ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

১৫তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-১৫♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🍁

.

কাধে কারো হাতের স্পর্শে চমকে উঠলো অগ্নি। অগ্নি পেছন ফিরে তাকাতেই দেখে নিত্য ছলছল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। অগ্নির পক্ষে এই দৃষ্টি উপেক্ষা করা কঠিন, বড্ড কঠিন! তাই তো চোখ নামিয়ে নিলো সে।

সামনের দিকে স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠলো,

.

- এতো রাতে এখানে এসেছো কেনো? ঘরে যাও।

.

- তুমি এখানে কেনো এসেছো? কি ভাবছো এতো? নিশ্চয় আমায় নিয়ে তাইনা? আমি তোমাকে খুব বিরক্ত করি, সব সময় জালিয়ে মারি তোমাকে তাই তুমি খুব রেগে আছো না? (কান্নামাখা কন্ঠে)

.

অগ্নি নিত্যর হাত নিজের কাধ থেকে সরিয়ে চোখ বুজে রাগ দেখানোর ভংগি করে বলে উঠলো,

.

- এটা আমাদের বাড়ি, তাই আমি যখন যেকোনো সময় ছাদে আসতে পারি। এর কৈফিয়ত আমি তোমাকে দিবো না নিশ্চয়।

.

- অগ্নি আমি সরি। বিশ্বাস করো আমার ভুলের জন্য অনন্যার বিপদ হোক তা আমি কোনোদিনো চাইনি। তুমি হয়তো ভাবো আমি তোমার পরিবারকে নিয়ে ভাবি না, কিন্তু বুকে হাত রেখে বলতে পারবে কি আদৌ আমি তোমার পরিবার কে নিয়ে ভাবিনা?

.

অগ্নি কোনো জবাব দিতে পারলো না। কারণ সে জানে তার পরিবারের লোকগুলোকে নিত্য ঠিক কতোটা ভালোবাসে।

নিত্য অগ্নির নীরবতা দেখে মুচকি হেসে অগ্নির পাশে ছাদের রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো,

.

- জানো তো অগ্নি, আম্মু গত হয়েছে আজ থেকে ১৫ বছর হলো। এই পনেরোটা বছরে আব্বু কখনোও বুঝতে দিতো না যে আমাদের মা নেই। সব সময় চেষ্টা করে গেছেন আমাদের মায়ের অভাব টা পূরণ করার জন্য। তবুও কোথাও একটা কিন্তু কিন্তু ভাব ছিলোই। কারণ মা তো মা ই হয়।

ছোট বেলায় মা কে হাড়িয়েছি আমি। ভাইয়ার তো তখন ৯ বছর বয়স। আর আমি তখন ৬ বছরের শিশু! বুদ্ধি হওয়ার পর বেশিদিন মায়ের আদর কপালে জুটেনি আমার। মা যাওয়ার পর সবাই চরমভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। আব্বু যথেষ্ট চেষ্টা করেছে সামলাতে। ভাইয়া ছোট হয়েও বড়দের মতো আমার দিকে তাকিয়ে বুকে পাথর চেপে ঠোটের কোণে হাসি ঝুলিয়ে আমায় হাসানোর চেষ্টা করতো। এভাবেই দিন কেটে যেতে লাগলো। আব্বু চাইলেই আবারও বিয়ে করতে পারতো কিন্তু আম্মুর জায়গাটা কাউকে দিতে পারবে না তাই করে নি, সাথে নতুন মা আমাদের অবহেলা করতে পারে এটাও ভেবেছিলো আব্বু।

.

এতোটুকু বলে একটু দম নিয়ে অগ্নির দিকে তাকালো নিত্য। অগ্নি মাথা নিচু করে রয়েছে হয়তো চোখের কোণে জমা জলগুলো লুকোতে। কারণ নিত্য জানে অগ্নি তার চোখের দিকে তাকালে নিজেকে সামলাতে পারবে না। নিত্য তা চাচ্ছেও না এই মুহূর্তে। তাই আবারোও সামনের দিকে তাকিয়ে বলা শুরু করলো,

.

- এরপর থেকে আমার আপন বলতে আব্বু আর ভাইয়াই ছিলো। খুব খারাপ লাগতো জানো যখন আমার ক্লাসমেটদের আম্মুরা তাদের আদর করতো। নিজ হাতে টিফিন বানিয়ে দিতো। এসব দেখে খুব লোভ হতো জানো? কিন্তু আমার কিছুই করার ছিলো না। আম্মুকে তো আর ওই আকাশটা থেকে ফিরিয়ে আনার ক্ষমতা আমাদের নেই। (আকাশের দিকে হাত বাড়িয়ে)

জানো তো অগ্নি মামনি এমন একটা মানুষ যিনি আমাদের নিজের সন্তান না হওয়া সত্ত্বেও নিজের সন্তানদের থেকে কম ভাবেন নি। আমাকে ভাইয়াকে নিজের ছেলেমেয়ের মতো ভালোবেসেছেন উনি। জানো এতোবছর পর মামুনি কে দেখে মনে হয়েছে এইতো আমার "মা" আমার মা আছে। বাপিও তো কম ভালোবাসে নি আমাদের। মামুনির মতো উনিও আমাদের যথেষ্ট আপন মনে করেন।

আর রইলো অনন্যার কথা! আমি তো তাকে নিজের বোনের থেকে কোনো অংশে কম ভাবিনি। ওকে না দেখেও স্নেহ করেছি, ভালোবেসেছি। তোমার কাছে সবসময় ওর খোঁজ নিয়েছি। আর তুমি কি করে ভাবতে পারো আমি অনন্যার ক্ষতি চাইবো?

তুমি যদি একটিবারের জন্যও বলতে যে অনন্যা একলা আছে, তবে ট্রাস্ট মি আমি তোমাকে আটকে রাখতাম না।

.

অগ্নি এক হাতের ওপর নিজের এক হাত রেখে নিত্য আবারোও বলে উঠলো,

.

- হ্যা অগ্নি, ভালোবাসি আমি তোমাকে। পাগলের মতো ভালোবাসি। কিন্তু আফসোস! তুমি শুধু আমার পাগলামো গুলোই দেখলে, ভালোবাসাটা আর বুঝলে না।

সমস্যা নেই। তুমি আমায় ভালোবাসা না তো কি হয়েছে আমি তো বাসি। তাতেই হবে।

.

বলেই হাতটা সরিয়ে উলটো দিকে ফিরে হাটা ধরলো নিত্য। সাথেসাথেই অগ্নি পেছন থেকে নিত্যে হাত টেনে তাকে আটকে দিলো।

.

🍁

.

মাঝরাতেই কাচা ঘুমটা ভেঙে গেল আমার। চোখ পিটপিট করে পাশে তাকাতেই দেখি নিত্য আপু হাওয়া! হা? গেল কই!

বেড সাইডে রাখা ঘড়িতে তাকাতেই দেখি রাত ২ টো বাজে। তারমানে মাত্র ২০ মিনিট ঘুমিয়েছি আমি। ইশশ গল্প করতে করতে যে কখন চোখ লেগে গেছে বুঝতেই পারিনি। আপুর নিশ্চয় ঘুম আসছিলো না আর খুব বোর হচ্ছিলো তাই বোধহয় নীবিড় ভাইয়ার কাছে গেছেন। কিন্তু ভাইয়াও তো আছে ওখানে। তারমানে ওরা তিনজন মিলে আমাকে রেখে আড্ডা দিচ্ছে? না না! এ হতে পারেনা। এতো অন্যায়। রীতিমত ঘোর অন্যায়।

এখনই ওদের আড্ডা দেওয়া বের করছি আমি, নাহলে আমার নামও অনন্যা না।

বলেই হাটা ধরলাম ভাইয়ার ঘরের দিকে।

.

ভাইয়ার ঘরের দরজা এরকম হাট করে খোলা কেনো বুঝতে পারছিনা। লাইটও জালানো নেই। ঘরের মধ্যে কি বিদঘুটে অন্ধকার! আচ্ছা ওরা কি হাইড এন্ড সিক খেলছে নাকি? খেলতেই পারে। ওয়েট দেখাচ্ছি মজা।

.

পা টিপেটিপে ঘরের মধ্যে ঢুকে সবাইকে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু আফসোস, কারোও অস্তিত্ব নেই ঘরে।

হঠাৎ কান গেল ওয়াশরুমের দিকে। ওয়াশরুম থেকে পানির আওয়াজ আসছে। তার মানে ভেতরে কেউ আছে।

ওয়াশরুমের দরজার আরোও কাছে যেতেই দরজাটা হুট করে খুলে যায়। আর ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি ভেতর থেকে কে বের হয় তা জানার জন্য।

কিন্তু ভেতর থেকে যিনি বেরিয়ে এলো তাকে আমি আশা করিনি মোটেই। সাদা বিলাই টাওয়াল দিয়ে চুল ঝাড়তে ঝাড়তে বের হতেই আমাকে দেখে থেকে থেমে গেলেন। আর আমি শত চেষ্টা করেও আমার মুখটাকে আটকে রাখতে রাখতে পারলাম না।

নিজের সর্ব শক্তি দিয়ে চিৎকার করে উঠলাম আমি।

.

- আয়ায়ায়ায়ায়ায়ায়া.....!

.

নীবিড় ভাইয়া আমার চেঁচানো দেখে ঝড়ের গতিতে এসে আমার মুখ চেপে ধরলেন। আর আমি শুধু উম..উম...করতে থাকলাম তার থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য।

.

- এই মেয়ে চেঁচাচ্ছো কেনো? আর এখানে কি করছো?

.

আমি কিছু বলতে পারছিনা কারণ উনার হাত দিয়ে আমার মুখ এতো শক্ত করে চেপে ধরেছেন উনি যে আমার শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আমি চোখের ইশারায় উনাকে বুঝালাম যাতে আমার মুখ থেকে হাত সরিয়ে নেন উনি।

উনি আমার ইশারা বুঝতে পেরে হাত সরিয়ে নেন ততক্ষণাত। আর আমি ছাড়া পেয়ে জোড়ে জোড়ে শ্বাস নিতে থাকি।

.

আমার অবস্থা দেখে উনি বেড সাইড টেবিলে রাখা পানির গ্লাস আমার দিকে এগিয়ে দিলেন। আমি উনার হাত থেকে গ্লাসটা নিয়ে এক নিঃশ্বাসে পানির গ্লাস খালি করে দিলাম।

.

- আপনি কি মানুষ না গন্ডার? উফফফ! আর একটু হলে অক্কা পেয়ে যেতাম আমি। আর আমি তো শুধু নিত্য আপুকে খুঁজতে এসেছিলাম। ভাবলাম আপনারা ৩ জন একসাথে আড্ডা দিচ্ছেন। (হাঁপাতে হাঁপাতে)

.

- নিত্য রুমে নেই? নিশ্চয় ছাদে গেছে। এই মেয়েটাকে নিয়ে আর পারিনা আমি। রাতে ছাদে না গেলে ওর হয়না। অগ্নিও তো ছাদের দিকেই গেল। আমার মাথা একটু ব্যাথা করছিলো তাই মাথায় পানি দিতে ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম।

.

- ও তারমানে ওরা ছাদে গল্প করছে আমাকে রেখে। চলুন তাড়াতাড়ি আমরাও আড্ডায় জয়েন করবো।

.

বকেই নীবিড় ভাইয়ার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম। আর নীবিড় ভাইয়া আহাম্মকের মতো হাতের দিকে তাকিয়ে আমার সাথে তাল মিলিয়ে হাটতে লাগলেন উনি।

.

🍂

.

- কি হলো অগ্নি, আটকালে কেনো আমায়? তুমিই তো চাইতে যাতে আমি আর বিরক্ত না করি তোমাকে। তাহলে যেতে বাধা দিকে কেনো আমায়?

.

- সরি। (মাথা নিচু করে)

.

- সরি কেনো? কিসের জন্য? তুমি তো কোনো ভুল করোনি। বরং ভুল তো আমি করেছি। আই এম সরি।

.

- না নিত্য। আমি ভুল ছিলাম। যা হওয়ার তা তো হতোই। না তুমি জানতে অনন্যা একা ছিল, আর না আমি জানতাম। জানলে কি এতো বড় ভুল করতাম। তাই শুধু তোমাকে দোষ দেওয়াটা আমার উচিৎ হয়নি। না জেনেই তোমাকে অনেক বাজে ভাবে কথা শুনিয়েছি আমি।

.

- আমি কিছু মনে করিনি অগ্নি। তোমার জায়গায় যে কেউ থাকলে ওভাবেই রিয়াক্ট করতো। আর তুমি প্লিজ কষ্ট পেয়োনা। তোমার কষ্ট যে আমার সহ্য হয়না। ভালোবাসি যে তোমাকে খুব অগ্নি।(কান্না মাখা কন্ঠে)

.

অগ্নি এবার মাথা তুলে নিত্যের দিকে তাকালো। নিত্যর চোখ টলমল করছে। যা দেখে অগ্নি আর নিজেকে সামলাতে পারলোনা। সব বাধা অতিক্রম করে নিত্যকে বুকে টেনে নিলো। নিত্যকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বাচ্চাদের মতো কান্না করতে লাগলো অগ্নি।

.

.

.

.

চলবে..................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন