ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

১১তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-১১♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

🌺

- এক্সকিউজ মি, ভাইয়া! অগ্নি ভাইয়া কোথায় জানেন কি?

- অগ্নি ভাই? উনি তো কি একটা কাজ আছে বলে ফাংশন ছেড়ে বেড়িয়ে গেলেন। কেনো বলুন তো?

- একচুয়ালি, আমি উনার বোন।

- ওহ আপনি তাহলে অনন্যা?

- জ্বী ভাইয়া।

- আসসালামুআলাইকুম ভাবী থুক্কু আপু!

- ওয়ালাইকুম আসসালাম। এক মিনিট একট মিনিট আপনি আমাকে ভাবী বললেন কেন?

.

- না ইয়ে মানে মুখ ফসকে বেড়িয়ে গেছে। সরি ভা... না না আপু।

বলেই ছেলেটা দৌড় লাগালো। অদ্ভুৎ তো! উনার মাথায় বোধহয় গন্ডগোল ছিল। যাই হোক এখন আমি বাড়ি যাবো কিভাবে? গাড়ি আব্বুর কাছে অফিসে, বাইক তো ভাইয়ার কাছে আর আমার স্কুটিটা তো বাড়িতেই ফেলে এসেছি। দিন হলে প্রবলেম ছিল না কিন্তু রাত হয়ে এসেছে। এখন একা যাওয়াটা ঠিক হবে তো? তার থেকে বরং ভাইয়াকে একটা কল করি।

দুবার কল করার পরও ভাইয়া ফোনটা ধরলো না। সাদা বিলাইটাও যে স্টেজ থেকে নেমে কোথায় গেল আল্লাহ মালুম। এখন কি করবো আমি? থাক একাই যাই কি আর এমন হবে? একটা রিক্সা নিবো আর সোজা বাসায় গিয়ে নামবো।

ভেবেই হাঁটা ধরলাম রিক্সার উদ্দেশ্যে।

🍂

- অগ্নি কি ম্যাড হয়ে গেছে? ফোনটাও পিক করতেছে না! শিট!

রেগে চেঁচিয়ে উঠল নীবিড়।

নাফিজ নামক ছেলেটা যাকে অনন্যা অগ্নি কোথায় আস্ক করেছিল সেই ছেলেটা নীবিড়ের কাছে গিয়ে বলে উঠলো,

- ভাই ভাই অনন্যা আপু অগ্নি ভাইয়ের খোঁজ করছিলো। আমি বলছি ভাই একটা কাজে গেছে।

- এই নাফিজ ও কি একা ছিল নাকি?

- জ্বী ভাই। একাই তো ছিলো। সাথে তো আর কাউকে দেখি নি।

- ড্যাম ইট!

হাঁফ ছেড়ে নীবিড় স্টেজের পেছন থেকে বেড়িয়ে ছুট লাগালো অনন্যার খোঁজে।

ভার্সিটির গেট থেকে বেরোতেই ওর মনে পড়লো অগ্নির ফোন থেকে অনন্যার নাম্বার নিয়ে রেখেছিল সে। তাই অনন্যার নাম্বার খুঁজতে লাগলো।

🍁

- আ...আপনারা কারা? এভাবে আমার পথ আটকালেন কেনো? প্লিজ সরে দাঁড়ান। আমি বাড়ি যাবো।

- হ্যা? কি বলে রে মাল টা? সরে দাঁড়াবো?

বলেই ভয়ংকর ভাবে হাসতে লাগলো ৪ জন ছেলে।

তখন আমি রিক্সা পাচ্ছিলাম না বলে এগোতে শুরু করেছিলাম। হয়তো সামনে পাবো এই আশায়। কিন্তু কিছুদূর এগোতেই আমার পিছু নেই কয়েকজন ছেলে। দেখেই বুঝা যাচ্ছে এরা নেশাগ্রস্থ। ঢুলতে ঢুলতে এগিয়ে আসছিলো ওরা আমার দিকে। ওদের হাত থেকে বাঁচতেই দৌড় লাগাই আমি। আমাকে পালাতে দেখে তারাও আমার পেছনে ধাওয়া শুরু করে দেয়। এক সময় ছুটতে ছুটতে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে পড়ি আমি। আর ওরাও সুযোগ পেয়ে আমাকে ঘিরে ধরে আটকে দেয়।

- দে...দেখুন পি...প্লিজ আমাকে যেতে দিন। নাহলে আমি কিন্তু চিৎকার করে লোক জড়ো করবো বলে দিলাম।

- তাই নাকি ফুল্টুশি? তুমি তো দেখি কথাই বলতে পারছো না। চিৎকার কি করবে? আজ তোমাকে কে বাঁচাবে সুন্দরী? (একজন বলে উঠলো)

- এতো সুন্দর খাসা মাল কি ছাড়া যায় নাকি? (অন্য আরেক জন)

বলেই বিকট শব্দে হাসা শুরু করলো মাতালগুলো।

আমার এদিকে জান বের হয়ে যাচ্ছে। গলা দিয়ে ভয়ের কারণে আওয়াজও বের হচ্ছে না। তাহলে কি আজই আমার সব শেষ হয়ে যাবে? কাল পত্রিকায় কি আমার বিদ্ধস্ত ছবির সাথে বড় বড় হেড লাইনে লেখা থাকবে,

" ভার্সিটি পড়ুয়া একজন ছাত্রী ধর্ষনের স্বীকার।"? না না আল্লাহ এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারেননা। এসব ভেবেই চোখ থেকে অঝড়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। পায়েও শক্তি পাচ্ছি। কেমন যেন সবকিছু ঘোলাটে লাগছে।

এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো, আমি তাড়াহুড়ো করে রিসিভ করে "ভা...ভাইয়া, বাঁচাও" এটুকু বলতেই একজন হুট করে আমার ফোনটা এক ঝটকায় কেড়ে নিলো। নিয়েই আমার দিকে এগোতে লাগলো।

- এই এটাকে কি এখানেই খেয়ে ফেলবো নাকি আমাদের গোডাউনে নিয়ে যাবো?

- ভাই এখানেই কাজ সেরে ফেলো লোকজন এদিকটায় আসে না। আর মালটা এতোটাই হট যে আমার আর তর সইছে না।

বলেই একজন আমার দিকে এগিয়ে এসে আমার হাত চেপে ধরলো। আমি ছুটাছুটির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে লাগলাম। গায়ে যতটুকু শক্তি ছিল তা দিয়ে নিজেকে ছাড়ানোর ক্রমাগত চেষ্টা করতে লাগলাম। কিন্তু পারছিনা আমি। আরেকজন এসে আমার শাড়ির আঁচলে হাত দিতে উদ্দ্যত হওয়া মাত্রই ঝড়ের গতিতে একটা বাইক আমার সামনে চলে আসে। হেলমেট লাগানো থাকায় মানুষটাকে চিনতে পারছিনা। আর চোখে আলো লাগায় সবাই চোখ ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম।

বাইকটা আমাদের কেন্দ্র করে রাউন্ড দিতে লাগলো। তা দেখে ছেলেটা আমার হাত ছেড়ে দিলো।

- এ কে রে তুই? এখানে কাজ চলছে দেখতে পারছিস না? যা নিজের রাস্তা মাপ।

লোকটা বাইক থামিয়ে হেলমেট খুলতেই যেনো আমি প্রাণ ফিরে পেলাম। অজান্তেই ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠলো আমার। মনে মনে আল্লাহকে লাখ লাখ শুকরিয়া জানাতে লাগলাম।

- নিজের রাস্তা মাপতেই তো এসেছি। তা কি যেনো বলছিলি তোরা কাজ করছিস রাইট? হুম তো তোরা তোদের কাজ কর আর আমি আমার কাজ করি। সিম্পল।

ওদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে কাঁপা শুরু করে দিয়েছে। কাঁপাকাঁপা গলায় ছেলেটা বলে উঠলো,

- ভা...ভা...ভাই! আ..আমাকে মাফ করে দেন। আ...আমি বসের কথায় এসে ভুল করে যাচ্ছিলাম। আ...আমার কোনো দোষ নাই ভাই।

নীবিড় ভাইয়া বাঁকা হেসে ছেলেটার কাছে গিয়ে ছেলেটার গাল টেনে বলে উঠলো,

- জানি তো আমি। ভয় পাস না। আমি কিচ্ছু করবো না তোদের। (সামনের দিকে তাকিয়ে) কিন্তু অনেক কিছুই করবো।

বলেই ছেলেটার হাত মুচড়িয়ে ধরে হিংস্র রূপ ধারণ করে বলে উঠলেন,

- এই হাত দিয়ে ওর আচল ধরতে গেছিলি তাইনা?

ছেলেটা ব্যাথায় কুকিয়ে কাকুতিমিনতি কর‍তে লাগলো। নীবিড় ভাইয়ার ফেইস দেখে আমি আরোও ভয় খেয়ে গেলাম যেন। উনার চোখ থেকে লাভা নির্গত হচ্ছে এমন লাগছে, লাইটের আলোয় তা স্পষ্ট। উনাকে এখন প্রচুর হিংস্র একজন প্রাণীর সাথে তুলনা করা যেতে পারে সহজেই।

ছেলেগুলোর মধ্যে যে লিডার সে বাকি ছেলেগুলোকে উদ্দেশ্য করে রেগে বলে উঠলো,

- এই তোরা দাঁড়ায় দাঁড়ায় কি দেখস? মার ব্যাটাকে।

বসের কথা শুনে তার বাকি চ্যালাগুলো এগোতেই নীবিড় ভাইয়া গর্জন করে উঠলেন, এগিয়ে গিয়ে দুজনের গলা শক্ত করে চেপে ধরলেন। ছেলেদুটো ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে। দম বন্ধ হয়ে মারা যাবে এমন অবস্থা। একটু আগে যার হাত মুচড়ে দিয়েছিলেন সেই ছেলেটা হাত ধরে রাস্তা পড়ে থেকেই তার বসকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

- বস উনি সাদমান ভাই!

ছেলেটির কথা শুনে নিমিষেই বাকি তিনজনে ভয়ে জমে ফ্রিজড হয়ে উঠলো, তাদের বস কাঁপাকাঁপা গলায় বলে উঠলেন,

- সা...সা...সাদমান ভাই?

বলেই পালাতে নিলে নীবিড় ভাইয়া ছেলেদুটোর গলা ছেড়ে ওদের ফেলে দিয়ে ওদের বসকে ধরে ফেললেন। উনার দুহাত নিজের হাতে ধরে মোচড় দিতে লাগলেন আর ছেলেটা তো ভয়ে প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলল।

তা দেখে নীবিড় ভাইয়া হাসতে হাসতে বলে উঠলেন,

- কিরে নাম শুনেই হাওয়া ফুশ? এক ঠ্যালায় প্যান্ট ভিজিয়ে ফেললি দেখছি। ছিঃ ছিঃ মেয়ে মানুষের সামনে ভয়ে হিশু করে দিলি? শেম অন ইউ।

বলেই আছাড় মেরে ছেলেটাকে ফেলে দিলেন উনি। অতঃপর ছেলেটার বুকের উপর পা তুলে দিলেন। ততক্ষণে বাকি ৩ জন নিজেদের জান নিয়ে হাওয়া।

- ভা...ভাই...! ছেড়ে দিন আমাকে। আর এমন ভুল হবেনা ভাই কসম।

- হাহাহাহাহাহাহ! ছেড়ে দেবো? আচ্ছা যা তোর মর্জি!

বলেই ছেলেটাকে উঠিয়ে সজোড়ে রাস্তার সাইডে থাকা টিনের ওপর নিক্ষেপ করেন। ছেলেটা ব্যাথা আহহহ করে উঠছে বারবার। উনি আবাও ছেলেটাকে উঠিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করেন। মারতে মারতে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন উনি রাস্তায়।

আমার এমনিতেই এসব মারামারি সহ্য হয়না। তারওপর যদি রক্তারক্তি হয় তাহলে তো আর কথায় নেই।

আমি আর সহ্য না করতে পেরে মাথা ঘুরে ঠাস করে পড়ে গেলাম। উনি আমার পড়ে যাওয়া দেখে ছেলেটাকে ছেড়ে এক ছুটে আমার কাছে এসে বসে পরেন। আমার মাথাটা নিজের কোলে নিয়ে আমার গাল ধরে ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে আমার নাম চিৎকার করে বলতে থাকেন। এরপর আর আমার কিছু মনে নেই।

🍁

আমার যখন জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে আমার বেডরুমে আবিষ্কার করলাম। আমার এক পাশে আম্মু আর একপাশে আব্বু। আম্মু নিঃশব্দে চোখের জল ফেলছে। ভাইয়া মুখ কালো করে অপরাধীর দৃষ্টিতে নিচের দিকে চেয়ে আছে। আর নীবিড় ভাইয়া দরজায় হেলান দিকে এক পা ভাজ করে এক হাতে দু আঙুল দিয়ে কাপালে স্লাইড করে চলেছেন।

আমি চোখজোড়া পিটপিট করে খুলে কাঁপাকাঁপা গলায় ভাইয়া কে ডেকে উঠলাম। এটা আমার অভ্যেস। আমার সাথে যাই হোক না কেন, ভাইয়ার সাথেই যতই ঝগড়া করি না কেন সবার আগে আমি ভাইয়াকেই ডাকি।

আমার ডাক শুনে ভাইয়া মুখ তুলে আমার দিকে তাকালো। চোখে জল চিকচিক করছে ভাইয়ার। ভাইয়ার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে যে সে এক ছুটে আমার কাছে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরতে চাইছে কিন্তু হয়তো কোনো কারণে, কোনো অপরাধবোধ থেকে আসতে পারছে না।

আম্মু আমার সারা মুখে ছোট ছোট চুমু এঁকে দিতে দিতে বলে উঠলেন,

- অনু তুই ঠিক আছিস মা!

এদিকে আব্বু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন।

আমি আম্মু আব্বুর দিকে তাকিয়ে এক নজর তাকিয়ে ভাইয়ার দিকে হাত বাড়িয়ে বলে উঠলাম,

- ভা..ভাইয়া? আমার কা..কাছে আয়।

ভাইয়া আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। এক ছুটে আমার কাছে এসে আমাকে নিজের বুকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলে উঠলো,

- বোন, আমাকে মাফ করে দে রে। আর কক্ষনও এমন ভুল হবে না আমার। তোর কোথায় লেগেছে বল আমাকে। ব্যাথা পাইছিস? আমার জন্য হলো তাইনা রে? আমি খুব পঁচা। তুই ঠিকই বলতি রে। আমি পঁচা খুব পঁচা! আমি আমার বোনটাকে আগলে রাখতে পারলাম না।

ভাইয়ার কথায় আমারও চোখ থেকে পানি পড়া শুরু হয়ে গেল। আমি হাত দিয়ে ভাইয়ার চোখের পানি মুছে দিয়ে মুখে হাসির রেশ টেনে বলে উঠলাম,

- ভাইয়া তুই তো বড়। এতো ধ্যামরা একটা ছেলে হয়ে কাঁদছিস? কুছ তো সারাম কার। আর আমি ঠিক আছি ভাইয়া। ঠিক সময়ে নীবিড় ভাইয়া চলে এসেছিল তো।

ভাইয়া কান্না থামিয়ে মুচকি হেসে মাথায় হাত বুলিয়ে নীবিড় ভাইয়ার কাছে গিয়ে উনাকে জড়িয়ে ধরলো,

নীবিড় ভাইয়া অগ্নি ভাইয়াকে শান্ত করার জন্য বলে উঠলেন,

- আরে ব্যাপার না। ও শুধু তোর বোনই না আমারও......বলে থেমে গিয়ে ভাইয়াকে খাটে এনে বসালেন। আর আম্মু আব্বুকে বলে উঠলেন,

- মামুনি, বাপী ডিনার এর ব্যবস্থা করো। সবাই না খেয়ে আছে সেই বিকেল থেকে।

আম্মু আর আব্বু ভাইয়ার দিকে অভিমানে ভরা দৃষ্টি নিক্ষেপ করে আমাদের রেখে রুম ত্যাগ করলেন।

চলবে...........................❤

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন