#প্রেম_আমার♥
#পার্ট -১৭♥
#Ayanaa_Jahan_(Nusraat)♥
.
- আয়ায়ায়া.....!
এতটুকু চেঁচাতেই নিজেই নিজের মুখ চেপে ধরলাম আমি। আমি চাইনা আমার কারণে সবার সাধের ঘুমটা নষ্ট হোক। তবে না চেঁচিয়েও একটা শান্তি শান্তি ফিলিংস পাচ্ছিনা। এরকম একটা সিচুয়েশনের পরও চেঁচাবোনা তা কি করে হয়?
.
কালরাতে গল্প করতে করতে যে সবাই ছাদেই ঘুমিয়ে গেছি টেরও পাইনি। ঘুমিয়েছি ঠিক আছে কিন্তু আমি যে ঘুমের তালে এই সাদা বিলাইকে সাদা বালিশ বানিয়ে ফেলবো সেটা জানলে কি আর উনার পাশে বসতাম? আর উনাকেও বলি হারি, উনি আমাকে এভাবে কোলবালিশ ভেবে চেপে ধরেছেন যে ছোটারোও সাধ্যি নেই আমার।
.
মাথা উঁচু করে তাকাতেই দেখি ভাইয়া ছাদের রেলিংয়ের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। আর নিত্য আপু ভাইয়ার কাঁধে মাথা দিয়ে ঘুমিয়ে আছে। হালকা বাতাসে আপুর অবাধ্য চুলগুলো কপালের ওপর এসে পড়ছে। কিন্তু আপুতো বেঘোড়ে ঘুমোচ্ছে। ইশ! ভাইয়া আর আপুকে একসাথে এভাবে কতো সুন্দর লাগছে! এমা এসব আমি কি ভাবছি। (জ্বীবে কামড় দিয়ে )
আপাতত আমায় এই সাদা জলহস্তির কবল থেকে বেরোতে হবে।
.
এই নিয়ে বারকয়েক উনাকে ধাক্কিয়ে ছুটার চেষ্টা করেছি আমি। কিন্তু বরাবরের মতোই রেজাল্ট ইজ আ বিগ জিরো। উনাকে যতোই ঠেলছি উনি ততোই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে নিচ্ছেন আমায়। নিজের সর্বশক্তি খরচ করার পর থেমে গেলাম আমি। শেষমেশ বাধ্য হয়ে ওভাবেই শুয়ে রইলাম। ভোরের সূর্য উঁকি দিচ্ছে পূর্ব আকাশে। চারপাশ থেকে ভেসে আসছে মৃদু সুরে নানান পাখিদের কিচিরমিচির আওয়াজ। তার সাথে বইছে ঠান্ডা হাওয়া। পরিবেশটা নিতান্ত্যই এক নিমিষে মন ভালো করে দেওয়ার মতো।
.
এবার চোখ গেল সাদা বিলাইয়ের দিকে। কখনোও উনাকে এতোটা কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়নি আমার। আসলেই উনি সুন্দর। বলতে গেলে ভয়ংকর সুন্দর। এই যেমন যে কেউ উনার দিকে একবার তাকালেই প্রেমে পরে যাবে এমন টাইপ। তবে আমি ক্রাশ খেলেও ওসব প্রেমে ট্রেমে পরবোনা আই সোয়্যার।
ঘুমের মধ্যে কি নিষ্পাপ লাগছে উনাকে। যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেন না উনি। আচ্ছা উনার যদি সত্যিই বেড়ালদের মতো লম্বা গোপ আর ইয়া বড় একটা লেজ থাকতো তবে কেমন লাগতো? কল্পনায় নীবিড় ভাইয়া গালের দুগালের দুপাশে বেড়ালের মতো লম্বা লম্বা গোপ সাথে পেছনে লম্বা একটা লেজ যুক্ত করে প্রতিচ্ছবি বানিয়ে নিলাম। কল্পনায় উনাকে পুরো দু পা বিশিষ্ট লম্বু সাদা বেড়ালের মতো লাগছে। কল্পনায় উনার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠতেই হু হা করে হেসে উঠলাম আমি। সবাই ঘুমোচ্ছে মনে পড়ায় সাথেসাথেই মুখ চেপে ধরলাম। কিন্তু শেষ রক্ষে বুঝি আর হলোনা। আমার কিঞ্চিত হাসির আওয়াজ পেয়ে চোখ বন্ধ রেখেই ভ্রু কুঁচকিয়ে উঠলেন উনি। উনার এই ভ্রু কুঁচকানো জানান দিচ্ছে উনার লাখ টাকার আরামদায়ক ঘুমে ব্যাঘাত ঘটিয়েছি আমি।
.
উনি বিরক্তিটা শুধু ভ্রু কুঁচকানোর মাঝেই সীমাবদ্ধ রাখলেন না। বরং চোখ দুটো পিটপিট করে খুলতে লাগলেন উনি। যা দেখে আমি একটা শুকনো ঢোক গিললাম। আস্তে আস্তে উনার হাত আলগা হতেই সরে আসতে নিলেই খপ করে চেপে ধরেন উনি। ঘুমু ঘুমু চোখগুলোয় কেমন যেম এক রক্তিম বর্ণ ফুটে উঠেছে উনার। হয়তো খুব কম ঘুম হয়েছে সেজন্য!
উনি আমকে হুট করে নিচে ফেলে আমার উপরে উঠে গেলেন। আর আমি ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে বন্ধ করে নিলাম। উনার গরম নিঃশ্বাস আমার মুখের ওপর পড়ছে। ভয়ে গা ঘামতে শুরু করে দিয়েছে আমার। এই বুঝি আমার গলা টিপে মেরে ফেলবেন উনি!
.
উনার হাত আলগা হতেই আমি ভয়ে ভয়ে চোখ খুলে তাকালাম। উনি আমার মুখের ওপর স্থির দৃষ্টি নিক্ষেপ করে ঝুকে আছেন। উনার সিল্কি চুলগুলো হেলে পড়ে আমার কপাল স্পর্শ করছে। উনি ঠোটে এক রহস্যময়ী বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে আমাকে ছেড়ে উঠে পড়লেন। আর আমি হতবাকের মতো চেয়ে আছি উনার দিকে। চোখ ঘুরিয়ে পাছে তাকাতেই দেখি অগ্নি ভাইয়া আর রেলিংয়ের সাথে হেলান দেওয়া অবস্থায় নেই। কার্পেটের ওপর গুটিশুটি মেরে শুয়ে পড়েছে ভাইয়া। আর নিত্য আপু ওভাবেই বসে বসে মাথা একদিকে হেলিয়ে রেখে ঘুমিয়ে আছে।
.
নীবিড় ভাইয়া আপুর কাছে গিয়ে আপুকে টুপ করে কোলে তুলে নিয়ে ছাদ থেকে নিচের দিকে হাটা দিলেন। আর আমাকে চোখের ইশারায় বললেন ভাইকে ডাকতে। আমি শুধু সম্মতিসূচক মাথা ঝাঁকালাম। কিন্তু আমি তো জানি, আমার এই ঘুম কাতুরে ভাইয়া শুধু ডাকলে কি, কানের কাছে ঢোল পেটালেও ৯ টার আগে উঠানো যাবে না!
.
ভাইয়ার পাশে বসে ভাইয়াকে জোড়ে জোড়ে ধাক্কা দিতে লাগলাম সাথে জোড়ে জোড়ে ডাকতে লাগলাম। কিন্তু কোনো লাভ হলো না। ভাইয়া ঘুম থেকে উঠা তো দূর বিন্দু মাত্র নড়লোও না। যা দেখে আমি কপালে হাত দিয়ে ঠাস করে রেলিং ঘেঁষে বসে পড়লাম। শেষমেশ আর উপায় না পেয়ে বুক ফুলিয়ে একটা জোড়ে শ্বাস নিয়ে ভাইয়ার দুহাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম। কিন্তু বেশিদূর নিয়ে যেতে পারলাম না। একটু নিয়ে যেতেই ক্লান্ত হয়ে বসে পড়লাম। একটু বিশ্রাম নিয়ে আবারোও টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম। হঠাৎ কারোও হাসির আওয়াজ পেয়ে পেছন ফিরে তাকালাম আমি।
সাদা বিলাই দরজায় দাঁড়িয়ে পেটে দুহাত চেপে উচ্চস্বরে হেসে যাচ্ছেন। যেন আর একটু হলেই হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে যাবেন উনি।
.
আজ উনার হাসি দেখে মুগ্ধ হওয়ার বদলে ভীষণ রাগ উঠছে আমার। উনার চুলগুলো টেনে ছিঁড়ে টাকলা বানিয়ে দিতে ইচ্ছে করছে। আর সেই টাকলা মাথায় ড্রাম বাজিয়ে দফারফা করে দিতে ইচ্ছা করছে। আমার রাগী দৃষ্টি দেখে উনি হাসি থামানোর ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালাতে লাগলেন। কিন্তু কিছুতেই সেই হাসি থামাতে পারছেন না উনি। শেষমেশ হাসতে হাসতে বসে পরে গড়াগড়ি খাওয়া শুরু দিয়েছেন। এবার আমি রেগে মেগে ভাইয়াকে ওভাবেই ফেলে রেখে গটগট করে মুখ ফুলিয়ে হেটে নিচে নেমে এলাম আমি। আমি ছাদথেকে নেমে আসতে আসতে যেন উনার হাসিটা আরোও তীব্র আকার ধারণ করলো। আমি সেইদিকে গ্রাহ্য না করেই আমার রুমে চলে এলাম।
.
নিত্য আপু অলরেডি ফ্রেশ হয়ে চুল ব্রাশ করা শুরু করে দিয়েছে। আমাকে দেখেই মুখে হাসির রেশ টেনে আমার গাল টেনে দিয়ে বলে উঠলো,
.
- অনু সোনা, যাও গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো। মামনি ডেকেছে ব্রেকফাস্টের জন্য।
.
- এতো সকালে? (অবাক হয়ে)
.
- হুম আসলে। আমি আর ভাইয়া খুব সকাল করেই উঠি তো তাই। মামনি তো জানে তাই সকাল সকাল উঠেই ব্রেকফাস্ট রেডি করে দিয়েছে। ভাইয়া একটু আগেই আমাকে রুমে এনে শুইয়ে দিয়ে গেল। তবে ঘুম ভেঙে যাওয়ায় আমি উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
.
- আচ্ছা আপু!
বলে আমিও ফ্রেশ হয়ে বেড়িয়ে এলাম। নিচ থেকে আম্মুর ডাক কানে ভেসে আসায় আপু আর আমি দ্রুত নিচে নেমে গেলাম।
.
🍁
.
- নিত্য, বাবুই কোথায়? ঘুম থেকে উঠেনি?
.
- না না, উঠেছে তো। এই এলো বলে। তুমি সার্ভ করে দাও শুধু অগ্নি ভাইয়ার টা বাদ দিয়ে। (হেসে)
.
নিত্য আপুর কথায় আমি আর আম্মু ফিক করে হেসে দিলাম। আমাদের হাসির ফাঁকেই চোখ গেল সিঁড়ির ওপরে। আমার সাথে সাথে আম্মু আর নিত্য আপুও হা করে তাকিয়ে আছে সেদিকে। আমাদের এভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে নীবিড় ভাইয়া ভ্রু কুঁচকে চোখ মুখে বিরক্তির রেশ ফুটিয়ে ভাইয়াকে কাঁধে রেখেই আস্তে আস্তে হেটে যেতে লাগলেন ভাইয়ার রুমের দিকে।
আর এদিকে আমরা কিছুক্ষণ নীরব দর্শকের মতো কমেডি দেখে হু হা করে হেসে উঠলাম। কি অবস্থা! ভাইয়াকে সাদা বিলাই শেষমেশ জাগাতে না পেরে কাঁধে করে নিয়ে এলেন। হুহ! আর আমাকে টানতে দেখেই হেসে কুপোকাত হচ্ছিলেন উনি। যত্তসব।
.
🌺
.
ব্রেকফাস্ট করতে করতে আম্মুকে কালকে রাতের আড্ডা দেওয়ার কথা বলতেই আম্মু এল গাল হেসে দিলো। আর আমি ভাবছিলাম এই বুঝি নাগিনের রুপ ধারণ করবে। বাহ! আম্মুতো আমাদের থেকেও এক কদম এগিয়েই রয়েছে।
.
একসাথে ব্রেকফাস্ট করেই নীবিড় ভাইয়া আম্মুকে একবার শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নিত্য আপুকে নিয়ে বেড়িয়ে গেলেন। যাওয়ার আগে নিত্য আপু আমার গাল আবারোও একবার টেনে দিয়ে গেলেন। আচ্ছা আমার গাল টা কি এতোটাই নরম যে সবসময় বাচ্চাদের মতো আমার গাল টেনে দেয় আপু? কি জানি! হতেই পারে। ভেবে নিজেই নিজের গালে হাত বুলাতে বুলাতে রুমে চলে এলাম। আজকে মনটা বড্ড ফুরফুরে লাগছে। শুধু ভার্সিটি যাওয়ার অপেক্ষায়। রাত্রির সাথে জমিয়ে আড্ডা দিবো আজকে।
.
.
.
.
চলবে.......................💕