#প্রেম_আমার♥
#পার্ট-০৫♥
#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥
🍁
- এই মেয়ে প্রবলেম কি তোমার? সবসময় আমার সামনে এসেই কেন তোমার পড়তে হয়? ভার্সিটিতে ঢুকতে না ঢুকতেই হাজির! ডিসগাস্টিং!
এবার আমার রাগ উঠা শুরু করলো। ভাবলাম ছোট্ট করে একটা সরি বলে চলে যাবো। কিন্তু না উনি তো এলিয়েন, মানুষ না। আমি তা ভুলেই গিয়েছিলাম। কি ভাবেনটা কি উনি নিজেকে? আমি কি ইচ্ছে করে উনার বাইকের সামনে মরতে
এসেছি নাকি? উনার কি মিনিমাম কমনসেন্সটুকুও নেই নাকি? দেখছে আমি পড়ে গিয়ে ব্যাথা পাচ্ছি আর উনি বকা দেওয়া শুরু করে দিয়েছেন? আশ্চর্য তো!
এসব ভেবে রেগে মেগেই জবাব দিলাম,
- আপনার প্রবলেম কি হ্যা? আমি যেখানেই যাই সেখানেই একদম টুপ করে আকাশ থেকে পড়ে হাজির হয়ে যান? এই দিকে তো আপনাকে কখনো দেখিনি। মানুষজন কম তাই এদিকটায় আসলাম। কিন্তু কপাল আমার! এখানেও শান্তি নেই। আর আপনার কি কোনো কাণ্ডজ্ঞান নেই? কেউ কি নিজে থেকে মরতে বাইকের সাথে ধাক্কা খায়? হুট করে কই থেকে টপকে পড়লেন! উফফফ! দেখুন কি জ্বালা করছে। এহ্যাএহ্যা! (কান্নার ভান করে)
- ইউ স্টুপিড! সাহস কি করে হয় তোমার আমার সাথে এভাবে উঁচু গলায় কথা বলার? (চেঁচিয়ে)
তুমি চোট পেয়েছ তাই কিছু বললাম না, বাট এই লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি ফার্দার আমাকে বিরক্ত করবা না। নাহলে ব্যাপারটা মোটেও ভালো হবেনা। নাও লিভ! ( শান্ত গলায়)
উনার শান্ত গলার ধমকটা কেমন যেন কাসুন্দি ছাড়া পেয়ারা মাখার মতো লাগলো আমার। কিন্তু মুখে কিছু বললাম না। কারণ নিজের ভালো পাগলেও বোঝে, সেখানে আমি তো সুস্থ মস্তিষ্কের একজন মানুষ।
আমি উঠার চেষ্টা করছি কিন্তু পায়ের ব্যথায় উঠতেও পারছিনা। নীবিড় ভাইয়া কার যেন ফোন পেয়ে বাইক ওখানেই স্টান্ড করে রেখে সাইডে যেয়ে কথা বলতে লাগলেন। এদিকে আমার নাজেহাল অবস্থা! রাত্রি বারকয়েক আমাকে উঠানোর জন্য টানাটানা, হেঁচড়া হেঁচড়ি, ঠেলাঠেলি পর্যন্ত সব চেষ্টা চালানোর পর হাঁপাতে হাঁপাতে বলে উঠলো,
- এই অনন্যা! তোকে এতো ভারী লাগছে কেনো বলতো? উফফ জান টা বের হয়ে গেল তাও উঠাইতে পারলাম না।
- তা পারবি কেমনে? তোর শক্তির শ টাও আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। আর তুই আমাকে আর যাই হোক ভারী, মোটাচোটা বলতে পারিস না, এমন জিরো ফিগারের মেয়েকে ভারী বলছিস তুই? আমার লম্বা হিসেবে ৫০ কেজি ওজন অনেক কম। BMI বের করছিলাম, রেজাল্টে আমাকে রোগা বলা হইছে! বেশি বেশি পুষ্টি সম্পন্ন খাবার খাইতে বলছে। আজকাল এতো সুন্দর ফিগার ওয়ালা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চির মেয়ে পাবি কোথায়?
- অনন্যা! (চেঁচিয়ে) তুই এতো কথা বলিস কেন? টকেটিভ কথাকার! এটলিস্ট এরকম একটা পরিস্থিতিতে একটু চুপ থাক। আমি দেখছি কি করা যায়!
আমাদের কথোপকথন এর মধ্যেই নীবিড় ভাইয়া ফোনের লাইন কেটে বাইকের কাছে আসেন।
- এই তুমি এখনো উঠনি কেন এখান থেকে?
আমি অসহায় মুখ করে উনার দিকে চেয়ে রইলাম। আর রাত্রি উনাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,
- ভাইয়া! ওর পায়ে খুব লেগেছে। অনেক চেষ্টা করেও উঠাতে পারিনি। (মাথা নিচু করে)
নীবিড় ভাইয়া কিচ্ছুক্ষণ চুপ করে থেকে কিছু একটা ভেবে আমার দিকে ঝুঁকতে লাগলেন!
হয়তো হাত বাড়িয়ে উঠানোর জন্য। আরে আরে করে কি এই মিয়া? রাত্রি এতো টানাটানি করেও উঠাতে পারলোনা আর উনি হাত দিয়ে উঠাবেন? নিশ্চয় এটার মাথার কয়েকটা তাড় ছিঁড়া আছে! আমি এসব ভেবে ঠোট উল্টিয়ে ভ্রু কুঁচকে রাত্রির দিকে তাকালাম ও কাধ দুটো উঁচু করে হাতের পিঠ উল্টিয়ে বুঝালো ও নিজেও কিছু বুঝতে পারছেনা।
উনি আমাকে অবাক করে দিয়ে এক হাত কোমড়ে আর একহাত হাটুর উলটো পিঠে দিয়ে এক ঝাটকায় আমাকে শুণ্যে তুলে নিলেন। ব্যাপারটা এতো দ্রুত হলো যে আমি পুরাই ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলাম। মাথাটা হুট করেই হ্যাং হয়ে গেল। খানিক বাদে বুঝলাম আমি উনার কোলে! উনি সামনের দিকে তাকিয়ে বড়বড় পা ফেলে আমাকে কোলে নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলেন! রাত্রি আমাদের পেছন পেছন চুপচাপ হেটে আসছে খানিকটা ডিস্টান্স বজায় রেখে।
কিছুদূর যেতেই আমি উনার হাত খাঁমচে ধরলাম। উনি হাটা থামিয়ে ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে তাকালেন। আমি ভয়ে ঘামতে শুরু করে দিয়েছি। হাতের ইশারায় উনাকে সামনে তাকাতে বললাম। উনিও আমার দেখানো আঙুল বরাবর সামনে তাকালেন। উনি বিরক্ত হয়ে আমার উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন,
- সামান্য একটা কুকুর দেখে এতো ভয় পাওয়ার কি আছে? চুপ থাকো কিচ্ছু হবেনা।
কিন্তু উনার এই আশ্বাসটা আমার ততোটা পছন্দ হলো না। এমনিতেই ক্লাস ফাইভে থাকতে ২ টা কুকুরের তাড়া খেয়েছি আমি। একটা সামনে থেকে এট্যাক করেছিল আর একটা পেছন থেকে। আমার বাম পাশে আমাদের বাসা আর ডান পাশে ছিল বাগান। কুকুরগুলো আমাকে বাসায় ঢুকতেও দিচ্ছিলোনা। কি সেই দৌড়াদৌড়ি! আজীবনেও ভুলবোনা। তারপর পুরো এক বছরেও আমার কাঁপাকাঁপি বন্ধ হয়নি। হাতে শক্তি পাইতাম না। লিখতে গেলেও হাত কাঁপতো। উফফ!
ভয়ে চোখ বন্ধ করে দাঁতে দাঁত চেপে চুপ করে রইলাম আমি। উনি আবার হাটতে উদ্দ্যত হওয়া মাত্রই কুকুরটা বিকট এক আওয়াজে চিল্লিয়ে উঠলো,
- ভাউউউউউউ!
না না আমি পারবো না। কোথায় পায়ের ব্যথা আর কোথায় কি? এক লাফ মেরে উনার কোল থেকে নেমেই "আম্মুউউউউউ বাঁচাও কুত্তা!" বলে চেঁচাতে চেঁচাতে উল্টো দিকে দৌড় লাগালাম। নীবিড় ভাইয়া রেগে মেগে বলছেন,
" আরে এই মেয়ে দৌড়িও না কুকুর তাড়া করবে।"
উনার কথাটা বলতে দেরী হলেও কুকুরটার উনার দিকে তেড়ে আসতে দেড়ি হয়নি। যাইহোক কুকুরটা ভদ্র ঠিক বুঝতে পেরেছে যে আমাকে নয় ওই সাদা বিলাইকেই তাড়া করতে হবে। এমনিতেই কুকুক আর বেড়াল জাত শত্রু!
নীবিড় ভাইয়া মহা বিপদে পরে গেলেন যেন। উনি না পারছেন দৌড়াতে আর না পারছেন সেখানেই ঠায় দাঁড়ায় থাকতে! শেষে কুকুরটা একদম উনার কাছাকাছি চলে আসায় জীবন বাজি রেখে উনিও দৌড় লাগালেন। কুকুরের কামড় কেই বা খেতে চায়? একে তো কামড় দিবে তারওপর ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য ঘুতা খেতে হবে, আই মিন ইঞ্জেকশন নিতে হবে।
সাদা বিলাইয়ের পেছনে কুকুর দৌড়োচ্ছে থুক্কু নীবিড় ভাইয়ার পেছনে কুকুর দৌড়োচ্ছে আর নিবীড় ভাইয়া অলিম্পিকে রেস লাগানোর প্রিপারেশন নিচ্ছেন। আমি দৌড়ে একটা সেইফ জায়গা দেখে লুকিয়ে পরি। ওদিকে রাত্রিকেও দেখা যাচ্ছেনা। বুঝতে বাকি নেই ও নিজেও ভাগছে। ইশশ! পা টা ভীষণ ব্যাথা করতেছে। এই খোড়া পা নিয়ে দৌড়ানোটা ঠিক হয়নি মোটেই।
ভার্সিটির সবাই ভবন থেকে মাঠের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে যেন শুটিং চলছে। একেক জন একটু পর পর বলে উঠছে,
- এই নীবিড়ের পেছনে আজকে মেয়ের বদলে কুকুর লেগেছে। হায় হায়!
- আল্লাহ! এটা কি হলো? নীবিড় দৌড়িয়ে এদিকে আসো (চেঁচিয়ে)
- নাহ! আমার ক্রাশের একি অবস্থা হায় হায়!
এরকম নানা মন্তব্য করে যাচ্ছে সবাই। যেহেতু সবার ক্লাস টাইম তাই মাঠে তেমন কেউ নেই। অগ্নি গাছের নিচে বসে ফোনে গেমস খেলছিলো হঠাৎ ও কারো কথা শুনতে পায় যে নীবিড়কে কুকুর তাড়া করছে।
অগ্নি ফোন রেখে ছুট লাগায় মাঠের দিকে। যেয়ে দেখে নীবিড়ের বারোটা নয়, তেরটা বেজে গেছে। বেচারা হাপায় গেছে। কুকুরটাও হার মানবার মানুষিকতার নিয়ে...না না মানুষ হলে না মানুষিকতা থাকবে? আই মিন কুকুষিকতা নিয়ে মাঠে নামে নি। ভাউউউ ভাউউউ করতে করতে ছুটছে নিবীড়ের পেছনে। অগ্নি এইরকম পরিস্থিতি দেখে কি করবে ভেবে না পেয়ে পায়ের কাছে কিছু ইটের টুকরো দেখতে পেল। সেগুলো হাতে নিয়ে কুকুরটির দিকে ছুড়লো। উদ্দেশ্য কুকুরটিকে মারা নয়, তাকে ভয় দেখিয়ে পিছু ছাড়ানো।
বেশ কয়েকটা ঢিল ছুড়ার পর কুকুটিকে তাড়াতে সক্ষম হয় অগ্নি। নীবিড় পেছিনে তাকিয়ে কুকুরটিকে দেখতে না পেয়ে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। ঘাসের ওপরেই হাটু গেড়ে ধপ করে বসে পড়ে সে। কপাল বেয়ে টপটপ করে ঘাম ঝড়ে যাচ্ছে তার। অগ্নি নীবের কাছে যেয়ে নিজের ব্যাগ থেকে পানির বোতলটা এগিয়ে দিয়ে বলে ওঠে,
- পানিটা খেয়ে একটু দম নে।
নীবিড় বোতল থেকে দু-তিন ঢোগ পানি খেয়ে বাকি পানি হাতে নিয়ে মুখের ঝাপটা মারে। বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে শান্ত হবার চেষ্টা চালায় যায় সে।
চলবে....................❤