ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রেম আমার (সিজন ১)

১৪তম পর্ব

লেখক: আয়ানা জাহান নুসরাত

#প্রেম_আমার♥

#পার্ট-১৪♥

#Ayanaa_Jahan(Nusraat)♥

.

🍁

.

- অনন্যা, অগ্নি...! কোথায় তোরা? এসে দেখ কারা এসেছে। (চেঁচিয়ে)

আরে তোরা দাঁড়িয়ে আছিস কেনো? ভেতরে এসে বস। আমি তোদের জন্য শরবত বানিয়ে আনছি! ইশ ঘেমে গেছিস দুজনেই!

.

আমি চুল মুছতে মুছতে নামছি, একটু আগেই শাওয়ার নিলাম। আর আমার ঘুম কাতুরে গুনোধর ভাইয়া কেবল ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করতে করতেই বের হচ্ছে! দুজনে ঘর থেকে বেড়িয়ে একে অপরকে ভেংচি কেটে সিঁড়ি বেয়ে নেমে এলাম।

.

সোফায় বসে থাকা দুজনকে দেখে আমার চোখ বেড়িয়ে আসার উপক্রম! আমি দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেললাম লজ্জায়। ছি ছি আমি এদের গফ বফ বানিয়ে দিয়েছিলাম! ইশশ কিভাবে দাঁড়াবো ওদের সামনে?

নীবিড় ভাইয়া এক ধ্যানে ফোনে মুখ গুঁজে রয়েছে আর নিত্য আপু এদিক ওদিক চোখ বুলাচ্ছেন।

আমি এভাবে মুখ ঢেকে দাঁড়িয়ে আছি দেখে নিত্য আপু বলে উঠলেন,

.

- এমা, অনন্যা না তুমি? এভাবে মুখ ঢেকে রেখেছো কেনো? এসো এখানে আমার পাশে বসো।

.

নীবিড় ভাইয়া এখনও ভাবলেশহীন। আমি পা টিপেটিপে আপুর পাশে গিয়ে বসলাম। তখনই ভাইয়া ব্রাশ করতে করতে আমাদের সাথে নিত্য আপুকে দেখে থেমে গেল। ভাইয়া হয়তো কোনো মেয়েকে এই সময় বাসায় আশা করেনি। ভাইয়ার মুখটা জাস্ট দেখার মতো হয়েছে। একদম লালে লাল! ভাইয়ার পড়নে ঢিলাঢালা একটা এ্যাশ কালারের টি শার্ট যেটাকে আমি "মিনি হাতি" বলে থাকি আর কি। সাথে একটা থ্রি কোয়াটার প্যান্ট! চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে, চোখগুলো এখনো ফোলাফোলা! ঘুম থেকে উঠছে মাত্রই। দেখতে এখন পুরাই বাচ্চাদের মতো লাগছে।

ভাইয়ার এমন অবস্থা দেখে আমি মুখ টিপে হাসছি। সাথে জোগ দিয়েছেন নিত্য আপুও। আপু মুচকি মুচকি হাসছেন আর আমি হাসি থামানোর প্রতিযোগীতায় নেমে পড়েছি।

.

নীবিড় ভাইয়া এবার অগ্নি ভাইয়ার উপস্থিতি টের পেয়ে ফোন থেকে মুখ তুলে ভাইয়ার দিকে তাকালেন। অগ্নি ভাইয়া পারছেনা তো মাটি ফাঁক করে ঢুকে যেতে। পালাতেও প্রেস্টিজে লাগবে তাই পালাতেও পারছেনা। নীবিড় ভাইয়া ভাইয়ার নিচ থেকে উপরে চোখ বুলিয়ে আবার ফোনের দিকে তাকালো। উনার কোনো রিয়াকশন নাই দেখে আমরা ৩ জনই খানিকটা অবাক হয়েই উনার দিকে তাকিয়ে আছি। নীবিড় ভাইয়া হয়তো ১০ সেকেন্ড ও ফোনের দিকে আর তাকিয়ে থাকতে পারেন নি। ফোন টেবিলে রাখা মাত্রই হু হা করে হেসে উঠলেন। উনার হাসি দেখে আমার কন্ট্রোল করা হাসিটাও আর পেটের ভেতরে থাকলো না। ভুস করে বের হয়ে গেল। নিত্য আপু জোড়ে না হলেও মুখ টিপে মাথা নিচু করে হেসে চলেছেন।

.

ভাইয়া আর প্রেস্টিজের পরোয়া করতে পারলোনা। উলটো দিকে ঘুরেই দৌড় দিলো রুমের দিকে। আর ভাইয়ার দৌড়ে পালানো দেখে আমাদের হাসির বেগ আরোও বেড়ে গেল। নিত্য আপু এবার আর হাসি চেপে না রেখে মন খুলে হাসা শুরু করলো। আপুর হাসি দেখে আমি থেমে গেলাম। ইশশ কি সুন্দর সেই হাসি। আর সাদা বিলাই তো ননস্টপ হেসেই চলেছেন। আমার থেকেও বেশি হাসতে পারেন উনি দেখছি। ব্যাপারটা আমাকে ভাবায়। বড্ড ভাবায়।

.

আপুকে যতদূর দেখে মনে হয় খুবই লাজুক আর শান্ত শিষ্ট টাইপ মিষ্টি একটা মেয়ে।

আপু হাসি থামিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে একটা হাসি দিয়ে বলে উঠলেন,

.

- জানো অনন্যা! তোমাকে আমি যতটা কিউট ভেবেছিলাম তুমি কিন্তু তার থেকেও বেশি কিউট। ইউ নো ইউ আর জাস্ট লাইক আ কিউটের ডিব্বা!

.

বলেই হেসে উঠলেন উনি। আমিও একটা মুচকি হাসি ফেরত দিলাম উনার হাসির বিপরীতে।

আপুটা আমার হাত ধরে করুণ চোখে বলে উঠলেন,

.

- তুমি ঠিক আছো তো? শুনলাম সেদিন সেন্সলেস হয়ে পড়েছিলে।

.

আমি আপুর মুখের কথাটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিলেও উনার চোখের ভাষাটাকে স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারছিনা। কেন জানি একটা অন্যরকম ভাব আছে উনার চোখে। যাতে কোনো না কোনোভাবে অপরাধবোধ ভেসে উঠছে। কিন্তু কেনো? কিসের জন্য? আমি অনেক চিন্তা করেও সেই চাহনীর উত্তর খুঁজে পেলাম না। সেইদিনের রাতের কথা মনে পড়তেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মুখে হাসির রেশ টেনে বলে উঠলাম,

.

- তেমন কিছুই হয় নি। আমি ঠিক আছি আপু! আচ্ছা আপু তুমি আমাকে কিভাবে চেনো?

.

- তোমার ভাইয়ার সাথে মাঝে মাঝে ফেসবুকে কথা হয়। উনার কাছেই জেনেছিলাম। (হেসে)

.

ও তাই তো। আমিও না কি কি ভাবছিলাম! সাদা বিলাই তো জিন্দেগিতেও আমাকে নিয়ে কারো কাছে কিছু বলবেন না।

আস্ত নিরামিষ একটা!

আমাদের কথার মাঝেই আম্মু ট্রে তে করে নাস্তা সাথে শরবত নিয়ে আসলো।

.

- এই নে তোরা গল্প কর আর বসে বসে নাস্তা কর।

(আমাকে উদ্দেশ্য করে) হ্যা রে অনু, অগ্নি নামে নি এখনো?

.

- নেমেছিলো....! আবার দৌড়ে চলে গেছে ফ্রেশ হওয়ার জন্য।

.

- উফফফ! এই ছেলেটাও না অলসের ঢেঁকি একটা! হ্যা রে নিত্য মা! তুই আসিস না কেন বলতো? বাবুইয়ের সাথে আসবি মাঝে মাঝে। (সোফায় বসতে বসতে)

.

- আসলে মামুনি মেডিকেলের পড়ার চাপ অনেক আর তেমন বের হওয়াও হয়না। আশেপাশেই যাই খুব কম। আর আজ আব্বু ঢাকায় গেছে সাথে সরকারী ছুটিও তাই চলে এলাম।

.

আমাদের গল্পের মাঝে ভাইয়া নেমে এলো! ব্লাক কালারের একোটা টিশার্ট সাথে জিন্স পড়ে। চুলগুলো থেকে টপ টপ করে পানি মুছতে মুছতে! এতোটুকু টাইমে শাওয়ারও নিয়ে নিলো? আসলেই ছেলেরা যতই লেজি হক না কেনো পানিতে মনে হয় এদের এলার্জি রয়েছে। তা না হলে ১০ মিনিটের মধ্যে কিভাবে শাওয়ার নেয় এরা? আমার তো একবার ঢুকলে আর বেরোতেই ইচ্ছে করে না। ১ ঘন্টাও পাড় হয়ে যায় টেরই পাইনা।

ভাইয়া নিচে নামতেই নীবিড় ভাইয়ে মুখে হাত দিয়ে হাসি থামানোর প্রচেষ্টা চালাতে লাগলো। আম্মু ভাইয়ার পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে চিৎকার করে উঠলেন,

.

- অগ্নি.....! এটা তুই? আমি কি ঠিক দেখছি? তুই ঘুম থেকে উঠেই শাওয়ার নিলি? প্রেশার বেড়েছে নাকি?

.

ভাইয়া নিমিষেই মুখটা গোমড়া করে গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠলো,

- আজ্ঞে না! তবে তোমার কথা শুনে প্রেশার বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে বোধহয়!

.

- আচ্ছা ভাইয়া আজকে সূর্য ঠিই কোনদিকে উঠেছে বলতে পারিস?

.

ভাইয়া রেগে মেগে আমার দিকে তাকিয়ে দাঁত কটমট করতে করতে সোফায় বসলো।

- ব্যাটা হাসি থামাবি তুই? বাড়ি থেকে কি খেয়ে আসছিস হ্যা?

.

নীবিড় ভাইয়া হাসতে হাসতেই বলে উঠলেন,

- তোরে দেখেই পেট ভরে গেছে শালা! আলসিয়া নাম্বার ওয়ান!

.

অগ্নি নীবিড়ের কথায় ভেংচি কেটে দিলো। নিত্য অগ্নির দিকে অসহায় দৃষ্টি নিক্ষেপ করে বলে উঠলো,

- কেমন আছেন ভাইয়া?

.

অগ্নি কথা বলতে না চেয়েও সম্মান রক্ষার্থে "আলহামদুলিল্লাহ ভালো" বলেই মুখ ফিরিয়ে নিলো।

যাতে নিত্য অনেকটা কষ্ট পেল। সবসময় ইগনোর করলেও আজ অগ্নির চোখে আজ অভিমানের পাহাড় জমানো যা নিত্যকে ক্ষতবিক্ষত করে দিচ্ছে খুবই নির্মম ভাবে।

.

- এই তোরা আজকে থেকে যা। ভাই তো ঢাকায়! তাহলে তোরা একা একা থাকবি কেনো? (আম্মু)

.

- না মামুনি! এক কোথায়? বোন আর আমি আছি তো। (নীবিড়)

.

- তোরা বাচ্চা বাচ্চা দুইটা ছেলেমেয়ে। আর এতোদিন পর নিত্য আসলো আমি তো ওকে যেতে দিচ্ছিনা। তুই গেলে যা। আমার মেয়েকে যেতে দিবো না। (অভিমানের সুরে)

.

- ওহহো মামুনি! তুমি এভাবে ইমোশনাল ব্লাকমেইল কিভাবে করো বলোতো?

.

- এই নীবিড় থাক তো আজকে। প্রবলেম কি? (অগ্নি)

.

ভাইয়ার সাথে আমিও তাল মেলালাম।

- আপু থেকে যাও আজকে প্লিজ! আমার একটা বোন নেই জানো যে একটু মন খুলে গল্প করবো। ভাইয়া তো খালি বকে। তুমি আজকে থাকো আমি আর তুমি অনেক অনেক অন্নেক গল্প করবো। হুম?

.

সবার জোড়াজুড়িতে শেষমেশ সাদা বিলাই আর আপু থাকতে রাজি হয়ে গেল। আমি তো আজকে সেই লেভেলের খুশি! যতই হোক আজকে গল্প করার মতো একটা মানুষ তো পাবো। ভেবেই খুশি খুশি লাগছে।

না হলে রাত্রি বেচারিকে রাতে জাগিয়ে রাখি সবসময়।

.

🍂

.

রাতে সবাই ডিনার টেবিলে বসে ডিনার করছি। আমি আর নিত্য আপু পাশাপাশি বসেছি। আমার সামনাসামনি বসেছেন সাদা বিলাই। আর নিত্য আপুর ঠিক সামনে ভাইয়া।

ভাইয়ার বোধহয় আজকে মৃগি ব্যারাম ধরেছে। একটু পর পর কেঁপে উঠছে! ব্যাপারটা আমার বোধগম্য হচ্ছে না।

সবার খাওয়া চলাকালীন আমি খাওয়া থামিয়ে চিৎকার করে বলে উঠালাম,

.

- ভূমিকম্প..........!!!!

.

সবাই আমার কথায় হকচকিয়ে উঠে খাওয়া থামিয়ে বোঝার চেষ্টা করলো আসলেই কি ভূমিকম্প হচ্ছে কি না! কিন্তু কিছু বুঝলো না কেউই। শেষে আমার দিকে সবাই এক সাথে প্রশ্ন ছুড়ে মারলো শুধু ভাইয়া বাদে,

.

- ভূমিকম্প কোথা থেকে আসলো?

.

- হ্যা হচ্ছিলো তো! ভাইয়ার পায়ে। একটু পর পর কেমন কেপে কেপে উঠেছিলো।

.

অগ্নি ঘেমে যাচ্ছে আর মনে মনে বলছে,

- কি করে তোদের বুঝাবো বল? আমার সামনে বসে থাকা প্যারা টা যে আমার পা টাকে সরকারী সম্পত্তি ভেবে পা দিয়ে খোঁচা দিচ্ছে!

.

মনের কথা মনে রেখেই অগ্নি বলে উঠলো,

- আরে পা টা ভীষণ চুল্কোচ্ছে! তোমরা খাও তো। উফফফ এই অনুটাকে নিয়ে আর পারিনা। খা চুপচাপ! (ধমক দিয়ে)

.

ভাইয়ার ধমক খেয়ে আমি চুপ হয়ে গেলাম। সবাই একসাথে হেসে উঠে আবার খাওয়ায় মনোযোগ দিলো।

.

.

.

চলবে.....................💕

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন