#ছায়াবৃত_রোদ্দুর
#আয়রা_ইবনাত
৩.
আকাশজুড়ে ছড়িয়ে আছে রূপালি চাঁদের কুন্তলা আলো, যেন সে তার কোমল স্পর্শে পৃথিবীর ক্লান্তি মুছে দিতে চায়। গাছপালারা নুয়ে আছে এক প্রশান্ত ঘুমের কোলে, আর বাতাস বইছে ধীর ধীরে মনে হচ্ছে কারো নিঃশ্বাস যেন ছুঁয়ে যাচ্ছে পাতার কিনারা।দূরে কোথাও মাঝেমধ্যে শোনা যায় কুকুরের এক-আধটা ডাক। বেলকোনিতে দাঁড়িয়ে বিষন্ন মনে সেই চাঁদের পানে তাকিয়ে আছে ইরা। মা কে খুব মনে পড়ছে, যখনই মায়ের কথা খুব মনে পড়ে তখন ওই চাঁদের পানে তাকিয়ে তাকে খুজে সে। মনে হয় চাঁদের ভেতর লুকিয়ে আছে তার মা সে যখন তাকে খুজে তিনি তখন হেসে হেসে জিজ্ঞাসা করেন
"কি রে মাকে মিস করছিস?"
তার খুব ইচ্ছে হয় গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলতে। হ্যাঁ মা তোমাকে মিস করছি, খুব মিস করছি। এই স্বার্থপর মানুষগুলোর কাছে আমাকে ফেলে তুমি কেন চলে গেলে মা? কেন? কিন্তু বলা হয় না! কাকে বলবে সে? তার মা যে তাকে সান্ত্বনা দিতে আসবে না।
সে তখন ক্লাস টুতে পড়ে, ছয় কি সাত হবে তার বয়স একরকম সবই বুঝে সে। ভালো মন্দ বোঝার মতো বয়স হয়েছে তার। একদিন বিকেল বেলা অপরিচিত এক নারীকে সাথে নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ ঘটে রিয়াজ আহসানের। দরজা খোলে স্বামীর পাশে বধু রূপে অন্য নারীকে দেখে থমকে যান জয়া আহসান। বাকরুদ্ধ তিনি মনে প্রানে খুব করে চাইলেন তার ভাবনা যেন মিথ্যে হয়। কাপা কাপা কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলেন
"ও কে রিয়াজ?"
তার ভাবনাকে সত্যি প্রমান করে শুনা গেল রিয়াজ আহসানের স্বীকারোক্তি
"ও আমার স্ত্রী"
অথচ তাদের বিয়েটা সম্পর্ক করে হয়েছিল। বাবা- মা মেনে নেননি তাই পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন দুজন। রিয়াজ আহসান সরকারি কর্মকর্তা হওয়াতে খুব সহজেই সংসার গুছিয়ে উঠেন তারা। কিন্তু হঠাৎ এই অপ্রিয় সত্য সামনে আসায় তিনি তা মেনে নিতেন পারেননি। তবুও শেষ বারের মতো জিজ্ঞাসা করলেন স্বামীকে
"আমার কাছে কি কমতি ছিল রিয়াজ?"
তিনি নিরুত্তর রইলেন। নত মস্তকে মিনমিন করলেন
"গত ছয়মাস ধরে ওর সাথে সম্পর্ক আমার। ও এখন প্রেগন্যান্ট তাই বিয়ে করে নিয়ে এসেছি"
বিস্ময়ে কিংকর্তব্যবিমূড় জয়া আহসান। একের পর এক তিক্ত সত্য যেন তার কলিজাকে ধুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিচ্ছিলো শেষ বারের মতো স্বামীর কাছে অভিযোগ করলেন
"এভাবে আমায় না ঠকালেও পারতে রিয়াজ"
সেকেন্ডের মাথায় সেখানেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। ছোট্ট ইরা পাশ থেকে মা বলে চিৎকার করে উঠে রিয়াজ আহসান হাত বাড়িয়ে ধরতে চাইলেন কিন্তু তার আগেই তিনি ফ্লোরে লুঠিয়ে পড়েন। জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করে। অতিরিক্ত শকে তিনি হার্ট অ্যাটাক করেছেন। ছোট্ট ইরা সেদিনে মাকে জড়িয়ে অনেক কেদেছিল সে বুঝতে পেরেছিল তার মা আর কখনো তার কাছে ফিরবে না। সেই থেকে বাবার প্রতি জন্মেছে এক আকাশ পরিমান ঘৃণা, ঘৃণা জন্মেছে সেই পরনারীর প্রতি যার জন্য তার মা তাকে ছেড়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে। সেই সময় থেকে নিজেকে ঘর বন্দি করে নেয় সে। তার ছোট্ট মস্তিষ্ক এতটুকু বুঝেছিল জীবনে বড় হয়ে নিজের পায়ে দাড়াতে হলে পড়ালেখা করতে হবে। তাই নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধেও রিয়াজ আহসানের দয়ায় পড়ালেখা চালিয়েছে সে। বছর না ঘুরতেই তাদের ঘর আলো করে জন্ম হয় মিরার। ছোট্ট এই বাচ্চা মেয়েটাকে কোনো কারণ ছাড়াই ভালো লেগেছিল তার, অনেকটা তার মতোই দেখতে। নিঃসঙ্গ জীবনে সঙ্গি করে নিয়েছিল তাকে। স্কুল থেকে বাড়ি আর বাড়িতে সারাক্ষন ছোট্ট মিরার সাথেই কাটতো তার সময়। তারপর একদিন কলেজে দেখা হয় এক সিনিয়র আপুর সাথে তার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসা। নিজের আত্নরক্ষার জন্য শিখা হয় ক্যারাটে। অর্থ উপার্জনের জন্য শেখা হয় আর্ট। বাড়িতে নিজের পড়ার ঘরকে আর্টের ঘর বানিয়ে নেয় সে, পড়ালেখায় পঞ্চাশ ভাগ সময় দিলে বাকি পঞ্চাশ ভাগ সময় দেয় চিত্রশিল্পে। দুয়েক বছর কঠোর পরিশ্রমের পর দেশ বিদেশে তার অনেক নাম ডাক হয়েছে তবে তা সম্পূর্ণই ছদ্মনামে। তার এই সফলতার গল্প তার আদরের বোন ছাড়া কেউ জানেনা। যখন থেকে নিজে ইনকাম করতে পারছে তখন থেকে রিয়াজ আহসানের থেকে হাত খরচ নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সে এমনকি ইতিপূর্বে তার খরচের জন্য ব্যয় করা অর্থের পরিশোধ হিসেবে তার প্রতি মাসের ইনকাম থেকে এক অংশ রিয়াজ আহসানের একাউন্টে ট্রান্সফার করে।
অতীতে ডুবে থাকা ইরার ভাবনাচ্ছেদ হয় ফোনের ভাইব্রেইটের শব্দে। পর পর কয়েকটা নোটিফিকেশন আসায় ফোন কম্পিত হচ্ছে। কপোল বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু হাতের বৃদ্ধাঙুল দ্বারা মুছে নিল সে। ডান পাশে চেয়ারের উপর কফি মগের পাশে অযত্নে পড়ে থাকা ফোন হাতে নিল। তার পেইজের নোটিফিকেশন, একটি আর্টের অর্ডার এসেছে। সে মেসেজ ওপেন করলো একটি নেচারের পিকচার দেওয়া সাথে ইংরেজিতে একটি ছোট মেসেজ
"আই ওয়ান্ট দিস"
সে ছোট করে প্রশ্ন করল
"সাইজ?"
"১৬×২০"
"কান্ট্রি?"
"দুবাই"
"ইট উইল কস্ট ফিফটি থাউজ্যান্ড"
"ওকে"
"ইউ উইল রিসিভ ইট উইথিন ফাইভ টু সিক্স ডেইজ।লিভ ইট উইথ দ্যা অ্যাড্রেস।"
"ওকে"
অপরিচিত এই ব্যাক্তির ইনবক্স থেকে বের হতেই চোখে পড়লো আরও কয়েক খানা প্রোফাইল থেকে আসা বিগত মেসেজ। এই দুইদিন ব্যস্ত থাকায় আর চেক দেওয়া হয়নি। সে একে একে প্রত্যেকের মেসেজ ওপেন করলো তার মধ্যে তিনটি ছিল অর্ডার আর বাকি গুলো অহেতুক বিরক্তিকর মেসেজ। প্রতিদিন এমন অনেক মেসেজ আসে তার কাছে। কেউ তার পরিচয় জানতে চায়, কেউ বন্ধুত্ব করতে চায়, কেউ তার ছদ্মনামের রহস্য জানতে চায় সে বরাবরের মতোই সবাইকে এড়িয়ে যায়। হাতের ফোনটি পুনরায় পূর্বের স্থানে রেখে আগের ন্যায় পূর্ণ চাঁদের পানে মনযোগী হলো সে। মিনিটের মাথায় বেজে উঠলো তার ফোন, সে বিরক্তি নিয়ে ফোনের পানে তাকালো, আননোন নাম্বার।
তিরিক্ষি মেজাজে গালি দিয়ে উঠলো সে
"বা*লের ফোন এখনই গজব পড়লো তোর উপর? কোথায় একটু শান্তিতে একা একা সময় কাটাবো বালের সব গজব এসে উথলে পড়ছে"
বাজতে থাকা ফোনকল এড়িয়ে যেতে চাইলো সে। কিন্তু বাজতে বাজতে কয়েক সেকেন্ডের মাথায় আবার বেজে উঠলো। দাতে দাত পিষে ফোন কানে তুলে খেকিয়ে উঠলো সে
"হ্যালো"
তিরিক্ষি মেজাজের এমন খেক করে উঠা আওয়াজে ভড়কালো ইলহাম, সে তো এখনও কিছু বললোই না তার আগেই বাঘিনী ক্ষেপে আছে। গলা ঝেড়ে কাশলো সে। অপর প্রান্ত হতে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে অধৈর্য গলায় আবারও চেচালো ইরা
"আরে কে রে ভাই তুই? এই রাত বিরেতে ফোন করে এখন আবার কথা বলছিস না কেন?"
সেকেন্ডের মাথায় অপর পাশ হতে ভেসে আসলো এক অসহায় আর্তনাত
"ম্যাডাম, ম্যাডাম গো তিনদিন ধইরা বুক ব্যাথায় ঘুমাইনা। আপনি থাকতে আপনার অসহায় জনগন বিনা চিকিৎসায় মইরা যাইবো এটা কেমন কইরা হয় ম্যাডাম"
ভ্রুদ্বয় কুচকে আসলো তার। কান থেকে ফোন নামিয়ে স্ক্রিনে তাকালো একবার। এখন রাত বারোটা বেজে বায়ান্ন মিনিট এতো রাতে তার এমন কোন জনগনের মনে পড়লো তা কথা? সে নম্র কন্ঠে উত্তর দিল
"তো আপনি ডাক্তারের কাছে যাচ্ছেন না কেন? এখানে আমি কি করতে পারি?"
"একটু ভালোবাসা দিন ম্যাডাম, তাহলে এই ব্যাথা সেড়ে যাবে"
মুহুর্তেই বদলে গেছে অপর পাশের কন্ঠ। এবার তার কন্ঠে ফুটে উঠেছে দুষ্টুমির ঝিলিক, ভড়কালো ইরা। এতো রাতে কোন ফাজিল তার সাথে ফাজলামো করছে
"কে বলছেন?"
"যদি বলি আপনার এলার্জির ঔষধ?"
হকচকালো ইরা, তার তো এলার্জি নেই তাহলে এলার্জির ঔষধ লাগবে কেন?
"আমার এলার্জি নেই"
"আছে তো প্রেম ভালোবাসায় না আপনার এলার্জি? সেই এলার্জির ঔষধ হবো আমি"
দাত কিড়মিড় করে হিসহিসিয়ে বলল সে
"কু*ত্তার বা*চ্চা, সাহস থাকলে ঔষধ নিয়ে সামনে আয় তোর হাত পা ভেঙে গলায় ঝুলিয়ে দিব"
আঁতকে উঠল ইলহাম, মনে মনে বিরবির করলো 'নাউজুবিল্লাহ, বেডির মুখের কি ভাষা'
পুনরায় খেকিয়ে উঠলো ইরা
"আমার নাম্বার কোথায় পেয়েছিস তুই? একবার বল এই নাম্বার তোকে কে দিয়েছে তাকে টুকরো টুকরো করে আমি কুকুর দিয়ে খাওয়াবো"
অবলা মেয়ে ইসরাতের জন্য খুব মায়া হলো ইলহামের। শুধু শুধু মেয়েটাকে ফাসিয়ে সে নাম্বারটা নিয়ে আসলো। এখন যদি এই ক্ষেপা বাঘিনী জানতে পারে তবে নিশ্চয়ই মেয়েটাকে অনেক ঝাড়বে। তার ভাবনা চিন্তার মধ্যে ফের ধমকে উঠলো ইরা
"আরেকবার যদি এই নাম্বারে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করিস তোকে বাড়ি থেকে তুলে এনে এমন কেলানি দিবো তোর বাপের নাম ভুলে যাবি"
"তাহলে কি মেসেজ দিয়ে ডিস্টার্ব করতে পারবো সুইটহার্ট?"
"শা*উ*য়ার সুইটহার্ট তোর পেছন দিয়ে ভড়ে দেবো, শালা ধান্দাবাজ"
কট করে কেটে গেছে কল, ইলহাম এখন দু চোখে অন্ধকার দেখছে। এই মেয়ের যে তেজ সেটা মানা যায় কিন্তু মুখের ভাষার কি ছিড়ি ভাই। দু গালে চাপড় দিয়ে আসতাগফিরুল্লাহ পড়লো সে। তার এখন ভাবতেই গা কাটা দিয়ে উঠছে যে এই মেয়ের সাথে প্রেম করতে গেলে এমন গালি তাকে প্রতিনিয়ত শুনতে হবে। পাশে বসা আয়ুশ পেট চেপে হাসছে। এতক্ষণ ফোন লাউডে ছিল সে না পারতে অনেক কষ্টে হাসি আটকে রেখেছে কিন্তু এখন ইলহামের যেই এক্সপ্রেশন দেখছে সে পারছেনা ফ্লোরে গড়াগড়ি করে হাসতে।
"কি রে ভাই আরও যা এলার্জির ঔষধ নিয়ে"
"আর বলিস না ভাই, এই মেয়ের গালাগালির কাছে তেজ আসলে কিছুই না"
"মানতেই হয় ভাই মেয়ের দম আছে"
"সে যতোই তেজ দেখাক আর দম থাকুক পাখিকে তো আমার হাতে ধরা দিতেই হবে"
গালের ভেতর জ্বিভ ঠেলে হাসল ইলহাম। এই মেয়ের তেজের প্রেমে সে বার বার পড়ছে। প্রেমে পাগল হওয়ার আগে প্রেমের প্রতিষেধক হিসেবে এই মেয়েকে তার চাই'ই চাই।
______
সূর্য মধ্যাকাশে জ্বলজ্বল করছে, তার তাপ ছড়িয়ে পড়েছে শহরের প্রতিটি ইট-কাঠের গায়ে। রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ণ, দোকানপাটের ডাকে তৈরি হয় এক ধ্বনিময় কোলাহল এ যেন জীবনের এক ছন্দময় ব্যস্ততা।
রোদে চকচক করছে পথঘাট গাড়ির জানালায় আলো প্রতিফলিত হয়ে চোখ ধাঁধানো দীপ্তি ছড়ায়। কালো রঙের গাড়ি পার্টি অফিসের সামনে থামতেই অপেক্ষমান কয়েকখানা মুখ সচেতন হলো। মিলি নামের মেয়েটি ইসরাতকে সাথে নিয়ে এগিয়ে গেল গাড়ির কাছে। ভেবেছিল অন্যান্য দিনের মতো আজও হয়তো তাদের ইরা আপু গাড়ি থেকে নেমেই তাদের সাথে ভাব বিনিময় করবে কিন্তু তাদের ভাবনাকে ভুল প্রমান করে সে কারো সাথে কোনো কথা না বলে অফিসের ভেতর চলে গেল সে। অবাক হলো সবাই সাথে আতংক ছড়িয়েছে তাদের মাঝে নিশ্চয়ই কোনো কারনে ক্ষেপে আছে তাদের নেত্রী। মিনিটের মাথায় ভেতর থেকে পিয়ন এসে জানালো ইরা ম্যাম ডাকছেন আপনাদের। জড়োসড়ো সবাই ছুটে গেল ভেতরে। নিজের আসনে বসে আছে ইরা সামনে দাঁড়ানো সবাইকে একবার পরখ করে সোজা প্রশ্ন করলো
"আমার নাম্বার কে লিক করেছে?"
এমন প্রশ্ন কারো বোধগম্য হলো না সবাই একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করলো। এক কোনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে ইসরাত। ভয়ে থরথর করে কাপছে সে। ইরা ফের ধমকে উঠলো
"এটা আমার পারসোনাল নাম্বার তোমরা ছাড়া কারো কাছে নেই তবে এই নাম্বারে আমাকে ডিস্টার্ব করা হয় কিভাবে?"
চোখ পড়লো এক কোনে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ইসরাতের পানে ভ্রু কুচকে তাকে ডেকে উঠলো ইরা
"ইসরাত?"
ভয়ে তটস্থ ইসরাত কাপা কাপা কন্ঠে উত্তর দিল
"জ্ব..জ্বি আপু"
"কাকে দিয়েছ নাম্বার?"
এবার পারছেনা ইসরাত ভয়ে কেদে দিতে
"আমাকে ক্ষমা করো আপু, আমি ইচ্ছে করে দেইনি ওই লোকটা আমাকে ভয় দেখিয়েছে। বলেছে যদি আপনার নাম্বার তাকে না দেই তবে আপনাকে ইনজেকশন দিয়ে মেরে ফেলবে"
ফুস করে নিশ্বাস ছাড়লো ইরা। নরম কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো
"কে সে?"
"হসপিটালের ওই ডাক্তার"
বিরক্তিতে কপালে ভাজ পড়লো তার, কন্ঠে বিরক্তি ফুটিয়ে বলল
"তোমাকে আমি আগেই নিষেধ করেছিলাম ইসরাত। তোমার জন্য রাজনীতি না, তুমি সহজ সরল বোকা সোকা এক মেয়ে শখের বসে রাজনীতিতে এসে ভুল করেছ"
"আমি কি করতাম আপু লোকটা বলল তোমার ক্ষতি..."
"লোকটা বলল আর তুমি ভয় পেয়ে গেলে, তুমি জানোনা ইরা এসব পরোয়া করেনা ইরার জন্য এসব পান্তা ভাত। আমাকে নিয়ে তোমাদের ভাবতে হবে না, নেক্সট টাইম এমন কোনো কাজ করলে কিন্তু আমি তোমাদের কাউকে ছেড়ে দিব না। এখন যাও এখান থেকে"
নত মস্তকে সেখান থেকে প্রস্থান নিল সবাই। চেয়ারে মাথা হেলিয়ে চোখ বন্ধ করলো ইরা। মনে পড়লো ইলহামের কথা, সেই প্রথম দিনেই ছেলেটা তাকে ফ্লার্ট করেছিল এখনও কিনা হাত ধুয়ে তার পেছনে পড়ে আছে? বাকা হাসল সে। খুব শিঘ্রই ছেলেটাকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে, জেনে শুনে আগুনে ঝাপ দিয়েছে এর মাশুল তো দিতেই হবে।
#চলবে