ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৮ম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-০৮♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

🌺

- হেই ইউ তোমাকে কতোবার বলবো দ্যট আই ডোন্ট লাভ ইউ? কেন বোঝো না? আমি তোমাকে ভালোবাসি না। ভুলে যাও আমাকে। জাস্ট ফরগেট মি ড্যাম ইট!

- ভেবে বলছো তো? সত্যিই কি আমাকে ভালোবাসো না?

- ইয়াহ! আমি ভেবেই বলছি। আমি তোমাকে ভালোবাসিনা।

- কিন্তু তোমার চোখ তো আলাদা কথা বলে অগ্নি।

- শুনো মেয়ে আমার চোখ কি বলে না বলে তা নিয়ে তোমাকে গবেষণা করতে হবে না। মেডিকেলে পড়ছো, ভালো করে স্টাডি করো। তাহলেই হবে। এন্ড ওয়ান মোর থিং, ফার্দার আমার সাথে আর দেখা করতে আসবে না ওর কল, মেসেজ এসব ও দেবে না। গট ইট? নাও গো। বাড়ি যাও নিজের।

- আই অ্যাম সো সরি অগ্নি, আমি যে তোমার এই কথাটা রাখতে পারবো না। আমি তোমাকে নিজের ভালোবাসা দিয়ে আমার করে নেবোই। তুমি যতই আমাকে এভোয়েড করো আমি জানি তুমি কিঞ্চিত পরিমাণে হলেও আমার প্রতি উইক। এন্ড তুমিও আমাকে ভালোবাসবে। ইটস মাই চ্যালেঞ্জ।

কথাগুলো বলে নিত্য রেস্টুরেন্ট থেকে উঠে হাটা ধরলো। অগ্নি কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। রাগে দুঃখে নিজের চুল ছিঁড়া শুরু করে দিয়েছে সে। এমন কিন্তু না যে অগ্নি নিত্য কে বিন্দু মাত্রও ভালোবাসে না, বরং সে ও মনে মনে নিত্যর প্রতি বেশ দূর্বল। ও যে নিত্যকে ভালোবেসে ফেলেছে তা একটু হলেও বুঝতে পারলেও বুঝতে চায় না সে। সে তার মনকে বোঝাতে চায় যে সে নিত্যর প্রতি উইক না। কিছুতেই না।

সে চায় না তার ভালোবাসার জন্য নীবিড় আর তার বন্ধুত্বতে ফাটল ধরুক।

এবার আসি নিত্য কে সেই প্রসঙ্গে। নিত্য হলো নীবিড়ের ছোট বোন। রাজশাহী মেডিকেলে ৩য় বর্ষের স্টুডেন্ট। নিত্য অনেক আগে থেকেই অগ্নিকে ভালোবাসে। প্রথম যেদিন নীবিড়ের সাথে অগ্নিকে দেখেছিল ঠিক সেদিন থেকেই সে অগ্নিকে মন প্রাণ সব দিয়ে ফেলেছে। এই নিয়ে সে বেশ কয়েকবার অগ্নিকে বলেছে কিন্তু প্রতিবারই অগ্নির উত্তর না বোধক। এতে অবশ্য আর নিত্যর কোনো কষ্ট নেই। কারণ কয়েকদিন যাবৎ সে লক্ষ্য করেছে যে অগ্নিও তার প্রতি কিছুটা উইক হয়ে পড়ছে। যদিও সেটা অগ্নি মুখে বলতে নারাজ তবে নিত্য তা বেশ বুঝতে পারছে। হাজার হোক মেয়েদের এই গুণটা কিন্তু খুব আছে। তারা চট করেই সামনে থাকা ব্যক্তির অঙ্গভঙ্গি দেখেই তার মনে কি চলছে বুঝে নিতে পারে।

আজ নীবিড়ের সাথে ফাংশনের সব কাজ করার পর নিত্য অগ্নিকে কল করে ডাকে। প্রথমে বেশ কয়েকবার মানা করার পরও নিত্য নাছরবান্দা তার একটাই কথা, অগ্নি না গেলে সে রেস্টুরেন্টে বসেই থাকবে বাড়িতে যাবেনা। তাই অগ্নি একপ্রকার বাধ্য হয়েই কোনো একটা বাহানা দিয়ে বেড়িয়ে পরে নিত্যর টেক্সট করা ঠিকানায়। ওদিকে নীবিড়কে মামুনি কিছুতেই যেতে দিতে চাচ্ছে না। উনার একটাই আবদার আজ যেন নীবিড় রাতে ডিনারটাও করে যায়। তাই নীবিড় মামুনির কথার ওপর আর কিছু না বলেই থেকে যায়।

🍁

সন্ধ্যে হয়ে আসছে। ঘড়ির কাটা জানান দিচ্ছে এখন ৬ টা বেজে ১৭ মিনিট। নীবিড় ভাইয়া এখনো ল্যাপটপে মুখ গুঁজে রয়েছেন। আমি বারবার উনার সামনে দিয়ে যাওয়া আসা করছি শুধুমাত্র উনার হাবভাব বুঝার জন্য। কারণ আবার যদি শাস্তি টাস্তি দেন তাহলে আমাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আর হ্যাঁ এবার আমি চুপ থাকবোও না। যদি খারাপ বিহেভ করেন তাহলে আমিও আর চুপ থাকবো না। না না না।

এসব ভাবতে ভাবতে আবারোও উনার সামনে দিয়ে হেটে যেতে নিলে উনি ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই এক হাতের ১ টা আঙুল দুবার মুড়িয়ে আমাকে তার কাছে যেতে ইশারা করলেন। আমার বুকটা যেন মুহূর্তেই ধক করে উঠলো। কে জানে আবার কি করে। যতই হোক এটা আমাদের বাড়ি সো এখানে উনি কিছু করতে পারবেন না। তাই এতো ভয় পাওয়ার তো কোনো মানেই হয়না।

- বি স্ট্রং আনানয়্যা! ইউ ক্যান ডু ইট।

বিড়বিড় করে নিজেকে শান্ত করতে বললাম আমি।

- এই যে মিস, বিড়বিড় করা বন্ধ করে এইদিকে আসেন।

উনার কথায় আমি বিষম খেয়ে গেলাম যেন। উনার কি চারিদিকেই চোখ কান আছে নাকি? স্ট্রেইঞ্জ! ব্যাপারটা নিয়ে পরে ভাবা যাবে। আপাতত উনার কাছে যাই।

এসব ভেবেই উনার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লাম।

- সিট।

- হা?

- ওয়াট হা? বসতে বলেছি তোমাকে। সোফায় বসো।

শান্ত গলায় বললেন তিনি। আসলে আমি ভেবেছিলাম উনি উনার কোলে বসতে বলছেন। কারণ আমি যেভাবে দাড়িয়ে ছিলাম, হুট করে বসতে বললে তাই মনে হওয়া স্বাভাবিক।

নিজের বোকামির জন্য নিজেই নিজের মাথায় একটা চাটি মেরে উনার পাশে বসে পড়লাম।

- কি..কিছু বলবেন?

- হুম। (ল্যাপটপে টাইপ করতে করতে)

- তো বলুন কি বলবেন? আর দেখুন প্লিজ কালকের ওই কুত্তার দৌড়ানি নিয়ে কিছু বলবেন না। আমি আসলে অনেক ভয় পাই তাই না ভেবেই....

আমাকে কথার মাঝখানে থামিয়ে দিয়ে উনি বলে উঠলেন,

- ওয়াট ইজ দিস? কুত্তা কি হ্যাঁ? ল্যাংগুয়েজ ঠিক করবা। আর ভুল করার কথা বলছ? ওটা তো তোমার স্বভাবই। প্রতিদিনই কিছুনা কিছু ভুল করা দ্যান সরি বলা। লেট ইট গো। এখন কথা হচ্ছে তোমার ডিপার্টমেন্ট থেকে যেকোনো একজনকে স্টেজে স্পিচ দিতে হবে ভার্সিটি সম্পর্কে। এন্ড আই থিংক ইউ ক্যান হ্যাভ দ্য চান্স। যেহেতু ঝগড়া করতে মুখ ভালোই চলে তোমার আশা করি ইজিলি স্পিচ দিতে পারবা। ওকে? আর এই যে এটা তোমার স্ক্রিপ্ট! (একটা কাগজ আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে) এটার ডায়ালগ গুলো বলবা। এন্ড দ্যান তোমার এই কয়দিনে কি ধরণের এক্সপেরিয়েন্স হলো তা তুলে ধরবা। লাইক তোমাদের টিচার্স, ক্যাম্পাস, ফ্রেন্ডস এন্ড ডিসিপ্লিনস এসব সম্পর্কে তুলে ধরবা। ওকে? এখন তুমি আসতে পারো।

উনার কথাবার্তা শুনে আমি যেন সপ্তম আকাশ থেকে দুম করে পড়ে গেলাম। উনি এমনভাবে কথা বলছেন যেন আমি কোনো জবের জন্য জোড়াজুড়ি করছি আর উনি আমাকে দয়া দেখিয়ে জবটা দিয়ে দিলেন। হাহা! কিন্তু মুখে কিছু বললাম না। কারণ আমার এই কাজটা বরাবরই ভালো লাগে। আগে কলেজে থাকতে আমাকেই যেকোনো বক্তব্য দেওয়ার জন্য সিলেক্ট করা হতো কারণ এটা আমি খুব ভালো করেই পারি। কিন্তু এখন ভাববার বিষয় হচ্ছে আমি বক্তব্যে বলবোটা কি? এটা বলবো নাকি যে "প্রথম দিনই আমার একটা ভুলের জন্য কান ধরে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম, সেকেন্ড দিন আরোও একটা ভুলের জন্য ঝাড়ুদারনি হয়ে ছিলাম, আর তৃতীয় দিন সিনিয়রকে কুত্তার দৌড়ানি খাইয়েছিলাম?"

কথাগুলো ভাবতেই নিজের অজান্তে হুহা করে হেসে উঠলাম আমি, আমার হাসি শুনে সাদা বিলাই ল্যাপটপের দিকে তাকিয়েই ভ্রু কুচকে বলে উঠলেন,

- এতোই যখন হাসি পাচ্ছে তাহলে নিজের ঘরে গিয়ে হাসো। ডোন্ট ডিস্টার্ব মি। নাহলে কুকুরের তাড়া খাওয়ানোর পানিশমেন্টটা মাফ না করে সুদে আসলে উসুল করে নিবো। সো কিপ কোয়াইট। অ্যান্ড লিভ নাও।

উনার কথা শুনে পুরো মেজাজটাই বিগড়ে গেল। নিজেকে যে কি ভাবেন উনি আল্লাহ মালুম! অদ্ভুদ ব্যাপার এতোগুলো কথা বললেন অথচ একটা বারের জন্যেও আমার দিকে তাকাননি উনি। ভাব! যত্তসব! রেগে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে উঠে দাঁড়ালাম। তখনই বেল বেজে উঠলো।

আমি দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখি ভাইয়া মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছু জিজ্ঞাস করবো তার আগেই আমাকে কোনো সুযোগ না দিয়ে হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে গেল ও।

- অগ্নি? শালা এতো দেরী হলো কেন তোর ফিরতে? জানিস কখন থেকে প্রজেক্টের ওপর কাজ করছি। মরার কাজ শেষই হচ্ছেনা। (অগ্নির মুখ দেখে) কিরে তোর মুখ এতো শুকনো লাগছে কেন?

ততক্ষণে আম্মু আব্বুও ঘর থেকে বেল বাজার আওয়াজ পেয়ে বেড়িয়ে এলেন।

- কিরে ভাইয়া? তোর কি হয়েছে?

- বাবাই শরীর ঠিক আছে তোর? (আম্মু)

- কিছু না ঠিক আছি আমি। জাস্ট একটু টায়ার্ড লাগছে। দ্যাটস ইট। তোমরা থাকো আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসি তাহলে বেটার ফিল হবে।

নীবিড় ভাইয়া কিছু একটা ভেবে বলে উঠলেন,

- আচ্ছা যা ফ্রেশ হয়ে আয়। তারপর দেখছি।

কেউ আর কথা বাড়ালোনা। ভাইয়া ফ্রেশ হতে চলে গেল।

- হ্যাঁ গো কি হলো বলো তো ছেলেটার? ও যতই টায়ার্ড থাক কখনোও এভাবে মুড অফ করে থাকে না। সবসময় হেসে খেলে বেড়ানো ছেলেটা এমন চুপচাপ হয়ে গেলো কেন? (আম্মু)

- সেটা তো আমিও ভাবছি। হয়তো কোনো কিছু নিয়ে আপসেট। (আব্বু)

- মামুনি, বাপী তোমরা চিন্তা করো না ওকে আমি দেখে নিবো। ওকে আমার ওপর ছেড়ে দাও। তোমরা রিল্যাক্স থাকো।

নীবিড় ভাইয়ার কথা শুনে আম্মু আব্বু অনেকটা দুশ্চিন্তা মুক্ত হলেন যেন। আম্মু মুচকি হেসে কিচেনে গেলেন। ডিনারের ব্যাবস্থা করতে।

রাত ৯ টা বেজে ৪০ মিনিট,

সবাই ডায়ানিং টেবিলে বসে আপন মনে খাচ্ছি। সবার মাঝেই একরকম পিনপতন নীরবতা বিরাজমান। মাঝে মাঝে প্লেট, গ্লাস, চামচ এসবের টুং টাং আওয়াজ কানে ভেসে আসছে এই।

নীরবতা ভেঙে নীবিড় ভাইয়া বলে উঠলেন,

- মামুনি আমার খাওয়া হয়ে গেছে আমি এখন আসছি। আর অগ্নি ঠিক সকাল ৭ টার মধ্যে ফাংশন অ্যাটেন্ড করবি। মামুনি ও না উঠলে লাথি মেরে উঠাবা। ওকে?

- আচ্ছা বাবুই। তুই এখন যেতে পারবি তো? থেকে যা নাহয়?

- না মামুনি। বাসায় বোন আছে। রাগ করবে।

বলেই উনি উঠে অগ্নি ভাইয়ার কাধে একটা কিল মেরে চলে গেলেন। আর আমরা সবাই উনার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম।

চলবে......................❤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৮ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন