিন্স আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে পূণরায় জিজ্ঞেস করে,
__" বললে না তো কে এ ?
__"পরে সব বলছি, আগে উপরে চল"।
বলেই উঠে দাঁড়ালো, তার সাথে সকলেই দাঁড়িয়ে গেল। আনাস্তাসিয়া এক পা বাড়াতেই লক্ষ্য করল আদ্রিয়ান ও তাদের সাথে যাচ্ছে। তাই সে এক ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর ও শান্ত স্বরে জিজ্ঞাসা করলো
,
__" আপনি কোথায় যাচ্ছে "?
__" কেন বৌ তোমাদের সাথে, তুমি যেখানে যাবে আমিও সেখানেই যাব।
__" কেন? আমি যদি এখন মরতে যাই তাহলে ও
আমার সঙ্গে যাবেন"?
আদ্রিয়ান দুই কদম সামনে এসে আনাস্তাসিয়ার দু হাত নিজের দু হাতের মধ্যে নিয়ে হাল্কা ও মায়া জড়ানো কন্ঠে বলে,
__"মৃত্যু তো কেবল জীবনের শেষ, কিন্তু আমাদের ভালোবাসা তার ওপারেও অনন্ত। তুমি যেখানেই যাবে, আমি তোমার আত্মার ছায়াসঙ্গী হয়ে ঠিক সেখানেই থাকব।"
আদ্রিয়ান এর কথা গুলো শুনে আনাস্তাসিয়ার বা পাশটা ধুক করে উঠলো। সে কিছু ক্ষণ আদ্রিয়ান এর গভীর সমুদ্র নীল চোখের দিকে তাকিয়ে ভাবল। কি তাতে এই চোখে যা তাকে বার বার আকর্ষণ করে। তার ভেতরে অবাধ্য অনুভূতি গুলো কে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। তার কথা গুলো শুনে মনের ভেতর অদ্ভুত এক অনুভূতিরা জাগান দিয়ে উঠলো। কি আছে এই পুরুষটির মাঝে যা তাঁকে বার বার তার দিকে টানে। সে আদ্রিয়ানের কথা কোন উত্তর দিতে পারলো না। তার বলার ভাষাই হারিয়ে গেছে, তবুও সে গম্ভীর গলায় বলে,
__" বলেছিত যাবেন না মানে যাবেন না। আমি এক কথা দ্বিতীয় বার বলতে পছন্দ করি না। মাইন্ড ইট।
বলেই হন হন করে চলে গেল, তার পিছে বাকিরাও চলে গেল। আদ্রিয়ান তাদের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিল।
_______________>>>>>>>>>>>>>______________
রাতের আবহাওয়া শীতল ও চারিদিকে তুষারপাত হচ্ছে। এই তুষারপাতে নিচে চাপা পড়ে আছে জঙ্গলের গাছপালা আর পাহাড়। আর এই জঙ্গলের মাঝখানে দাড়িয়ে আছে বিশাল আলিশান সাত তলা রাজকীয় একটি কালো রঙের ভবন। ভবনটির চার তলায় একটি কক্ষে ছেয়ে আছে পিনপতন নীরবতা। কক্ষটি দেখে মনে হচ্ছে এটি একটি অফিসের কেবিন। যার চারিদিকে অভিজাত ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আধুনিক সব আসবাবপত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে চারিদিক। কক্ষের মাঝখানে রয়েছে একটি ডেক্সটপ যার উপরে সাজানো রয়েছে ফাইলের পাহাড়। দরজা থেকে সোজা তাকালে বিশাল গ্লাসের দেওয়াল যা দিয়ে বাহিরের দৃশ্য সম্পুর্ন দেখা যায়। ডেক্সটপের সামনে কিছু দূরে সাজানো রয়েছে মাঝারি আকারের সোফা সেট। আর সোফার মাঝখানে ছোট একটি টি টেবিল। টেবিলের চারপাশে গোল করে সোফায় বসে আছে আমান,আনাস্তাসিয়া, লেনি আর চকলেট প্রিন্স। আনাস্তাসিয়ার মুখোমুখি বসে আছে চকলেট প্রিন্স এথেরিয়ন আর ডান পাশে বসে আছে আমান বাম পাশে লেনি। তাদের সকলের দৃষ্টি টেবিলের উপর খুলে রাখা কালো সুটকেসে আটকে আছে। যার ভেতরে রাখা আছে অসাধারণ সব লোভনীয় চকলেটর মতো দেখতে ড্রাগ। কেউ দেখলে বুঝতেই পারবে না যে এটা আসলে চকলেট নাকি ড্রাগ এতোটাই নিখুঁত ভাবে তৈরি করা। তাঁরা সকলেই নিস্তব্ধ হয়ে চেয়ে আছে সেই দিকে। সকলেই যেন গভীর ভাবনায় বিভর। তাদের এই নিরবতা ভেঙ্গে এথেরিয়ন বলে,
__" কি কেমন মাল গুলো"?
এথেরিয়নের কন্ঠ শুনে সকলের ধ্যান ভাঙল। কিন্তু আনাস্তাসিয়া যেন কোন এক মহে ডুবে আছে। সে ধীরে ধীরে তার ডান হাত বাড়াতে লাগলো সুটকেসের দিকে, তখনি আচমকা তার হাতে থাপ্পড় পরতেই চমকে গেল।
__" কি করছিস তুই এটা চকলেট না ভুলে গেছিস?
আমান এর ধমক শুনে আনাস্তাসিয়া তার দিকে তাকিয়ে বোকা হাসলো।
__" আসলে দেখতে এতো লোভনীয় যে একটা খেতে ইচ্ছে করছিল তাই আর কী...।
কথাটি শুনে আমান একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। সে ভেবে পায় না মেয়েরা এতো চকলেট পছন্দ করে কেন। তার উপর তার বোন ছোটবেলায় খুব চকলেট প্রেমি ছিল। এক কথায় বলতে গেলে চকলেটের পাগল, তাঁর জন্য পুরো একটা রুম চকলেট আর আইসক্রিম ভর্তি ছিল। প্রতি সপ্তাহে সেটা ফেকা হয়ে গেলে আবার ভরে দেওয়া হতো। আর তার সেই বোনের জীবন থেকে সে সকল মিষ্টি যেন হারিয়ে গেছে। এখন আর সে সবের দিকে তাঁর কোন টান বা আগ্রহ কিছুই নেই। অতঃপর সে আবারো দীর্ঘশ্বাস ফেলে। তখনি লেনি বলে উঠল,
__" তাঁর মানে দেখা গেল যে যেখানে ম্যাডাম নিজে জানে এগুলো ড্রাগ তবুও সে ভুলে চকলেট ভেবে খেতে চাইছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ তো বুঝতেও পারবেনা।
লেনির কথায় সবাই তার দিকে তাকিয়ে উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।এথেরিয়ন গম্ভীর কণ্ঠে বলে,.
__" তাহলে ভেবে দেখো এই মাল গুলো মার্কেটে আনলে আবেদন কতো লাভ হবে।
__" লাভ তো হবেই তাঁর সাথে সকলে এর উপর দ্রুত আসক্ত ও হবে।
__" ইউ আর রাইট আমান, আমরা তো সেটাই চাই। মানুষ যত আসক্ত হয়ে তত চাহিদা বাড়বে, আর যত চাহিদা বাড়বে তত বিক্রি হবে, আর যত বিক্রি হবে তত টাকা আসবে। তুমি তো জানো আরশিতা আহমেদ আনাস্তাসিয়া লাইফের একটাই রুল, Life means money and power, power and money mean life.
বলেই শয়তানি একটা হাসি দিল আনাস্তাসিয়া। তখনি আমান আবার বলল,
__" কিন্তু ওই নিতান আহসান যেভাবে উঠে পড়ে লেগেছে আনাস্তাসিয়ার বিরুদ্ধে প্রমাণ খোঁজার জন্য। যদি সে একবার জানতে পারে তাহলে আমাদের ঠিক আটকানোর চেষ্টা করবে।
আমানের কথায় আনাস্তাসিয়া রাগে চেঁচিয়ে দাঁত কিরবির করে বলে,
__" ফা***ক ইউ আমান। তোমার কি মনে হয় ওই ব্লাডি সন অফ আ বিচ টার মাথায় এতো বুদ্ধি আছে যে সে আমার ক্ষতি করবে।
__" আমি সেই ভাবে কিছু বলতে চাই নি কিন্তু...
__" কিন্তু কি? নেস্ট টাই এই কিন্তু টিন্টু আমার সামনে করতে আসবে না। আমি এই সব কিছু পছন্দ করি না মাইন্ড ইট।
আনাস্তাসিয়া রেগে আছে বলে আমান আর কিছু বললো না। আনাস্তাসিয়াকে রেগে থাকতে দেখে এথেরিয়ন তাকে শান্ত করতে বলল,
__" কুল ডাউন রেড মুন, কুল ডাউন। এভাবে রেগে গিয়ে কোন লাভ নেই। আমাদের শান্তভাবে মাথা ঠান্ডা করে কাজ করতে হবে।
এথেরিয়নের কথায় এবার কিছুটা শান্ত হলো সে। তার পর গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
__" তাহলে ডিল ফাইনাল করা যাক"?
__" yes sure whay not.
তার পর দু'জনের মুখেই হাসি ফুটে উঠল। তার পর এথেরিয়ন উঠে দাঁড়িয়ে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে বলে,
__" তাহলে এখন আসি, আবার দেখা হবে। গুড নাইট রেড মুন।
__" গুড নাইট, হ্যাভ আ গুড জার্নি"।
এথেরিয়ান মৃদু হাসলো তার পর দরজার দিকে পা বাড়াতেই লেনিও তার পিছনে পিছনে গেল। করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ কোন মেয়ের কন্ঠ পেয়ে থেমে গেল এথেরিয়ন। মৃদু হেসে পিছনে তাকিয়ে দেখলো লেনি হাস্যজ্জ্বল মুখে তার দিকেই আসছে। লেনি এথেরিয়নের সামনে এসে তার মুখ মুখি দাঁড়াল। এথেরিয়ন একবার লেনির পা থেকে মাথা পর্যন্ত স্কেন করে দেখল। মেয়েটাকে দেখতে তাঁর কাছে খুব মিষ্টি লাগে। ফুলোফুলো ফর্স গালে সব সময় পিঙ্কিস একটা ভাব বাদামী রঙ্গা বড় বড় দুটো চোখ সবমিলিয়ে তার আছে দেখতে ভীষণ কাউট লাগে এই মেয়েটাকে। মাঝেমাঝে মনে চায় গাল দুটো একটু টেনে দেই।সে স্লাম হেঁসে বলে,
__" কবে আসলে লেনি? শুনেছি মিশনে গিয়েছিলে।
__" এইতো কিছুক্ষণ আগেই আসছি। কেমন আছেন আপনি? এখন আগের মত এখানে আসেন ও তো না"।
__" এতো যেমন দেখছ সুস্থ সবল ভালো। আর একটু নতুন ডিল নিয়ে ব্যস্ত আছি তাই আর আসা হয় না"।
__" ওওও
লেনির এমন হালকা রিঅ্যাকশন দেখে এথেরিয়ন একটু দুষ্টুমি করে হেঁসে সিরিয়াস মুখ করে গম্ভীর কণ্ঠে ভ্রু কুঁচকে চোখ ছোট ছোট করে বলে,
__" তুমি কি শুনতে চাইছিলে আমি ভালো নেই দুঃখে আছি বা অসুস্থ আছি হুম..."।
এথেরিয়নের এমন কথা শুনে লেনি কিছুটা ভরকে গেল অতঃপর সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানিয়ে দুই পাশে মাথা নাড়িয়ে বলে,
__" এই না না আমি কখন এসব বললাম? আমি তো দুঃস্বপ্নেও এমন কিছু ভাবতে পারিনা।
এথেরিয়ন লেনিকে এমন ভরকে যেতে দেখে তাঁর প্রচন্ড হাঁসি পেত। তবুও সে ঠোঁট চেপে হাঁসি আটকানোর চেষ্টা করলো। কি নিষ্পাপ আর কিউট লাগছে মেয়েটাকে এরকম ভয় পেয়ে দেখে। কে বলবে এই কিউট মেয়েটা কোত মানুষকে কি নৃশংস ভাবে নিজের হাতে খুন করেছে। তাঁকে দেখলে কেউ বিশ্বাসি করবেনা যে সে এই কাজ করতে পারে। এথেরিয়ন মূলিন হেসে লেনির মাথা হাত দিয়ে চুল এলোমেলো করে আলতো করে তার গাল টেনে বললো,
__" এতো বিচলিত হওয়ার কিছু নেই আমি জাস্ট একটু মজা করছিলাম। এখন তাহলে আসি, গুড নাইট।
বলেই লেনির প্রতি উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করে চলে গেল। আর লেনি তার যাওয়ার দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে রইল। প্রিয় পুরুষটির যাওয়ার পানে তাকিয়ে আনমনে বসে উঠল,
__"তুমি আমার সেই সুন্দর সকাল, যার আলোয় আমার পুরো দিনটা আলোকিত হয়ে ওঠে।""আমার সব ক্লান্তি আর খারাপ লাগা দূর হয়ে যায়, শুধু তোমার একটা মিষ্টি হাসি দেখলে।""আমি হয়তো তোমাকে বলতে পারি না, কিন্তু আমি তোমাকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসি।"
__"আমার জীবনের সবচেয়ে বড় গল্পটা শুধু তোমাকে ঘিরেই শুরু হয় আর তোমাতেই শেষ হবে।""হাতের রেখায় যা-ই থাকুক না কেন, আমি চাই আমার জীবনের প্রতিটি অধ্যায় শুধু তোমার সাথে কাটুক।"
তার পর একটু থেমে আবার বলল,
__"হাঁটতে হাঁটতে কখনো যদি পেছন ফিরে তাকাতে ইচ্ছে হয়, তবে দেখবে আমি ঠিক আগের জায়গাতেই দাঁড়িয়ে আছি—শুধু তোমার অপেক্ষায়।"
এথেরিয়ন চোখের সামনে থেকে মিলিয়ে যেতেই লেনি মুলিন হেসে নিজের কক্ষে চলে গেল।
লেনি চলে যেতেই দরজার আড়াল থাকে বেরিয়ে এতো আদ্রিয়ান। সে এতোক্ষণ ধরে দরজার আড়ালে লুকিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু পর্যবেক্ষণ করছিল। আদ্রিয়ান আবার ঘার বাঁকিয়ে কেবিনে দিকে তাকিয়ে রহস্যময় এক বাঁকা হাসি দিয়ে সেখান থেকে চলে গেল।
অপর দিকে আনাস্তাসায়া চোখ বন্ধ করে গভীর ভাবনায় ডুবে আছে। তার পাশেই কিছু দূরে বড় জানালার সামনে দাঁড়িয়ে বাহিরের দিকে তাকিয়ে সিগারেট খাচ্ছে। পুরো ঘর জুড়ে নিস্তব্ধতা বিরাজমান। ঘরের নিস্তব্ধতা ভেঙে আমান বলে,
__" ওই ছেলেটার কি ব্যবস্থা করবি ভেবে দেখেছিস"?
অনাস্তাসিয়া চোখ বন্ধ করেই স্বাভাবিক ভাবে বলে,
__" কে আদ্রিয়ান এর কথা বলছো"?
__" হ্যাঁ"।
__" এখন ভেবে দেখিনি"।
একটু থেমে আবার বলে,
__" আদ্রিয়ান এর ব্যাপারে খোঁজ নেউ আমার তাঁর সম্পর্কে সম্পূর্ণ ডিটেইল চাই, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব"।
__" কালকের মধ্যেই খোঁজ নিচ্ছি। এখন যা রেস্ট নে অনেক রাত হয়েছে"।
আনাস্তাসিয়া এবার চোখ খুলে উঠতে উঠতে বলে,
__" তুমি ও চলো অনেক রাত হয়েছে,তোমার ঘুমানোর প্রয়োজন"।
__" হুম"।
বলেই দুজনে কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেল।
আদ্রিয়ান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে, তখনি হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠলো। প্যান্ট এর পকেট থেকে ফোন বের করে স্ক্রিনের দিকে তাকাতেই ভেসে উঠলো "এরিক" নাম। সে ফোন রিসিভ করে কানে ধরতেই উপর পাশ থেকে চিন্তিত কন্ঠে ভেসে এলো,
__" বস আপনি ঠিক আছেন? আপনার কিছু হয় নি তো"?
__" রিল্যাক্স এরিক কুল ডাউন। এ'ম ফাইন, আমার কিচ্ছু হয়নি।
__" বস আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম, আপনি যেভাবে গাড়ির সামনে লাফ দিতেন"।
__" ভয় পেলে চলবে? ভয় পেলে মিশন কমপ্লিট করবো কি করে"?
__" কিন্তু বস আনাস্তাসিয়া ম্যাম যদি একবার জেনে যায়, আপনি স্মৃতিশক্তি হারানোর অভিনয় করছেন। তখন কি হবে একবার ভেবে দেখেছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা সে যদি একবার জানতে পারে আপনি আশরাফ শেখ এর ছেলে। তখনি আপনাকে সে শেষ করে দিবে বস।
__" এতো চিন্তা করো না এরিক, আমি সব সামলে নিব। আর তুমি হয়তো ভুলে যাচ্ছো আহিয়ান শেখ আদ্রিয়ানকে ধরা এতো সহজ নয়। আর আমি কি কি করতে পারি তার ধারণা তোমার নিশ্চয়ই আছে"।
__" কিন্তু বস...
__" কোন কিন্তু নয়, তোমাকে যে দায়িত্ব দিছি সেটা পালন করো"।
একরিকে আর কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিয়ে পকেটে ঢুকিয়ে রাখলো। তার পর বাঁকা হেসে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবল। সে কিভাবে ডাক্তারকে টাকা খাইয়ে আনাস্তাসিয়াকে মিথ্যে বলেছে। মূলত ডাক্তার তাদের হয়েই কাজ করে বহু বছর ধরে। তাই ডাক্তারকে দিয়ে মিথ্যে বলিয়েছে যাতে সে আনাস্তাসিয়ার কাছে থাকতে পারে, আর তার উপর চব্বিশ ঘন্টা নজর রাখতে পারে সে জন্য। তাই তো এরকম বউ পাগল বোকা স্বামীর অভিনয় করা। যাতে তার উপর কোন সন্দেহ না হয়। আদ্রিয়ান এর এসব ভাবনার মধ্যে দরজা দিয়ে কক্ষে প্রবেশ করলো আনাস্তাসিয়া। সে কক্ষে ঢুকে আদ্রিয়ানকে না দেখতে পেয়ে ভ্রু কুঁচকালো। তার পর পুরো রুমে চোখ বুলিয়ে তার দৃষ্টি থমকালো বেলকনির দিকে। আদ্রিয়ান বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। দরজা খোলার আওয়াজ পেতেই আদ্রিয়ান আকাশের দিক থেকে মুখ ঘুরিয়ে পিছে তাকালো। আনাস্তাসিয়াকে দেখতে পেয়ে বাঁকা হেসে তার দিকে এগোলো। আদ্রিয়ান কে দেখে আনাস্তাসিয়া জিজ্ঞেস করে,
__" ওখানে কি করছিলেন আপনি"?
আদ্রিয়ান তার সামনে এসে দাড়িয়ে আচমকাই তার কোমর চেপে ধরে এক টানে নিজের সাথে মিলিয়ে নিল। যার ফলে আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার একেবারে সন্নিকটে চলে আসে। সে একটু ঝুঁকে আনাস্তাসিয়ার মুখোমুখি হয়। এর ফলে তার গরম নিঃশ্বাস আনাস্তাসিয়ার মুখের উপরে পরে। আচমকা পুরুষালী স্পর্শে তার শরীর কেঁপে উঠে। হঠাৎ এমন হওয়ায় সে কিছুটা বিব্রত হয়ে হত বিম্বের মতো আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে। আদ্রিয়ানের এতো কাছে থাকার ফলে তার মেনলি পারফিউমের মিষ্টি শুভাশ তার নাকে আসে। যা তার পুরো মস্তিষ্ক জুড়ে মাতাল করে দেয়। সে চোখ বুজে পরম আবেশে একটি লম্বা নিঃশ্বাস নেয়। তার পর ঘোর লাগা দৃষ্টিতে আদ্রিয়ানের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার চোখ মুখ দেখে মনে হচ্ছে যেন সে নেশা করে আছে। তার হৃদয় স্পন্দন যেন পবল গতিতে বাড়তে থাকে। হঠাৎ পুরুষালী কন্ঠে তার ঘড় কেটে যায়।
__" বৌ তুমি এতোক্ষণ কোথায় ছিলে। বৌঔঔঔ।
আনাস্তাসিয়ার ধ্যান ভাঙ্গতেই সে আদ্রিয়ানের থেকে ছিটকে দূরে সরে যায়। অতঃপর আদ্রিয়ান আবার বলে,
__" ও বৌঔঔঔ কি গো কি ভাবছো। আমার কথা ভাবছো বুঝি "?
__" দেখুন বারবার এক কথা বলবেন না। আমি আপনার বৌ নই। আর হ্যাঁ আমি কোন পরপুরুষের কথা ভাবি না। আর নেক্সট টাইম আমাকে এইভাবে ছোঁবেন না।
আদ্রিয়ান করুন ভাব নিয়ে বলে,
__" তুমি আমাকে এভাবে বলতে পারলে বৌ। তুমি জানো তোমার এই কথা আমার কোথায় কতটুকু লেগেছে।
আনাস্তাসিয়া আদ্রিয়ানের কথার মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝল না। আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার ডান হাত নিয়ে তার বুকের বাম পাশে চেপে ধরে বলে,
__" এই যে দেখো এইখানে, এখান থেকে দুই মিটার উঁচুতে তিন ইঞ্চি ভেতরে পাঁচ ইঞ্চির গভীরে ছয় কিলো পেছনে আট কেজি ডানে দশ কেজি বামে দুই লিটার উপরে তিন ফুট গভীরে দেখলে তো। কতটা লেগেছে আমার"।
আদ্রিয়ান এর কথা শুনে আনাস্তাসিয়ার জ্ঞান হারানোর উপক্রম। আনাস্তাসিয়ার কাছে আদ্রিয়ানকে স্মৃতিশক্তি হারানো মনে হচ্ছে না। পাবনা থেকে পালাতক পাগল মনে হচ্ছে। সে নিজের হাত ছড়িয়ে বলে,
__" এই আপনার সমস্যা কি হ্যাঁ? সব সময় কেন গায়ে হাত দিয়ে কথা বলেন? আমাকে আর ছোঁবেন না বলছি"।
__" আহ্ বৌঔঔ এমন কেন বলছো, চলো ঘুমাবে চলো অনেক রাত হয়েছে।
আনাস্তাসিয়া আর কোন কথা না বলে বিছানার দিকে পা বাড়াল। এখন কথা বললেই কথা বাড়বে, আর তার ঘুমানো ও হবে না। তার শরীরটা আজ ভিশন ক্লান্ত লাগছে তাই সে চুপ চাপ বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল। আদ্রিয়ান ও আর কথা না বলে চুপ চাপ বিছানায় গিয়ে, শুতে নিলেই আনাস্তাসিয়া লাফিয়ে উঠে।
__" এই আপনি আমার সাথে বিছানায় শুচ্ছেন কেন "? যান অন্যকোথাও গিয়ে শোন"।
আদ্রিয়ান তার কথায় পাত্তা না দিয়ে ডোন্ট কেয়ার ভাব নিয়ে কম্ফটার মুরি দিতে দিতে বলে,
__" আহা বৌ রাত করে এতো চেঁচিয়ো না তো। তুমি না আমার মিষ্টি বৌঔ, তোমায় এসব মানায় না।
বলেই আনাস্তাসিয়াকে টেনে শুইয়ে দিতে দিতে বলে,
__" এখন লক্ষী বৌঔঔর মতো ঘুমাও তো। কাল সকালে দুজনে আবার ঝগড়া করবো এখন না।
আনাস্তাসিয়া তার বাহু ছাড়িয়ে আর কথা না বাড়িয়ে বিরক্তিতে অন্যদিকে মুখ করে শুয়ে পরে। সেও আর রাত করে নতুন কোন ঝামেলায় জড়াতে চায় না। তাই চুপ চাপ দু'জনেই ঘুমের দেশে পাড়ি জমালো।
রাত ১:০০ টায়। আদ্রিয়ান ঘুমের মধ্যে হঠাৎ করে কারোর কান্নার আওয়াজ পেল। কান্নার আওয়াজে তার ঘুম হাল্কা হতেই বুঝতে পারে তার খুব নিকটে কে যেন কাঁদছে। কান্নার আওয়াজে হঠাৎ তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে চোখ খুলে উঠে বসে পাশে থাকা টেবিল ল্যাম্প জ্বালিয়ে ঘার ঘুরিয়ে পাশে তাকালো। পাশে তাকাতেই সে থমকে গেল কারণ তার পাশে আনাস্তাসিয়া ঘুমের মধ্যে ছটফট করছে আর কাঁদছে। আদো আদো কন্ঠে ভাঙ্গা গলায় কিছু বলছে আর ছটফট করছে।
__" ছেড়ে দেও....মে....মে...মেরো না .... ছেঁড়ে...
ছেঁড়ে.....দেও....
__" র....র..... রক্ত.......রক্ত.....ম...ম....মম...ড্যা...
.ড্যাড...
আদ্রিয়ান আনাস্তাসিয়ার এরকম ছটফটানি দেখে তাকে ডাকতে শুরু করলো। তবুও সে উঠল না, তার ছটফটানি আরো বাড়তে থাকলো তার শরীর পুরো ঘেমে গেছে। আদ্রিয়ান এবার একটু বিচলিত হলো, সে চিন্তা করলো এখন তার তার কি করা উচিত।এই কনকনে শীতের মধ্যেও আনাস্তাসিয়ার শরীর ঘেমেই চলেছে তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। সে জোরে জোরে নিঃশ্বাস টানতে লাগলো। একপর্যায়ে আনাস্তাসিয়া চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে উঠে আদ্রিয়ানকে জাপ্টে ধরে। আদ্রিয়ান তার ভয়ার্তক মুখের দিকে তাকিয়ে তাকে শক্ত করে নিজের বুকে আগলে নেয়। তাঁকে শান্ত না দিতে মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
__" শান্ত হও ব্লাড রোজ শান্ত হও, দেখে এখানে কিছু নেই। কেউ নেই এখানে দেখো চোখ খুল।
কিন্তু আনাস্তাসিয়া যেন তার কথা শুনলো না আরো হাঁসফাঁস করতে লাগলো।আনাস্তাসিয়ার চিৎকারে পাশের রুম থেকে ছুটে আসে আমান। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তার বোনের এই অবস্থা দেখে ছুটে যায় তার কাছে। আদ্রিয়ানের কাছ থেকে ছাড়িয়ে তাঁর বুকে জড়িয়ে ধরে। তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
__" শান্ত হ দেখ আমি এসে গেছি, সব ঠিক করে দেব শান্ত হ তুই শান্ত হ।
ভাইকে কাছে পেয়ে আনাস্তাসিয়া তাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠে।
__" ওরা ... ওরা মেরে ফেলেছে ..... ওরা মম ড্যাড কে মেরে ফেলেছে ....
__"ওদের আমি শেষ করে দেব....তুমি দেখবে ওদের আমি ছাড়বো না ....ছাড়বো না ওদের ...
কথাগুলো বলেই আবার ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো। আমান তাঁকে আরেক টু শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
__" হ্যাঁ ওদের আমরা ছাড়বো না, এখন তুই একটু শান্ত হ ঘুমা। তার পর ওদের নৃশংস মৃত্যু দেব যা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আর যারা তাদের লাশ দেখবে তাদের ও আত্মা কেঁপে উঠবে"।
বলেই আনাস্তাসিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। আর আনাস্তাসিয়া আস্তে আস্তে শান্ত হতে লাগলো। আদ্রিয়ান এসব দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। সে বুঝতে পারছেনা না এসব কি হচ্ছে। আনাস্তাসিয়ার হঠাৎ কি হলো সে এমন করছিলয়বা কেন কিছু বুঝতে পারছে না। সে জানতো যে আনাস্তাসিয়ার মেন্টাল সমস্যা আছে। কি বলে এতোটা সে ভাবতেই পারেনি। আনাস্তাসিয়া যে মেন্টালি টমা টাইস সে আজ নিজের চোখে না দেখলে বুঝতেই পারছো না। আর আমান তার এমন বিহেবিয়ার বেশ সন্দেহ জনক ঠেকলো তাঁর কাছে। একজন বডি গার্ড হয়ে এরকম বিহেবিয়ার দেখে মনে হচ্ছে যেন তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক আছে। কি এমন সম্পর্ক থাকতে পারে তাদের মধ্যে। তার যত তাড়াতাড়ি সম্ভব খোঁজ লাগাতে হবে। আর খুব শিঘ্রই আনাস্তাসিয়ার ভাইকে খোঁজে বের করতে হবে। পুরো একটা রহস্য লুকিয়ে আছে এদের মধ্যে যা তাকে খুব শিঘ্রই রহস্য সমাধান করতে হবে।
আমান খেয়াল করলো আনাস্তাসিয়া ঘুমিয়ে গেছে। তাই তাকে আলতো করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে কম্ফটার টেনে দিল ভালো করে। তার পর ঘর আলতো করে তার কপালে স্নেহের চুমু খেতে মাথায় হাত বুলিয়ে চলে যেতে নিয়ে ও থমকে গেল। আদ্রিয়ান এর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলে,
__" ওকে দেখে রেখো, ও আমার জীবন, ওর কোন ক্ষতি হলে আমি তোমায় ছাড়বো না। ভালো করে মনে রেখো।
বলেই হনহন করে চলে গেল। আমান চলে যেতেই আদ্রিয়ান ঘার ঘুরিয়ে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকায়। অবাক হয়ে ভাবতে থাকে, কি বলে গেল এক্ষুনি। আনাস্তাসিয়া তার জীবন হয় মানে কি। তাহলে কি সে অনাস্তাসিয়াকে ভালোবাসে আর আনাস্তাসিয়া সে সেও কি। আর কে এই আমান? কি তার পরিচয়? তাদের সম্পর্ক টাই বা কিসের? কোথা থেকে এসেছে সে। আদ্রিয়ানের কেন জানিনা হঠাৎ রাগ হলো। সে তার হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রণ করে একবার আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে শুয়ে পরলো। অতঃপর গভীর নিদ্রায় মগ্ন হয়ে গেল।
_________>>>>>>>>>>________
চারিদিকে গা ছমছমে পরিবেশ। উঁচু উঁচু পাহাড় ও জঙ্গলে ঘেরা চারিদিকে। মস্কো শহরের বিখ্যাত পাহাড় স্প্যারো হিলস (Sparrow Hills)। মস্কোভা নদীর তীরে অবস্থিত ৮০ মিটার উঁচু এই পাহাড়টি ঘন বন জঙ্গলে আবদ্ধ। এটি সেন্ট্রাল মস্কো থেকে মাত্র ৫.৫ কিমি দূরে অবস্থিত।যা সাধারণত জনবসতির কোলাহর থেকে অনেক দূরে। স্প্যারো হিলস পাহাড়ে মাঝখানে বিশাল জায়গা নিয়ে অবস্থিত এক রাজকীয় প্রাসাদের মতো বাড়ি। সাদা কালো কম্বিনেশনের এই বাড়িটি চারপাশে দেয়াল গুলো কাঁচ দিয়ে তৈরি। এই বাড়ির চারপাশে চারপাশে পাহারা দিচ্ছে কালো পোশাক পরিহিত রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে থাকা গার্ড। তার শিকারি দৃষ্টিতে চারিদিকে নজর রাখছে। এই বাড়িটির যেন এক অপরূপ সৌন্দর্যের আচ্ছাদিত। কিন্তু বাহিরের দিকে যতটা না সুন্দর ভেতরে তার থেকে ভয়ঙ্কর। বাড়ির ভেতরে গা ছমছমে পরিবেশ। চারিদিকে দেখলেই নিঃশ্বাস ভারী হয়ে যায়। কোন ভূতিক বাড়ির থেকে কম নয়। এ বাড়ির চারতলায় একটি রুমে চারিদিকে অন্ধকার বিরাজমান। তবুও কোথা থেকে যেন হালকা হালকা আলো রুমে প্রবেশ করছে। রুমটির বিশাল বড় বেলকনিতে কারোর অবয়ব দেখা যাচ্ছে। অবয়বটি এক দৃষ্টিতে আকাশের গোল চাঁদ টার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। অবয়বটি আর কারোর নয় চকলেট প্রিন্স এথেরিয়ন এর। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে ঠোঁটে রাখা সিগারেটে একেরপর এক টান দিল। তার পায়ের নিচে পরে আছে অনেক গুলো সিগারেটের শেষ অংশ। পাশে রাখা টেবিলে পরে রয়েছে দশ বারোটা খালি মদের বোতল আর অর্ধেক খাওয়া মদের গ্লাস। তার মুখে ফুটে রয়েছে দুঃখের ছায়া। এতো নেশা করার পর ও যেন তার কিছুই হয়নি সে স্বাভাবিক ভাবেই দাঁড়িয়ে আছে। যেন মদের নেশাও তাকে কাবু করতে পারছেনা। সে সিগারেটে কয়েকটা বিষাদ ময় টান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে,
__"আমি যে তোমায় অনেক ভালোবাসি! বলো, কীভাবে সহ্য করব তোমায় অন্য কারোর সাথে দেখতে? অন্য কারোর বউ হওয়ার অভিনয়টুকুও যে আমার সহ্য হয় না রেড মুন।"
"যে চোখে আমি শুধু নিজেকে আর তোমাকেই দেখেছি, সেই চোখে অন্য কারো সাথে তোমাকে মানায় না। তুমি অন্য কারোর বউ হচ্ছ—এই মিথ্যে অভিনয়টাও যদি আমি দেখি, তবে আমার নিজের নিঃশ্বাসই বন্ধ হয়ে আসবে।"
"আমার ভালোবাসার এই গভীরতা হয়তো তুমি বুঝবে না। কিন্তু সত্যি বলছি, যে তোমায় নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসে, সে কী করে সহ্য করবে তোমায় অন্য কারো সাথে? অন্য কারো বউ হওয়ার এই অভিনয়টা আমার কাছে একটা জীবন্ত মৃত্যুর মতো।"
আমি পারবো না রেড মুন, পারবো না তোমায় অন্য কারোর সাথে দেখতে।অন্য কারোর হাতে হাত করতে দেখতে পারবো না। তোমার তো আমার হাতে হাত রাখার কথা ছিল রেড মুন তাহলে কেন এমন হল? জানি এটা অভিনয়, মাত্র কিছুদিনের অভিনয় তবুও আমি কি করে সহ্য করবো কি করে? এই বুকে যে বড্ড ব্যাথা হচ্ছে, পারবোনা আমি পারবো না তোমার সাথে অন্য কাওকে সহ্য করতে। ভিশন ভালোবাসি তোমায় ভিশন, নিজের জীবনের থেকে ও বেশি রেড মুন। তুমি শুধু আমার শুধুই আমার। আর আমি তোমায় অন্য কাওকে দেব না কিছুতেই না।
কথাগুলো বলেই শেষ হয়ে যাওয়া সিগারেট টা ফেলে আরেকটা সিগারেট জ্বালিয়ে ঠোঁটে পুরে নিল। তার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে সিগারেটে টান দিতে থাকলো।
(চলবে...)
[ আমি মাঝে মাঝে ভাবে আমার লেখা উপন্যাসে যদি কেউ লাইক কমেন্ট আর আইডিতে কেউ ফলো করে তাহলে মনে হয় পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে যাবে তাই কেউ লাইক কমেন্ট আর ফলো করে না। বা হয়তো আমি নতুন লেখিকা বলে কেউ সাপোর্ট করে না বা আমি খারাপ লেখি তাই আমাকে সাপোর্ট করার মতো কেউ নেই,আমি ব্যার্থ। আপনারা হয়তো জানেন না আপনাদের এই একটু লাইক কমেন্ট ফলো করে রিয়েক্ট দেওয়া আমাদের কতটা খুশি করে। অন্যদের জানিনা কিন্তু আমি খুব খুশি হই যে খুশি টাকা দিয়ে ও হয়তো কেনা যায় না। কিন্তু এতো কষ্ট করেও কোন লাভ নেই ।আর হ্যাঁ আমার এখানে একটু সমস্যা আছে তাই লেখা গুলো ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায় আর পোস্ট করার পর বাঁকা তারা হয় তাই আপনাদের কাছে দুঃখিত এটা ঠিক হচ্ছে না একটু মানিয়ে নিবেন। আর এভাবেই পৃথিবী ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবেন।]