ফন্ট সাইজ:
থিম:
ছায়াবৃত রোদ্দুর

৪র্থ পর্ব

লেখক: আয়রা ইবনাত

#ছায়াবৃত_রোদ্দুর

#আয়রা_ইবনাত

৪.

পশ্চিম আকাশে সূর্য তখন তার শেষ রশ্মি ছড়িয়ে বিদায় জানাচ্ছে পৃথিবীকে, কর্ম ব্যস্ত মানুষেরা একটানা কার্যদিবসের পর ফিরে যাচ্ছে ঘরে। হসপিটালে ইলহামের ক্যাবিনে বসে আছে ইরা। ডেস্কের উপর থাকা নেইমপ্লেট নেড়ে চেড়ে দেখছে সে, ইলহাম নেই সেখানে। তার ডিউটিতে আছে, প্রায় বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট বসার পর সেখানে প্রবেশ ঘটলো তার। ইরাকে পায়ের উপর পা তুলে বসে থাকতে ভ্রু বাকালো সে। বড় বড় পা ফেলে ঘুরে গিয়ে নিজের চেয়ারে বসতে বসতে প্রশ্ন করলো

"বিনা অনুমতিতে কারো পারসোনাল ক্যাবিনে প্রবেশ করা যে বেড ম্যানার্স সেটা কি জানেন না মিস জিরা?"

সে ইলহামের প্রশ্নের কোনো প্রতিত্তুর না দিয়ে বলে উঠল

"ড. ইলহাম ফারুকি সন অফ ড. ইরফান ফারুকি ফ্রম সিলেট জিন্দাবাজার এম আই রাইট?"

কাধ ঝাকিয়ে চমৎকার হাসল ইলহাম

"বাহ, ইম্প্রেসিভ আমার বায়োডাটা দেখছি ক্লাস ওয়ানের ছড়ার মতো মুখস্থ।প্রেমে পড়লেন নাকি মিস?"

চেয়ারে গা এলিয়ে দিয়ে এক ভ্রু উঁচু করে সে তাকিয়ে আছে ইরার পানে। ঠোঁটে ঝুলছে দুষ্টু হাসি। মুখ ঝামটা দিলো ইরা

"তোর মতো ক্যারেক্টারলেসের প্রেমে পড়ার চেয়ে কুমিরের প্রেমে পড়া অনেক ভালো"

ভ্রুদ্বয় কুঞ্চিত হলো তার, সে ক্যারেক্টারলেসের কি করলো? তার চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো কুমিরের প্রেমে মানুষ পড়ে? সে ভাবুক হয়ে প্রশ্ন করলো

"কুমিরের সাথে প্রেম করলে চুমু খাবে কোথায় মিস জিরা? তাছাড়া কুমিরের মুখে তো অনেক দুর্গন্ধ হয় তুমি চুমু খেতে পারবে?"

ইলহামের এমন আজগুবি কথায় গা গিন গিন করে উঠল তার। নাক মুখ কুঁচকে মৃদু আর্তনাত করলো

"ছিহ্"

শব্দ করে হেসে উঠলো ইলহাম। হাসির সাথে তার গা দুলে উঠছে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলো ইরা। ছেলেটা আসলেই মারাত্মক সুন্দর। সৌন্দর্যের দিক বিবেচনা করলে নির্দ্বিধায় তার প্রেমে পড়া যায়। ছেলেরা ও যে এতো নিখুঁত সুন্দর হয় তাকে না দেখলে হয়তো কখনো বিশ্বাস করতো না সে। নিজের প্রতি বিরক্তি আসল তার এভাবে ক্যাবলা কান্তের মতো চেয়ে থাকার কি আছে। নাক মুখ কুঁচকে ধমকে উঠলো তাকে

"আমি কি জোকস শুনাচ্ছি তোকে? মেয়েদের মতো এমন হি হি করে হাসছিস কেন?"

হাসতে হাসতে প্রতিত্তুর করলো সে

"কি করবো বলো? তুমি যে মেয়ে হয়েও হাসো না তাই তোমার পরিবর্তে আমি হাসছি"

"আমি কি তোকে হাসতে বলেছি?"

তার প্রশ্নকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে গম্ভীর হয়ে বসল ইলহাম। গাম্ভীর্য নিয়ে বলল

"তুমি অনেক বেয়াদব ইরা,মেয়েদের এতো বেয়াদবি মানায় না"

"আমি তোর খাই? তোর পড়ি? তোর থেকে শিখতে হবে আমার আদব কায়দা?"

"দেখো তুমি কিন্তু আবার বেয়াদবি করছো। আমি কিন্তু তোমায় সিনিয়র অথচ আমাকে চুল পরিমান রেস্পেক্ট তুমি দিচ্ছো না"

"দিবো না"

"আমি কিন্তু তোমার ভবিষ্যৎ জামাই হই এটা ভেবে অন্তত একটু রেস্পেক্ট দিও"

ভ্রু কুচকে তাকালো ইরা, তার কথার বিপরীতে প্রশ্ন করলো

"জামাই?"

লজ্জা পাওয়ার অভিনয় করে লাজুক হাসল ইলহাম। ইরা এখনও কপালে ভাজ ফেলে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

"তুমি যদি হও রাজি তবে আমি এক্ষুনি ডাকব কাজী"

"কাজী তোর পেছন দিয়ে ভড়ে দিবো শালা, হাত ধুয়ে আমার পেছনে পড়ে আছিস কেন? রাত বিরাতে ফোন করে ডিস্টার্ব করিস আর এখন আমার সামনে দাড়িয়ে আমাকে ফ্লার্ট করছিস? তোর চরিত্রের সার্টিফিকেট কি পেছনে লাগিয়ে দিব? সবাই দেখোক তাদের সো কল্ড ডাক্তার কেমন মেয়ে বাজি করে"

"আমার বত্রিশ বছরের জীবনে তুমি'ই প্রথম মেয়ে, তুমি'ই প্রথম মেয়ে যাকে আমি ভালোবেসেছি। তুমি'ই প্রথম মেয়ে যাকে নিয়ে আমি আকাশ কুসুম স্বপ্ন সাজিয়েছি"

তার আবেগময় স্বীকারোক্তিতে বিন্দু পরিমান ভাবাবেগ দেখা দিলো না ইরার মধ্যে, সে বিরক্তিতে কপালে ভাজ ফেলে তাকিয়ে আছে টেবিলের উপরে রাখা ডেস্ক ক্যালেন্ডারের দিকে। ইলহাম নাম নিয়ে ডাকল তাকে

"ইরা?"

বিরক্তিতে চেচিয়ে উঠলো সে

"হোয়াট?"

"আমি তোমায় ভালোবাসি, উইল ইউ মেরি মি?"

"ইরার ডিকশনারিতে এই তিনটে ওয়ার্ড নেই। প্রেম, ভালোবাসা, বিয়ে মাইন্ড ইট"

হতাশ হলো ইলহাম, সে তো আগেই বুঝেছিল। এই মেয়ের মন পাথরের তৈরি, তাকে এতো সহজে হাতে আনা যাবে না। সে দুষ্টু হাসল

"ওকে দ্যান লিভ ইট, ক্যারেক্টারলেস উপাধি দিলে তবে ক্যারেক্টারলেসের ডেমো না দেখালে তো হয় না"

চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে দু হাতে ডেস্কের উপর ভর দিয়ে ইরার দিকে ঝুকলো সে। ইরা ভাবলেশহীন ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে তার পানে। এক হাত তুলে একপাশ হতে ধীরে ধীরে ঘুরে ইরার দিকে এগুচ্ছে সে, আগাম ঝড়ের পূর্ভাবাস পেয়ে ইরাও দাঁড়িয়ে গেছে। এখন দুজন মুখোমুখি দন্ডায়মান, দুজনের চোখ দুজনাতে আবদ্ধ

জানালায় উকি দিয়ে তাদের কার্যকলাপ দেখছে ইসরাত। সে আগেই বুঝেছিল তার ইরা আপু নিজে থেকে এই ডাক্তারের সাথে দেখা করতে আসছে তার মানে এই ডাক্তারের কপালে শনি আছে। তাইতো ইরা কাউকে সাথে করে নিয়ে আসতে চায়নি তারপরও সে অনেক রিকুয়েষ্ট করে সাথে এসেছে। বেটা ডাক্তার তাকে ভয় দেখিয়ে তার ইরা আপুর নাম্বার নিয়ে ডিস্টার্ব করে! এখন তার শনি দেখতেই তো এখানে এসেছে। কিন্তু এতক্ষন হয়ে গেল ইরার তরফ থেকে আশানুরূপ কোনো ফল না পেয়ে সে তিতিবিরক্ত। তার বিরক্তিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পেছন থেকে ডেকে উঠলো কেউ

"এই যে মিস"

সে পেছন না ফিরেই মুখ ঝামটা দিলো

"আরে যান তো এখান থেকে,আমাকে দেখতে দিন"

আয়ুশ পুনরায় ডেকে উঠলো তাকে

"এই যে এই দিকে"

"আরে সরেন তো"

নিজের অবস্থানে সম্পূর্ণ মনযোগী হলো সে। ফুস করে নিশ্বাস ছেড়ে তার কানের পাশে জানালায় হালকা করে ঠুকা দিল আয়ুশ। খেকিয়ে উঠলো ইসরাত

"আরে ধুর মিয়া, সারা হসপিটাল রেখে আমার কাছে এসেছে মরেছেন কে...."

পেছন ফিরে আয়ুশকে দেখে তার কথা আটকে গেছে। সে বিরক্তি নিয়ে বলল

"স্বাদে কি আর আপনাকে কানা বলি? এতো বড় হসপিটাল রেখে শুধু আমাকেই দেখলেন ডিস্টার্ব করার জন্য?"

তার কথাকে সম্পুর্ন অগ্রাহ্য করে প্রশ্ন করলো সে

"এখানে কি?"

"আপনাকে বলতে যাবো কেন?"

"এভাবে লুকিয়ে লুকিয়ে কারো কক্ষে বা পারসোনাল ক্যাবিনে নজর রাখা ম্যানার্সলেস লোকেদের কাজ জানো না?"

"তো আর কি করবো বলেন? ওই ডাক্তারের বেহাল দশা দেখতে কত রিকুয়েষ্ট করে এখানে আসলাম অথচ আপু আমাকে ভেতরে নিলো না"

মন খারাপ করে গাল ফুলালো সে, আয়ুশ ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করলো

"তোমার আপুর এখানে কি?"

"আমার আপু না তো সভানেত্রী ইরা আপু। উনাকে একটা ডাক্তার রাতে ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করেছিল তাই আপু এসেছে উনাকে টাইট দিতে। আমার তো ভাবতেই কি খুশি খুশি লাগছে বেটা আমাকে ভয় দেখিয়ে নাম্বার নেয়। হতচ্ছাড়া"

কুচকানো ভ্রু আরও কুচকে আসলো আয়ুশের। বাঘিনী এসেছে তার বন্ধুকে টাইট দিতে? না জানি কি আছে ওর কপালে। পরক্ষনে আবার কিছু মাথায় আসতেই ইসরাতের পা থেকে মাথা পর্যন্ত চোখ বুলালো সে। তাচ্ছিল্য করে হেসে বলল

"হাহ্ যেই না পুটি মাছের শরীর, আর কলিজার কথা নাই বা বললাম এসব নিয়ে আবার রাজনীতি করতে আসছো?"

মুখ বাকালো সে,

"আপনি কি আমার কলিজা দেখেছেন? মানুষটা ছোট হতে পারি কিন্তু কলিজা তার চেয়েও বড়"

"হাহ্ তাই তো মামুলি এক ডাক্তারের সামান্য ভয় দেখানোতেই কাপাকাপি করছিলে"

কথাটা খুব ইগোতে লাগলো তার, সে তর্জনী তুলে শাসালো আয়ুশকে

"দেখুন ভালো হচ্ছে না কিন্তু! আপনি আমাকে অপমান করছেন?"

"যা সত্যি তাই বললাম"

"আমি কি...."

কারো চাপা আর্তনাতের আওয়াজে ইসরাতের মুখ বাক্য থেমে গেছে। চকিতে দুজন পাশ ফিরে তাকালো জানালা দিয়ে ভেতরে। কুঁজো হয়ে পেছন ফিরে আছে ইলহাম, ইরা তাকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে আসছে সেখান থেকে। অবস্থা দেখে কারো কিছু বোধগম্য হলো না। ইরাকে বের হতে দেখে ছুটে গেছে ইসরাত, আয়ুশ হন্তদন্ত হয়ে প্রবেশ করেছে ইলহামের ক্যাবিনে। তাকে দেখে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলো ইলহাম, কিন্তু ব্যার্থ হলো, স্পর্শকাতর জায়গায় হাটুর আঘাত অনেক জোড়েই লেগেছে। ডেস্কে ভর দিয়ে নিজের চেয়ারে বসে গা এলিয়ে দিল সে। আয়ুশ ব্যস্ত কন্ঠে জিজ্ঞাসা করলো

"কি হয়েছে ইলহাম"

ব্যাথায় মুখ বেকে আছে তার। দাতে দাত পিষে বিরবির করে বলল

"বা*ল, চুমু খাওয়ার স্বাদ আমার জন্মের মতো মিটে গেছে"

"কেন কি হয়েছে? ও কামড়ে দিছে তোকে?"

বিরক্তিতে এবার চেচিয়ে উঠলো সে

"হাদা*রাম, চুমু খেতে কামড় খেলে কেউ এতো চেচায়?"

"তাহলে কি করেছে?"

চোখে মুখে গাম্ভীর্য ফুটিয়ে মাথা নাড়লো সে, মুখ ফুটে আওয়াজ করলো

"কিছু না"

চুমু খেতে যেয়ে একটা মেয়ের হাতে জায়গামতো কেলানি খেয়েছে এটা যদি কাউকে বলে তবে কি মান ইজ্জত কিছু থাকবে?

"আচ্ছা তাহলে আমরা বের হই? আজ তো তোর ডিউটি শেষ। বলেছিলি আজ শুধু ডে শিফট তাই আমি অফিস থেকে সোজা এখানে এসেছি। কিছু সময় আড্ডা দিয়ে বাসায় ফেরা যাবে।

"পারবো না, একটা গাড়ি ডাক বাসায় ফিরবো।"

"কেন তোর বাইক?"

"যা বলেছি তাই কর"

তার শক্ত ধমকের দাপটে আর দাড়ালো না আয়ুশ ছুটে গেছে বাহিরের দিকে। এখন একটা গাড়ি বুক করে তাকে নিয়ে বাসায় ফিরতে হবে না হলে স্যার ক্ষেপে গেলে আবার মহা বিপদ।

রাতের গভীরতা বেড়ে চলেছে, গাড়ির হর্ন আর মানুষের কোলাহলের আওয়াজ কমে ভেসে আসছে নিশাচর পাখিদের ডাক, থেকে থেকে ভেসে আসছে রাত জাগা কুকুরের ঘেউ ঘেউ। রাত তখন বারোটা বেজে পনেরো মিনিট। ইরার খুজে রুমে এসে তাকে না পেয়ে ভেতরের রুমের দরজায় ঠুকা দিল মিরা

"আপু এখানে?"

"হুম আয়"

রুমটি তার শয়ন রুমের সাথে এটাচ, যেটা একসময় ছিল তার পড়ার রুম এখন তা শিল্পকক্ষ। মিরা এসে চেয়ার টেনে বসলো পাশে। ইরা আর্টে মনযোগী, বিশালাকার ঘাসের মাঠে এক ঘোড়ার চিত্র। মিরা প্রসংশা করলো তার

"ওয়াও আপু, এটা অনেক সুন্দর। কেউ অর্ডার করেছে বুঝি?"

"হুম, সিলেট থেকে এসেছে"

"বলতেই হয় তার পছন্দ আছে"

"এতো রাতে এখানে কি? ঘুমাসনি কেন এখনো?"

সে গাই গুই করলো

"আপু কিছু কথা ছিল"

"বল শুনছি"

অনেক দ্বিধাদ্বন্দে নিজের জড়তা কাঠিয়ে মিনমিন করলো সে

"আপু? আর কতদিন এভাবে চলবে? ছোট থেকে দেখে দেখে বড় হয়েছি, আর পাঁচটা মেয়ের মতো তুমি বাবা মায়ের সাথে মিশো না আমি জানি তোমার ভেতরে কষ্ট আছে। কিন্তু তুমি তো একটা মেয়ে এভাবে আর কতদিন চলবে আপু? বাবা মা নাহয় অপরাধী তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও সেটা আমি বলবো না। তারা তোমার সাথে যা করেছে সেটা ক্ষমার অযোগ্য কিন্তু নিজের জীবনটাকে কেন এভাবে এলোমেলো করে ফেলে রেখেছো?"

"কি বলতে চাইছিস সোজাসাপটা বলে দে"

সে আটকে গেল, তার আপু অনেক চালাক। তার ভেতরের কথা ইতিমধ্যে বুঝে গেছে তার আপু। তবুও সে থেমে গেল না। মিনমিন করে বলল

"বলছিলাম আপু, এবার একটা ভালো ছেলে দেখে বিয়ে করে নিলে হয়না? হয়তো পৃথিবীর কোনো এক প্রান্তে কোনো এক প্রেমিক পুরুষ অপেক্ষমান আছে তোমার ভালোবাসার। তাকে খুজে নিজের সাথে বেধে নাও না!"

রঙতুলি এক পাশে রেখে বোনের পাশে চেয়ার টেনে বসলো সে, তাচ্ছিল্য করে হেসে বলল

"বাড়ি থেকে বিদায় করে দিতে চাইছিস?"

সে অসহায় চোখে তাকালো, তার আপু সব সময় তাকে ইমোশনাল করে দেয়। সে কাতর কন্ঠে বলল

"এমন করে বলছো কেন আপু? আমি তো...."

"আমি জানি মির, পৃথিবীর সবাইকে এক পাল্লায় ওজন করা উচিত না। সবাই এক হয়না কিন্তু কি করবো বল? তোর বাবার প্রতারণা আমাকে খুব কঠিন শিক্ষা দিয়েছে। কাউকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়, ভালোবাসা বলতে কিছু নেই মির, আমার মা তো তোর বাবাকে ভালোবেসে সব ছেড়ে ছুড়ে চলে এসেছিল এর কি প্রতিদান দিলো তোর বাবা? তোর কি মনে হয় তোর বাবা যদি আমার মাকে ভালোবাসত তবে কি এমন করতে পারতো? ভালোবাসা বলতে কিছু নেই!"

"ভালো না বাসলে কি কারো সাথে ঘর বাধা যায় না?"

"যেখানে ভালোবাসার দুহাই দিয়েও তোর বাবাকে আটকে রাখতে পারেনি আমার মা সেখানে সবই বৃথা"

"আপু..."

"শুধু তোর মায়ায় এই বাড়িতে পড়ে আছি, তোকে ছাড়া থাকতে পারিনা আর না হয় কবেই তোর বাবা মাকে সুখি করে দিয়ে চলে যেতাম"

"আপু, বাবা মা তো তোমায় ভালোবাসে"

"ভালোবাসা বলতে কিছু নেই"

"তবে তুমি কেন আমাকে ছাড়া থাকতে পারো না?"

"মায়া"

"আচ্ছা, তাহলে চলো তুমি আমি অন্য কোথাও চলে যাই?"

শব্দ করে হেসে উঠলো ইরা, আলতো হাতে বোনের নাক টিপে দিয়ে বলল

"পাগল, তোর বাবা মা আমার নামে মামলা ঠুকে দিবে"

"দিক"

"আমাকে পুলিশে নিয়ে গেলে তুই থাকবি কোথায়?"

দুহাতে বোনকে জড়িয়ে ধরলো মিরা। মলিন কন্ঠে মিনমিন করলো

"কোথায়ও যাবে না তুমি"

হাসল ইরা, চোখে হেসে কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল

"হাতে রঙ লেগে আছে তো"

"তোমায় ধরতে হবে না"

মলিন হেসে বোনের মাথায় ঠোঁট ছুয়ালো সে, ছোট এই মেয়েটাকে কোলে পিঠে মানুষ করেছে। একমাত্র এই মেয়েটার মায়ায় পড়ে ইগো মর্যাদা সব বিসর্জন দিয়ে এখানে পড়ে আছে। নয়তো কবেই নিরুদ্দেশ হয়ে যেত।

#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন