Blue Ink & Thorns'
রহমাতুন্নেছা
পর্ব১২
চারিপাশ গভীর অন্ধকারে ঘিরে আছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৮:০০ টা। পিটপিট করে চোখ খুলল নিপা। ঘরের দিকে তাকাতেই দেখল, জিনিসপত্র সব এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। সামনে ল্যাপটপ আর কিছু ছোটবেলার ছবি—তার সাথে চার বছরের একটি ছোট্ট মেয়ের ছবি এবং ৬ বছরের একটি ছেলের ছবি। নিপা মেঝে থেকে আস্তে আস্তে উঠে ছবিটি হাতে তুলে নিল। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল ছবির দিকে।
ছবিটা নিয়ে সে আস্তে আস্তে ব্যালকনির দিকে গেল। নিপার এই বাড়িটি হলো তার বাবার এবং এই বাড়িটি তিন তলার, এখন আর কেউ এখানে থাকে না, নিপা মাঝেসাজে এখানে আসে তার বাবার কবর আছে এবং কিছু স্মৃতির টানে, কোন এক প্রিয় মানুষের অপেক্ষার টানে, আচ্ছা এই অপেক্ষা কি সারা জীবন অপেক্ষায় রয়ে যাবে, নিপার অপেক্ষার ফল কি সে পাবে । নিপা এখন দাঁড়িয়ে রয়েছি, একদম ওপরের তলায়। ব্যালকনি থেকে নিচের রাস্তা আর মানুষের চলাচল স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। ব্যস্ত এই শহর—কেউ বাড়ি ফিরছে, কেউ ঘুরছে, কেউ আনন্দ করছে, আবার কেউ দুঃখ প্রকাশ করছে। কত ব্যস্ত এই শহর! নিপা চাঁদের দিকে তাকাল। সেও একটু হাসতে চায়, কাঁদতে চায়, চিৎকার করে বুক হালকা করতে চায়; কিন্তু কেন যেন পারে না। চোখ দুটো পলকহীন আটকে রইল হাতের ছবিটার দিকে।
নিপার মনে পরল বিকেলের সেই কান্ডগুলো
বিকেলে নিপা বন্ধুদের আড্ডা থেকে ফিরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখছিল। সে তো এমন জীবন চায়নি! হঠাৎ তীব্র ক্ষোভে ও অভিমানে সে চিৎকার করে সমস্ত ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করল। কান্নায় ভেঙে পড়ে পাগলের মতো চিৎকার করে বলতে লাগল—“কেন আমার সাথে এমন হলো? কেন?”
পাগলের মতো কাঁদতে কাঁদতে সে মেঝেতে বসে পড়ে আর্তনাদ করে উঠল—“বাবা, কেন তুমি আমাকে একা রেখে গেলে এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায়? তোমার মেয়ে ভীষণ কষ্টে আছে!” বলতে বলতে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে মেঝেতেই ঘুমিয়ে পড়ল।
নিপা এত চিৎকার করল, এত কান্না করল—অথচ কেউ একবার দেখতে এল না! আমার পরিবারের তো কত মানুষ আছে—আমার মা আছেন, মামা-মামী আছেন, আর আমার স্বামীও আছে। অথচ কেউ একটিবারের জন্য তার খোঁজ নিতে এল না। নিপা দীর্ঘ একটি নিঃশ্বাস ফেলে ছবিটার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল
—“পচা ভাই, তুমি কেন এমন করলে? এত দেরি করে কেন আসলে? আমি তো তোমারই অপেক্ষায় ছিলাম! অথচ তুমি বড্ড দেরি করে আসলে,। তোমার কি একটুও আমার কথা মনে পড়ে না?” পচা ভাই তুমি জানো আমি বড্ড একা আছি, আমার কতজন আছে তার পরেও আমি আজ একা, যেন ওরা এখানে থাকে না, ওরা কত বড় তা আমি ফ্লাটে থাকি, কিন্তু আমি না এই জায়গায় মায়া ছাড়তে পারি না শুধু তোমারই জন্য, আমার আশা ছিল তুমি দেশে ফিরেই আমার কাছে এই জায়গাই খোঁজ করতে আসবা, কিন্তু তুমি দেশে আসলে আমার খোঁজ করলে না, আমি বড্ড কষ্ট পেয়েছি, কোনদিন তোমার সামনাসামনি হলে তোমাকে অনেক কিছু বলবো, আমি তোমার জন্য এতদিন অপেক্ষা করলাম অথচ তুমি আমাকে ভুলে গেলে, তুমি সত্যিই আমার পচা ভাই হয়ে রইলে, পারলে না ভালোবাসার মানুষ হতে,
এই বলে নিপার মনে ভেসে উঠল পুরনো কিছু স্মৃতি। মনটা ছুটে গেল ফেলে আসা অতীতে...
অতীতে থেকে ঘুরে আসি: ২০০৪ সালের ৪ আগস্ট
সালটা তখন ২০০৪। আগস্ট মাসের ৪ তারিখ। নিপার চতুর্থ জন্মদিন। সারা বাড়ি খিলখিল হাসিতে মেতে উঠেছে। ড্রয়িংরুমে আলতাফ সাহেব তাঁর এক পুরোনো বন্ধুর সাথে বসে কথা বলছেন। ঠিক তখনই নিপা দৌড়ে বাবার কাছে এসে বলে উঠল,
— "বাবা, আজকে কি বার?"
আলতাফ শেখ হেসে উত্তর দিলেন, "আজকে তোমার জন্মদিন মা! আমার ছোট্ট মার জন্মদিন।"
নিপা অবাক হয়ে বলল, "সত্যি বাবা? আজ আমার জন্মদিন?"
বাবার বন্ধু মুচকি হেসে বললেন, "হ্যাঁ সোনা মা, আজ তোমারই জন্মদিন।"
নিপা এগিয়ে গিয়ে কৌতূহলী চোখে জিজ্ঞেস করল, "আচ্ছা আংকেল, জন্মদিন কাকে বলে? জন্মদিনে কী করে?"
আলতাফ শেখ বন্ধু হেসে উত্তর দিলেন, "এই দিনে তুমি আমাদের পৃথিবীতে এসেছিলে। আল্লাহ তোমাকে আমানত হিসেবে আমাদের ঘরে এক টুকরো জান্নাত পাঠিয়েছিলেন। তাই এই দিনে সবাই এত আনন্দ করে।"
নিপা নিষ্পাপ চোখে প্রশ্ন করল, "আচ্ছা, জান্নাত মানে কী?"
কথা শুনে আলতাফ শেখ ও তাঁর বন্ধু একসঙ্গে শব্দ করে হেসে উঠলেন।
নিপার কৌতূহল যেন শেষই হয় না! ঠিক তখনই নিপার মা হাতে চায়ের ট্রে নিয়ে সেখানে এসে ধমকের সুরে বললেন, "তুই একটু চুপ করবি? এইটুকু বয়সে এত প্রশ্ন কিসের তোর?"
বন্ধুটি তখন মৃদু হেসে বললেন, "ভাবি, বকা দিচ্ছেন কেন? সোনা মা তো মিষ্টি একটা প্রশ্ন করেছে।"
নিপার মা আলতাফ শেখের বন্ধুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে বললেন, " ভাইজান আপনি জানেন না, এই মেয়ে একবার কথা বলা শুরু করলে আস্ত মাথা খেয়ে নেবে!"
নিপা তাতে ছোট্ট একটা ভঙ্গি করে গাল ফুলিয়ে বাইরে চলে গেল।
আলতাফ শেখ স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, "উফ! তুমি আমার মেয়েটাকে সবসময় বকো কেন?"
স্ত্রী রেগে বললেন, "তোমার মেয়েকে বকবো না তো কি করব? দিন দিন যা পাকা হচ্ছে! এইটুকুন বয়সে আমাকে চোখ রাঙানি দেখাচ্ছে!"
আলতাফ সাহেবের বন্ধু পরিস্থিতি হালকা করতে বললেন, "আচ্ছা ভাবি, আপনারা ঝগড়া বাদ দিন।"
এদিকে মন খারাপ করে নিপা বাইরে গিয়ে বসল। তখনই নিপার ১০ বছরের মামাতো ভাই নেহাত এসে নিপার গাল টেনে দিয়ে দুষ্টুমি করে তার রাগ ভাঙানোর চেষ্টা করল। দূর থেকে এই দৃশ্যটি দেখছিল একটি ৬ বছরের ছেলে— (আলতাফ সাহেবের বন্ধুর ছোট ভাইয়ের ছোট ছেলে)। ছেলেটি সেটা একদম পছন্দ হলো না। সে রাগে রিদমিক পায়ে হেঁটে এসে সোজা নেহাতকে এক চড় বসিয়ে দিল!
হঠাৎ মার খেয়ে নেহাত কেঁদে উঠল। ওই ছেলেটির আকস্মিক এই আচরণে ভয় পেয়ে নিপাও উচ্চস্বরে কেঁদে উঠল এবং বলতে লাগল—“পচা ভাই, তুমি আমার নেহাত ভাইকে মেরে ফেললে কেন? ছেড়ে দাও ওকে!”
নিপার চিল্লাচিল্লিতে বাড়ির সবাই ছুটে এল—নিপার মামা, মামী, বাবা আলতাফ সাহেব এবং সেই বন্ধু। নিপার মামী এসেই চেঁচিয়ে উঠলেন, "আমার বাছা ছেলেকে কে মারল রে? কে এমন মারল?" এই বলে তিনি নেহাতকে বুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগলেন।
ছেলেটির বড় বাবা (আলতাফ সাহেবের বন্ধু) তার ছোট রাজকুমারের কাছে এগিয়ে এসে অবাক হয়ে ধমকের সুরে বললেন, "একি ছোটরাজকুমার! তুমি ওকে মারছ কেন? ও তো তোমার বড় ভাই হয়!"
ছেলেটি তখন রাগে থমথমে মুখে ফুঁসতে ফুঁসতে বলল, "ও আমার নিউ পাখির দিকে কেন তাকিয়ে ছিল? কেন ওকে ছুঁয়েছে? ও শুধু আমার নিউ পাখি, শুধু আমার!"
ছোট রাজকুমার এই কথা শুনে আলতাফ সাহেব ও তাঁর বন্ধু হতবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকালেন। দুই বন্ধুর চোখের ইশারায় যেন একটা গোপন বোঝাপড়া হলো, তারপর দুজনেই মৃদু মুচকি হাসলেন। ওদিকে নিপা তখনও কেঁদে কেঁদে বলছে, "তুমি একটা পচা ভাই!"
নিপার মা নিপাকে কোলে তুলে ভেতরে নিয়ে গেলেন, আর নিপার মামী নেহাতকে সান্ত্বনা দিয়ে অন্য রুমে নিয়ে গেলেন। আলতাফ সাহেব ও ছেলেটি বড় বাবা, রাগে ফুঁসতে থাকা ছেলেটি কে সোফায় বসালেন।
গম্ভীর গলায় জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি এ কী বলছিলে একটু আগে? নিপাকে তোমার এত ভালো লাগে ?"
ছোট্ট ছেলেটি জেদি গলায় উত্তর দিল, "নিপা শুধু আমার! কেউ ওকে ছোঁবে না!"
সেদিনের সেই ছোট্ট বেলার খুনসুটি আর অবুঝ ভালোবাসার মাঝেই বড়রা সেদিনই গোপনে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—বড় হলে নিপা আর ছেলেটিকে বিয়ে দেবেন। ওদের পরিবার নীরবেই ঠিক করে রেখেছিল ওদের ভবিষ্যৎ। কিন্তু বড় হয়ে এই পারিবারিক সিদ্ধান্ত আর ছেলেটি জেদ কি সত্যিই সুখের কোনো ঠিকানা এনে দিয়েছিল? নাকি নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় আজ নিপার এই অন্ধকার ঘর আর একা কান্না ভাগ্যে জুটেছে? সে এক অন্য ইতিহাস।
নিপা এগুলো ভাবতে ভাবতে তার চোখের কোনা দিয়ে নোনা পানি বইলো, হাতের ভিতর রাখার ছবিটা শক্ত করে চেপে ধরো। নিপার এসব কিছু মনে নাই তার বাবার মুখে এসব অনেকবার শুনেছে । বাবা বেঁচে থাকতে অনেকবার গল্প শুনেছি ওই ছেলেটির নামে। এবং অনেক ভিডিও দেখেছি ,।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে খুবই আস্তে গান গাইলো যেন সে ছাড়া আর কেউ না শুনে,
আমি এক এমন পাখি 🐦
বুকে তে কষ্ট রাখি ,,
মুখেতে দেখাই হাসি..
যেন আমি সুখ নিবাসী +(২)
তুমি তো আমায় ছেড়ে চলে গেছে অনেক দূরে সুখে আছো শুনলাম আমি
ভাসাইয়া আমায় সুরে+ (২)
কতটা যন্ত্রনাময় প্রতিরাত জেগে থাকি
তোমার স্মৃতি অন্তরেতে
ভাজে ভাজে সাজিয়ে রাখি
আমি এক এমন পাখি 🐦
বুকে তে কষ্ট রাখি ,,
মুখেতে দেখাই হাসি..
যেন আমি সুখ নিবাসী ...............🎶🎸🥺
গান থামিয়ে নিপা যখন ব্যালকনির ঠান্ডা বাতাসে একা দাঁড়িয়ে নিজের ভাগ্যকে ধিক্কার জানাচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘুটঘুটে অন্ধকারের ভেতর থেকে কেউ যেন নিঃশব্দে তার খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়াল। নিপার চোখের পলক পড়ার আগেই পিছন দিক থেকে তার কানের কাছে এক বরফশীতল ফিসফিসে কণ্ঠস্বর ভেসে এল—
— "কী রে বেবি? ছোটবেলার সেই ভালোবাসার কথা কি তোমার মনে পড়ছে? নাকি ভুলে গেছ তোমার সেই পচা ভাইকে?"
কথাটা শোনার সাথে সাথেই নিপার পুরো শরীর যেন নিমিষে জমে গেল। তার শিরদাঁড়া দিয়ে আতঙ্কের এক তীব্র স্রোত বয়ে গেল। সে আর ঘুরে তাকাতেও সাহস পেল না; কারণ সে ভালো করেই জানে এই নিষ্ঠুর গলায় কথা বলা মানুষটি আর কেউ নয়—সেই নেহাত ভাই!
ছোটবেলায় যাকে সে ভাইয়ের মতো ভালোবাসতো, যার জন্য সে ওকে বকেছিলো, কখনো ভালো ভাবে কথা বলিনি। এই সব কিছু তার বাবার মুখে শুনেছেন নিপা।
সেই নেহাতই আজ প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তাকে জোর করে বিয়ে করে এই নরকে টেনে এনেছে। ছোটবেলার সেই খুনসুটি আর ভালোবাসার পরিণাম যে এমন এক ভয়ংকর সাইকোপ্যাথিক প্রতিশোধ হতে পারে, তা নিপা কল্পনাও করতে পারেনি।
নেহাত এবার আরও হিংস্র ভঙ্গিতে নিপার কাঁধে শক্ত করে হাত রাখল। তারপর তার সাথে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করতে শুরু করল। পুরোনো সেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে নেহাত দাঁতে দাঁত চেপে বলতে লাগল—
“খুব কষ্ট হচ্ছে না তোমার? ওরে ভালোবেসে আমার মুখের ওপর সেদিন কথা বলেছিলে না? আজ তোমার সেই কোথায়? সে তো আসেইনি! আর আমি তোমাকে ভালোবেসে বিয়ে করিনি, বিয়ে করেছি তোমার জীবনটা ছারখার করে দিতে! সেদিন যদি আমার ভালোবাসা মেনে নিতে তাহলে এমন হতো না”
নিপা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ফুঁপিয়ে উঠল।
আমাকে ছেড়ে দিন ভাই নেহাত
হাত জোড় করে বাঁচার আকুতি জানাতেই নেহাত আরও চড়াও হলো। রাগের চরম সীমায় পৌঁছে নেহাত তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করল। নিপার আর্তনাদ আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠল সেই অন্ধকার ঘর।
নেহাত মারতে মারতে বলতে লাগলো, আমি তোর স্বামী তুই অন্য পুরুষের কথা কিভাবে চিন্তা করিস ।
একদিন ওই জানোয়ার বলেছিল নিউ পাখি নাকি শুধু তার অথচ তার নিউ পাখি আমার ঘরে আমার বিছানায় ।
নিপার চুলের মুঠি ধরে দাগ কৃমির করতে করতে বললো,
এরপর নেহাত তার ওপর জবরদস্তি চালাল।
নিজের কাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হয়ে গেল নেহাত
নিপার অবুঝ শরীর আর মন তখন পিশাচের মতো ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। নিপা তখন পাথরের মূর্তির মতো হয়ে গেছে—চোখের জল গাল বেয়ে নামছে, কিন্তু গলা দিয়ে কোনো জোরালো শব্দ বের হচ্ছে না।
বুকফাটা সেই আর্তনাদে সে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে শুধু বলতে লাগল—
— "পচা ভাই... তুমি আমার জীবনটা নষ্ট করে দিলে, তিল তিল করে শেষ করে দিলে! তুমি তো সেদিন আসলে না... কেন এলে না? তোমার এই অন্ধ প্রতিশোধের আগুনে আজ আমি বড্ড অসহায়, বড্ড একা..."
বাইরের ব্যস্ত শহরের কোলাহল ছাপিয়ে নিপার সেই নিঃসঙ্গ ঘরের ভেতরের কান্না বাতাসে মিলিয়ে গেল। কেউ তার আর্তনাদ শুনতে পেল না, কেউ বাঁচাতে এল না। কুয়াশায় ঢাকা রাতে এক পিশাচের উল্লাস আর এক অসহায় মেয়ের পাথরের মতো জমে থাকা কান্না একে অপরকে গ্রাস করে নিল।
রাতের আহমেদ ভিলা।
ডাইনিং টেবিলে চার ভাই একসাথে রাতের খাবার খাচ্ছিল। ইমন বরাবরের মতোই গম্ভীর। আয়ান, সোহান আর রোহান একে অপরের দিকে তাকিয়ে চোখের ইশারায় হাসাহাসি করছে।
আয়ান ইমনের প্লেটে এক টুকরো চিকেন তুলে দিয়ে বলল, ""কী ভাইয়া? মেজাজটা এখনো খিটখিটে কেন? কাল সকালে কি বিশেষ কোনো গেস্ট আসছে অফিসে?""
ইমন কড়া চোখে আয়ানের দিকে তাকিয়ে বলল, ""নিজের কাজ নিয়ে থাকো আয়ান। কাল সকালের মিটিংয়ের ফাইলগুলো রেডি আছে তো?""
সোহান একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলল, ""আরে ভাইয়া, কাজের চাপ তো থাকবেই। তবে জীবনের একটু রঙ থাকা ভালো। ওই যে লবণের কফি বানায়, তাকে মাঝে মাঝে অফিসে ডাকলে কিন্তু মন্দ হয় না।""
ইমন এবার বুঝতে পারল এই তিন বান্দর মিলে ভেতরে ভেতরে কিছু একটা পাকাচ্ছে। সে চামচ টা প্লেটে রেখে সোজা হয়ে বসে বলল, ""তোরা তিনজন মিলে কী শুরু করেছিস বল তো? তোদের এই অতিরিক্ত চঞ্চলতা কিন্তু আমার একদম পছন্দ হচ্ছে না।""
রোহান তখন চট করে বলল, ""আরে ভাইয়া, আমরা তো জাস্ট ভাবছিলাম... আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলটা কত সুন্দর। কাল ভাবছি আমাদের বন্ধুদের আমাদের অফিসে একটু ঘুরতে বলব। ওরা তো আমাদের ভালো বন্ধু।""
ইমন মনে মনে এক অদ্ভুত অস্থিরতা অনুভব করল। মুখে সে শুধু বলল, ""কে আসবে আর কে যাবে সেটা আমার কেবিনের বাইরে। আমার কাজের জায়গায় কোনো ফাজলামি আমি বরদাশত করব না।""
এই বলে ইমন টেবিল ছেড়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। সে ঘরে গিয়ে জানালার পাশে দাঁড়াল। রাতের ঢাকার আলো ঝলমলে রূপের দিকে তাকিয়ে তার চোখের সামনে ভেসে উঠল পার্কিং লটের সেই মুহূর্তটা—সারার টানা টানা কাজল কালো চোখ, লম্বা চোখের পাপড়ি আর ঠোঁটের নিছে সেই ছোট্ট মায়াবী তিল।
ইমন নিজের অজান্তেই কানের লতির তিলটা হাত দিয়ে স্পর্শ করল এবং ফিসফিসিয়ে বলল, ""কাল সকাল দশটা, শারিন সরকার সারা। তোমার অহংকার ভাঙার পালা এবার আমার।""
ইমন খাবার টেবিল থেকে চলে যাওয়ার পরে তিন ভাই হেসে উঠল সোহান বলল আচ্ছা ভাইয়া এবার কি করবো আমরা
আয়ান খেতে খেতে বলল সবার আগে সারাকে এই বাড়িতে আনতে হবে।
রোহান বলল সেটা কিভাবে
সেটাই ভাবতে হবে দেখছি কিভাবে সারা কে এই বাড়িতে আনা যায় যেভাবেই হোক সারাকে এই বাড়িতে আনতে হবে তাহলেই আমাদের কাজ সাকসেসফুল হবে ,
রোহানও সোহান একসাথে বলল ভাইয়া তুমি ঠিকই বলছো
তিন জনের একটি গ্রুপ খুলল এখানে সারা ও ইমনের কিভাবে একসাথে করবে সে প্লান হবে, ইশতিয়াক আহমেদ ইমন জানতে পারল না তার ভাইরা তার বিরুদ্ধে কি ষড়যন্ত্র করছে ,, ইশতিয়াক আহমেদ ইমন কি জানতে পারবে, তার এই ভাইদের দুষ্টুমি কাহিনী হয়তো পারবে, হয়তো না, আচ্ছা আপনাদের কি মনে হয় তিন বিচ্ছু ভাই মিলে কি পারবে, সারা ইমনকে একসাথে করতে, একজন আগুন তো একজন ঠান্ডা, আর একজন তেল তো আরেকজন পানি , 💔 কিভাবে হবে তাদের মিলন, সেটা সময় দেখা যাবে চলুন গল্পে এগিয়ে যাই
চলবে,,,,,"