প্রথম পর্ব
কুষ্টিয়া জেলার কল্যাণপুর গ্রাম। প্রকৃতির সুন্দর মনোরম পরিবেশে ঘেরা এই গ্রামটি। আজ শুক্রবার। রহমান বাড়ির সবাই ডাইনিং টেবিলে সকালের নাস্তা করতে বসেছে।
প্রায় ১৫ দিন আগে জারার এসএসসি রেজাল্ট দিয়েছে, তাদের মধ্যে জারা জিপিএ-৫ পেয়েছে। জারার বাবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় এলাকার সবাই তাকে চেনে। তাই তিনি খুশি হয়ে এলাকার সবাইকে মিষ্টি খাইয়েছেন। সবাই তো অনেক খুশি, জারাও অনেক খুশি।
তেমন কেউ কথা বলছে না। জারা বাবার উদ্দেশ্যে
বলে ওঠে,
—বাবা, এতদিন রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে, বাড়িতে শুধু শুধু বসে আছি। একদিনও ঘুরতে নিয়ে গেলে না!
বাবা বলেন,
—ঘুরে কী হবে? আবার পড়াশোনা শুরু করে দাও।
জারা জেদি স্বরে বলে,
—তুমি যতদিন আমাকে আর রাইসাকে ঘুরতে নিয়ে যাবে না, ততদিন পর্যন্ত আমি পড়তে বসব না।
রায়হান রহমান তার বড় ছেলের উদ্দেশ্যে বলেন,
—শোন রাফিদ, জারা আর রাইসাকে নিয়ে কুষ্টিয়া যেও।
রাফিদ কুষ্টিয়ায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটি চাকরি করে। বাবার কথা শুনে দুই বোন তো মহা খুশি। খুশিতে বলে ওঠে,
—সত্যি বাবা?
রায়হান রহমান বলেন,
—হুম। তবে দুইদিন ঘোরাঘুরি করে একটা ভালো কলেজে ভর্তি হবে।
রাফিদ খাওয়া শেষে বলে,
—সবাই বের হয়ে পড়ো।
রায়হান রহমান বলেন,
—আচ্ছা বাবা। ঘোরাঘুরি শেষে রাইসাকে রেখে যেও।
রাফিদ, জারা ও রাইসা সবাই রেডি। এখন শুধু বের হবে। তাদের দাদি আমেনা বেগম ও মা নাজমা রহমান এগিয়ে এসে বলেন,
—সাবধানে যেও তোমরা। পৌঁছানোর সাথে সাথে ফোন দিও।
জারা, রাইসা ও রাফিদ কুষ্টিয়ায় এসে রাফিদের ফ্ল্যাটে পৌঁছায়। কুষ্টিয়ায় রাফিদের একটি নিজস্ব একতলা ফ্ল্যাট আছে।
রাফিদ জারা ও রাইসাকে রুম দেখিয়ে দেয়। তারপর বলে,
—যা তোরা ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে নে। অনেক জার্নি হয়েছে, তাছাড়া রাতও হয়ে গেছে। কাল তোদের ঘুরতে নিয়ে যাব। আমি বাবাকে ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি যে আমরা পৌঁছে গেছি।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই দুজন সুন্দর করে রেডি হয়ে নেয়। জারার বয়স ১৭ বছর আর রাইসার বয়স ১৩ বছর। রাইসা ক্লাস ৬-এ পড়ে।
দুজন রেডি হয়ে সোফায় বসে থাকা ভাইয়ের কাছে এসে দাঁড়ায়। জারা মুচকি হেসে বলে,
—ভাইয়া, আমাদের কেমন লাগছে?
রাফিদ দুজনের দিকে তাকিয়ে বলে,
—অনেক সুন্দর লাগছে। কেউ না আবার আমার বোন দুটিকে তুলে নিয়ে যায়!
কথাটা শুনে জারা আর রাইসা দুজনেই একসাথে রেগে বলে ওঠে,
—ভাইয়া.....! 😡
রাফিদ তাদের রাগী মুখ দেখে হেসে ফেলে। 😄
সারাদিন তিন ভাই-বোন মিলে অনেক ঘোরাঘুরি করে। কুষ্টিয়ার অনেক বিখ্যাত জায়গায় ঘুরে বেড়ায়, অনেক মজার মজার খাবার খায় আর নিজেদের পছন্দমতো শপিংও করে।
সকালে তিনজন একসাথে নাস্তা করে বের হয়। সারাদিন ঘোরাঘুরি করতে করতে দুপুরে আবার নাস্তা করে নেয়। সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফেরার সময় রাতের খাবারের জন্য খাবার পার্সেল করে নিয়ে আসে।
সন্ধ্যায় তিন ভাই-বোন ফ্ল্যাটে ফিরে আসে। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে সবাই বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। রাতে একসাথে খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ গল্প করে তিনজনই নিজেদের রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
এভাবেই কুষ্টিয়ায় তাদের প্রথম দিনের ঘোরাঘুরি শেষ হয়। 🌸
আজ জারাকে কলেজে ভর্তি করানোর জন্য রাফিদ দুই বোনকে নিয়ে কলেজে যায়। ভর্তি করার কাজ শেষ করে বড় ভাই দুই বোনকে পুরো কলেজটা ঘুরিয়ে দেখায়।
জারার কলেজটা এতটাই পছন্দ হয় যে, এই কলেজে এসে পড়াশোনা করবে—এটা ভেবেই সে মহাখুশি।
কলেজ থেকে বের হয়ে তিন ভাই-বোন একটা রেস্টুরেন্টে ঢোকে। রাফিদ দুই বোনকে বলে,
—তোদের পছন্দ অনুযায়ী খাবার অর্ডার দিয়ে দে।
দুজন একসাথে বলে ওঠে,
—আমাদের পছন্দ তো তুমি জানোই। তুমি অর্ডার দাও।
রাফিদ হেসে ওয়েটারকে খাবারের অর্ডার দেয়। চকলেট কেক দুই বোনের খুব পছন্দ। তাই এক পাউন্ডের একটি চকলেট কেক অর্ডার করা হয়।
এরপর তিনটা মিল বক্স আর দুইটা হাফ প্লেট কাচ্চি বিরিয়ানি অর্ডার দেয়। কারণ দুই বোন এক প্লেট করে বিরিয়ানি কোনোদিনই শেষ করতে পারবে না। তাই তাদের জন্য দুইটা হাফ প্লেট বিরিয়ানি নেওয়া হয়।
আর রাফিদ নিজের জন্য এক প্লেট কাচ্চি বিরিয়ানি অর্ডার দেয়। তিনজনের জন্য পাঁচটা করে স্পঞ্জ মিষ্টিও অর্ডার করে।
দুই বোন তো খাবারের অর্ডার শুনেই খুশিতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসে। রাফিদ তাদের দেখে হেসে বলে,
—কী হলো? এখন আবার খাবার নিয়ে ঝগড়া শুরু করিস না যেন!
জারা আর রাইসা একসাথে বলে ওঠে,
—না ভাইয়া! 😄