ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

১০ম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-১০♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

🍂

- আ..আপনি? আ..আমাকে এখানে এনেছেন কেন? আমায় ছেড়ে দিন প্লিজ।

- জাস্ট শাট আপ! (চেঁচিয়ে) যেটা সামলাতে পারো না সেটা পরতে যাও কেন ড্যাম ইট? এখন যদি সবার সামনে শাড়ি খুলে যেতো তখন তো আমার প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যেতো। (প্রচন্ড রেগে)

নীবিড় ভাইয়ার গর্জন শুনে আমার বুকে মনে হচ্ছে কেউ ড্রাম বাজাচ্ছে। ভয়ে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে আমার। কিন্তু আমার শাড়ি খুলে গেলে উনার প্রেস্টিজ নিয়ে টানাটানি হবে কেন? কথাটা বুঝতে না পেরে পাল্টা প্রশ্ন করে বসলাম,

- আমার শাড়ি খুলে গেলে আপনার কি? যা যাবে তা তো আমার যাবে তাইনা? তো আপনার সম্মান নষ্ট হতে যাবে কেনো?

আমার কথার উনি ঠিক কি বুঝলেন তা আমার জানা নেই তবে উনার ঘাড় আর কপালের রগ ফুলে উঠলো নিমিষেই। উনার চোখ দিয়ে যেন লাভা বের হচ্ছে। উনি রেগে আমার পাশের দেয়ালে সজোড়ে ঘুষি মারলেন। যা দেখে আমি ভয়ে আঁতকে উঠলাম। রাগে ফোশফোশ করতে করতে বলে উঠলেন,

- হেই ইউ লিসেন, অগ্নি তোমার ভাই। তোমার সম্মানহানি হওয়া মানে অগ্নির সম্মানহানি হওয়া। আর অগ্নির সম্মানে দাগ লাগা মানে বুঝতেই পারছ। আমি বেঁচে থাকতে তা কোনো দিনই হতে দিবো না। গট ইট?

উনার এক একটা চিৎকার আমার কলিজা ভেদ করে বেরিয়ে যাচ্ছে মনে হয়। এরকম আরো ২-৩ টা ধমক খেলে আমাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমার প্রাণ পাখি বিদায় পিতিবি বলে ফুরুত করে উড়ে যাবে। ইতিমধ্যে আমার গা ঘেমে উঠেছে শকের পর শকগুলো আমি নিতে পারতেছিনা। উনাকে দূর থেকে যতটা কিউট লাগে কাছ থেকে লাগে ঠিক ততটাই ভয়ানক। আমার মনে হয় উনার নাম নীবিড় না রেখে অগ্নি রাখতে হতো আর ভাইয়ার নাম অগ্নি না দিয়ে নীবিড় দিতে লাগতো। তাহলে হয়তো তাদের ন্যাচারের সাথে নামটা মানানসই বলা যেত।

- এই মেয়ে, তোমার কাছে পিন আছে?

ভাবনার জগৎ থেকে বেরিয়ে পিনের কথা শুনতেই মনে পড়লো পিন আমার হ্যান্ডব্যাগেই আছে। আমি মুখে কিছু না বলে হা বোধক মাথা নাড়ালাম। উনি বাঁকা হেসে আমার ব্যাগ থেকে পিন বের করে ফ্লোরে নিচু হয়ে ঝুঁকে বসলেন। উনি ঠিক কি করতে চাচ্ছেন তা আমার এই ছোট্ট মাথায় ঢুকতে চাইছে না মোটেই। আমি শুধু ড্যাবড্যাব করে চেয়ে আছি উনার দিকে।

উনি হুট করে সোজা হয়ে দাঁডিয়ে আমার কোমড় থেকে আধখুলা শাড়ির কুঁচিগুলো খুলে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে নিলেন। ঘটনার আকস্বিকতায় আমি পুরাই স্তব্ধ বনে গেলাম। আমি ভাবিওনি উনি এমন কিছু করবেন। আমি ভয়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম। কিন্তু তাতে উনার আদৌ কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই বললেই চলে। উনি আপন মনে আমার দিকে না তাকিয়েই খুব মনোযোগ সহকারে শাড়ির কুঁচি গুলো পূণরায় করতে লাগলেন।

আমি বাঁধা দিতে চেয়েও থেমে যাচ্ছি। কেনো যেন মুখ ফুটে কিছু বলার সাহস পাচ্ছি না।

উনার কুচি করা হয়ে গেলে তাতে পিন দিয়ে আটকিয়ে সেট করে নিয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। অপর পাশে মুখ ফিরিয়ে বলে উঠলেন,

- নাও ধরো। কুঁচিগুলো ভালো করে গুঁজিয়ে নাও।

আমি কাঁপাকাঁপা হাতে কুঁচিগুলো হাতে নিয়ে কোমড়ে গুঁজিয়ে নিলাম। উনি উল্টো দিকে তাকিয়ে থেকেই বলে উঠলেন,

- ইজ ইট ডান?

আমি কাঁপাকাঁপা গলায় "হুমম" বলে উঠলাম। উনি উত্তর পেয়ে আমার দিকে ফিরেই আবার নিচে বসে পড়লেন। আমি উনার উদ্দেশ্য বুঝবার জন্য উনার দিকে হেলে তাকালাম।

উনি কত যত্ন সহকারে শাড়ির কুঁচকে যাওয়া কুঁচিগুলোর প্রান্ত হাত দিয়ে সোজা করে দিলেন। আমি তো অবাকের পর অবাক হয়ে যাচ্ছি। উনার এই রূপ আমি নিতে পারছিনা। আমার বুকটা কেমন যেনো ধুকপুক করা শুরু করে দিয়েছে। ঘেমে শরীর একাকার। উনি হয়তো আমার অবস্থা বুঝতে পেরে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে নিজের পকেট থেকে টিস্যুর একটা প্যাকেট বের করে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে উঠলেন,

- টেক ইট। আই থিংক ইউ নিড দিস। ঘাম মুছে ফ্রেশ মাইন্ডে ফাংশন অ্যাটেন্ড করো।

এন্ড ওয়ান মোর থিং, ফাংশন স্টার্ট হওয়ার পর স্টেজের আশেপাশেই থেকো। এনাউন্সমেন্টে নাম ডাকলে স্পিচ দিতে উঠে যেও। ওকে?

আমি উনার হাত থেকে টিস্যুর প্যাকেটটা নিয়ে প্রতিউত্তরে শুধু হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ালাম। উনি আমার দিকে না তাকিয়েই শার্ট থেকে সানগ্লাসটা এক হাত দিয়ে পরতে পরতে বড় বড় পায়ে চলে গেলেন উনি। আমি পুরাই আহাম্মক হয়ে চেয়ে রইলাম উনার যাওয়ার দিকে।

আমি আর রাত্রি ক্যান্টিনে বসে স্ট্র দিয়ে জুস খাচ্ছি। খিদের জন্যে নয়, শুধু মাত্র গলাটা স্বাভাবিক করার জন্য। কারণ গলাটা এতোটাই শুকিয়ে গেছে যে গলা থেকে কোনো আওয়াজই বের হচ্ছিলো না। এতোক্ষণে কম করে হলেও নিম্নে ৫০ বার রাত্রি আমাকে প্রশ্ন করেছে যে হুট করে ওর পাশ থেকে কোথায় গেয়িছিলাম। কিন্তু আমার মুখ থেকে একটা কথাও বের হয়নি। আমি শুধু হাতের ইশারায় ওকে বলেছিলাম ক্যান্টিনে যেতে। একপ্রকার বাধ্যহয়েই মুখ একরাশ বিরক্তি নিয়ে আমার সাথে জুস খাচ্ছে সে।

- অনন্যা তোর গলা ভেজানো হলো? এবার তো বল ওরকম ভূতের মতো উধাও হলি কিভাবে? আমি এক মুহুর্তের জন্য অন্যদিকে তাকাতেই হাওয়া!

আমি জুসের গ্লাসটা শেষ করে এদিক ওদিক চোখ বুলিয়ে নড়েচড়ে বসলাম। আমার ভাবভঙ্গি এই যে এখন এমন একটা মারাত্মক সিরিয়াস কথা বলবো যে পুরা দুনিয়া উলটে যাবে। রাত্রি আমার এক্সপ্রেশন দেখে নিজেও প্রিপেয়ার্ড হয়ে আমার দিকে মনোযোগ দিয়ে কান খাড়া করে তাকালো। কিন্তু আপসোস আমি ওর সমস্ত আশায় এক গামলা জল ঢেলে দিয়ে আমি বলে উঠলাম,

- আমার না খুব জোড় ইয়ে পেয়েছিল। (হাতের এক আঙুল উঁচু করে দেখিয়ে)

মুহূর্তেই আমার কথা শুনে রাত্রির মুখ লাল, নীল, বেগুনি রঙের মিক্সারে যে রং পাওয়া যায় সেই বর্ণ ধারণ করলো। রাগচণ্ডী বেশ ভালো করেই রাত্রির ঘাড়ে বসেছে তা ওর হাবভাব দেখে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। তবে এতে আমার কোনো হেলদোল হলো না। চুপচাপ বসা থেকে উঠে চুইংগাম চিবুতে চিবুতে হাটা ধরলাম স্টেজের দিকে। ফাংশন অলরেডি স্টার্ট হয়ে গিয়েছে। আর এনাউন্সমেন্টে আমার নাম ডাকতে বেশি সময় নেই।

রাত্রি রেগে মেগে বোম্বাই মরিচ হয়ে আমার পেছনে ছুট লাগালো। আমিও এবার কিছু সিরিয়াস হয়েই শাড়ি ধরে জগিং এর মতো ধীরে ধীরে দৌড়োতে লাগলাম। রাত্রিও যে অলিম্পিকের ট্রফি নিতে জান প্রাণ বাজি রেখে ছুটবে তা কিন্তু না। যেহেতু সেও শাড়িই পড়েছে সো নো টেনশন।

কিছুদূর যেতেই সামনে অগ্নি ভাইয়া চলে আসে। এসেই এক ধমক।

- ওই দৌড়োচ্ছিস কেনো? (আমাকে ভালো করে দেখে)

অনু বোন তুই শাড়ি পড়ছিস? সিরিয়াসলি? (নিজের হাতে একটা চিমটি কেটে)

সত্যিই তো! তা কে পড়িয়ে দিলো? আম্মু দিবে না নিশ্চয়।

তুই যে তিড়িংবিড়িং গঙ্গা ফড়িং আম্মু শাড়ি পরানোর রিস্ক নেওয়ার মতো মানুষ না।

রাত্রি ভাইয়ার কথা শুনে বলে উঠলো যে সে আমাকে পড়িয়ে দিয়েছে।

ভাইয়া রাত্রির কথা শুনে আমাদের দুজনকেই উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

- শাড়ি পরেছিস ভালো কথা। লাফালাফি বাদ দিয়ে সাবধানে চলা ফেরা কর। আমি গেলাম। এনাউন্সমেন্টের কাজ আছে। ডাক দিলে চলে আসিস।

আমি শুধু সম্মতিসূচক মাথা নাড়ালাম। ভাইয়া আমার মাথায় হাত বুলিয়ে চলে গেল। এদিকে রাত্রির মনটা খারাপ হয়ে গেল কারণ অগ্নি একটিবারের জন্যেও ওর দিকে তাকায় নি।

🍁

স্টেজে মাইক্রোফোনটা ধরে কি কি বলতে হবে তা একবার মেমোরাইজ করে বলা শুরু করলাম,

- সম্মানীয় শিক্ষকবৃন্দ এবং সকল ছাত্র ছাত্রীদের আমার সালাম। আশা করি সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

ফার্স্টলি থ্যাংকস ফর গিভিং মি দ্য চান্স। আমি আয়ানা জাহান অনন্যা, ফাস্টইয়ার স্টুডেন্ট, ডিপার্টমেন্ট কেমিস্ট্রি। সবে আজ ধরে ৪ দিন হলো আমার এই ভার্সিটির সাথে পরিচয়। এই কয়দিনেই আমি যেটা লক্ষ্য করেছি তার মধ্যে টিচারদের লেকচার উল্লেখযোগ্য। তারা স্টুডেন্ট দের সাথে অনেক ফ্রেন্ডলি। খুব সহজেই বুঝিয়ে লেকচার দেন তারা। যেটা আমার খুব ভালো লেগেছে। এন্ড সকল সিনিয়র স্টুডেন্টরাও অনেক হেল্পফুল। তারা আমাদের রুলস বুঝিয়ে দেন। (নীবিড় ভাইয়ার কথা মনে পড়তেই) ভুল করলে ভুল ধরিয়ে যথাযথ শিক্ষাও দেন। আর ক্যাম্পাস তো বরাবরই সব থেকে পছন্দের আমার কাছে। সব মিলিয়ে ইটস আ রিয়েলি ভেরী ইম্প্রেসিভ ইউনিভার্সিটি ইন বিডি। ইটস আ প্লেজার টু মি টু হ্যাভ আ চান্স ইন্টু দিস ইউনিভার্সিটি।

এভরিবডি স্টে হ্যাপি। থ্যাংকইউ!

নিজের বক্তব্য শেষ করে নিচে নেমে এলাম আমি। সবার করতালির ধ্বনি কানে বারি খাচ্ছে বারংবার। কিন্তু আমার দুচোখ খুঁজছে রাত্রিকে। এতো মানুষের মধ্যে নিজের সিট ফেরত পাবো তোম সেই ভয় নিয়ে এগোতেই দেখি এক জোড়া হাত আমাকে ইশারা করে ডাকছে। হাতগুলো আর কারো না আমার জানু রাত্রির।

ও আমার সিটে নিজের ব্যাগ রেখে জায়গা ধরে রেখেছিলো। আমি ওর গাল টেনে মুচকি হেসে বসে পড়লাম।

- দোস্তো ফাটিয়ে দিয়েছো। আর একটা হেব্বি খবর আছে।

- কি খবর শুনি?

- আরে নীবিড় ভাইয়া তার গ্রুপ সহ ড্যান্স করবে।

- ওয়াট? সাদা বিলাই নাচতেও পারে? আমি তো জানি শুধু নাচাতেই পারে।

- তা আর বলতে? শুনেছি ফাটাফাটি নাচে ভাইয়া। আজ স্বচক্ষে দেখেই নেই।

- ওকে দেখি সাদা বিলাইয়ের তাতা থৈ থৈ।

🍁

দেখতে দেখতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এতো গুলো পারফরমেন্স যে শেষই হচ্ছেনা। এরপরের পারফরমেন্স নাকি নীবিড় ভাইয়ার। তাই একটা অন্যরকম এক্সটমেন্ট কাজ করছে। আহা আহা সাদা বিলাই ধিতাং ধিতাং করে নাচবে ভাবা যায়?

🍂

- শিট! অগ্নি কোথায়?

- জানি না ভাই, কি একটা কাজ আছে বলে বেরিয়ে গেছেন।

- হোয়াট দ্য হেল! এটা লাস্ট পারফমেন্স ছিল তাও আমাদের। এভাবে চলে যেতে পারলো? কি এমন মহান কাজ? শালা আসুক খালি। ওরে বুঝাবো। এই রোহান তোরা অগ্নি বাদে দু জন তাইতো?

- জ্বী ভাই।

- ওকে আমার পেছনে সাইড বরাবর ফাঁকা রেখে থাকবি আমি সামনে। ওকে? চল চল টাইম হয়ে গেছে।

🍂

- তোমার প্রবলেম কি? এভাবে হুটহাট না বলে চলে আসো কেন? (অগ্নি)

- কেন আবার? তোমার জন্য। এই আজকে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। চলো ওইদিকটায় যাই। (নিত্য)

- শাট আপ! তোমার মাথা ঠিক আছে? পারফরমেন্স ছেড়ে এসেছি আমি। ওদের কি জবাব দেবো?

- আমার ভাই'ই তো। ঠিক সামলে নেওয়া যাবে। এখন চলো নাহলে আমি রাস্তায় বসে কান্না শুরু করে দিবো।

বলেই একপ্রকার জোড় করে অগ্নিকে নিয়ে গেলো নিত্য।

🍁

স্টেজ পুরো অন্ধকার। হুট করে নীল, লাল ছোট ছোট বাতি জ্বলে উঠলো, সবার এক্সাইটমেন্ট যেন আর ধরে না।

প্লে করা হলো মিঠুন চক্রবর্তীর " I am a Disco Dancer" song এর নিউ ভার্সন। যেটাই Tiger Shrooff শুট করেছেন।

নাচ শেষ কিন্তু আমার মুখ এখনোও হা! এক সাথে দশ কি বারোটা ফুচকা ঢুকানো যাবে নির্ঘাত। হায় ম্যায় মার যাবা। কি নাচলো! উফফফ পুরাই টাইগার শ্রোফ! আমি সহ অনেকেরই একি অবস্থা। এর মাঝে অনেকে আগে থেকেই উনার নাচ দেখছে তাই এতোটাও অবাক হন নি। তবুও অনেকটাই অবাক।

- এই অনন্যা? হুশে আয়। পারফরমেন্স শেষ।

রাত্রির ডাকে হুশ ফিরলো আমার। অনেকেই যাওয়া শুরু করে দিয়েছে। ফাংশন শেষ হয়ে গেল। ইশশ! আর একটু নাচলে কি এমন হতো?

রাত্রি ওর আব্বুকে গেটে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলে উঠলো,

- এই অনু আব্বু আসছে আমাকে নিতে। তুই অগ্নি ভাইয়ার সাথে যাস রে। ঠিক আছে?

- ওকে যা তুই।

- আচ্ছা জানু উম্মমাহ! (যেতে যেতে)

চলবে...................❤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১০ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন