#প্রেম_আমার ♥
#পার্ট-১৮♥
#Ayanaa_Jahan_(Nusraat)♥
.
- ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া.........! ভাইয়ায়ায়ায়ায়ায়া..............!
উঠ! দেখ ৯ টা বেজে গেছে। এই ভাইয়ায়ায়ায়ায়া........উঠ নায়ায়ায়া।
.
এই নিয়ে কম করে হলেও দশ কি পনেরো বার ভাইয়ার কানের কাছে গিয়ে চেঁচিয়েছি। তবুও আমার এই নাদুশনুদুশ ঘুম কাতুরে গুনোধর ভাইকে উঠাতে পারলাম না। মানে একটা মানুষ এভাবে মরার মতো ঘুমায় কিভাবে? হাও! তাও এই অনন্যার ভাই হয়ে! এমনি সময় তো কানের কাছে আমার হাই ভোল্টেজ ওয়ালা এক চিৎকারেই কাজ হয়, বাট আজ হলো টা কি?
.
এতো পরিশ্রমের পরও কাজ না হওয়ায় ওয়াশরুম থেকে এক মগ পানি নিয়ে এলাম। উদ্দেশ্য বিছানা ভিজলেও ভিজুক তাও ভাইয়ার ঘুম ছুটানো। হাতে মগটা নিয়ে চোরের মতো পা টিপেটিপে ভাইয়ার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। একটু ভালো করে খেয়াল করতেই চোখ গেল ভাইয়ার মুখের দিকে। কিসব বিড়বিড় করছে আর ঘুমের তালেই মুচকি মুচকি হাসছে।
লে ভাই! বান্দর টা দেখি মধুর মধুর স্বপ্নও দেখে। শুধু স্বপ্ন দেখেই না বরং মুচকি মুচকি হাসেও।
তবে রে আমার ভার্সিটি যাওয়ায় লেট করিয়ে মহারাজ মনের সুখে রঙ বেরঙ্গে স্বপ্নে হাবুডুবু খাবে তা তো হতে পারে না। মুখে একটা শয়তানি হাসির রেশ টেনে মগে থাকা পানি ছুড়ে মারলাম ভাইয়ার মুখ বরাবর। মেরেই এক দৌড়ে খাটের পেছনে গিয়ে লুকিয়ে পড়লাম। ওমনি এক লাফ দিয়ে ধরফরিয়ে উঠলো ভাইয়া। উঠেই বাচ্চাদের মতো আম্মুকে ডাকা শুরু করে দিলো।
.
- আম..আম্মুউউউ! আম্মুউউউ ভূ...ভূ...ভূত আমার ওপর হিশু করে দিয়েছে...!
.
ভাইয়ার ডাক শুনে আম্মু আব্বু একসাথে হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকেই ভাইয়ার কাছে গেলেন। আম্মুকে কাছে পেয়ে ভাইয়া বাচ্চাদের মতো আম্মুর বুকে মুখ গুঁজে মিনমিধ করে ভূ...ভূ...ভূত! বলে যাচ্ছে।
আমি এতোক্ষণে খাটের পেছনে বসে চুপ করে থাকলেও আর থাকতে পারলাম না। ওভাবে বসে থেকেই একেবারে ঘর কাঁপিয়ে হাসা শুরু করে দিলাম। যাকে বলে একেবারে লেভেল ছাড়া ননস্টপ লাফিং। হাসতে হাসতে ফ্লোরে গড়াগড়ি খাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গেছে আমার।
.
আমার হাসির আওয়াজে আম্মু আব্বু খাটের পেছনে চোখ গরম করে তাকালো আর ভাইয়া এতোক্ষণে বুঝতে পারলো কোনো ভূত টূত ওর ওপর হিশু করে নি বরং অল ক্রেডিট গোস টু মি, অনন্যা দি গ্রেট ফাজিল।
.
- শাঁকচুন্নি, বটগাছের পেত্নি, উল্টো পা বিশিষ্ট পিশাচিনী। গায়ের ওপর পানি ঢেলেছিস কেন ফাজিল? (দাঁত কটমট করতে করতে)
.
ভাইয়ার সাথে তাল মিলিয়ে এবার আম্মু আব্বুও আমার দিকে প্রশ্ন ছোড়া শুরু করে দিলো।
- অনু...! পানি ঢেলেছিস কেনো অগ্নির ওপর?
.
সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে যেন এক মুহূর্তে আমাকে টুপ করে গিলে খেয়ে ফেলবে। তবে আমিও বা কম কিসে? হাসি থামিয়ে মুখে একটা ইনোসেন্ট মার্কা হাসি ফুটিয়ে বলে উঠলাম,
.
- সেটা নাহয় তোমার গুনোধর ছেলেকে বলো। উনি নাকি রোজ আমায় ভার্সিটি নিয়ে যাবেন ইভেন নিয়েও আসবেন। তা এতোক্ষণ ঘুমোলে তো আমার একটা ক্লাস মিস হয়ে যাবে। ঘড়ির দিকে একবার তাকাও। ৯ টা বেজে ১৫ মিনিট। উনাকে আমি সেই ৮ টা ৫০ থেকে ডেকে চলেছি কিন্তু উনার তো ঘুম ভাঙ্গার কোনো নাম গন্ধই নেই। আর পানি মেরেছি ঠিক ৯ টা বেজে ১০ মিনিটে এন্ড তোমরা গত ৫ মিনিট যাবৎ এই রুমে অবস্থান করছো। দ্যট মিনিস পুরো বিশ মিনিট ধরে আমি এই বান্দরটাকে উঠাবার চেষ্টা করে গিয়েছি। তারপরোও কোনো হেলদোল না দেখেই পানি মারার স্টেপটা নিতে বাধ্য হয়েছি।
নাও কাকে বকা উচিৎ তোমরাই ভেবে দেখ। আমি এখন চুপ। (মুখে এক আঙুল চেপ)
.
আমার কথায় আম্মু আব্বু দুজনেই ফুলকো লুচির মতো ফুলে উঠে ভাইয়ার দিকে তাকালো। ভাইয়া মুহূর্তেই একটা শুকনো ঢোক গিলে দাঁত কেলিয়ে পালিয়ে যেতে নিলেই আম্মু খপ করে ভাইয়ার হাত চেপে ধরেই কান ধরে টানে ধরলো।
.
- আহহহ! আম্মুউউই লাগছে তো! ছেড়ে দাও প্লিজ........!
.
- লাগার জন্যই তো ধরেছি। দিন দিন আদরে আদরে বাদর হয়ে যাচ্ছিস তুই। সকালে বাবুই তোকে কাঁধে উঠিয়ে ঘরে শুইয়ে দিয়ে গেছে। জানিস? তাও তোর ঘুম ভাঙ্গে নি। আর অনু তোকে এতোক্ষণ ডাকার পরও উঠিস নি! তাতে নাকি ভূত তোর ওপর হিশু করে দিয়েছে! (আমার দিকে তাকিয়ে) অনু যা করেছিস বেশ করেছিস। পুরো বালতি ভরে পানি দিয়ে বিছানাতেই গোসল করিয়ে দিতি। আরোও ভালো হতো।
.
আমি আর আব্বু এতোক্ষণ নীরব দর্শকের মতো মা আর ছেলের কান্ড দেখছিলাম। এবার দুজন দুজনের দিকে একবার তাকিয়ে হু হা করে ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলাম। আম্মুর হাত আলগা হতেই ভাইয়া সুযোগ বুঝে এক দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে বড় বড় নিঃশ্বাস নিতে লাগলো।
ভাইয়া যেতেই আম্মুও ফিক করে হেসে দিয়ে আমাদের সাথে হাসির প্রতিযোগিতায় নেমে পড়লো।
.
🌺
.
আমি আর রাত্রি পুল সাইডে গাছের নিচে পা ঝুলিয়ে বসে আছি। দুজনের দৃষ্টি একদিকে। আর সেটারোও কেন্দ্রবিন্দু হলেন মি. সাদা বিলাই।
উনি ফোনে কখন থেকে বকবক করে যাচ্ছেন আর একটা মেয়ে উনার সাথে কথা বলার জন্য রীতিমতো লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে। পারলে যেন এক্ষুনি উনার কোলের ওপর উঠে যেতো। আর উনি বারবার হাত দিয়ে বারণ করছে উনার কাছে যাতে না যায়।
কিন্তু কেনো যেন এসব দেখে আমার রাগ লাগছে। বলতে গেলে একপ্রকার জেলাস টাইপ ফিল হচ্ছে। কিন্তু কেনো তার উত্তর জানা নেই আমার।
অজান্তেই কপালে বিরক্তির ভাঁজ ফুটে উঠছে। রাত্রি আমার দিকে তাকিয়ে তা লক্ষ্য করে বলে উঠলো,
.
- কিরে তোর আবার কি হলো? আমরা তো সিনেমাহল ছাড়াই ফ্রি ফ্রি সিনেমা দেখছি তাতে তো তোর খুশি হওয়ার কথা। তা না হয়ে হঠাৎ রেগে যাচ্ছিস কেনো? (ভ্রু নাচিয়ে)
.
রাত্রির এমন কথায় আমি কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে আমতা আমতা করতে লাগলাম,
- আ..আ..আমি রাগ করতে যাবো কেনো? আসলে মেয়েটার ঢং দেখে বিরক্ত লাগছে, দেখনা কি রকম কোমড় দুলিয়ে দুলিয়ে লাফালাফি করছে।
.
- সে যাই করুক! তাতে তোর কি? হেই ফিশি অনন্যা সামথিং সামথিং?
.
- কি যাতা বলছিস রাত্রি। জাস্ট নাথিং নাথিং ! চল ক্লাসে যাই টাইম হয়ে গেছে।
.
বলেই ঠাস করে বসা থেকে দাঁড়িয়ে গেলাম আমি। যেই না উলটো দিকে ঘুরে হাটা দেবো ওমনি পা স্লিপ কেটে একট প্রকান্ড চিৎকার দিয়ে পুলে পড়ে গেলাম।
আমার পড়ে যাওয়া দেখে রাত্রি আমার নাম নিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। কিন্তু ততক্ষণে আমি পানিতে হাবুডুবু খাওয়া শুরু করে দিয়েছি। পুলটা বেশি গভীর না হলেও আমি পুরোপুরিভাবে ডুবে যেতে পারবো অনায়াসেই। ইভেন আমি সাঁতারও কাঁটতে জানি না। শুধু হাত পা ছোটাছুটি করে চলেছি কিন্তু কিছুতেই পাড়ে যেতে পারছিনা। বরং আরোও পিছিয়ে যাচ্ছি আমি।
.
হটাৎ কে যেনো পুলে ঝাঁপিয়ে পড়লো। সেই মানুষটা আর কেউ না আমার সাদা বিলাই। উনাকে দেখেই চোখ অবদি ডুবে গেল আমার। উনি তাড়াতাড়ি করে সাঁতরে এসে আমাকে নিয়ে পাড়ে যেতে লাগলেন। আমি এতোক্ষণে পানি খেয়ে খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলেছি। চোখে ঝাপসা দেখছি আমি। শুধু এতোটুকু বুঝতে পারছি আমাকে পাড়ে উঠিয়ে শুইয়ে দিলেন উনি। সাথেসাথেই আমাদের ঘিরে দাঁড়ালো সবাই। কানে মৃদু সুরে ভেসে আসতে লাগলো রাত্রির কান্না করতে করতে আমার নাম ধরে ডাকা।
.
আমার শ্বাস-প্রশ্বাস যেন আটকে আসতে চাইছে। নীবিড় ভাইয়া আমার পেটে ক্রমাগত চাপ দিয়ে পানি বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকটা পানি বের করার পর উনি আচমকা আমার ঠোঁটে নিজের ঠোঁট ডুবিয়ে দিলেন। আর সাথেসাথেই চারপাশ থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসতে লাগলো। আমার শ্বাস-প্রশ্বাস কন্ট্রোলে আসা মাত্রই চটজলদি চোখ খুলে বসে পড়লাম আমি। উনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বসা মাত্রই সজোড়ে থাপ্পড় বসিয়ে দিলাম উনার গালে।
.
.
.
.
চলবে........................💕