ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৪র্থ পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-০৪♥

#Ayanaa_Jahan_(Nusraat)♥

- ভাইইইয়া? এই ভাইয়া.... কোথায় তুই? বেড়িয়ে আয়!

আমার চিল্লানিতে বাড়ি সুদ্দ সবাই হন্তদন্ত হয়ে বেড়িয়ে এলো। আম্মুর কোমড়ে শাড়ির আঁচল গুজুনো আর হাতে খুন্তি। বুঝতেই পারছি কিচেনে রান্না করছিলো। আব্বুর হাতে নিউজ পেপার। নিশ্চয় নিউজ পড়ছিলেন। আর ভাইয়া? ভাইয়া তো খালি গায়ে, শুধু হাফপ্যান্টের ফিতা বাঁধতে বাঁধতে ড্রয়িংরুমে আসছে। এমনি সময় হলে আমি ভাইয়াকে মুখ ভেঙিয়ে হাসিতে ফেটে পড়তাম। কিন্তু এখন হাসা ইজ নট এলাউড। কারণ আমি রেগে আছি। ভীষণ রেগে আছি।

তাই কোমড়ে হাত দিয়ে ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে আম্মুকে বলে উঠলাম,

- আম্মি তোমার গুনোধর ছেলেকে বলো তার যে একটা বোন আছে সে কি ভুলে গিয়েছে?

আম্মু হয়তো আমার এরকম বিহেভের কারণ বুঝতে পারেনি তাই পাল্টা আমাকে প্রশ্ন করে উঠলো,

- কি হয়েছে রে অনু? এরকম করে কথা বলছিস কেন? আর আজ এতো দেরি করেই বা এলি কেন?

এখন তো আর এটা বলা যাবে না যে আমি কি কাজ করে ভার্সিটি থেকে ফিরছি তাই দেরি হয়েছে। আমার মান সম্মান সব ধুলোয় মিশে যাবে। তাই প্রসঙ্গটা একপ্রকার এড়িয়েই বলে উঠলাম,

- আম্মু তোমার ছেলে কি জানে না আমি এখানে নতুন? তোমারা তো ভাইয়ার জন্য আমাকে খালামুনির কাছে রেখে রাজশাহীতে চলে এলে। কিন্তু এখন যখন আমিও এখানে চান্স পেলাম তো তোমাদের আমার প্রতি কোনো কেয়ারই নেই। মানলাম গতকাল ভাইয়ার কাজ ছিল তাই আমার সাথে দেখা করতে আসতে পারে নি। কিন্তু আজকে কি ছিল যে একবার আসতেও পারে নি আমার কাছে?

আম্মু আব্বু প্রতি উত্তরে কিছু বলতে যাবে তার আগেই ভাইয়া ওদের থামিয়ে দিয়ে বলে উঠলো,

- এই বান্দরনি! তোকে কে বলেছে আমি যাইনি তোকে খুঁজতে? পুরো ক্যাম্পাস ইভেন তোর ক্লাসে পর্যন্ত গেছিলাম। কিন্তু তুই হাওয়া। কেউ বলতেও পারছিলো না তুই কোথায়। আর তোর ঐ ফ্রেন্ডটারো কোনো হদিশ নেই। শেষে তোকে না পেয়েই ক্লান্ত হয়ে চলে আসলাম। আর কি বললি আম্মু আব্বু তোকে আন্টির কাছে রেখে আসছে? দিবো এক থাপ্পড় নিজেই তো আসতে চাসনি। রেজিসট্রেশন তো এখানেও ট্রান্সফার নিয়ে করা যাইতো। তুই'ই তো তোর প্রাণপ্রিয় বান্ধুপী ছেড়ে আসতে চাসনি। আবার আমাদের দোষ দিচ্ছিস?

ভাইয়ার কথা শুনে আমি চুপসে গেলাম। আসলেই তো আমি তো স্টোররুমে ছিলাম তাই ভাইয়ের আমাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব ছিলো না। কিন্তু এখন বলবো টা কি? তাই মুখ কালো করে বলে উঠলাম,

- আমি বই নিতে লাইব্ররীতে গেয়েছিলাম। আর তুই তাড়াতাড়ি আসলেও তো পারতি। হুহ!

- আমার আর তোর ক্লাসের টাইম তো এক না তাইনা? তুই কখন আমাকে দর্শন দেওয়ার জন্য বসে থাকবি তা তো আর আমি জানবো না তাইনা? যত্তসব। যা গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়!

- হুহ! যাবো না কি করবি তুই? হনুমান কথাকার!

- এই টিকটিকি যা বলতেছি!

- চুপ থাক তুই শিম্পাঞ্জী!

এরকম হাজারটা গালি দিয়ে চলেছি আমি ভাইয়াকে আর ভাইয়া আমাকে। আম্মু আর আব্বু হাসবে না কাঁদবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছেনা।

- দেখেছো ছেলে মেয়ে দুটো এখনোও বাচ্চাই রয়ে গেল। অগ্নিটাকেও বলি হারি এতো বড় হয়েও বাচ্চামো গেল না। (আম্মু)

- তা যা বলেছো। আপাতত ওদের থামাও রুবি! খিদে পেয়েছে খুব। (আব্বু)

- এই অগ্নি, অনন্যা থামবি তোরা? যা নিজেদের ঘরে যেয়ে ফ্রেশ হয়ে নে। নাহলে আজকে আর খেতে হবে না তোদের।

খাওয়ার কথা শুনেই আমরা থেমে গেলাম। সকালে এমনিতেই খেয়ে যাওয়া হয়নি। পেটে ইতিমধ্যে ইঁদুর সহ বেড়ালোও দৌড়ানো শুরু করে দিয়েছে।

ভাইয়া আর আমি দুজন দুজনের দিকে সরু চোখে তাকিয়ে একসাথে ছুট লাগালাম উদ্দেশ্য কে আগে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে পারে। কিন্তু ওইযে ভাই আমার দৌড় খেলায় প্রতিবার ফার্স্ট হয়। আর আমি লাস্ট রানার আপ হয়ে কি আর তার সাথে পারি? ধাক্কাধাক্কি করে উঠে ভাইয়া আমাকে ভেংচি কেটে ফুরুত করে ঘরে ঢুকে গেল। আর আমি গালি দিতে দিতে নিজের ঘরে গেলাম ফ্রেশ হওয়ার জন্য। ওদিকে আম্মু আব্বু হাসতে হাসতে কুপোকাত হয়ে গেছে।

🍁

আজকে ভাইয়া আমি আর রাত্রি একসাথে ভার্সিটি যাচ্ছি। ভাইয়ার ক্লাস এখন না। আরো দেড় ঘন্টা পর ভাইয়া আসতে পারতো বাট আমার কালকের চিল্লাচিল্লির জন্য একপ্রকার বাধ্য হয়েই আসছে ভাইয়া। ভার্সিটির গেইট দিয়ে ঢুকার পরই ভাইয়াকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম,

- ভাইয়া তোর ডিউটি শেষ। তুই এখন যেতে পারিস।

- হোয়াট? মানেটা কি? তুই না কাল চেঁচিয়ে পুরো বাড়ি মাথায় তুললি যে আমি তোকে কিছু চিনায় দেই নাই? সেই জন্যেই তো হাতে সময় নিয়ে বের হলাম। তোর ক্লাস শুরু হওয়ার আরোও ৪০ মিনিট বাকি আছে। তাহলে?

- আরে ব্রো রিলাক্স। আমারা বড় হয়ে গেছি। একা একা ঠিক সব চিনে নিবো। তোকে চাপ নিতে হবে না। কি রাত্রি কি বলিস?

- সে ঠিক আছে বাট ভাইয়া থাকুক আমাদের সাথে। প্রবলেম কি?

- এই রাত্রি তুই আমার বন্ধু না শত্রু হ্যা? আরে বুঝিস না কেন? আমরা দুইটা মেয়ে মানুষ ভাইয়া বোর ফিল করবে তো।

- অনু তুই এবার আমার মার খাবি। বাসায় যেয়ে আম্মুকে যদি না বলেছি। ফাজিল মেয়ে শুধু শুধু আমার পুরো একটা ঘন্টার ঘুম মাটি করলি তুই।

- হেহে সরি ভাইয়া তোরই তো বোন আমি। বুঝিস না কেন? আর তাছাড়া এতো ঘুম ভালো না বুঝলি? এতো সুন্দর ফিগারটা নষ্ট হলে পরে আর তোর দিকে কোনো মেয়ে তাকাবে না।

বলেই এক দৌড় দিয়েই পগাড়পাড়। আমাকে আর কে পায়? পেছন থেকে ভাইয়ার রেগুলার গালি ভেসে আসতেছে কানে আর রাত্রি আমাকে ডাকতে ডাকতে ছুটছে আমার পেছনে।

🍂

অগ্নি একা কি করবে তাই ফোনটা বের করে কাকে যেন ফোন করলো,

- হ্যাঁ দোস্ত আমি ভার্সিটিতে আসছি। জলদি আয়!

- কিহ? তুই সালা এতোদিন আমি তাড়াতাড়ি যেয়ে তোকে ঘুতাইতাম জলদি আসার জন্য আর তোর ঘুমই ভাঙতো না। ব্যাটা, সূর্য আজ কোনদিকে উঠছে বলতো?

- তোর মাথার ওপর শালা! আয় বলতেছি একটা বান্দরও আসে নাই এখনোও!

- কে বলছে যায় নাই? তুই তো গেছিস। আই মিন একটা বান্দর তো গেছে। আচ্ছা দাঁড়া। আসতেছি ৫ মিনিট ওয়েট কর আমি ৬ মিনিটে আসতেছি!

🍂

রাত্রি আর আমি হাটতে হাটতে ভার্সিটির অপর পাশে চলে আসলাম।

- এই রাত্রি এই দিকটা এতো ফাঁকা কেন?

- এদিকটায় আছেটা কি যে ভীর থাকবে? অবশ্য ওই যে সামনে দেখ একটা গেট আছে। এটা দিয়েও অনেকে ঢুকে।

রাত্রি আমাকে গেটটা আঙুল দিয়ে দেখায় দিচ্ছে আর এই ফাঁকে আমি পাশের গাছটার থেকে পাতা ছিঁড়ে হাতের মুঠোয় ধরে নিলাম। উদ্দেশ্য রাত্রির সুন্দর চুলকে আরোও সুন্দর করে পাতায় পাতারণ্য করে তুলা।

- ওহ আচ্ছা! এই রাত্রি ওইদিকটায় গেছিলি কি? ( হাতের ইশারায়)

রাত্রি আমার কথা শুনে উল্টো দিকে ঘুরতেই পাতার কুচি গুলো ওর এলোমেলো চুলে ছেড়ে দিলাম। দেখতে পুরাই জঙ্গলি লাগছে ওকে যদিও ও সেটা দেখতে পারছেনা।

- না যাইনি। (আমার দিকে ফিরে)

- এই রাত্রি তোর চুলে এগুলো কি?

রাত্রি নিজের মাথায় হাত দিয়ে আন্দাজ করে কিছু আছে। হাতের মুঠোয় ধরে সামনে এনে দেখে গাছের পাতা! এও বুঝতে পারে যে এটা আমার কাজ ছাড়া আর কারো কাজ হতেই পারেনা।

রাত্রি ভ্রু কুঁচকে, মুখ লাল,নীল,বেগুনি করে আমার দিকে তাকিয়ে দিলো এক চিল্লানি,

- অনন্যা!

আমাকে আর পায় কে? সোজা দৌড় লাগালাম ওকে রেখে। কিন্তু ওইযে কপাল। কিছুদূর যেতেই কারো বাইকের সাথে ঠাস করে ধাক্কা খেয়ে ধপাস করে পরে গেলাম। আমি পরে যেতেই রাত্রির সে কি হাসি! একটাই কথা বলে চলেছে সে,

- ঠিক হয়েছে বেশ হয়েছে! উচিৎ শিক্ষা হয়েছে।

আর এদিকে আমার হাটু ছিলে গেছে! ইশশ! পা ও মচকে গেছে। নিচ থেকে চোখ তুলে ওপরে তাকাতেই আমার কলিজা শুকায় কাঠ হয়ে গেল। আমার সামনে আর কেউ নয় আমারই যম, আই মিন সাদা বিলাই থুক্কু আই মিন নীবিড় ভাইয়া বিরক্তিমাখা মুখ করে আমার দিকে চেয়ে আছেন। যেন ভার্সিটিতে ঢুকেই আমার মুখটা দেখবার একটুও আশা করেন নি তিনি। বিন্দু মাত্রও না।

চলবে................❤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪র্থ পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন