ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

৭ম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-০৭♥

#Ayanaa_Jahan_(Nusraat)♥

- আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া! আপনিইইইই?

-তুমিইইইইইইইই?

একটু আগে আমি জেমসের "ঝাকানাকা ঝাকানাকা ঝাকানাকা দেহ দোলানা" গানটা ছেড়ে লাফাতে লাফাতে নেচে নেচে ঘর থেকে বেড়িয়ে গেছিলাম। আর বের হতেই দেখি আমার যম মানে সাদা বিলাই থুক্কু নীবিড় ভাইয়া আমাদের সোফায় বসে ল্যাপটপে মুখ গুঁজে কিছু একটা করছেন। আমি তো নাচতে ব্যস্ত ছিলাম ওতো না বুঝেই ঘর থেকে বেড়িয়ে গেছি। তাছাড়া এটা নতুন কিছু না কিন্তু এই সাদা বিলাইটা যে এখানে থাকবে তা কে জানতো? উনাকে দেখেই আমি নাচ থামিয়ে চিৎকার দিয়ে উঠি। উনি হঠাৎ করে কাউকে নেচে নেচে সামনে আসতে দেখে ল্যাপটপ থেকে মুখ সরিয়ে আমাকে দেখেই চিৎকার করে উঠেন।

আমাদের দুজনের এরকম বাড়ি কাঁপানো চিল্লানিতে আম্মু খাবারের ট্রে হাতেই হন্তদন্ত হয়ে কিচেন থেকে বেড়িয়ে আসেন। আর ভাইয়া হাতে একটা ফাইল নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসে।

আমার গায়ে ওড়না নেই দেখে এক দৌড়ে রুমে যেয়ে কোনোরকমে ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে আবার ড্রয়িংরুমে চলে আসি।

- আপনি এখানে কি করছেন? আমাকে শাস্তি দিতে এখানেও চলে এসেছেন? আল্লাহ দড়ি ফালাও আমি আসতেছি।

- হোয়াট রাবিশ! তোমাকে শাস্তি দিতে এসছি মানে কি? আর তুমি এই বাড়িতে কেন?

- বারে! নিজের বাড়িতে থাকবো না তো বাইরে গড়াগড়ি খাবো নাকি?

আমাদের কথার মাঝে ভাইয়া আমার পাশে এসে দাঁড়িয়ে বলে ওঠে,

- কিরে তোরা আগে থেকেই কি দুজন দুজনকে চিনতিস নাকি? ধুর আমি ভাবলাম তোকে সারপ্রাইজ দিবো। তুই তো আমাকে শালা বলে বলে মাথাটাই খেয়ে ফেলেছিস তাই বোনকে দেখিয়ে তোর আমাকে শালা বলা বের করে দিতাম। (নীবিড়কে উদ্দেশ্য করে)

- কিহহ! এই বিচ্ছুটা তোর বোন? ওহ মাই গড! তাইতো বলি ওর মুখটা কার জেনো সাথে মেলে। তোর সাথে মেলে এবার বুঝছি। থাক ভাই মাফ চাইছি আর তোকে শালা বলার দুঃসাহস দেখাবো না!

এর মধ্যে আম্মু খাবারের ট্রেটা টেবিলে রেখে নীবিড় ভাইয়ার পাশে বসলেন।

- কিরে বাবুই তুই চেঁচালি কেন? আর অনু তোকে বলতাম না আমার আরেক ছেলে আছে। এইযে সেই ছেলে আমার। অগ্নির বেস্টফ্রেন্ড কম ভাই বেশী।

এদের কথা শুনে এবার আমার কান্না করে দেওয়ার মতো অবস্থা। কথায় আছে না যেখানেই বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়? সরি সরি প্রবাদটা আমার ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্ন হওয়া উচিৎ। যেমন "যেখানেই সাদা বিলাইয়ের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়।" ভেবেছিলাম উনার থেকে পালিয়ে পালিয়ে বেড়াবো কিন্তু ঐ যে অনন্যার ফুটা কপাল! যার থেকে পালাবো ভাবছি সে নিজেই বাড়িতে এসে হাজির। ভাইয়াও কি আর ছেলে পায় নি বেস্টু কম ভাই বেশী বানানোর জন্যে? হায় দাইয়া!

আমার ভাবনার মধ্যে নীবিড় ভাইয়া বলে ওঠেন,

- মামুনি! এটা তোমার মেয়ে কি করে হতে পারে? তুমি এতো সুইট কিউট, তোমার পেট থেকে এরকম ফাজিল মেয়ে কি করে বের হতে পারে মামুনি! হাও?

- কেন রে কি করেছে ও তোর সাথে?

অনন্যা কি করেছিস নীবিড়ের সাথে বলতো? তুই যে দুষ্টু! ঠিক বাবুইয়ের সাথেও দুষ্টুমি করেছিস তাইনা?

আমি কি বলবো ভেবে না পেয়ে আমতা আমতা করতে লাগলাম। কিন্তু কিছু বলার আগেই বাঁধ সাজলেন নীবিড় ভাইয়া। উনি আম্মুকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন,

- ও কি বলবে? আমি বলছি, মামুনি জানো সবে তিনদিন ভার্সিটিতে গিয়েছে তাতেই আমার বারো অবস্থা বানিয়ে ছেড়েছে। প্রথম দিন গিয়েই পিঠে কিল বসিয়ে দিয়েছে, আবার দ্বিতীয় দিন না দেখেই আমার গালে চড় মেড়ে দিয়েছে। আর গতকাল কি করেছে জানো? আমাকে কুকুরের দৌড়ানি খাইয়ে ছেড়েছে।

উনার কথা শুনে আম্মু রাগী চোখে আমার দিকে তাকালেন। আর ভাইয়াতো সরু চোখে ভ্রু কুঁচকে আমার দিকে চেয়ে রয়েছে। সবার চাহুনি দেখে যা মনে হচ্ছে তা হলো এই

"আমি কাঠগোরায় দাঁড়িয়ে থাকা খুনের আসামী, আর যাকে খুন করেছি সে স্বয়ং ভূত হয়ে উরে এসে আমার বিরুদ্ধে শাক্ষি দিচ্ছে।" আর আমি এটাও খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি যে এখন যদি আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে একটা শব্দও উচ্চারণ করি তবে এরা আমার জ্বিব'টাই কেটে দেবে তাও মানবে না যে আমি ভোলাভালা কিছু করিনি। আর ঠিক এটার সুযোগ নিয়েই উনি গড়গড় করে বলে দিলেন আমার ফল্টগুলো। অথচ নিজে যে শাস্তি হিসেবে আমাকে কান ধরে দাঁড় করে রেখেছিলেন দেন কাজের বুয়া পর্যন্ত বানিয়েছিলেন তাতো বললেন না! কি সুন্দর করে নিজেকে ধোঁয়া তুলসি পাতা বানিয়ে নিলেন আর আমাকে আগাছা বানিয়ে দিলেন। এর শোধ তো আমি তুলবোই। তুলতে আমাকে হবেই।

আমি আম্মু আর ভাইয়াকে বুঝানোর জন্য বলে উঠলাম,

- আরে আমি তো আর ইচ্ছে করে এসব করি নি। প্রথম দিন উনি সেইম ভাইয়ার গেট আপে ছিলেন। আজও তাই আছেন শুধু শার্টটা ভিন্ন। তাই চিনতে ভুল করাটা অস্বাভাবিক কিছুই ছিল না। সেদিন ভুল করে পেছন থেকে উনাকে দেখে ভাইয়া ভেবে মেরেছিলাম। আর পরের দিন উনার বাইকে ওড়না আটকে গেছিলো। আমি কোনো ছেলে অসভ্যতামি করছে ভেবে না দেখেই চড় মেরে দিয়েছিলাম। আর আজ যা হলো তা তো বলার মতোই না। তোমরা জানো আমি কুকুর দেখে কি পরিমাণ ভয় পাই তাই দৌড় মেরেছিলাম আর কুকুরটা আমাকে না ধরে সাদা বি...থুক্কু নীবিড় ভাইয়াকে তাড়া করে। আমার ইচ্ছাকৃত কোনো দোষ নেই।

যথাসাধ্য ইনোসেন্ট ভাব ধরার চেষ্টা করে বললাম আমি।

- তোকে কতবার বারণ করবো বলতো? শুধু অকাজ করে বেরাস! আগে ভালো করে দেখবি সবকিছু তারপর কোনো স্টেপ নিবি। বুঝেছিস? আর যেন এরকম কমপ্লেইন না আসে। (আম্মু)

বলেই নীবিড় ভাইয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে উনাকে খাইয়ে দিতে লাগলেন। আর ভাইয়া এদিকে মুখ টিপে হাসছে। ভাইয়ার হাসি দেখে আমি ওর পেটে হাতের কুনুই দিয়ে গুঁতো মেরে দিলাম।

- ওই হাসছিস কেন? (ফিসফিসিয়ে)

- থ্যাংক ইউ বোনু।

- থ্যাংকস আবার কিসের জন্য?

ভ্রু উঁচু করে জিজ্ঞেস করলাম আমি।

- এই যে তুই নীবিড়কে কুকুরের দৌড়ানি খাওয়াইলি। আমি শুনে তখনই মনে মনে ঠিক করে নিয়েছিলাম যে মেয়ে ওরে দৌড়ানি খাওয়াইছে ওরে একটা ধনিয়াবাদ দিবো। আর তুই আমাকে আগে বলিস নি কেন বলতো? মিথ্যা বলছিস কেন?

- হ্যা আমি বলতাম আর তুই আমাকে ক্ষেপাইতি আর বকাও দিতি তাইনা? তার কোনো দরকার নাই তাই বলিনি। বান্দর ভাই কথাকার। হুহ!

- যাক গে শুন কাল নবীনবরণ অনুষ্ঠান আছে জানিস তো তাইনা?

- কিহ? কালকে? কই আমি তো জানি না।

- তা জানবেন কিভাবে? অডিটোরিয়ামে তো আপনার পা পড়েনি। যাই হোক। নীবিড় আসছে ওর সাথে ওসব নিয়েই ডিয়াকাস আর প্লানিং করবো। আফটার অল আমরা ভার্সিটির সিনিয়রদের মধ্যে টপারস। তা তোদের কোনো প্লানিং থাকলে ফ্রেন্ডসরা মিলে করিস কেমন? এখান খেতে বস। আমারও খিদে পেয়েছে মারাত্মক।

বলেই ভাইয়া আম্মুর পাশে বসে পড়লো।

- আম্মু নীবিড়কে পেয়ে আমাকে ভুলে গেলে নাকি? আমাকেও খাইয়ে দাও।

- ওই সারাজীবনই তো খাস। আমি পুরো দু সপ্তাহ বাদে আসলাম। সো আজকে আমাকে খেতে দে।

- আরে আরে হইছে তোরা বাচ্চাদের মতো ঝগড়া করিস না। আমি তোদের দুজনকেই খাইয়ে দিচ্ছি।

ওদের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে আমি কেউ না। আমি যে জলজ্যান্ত একটা মানুষটা সামনে দাঁড়িয়ে আছি তাতে এদের কোনো হুশই নেই। এখন এই সাদা বিলাই আর এই সাদা বান্দরই সব নাকি? আমাকে কি ডাষ্টবিন থেকে কুড়িয়ে পেয়েছে নাকি? হায় খোদা! তুমি দেখো কি অবিচার টাই না হচ্ছে আমার সাথে!

মনে মনে কথাগুলো বলে, কান্নাকান্না চেহারা বানিয়ে বলে উঠলাম,

- আমাকে কেউ ভালোবাসে না। কেউ আমারে আদর করেনা, আমি এক অভাগা নারী থুক্কু সন্তান। উহুহুহু!

আমার কথা শুনে সবাই হেসে দিলো। আম্মু বলে উঠলো,

- হইছে তোর ড্রামা? এবার আয় আজকে তিনজন কেই খাইয়ে দিবো।

আমি খুশিতে এক লাফ মেরে টেবিলের ওপর গিয়ে বসে পড়লাম। যেহেতু সোফায় আম্মুর এক পাশে ভাইয়া আর একপাশে সাদা বিলাই। তারপর আম্মু আমাদের তিন জনকেই নিজ হাতে খাইয়ে দিতে লাগলেন। ইশশ! মায়ের হাতে খাওয়ার স্বাদ টাই আলাদা। আমি যখন একা খাই তখন বেশি খেতে পারিনা। অথচ আম্মু খাইয়ে দিলে যেন আমার পেট আর আমার পেট থাকে না। কূয়া হয়ে যায়। যতই খাওয়াক পেটে অটোমেটিক্যালি ঢুকে যায়।

চলবে.........................💗

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৭ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন